--আমি তোমাকে যে শাড়িটার পিকচার সেন্ড করেছিলাম, তুমিতো বললেনা কিনে দিবা কিনা..!?
--ঐ শাড়ি কিনতে গেলে আমার বেতনের অর্ধেক নাই হয়ে যাবে..!
--তুমি কেমন স্বামী, বৌয়ের আবদার পুরোন করতে পারোনা..!? তাহলে বিয়ে করেছিলে কেন..? (রাগী কন্ঠে)
--দেখো অফিস থেকে কেবলই এলাম। আসতেনা আসতেই শুরু করে দিছো.! বিয়ে করলেই কি বৌয়ের সব আবদার মানতে হবে..!? মেজাজটা গরম করবানা বলে দিলাম..! (উচ্চস্বরে)
--আমি কিছু চাইলেই তোমার মেজাজ গরম হয়ে যায়..! আর সবার বেলায় তোমার মেজাজ ঠান্ডাই থাকে..!
--তুমিতো আসলেই একটা ফালতু মেয়ে..! সবার বেলায় মানে..! স্টুপিড কোথাকার..!
--মুখ সামলে কথা বলো..!
--এই তোমার সাথে কি মুখ সামলাবো..! (শুরু হয়ে গেল ঝগড়া)
এরপর ইরিনকে একটি বাজে ভাষায় গালি দিয়ে ফেললো রাশেদ। যেটা ইরিনের মাইন্ডে খুব লেগে গেলো! ইরিন আরো রেগে গেলো। তারপর বললো...
--থাকবোনা তোমার সাথে আমি। আজ রাতটা কোনোভাবে পার হোক। কাল সকালেই চলে যাবো।
--যাও যাও.. এছাড়া আর কি পারবে তুমি..!
.
আজ রাতে দুজন দুই বিছানাতে ঘুমালো। কেউ কারো সাথে কোনো কথা বললোনা। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাশেদ ইরিনকে খুঁজে পেলোনা। টেবিলের উপর একটা চিরকুট দেখেই রাশেদ বুঝতে পারলো ইরিন সত্যি সত্যি চলে গেছে..! রাশেদ চিরকুটটা হাতে নিয়ে পড়লো। তাতে লেখা ছিলো...
"যে আমার মা বাবা তুলে গালি দেয়, তার সাথে আমি সংসার করবোনা। আমি চলে গেলাম। খবরদার আমাকে খুঁজবেনা..!!"
.
ইরিন যে সত্যি সত্যি চলে যাবে, এটা রাশেদ বুঝতে পারেনি। কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা। সকালে নাস্তা না করেই অফিসে চলে গেলো।
.
ওদিকে ইরিনকে একা দেখে ইরিনের বাবা ইরিনকে বললো...
--কিরে মা, জামাই কই..?
ইরিন কাঁন্না ভেজা কন্ঠে বললো...
--আমি ওর কাছে আর যাবোনা বাবা..!
--কেন কি হয়েছে..? ঝগড়া করেছিস তাইনা..?
--ও আমার সাথে খুব বাজে ব্যাবহার করেছে।
--আচ্ছা ঠিক আছে। তুই ঠান্ডা হ। আমি সবই শুনবো..!
.
এদিকে রাশেদের অফিস করতেও আর ভাল লাগছেনা..! ইরিনকে কয়েকবার ফোন করার পরও রিসিভ করলোনা। বাধ্য হয়ে শ্বশুরকে ফোন দিলো...
--আসসালামু আলাইকুম...
--ওয়া আলাইকুম আসসালাম..
--বাবা, ইরিনের সাথে গতকাল একটু ঝগড়া হয়েছিলো। সকালে রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। ও নিশ্চয়ই আপনার ওখানে গিয়েছে..!
--হ্যাঁ বাবা, তুমি কোনো টেনশন করোনা। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি ইরিনকে বুঝিয়ে বলবো।
--আমার অফিস করতেও ভাললাগছেনা। আমিকি চলে আসবো ইরিনকে নিতে..?
--তুমি অফিস শেষ করেই আসো। আমি ততক্ষণে ওকে বুঝাই..!
--আচ্ছা ঠিক আছে। আসসালামু আলাইকুম..!
--ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
.
বিকেলে রাশেদ আসলো শ্বশুরের বাসায় ইরিনকে নিতে। ইরিন এবং রাশেদ দুজন এক রুমে বসে আছে। ইরিন কোনো কথা বলছেনা। রাশেদ সরি বললো..
--সরি! আর তোমাকে রাগারাগি করবোনা। তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবোনা!
ইরিন মাথা নিচু করে বসে আছে। এমন সময় ইরিনের বাবা অর্থাৎ রাশেদের শ্বশুর রুমে ডুকলো।
.
ইরিনের বাবা ওদের দুজনের অভিযোগ শুনে দুজনের উদ্দেশ্যেই বলতে লাগলো...
