বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮

√বৃষ্টি ভেজা ভালবাসা√

ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছে।এ বৃষ্টি
কখন
থামবে কে জানে।সন্ধ্যা ঘনিয়ে
আসছে।
একটু পর পাশে এলো একটা মেয়েটা।
আমার পাশে দাঁড়াতেই একধরনের
কেমন যেনো লাগল আমার।
.
কারন কখনও কোনো মেয়ে আমার
পাশে দাড়ায় নি।।আর জীবনে
প্রেম ও করতে পারলাম না।
মেয়েটার কে আমি চিনি। নাম
বৃষ্টি। আর আমার সাথে ই পড়ে।
দেখতে একদম স্বর্গের অপ্সরির
মতো।
.
এটা সত্যি নাকি মিথ্যা
ভাবতেছি কখনও তো পাশে কেউ
দড়ালো না।
.
হঠাৎই মেয়েটির কথা শুনে অবাক
হলাম কারন মেয়েটি কে আগেও
অনেক বার দেখেছি কিন্তু কথা
বলে নি।
কিন্তু একটু পরে যা হলো আমি
নিজেই বিশ্সাস করতে পারলাম
না।
.
বৃষ্টি : আজকের ওয়েদারটা খুব সুন্দর
না?
আমি : জী, আমাকে বলছেন ?
বৃষ্টি : আপনি ছাড়া কেউ আছে
নাকি এখানে?
আমি : হঠাৎ করেই হৃদস্পন্দনটা
বেড়ে গেছে।তবু নিজেকে যথেষ্ট
স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে
বললাম "তা
অবশ্য ঠিক।হ্যাঁ খুব সুন্দর লাগছে
আমি : অতটা খারাপ ও লাগে না।
বৃষ্টি : বৃষ্টিতে ভিজেছেন কখনো?
আমি : না।
বৃষ্টি : ওমা!সেকি! বৃষ্টিতে
ভিজেননি কখনো আর ফুটবল
খেলেননি কখনো বৃষ্টিতে?
আমি : না।খেলিনি।
বৃষ্টি : আচ্ছা আপনি এরকম কেন?
আমিই
বক বক করছি।
আমি : আসলে কি বলব বুঝতে
পারছিনা।
বৃষ্টি : আমাকে কোথাও দেখলে
থমকে দাঁড়ান? তখন বলতে ইচ্ছা করে
কিছু ????
আমি : না মানে...
বৃষ্টি : শুনুন আমি আপনার মত গাধা
না।একটা মেয়ে ঠিক বুঝতে পারি
কি বলতে চান।
আমি : তুমি খুব সুন্দর কথা বল তো।
বৃষ্টি : তুমি? আপনি থেকে তুমি হয়ে
গেলো?
আমি : ও সরি।কিছু মনে করবেন না।
বৃষ্টি : বলতে হবে না সরি।একটা
রিক্সা ঠিক করে দিনতো।
আমি : এতো বৃষ্টি তে রিক্সা
খালি নেই তো।
বৃষ্টি : রিক্সা খালি নেই তা
আমিও দেখতে পাচ্ছি।সে জন্যই
আপনাকে বলছি।
আমি : আমি ছাতা আনিনি।
বৃষ্টি : বৃষ্টিতে ভিজেই গিয়েই
খুজেন।
আমি : আচ্ছা যাচ্ছি।
.
অনেক ঘুরে একটা রিক্সা পেলাম।
তারপর রিক্সাটা নিয়ে আসলাম।
তারপর সে উঠে গেলো। আর আমি
বৃষ্টিতে ভিজতেছিলাম।
.
কিছু দুর যাওয়ার পর আবার আমাকে
ডাক দিয়ে বললো।
বৃষ্টি : একা একা আর ভিজতে হবে
না।
আমি : তাহলে নেমে আসুন। এক
সাথে ভিজব।
বৃষ্টি : আজ আর দরকার নেই।
.
হটাৎ আমার হাতটা টান দিয়ে
রিক্সায় উঠালো । দুজন এক সাথে
রিক্সায় আছি। তখন সে(বৃষ্টি)
রিক্সার ক্যাপটা লাগিয়ে
দিচ্ছিলো। আমি বললাম থাকনা এক
সাথে ভিজব রিক্সাতেই।
.
তখন সে(বৃষ্টি) আমার হাতটা চেপে
ধরে বললো,,,,
বৃষ্টি : আজকে এই মুহুর্তে কিছু বলতে
ইচ্ছা হয় আমাকে যা প্রতিদিন
বলতে চাও ???
আমি : হুম হয়তো।
বৃষ্টি : তাহলে বলো প্লিজ।
অপেক্ষার প্রহর শেষ করো।
আমি : আমি তোমাকে খুব
ভালবাসি।
বৃষ্টি : আমি তোমাকে খুব খুব
ভালবাসি বোকাটা।(কান্নার
স্বরে)
.
আজকের বৃষ্টিটা সত্তি আমার জন্য
খুব লাকি। তাই তো রিম ঝিম বৃষ্টির
মাঝে আমার বৃষ্টি কে পেয়ে
গেলাম।
.
তাই। মনে মনে ইস্বর কে
ধন্যবাদ জানাতে থাকলাম। সে
পারে না এমন কোনো কাজ নেই।
.
আমি আমার বৃষ্টি কে পেয়ে সত্তি
খুব খুশী। সে আমাকে খুব শাসন করে।
অাবার ভাল বাসে। সে আমাকে
খুব চেন্জ করে ফেলেছে আমার
মায়ের মতো শাসন করে।
.
একদিন ছাদে দাড়িয়ে একা বৃষ্টি
তে ভিজতে ছিলাম। আমার
জানটাকে ফোন দিয়ে বললাম "আই
লাভ ইউ বৃষ্টি।আই রিয়েলি লাভ ইউ।
আই লাভ ইউ ফরইভার। আমি
তোমাকে সারা জীবন চাই।
তোমাকে খুব খুব ভাল বাসতে চাই ।
তোমার এই পাগলটা তোমাকে খুব
ভালবাসে।"
কিন্তু লক্ষী জানটা আমাকে
ভালবেসে বললো,,,,,,,,,,, ,,,,,
বৃষ্টি : আর ভিজতে হবে না ঠান্ডা
লাগবে তো। জান আর ভিজতে হবে
না তোমার বৃষ্টি তোমার কাছে
আছে তো।যাও ফ্রেস হয়ে আমাকে
ফোন দিবা। এই বৃষ্টির প্রতিটি
মুহুর্তে তোমার সাথে কথা বলবো।
আমি : আই লাভ ইউ জান।
বৃষ্টি : ওকে যাও। আই লাভ ইউ টু।
এখন
যাও।
=========
তোমার চলে যাওয়ার কথা ছিলো "
" তুমি চলে গেছো "
আমার হারানোর কথা ছিলো "
" আমি হারিয়েছি "
কিন্তু পার্থক্য শুধু এইটুকু...
আমাকে ভালোবেসে তুমি
অল্প একটু সময় হারিয়েছো "
" আর এই অল্প সময়ে আমি "
" আমার পুরা জীবনটাকে হারিয়ে ফেলেছি......!!

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮

অপেক্ষা

প্রায় ছয় বছর ধরে তোমার সাথে কথা বলতেছি কিন্তু কি পোড়া কপাল আমার এই ছয় বছরে তোমার হাতের আঙ্গুলটা পর্যন্ত দেখতে পেলাম না। আচ্ছা জেরিন আমরা কি আজীবন এভাবে অদৃশ্য থেকেই কথা বলবো নাকি সামনাসামনি এসে,পাশাপাশি বসে হাতেহাত রেখে কথা বলবো। তোমার কি একটি বারের জন্য আমার কাছে আসতে মন চায়না। মন চায়না আমার ভালোবাসার আলতো ছোঁয়া পেতে। আমার ঘামে ভেজা শার্টটার গন্ধ শুকে দেখতে।
রোহান এভাবে বলছো কেন?আমারো ইচ্ছে করে তোমার কাছে আসতে। ইচ্ছে করে সব কিছু ছেড়ে,সব বাধা পেরিয়ে ছুটে চলে আসি কিন্তু কি করবো বলো বাস্তবতা যে অনেক কঠিন।
জেরিন আর কতদিন তোমাকে ছাড়া আমার কাটাতে হবে? আমি যে আর পারছি না,আর কত সময় পর তুমি আমার হবে।আমি আর কত অপেক্ষা করবো বলো?আমি যে আর পারছি না
রোহান আমিও তোমাকে ছেড়ে থাকতে চাই না,থাকতে পারিনা। কিন্তু জোর করে তোমাকে ছেড়ে থাকতে হয়,আমাদের ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে একটু অপেক্ষা করো। জানো রোহান আমার খুব ইচ্ছে করে তোমার সাথে গোধুলী বিকেলে হাত ধরে হাটতে, তোমার কোলে মাথা রাখতে। আরো ইচ্ছে করে তোমার সাথে রাস্তা দাঁড়িয়ে বেশি করে টক দিয়ে ফুসকা চটপটি খেতে।
জেরিন আমারো তো ইচ্ছে করে। জানো জেরিন যখন দেখি রাস্তায় একজোড়া কাপল হাত ধরে হাটতেছে কিংবা হুড তোলা রিক্সায় পাশাপাশি বসে কোথাও যাচ্ছে তখন তোমাকে ভেবে অঝোর ধারায় অশ্রু চলে আসে। নিজেকে আর সামলে রাখতে পারিনা। তাইতো অফিস থেকে ফিরেই ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে চুপটি মেরে বসে থাকি আর আনমনা হয়ে তোমাকে ভাবি।
রোহান একটু অপেক্ষা করো,আর খুব বেশিদিন নয়। আমি আসবো তোমার কাছে আসবো।
জেরিন তুমি এত নিষ্ঠুর কেন,কেমন করে আমাকে ছাড়া থাকো। আমার ছবিও তুমি দেখতে চাওনা।এমন প্রতিজ্ঞা করার কি দরকার ছিলো বলো। আমরাতো দুজন দুজনার ছবি দেখতে পারতাম ইচ্ছে হলেই। কিন্তু তুমি সামনাসামনি ছাড়া আর কিছু করতে চাওনা। দাওনা তোমার একটা ছবি,খুব দেখতে ইচ্ছে করতেছে।
রোহান একটু অপেক্ষা করো,আমার ছবি নয় তুমি আমাকে সামনে বসে খুব কাছ থেকে দেখতে পাবে। নববধূ সাঁজে লাল বেনারসি পড়ে ঘোমটা মাথায় দিয়ে, মেহেদি পরে দুহাত লাল করে তোমার সামনে আসবো।সেদিন মন ভরে আমায় দেখো। তার আগে নয়।
জেরিন তুমি অনেক নিষ্ঠুর, অনেক পাষাণী তুই। আমি তো তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারিনা। তুমি কেমনে পারো?
রোহান দয়া করে এভাবে বলো না। আমি আসবো, কথা দিচ্ছি তোমার ঘরেই আগে আসবো। তারপর সুখের সংসার গোছাবো দুজন মিলে। রোহান আজকে রাখি, পরে কথা বলবো। বলেই কলটা কেটে দেয় জেরিন।
পনেরো দিন পার হয়ে যায়,জেরিনের কোন খোঁজ নেই। রোহান বার বার চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু মোবাইলের সুইস বন্ধ। রোহান পাগলের মতো হয়ে যায়। কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। দিনরাত না ঘুমিয়ে পার হয় রোহানের।
ষোলতম দিনে হঠাৎ করেই বাংলাদেশি এক নাম্বার থেকে কল আসে রোহানের মোবাইলে।কলটা রিসিভ করা মাত্রই সেই পরিচিতি কণ্ঠ, সেই চেনা সুর কানে ভেসে আসে। মোবাইলের ওপাশ থেকে বলতে থাকে আমি সেই পুরোনো যায়গাটায় দাঁড়িয়ে আছি যে যায়গাটা তোমার খুব পছন্দের। তাড়াতাড়ি করে আসো, আমি অপেক্ষায় রইলাম।
কোন কিছু না ভেবে, যে পোশাক পরা ছিলো সে অবস্থাতে রোহান বাসা থেকে বের হয়। বাসা থেকে বের হয়ে রিক্সা করে সেই প্রিয় যায়গায় হাজির হয়। যাওয়ার পথে একটা গোলাপের তোড়া কিনে নেয়।
গোলাপের তোড়া হাতে চারদিকে খুঁজতে থাকে রোহান কিন্তু কোথাও কেউ নেই। প্রায় পনেরো মিনিট পার হয়ে যায়,বিরক্তি চলে আসে রোহানের। রাগ করে ফুলের তোড়াটা মাটিতে ফেলবে ঠিক তখনি একটা ছেলে সহ জেরিন সামনে এসে হাজির হয়। রোহান অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে জেরিনের দিকে। কিছুসময় পর রোহান ফুলের তোড়াটা জেরিনের হাতে দিতে চাইলে সাথে আসা ছেলেটাকে দেখিয়ে জেরিন বলে উঠে আমার স্বামী। আমরা দুজন তোমার সাথে দেখা করতে আসছি। রোহান কি বলবে বুঝে উঠতে পারে না। রোহানের মুখের ভাষা যেন হারিয়ে যায়। রোহানের শরীর কাঁপতে শুরু করে, কোনরকম নিজেকে সামলিয়ে রোহান বলে উঠে তোমাদের দুজনের জন্য আমার ছোট্ট উপহার। উপহারটা হাতে দিয়ে রোহান চলতে শুরু করে। জেরিন পিছন দিক থেকে ডাকলে রোহান না ফিরে সামনে চলে যায়। জেরিন দৌড়ে গিয়ে রোহানের সামনে দাঁড়ায়। তারপর হাতে থাকা গোলাপ দিয়ে বলে উঠে ভালোবাসি তোমাকে। রোহানের চোখ কপালে উঠে যায়। জেরিনের সাথে আসা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকে রোহান।তারপর ছেলেটা মাথা নাড়িয়ে বলে উঠে জেরিন আপনাকে ভালোবাসে। আমি শুধু এমনি এসেছিলাম তার সাথে বলে ছেলেটা চলে যায়। প্রায় ছয় বছর পর তাদের দ্বিতীয় দেখা হয়। এরপর তারা আজীবন দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

সিক্রেট রিলেশনশিপ

সময় ২০০৭.....
শহরের নামকরা ভার্সিটির অ্যাডমমিশন টেস্ট আজ।দূরদুরান্ত থেকে একেকটা স্টুডেন্ট এখানে অ্যাডমিশন নিতে এসেছে।রুচি এবং স্ট্যান্ডার্ডের দিক থেকে এই ভার্সিটিটা সবার পছন্দের একেবারে শীর্ষে। যেহেতু অ্যাডমিশন টেস্ট .... যেদিকেই চোখ ফেলি সেদিকেই ছেলে'মেয়েদের চিল্লাচিল্লি-চেচামেচির আওয়াজ শুনতে পাই... গার্জিয়ানদের কথা না হয় বাদই দিলাম।
.
অ্যাডমিশন টেস্টে সিলেক্ট হবার মতো মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ঠিক এই মুহূর্তে আমি ভার্সিটির মেইন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। মাথার উপরে টাঙানো বিলবোর্ডে লাল-সাদা কালিতে লিখা এই সুবিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের নাম পড়ছি।গেটের একেবারে মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যাওয়া আসাকারী মানুষদের কাছে রিতীমতো ধাক্কাধাক্কির সম্মুখীন হচ্ছি আমি।একটা সময় আর দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব না টের পেরে সেখান থেকে আস্তে আস্তে পা-বাড়াই ভার্সিটির ভীতরের দিকে।বিশাল বড় ক্যাম্পাস। সবাই সেখানে বসে গ্রুপ বেধে নিজেদের মধ্যে পড়ার ব্যাপারে ডিসকাশন করতে ব্যস্ত । আমার ওরকম টাইপের কোনো গ্রুপ না থাকায় বসে পড়ি কাছেই পাশের কোনো এক কোণাতে ।এদিক ওদিক চোখ ঘুরিয়ে দেখতে থাকি পুরো ক্যাম্পাসটা।
.
হঠাৎ করেই চার চাকার একটা গাড়ি আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। একটা সাদা ইউনিফর্ম পড়া লোক গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে পিছনের দরজা খুলে দিলো। তার একটু পর কেউ একজন পেছনের দরজা থেকে নামলো ।সরি..কেউ একজন না....সাদা স্কার্ট পড়া একটি মেয়ে পেছনের দরজা থেকে ধীরে ধীরে নামতে লাগলো,সাথে কোর্ট -প্যান্ট পড়া মধ্যবয়সী একজন ভদ্রলোক। ভাবলাম... কোনো বড়লোক ফ্যামিলির আদুরে মেয়ে হয়তো এখানে অ্যাডমিশন নিতে এসেছে।
.
আমার বসার জায়গাটি থেকে মেয়েটির মাঝখানের দুরত্ব ছিলো মাত্র বিশ'হাত।বিনা কারণে আমি মেয়েটির মুখের দিকে কিছুক্ষণ যাবত অনরবরত তাকিয়ে ছিলাম।উহু....ভুল ভাবছেন...ক্রাশ-ট্রাশ খাইনি,চেহারাও খুব একটা ভালো লাগেনি.. ..তবুও কেন যেন মেয়েটার মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম।মেয়েটার চেহারার ভীতরে কেমন যেন একটা মায়া মায়া ভাব জুড়িয়ে আছে...কি নিষ্পাপ মেয়েটার চোখ দুটো!! পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ভদ্রলোকটার সাথে দিব্যি হেসে হেসে কথা বলছে..হয়তো মেয়েটার বাবা হবে। আমার তখন মনে হচ্ছিলো এক দৌড়ে মেয়েটির কাছে যাই.... গিয়ে জিজ্ঞেস করি...এই মেয়ে কে তুমি হ্নম? নাম কি তোমার? এমন কি আছে তোমার চেহারার মাঝে যে আমি বার বার হারিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি?আমাকে একটু দয়া করে বলবে ?
.
কিন্তু পরক্ষণই মনে হলো.."ধুর কি যাহ-তাহ ভাবছি, এখানে অ্যাডমিশন নিতে এসেছি, ভালো করে পড়াশোনা করতে এসেছি! !ভালো করে লিখাপড়াটা শেষ করলে এরকম মেয়ে এমনিই আমার পিছু পিছু ছুটবে,পথ আটকে আমার নাম জানতে চাইবে।আমাকে তখন আর কস্ট করে গিয়ে কারো নাম জিজ্ঞেস করতে যেতে হবেনা।তাছাড়া এরকম রিচ ফ্যামিলির মেয়েগুলো রীতিমতো খুব অহংকারী হয়,এদের ধারে কাছে থাকা,মেশা বা কথা বলাটা মোটেও উচিত নয়।এদের নাগাল থেকে যতটা দূরে থাকা যায় ততই আমার ভালো ।"(মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে কথাগুলো ভাবছিলাম)
.
কিন্তু একটা সময়ে হঠাৎ করে মেয়েটির চোখ আমার চোখে পড়ে, আমি বিন্দুমাত্র দেরি না করে অন্যদিকে চোখ সরিয়ে নেই।হয়তো মেয়েটা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরে গেছে আমি ও'র মুখের দিকে এতো সময় ধরে তাকিয়ে ছিলাম।এটা ভাবতেই ইতিমধ্যে মনের ভীতরে কেমন যেন একপ্রকার ভয় কাজ করা শুরু করে দিয়েছে।আজ বোধহয় আমার আর কোনো রক্ষা নেই।নিশ্চিত রুপে, প্রথম দিনেই ক্যাম্পাসের সবার সামনে অপমানিত হবো তাও আবার একটা মেয়ের দ্বারা.. ইশশ....কি লজ্জার ব্যাপার....! আমি আমার মনকে অপমানিত হবার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করি।কিন্তু না...!যা ভাবলাম তার কিছুই হলোনা!! আমার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে মেয়েটা গটগট করে ওর বাবার সাথে আমাকে পাশ কাটিয়ে দিয়ে চলে গেল।যাওয়ার আগে আমাকে রাগী দৃষ্টিতে দেখে গেল।আমি কিছু মনে করলাম না।মেয়েটার জায়গায় অন্যকেউ হলে ঠিক এরকমটাই করতো।মনে মনে হাফ ছেড়ে বাচলাম।আল্লাহ আমাকে আজকে বাচিয়ে দিলো।
.
অবশেষে অ্যাডমিশন টেস্ট আরম্ভ হলো,
আমি আমার হলে গিয়ে বসে পড়লাম বাট আশ্চর্য হলাম মেয়েটিকে আমাদের হলে প্রবেশ করতে দেখে। তার চেয়ে আরো বেশি আশ্চর্য হলাম মেয়েটির সিট আমার সিট পাশাপাশি হওয়াতে ।নিজে কি খুশি হবো? নাকি লজ্জিত হবো? কিছুই বুঝতে পারছিলাম না..!এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে.. নিজে যা পারি সেগুলো ভালো করে পরিক্ষার খাতাতে লিখে দিয়ে চলে আসলাম, আল্লাহ রহমতে টিকেও গেলাম।সেদিন আমার খুশির কোনো ঠিক ঠিকানা ছিলোনা।মনে মনে অনেক খুশি ছিলাম।কিন্তু পরক্ষণই মনে খেয়াল আসলো.."সাদা স্কার্ট পরা মেয়েটি টিকেছে তো?"পরে খোজ নিয়ে জানতে পারি সে'ও টিকেছে। আরো ডাবল-ট্রিপল খুশি হলাম।
.
