সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৭

"ভালোবাসা এমন হওয়াই উচিত "

যদিও এখন গরম তুলনামূলক কম তবুও ছেলেটা ঘামে প্রায় গোসল করে ফেলতাছে। আকাশে সূর্যের কোন নামগন্ধ নাই। আকাশে শুধু মেঘ আর মেঘ তবুও ছেলেটা অনেক ঘামতাছে। সেই সকাল 10 টায় এসে লাইন দাঁড়িয়েছিলো আর এখন বাজে 2.35 পিএম। আসলে এই সময়টা দুপুরের সীমানায় পড়ে নাকি বিকালের আওতায় পড়ে তা নিয়ে আমি সন্দিহান। অন্যকোন কারণে লাইনে দাঁড়ালে সে কখনোই এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতো না। তার অনেক কষ্ট হইতেছে দাঁড়িয়ে থাকতে তবুও দাঁড়িয়ে আছে। কারণ এইটা যে তার ভার্সিটি ভর্তি হওয়ার লাইন। এই লাইনের শেষমাথায় আছে তার সেই স্বপ্নের লালিত ভার্সিটিতে প্রবেশের জন্য আইডি কার্ড। 
.
ছেলেটির নাম সাদী। যে খুবই সুন্দর সুন্দর মানুষ পটানোর মতো কথা বলতে পারে। যতহোক,কমার্সের স্টুডেন্ট বলে কথা। কিন্তু এখন তার মেজাজটা খারাপ কারণ তার সামনে ৮ টা মেয়ে আর সবার চোখেই চশমা। পিছনের অবস্থাও একইরকম। পিছনে আরো তিনটা মেয়ে যদিও তাদের চোখে চশমা নাই। চশমা তার কাছে খারাপ লাগে না কিন্তু সে যেহেতু নিজেই একজন পরঘোষিত কানা তাই অন্যকোন কানীই তার ভালো লাগে না।
এর পরেও তার মনে আপাতত এতটুকু একটা প্রশান্তি আছে যে, অনেকগুলো মেয়ের মাঝে সে শুধু একটা ছেলে। সে পরিকল্পনা করে ফেল্লো, ভার্সিটিতে আইসা যেমনেই হোক একটা প্রেম করবেই। তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য আগেই বলছি যে সে প্রচুর কথা বলে এবং মানুষের সাথে ভাব জমানো। এইটা তারজন্য কোন কাজের মধ্যেই পরিগণিত হয় না। তার সামনের মেয়েটার সাথে সে কথা বলার জন্য সুযোগ খুঁজতেছিলো কিন্তু ঐ মেয়ে আবার তার সামনের মেয়ের সাথে কথাবার্তায় অনেক ব্যস্ত। যাইহোক, তার মধ্যে একটু বৈজ্ঞানিক টাইপ গুণাবলী ছিলো যদিও সে কমার্সের স্টুডেন্ট।
-এই যে আপু!!
-কি!! আমাকে বলতাছেন?
-জ্বি, আমার সামনে তো আপনিই সেই হিসাবে আপনাকেই বলতাছি।
-কি বলবেন বলেন?
-কি বলবো তা এখনো ঠিক করতে পারতেছি না।
-তাইলে, যখন ঠিক করতে পারবেন তখন বইলেন।
-আচ্ছা, আমি সাদী। আপনার নাম?
-আমি মিলি ।
-ওহ,আপনার বাসা কোথায়?
-ময়মনসিংহ। আপনার?
-আমরা কাছাকাছি এলাকার মানুষ। আমার বাসা নেত্রকোণা।
-ওহ, আমার বাসাও নেত্রকোণা। তবে নেত্রকোণা বল্লে অনেকেই চিনে না তাই ময়মনসিংহ বলি।
. (এই কথা শুইন্না সাদী সাহেবের মাথার তার একটু একটু কইরা গরম হওয়া শুরু হইলো। এমনিতেই অনেকক্ষণ দাঁড়াইয়া আছেন এইটার রাগ এবং মেয়ের কথা শুনার পরের রাগ সব একত্রিত হওয়া শুরু হইলো। রাগে উনার মুখ লাল থেকে অধিক লাল হইতে থাকলো। কিন্তু উনি মেয়েটাকে কিছুই বলতে পারলেন না।) 
-ওহ,তাই বলেন। আমরা তো এক জায়গার ই মানুষ। চিনে না তো কি হইছে, চিনাবেন তাদেরকে।
-চিনাবো কিভাবে?
-নেত্রকোণা বাংলাদেশের একটা জেলা। ভারতের সীমান্তে অবস্থিত। একমাত্র চীনামাটির পাহাড় আমাদের জেলায়। এইসব বলবেন তাইলেই হয়।
-ভাই, আমার এত ধৈর্য নাই যে একজনকে লেকচার দিয়ে দিয়ে বলবো আমি নেত্রকোণার।
-লেকচার দেওয়ার কি আছে!! নিজের জেলার নাম বলতে কি লজ্জা পান নাকি আপনি?
-লজ্জা পাওয়ার তো কিছুই নাই। তারা যেহেতু ঐ জায়গা চিনে না তাই ময়মনসিংহ এর কথা বলি।
-আচ্ছা। আপনার ইচ্ছা হইছে বলবেন। আমি দুইটা গল্প বলি শুনেন,
.
" (১) 1972 সাল বাংলাদেশের এক লোক কাজের সন্ধানে দেশ থেকে চলে গেলো। অনেক চরাই উৎরাই উপেক্ষা করে সে ব্রাজিল গিয়ে পৌছলো। সে ঐ জায়গায় কি করবে না করবে কিছুই বুঝতেছিলো না। তারপরো আল্লাহ্‌ র ইচ্ছায় তার একটা কাজের ব্যবস্থা হইলো। তখন তাকে তার দেশ সম্বন্ধে জিজ্ঞাস করা হলো। সে বাংলাদেশের কথা বলায় কেউই তার দেশ চিনতে পারে নাই। তখন সে বাংলাদেশের অনেক বিবরণ দিলো। বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে ঐ জায়গার মানুষকে স্পষ্ট ধারণা দিলো কিন্তু কোন কাজ হলো না। কারণ সে তখন মোটামুটি একটা শহরে অবস্থান করছিলো। অর্থাৎ ব্রাজিলের রাজধানীতে ছিলো না। তবুও তারা তাকে কাজ দেয় এবং সে তার কাজ খুব ভালোভাবেই করতে থাকে। 1972 সালের 15 মে ব্রাজিল, বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। এই খবর একটা পত্রিকাতে প্রকাশিত হয় এবং ঐ লোক এই খবর ব্রাজিলের বাসিন্দাদের দেখিয়ে বলে যে এই বাংলাদেশ ই আমার দেশ। তারপর, দুই দেশের সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং ঐ লোক ব্রাজিলের বাসিন্দা হয়। তাছাড়া, ব্রাজিলের অনেককে নিয়েই সে বাংলাদেশে বেড়াতে আসে এতে করে দেশের পর্যটনখাত কিছু টাকাও পায়।
.
(২) ঐ লোকের আরেক বন্ধু ছিলো সেও দেশ ছাড়ে জীবিকার সন্ধানে। সে আর্জেন্টিনায় গিয়ে পৌঁছে। বাংলাদেশ কে কেউ না চিনায় সে ভারতের পরিচয় দেয় কারণ ভারতকে সবাই চিনে। তারপর ভারতের দূতাবাসের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে সে ভারতের না বরং বাংলাদেশের। তারজন্য ঐ ব্যাক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয় তারা। ঐ লোক এখন একটা বৃদ্ধাশ্রমে আছে। আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় 25 মে, 1972। "
. গল্প দুইটা কেমন লাগলো!!
-সমস্যা কি আপনার? আমার ইচ্ছা হইছে আমি ময়মনসিংহ বলবো এতে আপনার কি? তাছাড়া, ময়মনসিংহ আমার বিভাগ কিন্তু ভারতের অংশ বাংলাদেশ না। ময়মনসিংহ বল্লে কেউ আমাকে এখান থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। গল্প বলবেন ভালো কথা কিন্তু এইরকম অমিলের গল্প বলতে যাইয়েন না।
-গল্পটাতে কি কোন ভুল ছিলো নাকি!! আচ্ছা যাইহোক, ভুল হইয়া গেলে তো সমস্যাই। তাইলে আরেকটা বলি কেমন?
-থাক থাক আর বলতে হবে না। এইসব বাদ দেন। আপনার এইসব গল্প শুনলে আমি আর এখানে থাকতে পারবো না। আমাকে নিশ্চিত পাবনা যাইতে হবে।
-পাবনা গিয়ে লাভ নাই!! পাবনা যাইতে হবে না। পাবনা গেলে তো আর আপনাকে ক্লাসরুমে পাবো না। একটা কথা জিজ্ঞাস করবো?
-জ্বি করেন।
-আপনি কি সেকেন্ড টাইম না ফার্স্ট টাইম??
-দুইটাই বলতে পারেন। কারণ এইচএসসি 15,16 দুইবার দিছি। ভার্সিটি পরীক্ষা 15 তে শুধু ঢাবি তেই দিছিলাম। তবে এই ভার্সিটির জন্য কিন্তু ফার্স্ট টাইম। আপনি কি ফার্স্ট টাইম?
-আরে না। আপনার কাহিনীই আমার কাহিনী। আপনার এসএসসি এবং এইচএসসি র ব্যাকগ্রাউন্ড কি ছিলো?
-সাইন্স আছিলো। আপনার?
-আমি জন্মের পর থাইকাই পিউর কমার্স।
-জন্মের পর থাইকা!! তারমানে জন্ম হওয়ার সাথে সাথেই ক্লাস ৯ এ ভর্তি হইছিলেন??
-আরে না, আমি বলতে চাইছি ক্লাস 9 থেকেই আমি কমার্সে। সাইন্সের স্টুডেন্টের এই এক সমস্যা তারা একটু বেশিই বুঝে।
-তারা বেশি বুঝে না বরং তারা ভুলগুলো ধরে ফেলে।
-এত জ্ঞানী হইয়া তো আর লাভ নাই। কারণ এখন তো আপনিও বিবিএর স্টুডেন্ট।
-হুম্ম,,তাই তো দেখতাছি।
-আসছেন কোথায় থেকে? ময়মনসিংহ!!
-হুম্ম,,ময়মনসিংহ ছিলাম। ঐখান থেকেই আসছি।
-ভালো। নেত্রকোণা থেকে তো আর বাস নাই। আসলে তো ময়মনসিংহ থেকেই আসতে হয়।
.
. মিলি কিছু একটা বলতে চাইছিলো কিন্তু আর বলা হয়ে উঠে নাই। কারণ এখন তার সিরিয়াল এসে গেছে। মিলি ভর্তি হওয়ার পরে সাদীকে শুধু বল্লো, " বাই, ক্লাসে দেখা হবে। " সাদীর মনে হয়, মেয়েটার প্রতি কিছুটা দূর্বলতা সৃষ্টি হয়ে গেছিলো তাই তার কিছুটা খারাপ লাগলো। তাছাড়া বর্তমান ডিজিটাল যুগের নির্দেশন স্বরূপ সে মিলির মোবাইল নাম্বার বা ফেসবুক আইডি কিছুই রাখতে পারে নাই। কিন্তু ক্লাসে তো দেখা হবেই এই আশায় সে আর তেমন দুঃখ অনুভব করে নাই। সেও ভর্তি হয়ে তার বাড়িতে চলে আসলো। সে এখন পাবলিক ভার্সিটির স্টুডেন্ট তাই সে এখন অনেক আনন্দে আছে।
.