--দুজনেই মনোযোগ দিয়ে শোনো। সংসারে রাগ, অভিমান, ঝগড়া, এগুলো থাকবেই। এগুলো ছাড়া সংসারে পরিপূর্ণতা আসেনা..! মানুষের মাথায় যখন রাগ জিনিসটা ভর করে, তখন মানুষের মধ্যে হিতাহিত জ্ঞানটা থাকেনা। মানুষ তখন নিজেও জানেনা যে, সে কি বলছে..! এই সময় তোমাদের দুজনের মধ্যে যে কোনো একজন যদি নিরব ভুমিকা পালন করতে, তাহলে দেখতে ঝগড়াটা এতদূর গড়াতো না। এই এখানটাতেই আমাদের সমস্যা, জানো!? আমরা কেউ কাউকে স্যাক্রিফাইজ করতে রাজিনা। রাগ জিনিসটা কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। এটা একসময় মাথা থেকে চলে যায়। কিন্তু রাগের মাথায় বলা কথাগুলো পরে দুজনকেই কষ্ট দেয়। রাগের সময় যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে'ই হচ্ছে আসল মানুষ। আল্লাহ্ তাকে পছন্দ করেন।
আমার স্ত্রীর সাথেও মাঝে মাঝে এমন ঝগড়া হতো। আমি মাস শেষে যে বেতন পেতাম, তাতে সংসারের খরচ চালাতে হিমসিম খেয়ে যেতাম। আমার স্ত্রীও মাঝে মাঝে বিভিন্ন জিনিসের বায়না ধরতো। আমার মাথায় হঠাৎ করে একটা বুদ্ধি এলো। পরের মাসের বেতন পেয়ে পুরোটা আমার স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে বললাম, এখন থেকে সংসার তুমি চালাবা এবং তোমার যা কেনার দরকার কিনে নিবা, আমার কোনো সমস্যা নাই। তারপর থেকে সে আর আমার কাছে বায়না ধরতোনা। সে আমার চেয়েও হিসেবি হয়ে গেল। তারপর থেকে আমাদের সংসারও সুন্দর ভাবে চলতে লাগলো..। আশাকরি আমাদের এই অভিজ্ঞতা তোমাদের সাংসারিক জীবনে কাজে আসবে।
.
ইরিন এবং রাশেদ দুজনেই কথাগুলো মনদিয়ে শুনলো। দুজনই দুজনের ভুল বুঝতে পারলো। এরপর থেকে রাশেদ তাই'ই করলো৷ পরের মাসের বেতনটা পেয়ে ইরিনের হাতে তুলে দিলো। ইরিন হিসেব করে খরচ করতে লাগলো। ইরিন এখন পুরো সোজা..! সে তার স্বামীর কাছে এখন আর বায়নাও ধরেনা..!!
•••
--ঐ শাড়ি কিনতে গেলে আমার বেতনের অর্ধেক নাই হয়ে যাবে..!
--তুমি কেমন স্বামী, বৌয়ের আবদার পুরোন করতে পারোনা..!? তাহলে বিয়ে করেছিলে কেন..? (রাগী কন্ঠে)
--দেখো অফিস থেকে কেবলই এলাম। আসতেনা আসতেই শুরু করে দিছো.! বিয়ে করলেই কি বৌয়ের সব আবদার মানতে হবে..!? মেজাজটা গরম করবানা বলে দিলাম..! (উচ্চস্বরে)
--আমি কিছু চাইলেই তোমার মেজাজ গরম হয়ে যায়..! আর সবার বেলায় তোমার মেজাজ ঠান্ডাই থাকে..!
--তুমিতো আসলেই একটা ফালতু মেয়ে..! সবার বেলায় মানে..! স্টুপিড কোথাকার..!
--মুখ সামলে কথা বলো..!
--এই তোমার সাথে কি মুখ সামলাবো..! (শুরু হয়ে গেল ঝগড়া)
এরপর ইরিনকে একটি বাজে ভাষায় গালি দিয়ে ফেললো রাশেদ। যেটা ইরিনের মাইন্ডে খুব লেগে গেলো! ইরিন আরো রেগে গেলো। তারপর বললো...
--থাকবোনা তোমার সাথে আমি। আজ রাতটা কোনোভাবে পার হোক। কাল সকালেই চলে যাবো।
--যাও যাও.. এছাড়া আর কি পারবে তুমি..!
.
আজ রাতে দুজন দুই বিছানাতে ঘুমালো। কেউ কারো সাথে কোনো কথা বললোনা। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাশেদ ইরিনকে খুঁজে পেলোনা। টেবিলের উপর একটা চিরকুট দেখেই রাশেদ বুঝতে পারলো ইরিন সত্যি সত্যি চলে গেছে..! রাশেদ চিরকুটটা হাতে নিয়ে পড়লো। তাতে লেখা ছিলো...
"যে আমার মা বাবা তুলে গালি দেয়, তার সাথে আমি সংসার করবোনা। আমি চলে গেলাম। খবরদার আমাকে খুঁজবেনা..!!"
.
ইরিন যে সত্যি সত্যি চলে যাবে, এটা রাশেদ বুঝতে পারেনি। কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা। সকালে নাস্তা না করেই অফিসে চলে গেলো।
.