.
প্রথম দিন,দ্বিতীয় দিন করতে করতে ভার্সিটিতে কয়েকটামাস কেটে গেলো....এরই মাঝে ক্লাসের সবার সাথেই মোটামোটিভাবে পরিচিত হলাম এমনকি সেই মেয়েটার সাথেও।নাম জিজ্ঞেস করাতে মেয়েটি বলেছিলো ওর নাম নীলা।ক্লাসের সবার মতো আমিও যেন ওকে এ নামেই ডাকি
.
.
আমি নীলার কাছে আর পাঁচটা নরমাল ফ্রেন্ডের মতো ছিলাম।বাহিরে ঘুরতে গেলে নীলা আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেত.... এটার মানে আবার এই না যে আমার প্রতি নীলার কোনো ইন্টারেস্ট ছিলো।শুধু ঘোরার সময় টুকুতে কথা বলার সঙ্গী হিসেবে কেউ একজনের দরকার ছিলো।আর আমিই হয়তো ওর কাছে সেই সঙ্গীটা ছিলাম।কিন্তু আমার সাথে তো ওর হাই-হ্যালো টাইপের কোনো কথাই হতোনা।যতবারই নীলা আমার সাথে কথা বলতো... আমার মনে হতো মেয়েটা ওর সব পারসোনাল কথাগুলো আমার সাথে শেয়ার করছে।তাহলে আমি এই সম্পর্কটাকে "যাস্ট-ফ্রেন্ড "টাইপের রিলেশন কিভাবে মেনে নেই?কিন্ত ও তো আমাকে শুধু "যাস্টফ্রেন্ড -যাস্টফ্রেন্ড"বলেই চুপ করে দিতো। 
.
আমিও কম না....রোজ আমি আমার মনকে একটা কথাই বোঝাতাম যে ও'কে ফ্রেন্ডের নজরে দেখ।কিন্তু ওর হাসিটা আমার মনকে এতোটা ঘায়েল করতো যে ....আমার মন থেকে শুধু একটা রিপ্লায়ই আসত...."Bro-Its impossible "সে যখন আসত তখন তার চেহারার সৌন্দর্য আমার চেহারাকে সুন্দর করে দিতো।সে না জানি পুরো দিন কিভাবে এতো "ফ্রেশ-ফ্রেশ"থাকতো, ওর সাথে থাকতে থাকতে আমাকেও তাজা-তাজা দেখাতো।
.
নীলা বসত তো ওর যাস্ট-ফ্রেন্ডের সাথেই কিন্তু আমি বসতাম আমার ক্রাশের সাথে।আমার মন ভীতরে ভীতরেই এক্সাইটমেন্টে লাফ দিয়ে উঠত কিন্তু ওর কাছে সেটার কোনো ইফেক্টই পড়তোনা।আমার বয়সের ছেলেদের তো সে ভাইয়া বলেই ডাকতো...আমিও তো ওদের মতো নীলার থেকে ১বছরের বড় ছিলাম!! তাহলে আমাকে কেন সে ভাইয়া না বলে আমার নাম ধরে ডাকতো?
.
যাইহোক না কেন..এই ফ্রেন্ড -ফ্রেন্ড এর ট্যাগের মধ্যে আমি খুশি ছিলামনা।প্রথমবার কোনো মেয়ে এতোটা ক্লোজ এসেছিলো।আমার মনে হয়েছিল 'এটাই সুযোগ'।
এরপর থেকে বুকে একটু সাহস করে আমি ওর সাথে হেলদি টাইপের ফ্লার্ট করতে থাকি।
অ্যান্ড গেস হোয়াট হ্যাপেন্ড?
সে রাগও করলোনা,তার কাছে অদ্ভুতও মনে হলোনা অ্যান্ড আমি ভাবলাম.."ফ্লার্ট টাতো কাজ করে গেলো!!"
সে এখন আমার কথায় অনেক বেশি হাসতো এমনকি আমাকে পাগলও বলতো যেটা 'যাস্ট-ফ্রেন্ড'এর লেভেলে আমার জন্য অনেক বড় সাকসেস ছিলো।
.
আমি চাইতাম সে'ও আমার মতো একইরকম ফিল করুক যেরকমটা আমি তার জন্য করি।ঈশ্বরের কাছে আমার যাস্ট এতটুকুই ইচ্ছে ছিলো।এখন আমি যখন ওর হাত ধরতাম তখন ওর কাছে ব্যাপারটা একটুও অদ্ভুত মনে হতোনা। আমার মনে এইটা খেয়াল আসতে লাগল যে... এখন আমি ওর কাছে যাস্ট-ফ্রেন্ড এর মতো তো একদমইনা।ভাবা শুরু করলাম..ওর মনের ভীতরেও আমার জন্য, আমাকে কিছু বলার জন্য কিছু একটাতো ফিল হচ্ছিল।এই একটা সাসপেন্সই আমার এক্সাইটমেন্ট সবসময় বাড়িয়ে রাখতো যে....কোনদিন আমার ক্রাশ আমার গার্লফ্রেন্ডে পরিণত হবে।
.
নীলা একদিন হুট করে আমাকে বলে উঠলো.."হৃদয় একটা নন-ভেজ 'জোক শুনাও তো।কথাটা শুনে বাহিরে বাহিরে আমি যতটা'না শরম পাচ্ছিলাম ভীতরে ভীতরে ঠিক ততটাই এক্সাইটেড হচ্ছিলাম এটা ভেবে যে কোন ভালো জোকসটা আমার ঠিক সেই মুহূর্তে মনে ছিলো।আমরা তখন সেই লেভেলে পৌছে গিয়েছিলাম যেখানে আমাদের কথাগুলো আর আগের মতো নরমাল ছিলোনা।এখন যদি আমি নীলার থেকে দূরে চলে যেতাম নীলা নিজেই আমার কাছে চলে আসতো।আর এখন কেউ কিভাবে এটা অস্বীকার করবে যে নীলার আমার উপর কোনো ইন্টারেস্ট ছিলো'না?
.
.
খুব তাড়াতাড়ি আমার আর নীলার ব্যাপারটা ভার্সিটির সবজায়গায় ছড়িয়ে পড়লো।অন্যদের চোখে তো আমরা দুজন "ইন-এ-রিলেশনশিপ"এই ছিলাম কিন্তু মেয়েটা ওর ঐ কথাতেই অটল....আমরা দুজন যাস্ট-ফ্রেন্ড।
না!!!এরকম'টাতো হতে পারেনা!!একসময় আমি নিজেই ব্যাপারটা নিয়ে অনেক ভাবলাম এবং উত্তর পেলাম..হয়তো সে রিলেশনশিপ টা অন্যদের জানাতে চাচ্ছেনা কিন্তু ভীতরে ভীতরে আমাকে চায়।
মেয়েদের ব্যাপারগুলো এমনিতেই আমার মাথার উপর দিক দিয়ে যায় তাই আমি ভাবলাম কেননা এই সম্পর্কটাকে "সিক্রেট -রিলেশনশিপ "নাম দেই!!কিন্তু আমি তো এখন অবধি আমার মনের কথাটাই ওকে বলিনি।
.
কি করবো বলুন?কোনো পারফেক্ট সময়ই খুজে পাইনি!!বাট এখন আমাদের ফ্রেন্ডশিপ টা এমন একটা পর্যায়ে এসে ঠেকেছিলো যেখানে আমার বিশ্বাস ছিলো যে আমি নীলাকে প্রপোজ করলে সে আমার প্রপোজাল মুহূর্তেই এক্সেপ্ট করবে।আমি সেই দিনগুলোতে অনেক খুশি খুশি থাকতাম,বিনা কারণে স্মাইল করতাম,সিরিয়াসলি এখন ওকে মন থেকে চাইতাম। নীলা আমাকে হিন্টস দিতো আর আমার কনফিডেন্স বেড়ে যেত।পুরো রাত আমি এটাই ভাবতে থাকতাম যে কালতো ওকে প্রপোজ করবোই করবো।
অবশেষে আমি নীলাকে প্রপোজ করার জন্য একটা ডেট ফিক্সড করলাম...যা হবে এই দিনেই হবে।এবং ফাইলানি খুব তাড়াতাড়ি সেই দিনটা এসে গেল!! কারণ আমার তো আর তরই সইছিলনা।
.
.
দুটো চকোলেট কিনে নিজের কাছে রেখে দিলাম ওকে দেয়ার জন্য।যদিও এই দুটো চকোলেট কিনতেই আমার পকেট প্রায় খালিই হয়ে গিয়েছিলো তবুও ইম্প্রেশন জমানোর জন্য এই দুটো চকোলেটই যথেষ্ট ছিল।
.
.
সারাদিন-রাত অনেক প্রাকটিস, অনেক রিহার্সেল করে,নিজের চুল গুলো ঠিকঠাক করে যাচ্ছিলামই নীলার কাছে কিন্তু নজর পড়লো অন্য কেউ ছিলো ওর সাথে।দেয়ালের কোনো এক কোনায় তারা দুজন দাঁড়িয়েছিল যেখানে দুটো মানুষের ঠিক করে দাড়ানোর জায়গাটুকুও ছিলোনা।।আমার বুকের ভীতরটা কেমন যেন ধুক করে উঠলো কিন্তু তবুও আমি আমার মনকে বুঝিয়ে বললাম.... নীলার কোনো ফ্রেন্ডও তো হতে পারে? এতোটাও কিসের জলদি এভাবে নিজের মনকে ভেঙ্গে ফেলার??আমি একটু কাছে গেলাম....একটা সাইডে লুকিয়ে ওদের দুজনের মাঝেকার কথা শোনার চেষ্টা করলাম,.... যে ছেলেটা নীলার পাশে ছিলো সে হয়তো নীলাকে ওর জন্মদিন উপলক্ষে কিছু একটা গিফট দিচ্ছিলো.. না... কিছু একটা না.. একটা বড় এক্সপেনসিভ গাড়ি।
.
আমার পকেটে রাখা চকলেট গুলো ইতিমধ্যে গলা শুরু করে দিয়েছিলো।কিন্তু চকোলেট গুলো যার কারণে গলছিলো সে তো অন্য কোথাও অন্য কারো সাথে দাঁড়িয়ে ছিলো।দুজনের কথা শুনে মনে হচ্ছিলো ওরা শুধু বন্ধু তো হতেই পারেনা কারণ ওদের সব কথাই রোমান্টিক টাইপের ছিলো!!আর কথায় কথায় 'বেবি-বেবি'বলছিলো।চোখে পানি নিয়ে আমি সেখান থেকে চলে আসলাম কারণ যার জন্য এসেছিলাম সে তো অন্য কারো সাথে গলা-মিলানোতে বিজি ছিলো। পকেটে রাখা চকলেট কখন গলে পানি হয়ে গেলো টেরই পেলামনা।শুধু এটাই টের পেলাম যে... এখন নীলার উপর আমার শুধুই আকর্ষন ছিলোনা,ভালোবেসে ফেলেছিলাম ওকে।
.
তখন আমার মনে এই লাইনগুলোই বার বার ঘুরপাক খাচ্ছিলো,
সেট লাইফ আপসেট হয়ে গেলো
চোখ টা পানিতে ভিজে গেলো
মেয়েটা আমার এতোটা ক্লোজ এসেও..
অন্য কারো জীবনে সেট হয়ে গেলো?
প্রথমবার লাইফে এতোটা খুশি আসতে নিচ্ছিলো কিন্তু আমার লাকটা হয়তো খারাপ ছিলো। মেয়েটা যেভাবে আমার সাথে চলতো, কথা বলতো আমার মনেই হতো সে আমার উপর ইন্টারেস্টেড।কিন্তু ভুল তো নীলার ছিলো...সে কখনো বলেইনি এগুলো তার কমিটিমেন্ট ছিলো।
.
মৃদ্যূ বাতাসে দাঁড়িয়ে আছি....মনে মনে ভাবছি.... আমি মেয়েটির কাছে হয়তো আর পাচটা যাস্ট ফেন্ডের মতোই ছিলাম!!ব্যাপার না বাকিদিনগুলোও না হয় যাস্ট-ফ্রেন্ড ই থেকে গেলাম।