একদিন সকালে তার পরিচিত এক ভাইকে বল্লো যে সে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাইছে। তখন হঠাৎ করে উল্কাপিন্ডের মতো এক লোক আবির্ভূত হইয়া বল্লো, আমার মেয়েও তো চান্স পাইছে। তুমি একটু বসো তোমার সাথে আমার আলাপ আছে। ঐ লোককে তখন সে তাদের বাসায় নিয়ে গেলো এবং তার আব্বা-আম্মার সাথেও ঐ লোক কথা বল্লো। উনি উনার মেয়ের যাতায়াত নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন। ভর্তি হওয়ার সময় ময়মনসিংহ এর আরেক ছেলের সাথে উনি উনার মেয়েকে দিছিলেন। তাছাড়া, ঐ লোক এবং সাদীর আব্বা র মধ্যে একটা পারিবারিক যোগসূত্র ছিলো যা কথা বলার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ঐ লোক সাদীর নাম্বার নেয় এবং বলে শুভেচ্ছা ক্লাসের আগে সাদীর সাথেই উনার মেয়েকে দিবে। এইটা নিয়ে তার একটু খারাপ লাগা ছিলো কারণ মিলির প্রতি তার একটু ভালোবাসা তৈরি হইছিলো। কিন্তু যাইতে হইবো আরেক মেয়ের সাথে। তবে সে এই আশাও করতেছিলো যেন ঐ মেয়েটা মিলিই হয়। কারণ, মিলির বাড়ি আর ঐ মেয়ের বাড়ি এক জেলায় এবং দুইজনই একই ইউনিটে। কিন্তু ঐ লোক মেয়ের নাম আরেকটা বল্লো। যেহেতু, তার মাথায় মিলির কথা ঘুরতেছিলো তাই সে ঐ মেয়ের নাম ভুইল্লা গেলো।
.
পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সে বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত হলো। বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত হয়ে সে মিলি কে খুঁজতেছিলো। কিছুক্ষণ ঐ লোক এবং মিলি রিকশা থেকে নামলো। সে তো পুরাই হতবাক যে মিলি ই ঐ লোকের মেয়ে। তার এতকিছু চিন্তা করার সময় নেই। সে মিলিকে পাইছে এইটাই বড় কথা। বাস ছাড়ার আগে আগেই তারা বাসে উঠলো। সাদীর ইচ্ছা ছিলো জানালার পাশে বসার কিন্তু এইটা আর হয়ে উঠে নাই। কারণ মিলি বাসে উঠেই বলে ফেল্লো যে সেই জানালার পাশে বসবে। কিছুই করার ছিলো না সাদীর।নিজের হৃৎপিন্ডের চালচলনের উপরে সে বন্ধী ছিলো। বাস ছাড়ার পর সে তার স্বভাবসুলভ একটা ছবি তুলে ফেসবুকে দিতে চায়!! তার ইচ্ছা ছিলো মিলিকে নিয়ে একটা সেলফি তুলে তা ফেসবুকে পোস্ট করবে। কিন্তু -
-আরে বাবা, না করলাম তো আমি ছবি তুলবো না।
-আরে ছবি তুল্লে সমস্যা কোথায়?? একটাই তো তুলবো!
-সমস্যা আছে। কারণ ছবি তুলেই তুমি তা ফেসবুকে দিবে এবং তোমার ফ্রেন্ডরা আমাকে তোমার সাথে জড়িয়ে অনেক কথা বলবে।
-ওহ, তাই!! ফেসবুকে কি তুমি তোমার পিক দেও নাই নাকি???
-কবে দিলাম?? আমার পিক তো ফেসবুকে নাই।
-কিভাবে বিশ্বাস করবো!!
-হুম্ম,, বুঝতে পারছি। আমার আইডির নাম জানতে চাইতাছো। এইটা সরাসরি বল্লেই তো পারো।
-যেহেতু বুঝতে পারছো সুতরাং দিয়ে দাও।
-আচ্ছা।
.
আইডি শেয়ার করার মাধ্যমে একজন আরেকজনের সাথে ফেসবুকে কানেক্টেড হইয়া গেলো। সাদী আর কোন পিক না তুলেই শুধু ট্রাভেলিং টু দিনাজপুর দিয়া দিলো। বাসে উঠলে সাদীর প্রচুর ঘুম পায়। কিন্তু আজকে অনেকক্ষণ হইলো সে ঘুমাইতাছে না। কারণ তার সাথে তার অতিপ্রিয় একজন মানুষ বসা। সে কিভাবে ঘুমাবে??? মিলিকে সে কিছুক্ষণ পরপর খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করতাছে সে কি করে না করে ইত্যাদি। মেয়েটার মধ্যে বোধহয় রসের বড়ই অভাব। কারণ সাদীর মতো এইরকম একটা হ্যান্ডসাম ছেলে তার সাথে বসা কিন্তু সে দিকে কোন খেয়াল না করেই ব্যাগ থেকে একটা বই বের করে পড়া শুরু করে দিলো। সাদীও কোন কথা না বলে চুপচাপ বসে রইলো। কিছুক্ষণ যাওয়ার পরে সাদী ঘুমিয়ে পড়লো। সাদী ঘুমের ঘোরে মিলির কাধে তার মাথা এলিয়ে দিলো। মিলি রাগতস্বরে চেঁচিয়ে উঠলো,
-জীবনে কি কোনদিন বাসে উঠো নাই নাকি??
-কেন কি হইছে! আস্তে কথা বলো। বাসের অন্যযাত্রী রা কি বলবে?
-রাখো তোমার অন্যযাত্রী। যা জিজ্ঞাস করছি তাই বলো।
-বাসে উঠবো কেন!!! ছোট থাইকাই বাসের ভিতরেই থাকি।
-এই কারণেই এই সমস্যা। ঘুমাইবা ভালো কথা কিন্তু কাধ আমার এইদিকে আসলে খবর আছে কিন্তু।
-আচ্ছা আর আসবে না।
সাদীর লালিত ইচ্ছা তখনই শেষ হয়ে গেলো কারণ সামান্য কাধে মাথা ভুলে লাগায় যা করছে। সে আরো চিন্তা করছিলো তার ভালোবাসার কথা বলবে কিন্তু মিলির এই অবস্থা দেখে ভালোবাসার কথা বলার ইচ্ছাই চলে গেছে তার হয়তো ভয়ের কারণে।
.
কিছুক্ষণ পরে মিলির চেহারা ফ্যাকাশে হওয়া শুরু হইলো। সে সাদীকে বল্লো, "আমার বমি বমি আসতাছে তাড়াতাড়ি পলিথিন আনো।"
সাদী বাসের কন্টেক্টার এর কাছ থাইকা পলিথিন নিয়ে মিলি কে দেওয়া মাত্রই সে গড়গড় করে বমি করা শুরু করে দিলো। বমির কিছু ছিটেফোঁটা সাদীর শরীরেও লাগলো। কিন্তু সে কিছুই বলতে পারলো না যদিও রাগে তার মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালাস একেবারে টগবগ করতেছিলো। বমি করার পর সে মোটামুটি স্বাভাবিক হইলো। তখন আস্তে আস্তে সাদীর মুখ খোলা শুরু হইলো।
-কি!! আমি জীবনেও বাসে উঠি নাই তাই বাসে ঘুমাই। আর তুমি তো বাসের অনেক নামীদামী যাত্রী তাই বমি করো।
- তুমি কি আমাকে অপমান করতেছো!! এমনে বলো কেন? আমি কি ইচ্ছা করে বমি করছি নাকি!!!
-না,, তুমি বমি করে আমার কাপড় ছ্যাদাব্যাধা কইরা দিছো আবার এইটাতে তোমার কোন দোষ নাই। কিন্তু আমি সামান্য একটু ঘুমাইয়া তোমার কাধে হেলান দিলাম তাতেই যত দোষ!!!
-বুঝতে পারছি তো। আমার ভুল হইছে তোমাকে তখন ঐভাবে বলা। যাও আমি দুঃখিত, আমাকে মাফ করো এখন!!!
-ফ্রিতে কি মাফ করা যায়??
-তাইলে কি চাও??
-ট্রিট দিতে হবে। (সাদী আর কিছু পারুক আর না পারুক এই ট্রিট অন্যের কাছ থাইকা খুব সুন্দর করে আদায় করে নিতে পারে।) 
-কিসের ট্রিট??
-এখন আমাকে খাওয়াতে হবে।
-কি খাওয়াবো?
-এত কথা বলে লাভ নাই। যখন বাস বিরতি দিবে তখন দেখা যাবে!!
.
সাদী কে দেখে পটকা মনে হইলেও সে অনেক খেতে পারে। সাদী শুধু একাই প্রায় 642 টাকা বিল তুলে ফেলেছিলো। যা দেখে মিলি হতবাক। সে যে আসলেই অনেক বড় ভুল করেছিলো তা তখন বুঝতে পারছিলো। খাওয়া শেষ করে সে আনন্দের ঢেঁকুর তুলতে তুলতে যখন রেস্টুরেন্ট থেকে বের হচ্ছিলো তখন পাশের দোকান থেকে দুই টাকা দিয়ে দুইটা চকলেট কিনে নিয়ে আসে। বাসে উঠে মিলি চুপচাপ সে প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে গেছিলো। তখন তাদের এই নীরবতা ভঙ্গ করে সাদী মিলিকে একটা চকলেট দেয়। মিলি বেশিকিছু না বলে সাদীকে শুধু একটা ধন্যবাদ দেয় এবং চকলেট টা গলাধঃকরণ করে। সাদী সম্পূর্ণ বিস্মিত হয়ে পড়ে। কিন্তু সেও আর ঐ বিষয়ে আর কিছুই বলে না।
এভাবেই তাদের ঐদিনের বাস ভ্রমণ শেষ হয়ে যায়।
.
ভার্সিটিতে যথারীতি তাদের ক্লাস শুরু হয়। সাদী এবং মিলি তারা পাশাপাশি বসে। একসাথে ক্লাসের পরে ক্যাফেটেরিয়া তে যায়। সাদী লাইব্রেরী তে যেতে না চাইলেও মিলির কারণে প্রতিদিনই তাকে লাইব্রেরী তে যেতে হয়। রাত 12 টা বাজতেই মিলি ফোন দিয়ে বলবে ঘুমানোর জন্য। তাছাড়া সকাল ঠিক 6.30 এ ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙ্গাবে। সাদীর একটা বদভ্যাস আছে আর তা হলো সে বেশিরভাগ সময়ই ব্রাশ করে না। এরজন্যও মিলি সাদীকে অনেক ঝাড়ি দেয়। সাদী যেহেতু সবকিছুই বেশি বুঝে তাই মিলির সাথে তার প্রচুর কথা কাটাকাটি হয়। তাদের ভার্সিটির ক্যাম্পাসটা খুবই সুন্দর। তাদের ক্যাম্পাসের ভিতরেই একটা ছোটখাটো লিচু বাগান আছে। তারা এই লিচু বাগানেই বেশিরভাগ সময় কাটায়। তাদের মধ্যে অনেক বিষয়েই আলাপ-আলোচনা হয়। এইসবের মধ্যে তাদের ভালোলাগা, পছন্দের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকে। সাদী আগে প্রচুর কথা বলতো কিন্তু মিলির কল্যাণে এখন সে আগের তুলনায় কথা কিছু কম বলে। মিলি, সাদীর রাতের ঘুম থেকে শুরু করে আবারো ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত যতটুকু সময় সে জাগ্রত থাকে তার সবটুকু সময়ই মনিটরিং করে। সে পড়তে বসলো কিনা, খাওয়া খেলো কিনা, গোসল করলো কিনা!! কোন লেকচার তুলতে না পারলে মিলি নিজেই আবার সে লেকচার তাকে লিখে দেওয়ার পাশাপাশি বুঝিয়েও দেয়। সাদীর প্রতি মিলির এত আগ্রহ থেকে সাদী ধরেই নিছিলো যে মিলি তাকে খুবই ভালোবাসে। সামনে তাদের নবীনবরণ তাই সাদীর ইচ্ছা ঐদিনই তার মনের কথা মিলিকে বলবে সে।
.
দেখতে দেখতে তাদের নবীনবরণ এসে পড়ে। সাদী, মিলিকে কি দিবে তা নিয়ে খুবই চিন্তিত। অনেক চিন্তাভাবনা করে 400 টাকা দিয়ে একটা চকলেট বক্স কিনলো এবং 600 টাকা দিয়ে একটা পারফিউম কিনে নিয়ে আসে। নবীনবরণ এর দিন সাদী সদ্য কিনা একটা সবুজ রঙ্গের পাঞ্জাবী পড়ে যায়। তারা মাকাঝাকা চুলগুলো কে একটু স্টাইল করে কাটছাঁট করে। সে যেহেতু ভার্সিটির হলেই থাকে তাই সে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই চলে আসে। এসে মিলিকে খুঁজতে থাকে। মিলি কিছুক্ষণ পরে আসে। মিলিকে দেখে তো সাদীর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। মিলিও একটা সবুজ শাড়ি পড়েছিলো। তার উপরে সাদা ও কমলা রঙ্গের মিশ্রিত একটা হিজাব ব্যবহার করেছিলো। সাদী যদিও কোনদিন পরী দেখে নাই কিন্তু মিলিকেই তার কাছে পরী মনে হইতেছিলো। মিলি সাদীর সামনে এসে দাড়ায় এবং কথা বলা শুরু করে।
-দোস্ত,তোকে তো অনেক সুন্দর লাগতাছে আজকে। উন্নতি হইছে দেখা যায় তোর।
-কি বলোস এইসব। তোকে তো অনেক সুন্দর লাগতাছে। একদম পরীর মতো।
-সত্যি বলতাছস!!! আজকে তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।
-কি সারপ্রাইজ?? তাড়াতাড়ি দে। ( সাদী উদগ্রীব হয়ে ছিলো কারণ সে মনে করছিলো মিলি তাকে ভালোবাসার কথা বলবে।)
-এত অধৈর্য হইলে কিভাবে হবে!! অপেক্ষা করো কিছুক্ষণ।
-আইচ্ছা,, অপেক্ষা করতাছি তবে বেশিক্ষণ পারতাম না। যা করবি খুব দ্রুত কর।
. মিলি তাকে দাড় করিয়ে রেখে একটু দূরে চলে যায় ফোনে কথা বলার জন্য। কথা বলে আসার পরে সাদীকে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়া তে যায়। ক্যাফেটেরিয়া তে তারা দুইজন অনেকক্ষণ কোন কথাবার্তা ছাড়াই বসে ছিলো। প্রায় 8 মিনিট পরে মিলির ফোনে একটা কল আসে। এবং মিলি, সাদীকে বসিয়ে রেখে বাইরে যায়। ৩ মিনিট পরে আবার যখন সে ফিরে আসে তখন তার সাথে ছিলো তার 5 জন ফ্রেন্ড। তাদের মধ্যে ছিলো দিনাজপুর মেডিকেলের স্টুডেন্ট এবং হাবিপ্রবি র স্টুডেন্ট। মিলি সবার সাথে সাদীর পরিচয় করিয়ে দেয়। এবং বলে সাদী আজকে তাদের ট্রিট দিবে। এই কথা বলেই মিলি খাবারের অর্ডার দেয়। তখন সাদীর মুখটা দেখার মতো ছিলো। সে খাইতে পারতেছিলো না। তার গলবিল মনে হয় সংকুচিত হয়ে গেছিলো। মুখে কোন লালারস উৎপাদিত হইতেছিলো না। তারপরোও সে খাওয়ার অভিনয় করে গেলো। সবশেষে, তারা 9350 টাকা বিল তুল্লো। বিদায় মুহূর্তে মিলি বল্লো, " সন্ধ্যা সময় অবশ্যই মাগরীবের নামাজ পইরাই পড়তে বসবি কেমন!! আমি ওদের সাথে মেডিকেল কলেজে যাইতেছি। তারপরোও আমি কল দিবো চিন্তা করিস না। "
.
সাদী কিভাবে বিল দিবে সেই চিন্তা করতেছিলো। কারণ এখন মাসের শেষ পকেটের অবস্থাও খারাপ। তবুও বন্ধুদের কাছ থেকে ধার নিয়ে সে বিল মিটিয়ে চলে আসলো। মিলির জন্য কিনা গিফটগুলো সে সযত্নে নিজের কাছে রেখে দিলো। সন্ধ্যার পরে নিজের স্বভাবসুলভ মিলি তাকে কয়েকবার ফোন দেয় এবং সে খাইছে কিনা, নামাজ পড়ছে কিনা, পড়া শেষ করছে কিনা। ইত্যাদি বিষয়গুলো জানে। এবং ঠিক 12 টায় সাদী তার সেই পরিচিত কন্ঠের "Good Night" শব্দটা শুনতে পায়। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই কারণ এতগুলা টাকা কিভাবে পরিশোধ করবে??? পরদিন মিলি তাকে জরুরী কি বলবে বলে ফোন দেয়। মিলি জানায় তার জন্য একটা প্রাইভেট ম্যানেজ করছে সে। 
-কিরে দোস্ত!! তোর জন্য একটা প্রাইভেট ম্যানেজ করলাম। কি করবি এখন??
-না,, আমি এইসব প্রাইভেট ট্রাইভেট পড়াইতে পারুম না।
-তুমি কইলেই তো হবে না চান্দু। তোমাকে পড়াইতেই হবে। এই নাম্বার নেও ছাত্রের বাপের। আর কাল থেকে ঠিকঠাক মতো প্রাইভেট পড়াও।
সাদী কিছু বলতে চাইছিলো কিন্তু সাদীকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মিলি তার হলে চলে যায়। সাদী আর কোন উপায় না দেখে ঠিক করে প্রাইভেট পড়াবে। প্রাইভেট পড়িয়ে সে তার বন্ধুদের কাছ থেকে যে টাকাগুলো ধার করেছিলো সেগুলো পরিশোধ করে ফেলে।
.
অন্যদিকে,, সাদীর পড়ার ব্যাপারে তার থাইকাও মিলি বেশি চিন্তাশীল। সে লেকচারের কোন অংশ না বুঝলে মিলি নিজেই বুঝিয়ে দেয়। তাকে লাইব্রেরী তে নিয়ে যায়। এখন আর তারা বাইরে সময় বেশি ব্যয় করে না। তারা তাদের বেশিরভাগ সময়ই এখন লাইব্রেরী তে কাটায়। যদিও সাদী যেতে চায় না তবু তাকে জোর করেই মিলি নিয়ে যায়। এভাবে তাদের দেখতে দেখতে অনার্স শেষ হয়ে যায়। তাদের দুইজনেরই রিজাল্ট ভালো হয়। মাস্টার্স এর পরীক্ষার রিজাল্টে দেখা যায় মিলি ফার্স্ট আর সাদী সেকেন্ড। ভার্সিটি থেকে মিলিকে চাকরীর জন্য অফার দেওয়া হয় কিন্তু সে তা ফিরিয়ে দেয়। তখন মিলি এবং তার স্যারদের ইচ্ছায় সাদীই ভার্সিটিতে যোগ দেয়। সে যেদিন প্রথম ভার্সিটিতে যোগ দিবে তার আগেরদিন মাগরীবের নামাজের কিছুক্ষণ পরে মিলি তাকে ফোন দেয়।
-দোস্ত,তুই কই? একটু ডিবক্সের সামনে আসবি প্লিজ।
-কিরে! তুই এভাবে কথা বলতাসিস কেন?
তোর কি কোন সমস্যা হইছে??
-না, তুই আগে আয়। তোর সাথে কথা আছে।
. সাদী হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে। সে দেখে মিলি দাঁড়িয়ে আছে। আজকেও মিলি একটা শাড়ি পড়ছে তবে কালারটা সে বুঝতে পারতেছিলো না। কারণ মোটামুটি অন্ধকার ছিলো জায়গাটা।
-কিরে এত জরুরী তলব। ঘটনা কি?
-তোরে একটা কথা বলতে চাইতাছি। প্লিজ না করবি না ক??
-আরে,বলেন ম্যাডাম বলেন। আপনি কোনদিন কিছু বলছেন আর আমি না করছি!!!
-তা করস নাই। তবে আজকের কথাটা একটু ভিন্ন।
-আরে রাখ তোর ভিন্ন। তুই আগে বল।
-দোস্ত, আমি!! আমি না তোকে খুবই ভালোবাসি বলেই সে সাদী কে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেয়।
. সাদী কি বলবে তা বুঝতেছিলো না। সাদী, মিলিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেস্টা করে কিন্তু সান্ত্বনা দেওয়ার আগেই সে নিজেও কেঁদে ফেলে। কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর তারা স্বাভাবিক হয়। মিলি, সাদীকে একটা সবুজ পাঞ্জাবী দিয়ে বলে, " তুই কালকে এই পাঞ্জাবীটা পড়ে তোর চাকরীতে যোগ দিবি। আমাকে কথা দে!!! "
-আচ্ছা কথা দিলাম। কিন্তু এই এতদিন পরে এই কথা বল্লি কেন?
-আমি তো প্রথম দিনই বুঝতে পারছিলাম তুই আমাকে ভালোবাসোস। কিন্তু তুই যেহেতু বলতে পারস না তাই আমিই বল্লাম।
-তা ঠিক তবে আগে বলতি।
-আগে বল্লে কি আর তুমি এই ভার্সিটির টিচার হইতে পারতা???
.
তাদের এই ভালোবাসার কথা তাদের পরিবারকে জানানো হয়। তখন তাদের দুই পরিবার মিলে খুবই ধুমধাম করে তাদের বিয়ের আয়োজন করে এবং তাদের বিয়ে হয়। বাসর রাতে সাদী একটা বক্স নিয়ে হাজির হয়। মিলি জিজ্ঞেস করে এই বক্সে কি আছে? তখন সাদী বক্সটা খুলে। আর বক্স খুলার সাথে সাথে সেখানে কয়েকটা শুকনো ডালিয়া,গোলাপ, একটা চকলেটের বক্স দেখা যায়। মিলি হাতে নিয়ে বুঝতে পারে এইগুলো একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকের। তখন সাদী তার মুখ খুলে
-এইগুলো আমি তোমাকে দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম নবীনবরণ এর দিন। কিন্তু আর দেওয়া হয়ে উঠেনি। আমি জানতাম ডালিয়া এবং গোলাপ তোমার প্রিয় ফুল এবং চকলেট খেতে তুমি খুবই পছন্দ করো। তাই আমার আশা আছিলো আমি যদি এইগুলো দিয়ে তোমাকে প্রপোজ করি তাইলে তুমি আমাকে ফেরাতে পারবে না।
-হইছে আর কথা বলতে হবে না। প্রথম প্রপোজ আমিই করছি তাও পাঞ্জাবী দিয়ে।
তোমার এইসব কথার কোন মূল্য নাই।
-হুম্ম এখন তো তাই ঠিক। আপনি তো আমার চকলেট ওয়াইফ!! আপনি যা বলবেন তাই সঠিক।
-এত পাম দিও না। পাম দিলে কিন্তু আবারো লাইব্রেরী র প্যারায় পড়তে হবে।
-দুর, এখন আর লাইব্রেরী কইত্তে আসলো!! এখন আর লাইব্রেরী নাই।
-ঘরকে লাইব্রেরী করে ফেলবো। তুমি কি কিন্তু আমার রাগ উঠাইতাছো।
-আচ্ছা কানে ধরতাছি। চকলেট বউ প্লিজ রাগ কইরো না প্লিজ।
-তোমার উপর কি আমি রাগ করে থাকতে পারি?? তুমি তো আমার পটকা বর। আমি যে তোমার অর্ধাঙ্গিনী।
. এভাবে কিছুক্ষণ কথা বলার তারা দুইজনই বাথরুমে চলে যায় এবং অজু করে ফিরে আসে। তারপর তারা দুই রাকাত নামাজ আদায় করে বিছানায় যাওয়া মাত্রই রুমের সব লাইট অফ হয়ে যায় এবং রুমে নিস্তব্ধতা এসে ভর করে।

★এলোমেলো ইচ্ছে গুলো★

অনেক অনেক দিন আগে একটি বড় আপেল গাছ ছিল। একটি বালককে গাছটি খুব পছন্দ করতো। বালকটিও প্রতিদিন এসে গাছের চারপাশে খেলতো। গাছের ডালে উঠত। আপেল খেত। গাছের গুড়িতে শুয়ে তার ছায়ায় বিশ্রাম নিত। সেও গাছটিকে খুব ভালবাসতো আর আপেল গাছটি ও এতে খুবই আনন্দিত ছিল।
সময় গড়িয়ে যায়, কিন্তু অনেক দিন বালক আর গাছের নিচে খেলতে আসে না। একদিন হটাৎ বালকটি আবার গাছের কাছে ফিরে এলে।গাছটি বললো, "তুমি আবার ফিরে আসায় আমি খুব আনন্দিত। এসো, আবার খেলা শুরু করো"
কিন্তু বালকটি শুধালো, "আমি এখন আর আগের বালকটি নেই। এখন আমি আর গাছের গুড়িতে দৌড়াদৌড়ি করে খেলা করি না। আমার এখন খেলনাচাই, কিন্তু খেলনা কিনতে টাকা প্রয়োজন।"গাছটি বললো,"কিন্তু আমার কাছে তো টাকা নেই। তুমি চাইলে আমার সকল আপেল পেরে বাজারে বিক্রি করে টাকা জোগাড় করতে পারো"।
.
কথাটি বালকটির খুব মনপুত হলো। সে সব আপেল গাছ থেকে পেরে ব্যাগে করে নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। বালকটি খুব আনন্দিত এবং বালকের আনন্দ দেখে গাছটিও খুব তৃপ্ত ও আনন্দিত হলো।
আপেল পেরে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকদিন আর বালকটির দেখা নেই সেই আপেল গাছের গোঁড়ায়। গাছটি খুব দুঃখ পেলো।
হটাৎ একদিন বালকটি গাছের কাছে ফিরে এলো , ততদিনে সে পরিপূর্ণ যুবক। গাছটি এতে খুব আনন্দিত হলো।। বালকটিকে আবারো গাছের সাথে খেলতে অনুরোধ করলো সে।কিন্তু বালকটি জানালো,"এখন আর তার সে সময় নেই। সে এখন অনেক ব্যাস্ত। তার এখন বাড়ি বানানো খুবই দরকার।
.
এ জন্য গাছটির সাহায্য চাইলো "কিন্তু গাছটি জানালো তার কোন বাড়ি নেই, তাই তাকে সাহায্য করতে পারছে না। তবে একটা বুদ্ধি দিলো, "তুমি চাইলে আমার কিছু ডাল-পালা কেটে নিয়ে যেতে পারো আর তা দিয়ে বাড়ি বানাতে পারো"
বালকটি তখন গাছের সকল ডাল-পালা কেটে নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি অভিমুখে চলে গেলো, পেছন ফিরে একবার ও গাছটির দিকে তাকালো না। বালকটির আনন্দে গাছটিও খুব আনন্দিত ছিল।এরপর অনেক দিন আর বালকটির দেখা নেই গাছের গোঁড়ায়।। গাছটি আবারো একা হয়ে গেলো।
অনেক দিন পরে, হটাৎ এক গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরেগাছের গোঁড়ায় বালকটির আগমন। ততদিনে তার যৌবন পড়তির দিকে। জীবনের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত তখন। গাছটি বালককে দেখে খুব খুশি হলো, আবারো তার সাথে খেলার অনুরোধ করলো।।
.
কিন্তু বালকটি জানালো,"আমার এখন আর খেলার বয়স নেই। আমি বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। জীবন যুদ্ধে লড়তে লড়তে আজ আমি ক্লান্ত। আমাকে এখন আনন্দের জন্য, ক্লান্তি কাটাতে নদীতে মাছ ধরতে যেতে হবে। কিন্তু আমার কোন নৌকা নেই। তুমি কি আমাকে কোন সহায়তা করতে পারো??" "তুমি চাইলে আমার গুড়ি কেটে নিয়ে যেতে পারো এবং এটা দিয়ে নৌকা বানিয়ে নিতে পারো"
গাছের এমন পরামর্শে বালকটির চোখে মুখে আনন্দের শিহরন খেলে গেলো। সে তৎক্ষণাৎ কুড়াল দিয়ে গাছের গুড়ি কেটে নিয়ে গেলো। এবং নৌকা বানিয়ে নদীতে চলে গেলো মাছ শিকারে।
.
অনেকদিন আর তার দেখা নেই এখানে।হটাৎ অনেকদিন পর শেষ পর্যন্ত গাছের কাছে ফিরে এলো লোকটি। ততদিনে সে জীবন সীমার শেষ প্রান্তে। কিন্তু গাছটি শুধালো,"দুঃখিত বালক। আমার কাছে এখন আর তোমাকে দেওয়ার মতো কিছুই নেই। কোন আপেল নেই......"
বৃদ্ধ হাসলো এবং বললো, "আমারো এখন আপেল খাওয়ার মতো দাত ও নেই "- "কোন ডাল- পালা বা গুড়ি ও নেই যেখানে তুমি চড়বে"- "গাছের ডালে চড়ার মতো বয়স ও এখন আমার নেই"-"সত্যি ই এখন তোমাকে দেওয়ার মতো আমার আর কিছু অবশিষ্ট নেই শুধু মৃতপ্রায় মূলগুলো ছাড়া " - গাছটি বললো।
.
"আমার এখন এগুলোর কোনটাই দরকার নেই। আমার শুধু বিশ্রাম নেওয়ার মতো একটা জায়গা চাই, যেখানে বসে আমি আমার এতোগুলো বছরের পাওয়া- না পাওয়ার হিসাবটা একটু মিলাবো।"- বৃদ্ধটি বললো।"
তাহলে মৃতপ্রায় গাছের মূল ই এর জন্য আদর্শ জায়গা। এখানে বসো আর ভাবো জীবন তোমাকে কি দিয়েছে, কি দেয় নি। কি করা উচিত ছিল, আর কি করা ঠিক হয় নি"- গাছটি বললো। লোকটি গাছের মূলে বসলো আর গাছটি অনেক আনন্দিত হলো। আনন্দ গাছের কান্না হয়ে ঝড়ে পড়লো।।

রুপকথা

>>কখনো কি বুঝেছিস তোর মন কি চায়?? (রিদম)
>>না সেটা বুঝার প্রয়োজন মনে করিনি তাই কখনো বুঝার চেষ্টাও করিনি। (পায়েল)
>>আচ্ছা তুই এমন কেনো রে? (রিদম)
>>কেমন আমি?(পায়েল)
>>না কিছু না।(রিদম)
>>হুমম ভাল(পায়েল)
>>আজকের আবহাওয়াটা অনেক ভাল লাগছে। তাই না?(রিদম)
>>হুমম খুব ভাল লাগছে। কি সুন্দর ঠান্ডা বাতাস। আর দেখ ঐ যে আকাশটাতে মেঘেরা কিভাবে নড়ছে। মনে হয় আজ অনেক কষ্ট আকাশটার। কিছুক্ষনের মধ্যেই মনে হয় অঝরে কাঁদবে। (পায়েল)
>>বাহ তুই তো দেখি একেবারে কবিদের মতো কথা বলছিস। কি কবি হওয়ার ইচ্ছে নাকি??(রিদম)
>>হা হা। ধুর পাগল। আচ্ছা চল তাহলে এখন উঠি(পায়েল)
>>হুমম তাই ভাল হবে। কখন যে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। তার আগে চলা যাওয়াটাই ভাল (রিদম)
>>হুমম। তাহলে চল যাওয়া যাক(পায়েল)
.
রিদম এবং পায়েল তারা দুজন ক্লাস মেট। দুজনেই হোস্টেলে থেকে পড়া শুনা করে।তারা কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এ ৫ম সেমিস্টারে পড়ছে।এর মধ্যে রিদম এবং পায়েল খুব ভাল বন্দু।তারা একে অপরকে প্রায়ই তিন বছর ধরেই চিনে। খুব ভাল বন্দুই ছিলো তারা দুজন। কিন্তু কবি বলেছেন,,
.
"ছেলে মেয়েদের মাঝে কখনো
বন্দুত্বের সম্পর্ক হতে পারে না"
.
কারন তাদের দুজনেরই চাহিদা রয়েছে যা বন্দুত্বের দিকে যায় না। আর এর কারনেই তাদের সম্পর্কটা বন্দুত্বের চেয়ে একটু বেশিই হতে যাচ্ছে।যেটা অনিচ্ছাকৃত ভাবে হয়েছে বলে আমি মনে করি।আসলে পছন্দ আর ভালবাসা কখন যে কার মাঝে এসে ভর করে তা কখন বোঝা যায় না।ঠিক তেমনি করেই এসেছে রিদমের জীবনে।
.
>>এসেই তো পড়েছি কিন্তু তোর আকাশটা তো এখনো কাঁদলো না(রিদম)
>> =D =D =D (পায়েল)
>>হাসছিস কেনো?? (রিদম)
>>তোর কথা শুনে (পায়েল)
>>আমি কি হাসার কিছু বললাম?(রিদম)
>>জানিনা তবে ইচ্ছে করেছে তাই হেসেছি।(পায়েল)
>>এমনি এমনি তো পাগলরা হাসে। আর তুই তো মেয়ে তাহলে তো তোকে পাগলী বলতে হবে।(রিদম)
>>হুমম বল। আমাকে কেউ পাগলী বলে ডাকলে অনেক ভাল লাগে।খুব খুশি হই আমি। (পায়েল)
>>ওহহহহ। তাহলে আজ থেকে তোকে পাগলী বলেই ডাকবো আমি।(রিদম)
>> =D =D =D । ডাকিস (পায়েল)
.
হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। অনেক জোড়ে নামছে বৃষ্টি। ভিজার জন্য মন ছটফট করছিলো পায়েলের। কিন্তু রাস্তা দিয়ে ভিজে আসাটা খারাপ দেখায়।তারপরে আবার রিদম তার সাথে রিদম তো কখনোই মানবে না এটা।তাদের মধ্যে বন্দুত্ব ছিলো ঠিকই কিন্তু একে অপরকে অনেক কেয়ার করতো।
.
বৃষ্টি কিছুটা কমেছে তাই তারাতারি করে হোস্টেলে ফিরে গেলো। পায়েল তাদের হলে এবং রিদম তাদের হলে গিয়ে উঠলো। আসলে হোস্টেল জীবনটা অনেক মজার যারা ছিলেন শুধু তারাই বুঝবেন।মাঝে মাঝে প্যারা পেতে হতো। তবে সব মিলিয়ে বেশ লাগে হোস্টেল লাইফ।এভাবেই যাচ্ছিলো তাদের জীবন।
.
ঈদের ছুটিতে বাসায় এসে পরে সবাই।এদিকে বাসায় যেনো মন টিকছে না তাদের। একে অপরকে খুব বেশি মনে পড়ছে। আসলে দূরে থাকলেই বোঝা যায় ভালবাসার মানুষটিকে কতো ভালবাসে।রিদম এবং পায়েল খুব ভাল করেই দুজন দুজনের মনের খবর জানতো। মনের খবর মন দিয়েই জানা যায়।
.
না ৪ দিন হয়ে গেলো। আর পারছে না পায়েল রিদমের সাথে কথা না বলে থাকতে।তাই ফোন করলো রিদমকে
>>হ্যালো। (পায়েল)
>>হ্যালো কেমন আছিস? (রিদম)
>>হুমম ভাল। তুই কেমন আছিস?(পায়েল)
>>ভাল। তো হঠাৎ ফোন করলি যে (রিদম)
>>মন চাইলো তাই।তোর মতো তো আমি সার্থপর না।যে খবর নেওয়ার মতো সময় টুকু পর্যন্ত থাকবে না(পায়েল)
>>তাই। সত্যি বলতে তোর কথা অনেক মনে পড়েছে আমার।(রিদম)
>>কি যে মনে পড়েছে সেটা বুঝতেই পারছি(পায়েল)
>>আমি ইচ্ছে করেই ফোন দেইনি।আমি দেখতে চাইছিলাম তুই আমাকে মনে করিস কিনা।(রিদম)
>>হইছে হইছে আর বলতে হবে না।(পায়েল)
>>জানি বিশ্বাস করবি না।(রিদম)
>>অবিশ্বাস করার মতোই। (পায়েল)
>>আচ্ছা বাদ দে। বাসার সবাই কেমন আছে?(রিদম)
>>হ্যা সবাই ভাল শুধু আমি ছাড়া (পায়েল)
>>কি হয়েছে তোর?? (রিদম)
>>তেমন কিছুই না।(পায়েল)
>>বল কি হয়েছে (রিদম)
>>না বলবো না(পায়েল)
>>আচ্ছা বলিস না। বলতে হবে না তোর (রিদম)
>>রাগ করলি?(পায়েল)
>>না রাগ করবো কেনো (রিদম)
>>আচ্ছা পরে কথা হবে।এখন রাখি (পায়েল)
.
রিদম বুঝতে পেরেছে পায়েলের অবস্থাটা। কারন রিদম জানে পায়েলও তাকে অনেক পছন্দ করে কিন্তু কখনো কেউ কাউকে বলতে পারেনি তাদের মনের না বলা কথাটি। হয়তো এবার ঠিক বলে দিবে কেউ একজন।খুব মিস করছে দুজন দুজনকে।এবার রিদম ভাবছে যাহ হবার হবে এবার বলেই দিবো আমার মনের কথা।
.
ছুটি শেষে আবার হোস্টেলে ফিরে আসলো।অনেকদিন পর দুজন দুজনকে দেখে। খুব খুশি লাগছে রিদমের।কিন্তু পায়েল মনে হয় আকাশের চাদটাকে সরাসরি দেখছে।যেটা পায়েলের চোখের দিকে তাকিয়েই বোঝা যাচ্ছে।এবার বলবেই রিদম যেভাবেই হউক।
.
>>পায়েল
>>হুমম বল
>>তোকে একটা কথা বলতে চাই।জানিনা কথাটি শুনবার পর তোর রিয়েক্টশন কেমন হবে।কিন্তু আমি আর থাকতে পারছি না।
>>কি হয়েছে বলবি তো।
>>আমি তোকে ভালবাসি।
>>___________[হয়তো এই কথাটি শুনার জন্য পায়েল ও অপেক্ষা করছিলো খুব]
>>তোর কিছু বলতে হবে না।আমি শুধু আমার ফিলিংস্টা তোকে জানালাম।
.
বলেই পিছু হাটা শুরু করলো রিদম।আর ভাবছে হয়তো তাদের বন্দুত্ব এখানেই শেষ।ভাবছে আর কখনো হয়তো কথা বলবে না সে।থাকবে না আর সে আমার মন খারাপের দিনে।এরকম কিছুই ভাবছিল রিদম।হঠাৎ কিছুক্ষনের মধ্যেই রিদম খুব খুশি হয়ে যায়।পায়েলের ডাকে পিছু ফিরে তাকায়।
.
>>রিদম
>>হুমম বল
>>কোথায় যাচ্ছিস আমাকে ফেলে?এই তোর আমার প্রতি ভালবাসা।তুই জানতে চাসনা আমার মনের কথা। তুই কি বুঝিসনা আমার মনটাও যে শুধু তোকে ভালবাসতে চায়।
.
রিদম ঝড়িয়ে পায়েলকে বুকে টেনে নিলো। কয়েক মিনিট একদম চুপচাপ। শুধু নিশ্বাসের শব্দ হচ্ছিলো যেটা বলতে চাচ্ছে "ভালবাসি"। এভাবেই বেচে থাকুক ভালবাসা এবং ভালবাসার মানুষ গুলো।
---আমি মস্ত বড় একটি খারাপ কাজ করে ফেলেছি। (মেয়ে)
--- কি খারাপ কাজ? (আমি)
--- আমার কারনে আজ একটি ছেলের জীবন নষ্ট হতে যাচ্ছে? 
--- কেন? কি করেছো তুমি? 
--- ফেইসবুকে একটি ছেলে আমাকে প্রেম নিবেদন করেছিল, আমি কি মনে করে যেন রাজী হয়ে গিয়েছিলাম। 
কথাগুলো আমার আর একটি মেয়ের। আমার সাথে মেসেজে কথাগুলো বলার সময়ও মেয়েটি সেই ছেলেকে বুঝানোর চেষ্টা করছিল। যে ছেলেটি মেয়েটির প্রেমে সাড়া পেয়ে পাগল দিওয়ানা হয়ে গিয়েছে। 
মেয়েটির সাথে ছেলেটির পরিচয় ফেইসবুকের মাধ্যমে। বন্ধুত্বের পর ছেলেটি মেয়েটিকে প্রেম নিবেদন করে। মেয়েটি বলেছিল, তোমাকেও আমার ভাল লাগে। তবে তোমার সাথে প্রেম করতে পারব, কথা বলতে পারব। কিন্তু তোমাকে বিয়ে করা অামার পক্ষে সম্ভবনা। যেহেতু অামরা দুইজন দুই ধর্মের। ছেলেটি মেনে নিয়েছিল। ছেলেটি মেয়েটিকে কিছুতেই হারাতে চায়ননা। হয়তো সেজন্যই ছেলেটি মেয়েটির এরকম প্রস্তাবেও রাজী হয়েছিল। 
কিন্তু প্রেম মানেনা বাঁধা। প্রেম মানেনা জাতী ধর্ম। দুটি মনের সুপ্ত অাকাঙ্খা, অাত্মিক সেতু বন্ধন প্রেম ভালবাসায় রূপান্তরিত করে। তাই ছেলে ও মেয়ে জড়িয়ে পড়েছে প্রেম ভালবাসার গভীরতর বন্ধনে। 
মেয়েটি অামাকে মেসেজে বলতেছে, এই প্রেম প্রেম খেলা করাটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। অামি এই খেলা থেকে মুক্তি চাই। এখন হয়তো দুজনেই কষ্ট কম পাব, কিন্তু দিন যত যাবে ততই আমাদের কষ্ট দিন দিন বাড়তে থাকবে। কারন অামার পক্ষে ধর্ম পরিবর্তন সম্ভব নয়। 
অামিও বলেছিলাম, সত্যিই তোমার ভুল ছিল। নয়তো প্রেমে জড়ানোর আগেই বিষয়টা ভেবে দেখার দরকার ছিল। তবুও যদি মনে করো ভবিষ্যতে দুজনের জীবন হবে হুমকির সম্মুখীন তাহলে এখনই পিছিয়ে আসা ভাল। 
মেয়েটি আমাকে জবাব দিল, ছেলেটি এখনই মদের বোতলের ছবি তুলে পাঠিয়েছে। হোয়াটসএ্যাপে ফোন দিয়ে ডগডগ করে মদ খাওয়ার শব্দ শুনিয়েছে। এই অবস্থায় পিছিয়ে যাব কিকরে? অার অামার পক্ষে ধর্ম পরিবর্তন করাও সম্ভবনা। 
অামি মেয়েটিকে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারিনি। ব্যাখ্যাও খুঁজে বের করতে পারিনি। 
.
গত আটই এপ্রিল রাত সাড়ে বারোটার ঘটনা। টাঙ্গাইলে এক গৃহবধূর ঘর থেকে পরপুরুষ বের হতে দেখা গেছে। আর ঘরের দরজা খুলে দিয়েছে গৃহবধূটি নিজেই। গৃহবধূর স্বামী থাকে বিদেশে। পনেরো দিন পর দদেশে আসবে। অাশেপাশের ঘরসহ পরিচিতরা সবাই জানার তিন ঘন্টা পর পর্যন্ত স্তব্ধ হয়ে থেকেছে। কি সিদ্ধান্ত নিতে পারে? গৃহ বধূর বাবা মা সহ গার্ডিয়ান পক্ষকে ডেকে আনা হয়েছে রাতেই। তাদের কাছে গৃহবধূকে দিয়ে বিদায় করতে চেয়েছিল ছেলে পক্ষ। কিন্তু গৃহবধূ মরতে রাজী, কিন্তু স্বামীর ভিটা ছাড়তে রাজী নয়। গৃহবধূর সীকারোক্তি, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। তার ঘরে কোন পরপুরুষ ছিলনা। 
তাহলে কি গৃহবধূর ঘরে চোর ঢুকেছিল? কিন্তু গৃহবধূই কেন দরজা খুলে দিবে? 
তাহলে একটু ভেবে দেখা যাক। সন্ধারাতে গ্রামের সেই গৃহবধূ ও আশেপাশের মানুষ যখন বাইরে কাজে বা কথায় মশগুল ছিল, তখন চোরটি সুযোগ বুঝে ঘরে ঢুকে খাটের নীচে লুকিয়ে ছিল। গৃহবধূ যখন প্রাকৃতিক ডাকে বাইরে বের হওয়ার জন্য দরজা খুলল তখন চোরটি সুযোগ বুঝে পালিয়ে গেল। প্রত্যক্ষদর্শী চোরকে পরপুরুষ ভেবে নিল। তার মানে দাড়াচ্ছে গৃহবধূটি নির্দোশ। 
কিন্তু প্রশ্ন আরেকটি থেকে যায়। গৃহবধূর ঘর থেকে কিন্তু কোন কিছু চুরি যায়নি। তাহলে কি স্বামী বিদেশ থাকার কারনে সত্যিই পরপুরুষের সাথে সম্পর্ক ছিল গৃহবধূটির??? 
এই ঘটনারও কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
.
একটি মেয়ে হাসান নামের এক ছেলেকে অনেক ভালবাসত। হাসানও ভালবাসত মেয়েটিকে। কিন্তু যখন মেয়েটির বাবা মা মেয়েটির বিয়ে ঠিক করে ফেলে তখন মেয়েটি হাসানকে বলেছিল তুমি আমাকে ভুলে যাও। হাসান বলেছিল ভুলব কেন? চলো আমরা পালিয়ে যাই। মেয়েটি বলল বাবা মায়ের মুখে চুন কালি মেখে আমি তোমার সাথে পালাতে পারবনা। হাসান মনে মনে ভেবে নিল, মেয়েটা নিশ্চয় ডাক্তার স্বামী পেয়ে হাসানের সাথে প্রতারণা করেছে। কিন্তু সেই মেয়েটিরও সংসার টিকেনি। 
মেয়েটি প্রচন্ড উপন্যাস পড়ার প্রতি দুর্বল ছিল। মেয়েটির স্বামী একদিন আবিষ্কার করল কয়েকটা বইরের ভেতর মেয়েটির নামের সাথে অন্য ছেলের নাম লিখা। পেয়েছিল ভালবাসা ভিত্তিক ছোট ছোট কয়েকটা চিরকুটও। তখনও মেয়েটির সংসার ভাঙ্গেনি। সংসার ভেঙ্গেছে, মেয়েটির স্বামী একদিন কৌতূহল বশত মেয়েটির গলার রকেট খুলেছিল। মেয়েটি ছিল গভীর নিদ্রায় নিদ্রিত। আর মেয়েটির স্বামী আবিষ্কার করল মেয়েটির গলার রকেটের লাভের ভিতরে একপাশে মেয়েটির ছবি আর অন্যপাশে অন্য একটি ছেলের ছবি। সেই সম্পর্কটা আর টিকলনা, মেয়েটিকে তার বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল। 
এখানেও একটি প্রশ্ন, তাহলে কি মেয়েটি তখনও সেই ছেলেটিকে ভালবাসত?
.
প্রেম মানুষের জীবনে অাসে খুব সহজেই। আবার নিতান্ত্যই সাধারন কারনে প্রেমের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু নষ্ট হওয়ার পরে বা আগে দুটি মনের ভিতর যে ভালবাসা থাকে সেটার ব্যাখ্যা পাওয়া খুবই মুশকিল। ছোটবেলায় দেখতাম অনেকেই বিভিন্ন পোস্টার এনে ঘরে টাঙ্গিয়ে দিত। একটি পোস্টারের উপরে লিখা দেখেছিলাম, "স্বর্গ থেকে আসে প্রেম স্বর্গেই যায় চলে। তবে বর্তমান যুগে প্রেম স্বর্গে না গিয়ে কোথায় যায় সেটা সবারই জানা। পরিশেষে কথা একটাই। বিভিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যা খুজে পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘটনার লুকায়িত মানুষের মনে ভালবাসার কোন ব্যখ্যা হয়না, মনের মত হয়না। 
পৃথিবী হেসে উঠুক ভালবাসার গভীরতর বন্ধনে।

ভালবাসার ঘর

আমি সবুজ। এখন বিকেলে ছাদে বসে আছি। ফ্রি টাইম তাই। হাতে মোবাইল তাই গেমস খেলছি। শুধু গেমস খেলে তো আর জীবন চলে না, সংসারও চালাতে হয়। তাই একটা জব করব। বউটা বোধ হয় নিচে অনেক কাজ করছে। যাই ওকে একটু হেল্প করি।
.
নিচে এসে দেখি কিয়ের কাজ,,, কিয়ের কি?? বউ আমার রান্না ঘরে বসে চকলেট খাচ্ছে। উফফফ বাবা, এই পাগলীটাকে নিয়ে আর পারলাম না। এগুলো দেখে আমি রুমে চলে গেলাম। রুমে গিয়ে ফ্যান ছেড়ে আবার রিমুট হাতে বসে পড়লাম টিভি দেখতে।
.
কতখন দেখার পর কোথা থেকে যেন শা করে এসে আমার কোলে বসে পড়লো।
- এটা কি হলো?
- কোনটা?
- আমার কোলে বসলে কেন?
- তাহলে কই বসবো?
- আর জায়গা নাই?
- আমার বরই তো আমার একমাত্র জায়গা।
- তাই বলে আমার কোলে এসে বসা লাগবো?
- বসবই। একশো বার বসবো। আমার বরের কোলে আমি বসবো।
- আমাকে এভাবে কতখন থাকতে হবে?
- যে পর্যন্ত আমি থাকবো।
- কতখন থাকবে তুমি?
- ৯টা বা ১০ পর্যন্ত।
- কিইইইইহ??
- আমি ঘুমাবো এখন।
- বালিশে যাও।
- না।
- তাইলে?
- তোমার কোলে বসে বুকে মাথা দিয়ে ঘুমাবো।
- হায় কপাল এগো পিরিত দেখলে মরতে ইচ্ছে করে।
- কি বললে তুমি ( কান্না সু্রে)
-এই না কিছু বলি নাই তো,,, আমি আবার মরব কেন?? আমি কি আমার পাগলী বউটাকে রেখে কোথাও যেতে পারি।
- উহুঁ উহুঁ উহুঁ ( বুকে মুখ গুজে কাঁদছে)
- এই আবার কি হলো?
- তুমি আগে কেন বললে ও কথা হ্যাঁ? আমাকে একটুও ভালোবাসো না তুমি।
- কে বলছে?
- তোমার কথায় বোঝা যায়।
- কেমন??
- তুমি আমাকে ভালবাসলে ও কথা কখনো বলতে না।
- আচ্ছা হইছে হইছে!!! এই দেখো কান ধরছি,,
- হবে না।
- তাইলে?
-শক্ত করে জড়িয়ে ধরো।
- পারবো না।
- কেন?
- লজ্জা করছে।
- আম্মুওওওও,, উহুঁ উহুঁ,,
- আবার কি হলো, কাঁদছো কেন?
- তুমি আমার বর হওয়ার যোগ্য না,,, আর আমাকে ভালবাসা তো দূরের কথা, তুমি আমাকে ঝামেলা মনে করো।
- জান এগুলো কি বলছো?
- তাইলে নিজের বউকে কেউ জড়িয়ে ধরতে লজ্জা পায়।
- না।
- তাইলে তুমি পাও কেন?
- জানি না তো।
- এখন ধরবে কি না।
- এইতো ধরছি।
.
জড়িয়ে ধরার কয়েক মিনিট পর,
- আলপনা,, এই আলপনা,, ঘুমিয়ে পড়লে নাকি??
.
যাক পাগলীটা ঘুমায়ছে। উফফফ বাঁচলাম। কিন্তু আমার কোলেই তো ঘুমিয়ে পড়ছে। এখন সরিয়ে বালিশেও দিতে পারছি না,,, ঘুম ভেঙে গেলে আবার কান্না করবে।। আর বলবো তুমি আমাকে কেন সরাইছো?? তার বদলে ভালো, এখানেই থাক একটু সময়। পরে কোনো ছুতো দিয়ে সরিয়ে দেব।
.
এই পাগলী বউটার নামই হলো আলপনা। এখন কোলে ঘুমিয়ে আছে,, আমারও ভালো লাগছে। উষ্ণ নরম শরীরের ছোঁয়ায় গরমটা এখন একেবারেই লাগছে না। আর ফ্যানের বাতাসে ওর চুল গুলো উড়ছে। ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় একদম একটা মায়াবী অপ্সরীর মতো লাগছে।
.
আমাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়। তবুও বিয়ের আগে চারমাস চুটিয়ে প্রেম করছি। ৬ মাসের মাথায় মেয়ে দেখতে গেলাম। মেয়ে দেখেই এই প্রথম হবু বউয়ের উপর ক্রাশ খাইলাম। আগে কোনো মেয়ের উপর খাইনি। কিন্তু বউয়ের উপর খাব ভাবিনি।
.
আমি যখন বললাম মেয়ে আমার পছন্দ হইছে,, তখনই সবাই বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করতে বসে পড়লো। তখনই আমি বললাম আমার অফিসে একটু ঝামেলা আর বাড়তি কাজ আছে, তাই কয়েক মাস পরেই বিয়ে হবে।
সবাই ভেবে নিয়ে আমার কথায়ই মত দিল।
.
তারপর থেকেই আমাদের দুজনের শুরু হয় প্রেম। প্রতিদিন দিনরাত সমানে আমাদের ফোনে কথা। আর প্রতি সপ্তাহে দুজনে লুকিয়ে দেখা করা। ঘুরতে যাওয়া। ফুচকা খাওয়া, দুজনে হাত ধরে হাটা এগুলোই হলো আমাদের প্রেমের প্রথম পাতার কাব্য।
.
প্রথম প্রথম ও আমার হাত ধরে হাটতে একটু লজ্জা পেতো কিন্তু তারপর ওর স্বভাব পাল্টে যায়। জোর করেই ও আমার হাত ধরতো আর যদি আমি ছাড়িয়ে নিতাম তাহলে তো হয়েই গেল।
আমাকে অনেক মারতো, কিল ঘুসি তো আছেই,, মারার পর আবার নিজেই কান্না করতো। তারপর সারাদিন আর কথা বলতো না, রাগ করে চলে আসতো। কিন্তু তার পরের দিন সকালে ফোন করে বলতো,,, সরি বাবু আর এমন হবে না, আর মারবো না, প্লিজ আজকে দেখা করো,।
.
আমি ওর এসব কান্ড দেখে না এসে পারতাম না। নিজেই মারবে তারপর নিজেই সরি বলবে। তারপর যখন বিকেলে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি এসে পার্কে যেতাম ওর সাথে দেখা করতে তখন কাছে যাওয়া মাত্রই জড়িয়ে ধরতো আর বলতো,, রাগ করছো,,, বললাম তো আর এমন হবে না।
.
তখন তো আমি আরও জোরে জোরে হাসতাম। ও আমার এমন অবস্থা দেখে আমাকেই দৌড়াতো। আর যখন দৌড়াদৌড়ি শেষে দুজন ব্রেঞ্চে গিয়ে বসতাম,, তখন আমাকে অনেক গুলো মিষ্টি দিতো।
( আরে ভাউ এ মিষ্টি দোকানের মিষ্টি না,,, এটা দুধ ময়দার দিয়ে তৈরির না,,, এ মিষ্টি লিপ্সটিক দিয়ে তৈরি মিষ্টি, বুঝতে পারছেন :?)
.
তারপর আমাদের বিয়েটা হয়েই গেল। অফিসের জন্য বাড়ি ছাড়তে হয়। ট্রান্সফার হওয়ার জন্য বউ নিয়ে বাসায় থাকি। বিয়ে করে তো আর বউ ছাড়া থাকা যায় না। তাছাড়াও আরও কাজ আছে যেগুলো আমি করতে পারি না। কাপড়চোপড় ধোঁয়া, আরও কত কি!!!
.
আসার সময় বউ রেখে একাই আসছিলাম। কিন্তু মা বাবা আমার দুঃখ বুঝতে পারছিল,,, বউ ছাড়া একটু ছেলের একা থাকা যে কতটা কষ্টের তারা ঠিক বুঝে ছিলো,,, একদম শিকড় ছাড়া কচুগাছের মতো)
তাই ওনারা আমি বউটাকে না রেখে আমার কাছে পাঠিয়ে দেয়।
.
আমি তখন এত্তো এত্তো এত্তো খুশি হয়ে ছিলাম যে,,, খুশিতে বউ রেখে শ্বাশুড়ীকে জড়িয়ে ধরছিলাম।
পরে বুঝলাম এটা আমার বউ না বউয়ের আম্মু,, লজ্জায় একটা দৌড় যে দিছিলাম,, সেই দৌড়ে বাড়ি ছেড়ে অনেক দূরে গেছিলাম।
.
তারপর আর দুদিন বাড়ি যাইনি লজ্জায়,, যখন শ্বাশুড়ী চলে গেল তখন গেছিলাম।
যখন বাড়ি গেলাম তখন বউ আমার হাসতে হাসতে বাড়ি মাথায় তুললো। আর বললো, খুশিতে তখন কোনটা কি মনে ছিলো না নাকি?
.
ধ্যাত বউও লজ্জা দেওয়া শুরু করছে। তারপর আর শ্বশুর বাড়ি যাই নাই, বউ নিয়ে বাসায় চলে আসি।
.
তারপর থেকেই আমাদের দুজনের সংসার শুরু হয়। খুব ভালো আমার লক্ষী বউটা। খুব ভালবাসে আমাকে, আর আমিও এত্তো গুলো ভালবাসি। তাই আমাদের এই ছোট্ট সংসারে ভালবাসার কোনো অভাব নেই। আমাদের ঘর খুব খুশি আর আমিও খুশি এই পাগলী বউ পেয়ে।
.
কথায় আছে না ( কিছু কিছু পাগলীর জায়গা পাবনায় হয় না,, পাগলের বুকেও হয়) তেমনি আমার পাগলীটা আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে।
.
বসে বসে টিভি দেখায় আবার মন দিলাম। একটু পর একটা ব্যথা অনুভব করলাম,, দেখি আমার বুকে চিমটি দিচ্ছে। এইরে ঘুম থেকে জেগে গেছে এখন যে আবার কি করবে!!!
.
- এই শুনো না,
- কি?
- যাব।
- কই?
- ছাদে।
- যাও।
- তুমি নিয়ে যাও।
- কি করে?
- কোলে নাও।
- পারবো না।
- আবার কান্না করবো কিন্তু।
- না থাক, চলো।
.
হায়রে হায় কপাল,, আমার ঘরই তো একটা পাগলাগারদ হইয়া গেছে। আমার বউ তো আমার ভালবাসার পাগল কিন্তু ও আমারে সত্যিকারের মানসিক পাগল বানাইয়া ছাড়বো। কবে যে এই পাগলামি গুলো মাথা থেকে যাইবো কে জানে??
.
তারপর কোলে করে ছাদে নিয়ে গিয়ে নামিয়ে দিলাম। তারপর দুজনে মিলে ছাদের এক পাশে দাড়িয়ে রইলাম। আবার পাগলামী করছে,,
আমার হাতের ভেতর হাত ঢুকিয়ে কাদে মাথা রেখে দাড়িয়ে আছে। খুব ভালো লাগছে,,
.
ডুবন্ত গোধূলির আলোয় দুই ভালবাসার দুটি পাখি দাড়িয়ে আছে ওই রক্তিম সূর্যের পানে তাকিয়ে,, সীমাহীন ভালবাসায় যে দুইটি নরনারীর মিল এক বিকেলের সূর্যাস্তের নীরব আলোয় মূখরীত ভালবাসার প্রতিক। সারাজীবন রয়ে যাক এমন ভালবাসার প্রদীপের শিখা।
.
- এই শুনছো?
- হুম,
- আমার অনেক গুলো চুরি চাই।
- অনেক গুলো চুরি দিয়ে কি করবে?
- আমি পড়বো। আর কিছু রেখে দিব।
- আচ্ছা, কাল পেয়ে যাবে।
- সব ধরনের রংয়ের চুরি কিন্তু।
- জো আজ্ঞা
- ধ্যাত। আর কাল ঘুরতে নিয়ে যাবে।
- হুম।
- হুম কি?
- ঘুরতে নিয়ে যাব।
- উমমমমা।
- উমমমমা ২।

শেষ কান্না...

ভেবোনা নীল
এই পৃথিবীতে না থাকব আমি না থাকবে তোমার মিথ্যে ভালবাসার প্রতীক।
হাতে ঘুমের ওষুধের শিশি টা আছে,পরম যত্নে আমায় আর আমাদের বাবুটাকে ঘুম পারিয়ে দিবে সারাজিবনের জন্য।
.
তুমি আমায় ঠকাওনি ঠকেছি আমি,৫ ঘন্টা অপেক্ষা করলাম স্টেশনে আসোনি।
আমাদের শেষ ফোনে কথা হয় ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ড।
বেশ গুছিয়ে বলে দিয়েছো আমাদের মধ্যে যা হয়েছে দুর্ঘটনা ভেবে ভুলে যেতে,আর আমাদের বাচ্চাটা এব্যোয়েশন করে নিতে।
তুমি মেডিকেলে চান্স পেয়েছো আমাকে বিয়ে করে এই বোঝা নিতে চাওনি,তাতে তোমার সপ্ন পূরনে ব্যাঘাত ঘটবে।
আমি কিছু বলার আগেই ফোনটা কেটে বন্ধ করে দিলে।
আমার পেটে বেড়ে উঠা জলজ্যান্ত শিশুটা কে মেরে অপরাধবোধ কাধে নিয়ে ভালো থাকার শক্তি বা ক্ষমতা নেই আমার নীল।
তাই দুজন ই চলে যাবো।তাতে অন্তত অপরাধবোধ কাধে নিয়ে বেচে থাকতে হবেনা।
.
এ ভুল শুধরোতে পারবনা তবে,মুক্তি পাওয়ার জন্য মৃত্যু ছাড়া আর কিছু দেখছিনা।
জানো এখন আমি ট্রেনে আছি,আমার পাশে একটা বাবু বসে আছে,আচ্ছা আমাদের বাবুটাও একসময় পাশে বসা বাবুটার মত কিউট চঞ্চল হত তাইনা..?
কেন আসলেনা নীল...
চার বছরের সমপর্ক কি করে অস্বিকার করলে,কস্ট হয়না তোমার...?
এখন আমি বাড়িতে এসেছি,জানো আজ আমি বমি করেছি ৩বার।মা আমায় অনেক প্রশ্ন করেছে,আমি পারিনি চুপ থাকতে।বলে দিয়েছি আমি তুমার বাচ্চার মা...
সেদিন মা খুব বকেছে আমায়,জোড় করে ডাক্তারের কাছেও নিয়ে গেছে এব্যোয়েশন করার জন্য,কিন্ত এব্যোয়েশন এখন করানো সম্ভব নয় ৬মাস হয়ে গেছে।
৬মাস হয়েছে অথচ বুঝতেই পারলাম না।
এখন বাচ্চা এব্যোয়েশন করালে লাইফ রিস্ক।তাই অনেক ভেবে চিনতে মা এই রিস্ক নিতে চায় নি,পৃথিবীতে আমি ছাড়া মায়ের কেউ নেই।
তারপর মা বাসা পালটিয়ে ফেলে,
আমরা এখন নতুন বাসায় থাকি।
প্রথম প্রথম মা আমার উপর রেগে ছিল,তারপর মা ই আমায় সামলে রাখে।আচ্ছা মায়েরা এমনি হয় তাইনা..??
পুরো ৩মাস আমি ঘড় থেকে বের হইনি এখন আমাদের বাবুটার ৯মাস।
জানো ও মাঝে মাঝে পেটে লাথি মারে,নড়ে উঠে সেই অনুভূতি কেমন তা মায়েরা ছাড়া কেউ বুঝবেনা কেউ না।
.
শেষ কেঁদেছিলাম স্টেশনে বসে খুব কেঁদেছি।
এখন আর কাঁদতে পারিনা,চাইলেও না,তুমার সন্তান যে আমার মধ্যে বেড়ে উঠছে সেই খুশিতে কাঁদতে পারিনা,তুমাকেও ঘৃনা করতে পারিনা।
মন থেকে বিশ্বাস জন্মায় তুমি আসবে...
তখন আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকব আর বাবুটাও আমার পাশে শুয়ে থাকবে।তুমি এসে বোকা বোকা মুখ আর আকাশ সমান খুশি নিয়ে আমাদের বাবুকে কুলে নিবে।
তখনকার মূহুর্তটা আমার কাছে শ্রেষ্ঠ মূহুর্ত মনে হবে।
আচ্ছা নীল তুমি কি চাও?মেয়ে না ছেলে?
আমার মেয়ে চাই।
এখন ৯মাস ৭ দিন চলছে,আর কয়েকদিন বাকি আমাদের সন্তান এই পৃথীবির আলো দেখবে।
ডাক্তারের অনুযায়ী আমাদের বাবুটা হতে আর ৪দিন বাকি,একরাশ অপেক্ষা নিয়ে অপেক্ষায় আছি।
নীল তুমি আসবেতো?
অপেক্ষায় আছি...
...
তারপর আর কিছু লিখা ছিল না ডাইরিটিতে...ছোট শব্দে শেষ লিখা ছিল অপেক্ষায় আছি..
হ্যা আমি নীল,সেই নীল যে কথা নামের মেয়েটিকে কে ছেড়ে চলে গিয়েছিল স্বার্থপরের মত।নিজের সপ্ন পূরনের তাগিদে...
কথা তুমি যেমন টা চেয়েছিলে ঠিক তেমন টা হয়েছে।
তুমার ডাইরির লিখার মত,
এখন আমি,তোমার ডাইরিটা,আমাদের বাবুটা আর হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা একটা নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখ।সে মুখটা তোমার।কিন্ত সে মুখে হাসি নেই,কখনো থাকবেও না,কখনো কথা বলবেনা,আর কখনো জাগবেনা।
আচ্ছা কথা তুমার ডাইরি তে তো এটা লিখা ছিল না যে আমাদের বাবুটা জন্ম হওয়ার পড় পড় তুমি 'কখনো ফিরে না আসার দেশে চলে যাবে...?
কেন বলো?
কথা বেচে নেই,শশীকে জন্ম দিয়েই মারা গেছে।
...
কয়েকবছর পর...
সেদিন শেষ কেঁদেছিলাম,কথার ওই ঘুমন্ত শরীরের পাশে বসে,এখন আর কাঁদতে পারিনা ইচ্ছে হলেওনা।
এখন আমিও ডাইরি লিখি প্রতিটা লাইনে কমপক্ষে চার বার করে কথা নামটা লেখতে ইচ্ছে করে,লিখিও।আমি জানি কথাও আমার ডাইরি টি চুপি চুপি এসে পড়ে যায়।
ছোট শশীর মাঝে আমি কথাকে পাই।
আমার আর কথার ভালোবাসার প্রতীক এই শশী।
শশী ঘুমোচ্ছে,আর আমি ডাইরি লিখছি,প্রতিটি লাইনে কথা নামটা চার বার করে লিখছি,আমি জানি কথা আমার ডাইরিটি পড়তে আসবে..
জানি..!!!

