শুক্রবার, ১ জানুয়ারী, ২০১৬

কাছে আসার গল্প

ঘড়িতে রাত ১টা বেজে ৩০ মিনিট।হঠাৎ
করে মোবাইলটা বেজে উঠল।এত রাতে
আবার কে ফোন দিল।মোবাইল হাতে নিয়ে
দেখি রিধীতার ফোন। এত রাতে আবার কি
মনে করে ফোন দিল মেয়েটা। কি জানি
কি ঝামেলা পাকিয়ে বসে আছে। যাহোক
সংকোচ নিয়ে ফোন উঠাতেই...
.
রিধীতা - হ্যাল সামি।
- হুম বল। কি হয়েছে । এত রাতে ফোন। কোন
সমস্যা হয়েছে?
- না সমস্যা হবে কেন।তোমার সাথে কিছু
কথা ছিল।
- কি কথা বল।
- মোবাইলে বলা যাবে না।সরাসরি বলতে
হবে।
- কি এমন কথা মোবাইলে বলা যাবে না,
সরাসরি বলতে হবে। আর এত রাতেই বা
কিভাবে দেখা করব।
- এখন দেখা করতে হবে না।সকাল ১০টা
বাজে পার্কে থাকবা। ঐইখানে তোমাকে
সব খুলে বলব।
- ফোনেই বলে ফেল না। আর সকালে বের
হওয়ার কি দরকার।
- আহা বেশি কথা বল না তো। সকালে
আসতে বলেছি আসবা।
এখন কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।ঘুমিয়ে পড়।
সকালে দেখা হবে। গুড নাইট।
একটা হাসি দিয়ে ফোনটা রেখে দিল
রিধীতা। আমাকে কিছু বলারই সুযোগ দিল
না।
কাথাঁ মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা। ঘুমই
আসছে না। আসবেই বা কি করে। মনে
সংকোচ নিয়ে কি ঘুমানো যায়।পুরু
ব্যাপারটা না জানা পর্যন্ত ঘুমই আসবে
না। ফোনে বলে দিলে কি এমন হত। কি আর
করার ওর কথার উপর কেউ কথা বলা একদম
পছন্দ করে না ও।ও যেটা বলবে সেটাই।
অবশ্য ওর এই অভ্যাসটা আমার কাছে ভালই
লাগে। তবে আজ একটু রাগই হচ্ছে ওর উপর।
.
রিলেশনের পর থেকে আজ পর্যন্ত ওর কথা
মতই চলতে হয়েছে।
তবে আমাদের রিলেশনটা একটু অন্য রকম
ভাবেই হয়েছিল।
একই কলেজের ইয়ারমিট ছিলাম আমরা।
প্রতিদিনই দেখা হত।কিন্তু কথা বলা তো
দূরের কথা ওর চোখের উপর চোখ পড়তেই
চোখ নামিয়ে অন্য মনষ্কের ভাব ধরতাম
আমি। খুব ভীতু সভাবের ছিলাম।আস্তে
আস্তে ওর উপর ভালবাসা জমে গিয়েছিল।
তবে বলার সাহস হত না।
.
একদিন সাহস করে বলে ফেললাম। তাও
আবার মুখে না। চিঠি লিখে দিয়েছিলাম।
ওর হাতে চিঠি দিয়েই দৌড়। খুবই লজ্জা
পেয়েছিলাম ঐই সময়টাতে।
তবে ওকে রাজি করাতে বেশি একটা কষ্টও
করতে হয় নি। তারপর থেকেই রাত জেগে
ফোনে কথা বলা,হাতে হাত রেখে পার্কে
ঘুরা , কফি হাউজে বসে আড্ডা দেওয়া
এভাবেই দিনকাল দিব্বি চলে যাচ্ছিল।
.
.
মার ডাকে ঘুম ভাঙ্গল সকালে।
( এসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পরেছি
কে যানে)
বালিশের পাশ থেকে ফোনটা বাজছে।
রিধীতার ফোন। এই সারছে ওর সাথে না
দেখা করার কথা। ঘড়ির দিকে তাকাতেই
দেখি ৯ টা ৫০ বাজে। ফোন উঠাতেই
রিধীতা - সামি তুমি কোথায়, আমি বের
হয়ে গেছি।
- এইতো আমিও বের হচ্ছি।
- তারাতারি কর।
হুরহুর করে বিছানা থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে
পার্কের উদ্যেশে রওনা দিলাম। নাস্তা
করার সময় নেই। ও এসে বসে থাকবে। যা
রাগি মেয়ে রে বাবা।
আমাদের বাসা থেকে পার্কে হেটে যেতে
প্রায় দশ মিনিট লাগে। খুব মনরম জায়গা।
চারদিকে খোলা মাঠ আর মাঝখানে
সাপের মত আকাঁবাকাঁ পথ।পথের দুই পাশেই
সারিসারি গাছ পালা। খুবই সুন্দর একটি
পরিবেশ।
পোলের উপর কাউকে দাড়িয়ে থাকতে
দেখা যচ্ছে।কাছে যেতেই বুঝলাম
রিধীতা।
আমি- কখন আসলা?
- এইতো এখনি।
- আসার পথে কোন সমস্যা হয় নি তো?
- (গম্ভীর কন্ঠে) না।
(মেয়েটা রাতে হাসি মুখে কথা বলল, আর
এখন এভাবে কথা বলছে কেন। এই
মেয়েগুলোর সভবটাই যেন কি রকম )
- তো ম্যডাম কি এমন জরুরি কথা আপনার।
তো এখন কি বলা যায়। যদি দয়া করে
বলতেন।
- দেখ সামি ফাজলামু করবা না কিন্তু।
দরকারি কথা ছিল বলেই তো ডেকেছি।
- তো বলে ফেল।
- জান, বাবা না আমার জন্য ছেলে দেখা
শুরু করেছে। বলছে যত তারাতারি সম্ভব
বিয়ে দিয়ে দিবে। আমার কিছুই ভাল
লাগছে না।আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে
পারব না।
এটা বলেই ফুফিঁয়ে কেদেঁ উঠল রিধীতা।
.
- তাই বলে এভাবে কাদঁতে হয়।
কান্নাঁ বন্ধ কর বলছি। কাদঁলে কি সব
সমাধান হয়ে যাবে।
- কাদঁব না তো কি করব। সেই কলেজ লাইফ
থেকে আমাদের রিলেশন। আজ পাচঁ বছর
হয়ে গেল।আর আজ বাবার একটা
সিদ্ধান্তেই সব শেষ হয়ে যাবে।আমি
তোমাকে ছাড়া কিছুতেই থাকতে পারব
না।
তুমি কিছু একটা কর সামি ।
- কি করব কিছুই তো মাথায় আসছে না।
- বাবার সাথে একবার কথা বলতে পার।
ওনাকে বুঝিয়ে বললে হয়ত ওনি রাজি হতে
পারে।
- যদি রাজি না হয়।
- বলেই দেখ না এছাড়া তো আর কোন উপায়
দেখছি না।
- আচ্ছা ঠিক আছে তাই করা যাক।
.
এই মূহুর্তে আমার অবস্থান রিধীতার বাবার
অফিসের সামনে। দারোয়ানকে বলায়
আংকেলের রুমটা দেখিয়ে দিল।ভেতরে
ঢুকতেই ঠান্ডা অনুভুতি করতে লাগলাম।
এসি করা রুম।
আমাকে দেখেই আংকেল...
- তাহলে তোমার নাম সামি?
- জী আংকেল। (অদ্ভুত তো আংকেল আমার
নাম জানল কি করে)
- কি ভাবছ তোমার নাম জানলাম কিভাবে

- শুধু তোমার নাম না তোমার ব্যাপারে সব
কিছুই আমি জানি।রিধীতা আমাকে সব
বলেছে।
(আমি তো পুরাই আকাশ থেকে পরলাম। সব
বলছে মানে।তাহলে এগুলো সব ও আগে
থেকেই প্রেন করে রেখে ছিল।আর সকালে
যে ও কাদঁল ওই টাও অভিনয় ছিল)
.
- বাবা কি করেন তোমার?
- জী আংকেল, ব্যবসা করেন।
- তো তোমারকি তাই করার ইচ্ছা?
- বাবা বলছে ওনার বয়স হয়েছে তাই এখন
থেকে আমি যেন ওনার ব্যবসা দেখাশুনা
করি। তবে আমার এটা ভাল লাগে না।
নিজের যোগ্যতায় কিছু করার ইচ্ছা আছে।
- বাহ! ভাল। এইরকম ছেলেই আমার পছন্দ।
- আচ্ছা তোমার বাবার ফোন নাম্বারটা
দাও। ওনার সাথে আমি কথা বলব।
.
বাবার ফোন নাম্বার দিয়ে বাইরে
বেড়িয়েই এক পেকেট টিসু শেষ করলাম ঘাম
মুছতে মুছতে। যদিও ভেতরে এসি ছিল।শ্বশুর
মসাই যে এত ভাল মনের একজন মানুষ হবে
ভাবতেই পারি নি।
.
রিধীতাকে ফোন দিতেই ও মিট মিট করে
হাসছে।
- কি হাসছ কেন?
- হাসব না !
তোমাকে বোকা বানিয়ে যে কি আনন্দ
হচ্ছে আমার।
- আমাকে বোকা বানানো হয়েছে না,
দাড়াও দেখাচ্ছি মজা। আগে বিয়েটা হয়ে
নিতে দাও। তারপর বুঝবে।
কথাটা বলেই দুইজন একসাথে লজ্জা পেয়ে
গেলাম। রিধীতা হয়ত একটু বেশিই লজ্জা
পেয়েছে।
.
যাহোক, পরের দিন ঘুম থেকে উঠেই দেখি
রিধীতার বাবা, বাবা মার সাথে কথা
বলছে। ওনাদের সবার মুখে কি মিষ্টি
হাসি।বুঝতে আর বাকি রইল না। ওনাদের
সবারি ছেলেমেয়ে পছন্দ হয়েছে। যত
তারাতারি সম্ভব বিয়েটা দিয়ে দিতে
চাইছে তারা।
ভেবেছিলাম আগে একটা চাকরি নিয়ে
বিয়ের পিড়িতে বসব। তবে মা,বাবার কথা
আর অমান্য করতে পারলাম না।অবশেষে
বিয়ের দিনখন ঠিক করা হল।
.
আজ সেই বিয়ের দিন। বিরাট আয়জন করেছে
বাবা। এক ছেলে বলে কথা। ধুম ধাম করে
বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রিধীতার
মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না, লজ্জায়
ওর তুলতুলে গাল দুটি লাল হয়ে গেছে। অন্য
রকম এক অনুভূতি লাগছে।নিজের বিয়ে বলে
কথা।
.
পুরু বাড়ি নির্জন হয়ে গেছে। সারাদিন
সবার উপর দিয়ে খুব দগল গেছে। এখন সবাই
বিশ্রাম নিচ্ছে ।
.
রিধী ফুলে সজ্জিত খাটের মাঝখানে
গুটিসুটি মেরে বসে আছে। আমাকে দেখেই
উঠে এসে সালাম করতে চাইল।
আমি ওকে ধরে বুকে নিয়ে বললাম, আজ
থেকে তোমার জায়গা আমার এই বুকের
মাঝে।
ওকে আরও একটু কাছে টেনে ওর কপালে
আলত করে একটা চুমু খেলাম। আমাকে খুব
শক্ত করে ধরে আছে ও। রাত বাড়ছে হাজার
বছরের সেই পুরোনো রাত। এই রাত যেন
কখনও শেষ না হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন