শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

অপেক্ষার শেষ প্রহর

এক বছর পর আজ তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। মনের মাঝে লুকানো হাজারো রাগ অভিমান আর আকাশ সমান ভালোবাসাকে সঙ্গী করে। আমাদের সম্পর্ক আজ এক বছর চার দিন,সে কতক্ষন যাবৎ তার তার বলে যাচ্ছি এখনো তো তার পরিচয়টাই দেওয়া হলো না। সাঈফ, যাকে আমি অনেক ভালোবাসি ; সেও আমাকে ভালোবাসে তবে আমার চেয়েও একটু বেশিই। এক বছর আগে না দেখেই দুজন দুজনকে ভালোবেসে ছিলাম, তারপর হয়তো দুজনেরই দেখা হয়েছিলো তবে সেটা ছিলো সামান্য কিছু মুহূর্তের জন্য। আলাদা আলাদা শহরে থাকার কারনে দেখা করাটা এই এক বছরের মধ্যে আর হয়ে ওঠে নি। কখনো বা সে ব্যস্ত ছিলো আর কখনো বা আমি। ভাবতেই কেমন অবাক লাগে যে এক বছর হয়ে গেছে তাকে আমি না দেখে আছি। তবে আর না, আজ সব ব্যস্ততা, সব বাধা পেরিয়ে আমি যাচ্ছি আমার স্বপ্নরাজের দেখা করতে। তার কথা মতো আজ নীল শাড়ি পড়েছি, তার নাকি নীল শাড়ি অনেক পছন্দের। সাথে খোলা চুল, হাত ভর্তি চুড়ি আর চোখে গাড় করে কাজল। বার বার নিজের দিকে তাকাচ্ছিলাম, দেখছিলাম আর কি তার কথা মতো কেমন সাজতে পাড়লাম। কেমন পেড়েছি সেটাতো সেই ভালো বলতে পারবে, কেনো জানি মনের মাঝে একটা ভয় কাজ করছিলো। অনেকক্ষন ধরে নদীর পাড়ে দাড়িয়ে আছি তবে তার আসার কোনো নাম গন্ধ নেই। পড়ন্ত বিকেলের মনকাড়া সৌন্দর্যের সাথে নদীর কলরব আওয়াজ এক অসম্ভব সৌন্দর্য ধারন করেছে। হালকা বাতাসে আমার অবাধ্য খোলা চুল গুলো উড়ছিলো,,
,
--খুব বেশি লেইট করে ফেলেছি নাকি?(সাঈফ)
--____(অবাক হয়ে পেছনে তাকালাম,,, সাদা পাঞ্জাবিতে তাকে দারুণ লাগছিলো)
--কি হলো ম্যাডাম? খুব বেশি লেইট হয়ে গেছে
--কয়টায় আসার কথা ছিলো?
--আমিতো ইচ্ছা করে লেইট করি নি, রাস্তায় অনেক জ্যাম ছিলো তাই
--রাস্তায় তো আজ জ্যাম থাকবেই, কারন আমি যে আজ দেখা করতে বলেছি(অভিমানী সুরে)
--আচ্ছা সরি, প্লিজ রাগ করো না
--___(অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে দাড়িয়ে আছি)
--আচ্ছা বলো কি করলে তোমার রাগ কমবে? কান ধরতে হবে
--হুম
--আচ্ছা এই নাও ধরলাম(এক কানে ধরে)
--দুই কানে ধরো
--এই দুই কানে ধরলাম এইবার তো একটু হাসো
--____(মুচকি হেসে)
--সারা জীবন যেনো তোমার ঠোটের কোনে এই হাসিটা লেগে থাকে
--তুমি যদি সারা জীবন আমার পাশে থাকো তাহলে আমি না চাইলেও এই হাসিটা আমার ঠোটের কোনে লেগে থাকবে
--____(এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে)
--ও ভাবে কি দেখছো
--
দেখছি ওই মায়াবী চোখ,
যা পূর্ণিমার চাঁদকেও হার মানায়...
দেখছি ওই বাঁকা ঠোটের মিষ্টি হাসি,
যা মন কাড়ে পড়ন্ত বিকেল সৌন্দর্যে....
দেখছি ওই এলো কেশে স্বপ্নপরীকে,
যে বিচরণ করে আমার মনের স্বপ্নরাজ্যে.... 
.
--তুমি কি কবি?
--তোমার প্রমে পড়ে আজ আমি হয়তো বা কবি হয়ে গেছি
--তোমার বাসায় জানে এই কথাটা
--কি?
--যে তুমি এই দুনিয়া ছেড়ে ভবের দুনিয়ায় বাস করো; জানে এটা বাসায়
--বাসায় জানে কি জানে না তা আমি জানি না; তবে এটা জানি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি
--তাহলে এক বছর কিভাবে না দেখে ছিলে
--তুমিও তো না দেখে ছিলে, কিভাবে বলে
--জানি না
--জানোটা কি তাহলো
--ভালোবাসি
--কাকে?
--জানি না
--তোমাকে জানতেও হবে না, তোমার বাম পা টা একটু দাও তো
--কেনো
--ভেঙ্গে ফেলবো তাই, দিতে বলছি দাও
-- না আমার ভয় করে। আচ্ছা তুমি কি সত্যিই ভেঙ্গে ফেলবা
--আচ্ছা তুমি কি বোকা?
--না গাধী, আর তুমি গাধা
--দিবে
--হুম,
------একটি পায়েল পড়িয়ে দিলো........
--পায়েল(আমি)
--পছন্দ হয়েছে?
--তুমি দিয়েছ আর আমার পছন্দ হবে না!! কি যে বলো না তুমি
.
আস্তে আস্তে সন্ধ্যে নামতে চলেছে, পাখিরাও নিজেদের ঘরে ফিরে যাচ্ছে। চারদিকটা কেমন জানি শান্ত হয়ে গেছে, নদীর পাড়ে স্তব্ধ পরিবেশে ঘাসের উপর শাড়ির আচলটি বিছিয়ে তার কাদে মাথা রেখে জীবনের সবচেয়ে সেরা মুহূর্তটা কাটাচ্ছি। সারা জীবন তার সাথে ঠিক এইভাবেই থাকতে চাই, বাকিটা বিধাতাই জানে। কারন কথায় আছে, সবার কপালে সব কিছু জোটে না_____ 

বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৭

"শেষ বিকালের মেয়ে"

পার্কে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেয়া আমাদের প্রতিদিনের রুটিন। সাথে চা সিগারেট তো আছেই। যদিও পার্কের প্রবেশের পূর্বে লেখা আছে "সিগারেট খাওয়া নিষেধ"।
শহরে এটি মনে হয় একমাত্র পার্ক যেখানে কোন প্রবেশ ফ্রি দিতে হয়না। আর আমরাও এই পার্কের নাম দিই "গরীবের পার্ক"। আমার মতো বেকার যুবকের ব্যস্ত শহরে একটু নিশ্বাস নেয়ার জন্য এই গরীবের পার্কই যথেষ্ট।
বিকেলে পার্কের প্রতিটি বেঞ্জিতে জোড়া জোড়া শালিক পাখি বসে। এ যেনো ফ্রিতে প্রেম করার সূবর্ন্য সুযোগ। তাদের দেখলে মাঝে মাঝে হিংসে হয়। সবাই জোড়া জোড়া আর আমি আজ পর্যন্ত নিজের জোড়া ঠিক করতে পারলাম না। যদিও এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। কারন আমার মতো শিক্ষিত বেকারের কপালে কোন মেয়ে জুটবে এটা স্বপ্নেও কল্পনা করা যায় না।।
প্রতিদিনের মতো আজকেও শেষ বিকেলে বন্ধুরা আড্ডা দিতে আসা।
হঠাৎ আমার চোখ আটকে গেলো পার্কের কোণে বসে থাকা মেয়েটির দিকে। যদিও এখানে জোড়া ছাড়া কোন মেয়ে আসে না। আর সিঙ্গেল কোন মেয়ে আসা মানে "গোবরে পদ্মফুল" মনে করা। তবে মেয়েটিকে ভীষন উদাসী মনে হচ্ছে। বারবার চারদিকে তাকাচ্ছে। মনে হচ্ছে কি যেনো হারিয়ে ফেলেছে মেয়েটি।
আমি বোকার মতো মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি। প্রথম দেখায় ভালো লাগা যাকে বলে।
বিকেলের সূর্যের লালছে আভা মেয়েটির মুখে এসে পড়ে। শ্যামল বরণ মেয়েটিকে আরো মায়াবতী লাগছে এখন। সে যেনো এক ভিন্নগ্রহ থেকে আসা অপ্সরী। তার চোখের নেশা যে কোন ছেলের ঘুম কেঁড়ে নেবে মনে হয়।
এই ভাবনা গুলো একান্ত আমার। এই মুহূর্তে আমার চোখে মেয়েটি অপ্সরী। আমার চোখে সেরা সুন্দরী সেই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা মেয়েটি। যতই দেখছি ততই অবাক হচ্ছি।
সৃষ্টির সেরা আকর্ষন এই নারী। এই নারীকে নিয়ে কত কবিতা, কতো গল্প আর কতো স্বপ্ন। অবশ্য আমি যদি কবি হতাম তবে এই মেয়েটিকে নিয়েই একটি কবিতা লেখতাম। কবিতার নাম হতো "শ্যামলতা"। কিন্তু আফসোস, কবিতা লেখার মতো ছন্দ আমার জানা নেই।
হঠাৎ সিফাত আমার দিকে তাকিয়ে_কিরে মাম্মা!! মেয়েটির দিকে হা করে তাকিয়ে আসিস। কাহিনি কি?!
সিফাতের কথায় ভাবনার জগত ছেড়ে বাস্তবে আসলাম। শালা কথা বলার আর সময় পেলো না। ফিলিংসটাই নষ্ট করে দিলো।
আমি অনেকটা আবেগ নিয়ে সিফাতকে উদ্দেশ্য করে _মাম্মা, মেয়েটাকে দেখ। অনেকটা ডানা কাটা পরীর মতো, তাই না?! কিন্তু মনে হচ্ছে কোন সমস্যায় পড়ছে।
সিফাত কিছুটা বিরক্তি নিয়ে_আরে দূর, বয়ফ্রেন্ডের জন্য অপেক্ষা করতেছে। পার্কে মেয়েরা কেন আসে তা বুজস না?!
আমি নিজের উপর আস্তা রেখে সিফাতকে_আরে নাহ, অনেকক্ষন ধরে লক্ষ্য করলাম। কি যেনো খুঁজতেছে। গিয়ে জিজ্ঞেস করবো?!
সিফাত_তোর দরকার হলে তুই গিয়ে জিজ্ঞেস কর। আমাদের এতো ইচ্ছে নেই আগ বাড়িয়ে কথা বলার। আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গেলে উল্টা অপমানি হতে হবে।
সিফাতের কথায় অনেকটা আশাহত হয়ে বসে রইলাম। মনের তীব্র ইচ্ছে মেয়েটির সাথে কথা বলার। কিন্তু একা গিয়ে কথা বলবো ঐ সাহস এখনো হয়নি।
যদি ঐ সাহস থাকতো তাহলে হয়তো আরো দুই বছর আগেই একটা কিছু হয়ে যেতো। দুই বছর আগের কথা।
"শেষ বিকেলে সাগর পাড়ে দাঁড়িয়ে মুক্ত অক্সিজেন গ্রহন করছি। আর চোখ বন্ধ করে নিজেকে সাগরের বিশালতার মাঝে উজার করে দিচ্ছি। এমন সময় পাশে কেউ একজনের উপস্থিতি টের পেলাম। সেদিন অবশ্য বন্ধুদের কাউকে না জানিয়ে একাই ঘুরতে গেছিলাম।
পাশে ফিরে তাকিয়ে দেখি একটি মেয়ে আমার মতোই দাঁড়িয়ে আছে চোখ বন্ধ করে। মেয়েটির চোখ বন্ধ করে আছে দেখেই মেজাজ গরম হয়ে গেলো। আমাকে ব্যঙ্গ করতেছে সাহস কতো।
অনেকক্ষন মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু মেয়েটি তাকিয়ে আছে সাগরের বিশালতার দিকে। কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকার পর আমার রাগটা এমনিতেই কমে গেলো। সত্যি বলতে কি, সুন্দরীদের সাথে রাগ করে থাকতে কম পুরুষই পারে। আর আমি ঐ কম পুরুষের মাঝে পড়িনা।
মেয়েটা সাগরের প্রান থেকে চোখ ফিরিয়ে আমার দিকে তাকালো। আর আমি সাথে সাথে অন্যদিকে তাকানোর ভঙ্গিমা করি। মেয়েটা হয়তো বুজতে পারলো। মেয়েটা আমাকে উদ্দেশ্য করে
_ভাইয়া, একটা কথা জানতে চাচ্ছি। বলবেন প্লিজ?!
আমি অপ্রস্তুত ভাবে_জ্বি বলুন, কি জানতে চাচ্ছেন!!
_আমি দূর থেকে দেখলাম। আপনি অনেকক্ষন চোখ বন্ধ করে সাগরের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে চিলেন!! কেনো জানতে পারি?!
আমি_আপনিও তো একটু আগে এমন করে সাগরের দিলে তাকিয়ে ছিলেন!!
_আসলে আমি এমনিতেই এমনটা করলাম। বুজতে চেষ্টা করলান কেনো আপনি এমন করছেন। কিন্তু কিছুই বুজলাম না!!
আমি মেয়েটার পাগলামু মার্কা কথা শুনে না হেসে পারলাম না। মেয়েটির সামনেই হেসে দিলাম। মেয়েটিও আমার হাসি দেখে হেসে দেয়। এটা কি ফরমালিটি ম্যান্টেইন করলো নাকি বুজলাম না।
জগতের কিছু মানুষ আছে অন্যকে কপি করে চলতে পছন্দ করে। যেমন, আমি হাসলাম পাশের জন হাসির কারন না জেনেও আমার সাথে হাসবে। আসলে মানুষ হাসতে চায় কিন্তু হাসির কারন খুঁজে পায়না অনেকে। তাই অন্যের আনন্দ দেখে নিজের আনন্দটা খুঁজে নেয়ার চেষ্টা করে।
তবে কান্নার ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। ধরুন, আমি রাস্তার ধারে বসে কাঁদতেছি। অনেকে দেখেও না দেখার ভ্যান করে চলে যাবে। আর কেউ কেউ আছে এসে আগে জানতেই চাইবে কান্নার কারটা কি। কারনটা যদি মারাত্মক কিছু হয় তাহলে হয়তো কেউ শান্তনা দিবে। আর নয়তো মনটা খারাপ করে চলে যাবে।
যাই হোক,
মেয়েটির প্রশ্নের জবাবটা কিভাবে দিবো বুজতে পারছি না। তাই কথা না বাড়িয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়াটাই মনে হয় ভালো হবে।
যেই অন্যদিকে চলে যাবো মেয়েটি আবার আমাকে উদ্দেশ্য করে_ভাইয়া, চলে যাচ্ছেন?! বললেন না তো কেনো?!
আমি কিছুটা বিভ্রান্ত বোধ করে_কিছু না এমনিতেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। মুক্ত অক্সিজেন গ্রহন করার জন্য।
মেয়েটি মনে হয় বুজতে পারলো আমি তার প্রশ্নে বিরক্ত বোধ করছি। সত্যি বলতে কি, বিরক্তবোধ করার প্রধান কারন হলো "ভাইয়া" বলে ডাকা। এতো সুন্দর একজন রমনীর মুখে ভাইয়া ডাকটা শুনতে ইচ্ছে করছে না। অবশ্য প্রথম পরিচয়ে ভাইয়া বলাটা স্বাভাবিক। আংকেল খালু চাচা তো আর ডাকেনি। তবুও কেনো যেনো ভাইয়া শব্দটা সহ্য হচ্ছে না এখন।
মেয়েটি আর কোন কথা না বলেই চলে যাচ্ছে। খুব ইচ্ছে করছিলো মেয়েটিকে ডেকে কথা বলি। কিন্তু সাহস হচ্ছিলোনা বা ইগো প্রবলেমের কারনে আর ডাকা হলো না মেয়েটিকে। এক সময় মেয়েটি হারিয়ে গেলো দৃষ্টি সীমানার বাহিরে।
মানুষ মায়ায় আবব্ধ হতে চায় বার বার। চলার পথে সঙ্গী খুঁজে বেড়ায় প্রতিনিয়ত। কেউ পায়, কেউ পেয়েও হারায়। আমি হয়তো পেয়েও হারালাম। আমার একটা মারাত্মক সমস্যা কারো সাথে আগবাড়িয়ে কথা বলার প্রবনতা কম।
তবে প্রথম দেখায় বা প্রথম কথায় কাউকে নিয়ে এতোটা আর ভাবা হয়নি। ক্ষনিকের মায়ায় আবন্ধ হয়ে গিয়েছি হয়তো। কিন্তু যখন বুজতে পারলাম মায়ায় জড়িয়ে গেছি তখন দৃষ্টির বাহিরে চলে গেলো।
আচ্ছা,
প্রথম দেখায় বা সামান্য কিছু কথায় কি মানুষ প্রেমে পড়তে পারে?! হয়তো পারে!! তা না হলে সামান্য একটু দেখা আর কথায় মেয়েটির প্রতি আলাদা একটা অনুভূতি আসলো কেনো!! মনে হচ্ছে মেয়েটির ছবি মনের ক্যানভাসে বারবার দোলা দিচ্ছে!!
হুমায়ূন আহম্মেদ স্যারের "হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম" উপন্যাসটির কথা মনে পড়ে গেলো।
প্রতিটি ছেলে মেয়ের হাতে নাকি পাঁচটি করে নীলপদ্ম থাকে। যাকে প্রথম ভালোবাসে সেই নীলপদ্ম গুলো নাকি তাকেই দেয়া হয়ে যায়। তাহলে কি আমার নীলপদ্ম গুলো মেয়েটিকে দিয়ে দিলাম?! বা মেয়েটি কি আমাকে তার নীলপদ্ম গুলো দিয়েছে?! নাকি দিতে চেয়েও আর দেয়নি!?
হঠাৎ 'সময় গেলে সাধন হবে না' গানটার কথা মনে পড়ে গেলো। সত্যি তো আমরা সময়ের কাজ সময়ে করিনা বলেই আমাদের এতো অপূর্ণতা আর হতাশা।
সেদিনের পর থেকে মেয়েটিকে অনেক খুঁজেছি। অনেকবার শেষ বিকেলে সাগর পাড়ে গিয়ে সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু আর খুঁজে পাইনি। মেয়েটির নামটাও জানা হয়নি তাই নাম দিয়েছি 'শেষ বিকেলের মেয়ে'!!
শুনেছি প্রকৃতি একটি মানুষের সাথে চারবার দেখা করিয়ে দেয়। যে কোন কাকতালীয় ভাবে। তাহলে কি কোন একদিন আবার দেখা হবে আমার নীলপদ্ম নেয়া মেয়েটির সাথে। হয়তো হবে, হয়তো বা হবে না!!"
আজকের মেয়েটিকে দেখে আমার মনে আবারো তুপান বয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি আবারো ক্ষনিকের মোহে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। মেয়েটির সাথে কথা বলার প্রবণতা তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে। আচ্ছা, আমার নীলপদ্ম গুলো তো অনেক আগেই সাগর পাড়ে দেখা মেয়েটিকে দিয়ে দিয়েছি।
তাহলে আজকের এই মেয়েকে দেয়ার জন্য নীলপদ্ম গুলো পেলাম কোথায়?! তাহলে কি ঐ মেয়েটিকে দেয়া হয়নি?! ঐটা কি আবেগ ছিলো?! শুধুই ক্ষনিকের মোহ!?
নাকি এটাও আবেগ আর শুধু ক্ষনিকের ভালোলাগা ছাড়া আর কিছু নই। হয়তো 'হ্যাঁ' হয়তো 'না'। এই 'হ্যাঁ' আর 'না' শব্দ দুটো অনেক ছোট কিন্তু এই শব্দ গুলো একেকটা জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়া। বলা যায় শব্দ দুটো খুব ডেঞ্জারেস।
মেয়েটি চলে যাচ্ছে তার সাথে আমার কথা বলার তীব্র ইচ্ছে থাকলেও আর সামনে যাওয়ার ইচ্ছে করছে না। কারন আমি এখন মোহ, ভালোলাগা আর ভালোবাসার হিসেব মিলাতে ব্যস্ত।
দ্বিতীয় বারের মতো আবারো পরাজিত হয়েছি হয়তো। হয়তো আরো একটি অপ্রকাশিত ভালোবাসার সূচনা হলো। হয়তো নতুন করে আবার অপেক্ষা করবো মেয়েটির জন্য। হয়তো এই মেয়েটিকে খুঁজে বেড়াবো পাগল প্রায় হয়ে। অজানা এই মেয়েটিরও নাম হবে 'শেষ বিকেলের মেয়ে'!!
এভাবে প্রতিনিয়ত আমি প্রেমে পড়বো। আর একটি একটি করে অপ্রকাশিত ভালোবাসার সূচনা হবে। শেষ বিকেলের রক্তিম সূর্যের আলোয় খুঁজে বেড়াবো "শেষ বিকেলের মেয়ে" গুলোকে।

* পারবোনা আমি ছাড়তে তোমাকে *

হেডিং টা দেখলেই আমাদের মনে প্রেমিকের জন্য প্রেমিকার বা প্রেমিকার জন্য প্রেমিকের এক ডায়লগ এর কথা ভেসে আসে।
নাহ আমি এই কথাটা কে কখনোই প্রেমিক প্রেমিকার ক্ষেত্রে নিচ্ছিনা। আমি তার জন্য প্রযোজ্য মনে করি যিনি এই কথাটার পরিপুর্ণ অধিকারী। তিনি হলেন আমাদের গর্ভধারিণী মা। আমরা কখনোই তাকে ছাড়তে পারবোনা।
গল্প টা মাকে নিয়েই।
-
মুন্নার মোবাইলটা বেজেই যাচ্ছে।
রিসিভ করতে পারছেনা।সে তার মাকে ঔষধ
খাওয়ানোর জন্য মায়ের কাছে
ছিলো। তার পরিবারে সে আর তার মা ছাড়া আর
কেউ নেই। মা বেশ অসুস্থ। চলাফেরা করতে
পারেননা বেশ।
নিজের জীবনে অধিক পরিশ্রম করেছেন।মুন্না কে কষ্ট করে লেখা পড়া করিয়েছেন। মুন্না এই বছর স্টাডি শেষ করে একটা ভালো চাকরি করতেছে।
কলটা দিয়েছিলো ফারিহা।ফারিহা মুন্না কে ভালোবাসে। আর মুন্না ও
ফারিহাকে অনেক ভালোবাসে। সেই কলেজ লাইফ থেকে। ফারিহার আর মাত্র এক বছর বাকি স্টাডি শেষ হওয়ার।
মুন্না ফ্রি হয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে ১২ টা কল। বুজে গেছে ফারিহা
রেগে অলরেডি আগুন হয়ে গেছে।
কিছুটা চিন্তা করে কল ব্যাক করল।
ফারিহাঃহ্যালো........
মুন্নাঃ হ্যালো...সরি।
ফারিহাঃ কে বলতেছেন।
মুন্নাঃ বললামতো সরি।
ফারিহাঃ হুম,কিসের সরি, এতো কল দিলাম একটা ও ধরলেনা।
আর প্রায় ২০ মিনিট পর এখন কল ব্যাক করছো।
মুন্নাঃ এই মাকে নিয়ে বিজি ছিলাম। তাই,,প্লিজ রাগ করেনা রাগকুমারি।
ফারিহাঃ তুমিতো সকল সময়ই বিজি।আমার জন্য কি আর তোমার টাইম আছে। (অভিমানি সুরে)
মুন্নাঃ প্লিজ বোঝার চেষ্টা কর। ওকে কান ধরতেছি নেক্সট টাইম
মোবাইল সাথে রাখবো।
ফারিহাঃ হইছে হইছে।আর ডং করতে হবেনা। এখন শুনো যে জন্য কল
দিলাম।
মুন্নাঃ কি জন্য বল।
ফারিহাঃ কাল তো আমার বার্থডে জানই।
কাল কিন্তু তুমি না আসার আগ পর্যন্ত আমি কেক কাটবোনা।
মুন্নাঃ ওকে না কাটলে তো ভালো।
তোমার বাবার কেকের দাম টা বেচে যাবে। (ফান করে)
ফারিহাঃ কি.........(রাগতো ভাব নিয়ে)
মুন্নাঃ নাহ ঠিক আছে আসবই। আমার একমাত্র দাদার নাতির বউয়ের বার্থডে আর আমি আসবনা!
ফারিহাঃ হেহ...বড় বড় কথা,সময় হলেতো ভুলে যাবে।
মনে থাকে যেনো। নইলে.....
মুন্নাঃ হুম...মনে থাকবে,তা পার্টিটা স্টার্ট কবে।
ফারিহাঃ সন্ধ্যা ৮ টায়।
মুন্নাঃ ওকে আসবো।এখন রাখি,বাই।
ফারিহাঃ ওকে বাই।
...
পরদিন বিকাল বেলা মুন্না শপে গিয়ে লাভ ডোমেন করা একটা তাজমহল
কিনলো।
ফারিহার বার্থডে গিফট দেওয়ার জন্য।
সন্ধ্যা ৭.৩০ হয়ে গেছে। -----------
এদিকে মুন্না আসার কোনো নামই নেই।
সকল অতিথি এসে উপস্থিত।
ফারিহা না আসতে দেখে ফোন দিলো।
কিন্তু ফোন রিসিভ করতেছেনা।
প্রায় ২০ টা কল দিলো। নাহ রিসিভি হচ্ছেনা।
ফারিহা রেগে আগুন হয়েগেছে।
ফারিহার মা তার রুমে এসে বললেন যে কেক কাটার সময় হয়ে গেছে।চলে
আসতে।
কিন্তু ফারিহা মুন্নার জন্য অপেক্ষা করতেছে।
প্রায় ৮ টা ১৫,,, মুন্না আসেই নাই।
শেষমেষ মায়ের কথায় ফারিহা কেক কাটতে গেলো।
কেক কাটা,,পার্টি,,শেষ।
মুন্না আসে নাই।
ফারিহা মনে মনে খুব কষ্ট পায়।
রুমে গিয়ে কাঁদতে থাকে।
...
এদিকে....
সন্ধ্যা ৭ টায় হটাৎ মুন্নার মায়ের হার্টে প্রচণ্ড ব্যাথা শুরু হয়।
মুন্না তড়িঘড়ি করে মাকে হসপিটাল নিয়ে যায়।
আর তাড়াহুড়াতে মোবাইলটা ঘরে ফেলে গেছে।
এবং তার মায়ের ছুট্ট একটা অপারেশন করাতে হয়।
প্রায় ১০ টায় অপারেশন শেষ হয়। পরদিন সকালে মাকে নিয়ে বাসায় ফিরে।
বাসায় এসে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে ফারিহার অনেক ফোন আর
একটা মেসেজ।
মেসেজে লিখা; কাল দেখা করবে।
মুন্না বুজতে পারে ফারিহা খুব রেগে আছে।
তারপর মাকে রেখে ফারিহাকে কল দিয়ে দেখা করতে যায়। গিয়ে দেখে ফারিহা আগে থেকেই এসে বসে আছে।
মুন্না ভয়ে ভয়ে গিয়ে বসে বলে...
- আসলে ফারিহা কাল মায়ের.......এইটুকু
বলার পরই ফারিহা থামিয়ে দেয়।
ফারিহাঃ আমি তোমাকে কারণদর্শাতে বলিনি।
কি আর বলবে তোমার ব্যাস্ততার কথা এইতো।
তোমার মায়ের এই হয়েছিলো সেই হয়েছিলো তাইতো। (খুব রেগে গিয়ে)
মুন্নাঃ আসলে আমার কথা টা শুনো।
ফারিহাঃ স্টপ! কি শুনবো,হুম।
আমার জন্যতো তোমার কোনো ভালোবাসাই নেই।
কি আর এমন হয়ে যেতো একদিন মাকে ছেড়ে আসলে। আর তুমি ছাড়া
কি আর কেউ নেই। কাল আমি আমার ফ্রেন্ডদের কাছি অপমানিত হয়েছি শুধু তোমার
জন্য।
ব্যাস.... আজ থেকে তোমার আমার কোনো সম্পর্ক নেই।আজ
এখানেই খতম। তুমি তোমার মাকে নিয়েই থাকো।
এই বলেই ফারিহা উঠে চলে গেলো।
মুন্না চলে আসে বাসায়। এসে শুধু একটা মেসেজ দেয়। মেসেজি লিখেছিলোঃ
না শুনেইতো চলে
গেলে, ওকে যাও ভালো থেকো।
তবে মনে রেখো আমি সব ছাড়তে পারলে ও আমার মাকে ছাড়তে
পারবনা।
পারবোনা আমি ছাড়তে আমার পৃথিবী কে।
কিছু না জেনেই একা বক বক করে চলে গেলে। কাল আমার মায়ের অপারেশন করানো প্রয়োজন হয়। রাতে মায়ের
বুকে ব্যাথা উঠায় আমি পাগলের মত হয়ে যাই।
তাড়াহুড়ায় মোবাইল টা ও ফেলে চলে আসি।
আমি ছাড়া মায়ের দেখার কেউ নেই।
তুমি তো কাল তোমার পার্টি নিয়ে ছিলে।
আর এদিকে আমার উপড় দিয়ে ঝর গেছে।কিন্তু তুমি সেটা বুজতে চেষ্টা করনি।
আজ আমি যদি তোমায় বলি যে তুমি তোমার মাকে একেবারে ছেড়ে
দিতে,,
তার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখতে পারবেনা।
তখন তোমার অবস্থা কেমন হবে?
নাহ তুমি সেটা চিন্তা না করেই চলে গেছো। ওকে ভালো থেকো। আর অন্যের ক্ষেত্রে অন্তত নিজের মায়ের কথা
চিন্তা করো॥
মেসেজ টা পাওয়া মাত্রই ফারিহা বুজতে পারে যে সে কতো বড় ভুল
করেছে।
নিজের ভুল বুজতে পেরে হাওমাউ করে কেঁদে উঠে।
আর পরেই মুন্না কে কল দেয়।
মুন্নাঃ হ্যলো। কি?
ফারিহাঃ প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও। (কেঁদে কেঁদে)
মুন্নাঃ তুমি তো কোনো অপরাধ করনি যে ক্ষমা করব।
ফারিহাঃ মুন্না প্লিজ। আমি আমার ভুল বুজতে পেরেছি।
মুন্নাঃ ওকে।
ফারিহাঃ আর তুমি কি নিজেকে কি হিরো মনে কর। যে সব কাজ নিজেই করবে।
মায়ের সেবা কি তুমিই করতে জানো।
কাল আমি আমার বাবা মাকে তোমাদের বাড়িতে পাঠাবো।
তোমার মাকে তুমিই রাজি করাবে কিন্তু।
আর আজ থেকেও আমি ও তোমার মায়ের সঙ্গি হবো। তোমার
মায়ের সব দ্বায়িত্ব আমার। মনে থাকে যেনো। সব যেনো ঠিক ঠাক হয়ে যায়। নইলে..............
(আনন্দ রাগে)
এন্ড আগামি সাপ্তাহে যেনো বিয়েটা হয়ে যায়। মনে থাকে যেনো।
মুন্নাঃ আরে কি বল। আর তোমার পড়া লেখা?
আর আমকেও তো একটু ভাবার সময় দাও।
ফারিহাঃ পড়ালেখা বিয়ের পর ও করা যাবে।নো টাইম। মনে থাকে যেনো।
মুন্নাঃ একটা আনন্দের হাসি দিয়ে যো হুকুম মহারাগি সাহেবা।
ফারিহাঃ কি?????????
মুন্নাঃ নাহ কিছুনা। ওকে।
তারপর পারিবারিক ভাবেই মুন্না আর ফারিহার বিয়ে হয়।
ফারিহা নিজের মায়ের মতই তার শাশুড়ি কে স্নেহো করে। সব সময় কেয়ার করে।
মুন্নার থেকেও বেশি।
--------------------------
শেষ কথাঃ
যদি আমরা সবাই মনে মনে চিন্তা করি যে আমারো তো মা আছেন।
আমারোতো বাবা আছেন। আমার বাবা মা যেভাবে আমাকে কুলেপিঠে মানুষ করেছেন।।স্নেহো
করেছেন।
অন্যের বাবা মা ও ঠিক সেইভাবে নিজের সন্তানকে মানুষ করেছেন।
আজ আমি কিভাবে তাকে বলি যে নিজের বাবা মাকে ফেলে দিতে।
আমরা সকল ছেলেরা এই কথা কেনো ভাবতে পারিনা যখন ছেলে বাড়ি
থেকে রাগ করে না খেয়েই চলে যায় তখন অধিক রাতে মা ই খাবার হাতে নিয়ে ছেলের জন্য অপেক্ষা করে।গার্লফ্রেন্ড বা বউ নয়।
আমরা শাশুড়িরা যদি এই কথা ভাবি যে আমার যেভাবে মেয়ে আছে তেমনি
ভাবে আমার ছেলের বউ ই একজন মায়ের মেয়ে...
বউয়েরা যদি এই কথাটা একবার ভাবি আমার যেমনি মা আছেন আমার
শাশুড়ি ও আমার স্বামীর মা।
আমার মা আমার কাছে যেমন ঠিক তেমনি আমার শাশুরিও তার ছেলের কাছে তেমন।
আমরা যদি এই কথা গুলি একবারে জন্য চিন্তাকরি তাহলে এই দেশে
কখানই বৃদ্বাশ্রমের প্রয়োজন হবেনা।
কখনো সংসার যুদ্ধ হবেনা।
কখনো বউ শাশুড়ির যুদ্ধ দেখা লাগবেনা---।।

" গড়মিল "

--- কথা ছিল তোমার ভালোবাসার উৎসাহে নিজেকে সফলতা করা।যে সফলতায় আমাদের কান্না ভেজা হাসি সাক্ষী থাকবে।সাক্ষী থাকবে আমাদের কথার,পূর্ণতা পাবে বিশ্বাসের।রচিত হবে আরেকটা ইতিহাস।যেখানে শাহজাহান-মমতাজ,শিরিন-ফরহাদ,লায়লা-মজনু প্রমুখদের ঠাই হয়েছে।কিন্তু আমি এত খেতাব চাইনি।চেয়েছিলাম তোমার ভালোবাসার উষ্ণতা।যে উষ্ণতায় মলিনতাও আনন্দের মতো লাগতো।তুমি তা চেয়েও চাওনি!কথা দিয়ে কথা রাখোনি।তুমি এই যুগের ভন্ডামি ভালোবাসার ধারাকে জয়ী করেছো।এটা একদম অন্যায়।আজ ভেজা চোখে কান্না লুকিয়ে বাঁচতে হচ্ছে!যাও মাফ করে দিলাম।বাকিটা খোদার দরবারে না হয় বললাম!
এই বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে কিংবা বেলকনিতে দাড়িয়ে তোমাকে ভেবে ভেবে আবসারাফ আনমনা হাসি দিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা ছিল।যে স্বপ্ন তুমিও দেখেছ আমাকে দেখিয়ে!আজ সে স্বপ্ন তুমি অন্যজনকে নিয়ে দেখবে আর আমি বেচারা দুঃস্বপ্নে মশগুল!
মাফ চাও? যাও মাফ করে দিলাম!
মনে পড়ে তোমার সে দিনগুলোর কথা!যে দিনগুলো পরস্পর নির্ভর ছিলাম।তুমি আমাকে ভেবে চলতে আর আমি তোমাকে। আমি এখনো চলি!আমি বদলায়নি।তুমি বদলায়ছো।তুমিই বলেছিলে ইংরেজিতে.. মানুষ নাকি " চ্যান্জেবল"! তুমি তোমার কথা রাখছো!ধন্যবাদ তোমাকে এই কারণে যে নিজেকে দেয়া কথাগুলো রাখছো কিন্তু আমাকে দেয়া কথাগুলো রাখোনি।হয়তো তোমার মতে- আমার ভুল ছিল ভালোবেসে তোমাকে।ভুল আমার হলেও মনে রাখবে.."ভুল করে ভুলে যাওয়া ভুল"!
মনে পড়ে..কথা বলার সময়-তোমার কথা শুনতে পারতামনা বলে আমি হতাশ হয়ে রাগারাগি করতাম আর তুমি আমার ভয়ে চুপ করে থাকতা!
মনে পড়ে.. আমার গলায় তোমাকে সামনে রেখে গান শোনানোর কথা ছিল!তোমার হাতে আমাদের নাম আর্ট করে লিখার কথা ছিল!আমি বলেছিলাম তোমার চোখের দিকে থাকিয়ে থাকবো আর তুমি চুপ করে থাকবা!আচ্ছা..তোমার মনে আছে - তোমার জোড়া চোখগুলো আমার একদম বেশি পছন্দ!কি মায়াবী চোখ!আমিতো চোখ দেখে প্রেমে পড়েছিলাম তোমার!আজ সে চোখগুলো নাকি অন্য কেউ দেখবে!সে হাত দু'টো নাকি অন্য কেউ ধরবে!হয়তো সে আমার চেয়ে ভালো গান পারে তাইনা?
তোমার মনে আছে আমার প্রপোজ করার ঘটনাটা।
একটা বছর তোমাকে চোখে চোখে রাখছিলাম।তোমার খবর নিতাম।তোমার সম্পর্কে জানতাম।ভালো লাগতো। অন্যরকম অনুভূতি এগুলোতে।বলে বোঝানো যাবেনা!
চাইলে মোবাইল নাম্বারটাও নিতে পারতাম।কিন্তু বিশ্বাস করো নিজেকে বখাটে করতে চাইনি।সাহসও ছিলনা।এরকম ফোন করলে তুমি রাগ করবা সেটাও আমার মাথায় ছিল।ভালোবাসলে থাকে ভয় লাগে স্বাভাবিক!
তোমাকে অনেক কষ্ট করে পাইছিলাম জীবনে।এতো সময়ের ব্যবধান আমি আমার জীবনের কোন কাজে দিই নাই কখনো।এতো ধর্য্য,এতো সহ্য,এতো অবহেলা ইত্যাদি মেনে নিতাম।একটায় নিয়ত তোমাকে পেতেই হবে!মনে মনে বলতাম ইনশাল্লাহ!
ও আচ্ছা বলা হয়নি..তোমার ফেসবুক প্রোফাইল দেখতে দেখতে অনেক হিংসা আর রাগ লাগতো।কত আবালের প্রোফাইল যে ঘাটতে হয়ছে তার হিসাব নাই;শুধু তোমাকে যাতে কেউ সমস্যা না করে!
যখন দেখতাম কোন ছেলের পোস্টে কমেন্ট আর রিয়্যাক্ট দিতা আমার অসহ্য লাগতো।বলতেও পারতাম না।ব্লকও মারছিলাম তোমাকে! ফেইক আইডি খুলে তোমার আইডি দেখতাম।আবার ব্লক খোলে রিকুয়েস্টও দিছিলাম!
সে তুমি তোমার জীবন থেকে আামকে ব্লক দিয়ে দিলা!
তোমাকে জীবনে পেয়ে গেছিলাম।এতো ভালোবাসা দিছিলা যে ভালোবাসা আমার জন্য শেষ করে অন্যের জন্য বরাদ্দ করতেছো।কেন?সারা জীবন ভালোবাসলে কি এমন হতো?একেবারে সব ভালোবাসা দিয়ে শেষ করে কি লাভ হয়ছে!তোমাকে হারাবো কখনো কল্পনা করিনি!আমি আমাদের হিসাবটা গুছিয়ে নিয়েছিলাম।যাতে আমরা পরিবারের বিপদসীমা হতে রক্ষা পাই!তুমি মাঝখান হতে হাত ছেড়ে হাল ছেড়ে আমাকে মরুভুমিতে রেখে চলে গেলা।তোমার ভাবা উচিত আমি একা কেমনে মরুভুমিতে বাঁচার রাস্তা খুঁজবো হতাশাগ্রস্ত মন নিয়ে!
তোমাকে হারিয়ে আমার কান্নার গর্জন তুমি শোনোনি!একজন পুরুষ জাতের প্রাণী কাঁদে বোধয় এই ভালোবাসার জটিল রেখায়।অনেকটা পাথরে ঘাম ঝরে পড়ার মতো।তুমি নিজেকে ব্যর্থ ভাবিওনা।তুমি সফল।ব্যর্থতো আমি।এতো ভালোবেসেও পারিনি তোমাকে ধরে রাখতে।আগলিয়ে বাঁচার বিন্দুমাত্র কমতি প্রার্থনার অভাব আমার ভিতরে ছিলনা।খুব জোড়ালো ভাবো চাইছিলাম।তোমার কাছে কলিজা পঁচন রোগ নিয়ে বাঁচতে গেছিলাম।সেই তুমি কিনা সব জেনে শুনে...!
জোনায়েদ ইভান বলেছেন :- "হিসাব করে ব্যবসা হয়;ভালোবাসা না"। আর তুমি আমার চোখে আঙ্গুল দেখিয়ে লাইনটা দেখিয়ে দিয়েছিলে ভালোবাসার মানে বোঝাতে!আজ সে লাইনটার মর্মার্থ তুমি কি ভুলে গেছো?যে হিসাবটা আমাকে ছুড়ে দিলা পরিবারের দোহাই দিয়ে;সে হিসাবটা কি অন্য কোন মানুষের ভালোবাসায় কেউ সমাধান করেনি?নাকি সৎ ভালোবাসাগুলো এরকম অজুহাত দিয়ে চলে গেছিলো আদলতের রায় শুনার মত করে!আরে আমি দোষতো করিনি ভালোবেসে।কিংবা ভালোবাসা একার সম্মতিতে-তো হয়নি।আসামীরা অব্দি নিশ্চিত মৃত্যু জেনে বাঁচার বৃথা চেষ্টায় পূনরায় আপিল করে আরেকটা দিন বেশি বাঁচার জন্য।আমি কি তাদের চেয়েও নিঃকৃষ্ট নাকি অভিনয় করছো?
আমিও তোমার কাছে ভালোবেসে অপরাধী আসামী হয়ে গেলাম।আপিল করার সুযোগটুকু দাওনি।আমাকে অচল করে দিয়ে চলে গেলে তোমার সুখের স্বর্গে!তুমি সুখে আছো তাতে আমি খুশি।
মাফ চাইছো তাইনা ভালো না বাসার জন্য? যাও মাফ করে দিলাম।মাফ করতে টাকা-পয়সা খরচ হয় নাকি!
তুমি নিঃশ্বাসে বাঁচো;আমি না হয় দীর্ঘশ্বাসে বাঁচি!

একটি মিথ্যা....

কেটেগেছে ১ বছর ৮ মাস ৩ দিন।..... কি ভাবছেন কারোর সাথে সম্পর্কের??? -- হ্যা। এটা সম্পর্কেরই। তবে ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক। গত ২০১৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির দিনে সে আমার সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছিলো একটি মিথ্যা সন্দেহের কারনে। 
.
সম্পর্ক!!!! -- হায় রে মানুষ!!! এটা নাকি একটা সম্পর্ক!!! না কোন সম্পর্ক না। তবে হতে পারতো। কারন তার কথা গুলো দেখে বুঝেছিলাম সে আমায় পছন্দ করতো। আমার মন বলে.....
.
একদিন কলেজের টিফিন টাইমে কলেজ ক্যান্টিনে বসে আছি। প্রভাতি শাখায় ক্লাস হওয়ায় ঘুমের দরুন মুড তেমন ভালো ছিলো না। ক্যান্টিনের একটা সাইডে বসে ফেসবুক গতাচ্ছি। সাজেস্ট ফ্রেন্ড লিস্টে সাবেক প্রেমিকার ID খুজছিলাম। কিন্তু তার ID টা পাচ্ছিলাম না। হটাত চোখে পড়লো "জানভি" নামে একটা ID.... নামটা আমার কাছে uncommon লাগসে। প্রোফাইল পিক দেখলাম শুধু একটা ঠোটের ছবি দেয়া। ঠোট দেখে মনে হচ্ছিলো সে মুচকি হাসছে। ---- জানিনা সেটা তার ঠোট কি না। তবে ঠোটটা ছিলো গোলাপী। হালকা চিকন। কিন্তু মনে পরশ আনার মত সুন্দর। ধরেই নিলাম ছবিটা ফেক। ---- এরপর তার প্রোফাইলে গেলাম। দেখলাম অনেক কিছুতেই প্রাইভেসি দেয়া। দোটানায় পড়ে গেলাম। ID টা কি ফেক না রিয়েল!!! সব কিছু ভাবতে ভাবতে রিকুয়েস্ট দিয়ে ফেসবুক থেকে বেড় হয়ে পড়লাম।
.
.
সারাদিন কলেজ আর ল্যাব দিয়েই কাটলো। বিকালে প্রায়ভেট ছিলো। তাই বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেলো। --- সারাদিনের ব্যাস্ততার জন্য জানভির কথা মনেছিলো না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় ফেসবুকে ঢুকলাম। নটিফিকেশনে দেখি প্রথমেই দেয়া "Janvi commented on your post... " ---- ওফ!!! তার মানে সে আমার রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করসে। গিয়া তার কমেন্টের রিপ্লাই করলাম।
.
বলে রাখা ভালো, তখনো আমি টুকটাক লেখালেখি করতাম। তবে গল্প না, ছোটখাটো লেখা। জানভি যেটাতে কনেন্ট করেছিলো, সেটা ছিলো হুমায়ুন আহমেদ স্যারের একটা উক্তি। সেটা হলো ------ "ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মাতামাতি করাই হলো মেয়েদের স্বভাব।" -- হুমায়ুন আহমেদ।
.
তো, সে এই কথাটার চরম বিরোধিতা করে কমেন্ট করলো। আমিও তার কমেন্টের রিপ্লাই দিলাম। আবার সেও আমার রিপ্লাই দিলো। আমিও আবার দিলাম। এভাবে একটা মিষ্টি ঝগড়া চলছিলো। --- কিন্তু কথার এক পর্যায়ে সে তার কমেন্টটা ডিলেট করে দিলো। যা দেখে এক রকম রাগ মিশ্রিত কষ্ট পেয়েছিলাম।
.
যাইহোক, হটাত দেখি সে একটা মেসেজ দিয়েছে। ---- মনে মনে একটু পুলকিত হলাম!!!! গিয়ে দেখি.... সে লিখেছে --- "আমি বেশি কথা বলা পছন্দ করি না। তাই কমেন্ট টা ডিলেট করে দিলাম।"
আমি: It's ok...
জানভি: Hmm
আমি : (লাইক দিলাম)
জানভি: Good।
আমি: Well... 
জানভি: hmm
আমি: আপনার নামকি জানভি না জাহ্নবি...
জানভি: জা ন ভি..... বুঝছেন???
আমি: হুমম। কোন ক্লাসে পড়েন??
জানভি: এবার পরীক্ষা দিচ্ছি ( 2016 এর SSC examiner)। আপনি???
আমি: ইন্টার ১ম বর্ষের শেষের দিকে। আপনি কোন বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিচ্ছেন??
জানভি: বাণিজ্য।
আমি: ওওও.... কাল তো সম্ভবত পরীক্ষা আছে, না???
জানভি: হুমম। বিজ্ঞান।
আমি: তাহলে পড়া রাইখা ফেসবুকে কি?? কেও আছে নাকি???
জানভি: আরে নাহ। এমনি আসছিলাম। এখন আবার চলে যাব। bye....
.
.
তার সাথে আমার শুরুটা এভাবে হয়েছিলো। এরপর তার সাথে প্রতিদিনই একটু একটু কথা হতো। একসময় দেখা গেলো ঘুমের সময়টা ছাড়া আর সারা দিনই আমরা কথা বলতাম। রাত ৩ টা, ৪ টা এমন অনেক রাত আছে যে আমি তার সাথে কথা বলে পার করে দিয়েছি। সকালে জাস্ট কলেজ ইউনিফর্ম পড়ে কলেজে গিয়েছি। আস্তে আস্তে আমার প্রতি তার কেয়ারিং বাড়তে লাগলো। আমিও তার প্রতি কেয়ার করতে লাগলাম। আমার কনভারসেশন এর এক পর্যায়ে সত্যিই আমি তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়লাম। হয়ত সে ও হয়েছিলো। নয়ত আমার প্রোফাইলে থাকা অনেক মেয়েকেই সে জোর করে আনফ্রেন্ড করিয়েছিলো কেন??? ---- একটা কথা বলেরাখি, আমাদের কনভারসেশন এর এই মধুমাখা সময়টাতেও আমি তার ছবি দেখিনি।
.
একটা পর্যায়ে দুইজনেই বুঝেছিলাম যে -- "Yah... we are in love..." কিন্তু, কেও কাউকে বলিনি। তার অন্যতম একটা কারন ছিলো দূরত্ব। সে থাকতো মংলা পোর্ট.... এই জায়গাটা খুলনা নাকি যশোর আমি সিউর জানি না। আর আমি থাকতাম ময়মন সিংহে। আমি অনেকবার স্ট্যাটাস দিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করেছি যে দূরত্ব কোন ব্যাপারনা। কিন্তু, তাতে খুব একটা কাজ হয় নি। 
.
.
আমার বেপরোয়া মন আর মানছিলো না। তার যে পরীক্ষা, তার যে সমস্যা হতে পারে এই কথাটা আমার মাথায়ই আসছিলো না। --- আমি এক রকম উজবুক এর মতই তাকে প্রপোজ করে দিলাম....
.
দিনটা ছিলো ১৯ ফেব্রুয়ারি.....
.
আমি: পরীক্ষা কেমন হচ্ছে??
জানভি: মোটামুটি.... তুমার জন্য তো ঠিক মত পড়তেই পারিনা।
--- ওমা, আমি আবার কি করলাম???
--- ঐ... রাত ৩/৪টা পর্যন্ত পেচাল পারে কেডা???
--- তুমি কথা কইলা কে???
--- মন চাইসে।
--- এখন কাহিনি কি???? ফেলের সম্ভাবনা আছে নাকি???
--- আজাইরা কথা কও কে??? যত্তসব অলক্ষুণে কথা....
--- হাহাহাহা.... রাগ কইরো না, I was kidding....
--- It's ok...
--- জানভি একটা কথা ছিলো।
--- কি?? বলো।
--- তুমার কি সত্যিই বফ নাই???
--- এই এক কথা আর কয়বার বলবো??? -- সত্যিই নাই....
--- ওওওও....
--- আমার বফ দিয়া তুমি কি কর???
--- না এমনি। 
--- ওওও।
--- তুমাকে একটা কথা বলার ছিলো।
--- কি??
--- না থাক....
--- কি বলতে চাইসিলা বলো। না হলে রাতে আমি ঠিক মত পড়তে পারবো না।
--- ওকে বলতেসি।
--- হুমম।
--- ----
--- কই??? বলো না কেন???
--- হুমম। আসলে বলতে চাইসিলাম Te amo...
--- মানে???
--- মানে Te amo...
--- Te amo তো বুঝলাম। এর মানে কি???
--- I love you....
--- আমাকে তুমি চিনো না, আমিও তুমাকে চিনি না। Then Love কিভাবে সম্ভব???
--- আমি আমার ডিটেইলস তুমাকে দিতেসি। 
.
.
এই বলে আমি আমার কিছু তথ্য, তাকে দিলাম। কিন্তু, তার এক কথা, সে আমাকে পরীক্ষা করবে।
.
প্রথম যেই পরীক্ষা ছিলো, সেটা একটা সাধারণ প্রশ্ন। সঙ্গত কারনে এটা আমি পাঠকদের বলবো না। -- তবে তার করা সেই প্রশ্নের উত্তরটা আমার মনের গভীর থেকে দিয়েছিলাম। যার জন্য পাশ করে গিয়েছি। দ্বিতীয়টাও ছিলো একটা প্রশ্ন। এটাও বলা যাবে না। তবে বহু কষ্টে পাশ করেছি।
.
এরপর সেই দিন। ২১ শে ফেব্রুয়ারি। সে আমাকে হটাত মেসেজ দিয়ে বললো, 
--- তুমি কি আমার বিশেষ মানুষটাকে দেখতে চাও???
--- বিশেষ মানুষ মানে?? তুমার না কেউ নাই???
--- না আছে। আমার স্ট্যাটাস এ গিয়া দেখো।
.
একরকম উদভ্রান্তের মত তার টাইমলাইনে গেলাম।
.
.
তার টাইমলাইনে গিয়া দেখলাম একটা পোষ্ট দেয়া..... Janvi is taking care of (একটা ছেলের নাম) এরপর কিছু লেখা...। লেখাটা পড়িনাই।
.
.
তবে পোষ্টটা দেইখা মাথাটা গরম হয়া গেলো। তারে আবার মেসেজ দিলাম....
--- আমারে মিথ্যা কথা কইলা কে???
--- আমার মন চাইসে।
--- ওওওও.... আসলে একটা ব্যাপার কি জানো???
--- কি???
--- আসলে আমার একজনের সাথে রিলেশন ছিলো। পরে ব্রেকআপ হইসে। এখন আমার সাথে ভাব নিতেসে। তাই তার সাথে জিদ ধইরা তুমারে প্রপোজ করসি। প্রপোজের ব্যাপারটারে সিরিয়াসলি নিয়ো না।
--- আমি কোনদিন ও সিরিয়াসলি নেই নাই। [বিদ্র: এরপরের কথা গুলা প্রকাশ করতে চাচ্ছি না]
.
এরপর সে আমাকে ব্লক দিয়ে দেয়। আমি আমার ফেক আইডি দিয়ে তাকে আরো কিছু বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, তার ID তে দেখলাম তার দেয়া পোষ্টের সেই বিশেষ ছেলেটা আর কেউ না, তার ভাই...... এরপর বহুবার তার সাথে কন্টাক্ট এর চেষ্টা করেছি। অনেক সরি বলেছি। লাভ হয় নি। সবটাই বিফলে গেছে। আমার দুইটা ID তেই সে ব্লক দিয়ে রেখেছে......
.
.
আর বলা হলো না.... ওগো অপরিচিতা... শুনে যাও। যা বলেছি সব মিথ্যা। সত্য হলো আমার বলা সেই কথাটা --- Te amo.....