ওদিকে ইরিনকে একা দেখে ইরিনের বাবা ইরিনকে বললো...
--কিরে মা, জামাই কই..?
ইরিন কাঁন্না ভেজা কন্ঠে বললো...
--আমি ওর কাছে আর যাবোনা বাবা..!
--কেন কি হয়েছে..? ঝগড়া করেছিস তাইনা..?
--ও আমার সাথে খুব বাজে ব্যাবহার করেছে।
--আচ্ছা ঠিক আছে। তুই ঠান্ডা হ। আমি সবই শুনবো..!
.
এদিকে রাশেদের অফিস করতেও আর ভাল লাগছেনা..! ইরিনকে কয়েকবার ফোন করার পরও রিসিভ করলোনা। বাধ্য হয়ে শ্বশুরকে ফোন দিলো...
--আসসালামু আলাইকুম...
--ওয়া আলাইকুম আসসালাম..
--বাবা, ইরিনের সাথে গতকাল একটু ঝগড়া হয়েছিলো। সকালে রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। ও নিশ্চয়ই আপনার ওখানে গিয়েছে..!
--হ্যাঁ বাবা, তুমি কোনো টেনশন করোনা। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি ইরিনকে বুঝিয়ে বলবো।
--আমার অফিস করতেও ভাললাগছেনা। আমিকি চলে আসবো ইরিনকে নিতে..?
--তুমি অফিস শেষ করেই আসো। আমি ততক্ষণে ওকে বুঝাই..!
--আচ্ছা ঠিক আছে। আসসালামু আলাইকুম..!
--ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
.
বিকেলে রাশেদ আসলো শ্বশুরের বাসায় ইরিনকে নিতে। ইরিন এবং রাশেদ দুজন এক রুমে বসে আছে। ইরিন কোনো কথা বলছেনা। রাশেদ সরি বললো..
--সরি! আর তোমাকে রাগারাগি করবোনা। তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবোনা!
ইরিন মাথা নিচু করে বসে আছে। এমন সময় ইরিনের বাবা অর্থাৎ রাশেদের শ্বশুর রুমে ডুকলো।
.
ইরিনের বাবা ওদের দুজনের অভিযোগ শুনে দুজনের উদ্দেশ্যেই বলতে লাগলো...
--দুজনেই মনোযোগ দিয়ে শোনো। সংসারে রাগ, অভিমান, ঝগড়া, এগুলো থাকবেই। এগুলো ছাড়া সংসারে পরিপূর্ণতা আসেনা..! মানুষের মাথায় যখন রাগ জিনিসটা ভর করে, তখন মানুষের মধ্যে হিতাহিত জ্ঞানটা থাকেনা। মানুষ তখন নিজেও জানেনা যে, সে কি বলছে..! এই সময় তোমাদের দুজনের মধ্যে যে কোনো একজন যদি নিরব ভুমিকা পালন করতে, তাহলে দেখতে ঝগড়াটা এতদূর গড়াতো না। এই এখানটাতেই আমাদের সমস্যা, জানো!? আমরা কেউ কাউকে স্যাক্রিফাইজ করতে রাজিনা। রাগ জিনিসটা কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। এটা একসময় মাথা থেকে চলে যায়। কিন্তু রাগের মাথায় বলা কথাগুলো পরে দুজনকেই কষ্ট দেয়। রাগের সময় যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে'ই হচ্ছে আসল মানুষ। আল্লাহ্ তাকে পছন্দ করেন।
আমার স্ত্রীর সাথেও মাঝে মাঝে এমন ঝগড়া হতো। আমি মাস শেষে যে বেতন পেতাম, তাতে সংসারের খরচ চালাতে হিমসিম খেয়ে যেতাম। আমার স্ত্রীও মাঝে মাঝে বিভিন্ন জিনিসের বায়না ধরতো। আমার মাথায় হঠাৎ করে একটা বুদ্ধি এলো। পরের মাসের বেতন পেয়ে পুরোটা আমার স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে বললাম, এখন থেকে সংসার তুমি চালাবা এবং তোমার যা কেনার দরকার কিনে নিবা, আমার কোনো সমস্যা নাই। তারপর থেকে সে আর আমার কাছে বায়না ধরতোনা। সে আমার চেয়েও হিসেবি হয়ে গেল। তারপর থেকে আমাদের সংসারও সুন্দর ভাবে চলতে লাগলো..। আশাকরি আমাদের এই অভিজ্ঞতা তোমাদের সাংসারিক জীবনে কাজে আসবে।
.
ইরিন এবং রাশেদ দুজনেই কথাগুলো মনদিয়ে শুনলো। দুজনই দুজনের ভুল বুঝতে পারলো। এরপর থেকে রাশেদ তাই'ই করলো৷ পরের মাসের বেতনটা পেয়ে ইরিনের হাতে তুলে দিলো। ইরিন হিসেব করে খরচ করতে লাগলো। ইরিন এখন পুরো সোজা..! সে তার স্বামীর কাছে এখন আর বায়নাও ধরেনা..!!
•••
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন