বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০১৭

"বেঈমান"

সপ্নটা ছিল অনেক বড় কিন্তুু অসম্ভব নয়,জীবনে
হারার কথা কখনো চিন্তাই করিনা।
কারণ মনে সবসময় বিশ্বাস ছিল আমি
পারবো,নিজের উপর আস্তা অটুট ছিল,তাই আজ
এই পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে আপনাদের
সকলের দোয়াই।
-এস,এস,সি পাশ করার পর ভাবনা ছিল জীবনে
বড় কিছু করব আমি,কিন্তুু সংসারের অভাব আর
দারিদ্রতার কারণে অসম্বব হয়ে পড়ল,গ্রামের
কলেজেই ভর্তি হলাম।ইন্টারে ভর্তি হয়েছি
মাএ সো কলেজে নতুন কেমন যেনো আলাদা
একটা অনুভূতি বিরাজ করছে আমার
মাছে,এভাবেই কিছুদিন কেটে যায়,
মাঝে কিছু ছেলেদের সাথে ভালোই আড্ডা
বাজিতে মেতে উঠি, কয়েকজনের সাথে
ভালো সম্পর্কও গড়ে ওঠে।
টেবিলে বসে বই পড়ছি,হঠাৎ করে দিপা
নামের একজন মেয়ে এসে বলে ভাইয়া আপনার
অর্থনীতি বইটা কি একদিনের জন্য দেওয়া
যাবে,নিজের অজান্তেই অর্থনীতি বইটি
দিয়ে ছিলাম,বাসায় এসে অনেক খোঁজা
খোঁজি করি কোথাও পেলাম না বইটি,পরের
দিন কলেজে পৌঁছা মাএ দিপা বলছে এই নেন
ভাইয়া আপনার বই,ভালো করে দেখে
নিয়েন,পরে কিন্তুু আমায় দোষারুপ করতে
পারবেন না বলে দিলাম,বলেই দিপা চলে
গেলো,মনে হল বইয়ের মাঝে কি যেনো একটা
কাগজ ভাজ করে রাখা আছে,খুলতেই সাদা
একটা কাগজ পেলাম,তাতে লেখা আই,লাই,ইউ
কিন্তুু প্রথমে আপনাকেই বলতে হবে,
দিপা বান্ধবীদের সাথে বসে গল্প
করছিল,গেলেম... দিপা এই নাও তোমার
কাগজটা ভুল করে বইয়ের মাঝে রেখেছিলে।
দিপা বললো ঐই কাগজটা আমার না আপনারই
হবে হয়তো।
রুমে গিয়ে চিন্তা করলাম এ আবার কেমন আজব
মেয়ে বাবা,নাকি অন্য মতলব,পরীক্ষা করার
জন্য আমিও একটু চালাকি করলাম।
বাংলা ক্লাস হচ্ছিলো এমন সময় দিপার
দিকে তাকাতেই দেখি সেও আমার দিকে
বাঁকা চোখে চেয়ে আছে,ক্লাস শেষে
দিপাকে জিঙ্গেস করলাম চলো একদিন
সিনেমা দেখতে যাই সব বন্ধুরা মিলে,আর
দিপা বলে উঠলো কেনো আমরা কি রাস্তা
দেখিনি,কবে যাবে।
আমি তো পুরাই অবাক, মেয়ে বলে
কি,দিপাকে অবশ্য আমারও ভালোই লাগে
জীবন সাথী হিসাবে একদম পারফেক্ট হবে।
.
এরই মধ্যে কলেজে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা
হচ্ছিলো,
অনুষ্ঠানের আর মাএ দুইদিন বাঁকি রাতে
দিপার ফোন করে বলছে আমি কি নৃত্য করতে
পারব কলেজের অনুষ্ঠানে,তুমি অনুমতি দিলে
তবেই হবে না হলে নাই।
আগামীকাল বলি একটু চিন্তা করতে দাও,রাত
তিনটার দিকে দিপাকে কল দিলাম,দিপা
বলে কি ভাবলা,এবার বলেই দিলাম
আই,লাভ,ইউ দিপা,আমি তোমায় খুব
ভালোবেসে ফেলেছি।
বলা মাএই দিপা হেসে উঠলো,তখন মনটা ভীষন
খারাপ হয়ে গেল,ফোনটা কেটে দিয়ে
বিছানায় এপাশ ওপাশ করছিলাম,দিপা হয়তো
আবার কল দিবে,কিন্তুু কোনো সাড়া পেলাম
না।
পরের দিন কলেজে গিয়ে দেখলাম আমাকে
দেখেই দিপার বান্ধবীরা হাসাহাসি
করছে,কেমন একটা সন্দেহ হল,ঠিক সেই সময়
দিপার এক বান্ধবী বলে ভাইয়া এদিকে
আসবেন একটু,গেলাম...দেখেন ভাইয়া দিপার
সাথে আমরা বাজি ধরে ছিলাম যদি সে
আপনাকে প্রেমের জালে আটকাতে পারে
তাহলে তাকে আমরা ২০০০ টাকা দিব।
কথাগুলো আমার হৃদয় ভেদ করে কলিজা ছিদ্র
করে দিয়ে গেল,কিছু বুঝি ওঠার আগেই দেখি
আমি হাসপাতালের বেডে"পাশে কয়েকজন
বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছে।
হাসপাতাল থেকে বাসায় আসলাম,এর মধ্যে
দিপার সাথে কোনো যোগাযোগ
নেই,দিপাকে কল দিতে গেলাম কিন্তুু দিপার
নম্বর বন্ধ পেলাম,বুঝতে আর বাঁকি রইল
না,আমাকে নিয়ে সত্যি দিপা খেলা করেছে।
কিন্তুু দিপাকে আমার মন প্রাণ দিয়ে
ভালোবেসে ফেলেছি কি করবো এখন বুঝতেও
পারছিনা,প্রায় ৯ দিন পর কলেজে
গেলাম,চোখে পড়লো দিপা বান্ধবীদের সাথে
আড্ডা দিচ্ছে,সব অভিমান ভুলে এক বন্ধুকে
দিয়ে দিপাকে ডেকে আনলাম,আচ্ছা দিপা
তুমি কি জানতেনা আমি তোমাকে
ভালোবাসতাম,সবসময় তোমাকে নিয়েই
ভাবতাম,কেনো করলে এমন,দিপা কথা বলে না
চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে।
এবার কিছু না বলেই দিপা চলে গেলো,বন্ধুরা
সবাই বলছে দিপার আশা এবার মন থেকে মুছে
ফেল,কিন্তুু চাইলেই কি আর ভোলা যায়,মুছে
ফেলা যায় চির বাস্তবতাকে।
কিছুদিন অপেক্ষা করলাম দেখি দিপা হয়তো
কিছু বলবে,কিন্তুু কোনোই সাড়া পাইনা,হঠাৎ
একদিন দিপার ফোন রিসিভ করলাম,দিপা
কান্না শুরু করেছে,বুঝলাম না ব্যাপারটা কি,
একটু পরে বলতেছে আমাকে ক্ষমা করে
দিয়েন,আমি কখনোই আপনার হতে পারব
না,বলে সেই যে দিপা কলেজ থেকে চলে
গেল আজো তার কোনো সন্ধান পেলাম
না.......!!

ভালোবাসার হারিয়ে যাওয়া

২০০৭ ঈদের দিন
সোহাগ আজ ঘুরতে বেরিয়েছে। প্রতিবছরের মত বন্ধু বান্ধবের সাথে দেখা করছে।
বিকেলে ঘুরতে ঘুরতে বেরিয়ে একটি মেয়েকে দেখে সোহাগ। মেয়েটি সুশ্রী, হালকা গড়ন, সাদা বর্ণের, লম্বা মানবী।প্রথম দেখাতেই মেয়েটাকে ভালো লেগে যায় সোহাগের, কিন্তু মেয়েটার কাছে যেতে পারে নি সোহাগ।
প্রতিদিন মেয়েটার কথা মনে পড়ে সোহাগের। সোহাগ আবার ঐ এলাকায় গেল। অনেক খোঁজ করে এবার এক বারান্দায় মেয়েটিকে দেখতে পেল, তবে আজও মেয়েটার কাছে যেতে পারল না।
কয়েকদিন ঘুরাঘুরি করে মেয়েটার নাম জানতে পারল সোহাগ। মেয়েটির নাম সোহাগী। সোহাগ মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটার সামনে যেতে পারে নি, বলতে পারে নি ভালোবাসি।
.
২০০৮ ঈদের দিন
আজ প্রায় এক বছর হল সোহাগ সোহাগীকে ভালোবেসে এসেছে, কিন্তু সোহাগ তার কথা জানাতে পারে নি।। আজ সোহাগ ঠিক করল তার ভালোবাসার কথা আজ সোহাগীকে বলে দিবে। সোহাগীকে অনেকদিন ধরে একটা ছেলে তার পিছে ঘুরঘুর করে, এতে সোহাগীর বান্ধবীরা ইশফিস শুরু করেছে। সোহাগীরও ছেলেটাকে ভালো লাগে।
.
বিকেল
সোহাগ রাস্তায় দাড়িয়ে রয়েছে, সোহাগী এ রাস্তা ধরে আসছে। আজ সোহাগ তার ভালোবাসার কথা বলবে………………………………………….—
সোহাগঃ এই যে দাঁড়ান………………
সোহাগীঃ আমাকে বলছেন………………………….
সোহাগঃ হ্যাঁ, আপনার সঙ্গে কিছু কথা বলার ছিল
সোহাগী: বলেন…………………
সোহাগঃ আসলে কিভাবে বলব বুজতে পারছি না…………..
সোহাগী: কি বলছেন আপনি যেটা বলবেন সেটা মুখ দিয়ে বলবেন আর ফাজলামির জন্য দাড় করালে রাস্তা ছাড়ুন…………………………
সোহাগ: না না আপনাকে কিছু কথার বলার ছিল……………….
সোহাগী: তাহলে বলুন……………………..
সোহাগঃ আমি আপনাকে ভালোবাসি
সোহাগীঃ কি বলছেন…………………..আমি আসি রাস্তা ছাড়ুন
সোহাগ সোহাগীর চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রয়েছে…………….
.
কিছু দিন পর
সোহাগী প্রতিদিনই দেখে সোহাগ এখনও তার পিছনে পিছনে ঘুরে। সোহাগী বুজতে পারে তারা ভালোলাগা আস্তে আস্তে ভালোবাসায় রূপ নিচ্ছে। সোহাগী এখন প্রতিদিন আড়চোখে সোহাগকে খুজে রাস্তায়। সোহাগী ঠিক করেছে সোহাগের প্রস্তাবে সায় দিবে।
সোহাগী: এই যে দাঁড়ান
সোহাগঃ জ্বি..
সোহাগী: তুমি আমাকে প্রতিদিন ফলো করে কেন….
সোহাগ: আমি তো বলছিই আমি আপনাকে ভালোবাসি
সোহাগী; তুমি সত্যি সত্যি আমাকে ভালোবাসে
সোহাগঃ হ্যাঁ
সোহাগী: ঠিক আছে কাল কলেজ শেষে দেখা করো ঘুরতে যাবো……..
সোহাগঃ তুমি আমাকে ভালোবাসো………………
সোহাগী চলে যাচ্ছে। সোহাগের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না, শুধু পিছন দিকে তাকিয়ে চোখ নাড়ল। আর এ চোখ নাড়ানোতেই যেন সোহাগ সব কিছু পেয়ে গেছে। সে বুজতে পারে নি অনেকক্ষণ থেকে যে সোহাগী তাকে তুমি করে বলছে।
.
২বছর পর
আজ সোহাগীর বিয়ে তবে সোহাগের সাথে নয়। সোহাগের সাথে গত দুইবছর ভালোই গেছে সোহাগীর। কোনো সমস্যা ছিল না তাদের , হাসি আনন্দ ভালোবাসা অভিমান ভরা এ দুইবছর ছিল। হঠাৎ করে তাদের মিষ্টি ভালোবাসার চিত্ত বদলে গেল। সোহাগীর পরিবার জেনে গেল তাদের ভালোবাসার কথা। #বাংলাদেশের পরিবারগুলোর মত সোহাগীর পরিবারও সোহাগীর বিয়ে ঠিক করে ফেলল। সোহাগের কিছু করার নেই কারন সে যে এখনও পড়াও শেষ করতে পারেনি আর বাংলাদেশের সোনার হরিণ চাকুরিতো অনেক দূরে।
.
বিয়ের পর
সোহাগীর বিয়ে হয়ে গেছে কিছু দিন হল। বিয়ের দিন মেয়েটার অনেকবার জ্ঞান হারাল। সোহাগ ভাবতে পারে না এখন কি করবে। জীবনের কঠিন বাস্তবতার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আত্মহত্যা করবে ভেবেছে, কিন্তু সে মৃত্যুকে ভয় পাই।
গতকাল সোহাগীর সাথে কথা হয়েছে সোহাগের। সোহাগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সোহাগের সাথে পালিয়ে যাবে, সংসার করবে না। কিন্তু সোহাগের পালিয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ।সোহাগের পালিয়ে যাওয়ার সাথে তার বড় বোনের জীবনের সর্ম্পক। সোহাগী এখন তার বোনের ননদ। সোহাগের দুলাভাই তাদের সর্ম্পের কথা জানে আর দুলাভাইও এক সংবিধান ঘোষনা করেছে তার জন্য সোহাগীকে নিয়ে পালিয়ে গেলে সোহাগের বোনের যে জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।
.
কিছু বছর পর
সোহাগী এখন দুই সন্তানের মা। সোহাগ এখন ভারতে তার ভাগ্য অন্মষণের পথে। সোহাগ এখন রাত দিন পরিশ্রম করে তার ভাগ্য ফেরানোর জন্য। তাকে এখন বড় হতে হবে, তার দুলাভাইয়ের চেয়ে বেশি অর্থ অর্জন করতে হবে। সোহাগী এখন ঘর সংসার নিয়ে ব্যস্ত। বিয়ে হয়ে গেলেও আগে সোহাগের খবর নিত, এখন আর নেয় না। এভাবে হারিয়ে যায় সোহাগ সোহাগীর ভালোবাসার কথা।
.
শেষ কথাঃ গল্পটি জীবন থেকে নেওয়া। চেষ্টা করেছি গল্পটি কথা আকারে লিখতে। আমারা প্রেম করি ভালোবাসি, কিন্তু আমাদের এ প্রেম ভালোবাসা তৈরি হইতে অনেক সময় লাগে, হারাতে অনেক কম সময় লাগে। বিয়েগুলো তৈরি হয় খুব কম সময়ে ভাঙতে অনেক সময় লাগে। জানি না লেখাটা দ্বারা কি বুজাতে চাই। তবে এ গল্পের মত আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড ৫ জনের জীবন, যাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে তাদের ভালোবাসা। জানি না ভালোবাসাগুলো কেন হারিয়ে যায়ম তবে হারিয়ে যাওয়া কাহিনীগুলো শুনতে খুব কষ্ট লাগে।
.
সব শেষে একটা কথা সবার ভালোবাসার যেন শেষ পরিণিতি যেন বিয়ে হই।

কানামাছি

নবম শ্রেণীর ছাত্র রকি, লেখা পড়ায় অনেক টায় ভাল।
কিন্তু তার একটা সমস্যা হচ্ছে, তার চলা ফেরা একটু পাগলা টাইপের, তবে সবার কাছে নয়।
ক্লাশের শুধু এক জনের কাছে তার এই সমস্যা,
সে কিন্তু ছেলে নয় মেয়ে! কে সেই এই মেয়ে?
তার কথাটা একটু পরেই বলছি।
আগে রকির কিছু কথা বলে নেই যা না বললে হয় তো রকি আবার মনটা খারাপ করতে পারে,
রকি লেখা পড়ায় অনেক ভাল করায় সব শিক্ষক রকিকে প্রচণ্ড ভালবাসে।
চলা ফেরা একটু পাগলা টাইপের হলেও ক্লাস এর ফাস্ট বয়,
আর যে রকি কে পাগলা বলে সেও কিন্তু কম নয়,
দুই জনই অনেক ভাল ছাত্র ছাত্রীদের তালিকায়,
সেই জন্য তাদের মধ্য সব সময় হাড্ডা হাড্ডী লড়াই লেগেই থাকতো, কেউ কারও থেকে কম নয়।
আর সে জন্যই তারা সতিনের মত থাকতো ক্লাসে, ক্লাসে তেমন কথা বলতো না তারা, শুধু কোনো প্রয়জন ছাড়া।
কিন্তু একটা গোপন কথা আছে, যেটা ক্লাসের কেউ জানতো না, শুধু তারা দুই জন ছাড়া।
রকি স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়ে সব সময় মেয়েটিকে ফোন করে কথা বলে, যদি একদিন মেয়েটি ফোন রিসিভ না করে তাহলে এস এম এস করে অনেক, তবুও কথা বলতেই হবে, রকি কিন্তু মেয়েটাকে মনে মনে অনেক ভালোবাসে, মেয়েটির কথা গুলো রকির অনেক ভাল লাগে।
তাকে যে পাগলা বলে এতে রকি মনে মনে অনেক আনন্দ পায়।
মেয়েটি রকির সাথে ক্লাসে গিয়ে কথা বলে না, কিন্তু বাড়িতে গিয়ে ঠিক সময় মত রকির ফোনে মিসকল দিতে ভুল করে না,
নাহ আর মেয়েটি মেয়েটি বলবো না তার নাম টি এইবার বলেই দিলাম, মেয়েটির নাম "রেশমা"
:
রেশমাকে রকি মনে মনে অনেক ভালবাসতো,
দুই জনই সাইন্স এর ভাল স্টুডেন্ট তারা লেখা পরাই ভাল, সেই জন্য সব শিক্ষকরাও তাদেরকে অনেক ভালবাসে, তাদের চলাফেরা দেখে শিক্ষক রা বলে যে তোরা দুই জন কি সতিন নাকি???
তোরা দুইজন দুইজন কে দেখতেই পারিস না কেন?
রকি বলল কারন টা জানিনা স্যার, কিন্তু ঐ পাগলি টারে আমার দেখতে ইচ্ছা করে না,
রেশমা বলছে ঐ ঐ নিজে পাগলা হয়ে মানুষ কে পাগলি বলছিস কেন?
রকি বলে দেখছেন স্যার দেখছেন,
আপনার সামনেই কেমন ভাবে কথা বলছে???
হা হা হা আচ্ছা তোরা থাম, আর হ্যা যেটা করতে বললাম সেঠা ভালভাবে করে নিয়ে আসবি কিন্তু!
ও কে স্যার,
তাদের এই রকম ব্যবহার দেখে সবাই ভাবে তারা দুই জন এমনই...
:
কিন্তু না স্কুল থেকে বাড়িতে গিয়েই রেশমা ঠিক সময় মত রকিকে মিসকল দিচ্ছে, রকি মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে রেশমা র মিসকল, সেই জন্য কল দিয়ে বলছে,
- কেন মিসকল দিলি বল?
- মানে আমি একটা জিনিস বুঝতে পারি নি,
- কি সেঠা?
- যে অংক টা স্যার করিয়ে দিল সেঠা...
- আচ্ছা ঠিক আছে, ডাটা চালু কর আমি ইমুতে ভিডিও কল দিচ্ছি তোকে, আমি যে ভাবে তোকে বলব ঠিক সেই ভাবেই করবি।
আর যে জায়গায় বুঝতে পারবি না সেখানে বলবি, চল এখন...
/
\
একটু পর রকি ফোন করে বলে,
- কিরে ডাটা অন করিস না কেন?
- সরি! আমার ফোনে এম বি নাই,
- আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোকে ৫০ টাকা ফ্লেক্সিলোড করে দিচ্ছি, তারাতারি এম বি কিনে আমাকে মিস দে।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
এসব কারন গুলো কি হতে পারে না তাদের দুই জনের ভালোবাসার?
কিন্তু নাহ! আরও কিছু কারন লুকিয়ে আছে এই গল্পে...
:
আগেই বলে রাখি স্কুলে কোনো কমন রুম ছিল না।
আর সেই জন্যই সবাই একই রুমে ক্লাস করে ছেলে মেয়ে উভয়।
পরের দিন ক্লাসে এসে সবাই হই হুল্লুর করতেছে,
কিন্তু রকি আর রেশমা কোনো কথাই বলছে না, সবাই ইয়ার্কি করে বলতেছে কিরে কি বেপার আজ দেখি দুই সতিন ই চুপ কারন কি???
রেশমা বলছে,
- তোরা কি চুপ করবি?
- (সবাই) তোর কি হয়ছে বলবি কি?
- না কিছু না, এমনি মন খারাপ লাগছে।
- অ সেই কথা, (সবাই)
সবাই বলতেছে এই জানিস আজ রসায়ন স্যার আসবে না,
- খুব ভাল কথা (রেশমা)
.
সব ক্লাস শেষ এখন রসায়ন ক্লাস এর ঘন্টা, তাই সাইন্স এর ১২জন ছাত্রছাত্রীর মধ্য ৬জন স্কুল এর সাদে গেল, সেখানে রেশমাও ছিল,
তাই রকি ভাবতেছে আমিও যাই সাদে,
রকি কে দিয়ে সেখানে ৭জন।
:
সবাই বলছে রকি আজ একটা খেলা খেলবো, খেলবি তুই?
- কি খেলা বল?
- আগে বল খেলবি নাকি?(রিয়া)
- হুম খেলব কিন্তু পাগলি কি খেলবে??
- হুম খেলবে!
- তাহলে খেলবো না,
রেশমা রাগ করে বলে এই তোরা খেল আমি খেলবো না।
- না তোকে খেলতেই হবে (রিয়া)
অতপর তারা দুই জনই রাজি হল,
রকি বলছে-
- কি খেলা বল?
- কানামাছি! (রিয়া)
- অ আচ্ছা।
সবাই মিলে রকির চোখ বেধে দিচ্ছে আর বলছে,
"কানামাছি ভোঁ ভোঁ যারে পাবি তাকে ছোঁ"
সবাই এখন রকির মাথায় ঠুয়া দিচ্ছে,
এই তোরা এত জোরে জোরে ঠুয়া দিচ্ছিস ক্যা...?
আমার লাগছে কিন্তু, তারপর আরও জোরে জোরে দিচ্ছে সবাই...
আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাকে ধরতে পারবো তার মাথা একদম লাল করে দিবো।
কিছুক্ষণ পর রকি রেশমার দিকে যাচ্ছে আর ঠিক তখনি রকির পায়ের নিচে একটি ইটের খোয়া থাকার কারনে, পা টা স্লিপ করছে।
আর সেই জন্যই নিজেকে কন্ট্রোল না করতে পেরে রেশমার সাথে একটা ধাক্কা খেল, আর ঠিক তখনি আলতো করে রেশমা কে রকি বুকের মাঝে জরিয়ে নিলো, আর সবাই তখন হাত তালি দিয়ে তাদের কে বাহবা দিচ্ছে, তখন রকি চোখ খুলে দেখে তার সামনে রেশমা, মাটির দিকে মাথা করে দারিয়ে আছে,
সবাই চুপ কেউ কোনো কথা বলে না।
আর এই ভাবেই চলতে থাকে রকির গোপন ভালবাসা...

পারলাম না বলতে তোেক

আমি আকাশ। অর্নাস ৩য় বর্ষের ছাএ। আজ আমার ব্রেস্ট ফ্রেন্ড নদী ফোন করে বলে সে নাকি খুব অসুস্থতা । তাই একবার নদীকে দেখতে যাওয়া উচিৎ। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। চার বছর হলে আমাদের বন্ধুত্ব। কিন্তু কোনো দিন আমি নদীর বাসায় যায় নি। নদী অনেক বার চেষ্টা করেছে আমাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু পারে নি।
যেহেতু নদী অসুস্থ তাই ভাবলাম নদীকে দেখতে যাবো।
বিকাল ৪টার সময় বের হলাম নদীর বাসায় যাওয়ার জন্য। নদীর বাসার সামনে গিয়ে নদীকে ফোন দিলাম।কিন্তু নদী ফোন রিসিভ করলো না।
একটু পর দরজাতে গিয়ে নক করলাম। ৫ বছরের একটি মেয়ে দরজা খুলে বলল.
 ~
- কাকে চাই?? ( মেয়েটি)
-তোমার আপু বাসায় আছে?( আমি)
-আমার কোনো আপু নেই।(মেয়েটি)
-তাহলে তোমার খালামনি বাসায় আছে?? (আমি)
-আমার কোনো খালামনি নেই।(মেয়েটি)
- তাহলে অবশ্যই তোমার ফুপু বাসায় আছে?? ( আমি)
-এই আপনি বলবেন কাকে চান?
আমার কোনো ফুপু নেই। আপনার মতলব টা কি। ( মেয়েটি)
-তাহলে নদী তোমার কি হয়?(আমি)
-আমার আম্মু।( মেয়েটি)
~
কথাটা শোনার পর আমি মনে হয় আকাশ থেকে পরলাম। নদীর এত বড় একটা মেয়ে আছে সে কথা নদী আমাকে একটি বারো বলে নি।
একটু পর নদী বলে উঠলো কার সাথে কথা বলিস মেঘা। মেয়েটির নাম মেঘা। তখন নদী এসে আমাকে দেখে বলল আরে তুই কখন আসলি। আয় ভীতরে আয়।
~
- তুই যে বিবাহিত এটা আমাকে বলিস নি কেনো??(আমি)
-আমাকে দেখে কি তোর মনে হয় আমি বিবাহিত?? ( নদী)
-তোর একটা মেয়ে আছে তবুও বলছিস তুই বিবাহিত না।( আমি)
-মেঘার বাবা মা দুজনে মারা গেছে।
ছোটবলে থেকে আমি ওকে লালন পালন করছি তাই আমাকে আম্মু বলে ডাকে। (নদী)
- ও তাই বল। কেমন আছিস? (আমি)
- ভালো।
 তারপর নদীর সাথে গল্প করে বাসায় চলে আসি
~
কিছুদিন পর বাবা-মা দুজনে ৩ দিেনর জন্য বাহিরে ঘুরতে গেলো। তাই ভাবলাম নদীকে বাসায় আসতে বলবো। আর সেই দিন আমার মনের কথা নদীকে বলে দিবো। তাই নদীকে কল দিলাম...
- কেমন আছিস? ( আমি)
- ভালো। তুই কেমন আছিস? (নদী)
-ভালো। কাল আমাদের বাসায় আসতে পারবি।( আমি)
-কেনো? কোনো দরকার আছে?(নদী)
-হুম। তোকে একটা কথা বলবো।
( আমি)
-এখন বল। কি বলবি? ( নদী)
- না কাল কে বলবো। ( আমি)
~
পরের দিন সকালে নদীকে ফোন দিয়ে বললাম তাড়াতাড়ি আসতে।
নদী বললো ৩০ মিনিটের মধ্যে চলে আসবে। আমি শুধু ভাবতে লাগলাম কখন নদী আসবে কখন মনের কথা বলতে পারবো।
২ ঘন্টা পার হয়ে গেলো নদীর আসার নাম নাই। হঠাৎ একটি নাম্বার থেকে কল আসলো। আমি রিসিভ করতে কন্নামিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠল আঙ্কেল আমি মেঘা। আম্মু আর নেই।
আপনার বাসায় যাওয়ার সময় একটা ট্রাক এসে মেরে দেই।
কথাটা শুনার পর আমি কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি।
আমার মনের কথা বলার ভাগ্য আর হলো না। না বলা কথা না বলা থেকে গেলো।

লাল শাড়ী

ঈদের আর মাত্র তিন দিন বাকী।এবারের ঈদটা আমার খুব ভালই কাটবে ভেবে মনে মনে প্রশান্তির নিশ্বাস ফেললাম।আর ভাল কাটবেই না কেন এবছর অন্য সকল বছরের থেকেও তিনগুন বেশি টাকা ইনকাম করেছি।আর বিশাল একটা বাড়ি তৈরি করেছি।
.
ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একটা রাজপ্রাসাদতুল্য বিশাল বাড়ি তৈরী করব।বাড়িটির সামনে থাকবে একটা সুন্দর ফুল বাগান।সে বাড়িটি সাজানো হবে আমার পরম মমতাময়ী মা আর আমার ত্যাগী বাবার মনের মাধুরী দিয়ে।সে বাড়িতে থাকবে কমপক্ষে পাচ জন চাকর চাকরানী।সে বাড়িতে আমার মা আর বাবার হুকুম চলবে।
.
আজ যে সেই বাড়ির কাজ সম্পন্ন হলো।তাই ফুরফুরে মেজাজে মনের সুখে আমার স্বপ্নের বাড়ির সৌন্দয্য উপভোগ করছি।হঠাৎ করে একটা কথা মনে হল সেটা হল আজ এলাকার গরীব ও দুস্থ মানুষের জন্য ঈদ এর কিছু সামগ্রী বিতরণ করবো।আর এটার দায়িত্ব আমার চাচার উপরে দিয়েছি।ফোন করে জিজ্ঞেস করে নিলাম কোথায় আছেন তিনি।বলল আর দুই এক ঘন্টা সময় লাগবে আসতে।
.
হঠাৎ ২০ বছর আগের কথা মনে পড়েগেল।আমার বয়স তখন ৯ কি ১০ বছর হবে।আমি তখন ক্লাস ফাইভে পড়তাম।গ্রামের মধ্যে বসবাস করতাম আমাদের পরিবারের সাথে।আমাদের পরিবারে আমি আমার ছোট দুইটা বোন আর আমার বাবা মা সবাই একসাথে থাকতাম।
.
আমাদের তেমন টাকা পয়সা ছিল না বাবা সারাদিন রিক্সা চালাতো আর আমার মা বাড়ি বাড়ি কাজ করে যা আয় করতো তা দিয়ে আমাদের সংসার কোনভাবে চলতো।আর
সম্বল বলতে শুধু ভিটেটাই ছিল।সবসময় অভাবের মধ্যেই কাটতো আমাদের সংসার।তবুও আমাদের সংসারে সুখ ছিল।
.
এভাবে দেখতে দেখতে রমজান মায়া চলে আসলো।রোজার মাসে আব্বু আম্মু আগের মতই কাজ করতে থাকলো।কিন্তু দেখা গেল আমাদের সংসার চালিয়ে বাড়তি কোন টাকা বা চাহিদা মেটানোর মত টাকা আয় করতে সক্ষম হয়নি।আগের বছরগুলির মতই ঈদ কাটাতে হবে।
.
আগের বছর গুলিতে আমাদের ঈদ কাটতো একদম সাদাসিধে ভাবে।আমার মা বাসায় বাসায় কাজ করতো তাদের কাজ থেকে পুরনো কাপড় নিয়ে আসতো আমাদের জন্য।নতুন কাপড় কোনদিন চাইনি আব্বু আম্মুর কাছে যা তারা দিত তাই নিয়েই খুশি থাকতাম।
.
দেখতে দেখতে রোজার পঁচিশ দিন চলে গেল আর মাত্র পাচ দিন পর ঈদ।ভাবতেই ভাল লাগছে ঈদের আর বেশি নেই।ঈদের আর কিছু না পাই একটু সেমাই খাব,তারপর সব বন্ধুদের নিয়ে হৈ চৈ আর মজায় কাটানো যায় দিনটা।ভাবতেই মনটা আনন্দে নেচে উঠলো।
.
রহিমা খালা এসে আমাদের বাড়িতে বলল কাল নাকি চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়িতে গরিবদের জন্য শাড়ী আর লুঙ্গী বিতরণ করা হবে।আমার মা কে বিকেলে যেতে বলে গেলেন।
আমার মা যাবেন বলে হ্যা সুচক মাথা নাড়ালেন।
.
বিকেলে আমিও সাথে গেলাম মার সাথে চেয়ারম্যান বাড়িতে।সেখানে দেখলাম প্রচুর মানুষ ভিড় করছে শাড়ী আর লুঙ্গী নেয়ার জন্য।আর সবাই লাইনে দাঁড়িয়েছে আমার মাও লাইনে দাঁড়ালো।আমি এক সাইটে দাঁড়িয়ে আছি।
.
দেখতে দেখতে আমার মাও সামনে গেল। যথারীতি মার হাতে একটা শাড়ী দিল।শাড়ীর রংটা কালো ছিল।তাই মা বলছিল,,চাচা আমারে লাল রঙের শাড়ীটা দেন।প্রতিউত্তরে চেয়ারম্যান সাহেব বলছিল,,যেইটা পাইছিস সেটা নিয়ে বাড়ি যা।তারপরেও মা আরেকটু অনুরোধ করেছিল।
.
কিন্তু অনুরোধ তো রাখেনি বরং ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল।গেটের কোনায় লেগে মার হাতে ব্যাথা পায়।আমার সামনে মা এভাবে অপমানিত হওয়ায়।লজ্জায় মুখ আচল দিয়ে ঢেকে ফেলেছিলেন।আর আমি তার চোখে পানি দেখেছিলাম।
.
রাতে বুঝতে পারলাম মার হাত ভেংগে গেছে।কারন কিছুই হাতে তুলতে পারছিলেন না আর খুব ব্যাথা পাচ্ছিলেন।গ্রামের ডাক্তার গফুর চাচাকে দেখিয়েছিলাম তিনি বলেছিলেন হাতের হাড্ডি ভেংগে গেছে।তাকে শহরের ভাল ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ভাল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
.
তিনবেলা ঠিক মত খেতেই পাইনা আমরা আর কিভাবে বাবা মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে।আমার মাকে আর ডাক্তারের কাছে নিয়ে হয়নি।এভাবেই ভাংগা হাত নিয়েই আস্তে আস্তে কাজ করতেন।।আস্তে আস্তে ব্যাথা কমে যায় কিন্তু হাতটা বাকাই ছিল।তখন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল আমি সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেখাবো।
.
আজ আমি সমাজের বিত্তবানদের একজন কোটি কোটি টাকা আছে আমার আর সাথে এক হাত ভাংগা মা আর রিক্সা চালক বাবাও আছে।কিন্তু আমাকে আজ রিক্সাওয়ালার ছেলে বা কাজের মহিলার ছেলে বলেনা।সবাই বলে আজ আদনান সাহেব বলে।
.
গাড়ির শব্দে আমার কল্পনার সমাপ্তি হল।আমার বড় চাচা এসেছে গরিবদের ঈদ সামগ্রী নিয়ে।বিকেলবেলা এইগুলা আমার মা আর বাবা নিজ হাতে গরিবদের মাঝে বিতরণ করবে এগুলা।
.
বিকেলে আমার বাড়ির সামনে প্রচুর মানুষ ভিড় করলো। এক কথায় অসংখ্য মানুষ ভিড় করেছে।চাচাকে বলে দিলাম কারো সাথে যেন কোন রকম খারাপ ব্যবহার করা না হয়।সবার সাথে যেন ভাল ভাবে ব্যবহার করতে।
.
তারপর আমার মা আর বাবাকে বললাম নিজ হাতে এইগুলা বিতরণ করতে।আমি খেয়াল করে দেখলাম আমার মমতাময়ী মায়ের চোখের কোনা দিয়ে ফোটা ফোটা পানি পরছে।আমি জানি এটা কিসের অশ্রু।শুনেছি মানুষ যখন খুব বেশি আনন্দিত হয় তখন চোখের পানি পড়ে।আর সেটাই আমার মা ক্ষেত্রে ঘটেছে।
- দেখ অশ্রু, ওই ছেলেটা আমাদের ফলো করছে
(রিপা)
-- কোন ছেলে (আমি)
-- আরে দেখ ..ওই ছেলেটা, আমি অনেকক্ষণ
ধরে দেখছি ছেলেটা আমাদের পিছু নিচ্ছে
-- ধুর..আমাদের আবার কে ফলো করতে যাবে ..
-- তুই পিছন ফিরে একবার দেখ..বুঝতে পারবি
-- একি!!!! এই ছেলেটা
-- কোন ছেলে..তুই আগে থেকে চিনতিস নাকি
-- আরে ..তোকে বলছিলাম না ..রিকশা করে
আসার সময় একটা ছেলে বাইক নিয়ে রিকশায়
ধাক্কা দেয় আর আমি বকাবকি করি
-- হুম..কিন্তু ছেলেটা আমাদের কেন ফলো
করছে
-- সেটাই তো বুঝতেছি না..।।
-- তোকে আবার কিছু বলবে না তো..
-- ধ্যাত ..আমাকে কি বলবে রে। । দোষটা তো
ছেলেটার ছিলো..বাদ দে তো ..চল ফুসকা খায়
.
আমি অশ্রু আর রিপা আমার বান্ধবী..আমরা একি
ডিপার্টমেন্টে পড়ি..
তারপর আমরা আর ছেলেটার দিকে খেয়াল
করিনা ..সেদিন আমরা ক্ল্যাস না করে বাসায়
চলে আসি
.
পরদিন
.
--রিপা ফোন করে জানায় ও আজ কলেজে
আসতে পারবে না তাই আমি একাই আসছি
রিকশা থেকে নেমে দেখি ওই ছেলেটা কলেজ
গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।। আমি তাকাতে
ছেলেটা মাথা নিচু করে নিলো..
বেশি কিছু না ভেবে আমি ওখান থেকে চলে
যায়..এমনো তো হতে পারে ছেলেটা এই
ভার্সিটিতেই পড়ে ..
চারিদিকে এত মানুষ তবুও আজ একা
লাগছে..ভার্সিটিতে আমার একটাই সঙ্গী
রিপা"" কুত্তী টাকে খুব মিস করছি
..
-- দেখ রিপা আজকেও ছেলেটা একি জায়গায়
দাড়িয়ে আছে (আমি)
-- সেই ছেলেটা..(রিপা)
-- হুম ..কালকেও এভাবেই দাড়িয়ে ছিলো ..কিছু
বলবো নাকি ছেলেটাকে
-- না থাক।। শুধু শুধু ঝামেলা করে লাভ নেই চল
ক্লাসে যায়..
.
ছেলেটা সারাদিন আমাদের ফলো করে আমরা
সব বুঝতে পারি তবুও কিছু বলিনা
এভাবে কয়েক দিন চলে গেলো ...অনেক হয়ছে
এবার ছেলেটার একটা ব্যবস্থা করতে
হবে (আমি)
--তুই আবার কি করবি? ? (রিপা)
-- তুই শুধু আমার সঙ্গে আই
.
-- এই ছেলে..এএইই..আপনার সমস্যা টা
কোথায়?? (আমি)
-- কিসের সমস্যা (ছেলেটি মাথা নিচু করে)
-- তাহলে আমাদের পিছু নেন কেন..কিছু বলবেন
-- না তো..আর কই আমি আপনাদের পিছু নিয়
(ছেলেটি)
-- আমরা কি কানা..থুক্কু কানি বলে মনে হচ্ছে
..সারাদিন আমাদের পিছুপিছু যান ..যেখানে
যাবো সেখানে গিয়ে পিছন ফিরে দেখবো
আপনি..আমি তাকালে হই মাথা নিচু করেন নাহই
অন্য দিকে ঘুরে যান
-- না ..আসলে
-- কি!!! এই ছেলে মাথা নিচু করে আছেন কেন
-- এমনি..শুনেন আমার একটা নাম আছে শ্রাবণ
..এই ছেলে বলবেন না
-- সে যায় হোক..আপনাকে যেন আর আমাদের
ফলো করতে না দেখি..ঠিকাচ্ছে
-- অকে
.
প্রথমে ছেলেটার উপর খুব রাগ হচ্ছিলো ..পরে
ছেলেটার সাথে কথা বলে সত্যি অবাক
হলাম..আজিব ছেলে মনে হয় মেয়েদের সাথে
কথা বলতো লজ্জা পায়..
.
-- মনে হচ্ছে ছেলেটা আর আমাদের পিছু নিবে
না..তুই যেভাবে বললি ( রিপা)
-- হুম
.
পরেরদিন
সারাদিন ভালো ভাবেই গেলো, ছেলেটার
দেখা নেয়
-- দেখছিস তো রিপা, ছেলেটা আজ আর
আমাদের ফলো করে নি। । অাজ তুই আমাকে
খাওয়াবি ( আমি)
-- তাই না।।। ওই দেখ কি (রিপা)
-- আবারও ..ভাবছিলাম ভদ্র ছেলে এখন দেখছি
ছ্যাঁচড়া পোলা..ইচ্ছে হচ্ছে গিয়া থাপ্পড়াই
আসি
-- এসব ছেলেদের বলে কোন লাভ নেই..ছেলেটা
ওর মত থাক..আমাদের তো বিরক্ত করছে না
.
