বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ব্যর্থ প্রেমের গল্প

পৃথিবীটা গোল। এখানে কখন যে কার সাথে কিভাবে দেখা হয়ে যায় বলা খুব মুশকিল।
তামান্না আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। অনেকদিন হল আমাদের বন্ধুত্ব।
নিয়মিত চ্যটিং আর মাঝে মাঝে মোবাইলে কথা বলার মাধ্যমে আমাদের এই বন্ধুত্বটা আমরা ঝালাই করে নেই।
অনেক রিকোয়েষ্টের পর গত কিছু দিন পূর্বে ওর কয়েকটি ফটো ও পাঠিয়েছিল
ফলে আমিও আমার ফটো দিয়েছিলাম ওকে।
আসলে বেশ কয়েক বছরের এই বন্ধুত্বের ফাকে কখন যে ওকে ভালবেসে ফলেছিলাম তা আমি নিজেও বলতে পারবোনা। অনেক দিন ওকে কথাটা বলব বলব করেও আর বলতে পারিনি ভয়ে।
যদি রাগ করে আমার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্কটাও ন্ষ্ট করে দেয় ও।
এই ভয়ে কখনোই বলতে পারিনি ওকে মনের কথাটা।
অত:পর সিদ্ধান্ত নিলাম যা বলার সামনাসামনিই বলব ওকে। তখন যা হবার হবে।
তাই একদির দেখা করতে বললাম ওকে।কিন্তু ও কিছুতেই রাজি হল না।
বল্ল আরও কিছু দিন পর আমরা দেখা করব।
কি আর করা, দেখা করা হল না।
কিন্তু কি আশ্টর্য গত কিছুদিন পূর্বে আমি পাবলিক গাড়িতে চড়ে কোথাও যাচ্ছিলাম
আর বসে বসে ওর সাথে চ্যটিং করছিলাম।
আমি ওকে জিগ্যেস করলাম
- তুমি কোথায়? কি করছো?
- বাসায় টিভি দেখছি। তুমি কি কর?
- আমি তো বাসায় শুয়ে রয়েছি
ঠিক যখন আামাদের চ্যটিং এই পর্যায়ে এমন সময় হঠাৎ আমার পাশের সিটে একটি মেয়ে এসে বসল।
স্বভাব অনুযায়ী মোবাইল থেকে দৃষ্টি ঘুড়িয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়েই আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।
মেয়েটি তখনও মোবাইলে কারও সাথে চ্যটিংয়ে ব্যস্ত।
এই মেয়েটির চেহারা তামান্না পাঠানো ফটোর সাথে পুরোপুরি মিল। কিন্তু ও তো এখন বাসায় বসে টিভি দেখছে বল্ল আমায়। ততক্ষনে মেয়েটিও আমার দিকে বিষ্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে।
কারও মুখেই যেন কোন ভাষা নেই এমন এক অবস্থায় আমাদের প্রথম দেখাটা হয়ে গেল।
দুজন একসাথেই বলে উঠলাম
- তুমি.........!!!
- তুমি.........!!!
- তুমি না বাসায় টিভি দেখছো?
- আর তুমি না বলে বাসায় শুয়ে রয়েছো?
কি আশ্চর্য প্রথম দেখাতেই লেগে গেল তুমুল ঝগড়া।
আমি তখন মুখ ফসকে বলে ফেল্লাম, প্রথম দেখাতেই এভাবে ঝগড়া করে
তোমার মতো মেয়ে আমি আমার জীবনেও দেখিনি।
আগুনে যেন ঘি ঢালার কাজ করল কথাটা।
- জীবনে কয়টা মেয়ের সাথে দেখা করেছো শুনি?
- একটাও না
- না.........করেছো তো, কারণ তোমার তো অভিজ্ঞতার শেষ নেই।
- আরে বল্লাম তো আমি করও সাথে দেখা করিনি।
কোন কাজ হল না। আমার সাথে ঝগড়া করে অগ্নিমূর্তি ধারন করেছেন উনি এখন।
- আজকের পর আমার সাথে কোন ধরনের কোন যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করবা না।
- যথা আজ্ঞা
হতভম্ব হয়ে বাসের সিটে বসে রইলাম।
আমি জানি তামান্না আমার সাথে আবারও যোগাযোগ করবে
কারন ওর চোখে আমি আমার জন্যে ভালবাসা দেথেছি।
আমাকে ভাল না বাসলে ও আমার সাথে এভাবে ঝগড়া করত না।
যাই হোক শুরু হল আমার অপেক্ষার প্রহর । ফেসবুকেও দেখি এখন আর আসে না ।
কল দেই কিন্তু মোবাইল বন্ধ পাই। বুঝতে পারছি না কিছু কি হয়ে গেল।
এভাবে চলে গেল প্রায় কয়েক মাস। দিনে দিনে আমার অস্থিরতা বারছেই। অপেক্ষার প্রহর যে আর শেষ হয় না।
ফেসবুকে অনেক কে জিজ্ঞেস করলাম ওর বাসার ঠিকানা কেউ জানে কিনা কিন্তু কেউ জানেনা।
কি যে করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।
জীবনে একটা মেয়েকেই ভালবেসেছি। আর কোন মেয়েকে ভালবাসব না বলে পন করেছি।
কিন্তু যার জন্য এই সবকিছু তাকেই যদি জীবনে না পাই তাহলে কার জন্যে আমার এই ভালবাসা?
দিনে দিনে আমার সাস্থ খারাপ হতে লাগল। খাওয়া-দাওয়া করতে পারছিলাম না মোটেও আর।
প্রায় মাস ছয়েক পর হঠাৎ দেখি তামান্না নামে আমার কাছে একটি চিঠি আসল
যার শুরুতেই মুন্নির হাসি হাসি একটি ফটো দেওয়া।
দেখা মাত্রই খুশি হয়ে উঠলাম।
পড়া আড়ম্ভ করলাম
প্রিয় জীবন,
আশা করি ভালই আছ। আমাকে ছাড়া শুখে আছ।
দিন যায় রাত আসে আবার রাত যায় দিন আসে।
এভাবেই দিনের পর দিন অতিবাহিত হয়ে যায়।
প্রতিদিনকার সুর্যের নতুন আলো দেখে মানুষ নতুন ভাবে বাঁচতে শিখে।
কিন্তু আমি পারিনা। কারন আমি যে ক্যন্সার রোগী. আমার মাথায় অনেক সমস্যা। খুব ব্যাথ্যা করে,
ডাক্তার আমাকে বলেছে আমি আর বেশি দিন বাঁচবোনা।
জানো, এতে আমার কোন কষ্ট নাই কিন্তু কষ্টটা লাগে যখন আমার বাবা-মার চেহারার দিকে তা্কাই।
কষ্টে তখন আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে তখন।
আমি সব সময় চিন্তা করেছি আমাকে ছাড়া আমার বাবা মাও একদিন বাচতে শিখে যাবে
কারন তাদের আমি ছাড়াও আরও সন্তান আছে কিন্তু যে মানুষটা আমাকে ভালবেসে
আমাকে জীবন সঙ্গী বানানোর জন্যে অপেক্ষায় আছে সেই মানুষটার কি হবে?
সে তো পুরোই একা হয়ে যাবে।
তাই কখনোই আামার ভালবাসাটা প্রকাশ করিনি।
পাছে যদি সেই মানুষটা কষ্ট পায় আমার জন্য।
কিন্তু আমি যানি আমাকে ছাড়াই সেই মানুষটা আজ বেঁচে থাকতে শিখে গেছে।
আজ আর তার ততোটা কষ্ট হবে না যতোটা কষ্ট হত আরও আগে জানালে।
আজ আমি তোমার কাছে কিছুই লুকাব না
কারন আমি জানি তোমার কাছে যখন এই চিঠিটা যাবে তখন আমি আর এই পৃথিবীতে থাকবোনা।
তাই আজ আমি তোমার কাছে সব সত্য বলব। কিছুই লুকাবো না।
সত্যিই আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।
যা কখনোই আমি তোমাকে বুঝাতে পারিনি বা চাইনি।
আমি চেয়েছিলাম তুমি সুখে থাক তাই তোমাকে ভালবাসার কথা বলে তোমার মনে আশার আলো জাগিয়ে তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।
ভালবাসা অন্তরে। অন্তর দিয়ে ভালবাসলে সেই ভালবাসা সারাজীবন থেকে যায়।
কষ্ট পেওনা প্লিজ।আমি সেই আকাশের তারা হয়ে সবসময় তোমাকে দেখব।
আর রাত জেগে আমরা গল্প করব।
পরিশেষে তোমার জন্য একটি গানের দুটো লাইনঃ
.
যখন থামবে কোলাহল.........
ঘুমে নিঝুম চারিদিক
আকাশের উজ্জল তারাটা..........
মিট মিট করে শুধু জ্বলছে
বুঝে নিয়ো তোমাকে আমি ভাবছি......
তোমাকেই কাছে ডাকছি।
ঘুমিয়ে পড়ো না বন্ধু আমার
জেগে থেকো সেই রাতে।

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

মনের মত বউ

রাত জেগে অফিসের কাজ করতে গিয়ে ঘুমাতে দেড়ি হয়ে যাওয়ায় সকালে ঘুমথেকে উঠেতে দেড়ি হলেও সঠিক সময়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে আফিসে গেলাম । আমার পরিচয় টা দেওয়া হল না আমি রিমন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করায় ঢাকায় থাকি আব্বু আম্মু গ্রামে থাকে । আফিস শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে বাসায় ফিরলাম। সকালে সকালে ঘুমথেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাইরে থেকে নাস্তা করে অফিসে গেলাম ব্যাচেলার ছেলেদের যা হয় । রাতে ফিরার পথে কিছু সবজি বাজার করে আনলাম রাতে খাব বলে ।আম্মু ফোন করে বলছে কিরে বাবা আম্মু আব্বু কে ভুলে গেছিস নাকি কয়েকদিন থেকে ফোন দিস্না যে ।না আম্মু আসলে অফিসের কাজে ব্যাস্ত ছিলাম কেমন আছ আম্মু ? আমি ভাল আছি বাবা তুই খেয়েছিস ? না আম্মু রান্না করছি ? শোন বাবা এখন একটা বিয়ে কর আর কত কোস্ট করবি ? না আম্মু এখন বিয়ে করব না । কেন বাবা ? এখন বিয়ে করলে কি সমস্যা তুইত এখন চাকরি করিস ? তাও আম্মু এখন আমি বিয়ে করব না। আমি অত কিছু জানি না এবার তোর বিয়ে আমি দিয়েয় ছাড়ব এই বলে ফোন কেটে দিলো । আমি রান্না শেষে করে খেয়ে বাকি খাবার গুলা ফ্রিজে রেখে দিলাম সকালের জন্য এরপর রুমে এসে দিলাম একটা ঘুম । সকালে প্রতিদিনের মত ঘুমথেকে উঠে ফ্রিজ থেকে খাবার গুলা বের করে গরম করে খেয়ে অফিসে গেলাম । অফিসে বস আমকে ডেকে পাঠালেন আমি বসের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম সার আমাকে ডেকেছেন ? হ্যা রিমন আসলে আমাদের কোম্পানির জন্য একটা প্রোজেক্ট তৈরি করতে হবে তোমাকে তাই ডেকে পাঠালাম । আমি বসকে বললাম ওকে সার । প্রোজেক্ট টা বানাতে তিন দিন লাগলো খুব চিন্তাই আছি সারের পছন্দ হবে কি না । আজ সারকে প্রোজেক্ট টা দেখালাম সার খুব খুশি হয়েছেন ।এদিকে আম্মু অনেক বার ফোন দিয়েছে সাইলেন্ট থাকায় ধরতে পারিনি । আম্মুকে ফোন দিলাম আম্মু বলছে বাবা ফোন ধরলি না কেন এত বার ফোন দিলাম তাও । আসলে আম্মু আমি অফিসের একটা কাজে ব্যাস্ত ছিলাম তাই ধরতে পারিনি ।ওহ আচ্ছা তুই কিছুদিন ছুটি নিয়ে বাসায় আই কাজ আছে । আচ্ছা আম্মু বসকে বলে দেখি ছুটি দিলে আসব । না আসতেই হবে । আচ্ছা বাবা বসকে নলে ছুটি নিয়ে আসছি । বসকে বললাম সার আমার কিছুদিন ছুটি লাগবে আম্মু ফোন করে বল কি যেন কাজ আছে ।সার আমার অপর খুশি থাকায় ছুটি দিয়ে দিলো। আমি বাসায় এসে কিছু কাপড় নিয়ে গ্রামের বাসার দিকে রউনা দিলাম । গ্রামের বাসায় এসে দেখি সবাই আনন্দে মেতে আছে । আমি এসে ফ্রেশ হয়ে একটা ঘরে বসে আছি । 
মামাতো বোন টুম্পা এসে বলছে ভাইয়া তৈরি হয়ে নে ।
আমিঃ কিন্তু কেন আমি অনেক ক্লান্ত আমি পারব না যা এখান থেকে ।
টুম্পাঃ তুই তৈরি না হলে কেমন করে বিয়ে হবে । 
আমিঃ বিয়ে ? কার বিয়ে ।
টুম্পাঃ কেন তোর ?
আমিঃ আমার মানে ? আমার বিয়ে হলে আমি যানব না ? এটা কথা বলছিস আম্মুকে ডাক? 
টুম্পাঃ যাচ্ছি 
আম্মুঃ কি বলছিস আর শুয়ে আছিস কেন তৈরি হয়ে নে এখনি ওই বাড়ি যাবে সবাই ।
আমিঃ কি আবলতাবল বলছ ? ওই বাড়ি মানে কোন বাড়ি ? 
আম্মুঃ তোর বিয়ে ঠিক করেছি আজ ?
আমিঃ মানে কি? আমি তোমাকে বলেছি না আমি এখন বিয়ে করব না 
আম্মুঃ তুই বিয়ে করবি ব্যাস আর কোন কথা বলবি না 
আমিঃ পারব না ? যার সাথে বিয়ে হচ্ছে তাকে চিনি না জানি না কিভাবে বিয়ে করব 
আম্মুঃ তুই মেয়েকে চিনিস আর মেয়েটাও তোকে চিনে । মেয়েটাকে আমার পছন্দ হয়ে ছে তুই ওকে বিয়ে করবি তোর আব্বু মেয়ের বাবাকে কথা দিয়ে এসেছে ।
আমিঃ কে সেই মেয়ে ? আমি পারব না ।
আম্মুঃ আমি তোর আব্বু কে বলছি ?
এ বলে চলে গেল আম্মু । আব্বুর ভয়ে বলির পাঁঠার মত আমাকে বিয়ে করতে হল ।
বাসর ঘরে ঢুকে দেখি বউ ঘোমটা মাথায় দিয়ে বসে আছে । আমি এখনও জানি না আমার বিয়ে করা বউ কে ? কেমন দেখতে ? আমাকে দেখে বউ উঠে এসে সালাম করল । আমি বললাম যে আমার কিছু কথা আছে আপনার সাথে ।
বউঃ কি কথা ?
আমিঃ এই বিয়ে আমার অমতে হয়েছে ?
বউঃ আমাকে কি তোমার পছন্দ হয়নি?
আমিঃ আমি আপনাকে এখনও দেখি নাই তো ?
বউঃ আচ্ছা । 
আমিঃ তুই ? 
বউঃ হুম আমি ? মনে আছে তোমাকে বলেছিলাম চার বছর আগে যদি কারো বউ হোই তাহলে তোমারি বউ হব ।
আমিঃ হুম মনে আছে । 
বউঃ চার বছর আগে আমাকে তুমি বলেছিলে তোর মত মেয়েকে আমি বিয়েতো দুরের কথা তুই যে এলাকায় বিয়ে করবি সে এলাকায় কনদিন ভুলকরেও আসব না । আর আজ আমি তোমারি বউ ।
চলেন চার বছর আগে যাওয়া যাক । আমি তখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি তখন আমাকে আমার চাচাত বোন রিমা মানে আমার বর্তমান বউ আমাকে খুব খুব ভালোবাসত একদিন সে আমাকে বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি । সেদিন আমি ওকে বলি আমি তোকে ভালোবাসি না আমি তোকে সেরকম ভাবে ভাবিও না । সে বলছে কিন্তু আমি তো তোমাকে অনেক ভালোবাসি প্লিজ আমাকে ফিরিয় দিও না এভাবে অনেকদিন কেটে গেল ।একদিন ও আমাকে বলছে আমি যদি কখনো বিয়ে করি তাহলে তোমাকেই করবো বলাই আমি রেগে গিয়ে ওকে বলি তোকে বিয়েতো দুরের কথা তুই যে এলাকেয় বিয়ে করবি আমি ওই এলাকায় ভুলকরেও পা দিব না । একথা শুনে সে কাদতে কাদতে চলে গিয়েছিল । অথচ তার কথায় ঠিক হল সে আমার বউ আজ ।
আমিঃ দেখ রিমা আমি তোকে এখনও সেভাবে ভাবিনা ।
রিমাঃ তাহলে বিয়ে করলা কেন ?
আমিঃ আব্বু আম্মুর কথায় । আমি তোকে কোনোদিনও আমার বউ এর জায়গা দিতে পারব না ।
রিমাঃ সত্যি আমি তোমকে অনেক ভালোবাসি কাঁদছে আর বলছে ।
আমিঃ আমার ঘুম আসছে আমি ঘুমাব তুইও ঘুমা । এই বলে একটা বালিস আর চাদর নিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পরলাম । ঘুম আসছে না কোন দিন ফ্লোরে শুয়ে অভ্যাস নাই তাই । তাও কোস্ট করে ঘুমালাম ।
এভাবে তিন চারদিন চলে গেল আমার ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় আমাকে ফিরে যেতে হবে কাল থেকে আমার অফিস যেতে হবে তাই চলে আসতে হল কিন্তু গেলাম একা আর আসছি আব্বু আম্মুর জোর করে বিয়ে দেওয়া বউ নিয়ে । ঢাকায় ফিরে এসে দেখি বাসায় কিছুই নেই তাই বাজারে গিয়ে মাংস আর কিছু সবজি কিনে বাসায় আসলাম । রাতে রিমা রান্না করে টেবিলে খাবার রেখে ডাকছে খাবার খাওয়ার জন্য । আমি উঠে গিয়ে খাবার খেয়ে এসে ফ্লোরে শুয়ে আছি রিমা বলছে আমি দোষ করেছি কিন্তু খাটতো দোষ করেনি । আমি ফ্লোরে শুচ্ছি তুমি খাটে আসো । কোন কথা না শুনে গুমিয়ে পড়লাম । সকালে রিমার ডাকে আমার ঘুম ভাঙল । উঠে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে অফিসে গেলাম অফিস থেকে একটু দেরি করে আসলাম দেখি রিমা না খেয়ে বসে আছে । আমার জন্য তুই কেন না খেয়ে আছিস আমি খেয়ে এসেছি খেয়ে শুয়ে পর রিমা না খেয়ে শুয়ে পরল । সকালে রিমার ডাকে ঘুম ভাঙল রিমার দিকে তাকিয়ে আছি চোখ ফেরাতে পারছি না মনে হচ্ছে রিমার মায়ায় জড়িয়ে পরেছি ? কিন্ত আমার কি মন হল ওর সাথে ঝগড়া করে না খেয়ে অফিসে চলে গেলাম । অফিসে কেন জানি মন বসছে না রিমার কথা ভাবছি ......রিমা আমাকে কত ভালোবাসে কিন্তু আমি তাকে অবহেলা করছি ......এসব ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে বাসায় ফিরে আসলাম এসে দেখি সকালে যেমন অবস্থা ছিল তাই আছে তারমানে রিমা কিচ্ছু খায়নি সারাদিন । রিমাকে ডাকদিলাম রিমা কথা বলছে না আমি রিমাকে বলছি খাওনি কেন সারাদিন রিমাঃআমার ইচ্ছা হয়নি তাই খাইনি তাতে তমারকি?
আমিঃ তুমি অসুস্থ হলে কে আমাকে রান্না করে দিবে হুম ?
রিমাঃ নিজে রান্না করে খাবে আগে কেমন করে খেতা ? 
আমিঃ তাহলে তোমাকে কেন বিয়ে করেছি ?
রিমাঃ............
আমিঃ ঘুমাও তাহলে আমিও খাব না...এই বলে কাপড় চেঞ্জ করে শুয়ে পড়লাম ...
সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি রিমা আমার বুকে মাথা দিয়ে ফ্লোরে শুয়ে আছে আমি ওর মাথা সরাতে গিয়ে ওর কপালে হাত দিয়ে দেখি রিমার গায়ে অনেক জ্বর তাই আরকিছু বললাম না শুয়ে থাক কিছুক্ষন । কেন যেন ওর প্রতি মায়া জন্মাল তাই ওর কপালে একটা চুমু এঁকে দিয়ে ওর মুখের দিকে তাকচ্ছি আর ভাবছি কত সুন্দর ওর চখ কত সুন্দর ওর নাক ঠিক যেন আমি যেমন টা চেয়ে ছিলাম । খেয়াল করলাম রিমা আমার দিকে তাকাচ্ছে । আমি বললাম তোমার গায়ে কত জ্বর আমাকে বলনি কেন ? রিমা আমাকে বলছে আমার সবকিছুই তোমার তুমি আমাকে মেরে ফেল কিন্তু এভাবে কোস্ট দিও না এভাবে অবহেলা কর না প্লিজ এ বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে আমি আর থেমে থাকতে পারলাম না ওকে জড়িয়ে ধরলাম । কিছুক্ষন পরে ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম । ঔষধ কিনে ওকে নিয়ে বাসায় আসলাম । সেদিন আমি ফ্লোরে শুতে যাব তখন রিমা আমাকে কাঁদতে কাঁদতে বলছে প্লিজ খাটে আসো আর ফ্লোরে থেক না আমাকে আর আমাকে কোস্ট দিওনা ওর কথা শুনে আমার এখন নিজেকে অপরাধি মনে হচ্ছে । তাই উঠে গিয়ে ওর পাশে শুলাম রিমা আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পরেছে আমি শুয়ে শুয়ে ভাবছি আমার আম্মু আব্বুর উপর রাগ করে রিমাকে কেন কোস্ট দিচ্ছি আমি আর রিমাকে কোস্ট দিব না এখন থেকে রিমাকে আমি আমার বুকে আগলে রাখব এসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পরেছি জানি না । পরেরদিন সকালে ঘুম থাকে উঠে দেখি রিমা টিভি দেখছে । তাই ভাবলাম রিমার সাথে একটু মজা করি ...যেই ভাবা সেই কাজ রিমা...রিমা...এই রিমা কি রান্না করেছিস ? রিমা কোন কথা বলছে না এভাবে অনেক ভাবে ডাকলাম শুনল না । এবার বলছি রিমা যানু একটু শুনোত কথা টা বলতে দেরি কিন্তু রিমা আসতে দেরি করল না ।
রিমাঃ কি বলছ ?
আমিঃ কি রান্না করেছ সোনা ?
রিমাঃ ভাত আর ডিম ভাজি ।
আমিঃ এসব খাব না।
রিমাঃ কেন?
আমিঃ এসব খেতে ভালোলাগে না । 
রিমাঃ আর কিছু নাইত বাসায় ?
আমিঃ খেতে পারি এক সর্তে ?
রিমাঃ কি সর্ত ?
আমিঃ একটা পাপ্পি দিতে হবে ?
রিমাঃ এত বাহানা কর কেন ? সরাসরি বললেই তো হয়? 
আমিঃ দাও তাহলে...
রিমাঃ উম্মমাহ...
আমিঃ Thank you.....
আমি খেয়ে অফিসে গেলাম । অফিসে যেন ভালই লাগছে না শুধু রিমার কথা মনে পরছে তাই বস কে বলে দূপুরে বাসায় চলে আসলাম । কলিং বেল… টিং টং রিমা দরজা খুলল……
রিমাঃ তুমি এখন ? 
আমিঃ হ্যা আমি । 
রিমাঃ অফিস থেকে চলে আসলা যে ? 
আমিঃ তোমাকে ছাড়া ভালো লাগছিল না তাই চলে আসলাম ।
রিমাঃ মিথ্যুক…
আমিঃ সত্যি বলছি ।
রিমাঃ টেবিলে খাবার দিচ্ছি…ফ্রেশ হয়ে খেতে আসো…
আমিঃ ঠিক আছে ।
এরপর খেয়েদেয়ে দুইজন মিলে বিকালে অনেক ঘুরলাম রেস্টুরেন্টে খেয়ে বাসায় আসলাম দুজনে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম । আমি রিমাকে বলছি আমি তোমাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি রিমা আমি মনে মনে যেমন বউ চেয়ে ছিলাম ঠিক তেমনি বউ পেয়েছি আল্লাহ আমার কথা শুনেছেন এ কথা শুনে রিমা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল । আমি ওকে বলালম তুমি আমাকে কোন দিন ছেড়ে যাবেনা তো কোন দিন রিমা বলল মৃত্যুই একমাত্র আমাদের আলাদা করতে পারবে তাছারা কেও পারবে না আমাদের আলাদা করতে……
এভাবে চলা শুরু হল তাদের জীবনের পথ চলা । সুখে থাকুক রিমন আর রিমা……বেঁচে থাকুক তাদের ভালোবাসা ।

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ভালোবাসার মৃত্যু

--নাহিদ, এখন থেকে আর আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করোনা 
--কেন সাদিয়া ? আমি কি করেছি ? 
-- তুমি বেকার। কোনো চাকরি করো না। 
--তুমি তো আমার সবকিছু জেনেই আমার সাথে সম্পর্ক করেছিলে ? 
--তখন আবেগ ছিল কিন্তু এখন নেই। আর আমি এসব বাদ দিয়ে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ দিতে চাই। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। 
--তুমি এতে খুশি হবে ?
--হ্যাঁ হবো। আর যোগাযোগ করার চেষ্টা করোনা। 
--ধন্যবাদ সাদিয়া । ভালো থেকো।
--তুমি আমার সাথে আর যোগাযোগ করার চেষ্টা না করলেই খুব খুশি হব।
নাহিদ আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না সেখানে। হঠাৎ করে সাদিয়ার এমন কথায় সে স্তব্ধ। আসলে সাদিয়ার কথাগুলোই সত্যি। নাহিদের পরিবারের অবস্থা তেমন ভালো না। তার আব্বু এক সময় অনেক বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে স্ট্রোক করায় ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে অনেক কষ্টে পরিবার চলছে। 
,
পাবনার আমিনপুর নামক একটি গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। দুই ভাই, মা ও অসুস্থ বাবাকে নিয়ে পরিবার। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। তাই তার উপর আলাদা একটা চাপ রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই খুব মেধাবী আর সাহসী। একমাত্র স্বপ্ন দেশের জন্য কিছু করা। সাহসী হলেও লাজুক স্বভাবের। আর মেয়েদের সামনে গেলেই তো হয়ে গেল। তাই মেয়েদের থেকে ১০০ হাত দূরে থাকতো। ভুলেও সামনে যেতো না।
,
উচ্চ মাধ্যমিকে স্থানীয় কলেজে ভর্তি হওয়ার পর নিয়মিত কলেজ যেতো। ঝড়-বৃষ্টি কিছুই আটকাতো না। পড়াশোনার প্রতি খুবই মনোযোগী ছিলো। তাই কোনো ক্লাসই বাদ যেত না। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আর প্রাইভেট ও পড়ার সুযোগও নাই। তাই ক্লাসই একমাত্র সম্বল।
একদিন সকাল থেকেই খুব ঝড় হচ্ছিল। কিন্তু ঝড়ের মধ্যেও সে কলেজে উপস্থিত। এসে দেখে কয়েকজন ছাত্রী ছাড়া কেউই আসেনি। কিভাবে একা একা এদের সাথে ক্লাস করবে ? পরে গেলো মহা বিড়ম্বনায়। কিন্তু ক্লাস তো ফাঁকি দেওয়া যাবে না। তাই মনটা খারাপ করে বসে রইলো। 
হঠাৎ একটা মেয়ে এসে বললো -
-- এই নাহিদ, কেমন আছো ? 
-- আপনি আমাকে তুমি করে কেন বলছেন ? এর অধিকার কি আপনাকে দিয়েছি ? 
-- একই সাথে পড়ি তুমি করে বললে সমস্যা কি ?
-- আমি কি আপনাকে চিনি যে তুমি করে বলবেন ?
-- আচ্ছা, আমরা বন্ধু হয়ে যাই। তাহলে তো তুমি করে বলতে পারবো ? 
-- একটা মেয়ে আর একটা ছেলে কখনও বন্ধু হতে পারে না ?
-- কে বলেছে ? কেন পারেনা ?
-- বন্ধু হলে কেউ না কেউ প্রেমে পড়বে। আর আমি তা চাইনা। 
-- এরকম কিছুই হবেনা।
-- আচ্ছা যাই। ক্লাস শুরু হয়ে যাচ্ছে।
এভাবেই প্রথম দেখা হয়েছিল । কিন্তু প্রথম আলাপে কেউ কারো সাথে তেমন পরিচিতই হতে পারলো না।
,
তারপর প্রতিদিন অল্প অল্প কথা হতো । একসময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভালো বন্ধু হয়ে যান। বন্ধু বললে কম হবে। তার চেয়েও বেশী কিছু। একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতেই পারতো না। ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা, পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা নিয়মিত হতো। একজন কলেজে না আসলে অন্যজন চিন্তায় অস্তির হয়ে যেতো। এতো কিছুর পরও নিয়ম করে প্রতিদিন একবার ঝগড়া হতো। কিন্তু তার স্থায়িত্ব কয়েক মিনিট। দিন অনেক ভালোই চলছিলো। 
,
একই উপজেলার কাশিনাথপুর গ্রামের এক উচ্চবিত্ত পরিবারের একমাত্র মেয়ে মেয়ে সাদিয়া। দেখতে পূর্নিমার চাদেঁর মতো। কিন্তু একটু রাগী। যে ভয়টার জন্য বন্ধুত্ব করতে চাইছিল না সেটাই হয়েছে। সাদিয়াকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিছু একই বয়সে তো ভালোবাসার শুভ সমাপ্তি সম্ভব না। যখন মেয়েটার বিয়ের কথাবার্তা চলবে তখন তো সে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকবে। আবার যদি ভালোবাসার কথা বলেন বন্ধুত্ত্ব নষ্ট হতে পারে। তাই ভালোবেসেও কখনও প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিলো।
দূর থেকে কি ভালবাসা যায়না ?
,
প্রতিদিনের মতো ক্লাসের ফাঁকে সাদিয়ার সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো। হঠাৎ সাদিয়া বললো-
-- নাহিদ, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে 
-- কি কথা?
-- আগে বলো রাগ করবে না ?
-- রাগ করার মতো হলে করব। তুমি বলো ?
-- না বলো রাগ করবে না ? 
-- আচ্ছা, করবো না! 
-- আমি তোমাকে ভালোবাসি।
-- কি? মাথা খারাপ হয়েছে ?
-- হ্যাঁ খারাপ। শুধুমাত্র তোমার জন্য।
-- বন্ধু আছো বন্ধুই থাকো। এর চেয়ে বেশি আশা করো না। এখন যাই।
যা ঘটেছিল প্রত্যাশিত ছিলো না। সাদিয়া তাকে ভালোবাসে এটা তার কল্পনার বাইরে। ভালোবেসেও ফিরিয়ে দিয়েছিলো। প্রথমত উচ্চবিত্তের একমাত্র মেয়ে। মধ্যবিত্ত ছেলের সাথে বিয়ে দিবে না। আবার সমবয়সী। সম্পর্কের শুভ সমাপ্তি সম্ভব নয়। 
,
কিন্তু সাদিয়া কিছুতেই মেনে নিচ্ছিলো না। সারাজীবন অপেক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। দুই পরিবারকে রাজি করার দায়িত্ব নেয়। রাজি না হলে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে । 
কিন্তু কয়েকদিনের জোরাজুরিতে রাজি না হয়ে পারলো না। শুরু হয় ভালোবাসার নতুন এক অধ্যায়। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দেওয়া। পার্কে একসাথে ঘুরতে যাওয়া, ফুসকা আর আইসক্রিম খাওয়া, সারারাত জেগে কথা বলা নিয়মিত রুটিনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এভাবে চলে যায় দুইটা বছর। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হয়ে যায়। 
,
কিন্তু সময় পাল্টায় সাথে সাদিয়াও। আগের মতো কথা বলেনা। দেখা করতে চাইলে নানা অজুহাত দেখায়। কল দিলে ধরে না। রিং হতে হতে কেটে আসে। ভুলেও নিজে কল দেয়না। যদি কোনো সময় কল ধরে একটু কথা বলেই রেখে দেয়। নিজ থেকে কোনো সময় যোগাযোগ করে না। কিন্তু এই সাদিয়া একসময় সারারাত ঘুমাতে দিতো না। কিছুক্ষণ পর পর কল দিতো। অনেক খেয়াল রাখতো। কিন্তু এখন সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। গভীর রাতেও কল দিলে ব্যস্ত দেখাও। অনেক দিন দেখা হয়নি। অনেক করে অনুরোধ করায় পার্কে দেখা করতে এসেছিলো। আর এসেই এতোদিনের সম্পর্ক ভেঙে দিলো।
.
কয়েক বছর পর...
.
সেদিনের বেকার নাহিদ আজ মেজর জেনারেল নাহিদুল ইসলাম। সেনাবাহিনীর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বাড়ি-গাড়ি, অর্থ,সম্মান কোনো কিছুর কমতি নেই। তবে শান্তি অনুপস্থিত। জানে সাদিয়া ফিরবে না। তবুও অপেক্ষায় আছে। প্রতি বছর দুই ঈদে সাদিয়ার জন্য শাড়ি সহ অনেক কিছু কিনে। যখন মন চায় তখনই উপহার কিনেন। কিন্তু তা আর দেওয়া হয় না। জমিয়ে রাখে।
,
তবে সাদিয়া জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিল। সফলও হয়েছে। আজ ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা। এখনও বিয়ে করেনি। হয়তো তাদের পছন্দমত ভালো বর খুঁজে পাচ্ছে না। উচ্চ শিক্ষিত, সুশ্রী চাকরিজীবী কন্যার জন্য উপযুক্ত বড় পাওয়া খুবই মুশকিল।
,
একদিন রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হঠাৎ অপরিচিত এক নাম্বার থেকে নাহিদের ফোনে কল আসলো। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে-
--হ্যালো নাহিদ? 
--জ্বী, আপনি কে বলছেন?
-- সাদিয়া
-- সাদিয়া, এতদিন পর কিভাবে মনে হলো?
-- কেমন আছো?
-- বেচেঁ আছি
-- ভালো নেই ?
-- ইচ্ছা বা কারণ কোনটাই নেই 
-- কাল দেখা করতে পারবে?
-- কেন?
-- খুব দেখতে ইচ্ছে করছে?
-- কেন?
-- দেখা করবে না? 
-- কোথায় ? 
-- সেই পার্কে, বিকাল ৫ টায় অপেক্ষা করব
-- হুম
-- এখন রাখি
-- হুম
সাদিয়ার কলটা প্রত্যাশিত ছিলো না। কিন্তু অজানা কারনে এতদিন পর কথা বলার সুযোগ পেয়েও কথা বলতে পারেনি। 
,
এতদিন দিন পর সাদিয়া দেখা করতে চায়। কিন্তু কেন ? এমন প্রশ্ন মনে আসে। পরের দিন সময়মতো দেখা করতে যায়।
তখন সাদিয়া বলে-
-- আমাকে ক্ষমা করে দাও
-- তুমি কি অপরাধ করেছো যে ক্ষমা চাইছো? আর আমি ক্ষমা করার কে?
-- তোমাকে অপমান করে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু বিশ্বাস কর আমি সত্যিই অনেক ভালোবাসি। প্রতিটা মূহুর্ত তোমার জন্য কেঁদেছি। 
-- এতদিন কোথায় ছিলে ? আজ আমি বেকার নই, আগের মতো দরিদ্র নই তাই তোমার ভালবাসা ফিরে এসেছে ?
-- না, আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভুল বুঝতেছ 
-- যদি বেকার থাকতাম? তখন কি ফিরে আসতে?
-- এরকম কেন বলছো? ভালোবাসি তাই ফিরে এসেছি 
-- তোমার উপযুক্ত বর পাওয়া যাচ্ছে না তাই ফিরে এসেছো। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি কখনও বিয়ে করব না। চলে যাও।
-- প্লিজ ভুল বুঝে দূরে সরিয়ে দিও না
-- কাজ আছে যেতে হবে। ভালো থেকো।
উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে চলে আসলো। আর সাদিয়া চিৎকার করে কাদতে শুরু করল। নাহিদের চোখেও জল। সামনাসামনি কথা বলতে পারবে না তাই কাজের অজুহাতে চলে এসেছে।
সে মেয়েকে খুব বেশি ভালোবাসে। কিন্তু মেয়েটি ফিরে আসায় তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়েছে। যখন বেকার ছিলো, টাকা-পয়সা ছিলো না তখন চলে গেছে। আজ ভালো চাকরি করে অনেক টাকা- পয়সার মালিক হয়েছে। তাই মেয়েটাও ফিরে এসেছে। মেয়েটা তার জন্য ফিরে আসেনি, এসেছে তার চাকরি আর টাকার জন্য। তাই ভালোবেসেও লোভী মেয়েটাকে ফিরিয়ে দিতে সারাজীবন একা থাকার প্রতিজ্ঞা করেন। 
,
অতঃপর .. মেয়েটার লোভের কারণে ঘটে এতোদিনের লালিত ভালোবাসার মৃত্যু ..!!
.

তিনদিনের ভালবাসা ও বউ

এখন রাত অনেক। ঘরে ঢোকার জন্য দরজায় টোকা
দিচ্ছি। কিন্তু খোলার নাম নাই। দরজা টান দিয়ে
দেখলাম ভেতর থেকে লক করা। একোন মসিবতে
পড়লাম আল্লাহই ভাল জানে। আজ থেকে নাকি
আমার ঘরের সমস্ত জিনিসের ভাগ অন্যজনে নেবে।
আমার খাট, আলমারি, টেবিল, ফ্রিজ, টিভি এমনকি
আমার সাধের ডেস্কটপটাও। সব কিছুতেই সে হাত
বসাবে। এমনিতেই আমি একটু বেশিই স্বার্থপর
টাইপের। আমার কোন জিনিসে কাউকে ভাগ বসাতে
দেই না। আমার ছোট ভাইকেও এই অপরাধে ঘর থেকে
বের করে অন্যঘরে পাচার করে দিয়েছি। আমার
সাথে খাট শেয়ার করত। এইটুকুও আমার সয় নি। তাই
তারে আমার টাকায় কেনা একটা খাট দিয়ে তাকে
আলাদা করে দিয়েছি। শুধু খাটই না। সবকিছুই
দিয়েছি যাতে আমার জিনিসে ভাগ না বসায়। আর
আজ কি না আমার যাকিছু আছে সবকিছুতেই সে ভাগ
বসাবে। এমনকি আমার মাটির গড়া শরীর ও নরম
মনটাও নাকি তার। হায় আল্লাহ! তাহলে আমার রইল
কি? একোন মসিবতে আমাকে ফেললা?
যে আমার সবকিছুতে ভাগ বসাবে সে আর কেউ নয়
একটা মেয়ে, আমার বউ। আরেকটু গভীর ভাবে বললে
আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, মামাতো বোন।
সদ্য বিয়ে করা স্বামী স্ত্রী আমরা। একদম নতুন।
কিছুক্ষণ আগে বিয়ে করে বউরে বাসায় নিয়ে
আসলাম। বউ ভিতরে আছে আর আমি বাইরে। মানে
বন্ধু বান্ধবদের বিদায় জানাতে একটু দেরী হয়ে
গেছে। এসে দরজার জিঞ্জীর ধরে নাড়া দিলাম।
দরজায় টোকা দিলাম। কিছুই টের পাচ্ছি না।
নিশ্চয়ই বউ ঘুমিয়ে গেছে। নাহলে এত্তক্ষণ ধরে
ডাকতেছি। দরজা খোলছেই না। এখন উপায় কি হবে
আমার? সারারাত কি এভাবেই দাড়িয়ে থাকব? খুব
ক্লান্ত হয়ে গেছি ঘুমাতে হবে। ঢুকতেই পারছি না
ঘুমাব কেমনে?
লাষ্ট চেষ্টা করে দেখলে মন্দ হয় না। আবারো
দরজায় নক করলাম। তবে এবার বেশ জোরে। খট করে
দরজা খুলার শব্দ হল। কিন্তু খুলল না।
:- এই হয়েছেটা কি? এভাবে দরজায় নক করছেন কেন?
:- ঢুকব তাই।
:- ঢোকা নিষেধ।
:- আমার ঘরে আমি ঢুকব। নিষেধ করার আপনি কে?
:- আমি কে? তাতো আপনার অজানা না।
:- ভিতরে ঢুকতে দেন।
:- না দেব না। আগে আমার কথার কিছু জবার দিতে
হবে।
:- আমি বাধ্য নই।
:- তাহলে ঘরে ঢুকতে দিতে পারলাম না। থাকেন
বাইরে।
মুখের উপরে দরজা লাগিয়ে চলে গেল। দরজা মারাই
ছিল তবে খিল দেওয়া ছিল না। আর তখন এসে খিল
খুলেছিল। দরজার পাট্টা খুলে নি।
আমি কি করব? নিরুপায় হয়ে বারান্দায় রাখা
বেঞ্চে বসে পড়লাম। হেলান দিয়ে বসাতে একটু
তন্দ্রা চলে আসল। চোখ বুজে পড়ে রইলাম। হায়রে
কেমন কপাল আমার! মানুষে বিয়ে করে বিড়াল
মারে আর আমি বাইরে বসে মশা মারি। কতক্ষণ
এভাবে শুয়ে ছিলাম জানি না। আযানের শব্দে ঘুম
চলে গেল। অনেকদিন হয় আযানের সময় সজাগ পাই
না। আজ পেলাম। এখনো বিয়ের পোশাক চেঞ্জ করি
নি। রশিতে থাকা একটা লুঙ্গী আর পাশের রুমে
থাকা ছোট ভাইয়ের পাঞ্জাবী নিয়ে বাথরুমে
গেলাম। ফ্রেশ হয়ে পাঞ্জাবী পড়ে মসজিদে চলে
গেলাম। টুপি পাই নি। তাতে কি! মসজিদে পাব
নিশ্চয়ই। নামায পড়ে ফিরে এলাম। মনটা বেশ
ফুরফুরে লাগছে। সকালের পরিবেশ দেখে মনে
হচ্ছে
কিছুদিনের মাঝেই শীত চলে আসবে। সকালটা
শীতের সকালের মতই মনে হচ্ছে। এসে দেখি
রুমের
দরজা খোলা। ভিতরে গিয়ে দেখলাম বউ বাথরুমে
ঢুকেছে। আমিও পাঞ্জাবী ছেড়ে বিছানায় বসলাম।
কিছুক্ষণ পর ও বের হল। ভাবলাম আমাকে কিছু বলবে
কিন্তু কিছুই বলল না। আমি একটু অবাকও হলাম বটে।
যেই বউ রাতে ঘরে ঢুকতে দিল না। সেই বউ এখন কিছুই
বলছে না। স্ট্রেঞ্জ! এত তাড়াতাড়ি পরিবর্তন? হাউ
ইজ ইট পসিবল?
যাহোক। আমি পা সোজা করে টানটান হয়ে শুয়ে
পড়লাম।
.
বাথরুম থেকে গোসল করে একটা কালো কাপড়
পড়েছে। কাপড়টি চিনতে আমার ভুল হয় নি। কাপড়টি
আমার
ওয়্যারড্রোবে ছিল একটা প্যাকেটে। সেখানে ওই
কাপড়
ছাড়া যা ছিল সবই আমার পরিধেয়। মানে সবই
জেন্টস
পোশাক আর ঐ একটা মাত্র কাপড়ই লেডিস পোশাক।
কয়েকদিন আগে কিনে এনে রেখে দিয়েছি। কি
মনে
করে যেন শুয়া থেকে উঠে গিয়ে ওয়্যারড্রোবের
কাছে গেলাম। ওখানে দেখলাম আরো কিছু লেডিস
পোশাক। তার মানে অন্যকেউ এসে বাকী গুলো
দিয়ে
গেছে। যেহেতু আমি বাড়ি ছিলাম না সেহেতু দেখি
নি
কে দিয়ে গেছে। যাকগে, যার মন চাইছে সে দিয়ে
গেছে।
৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭০................ । কি ভাই অবাক হলেন?
হইয়েন
না। সব বলতেছি।
মেয়েটা ড্রেসিংটেবিল এর সামনে একটা টোলে
বসেছিল সাজুগুজু করার জন্য। তার দীর্ঘ কৃষ্ণকায় ও
দীঘল
কালো চুলগুলো পিঠের উপরে কাপড়ের উপর দিয়ে
ছেড়ে দিয়েছে। সেই চুলগুলো কয়েক ইঞ্চির
ব্যাবধানে মাটি স্পর্শ করতে পারে নি। এই প্রথম এত
লম্বা
চুল দেখলাম কোন মেয়ের। চুলগুলো ভিজা ছিল।
একত্র
করে মুঠো করলেও। মুঠখানি চুলে ভরে যাবে। সেই
ভেজা চুল বেয়ে বেয়ে পানি নিচে টুপটুপ করে
পড়ছিল।
আর এভাবে এক থেকে শুরু করে সত্তর বার পর্যন্ত
পানির
ফোটা গুনতে ছিলাম। এখনো টুপটুপ করে পড়তেই
আছে। সব দোষ আপনাদের। গল্প শুনাতে গিয়ে আর
গুনতে পারলাম না। এতক্ষণে মনে হয় একশো ছাড়িয়ে
গেছে। আবার শুরু করি ১০১, ১০২, ১০৩, ১০৪........... । এর
পরে আর বেশী গুনতে পারি নি। ১১০ পর্যন্ত
পারছিলাম।
তখন দেখি হাতে একটা তোয়ালে নিয়ে মাথা মুছতে
লাগল।
এটা আমার মোটেই ভাল লাগল না। টুপটুপ করে পানি
পড়াটাই
ভাল লাগছিল। সে হয়তো খেয়াল করে নি যে আমি
এই
দৃশ্য দেখতেছি। আমার খারাপ লাগছিল তাই পাশ
ফিরে শুয়ে
পড়লাম। পাশ ফেরার সময় ড্রেসিং টেবিলের
আয়নায় ওর
চোখে আমার চোখ পড়ে। চেহারা দেখেই বুঝে যায়
আমার মনটা খারাপ।
একটা বিষয় হচ্ছে গিয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ কারো
সাথে কথা বলি নি। সেই লাষ্টবার কথা বলেছি
রাতে। এত্তক্ষণ
হয়ে গেল কথা বলি নি।
আমি তার নাড়াচাড়ার শব্দ শুনে স্পষ্ট বুঝতে
পারছিলাম। এদিকে
ঘুরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমিও টার্ন অন হয়ে এদিক
ফিরে শুইলাম।
ফিরে দেখলাম। চুলে কয়েকটা ক্লিপ ও কাকড়া
আটকিয়েছে। চুলগুলো লম্বা করে ছেড়ে দিয়েছে।
খুব সুন্দর লাগছিল চুলগুলো। লম্বা চুল বলতেই আমি
পাগল।
সে একটু আড় হয়ে বসল। যাতে কাঁচে আমাকে দেখা
যায়
বা আমি ওর চেহারা স্পষ্ট দেখতে পারি। বসে বসে
সাজতেছিল আমি হা করে চেয়ে চেয়ে দেখতেছি।
যেগুলো ইউজ করলে বাজে দেখায় তখন আমার খুব
খারাপ
লাগে। সে আমার চেহারা দেখেই বুঝে যায়। খারাপ
লাগে
তাই সেটা আর ইউজ করে না। এইভাবে অনেকক্ষণ
ধরে
চললসাজুগুজুর ব্যাপার। এইবার যা করল তা আমাকে
কাছে টানার
স্পষ্ট ইঙ্গিত। শাড়ির কুচি কিছুতেই ঠিক করতে
পারছে না।
বেশ কয়েকবার ট্রাই করছে কিন্তু পারছে না। মনে
মনে
হয়তো ভাবছে আমি এগিয়ে যাব ওর শাড়ি ঠিক
করতে। কিন্তু
আমি তা করিনাই। খাট থেকে উঠে অন্যরুমে গিয়ে
পায়জামা
আর পাঞ্জাবী পড়ে নিলাম।
.
সবে মাত্র কাল আমাদের বিয়ে হয়েছে। আজকে
অনেকেই আসবে আমার বউ দেখতে। তাই দুজনেই
রেডি হলাম।
বিভিন্নরকম ব্যাস্ততা নিয়ে সারাদিন কেমনে পার
হল কিছুই
বুঝলাম না। রাতে শুয়ে আছি। পাশ থেকে বউ বলল।
:- কিরে এভাবেই চুপচাপ থাকবি নাকি কিছু বলবি?
:- কি শুনতে চাও?
আমার তুমি করে বলা দেখে ও হয়তো বুঝে গেল। এখন
আর বেস্ট ফ্রেন্ডের সম্পর্ক নাই। এখন বরং স্বামী
স্ত্রীর সম্পর্ক। এই সম্পর্কে তুই করে বলা মানায় না।
তাই
সে পরবর্তীতে তুমি করেই রিপ্লাই দিল।
:- কাল রাতে কই ছিলা?
:- সেটা জানার কি খুব দরকার?
:- আমি তোমার বউ। সব জানার অধিকার আমার
আছে।
:- বাইরে ছিলাম।
:- ঘর রেখে বাইরে কেন?
:- তাতো তুমি ভাল করেই জান।
:- ওহ। ঢুকতে দেই নি বলে? তা আজকে কি আমাকে
বের করে দিতে খুব ইচ্ছা করছে?
:- মোটেই না। প্রয়োজন হলে আমি চলে যাব।
:- এত গোস্যা কেন তোমার?
:- ছোট বেলা থেকেই আমি এমন। তা তুমি আগে
থেকেই জান।
:- একবারো কি জিজ্ঞেস করবার ইচ্ছা করল না। কেন
ঢুকতে দেই নি।
:- কেন?
:- তোমার লুচ্চামি স্বভাবের জন্য। আচ্ছা বিয়ের
আসরে
বসে ঐ সুন্দরীদের দিকে ড্যাব ড্যাব করে
তাকিয়েছিলে কেন?
:- তাকাব না কেন? প্রতিদিন ই কি এক সঙ্গে এত
সুন্দরী
দেখতে পারব?
:- এই জন্যই তোমারে লুচ্চা বলি। আমার দিকে
তাকাইলে কি
হইত? আমি কি চোখ উপরে নিতাম।
:- তোমাকে তো প্রত্যেকদিন দেখতে পারব। ওদের
তো একদিন দেখতে পারব। তাছাড়া সুযোগ টা কি
মিস করা
যায়?
: এই জন্যই বিয়ের প্রথম রাতই বাইরে কাটাতে
হয়েছে।
:- কোন সমস্যা নাই। আমি রাজি।
:- এই তোমার মাথা ঠিক আছে? কিসব উল্টাপাল্টা
কথা
বলতেছে।
:- হুম ঠিকই আছে। চলে যাব বাইরে?
:- ও আল্লাহ! কেমন জামাই আমার কপালে জুটাইলা।
বউ কি
জিনিস? বউয়ের আবদার কি জিনিস সেটাই বুঝে না।
আমি এর
সাথে কেমনে সংসার করমু?
:- সব সহ্য কর। পাবা।
:- ধুররররর। কিছুই ভাল্লাগেনা।
এই কথা বলেই সে উল্টোপাশ ফিরে শুয়ে পড়ল।
আমিতো মনে মনে লুঙ্গী ড্যান্স দিবার চাইতাছি।
কেননা
প্রথম রাতেই বউয়ের অন্যায় প্রশ্রয় দেইনাই। সেই
সাজা
সারাদিন পাইছে, এখনো পাচ্ছে। প্রথম রাতে এমন
টাইট না
দিয়ে যদি যা বলার রুমে নিয়ে বলত। তাহলে আজকে
এই
কাহিনী হয় না। আজকে অন্যকাহিনী হতে পারত।
হয়তোবা
রুমান্টিক কিছু হইত। আমি তো লুচ্চামি করার জন্য ঐ
মেয়েদের দিকে তাকাই নি। বউয়ের মন মানষিকতা
বুঝার
জন্য তাকাইছি। ঐ তাকানো আর আজকের কাহিনী
দিয়েই
বুঝে গেছি। আমার বউটা কোন মানষিকতার। এখন
ভবিষ্যতের
পথ চলতে আমার জন্য সহজ হবে। মেয়েদের দিকে
তাকানো যদি আমার অন্যায় হত তাহলে আমি
শাস্তি পেতাম।
কিন্তু আমি পাই নি। আমাকে শাস্তি দিতে গিয়ে
সেই
পেয়েছে। সে আমাকে ভুল বুঝেছিল তাই। এখানে
আমার করার কিছুই নাই।
মেয়েদের দিকে তাকানোটা ছিল ওকে সঠিকভাবে
চেনার একটা চাল মাত্র। এক চালেই আমি সফল।
.
এইবার চলেন একটু পরিচয় করায়ে দেই। আমি তো
আমিই। আর আমার মামাতো বোন থুক্কু বউয়ের নাম
কল্পনা। গত পরশু আমাদের শাদি মোবারক অনুষ্ঠিত
হইছে। আমার দিক থেকে আমি মধ্যবিত্ত বাবা
মায়ের বড় সন্তান। আমি নির্দিষ্ট কোন কিছু করি
না। তবে যাই কিছু করি না কেন আমার পরিবারের
পেট ভাত চলে। দিন এনে দিন খেলেও খুব সুন্দর
ভাবে সংসার চলে। কারো কোন অভিযোগ নাই।
আর কল্পনার দিক থেকে ওরা তিন বোন। ওই বড়। তার
মানে আমার শালি দুই খান। অবশ্য বড় শালিটা বেশী
একটা সুবিধার না। আমার ভাইটাও বেশী সুবিধার
না। খালি বেয়াইনদের সাথে ফিল্ডিং ( পিরীত )
মারবার চায়। কিন্তু পেরে উঠতে পারে না। না
পারার প্রধান কারণ হল। আমার বড় শালি আমার
ভাইয়ের থেকে বড়। আর ছোট শালি আমার ভাইয়ের
থেকে অনেক ছোট। যার ফলে কোনটার সাথে
বেশী
সুবিধা করে উঠতে পারে না। যদি কোনটার সাথে
বয়সে মিল থাকত তাহলে কিছুদিন পরে দেখা যেত।
আমার ভাই আর ভাই নাই। হয়ে যেত ভায়রা ভাই।
যাইহোক কপাল ভাল। ভাই আমার ভাইই থাকব। এমনে
বিয়াই বিয়াইন ফাইজলামি করতেই পারে। কারো
কিছু বলার নাই।
.
কল্পনার সাথে কথা বলতে বলতে ঘুমাইয়া
পড়েছিলাম। আমি একটু বেশী ঘুম কাতুরে। শুইতে
দেরী মাগার ঘুমাইতে দেরী নাই।
.
সকালে দরজার ধাক্কায় ঘুম ভেঙে গেল। কে জানি
খুব জোরে ধাক্কা দিতাছে। টিনের দরজা বাতাসেই
যে শব্দ করে আর কেউ ধাক্কাইলে কেমন শব্দ হইব।
নিজেরাই বুঝে নিন। আমি উচু গলায় বললাম -
:- ওই কেডারে?
:- ভাইয়া আমি।
:- কি কস?
:- উঠবা না।
:- হ উঠমু।
:- ভাবিরে লইয়া তাড়াতাড়ি আস। সবাই অপেক্ষা
করতেছে।
:- আচ্ছা যা। আসতাছি।
.
পাশে তাকায়া দেখি কল্পনা ভেবোর ঘুম ঘুমাচ্ছে।
মনে করছিলাম আমিই বেশী ঘুমাই। কিন্তু এখন দেখি
সেও অনেক ঘুমায়। এই সকাল বেলায়ও দেখি নাক
ডেকে ঘুমায়। মাথায় দুষ্টুমি বুদ্ধির আবির্ভাব হল।
হঠাৎ করেই শুধু নাক চেপে ধরলাম। ত্রিশ সেকেন্ডের
মধ্যেই ধরফরিয়ে উঠে বসল। আর বলল,
:- এই ডাকাত। তুমি আমার নাক চেপে ধরছিলা কেন?
:- দুইটা কারণে।
:- কি?
:- এক, যেইভাবে নাক ডাকতাছিলা যদি বাইরের
কেউ শুনে তবে মান ইজ্জত যা আছে সব চলে যাবে।
দুই, তোমারে ডেকে তুললাম।
:- তা প্রথম কারণটা যুক্তিযুক্ত। কিন্তু দ্বিতীয়
কারণটা নিতান্তই অযৌক্তিক। নাক চেপে ধরেই
ডাকতে হবে? গায়ে ধাক্কা দিয়ে ডাকলেই তো
পারতে। না চেপে ধরার কারণে যদি মারা যেতাম?
:- না। মরতা না।
:- কেমনে?
:- তোমার মুখ তো চেপে ধরিনাই।
:- শয়তান ছেলে। সরো সাইড দাও। নামবো।
:- তুমি কি হাতি নাকি?
:- হাতি হতে যাব কেন? আমি তো দিব্বি একটা
মেয়ে মানুষ। আর তোমার বউ।
:- তাতো দেখতেই পাচ্ছি। তবে এদিকে যে পরিমান
জায়গা আছে সেই পরিমান জায়গা দিয়ে তুমি
অনায়াসেই খাট থেকে নামতে পারবে।
:- হু। পারব।
:- আমি কি অপেক্ষা করব?
:- কিসের?
:- খাওয়ার জন্য ডেকেছে। একাই যাব কিনা তাই
ভাবতেছি।
:- যাও একাই যাও। সবাই খারাপ বলবে।
:- কি জন্য?
:- সবাই বলবে নতুন বউ রেখে একাই খেতে চলে
এসেছে।
:- তুমি যে নতুন না সবাই জানে। আর আমি গেলাম
তুমি চলে এস।
:- হুম্ম যাও। স্বার্থপর একটা।
.
এই বলেই আমি দরজার দিকে পা বাড়ালাম আর ও
ফ্রেশ হবার জন্য গেল। কি মনে করে যেন আবার রুমে
ফিরে এলাম। পাঁচ মিনিট পরে বেরিয়ে আসল।
:- কি ব্যাপার তুমি যাও নি?
:- না।
:- তুমি না বললে চলে যাবে?
:- ঐ কথা বলেছিলাম কারণ তুমি যাতে বেশী দেরী
না করে তাড়াতাড়ি চলে আস।
:- তুমি আসলেই একটা ফাজিল।
:- তাহলে তো তুমি পেত্নী।
:- মশাই। ঘাড় মটকাব?
:- এই না না চল। খুব ক্ষুধা লাগছে।
:- এইতো আমার লক্ষ্মী জামাই।
:- ফেটে যাব আর পাম দিওনা গো।
.
কল্পনাকে নিয়ে খেতে আসলাম। চেয়ার টেনে
সামনা সামনি বসলাম। আমার প্রিয় কিছু রান্না
হয়েছে। ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে ঝোল। আর কুমড়ো
পাতা দিয়ে ইলিশ মাছের বড়া। আহ! কি স্বাদ। আর
কল্পনার পছন্দ হল কলিজা বোনা আর ছোট মাছের
চচ্চরি। কাউকে ঠকানো হয় নি। সবারটাই রান্না করা
হয়েছে। সবাই খুব আয়েশ করে ভাত খেলাম। তৃপ্তির
ঢেকুর তুলতে তুলতে রুমে আসলাম। কিছুক্ষণ পরে
সেও
আসল।
.
নতুন বিয়ে করেছি। বউ ছাড়া থাকতে মন চায় না।
বাইরে কিছুক্ষণের জন্য গেলেও মন টেকে না। খালি
বউয়ের কথা মনে পড়ে। বলতে পারেন আমি একটা বউ
পাগল। জাহিদ হাসানের বউ পাগল নাটকের মত আমি
কিন্তু বউ পাগল না। জাহিদ হাসান এর পুরোটা জুড়েই
শুধু তার বউ। বউ ছাড়া সে কিছুই বুঝে না। বউ ছাড়া
আমাকে অন্যকিছু বুঝতে হয়।
.
:- দুলাভাই। ও দুলাভাই।
:- কি হইছে শালীরা?
:- আপনাদের গ্রাম ঘুরে দেখব।
:- চল নিয়ে যাই।
:- না দুলাভাই। আপনি নতুন বিয়া করছেন না? আমরা
বরং বেয়াইরে লইয়া যাই।
:- তোমরা রেডি হও। আমি বান্দরটারে ফোন দেই।
:- ফোন দেন।
দিলাম ফোন। আকাম কুকামে একটু বিজি থাকে তো
তাই দ্বিতীয় বার রিসিভ করল।
:- কই তুই?
:- এইতো ভাইয়া।
কথাটা বলেই রুমে উকি দিল। কিন্তু লাইন তখনো
কাটে নাই।
:- হারামজাদা! দরজার পাশে থেকে ফোন রিসিভ
করস। আমার দুইটা টাকাই নষ্ট হইল।
:- দুইটাকার জন্য আমারে বকা দিলা?
:- টাকার জন্য দেই নাই। তোর বুদ্ধি দিন দিন লুপ
পাইতেছে সেই জন্য দিছি।
:- কি জন্য ডাকছ ভাইয়া?
:- তাগোরে লইয়া ঘুরতে যা। ওরা গ্রাম ঘুইরা দেখব।
:- এই তোমরা চল। ভাইয়া অনুমুতি দিয়ে দিছে।
:- এই খাড়া।
:- আবার কি হইল ভাইয়া?
:- আমি অনুমুতি দিছি মানে?
:- তোমার কাছে আসার আগে আমার কাছে গিয়ে
গ্রাম ঘুরে দেখার বায়না ধরল। আমি বললাম, ভাইয়া
আমারে বকা দিব। তোমরা যদি অনুমুতি লইতে পার
তাহলে আমার কোন সমস্যা নাই।
:- ওরে পাজিরে! তুই তাহলে নাটের গুরু?
:- হ।
.
আমি বিছানা থেকে নামতে নামতেই ও দৌড়ে
পালাল। আর আমাদের দুইভাইয়ের কীর্তি দেখে বউ
তো হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়তেছে।
:- এই তুমি আবার হাসতাছ কেন?
:- তোমাদের কান্ড দেইখ্যা।
:- তাহলে তো তুমি মইরা যাবা।
:- কেন?
:- এই কাহিনী কিছুই না। আরো কাহিনী দেখলে
হাসতে হাসতে দম আটকে মারা যাবা।
:- থাক। তাহলে আর ঐরকম কাহিনী করো না। পরে
যদি মারা যাই।
:- অবশ্য হাসলে মানুষ। সুস্থই থাকে।
.
কালকে আমাদের জামাই বউরে শ্বশুড়বাড়ি থেকে
নিতে আসবে। গ্রাম্যভাষায় যাকে বলে ফিরাফিরি।
তিনদিন পরে কল্পনার বাবার বাড়ি বা আমার
শ্বশুড়বাড়ি যাচ্ছি। বিয়ের পর প্রথম শ্বশুড়বাড়ি
যাওয়া। অন্যরকম একটা আমেজই থাকে। অবশ্য
বিয়ের আগে বহুবার গিয়েছি। তখন যেতাম মামার
বাড়ি আর এখন শ্বশুড় বাড়ি। নিশ্চয়ই আগের থেকে
এখন যত্ন অনেক বেশী করবে। যেহেতু মেয়ের
জামাই।
সকাল থেকে উঠেই আরম্ভ হল বউয়ের প্যারা।
বাপেরবাড়ি যাবার জন্য একেবারে উতলা হয়ে
গেছে। যেন তর সইছেই না। জিজ্ঞেস করতে খুব
ইচ্ছে
করছে। বাপের বাড়ি যাবার জন্য এতটান তাহলে
বিয়ে বসতে বলছে কে? কি দরকার ছিল বিয়ে বসার?
.
এই ফোন করে দেখনা রওনা দিয়েছে কি না? পথে
আসতে কোন অসুবিধা হল না তো? এইসব প্যাচাল
পারতে পারতে কান ঝালাপালা করে দিল।
আবার কিছুক্ষণ পরে এসে বলল। কোন শাড়ি পড়ব?
কোন গহনা গুলো পড়ব? কপালে কি টিপ দিব? দিলে,
কোন রঙের দেব? চোখে কি গাঢ় করে কাজল দিব
নাকি হালকা করে দেব? এইসব প্রশ্ন করছিল। আমি
খুব বিরক্ত বোধ করছিলাম কল্পনার এহেন প্রশ্ন করা
শুনে। কিন্তু মুখে বিরক্ত ফুটিয়ে তোলা যাবে না।
যতই বিরক্ত হই বুঝতে দেওয়া যাবে না। তাই এক
কথায়ই উত্তর দিলাম।
কল্পনা, তুমি এমনিই এক রমনী। যা পড়বে তাতেই খুব
সুন্দর মানাবে। তোমার যেটা খুশী পড়ে নাও।
খুশী মনে কল্পনা চলে গেল। ড্রেসিংটেবিলের
সামনে টোলে বসে সাঁজতে ছিল। আমি দেখছিলাম।
আর ও সেখানে বসেই আমাকে তাগিদ দিচ্ছিল যেন
আমিও তাড়াতাড়ি রেডি হই।
.
কিন্তু হচ্ছি না। মনটা খুব খারাপ। সবকিছু এলোমেলো
লাগছে। আমি খুব করে চাইছি যেন শ্বশুড়বাড়ি থেকে
লোকজন দেরী করে আসে। যদি শুনতাম আজ আর
আসবে না। কালকে বা অন্যদিন আসবে। তাহলে
সবচেয়ে বেশী খুশী হতাম।
.
ঐ ভাবে তাকায়ে আছেন কেন? আবার অবাক হয়ে
গেলেন? নাহ! আপনাদের নিয়ে পারি না। আচ্ছা
আপনারা গল্প শুনতে আসেন নাকি অবাক হতে
আসেন?
নিশ্চয়ই মনে মনে ভাবছেন। সবাই খুশী হয় আর আমি
শালা সেই দেবদাস যে কষ্ট পাচ্ছি। আরে ভাই কিছু
জানেন না। তাই হয়তো আমাকে দেবদাস ভাবছেন।
আগে জেনে নিন তারপর যা বলার বইলেন।
.
আসেন তাহলে এক সপ্তাহ পিছনে যাই। কি হয়েছিল
একসপ্তাহ আগে?
.
আমি আর কল্পনা মামাতো ফুফাত ভাই বোন। কবলে
পড়ে এখন স্বামী স্ত্রী।
.
কল্পনা ওর ভার্সিটির এক সিনিয়র ছেলেকে
ভালবাসত। একই ভার্সিটিতে মাষ্টার্সে পড়ত। আর
কল্পনা অনার্সে পড়ত।
আমার মামা ছিল একগুয়েমি টাইপের। নিজে যা
ভাল বুঝত তাই। মামি তো দূরের কথা কোন কোন
ক্ষেত্রে নানা নানির কথাও মানত না। এই যেমন
বিয়ের ক্ষেত্রেও মানে নি। মামা কোন এক মাধ্যমে
জানতে পেরেছিল কল্পনা প্রেম, ভালবাসায়
জড়িয়ে পড়েছে। তখনি তার মাথা নষ্ট। যেকরেই
হোক বিয়ে দিয়ে দেবে। দরকার হলে বিয়ের পরে
অনার্স শেষ করবে। তবুও প্রেমের বিয়ে মেনে
নিবে
না।
.
পজেটিভ দিক হল। মামা আমাকে খুব পছন্দ করত ছোট
বেলা থেকেই। উনিই একমাত্র মামা যিনি আমাকে
কাধ থেকে ফেলে দিয়ে ব্যথা দিয়েছিলেন। আমি
যখন ব্যথা পেয়ে কাদতে ছিলাম তখন তিনি আমার
চেয়ে বেশী কেঁদেছিলেন। যেন আমি নয় উনিই
কষ্ট
পাইছে। লজ্জার কথা কি বলব? যখন মুসলমানি
করানোর জন্য কেউ রাজি করাতে পারছিল না। তখন
মামাই আমাকে রাজি করেছিল। এবং উনিই হাত
দিয়ে চোখ ধরেছিল। দেখে যেন চিৎকার,
চেঁচামেচি না করি। বড্ড ভালবাসত আমায়। মামা
যতটা না আমায় ভালবাসত উনার মেয়ে মানে
কল্পনা দ্বিগুণ হারে ঘৃণা করত।
মামা আরেকটা কারণে আমাকে খুব ভালবাসত।
কারণ আমি প্রেম করতাম না। একবার
জড়িয়েছিলাম। মামার সিদ্ধান্তেই তাকে ছেড়ে
চলে আসি। খুব কথা মানতাম তার জন্য আমাকে পছন্দ
করত। আমাকে পছন্দ করার অনেক কারণ আছে।
.
এদিকে অন্যসবাই সেই ছেলের সাথে বিয়ে দিতে
রাজি। মামা কেবল একাই আমার সাথে বিয়ে দিতে
রাজি। যখন মামা, নানা নানি ও অন্যান্য মামারা
তর্কাতর্কি করছিল তখন আমি নীরব দর্শক। অনেক
কথা কাটাকাটির পর মামাই জয়ী হল। আরো
কিছুক্ষণ হত। কিন্তু মামা যখন বলল, আমার পছন্দের
পাত্র হল ও ( আমাকে দেখিয়ে ) । তখন সবাই নিশ্চুপ।
উনারা মনে করেছিল বাইরের কেউ। যখন বুঝল মামা
আমাকে ইঙ্গিত করে কথা বলতেছে। তখন সবাই
রাজি। বেকে বসেছিল কেবল কল্পনা। একা বেকে
বসে কি করবে? শেষে রাজিই হইল।
.
বিয়ের আগের দিন রাত্রে । কল্পনা আমাকে
জাম্বুরা গাছের নিচে শান বাধানো পুকুর ঘাটে
ডাকল।
:- তুই কি এই বিয়েতে রাজি?
:- হ্যা। মামার অবাধ্য হতে পারব না।
:- তোকে বিয়ে করলে আমি যে শেষ হয়ে যাব।
:-............... ( নিশ্চুপ )
:- কি হল কথা বল?
:- তাহলে তোর প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যা।
:- না। তাও পারব না। বাবা ঠিকই খুজে বের করে
ফেলবে।
:- তাহলে কি করবি?
:- তুই ভাব। আমিও ভাবি কি করা যায়?
:- ওকে।
.
কিছুক্ষণ পর।
:- কল্পনা?
:- হুম্ম।
:- কিছু পেলি?
:- না। তুই?
:- হুম্ম।
:- কি পেলি?
:- এই বিয়েতে রাজি হয়ে যা।
:- এই বেক্কল। এটা কোন আইডিয়া হল?
:- হুম্ম।
:- এক থাপ্পড় দিয়ে চাপার দাঁত ফেলে দেব।
:- এই চুপ কর। আমি যা বলি তা মনোযোগ দিয়ে শোন।
:- হুম্ম। বল।
.
তারপর আমার প্ল্যানিং কল্পনাকে জানালাম। সে
তো খুশী হয়ে ফুটবলের মত লাফ দিতে চাইছে। বড়
মেয়ে বিধায় পারতেছে না।
.
আমাদের বাড়ি বেশী দূর ছিল না। তাই রাতেই চলে
আসি। সব প্ল্যান মোতাবেক গড়গর করে এগুচ্ছে।
বিয়ের সব কাজ একে একে শেষ করে বাসায়
আসলাম। কল্পনা এখন তিন কবুলের মাধ্যমে বানানো
স্ত্রী। পরে কি হইল তাতো জানেনই।
ওহ হ্যা। আরেকটু অজানা রয়ে গেছে।
একটা জিনিস তো জানেন। বিয়ের প্রথম রাতেই
হোক বা যেকোন রাতেই হোক। স্ত্রীর মোহরানা
আদায় না করে স্ত্রীকে স্পর্শ করা সম্পূর্ণ হারাম।
তিন কবুলের মাধ্যমে স্ত্রী হয় সত্য কিন্তু দৈহিক
সম্পর্ক হালাল করতে হলে মোহরানা অবশ্যই আদায়
করতে হবে। আমি কবুল বলেছিলাম ঠিকই। কিন্তু
স্ত্রীর মোহরানা আদায় করি নি। এক সাথে, এক
খাটে থেকেছি কিন্তু তাকে সেইভাবে স্পর্শ করি
নি। এই স্পর্শ কিন্তু সাধামাটা স্পর্শ না। যেহেতু
বিয়ে করা বউ সেহেতু আমি তার রুপ লাবণ্য দেখতেই
পারি। সেই সার্টিফিকেট আমার আছে।
এটাই ছিল আমাদের প্ল্যান। আমরা স্বামী স্ত্রী হব
ঠিকই কিন্তু আসল নয়। তিনদিনের ফিরাফিরির সময়
তার প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে আমি চলে আসব।
এটা ছিল দীর্ঘ এক সপ্তাহের কাহিনী। শ্বশুড়বাড়ি
থেকে লোকজন আসল। অতিথি আপ্যায়ন করে আমি
চললাম শ্বশুড়বাড়ি। বউতো খুশিতে আত্মহারা।
তিনদিন পর তার প্রেমিককে দেখতে পাবে।
আমিতো ভিতরে ভিতরে খুব কষ্ট পাচ্ছি। কিন্তু
উপরে হাসি খুশী থাকতে হচ্ছে। মেকি অভিনয় করতে
হচ্ছে। কিছু সময়ের জন্য নিজেকে পাক্কা
অভিনেতা মনে হল।
.
আমি বুঝতে পারছি ওর হাতেও তেমন সময় নেই।
মামা যদি একবার টের পেয়ে যায় তাহলে আবার
হূলস্থুল কান্ড ঘটিয়ে ফেলবে। তখন সামলানো দায়
হয়ে পড়বে।
.
বাড়ি গিয়ে পৌছেছি সন্ধ্যা নাগাদ। রাতে সবাই
ঘুমিয়ে পড়লে আমাকে ডেকে তুলল।
:- তোমার ফোনটা কই?
:- এতরাতে ফোন দিয়ে কি করবা?
:- বাহ রে! তুমি জান না বুঝি।
:- ওহ। এই নাও।
.
নাম্বার ডায়াল করে বাইরে বারান্দায় চলে গেল।
কি কথা হল জানি না। জানতেও চাই না। ফোনে
অটো রেকর্ডিং চালু ছিল। আমি ইচ্ছা করলেই সব
কিছু শুনতে পেতাম। কিন্তু মানুষটাই থাকছে না।
তাহলে ওর কথা শুনে আমি কি করব? তাই কথা বলা
শেষে ফোন হাতে পাবার পর। তার সামনেই
রেকর্ডিং গুলো ডিলেট করে দিয়েছি। হয়তো অবাক
হয়েছিল নয়তো না।
.
:- কল্পনা?
:- হুম্ম। বল।
:- কি বলল ও?
:- কালকে পালাব।
.
বুকটা ছ্যাত করে উঠল। অন্ধকার ঘর তাই হয়তো বুঝতে
পারে নি। আমার মুখটা কতটুকু নিকষ কালো হয়েছিল।
বুকে হাত দিলেও বুঝতে পারত কত দ্রুত হার্ট পাম্প
করছে। হাতে ধরলেও বুঝত।
.
:- কখন পালাবা?
:- বিকালে।
:- আচ্ছা। আমি কাল সকালেই চা খাওয়ার উদ্দেশ্যে
বের হয়ে বাড়ি চলে যাব।
:- না।
:- কেন?
:- কাল তোমাকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াব।
:- আমাদের বাড়িতেও তো রান্না করেছ।
:- থাক। তবুও।
কিছু বলতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।
তিনদিনেই খুব ভালবেসে ফেলেছি। উহু তিনদিন নয়।
আগেও তাকে পছন্দ করতাম কিন্তু নিয়তি আমাদের
মেনে নেবে না তাই মনের কথা ওকে জানাই নি।
কল্পনাও আমাকে খুব ভালবেসে ফেলেছে। আমি
বুঝতে পারি। মেয়েটা বুঝতেছে না। ওই ছেলেটা নয়,
আমিই ওর ভালবাসা। কল্পনা হয়তো ভাবছে
কৃতজ্ঞতার জন্য এসব করছে। কিন্তু কোনটা কৃতজ্ঞতা
আর কোনটা ভালবাসা প্রকাশ করে সেটা বুঝার মত
জ্ঞান শক্তি আমার আছে। এখন বললেও কোন লাভ
নেই। আরো কৌতুক করবে আমাকে নিয়ে। কি দরকার
আছে নিজেকে জোকার বানিয়ে?
আমি কল্পনাকে ঘুমিয়ে পড়তে বললাম। প্রতিদিনের
মত আজ চতুর্থতম রাতেও আমাদের মাঝখানে
কোলবালিশ রয়েছে। সকাল হল। রাতে যেন কিছুই হয়
নি এমন স্বাভাবিক আচরণ দুজনেই করছিলাম।
কাউকে বুঝতে দিচ্ছি না। খুব নিখুত ভাবে চেষ্টা
করছি। তারপরেও যদি কেউ বুঝে যায়। তাহলে বলব
মানুষ চেনায় সে খুবই নিখুত। অন্তত তার চোখ কে
ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব।
.
কিভাবে পালাবে সেই সুযোগ সে খুঁজছে। কিছুতেই
কিছু হচ্ছে না। কারো না কারো নজরে আছিই। এক
পলকের জন্য আড়াল হতে পারছি না। মামা মনে হয়
সবাইকে বলে দিছে। সবাই যেন আমাদের উপর কড়া
নজর রাখে।
.
খুব হতাশ হচ্ছিল কল্পনা। হবারই কথা। প্রেমিককে
অপেক্ষা করিয়ে রেখেছে। এমন সময় একটা মোক্ষম
সময় আসল। আমরা কারো বাড়িতে বেড়াতে যাব।
কাছেই তাই আমাদের দুজনকেই পাঠাবে।
দেখতে দেখতে সময় হল। বেড়ানোর উদ্দেশ্যে
বেরিয়ে পড়লাম। যদি ব্যাগ নিয়ে বের হই তবে সবাই
সন্দেহ করবে। তাই আমার আর ওর দুজনের কাপড়
চোপড়ই বাড়িতে রেখে আসছি।
.
ওর প্রেমিককে খুজে পেতে বেশী সময় লাগল না।
স্টেশনেই অপেক্ষা করতেছিল। ওকে দেখা মাত্রই
আমার হাত এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিয়ে দিল দৌড়।
আমি খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি। কল্পনা ওর
প্রেমিকের বুকে ঝাপায়ে পড়বে। সেই দৃশ্যটা
আমাকে দেখতে হবে। পারব না সহ্য করতে। ওর সাথে
দেখা না করেই চলে আসি। বাসে উঠে পড়ি আমি।
ঘন্টা দুয়েক পরে বাড়ি ফিরে আসি। আমি ফোন
সুইচড অফ করে ফেলেছি। যাতে কেউ না পায়
আমাকে। এতক্ষণে মামা নিশ্চিত খবর পেয়ে গেছে।
যেখানে বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল সেখানে
ফোন করে হয়তো জেনেও গেছে আমরা
ঠিকমতো
পৌছেছি কি না?
.
বাড়িতে আসলে অনেকেই অনেক প্রশ্ন করেছে।
কিন্তু কারো প্রশ্নের উত্তর দেই নি। দুইদিন কেটে
গেল। কেউই কোন কথা বের করতে পারে নি।
.
একটু বাইরে গিয়েছিলাম। বাইরে থেকে ফিরে এসে
দেখি মামা এসেছে। ভিতরে গিয়ে বুঝতে পারলাম।
আরো কেউ এসেছে। কিন্তু কে এসেছে তা জানি
না।
মামা আমার দিকে যে দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেই
দৃষ্টির সাথে আমি পরিচিত নই।
.
আমি আচমকা কল্পনাকে দেখে চমকে গেলাম। তার
চোখে অনুসূচনা আছে। তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।
:- তুমি?
:- হ্যা।
:- এখানে কেন?
:- কোথায় থাকব?
:- যেখানে থাকার কথা।
:- সেখানেই তো আছি ।
:- ফাইজলামি কর। এক থাপ্পড়ে সব দাঁত ফেলে দেব।
:- তাই দাও। তবুও তাড়িয়ে দিও না। আমি বড্ড ভুল
করে ফেলেছি। প্লীজ ক্ষমা করে দাও।
:- কিসব বাজে বকতেছ?
:- ঠিকই বলছি।
:- ও ( প্রেমিক ) কোথায়?
কিছু না বলে একটা রেকর্ড শুনাল।
যার মূল বিষয় হল। ওর প্রেমিক ওকে খুব বাজে
ভাষায় কথা বলেছে। আর এও বলেছে। তুমি যে
এখনো ভার্জিন আছ সেটা মরে গেলেও বিশ্বাস করব
না। আমার তো ঐ লুইচ্চার কথা শুনে কান গরম হয়ে
গেল। সবাইকে এক ভাবে। রাগে মাথা গরম হয়ে
গেল। তাই উল্টাপাল্টা করে দুই গালে দুটি বসিয়ে
দিলাম।
:- কেমন ছেলেকে ভালবেসে ছিলি তুই? যে কিনা
তোর ভার্জিনিটি নিয়ে সন্দেহ করে।
:- আমার ভুল হয়ে গেছে। মাফ করে দাও। আমি মানুষ
চিনতে ভুল করেছিলাম। তাই তোমাকে অনেক কষ্ট
দিয়েছি। স্বামী হবার পরেও তোমাকে অধিকার
আমি দেই নি। সেই হিসেবে ক্ষমা পাবার যোগ্যতা
আমার নাই। তবুও যদি ক্ষমা করে দাও খুব খুশী হব।
:- তুমি যে পাপ করেছ তার শাস্তি তোমাকে পেতেই
হবে। আর আমি ওই ছেলেটির মত নই যে তোমাকে
ফিরিয়ে দেব।
.
কল্পনা আমাকে ঝাপটে ধরল। যত দ্রুত ঝাপটে ধরল
তত দ্রুতই তাকে ছাড়িয়ে দিলাম। আর বললাম।
এভাবে হবে না। আগে সবার মন জয় কর। বিশেষ করে
আমার। তারপরেই তোমাকে পরিপূর্ণ স্ত্রীর মর্যাদা
দেব। এর আগে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে চাইলে
মর্যাদা তো পাবেই না বরং ডিভোর্স পেপারে
সাইন করা লাগতে পারে। তুমি যে সবার মনে এত
কঠিন একটা দাগা দিয়েছ তা সহজে যাবার মত না।
আর এই দাগাটাই যত সহজে দূর করতে পারবে তত
তাড়াতাড়িই স্ত্রীর অধিকার পাবে।
:- এত কঠিন শর্ত আমার মেয়েকে দিওনা বাবা।
পারবে না ও।
:- আপনি চুপ করুন। যা বলেছি তাই। ছয় মাসের মধ্যে
পারলে আপনার মেয়ে আমার স্ত্রী হবে নয়তো
ডিভোর্স নিতে হবে। এই কলঙ্কিনী মেয়ে নিয়ে
বসে থাকলে আমার হবে না।
:- কলঙ্কিনী বললে আমায়? একথা বলতে পারলে
তুমি?
:- যে স্বামী রেখে প্রেমিকের হাত ধরার মত নিকৃষ্ট
চিন্তা করতে পারে সেতো কলঙ্কিনীই বটে।