এক মিস্টি ভালবাসার রূপরেখা

সপ্নমাখা ভুবনের সমরেখা ছুয়ে দিব ভেবেছিলাম।নীল আকাশের নীলিমাটাকেও ছুতে তাচ্ছিল্যতার রুপরেখাও টা ও মুহূর্তের জন্য আনি নি।ঝাপসা চোখ দুটি আজ অশ্রুময়।নিঃস্বাস গুলো বিষময়।সপ্নগুলো ছন্নছাড়া। কি ই বা করভ বল।আমার মত এমন একটা মেয়ে নীল তোমার জীবনসঙ্গীনি কি করেই বা হতে পারে বল।তুমি স্মারট,হাই ক্লাসিফাইড,একটা সোসাইটি আছে তোমার,একটা ফ্রেন্ডসারকেল আছে,একটা পরিবার আছে।কোন দিক থেকেই তোমার যোগ্য আমি না।তাই ত সেদিন তোমার প্রস্তাবে প্রত্যাখান করে ছুটে আসছিলাম।ভাবতেই নীলার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে পরছে আর একটা ফ্রেমে নীল নামের কোন প্রেমো প্রত্যাশীর একটা ছবিকে আকরে ধরে হাউমাউ করে কান্না করতেছে।
কল্পনা থেকে বাস্তবে আসি।
নীল ইউনিভারসিটির প্রথম দিনেই এক মেয়েকে দেখে ভাললাগা তৈরি হয়ে যায়।সেই মেয়ে আর কেউ ছিল না নীলাই ছিল।নীল দৌড়ে গেল
_এইজে হাই,আমি আজ প্রথম ভারসিটিতে ক্যাম্পাসটার কিছুই ভাল করে চিনি না।একটু আমার সাথে যাবেন প্লিজ।(নীল)
-''''''''(চুপ)
_এইজে হ্যালো,কিছু ত বলেন।চুপ করে থাকবেন।(নীল)
নীলা রিক্সাওয়ালাকে ভাড়ার টাকাটা দিয়ে কিছু না বলেই চলে গেল।আর দূরে গিয়ে একটা অপরিচিত মেয়েকে হাত দিয়ে আমার দিকে কি জেন দেখিয়ে বলল।আমি একটু বিব্রতবোধ ও করছিলাম যদিও।
কিছুক্ষন পরেই একটা মেয়ে আমার দিকে এসে
-এইজে ভাইয়া, আপনি আমার সাথে আসেন আপনাকে আপনার ক্যাম্পাস টা দেখিয়ে দিচ্ছি।ওহ আর আমি রিসা।নীলার বন্ধু।(রিসা)
-উনি কিছু না বলে চলে গেল কেন।(নীল)
-ওর কথা বাদ দেন।ও অরকমই।আপনি আসেন।(বলেই রিসা হেটে গেল্)
-আমি পিছুন পিছুন গেলাম
প্রথম দিনটা কেটে গেল।আমি ও বাবার অসুস্থতার জন্য বাড়ীতে আসলাম কিছু দিনের জন্য।তারপর আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।তার পরের দিন কলেজে একি সময় নীলাকে, পরনে একটা লাইট হোয়াইট ড্রেস, সত্যিই একটা হুর পরীর মত লাগছিল। কি জানি।
তারপর গিয়েই কাশ দিয়ে
_এইজে হ্যালো।আমি নীল।আপনার সাথেই পড়ি।চিনতে পেরেছেন।(নীল)
-মাথা নারিয়ে হুম
_আচ্ছা কেমন আছেন?(নীল)
-একটা মিস্টি হাসি দিয়ে বুজিয়ে দিল জী ভাল।
_নিল বলল আজ বিকালে একটু আমার সাথে দেখা করভেন?পারকে বা কোন রেস্টুরেন্ট এ।(নীল)
_ইসারা দিয়ে ব্রু কুচকিয়ে কেন?
_কথা ছিল কিছু।খুব প্রোয়জনীয়।(নীল)
_মাথা নেরে বলে বুজিয়ে দিল।আচ্ছা ঠিক আছে।
নীল জায়গা আর সময় টা বলে দিল।ঠিক বিকালা ৪ টায় নীলের একটা প্রিয় জায়গার নাম বলল।
নীল একটা সাদা পাঞ্জাবি পড়ে বসে আছে।নীলা ঠিক সময় একটা লাইট ব্লু সাড়ি পরে এসে বসল।তারপর ই,
-নীলা কিছু কথা ছিল।যা তোমায় বলা খুবই প্রয়োজন।অনেক লড়াই করেছি নিজের সাথে।তুমি অভয় দিলে বলতাম।(নীল)
-নীলা মাথা নুইয়ে চোখ বুজে ইশারা দিয়ে বুজিয়ে দিল।বলতে পার।
-নীল চোখ বুজেই বলা শুরু করে দিল।নীলা তোমাকে প্রথম দেখাতেই আমার ভাললেগে যায় আর ভাল ও বেসে ফেলি খুব।বলেই হাতটা বাড়িয়ে দিল আর বলল→ Nila I love u,Will u marry me
নীলা চুপ করে আছে।এ যেন এক বিষন্ন বিদগ্ধ মুহূর্ত বয়ে যাচ্ছে।কিচ্ছুক্ষন পর হাতে একটা কাগ কলম নিয়ে প্রশ্নের ঝড় তুলছে নীলা
_নীল তোমার ফেমিলিতে কে কে আছে?(নীলা লিখে দিল)
_আমি বাবা মা একটা ভাই।সবাই আছেন।
_কিন্তু আমার কেউ নাই।না মা বাবা না কোন ভাই বোন।
কারো ভালবাসা পাই নি ছোটবেলা থেকেই।এভাবেই নিস্তব্দতার সাথে বড় হয়ে আসছি।চোখ দুটো বেইমানি করে নি তাই বলে,এমন কোন রাত নেই যে রাতে আমার এই দুচোখ দিয়া অশ্রু ঝরে নি।জাইহক চাচার বাসায় থাকি বলতে পার উনারাই আমার সব এখন।আর তাছাড়া আরেকটা কঠিন সত্যি হল প্রায় ৪ মাস আগে হঠাৎ করেই আমার ভোকাল কর্ডে প্রভলেম দেখা দেয় তাই স্পষ্ট কথা ও বলতে পারি না।ডক্টরের থেরাপির মধ্যে আছি তাই তোমার সাথে ইশারা দিয়েই কথা বলতে হচ্ছে।এমনো হতে পারে আমি আজীবনের জন্য বাক প্রতিবন্ধী হয়ে যেতে পারি।এরকম অনিশ্চিতই জীবনের সাথে তোমার সুন্দর জীবন টা না ঝরালেই ভাল থাকবে।
ভাল থেক।(কেদে দিল নীলা বলতে বলতে,পরক্ষনেই উঠে দৌড় দিয়ে চলে গেল)
নীলার এভাবে চলে যাওয়াটা দেখছে নীল চাতকের বেশে।কিচ্ছুক্ষন পর বাসায় চলে আসল নীল।
নীলা কলেজে যাচ্ছে কিন্তু বেশ কয়েক দিন ধরে দেখে আসছে নীল কলেজে আসছে না আর কোন খবরাখবর ও নেই।
প্রায় ১ সপ্তাহ পর।নীলা বাসায় একজন অপরিচিতার হাত ধরে একটা চিঠি আসল।খাম দিয়ে চিঠিটা বের করেই দেখল
প্রিয় নীলা,
কেমন আছ?হইত অনেক প্রশ্ন ই করার ছিল ওদিন কিন্তু করা হয়ে উঠে নি।ছন্নছাড়া মনটা তোমায় খুজে বেরায়।নিঃস্বাস টা তোমার ঘ্রানটা অনুভব করায় মাতহারা হয়ে পড়ে,তোমায় কাছে না পেয়ে কখনো কখনো দম টা আটকে যায়।তোমার শরীরে কি পুর্নতা, কি ই বা ত্রুটি রয়েছে সেগুলোকে কোনদিন ভালবাসি নি। ভালবেসেছি পুরো তুমিটাকে,হ্যা পুরো তুমি নামের নীলাটাকে।তাতে তুমি একবার কেন একশবার বাক প্রতিবন্ধী হয়েও আমার সামনে আসলেও বারবার তোমায় ই চেয়ে নিতাম আর তাতে আমার মনে কোন ২য় প্রশ্ন রয়ে থাকত না।এরকম ই তো কেউ যার জীবন মরন, সুঃখ - বেদনার সাথী শুধু আমি ই হব আর কি ই বা চাই আমার,এটুকুও ত চাইছিলাম।মা বাবা নেই তোমার তো কি হইছে, আমি তোমায় একটা সুন্দর ফেমিলি দিব যেখানে থাকবে তোমার মা বাবা,আর থাকবে একজন সঙ্গী যার ভালবাসা তোমার সব অপুর্নতা বার বার প্রতিটা পদক্ষেপে পুরন করে দিবে।
আবারো বলছি আমি পুরো তুমিটাকে ভালবাসি
তোমার পুর্নতাগুলোকে না। তোমার সব কিছুটাকেই আমার ভাল লাগে।কাল ঠিক বিকালে সেই যায়গাটায় আসবে।তোমায় জন্য ওয়েট করব।
ইতি
( নীল )
নীলা ঠিক সময়ে আসল।
তারপরই_
-আজ নয় তোমার জীবন থেকে চলে যাব, তবে আরাল থেকে তোমায় ভালবেসেই যাব।খুব কষ্ট ও হবে দূরে থেকে তোমায় দেখতে, তারপরো সয়ে নিব।আর নইলে তোমার হাত ধরে পারি জমাব এক নতুন পৃথীবিতে যেখানে রবে তুমি আমি আর আমাদের মিস্টি ভালবাসা ময় সময়।
নীলা আমি তোমার সাথে আমার শেষ নিঃস্বাস টা পার করতে চাই।(নীল)
নীলা চুপ করে আছে।নীলের চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে কিচ্ছুক্ষন পর নীল হাটা শুরু করল।কতদুর এগোতেই কানে ভেসে আসল নীল আমিও তোমায় ভালবাসি বড্ড বেশি।নীল থমকে গেল।তার ভালবাসার মানুষীর মুখ দিয়ে আজ প্রথম কন্ঠসর শুনতে পেল।নীলা এসেই হাটতা পিছন থেকে হাতটা ধরল।আর বলল-
_নীল আমি পুরোপুরি সুস্থ আর তোমার ভালবাসাই আমার সুস্থ হতে সাহায্য করেছে।সেদিন বাসায় গিয়ে অনেক বার চেষ্টা করি হঠাৎ ই মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায় নীল আমিও যে তোমায় বড্ড ভালবাসি।জান আমারো খুব কষ্ট হইছে আমার মুখ দিয়ে রক্ত ও ঝরছিল, তারপরো আমি থেমে থাকি নি,তোমার ভালবাসার টানে ঠিকি পেরেছি বলতে নীল আমি ও যে তোমায় বড্ড ভালবাসি।এ চল অনেক হইছে। বিয়া করব কাজী অফিসে চল।
_এখনি।
_হুম চল।
দুজন দুজনের কাদে মাথা রেখে হাটতে হাটতে এক নুতুন দুনিয়ায় পারি জমাচ্ছে।
বিঃদ্র:- বেচে থাকার জন্য,একটা সুন্দর জীবনের জন্য ভালবাসাটার খুব দরকার আছে।সব কিছু বেইমানি করে এই মায়ার দুনিয়ায় কিন্তু সত্যিকারের ভালবাসা কোনদিন বেইমানি করে না।তাই তো ভালোবাসা সর্গীয়।