এভাবে আরো কিছুদিন চলে গেলো..ছেলেটা
আগের মতই আমাদের ফলো করতো আমরা আর
এসব নিয়ে ভাবতাম না..ছেলেটাকে ভাবনার
বাইরে রেখে দিলাম
.
-- আমার কি মনে হচ্ছে জানিস অশ্রু.. ছেলেটা
তোকে পছন্দ করে (রিপা)
-- ফালতু কথা বলিস না..মাইর খাবি (আমি)
-- সত্যি কথা..তুই ভেবে দেখ ছেলেটা কেন
প্রতিদিন এভাবে আমাদের ফোলো করবে ..এতে
তো ছেলেটার কোন লাভ হচ্ছে না..তাছাড়া তুই
যেদিন আসিছ না সেদিন কিন্তু ছেলেটা
আমাকে ফলো করে না ...তাহলে
-- চুপ করবি তুই..মুখে যা আসছে তাই বলছিস
..এসব কথা আমাকে বলবি না
-- অকে..অকে ..
বাসায় গিয়ে রিপার কথাগুলো
ভাবলাম..ছেলেটা তো এমনি ভালো...দেখতেও
খারাপ না সত্যি যদি ছেলেটা আমাকে
ভালোবাসে তাহলে বলছে নাকেন...মনের
কথাটা বলে দিলেই তো হয়..বলবেই বা কি করে
সেদিন যে ঝাড়ি দিছি হয়তো ভয়ে বলছে না
.
-- আজ ছেলেটাকে দেখে সত্যি মায়া হচ্ছে এত
রোদের মধ্যে দাড়িয়ে থাকার কি আছে (আমি)
আমি ছেলেটার দিকে এগিয়ে গিলাম, আমাকে
দেখে ছেলেটি হাঁটা শুরু করলো
..এই দাঁড়ান তো
-- জ্বী আমাকে বলছেন (শ্রাবণ)
-- হুম আপনাকেই বলছি ..
-- বলেন??
-- বাসায় ছাতা নেই
-- হ্যাঁ,আছে কেন?
-- কাল থেকে ছাতা নিয়ে আসবেন
-- অকে
-- শুনেন..আপনি কি আমাকে কিছু বলতে চান..
-- না তো..কি বলবো
-- আপনার মাথা..আজিব ছেলে
.
তিনদিন পর
-- একটু শুনবেন (শ্রাবণ)
-- বলেন (আমি)
-- রেগে আছেন মনে হয়
-- না বলেন
-- কিছুনা..থাক..আজ আপনার মুড অফ
-- আজ না বললে আর কোনদিন যদি আমার
আশেপাশে আপনাকে দেখি তাহলে খোবর আছে
-- হুম,, চোখটা একটু বন্ধ করা যাবে
-- কেন!!!
-- ভয় লাগছে করেন না
-- অকে
চোখ খুলে দেখি আমার হাতে একটা চিরকুট
..ছেলেটা নেই
কোথায় গেলো..ছেলেটাকে এত খুঁজে দেখা
পেলাম..একটু হাসলাম তারপর বাসায় গেলাম
বাসায় গিয়ে চিরকুট খুললাম..
কোথাও কিছু লেখা নেয় ..এক কোনায় ছোট্র
করে লেখা
" ভালোবাসি "
এইটা কি লাভ লেটার না অন্য কিছু
.
পরেরদিন ছেলেটি একি জায়গায় মাথা নিচু
করে দাঁড়িয়ে আছে
-- আমার দিকে তাকান, কলমের কালি ছিলো
না (আমি)
-- ছিলো তো কেন (শ্রবণ)
-- তাহলে এত ছোট করে লেখা কেন..অারো
কিছু তো লিখতে পারতেন ..
-- এই চিরকুট টাই দিতে পারছিলাম অনেকদিন
ধরে পকেটে লিখে রেখেছিলাম
-- আমাকে ভয় পাওয়ার কি আছে..বুঝলাম না
-- আপনে যা রাগি..ভয় পাবো না যদি আমাকে
থাপ্পড় দেন
-- হুম..আপনাকে থাপ্পড় দেওয়াই উচিত...কথাটা
তো সামনা সামনি বলতে পারতেন
-- সামনে বলার সাহস হয়নি তাই চিরকুটে ..
-- আচ্ছা আমার প্রতি আপনার ভালোবাসাও কি
এতো অল্প
-- কতটা ভালোবাসি তা লিখে প্রকাশ করতে
পারবো না....তাই বেশি কিছু লিখলাম না
-- এত ভালোবাসা কিন্তু আমি তো আপনার
সাথে প্রেম করতে পারবো না
-- কেন
-- আমি এরকম ভীতু ছেলের সাথে প্রেম করতে
পারবো না
-- কে বলছে আমি ভীতু ..
-- তাহলে সবার সামনে প্রপোজ করতে পারবেন
-- হুম ..এখনি করছি..একটু দাঁড়ান
-- কেন??
শ্রাবণ দৌড়ে গিয়ে একটা গোলাপ নিয়ে আসলো
তারপর হাঁটু গেরে সবার সামনে
-- will you marry me?? (শ্রাবণ)
-- অবাক হয়ে আমি শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে
রইলাম
-- হ্যা করে তাকিয়ে থাকবেন নাকি গোলাপ টা
নিবেন হাঁটু ব্যাথা হয়ে গেলো
-- yeah..হাদারাম
-- আমি হাদারাম..
-- তাই তো..এখনো তুমি করে বলতে পারলে
না..আমার চোখের দিকে ভালো করে তাকাতে
পারছো না ..কিসের এত লজ্জা তোমার
-- তোমার ওই মায়াবী চোখের দিকে তাকালে
আমার সব এলোমেলো হয়ে যায়..
-- তাই..আর এই যে, এখন যেভাবে দাড়িয়ে
থাকো এরপর থেকেও এভাবেই দাড়িয়ে
থাকবে..কিন্ত রোদের মধ্যে না একটা ছাতাও
আনবে
-- অকে...
-- হুম