বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০১৬

অকল্পনীয় ভালোবাসা

আমি দাঁড়িয়ে আছি ঢাকা গাবতলী বাস স্টান্ড । একটু
আগে বাস আসলো, আমি বাসে উঠেই তিন নাম্বার
সিটের দিকে তাকিয়ে দেখি সেখানে কেউ নাই।
দুইটা সিটই খালি, সাথে সাথে আমি গিয়ে তিন নাম্বার
সিটের জানালার পাশের বসে পরলাম । কিছু সময়ের
মধ্যেই বাসের সবাই উঠে গেল, আমার সিটে আমি
একাই, আমার পাশে কেউই নাই বসার জন্য, আমার
জন্য খুব ভালোই হয়েছে, আমার একা থাকতে খুব
ভাল। কিছু সময়ের মধ্যেই বাস ছেড়ে দিল তার
গন্তব্যে রংপুরের উদ্দেশ্যে । আমি জানালাটা
খুলে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছি।
.
বাহিরে তাকিয়ে দেখছি কত মানুষকে ছাড়িয়ে
আমাদের বাস চলছে, রাস্তার পাশে নানা রকমের
মানুষ, যে যার কাজে ব্যস্ত। বাহিরে তাকিয়ে থাকতে
থাকতে মনে পরে গেল এক বছর আগের কথা
সেই দিনটা ছিল ১৪.০২.২০১৫ ইং। এই দিনেই আমার
"বর্ষা কন্যা" নমের একটা আইডির সাথে চ্যাটিং
হয়েছিল প্রথম। আমিই প্রথমে ম্যাসেজ দিয়েছিলাম
যেমন ---
.
---কেমন আছেন?
---ঠান্ডা।
---ওওও, কোথায় থাকেন?
---বাসায়।
---কি ব্যাপার আমিই শুধু আপনাকে জিজ্ঞেস করবো,
আপনি করবেন না?
---না, আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করার ইচ্ছা আমার নাই।
---হুম ভাল, নাম কি আপনার?
---তাসমীম।
---খুবই খারাপ নাম আপনার?
---খুব ভাল,
(আমি মনে মনে বললাম আমার সাথে কথা বলবেন না
ব্যবস্থা করছি একটু পর)
---আচ্ছা! আপনার মনে খুব কষ্ট তাই আপনি এমন
করছেন তাই না?
---আপনি জানেন কিভাবে?
---আপনার কথা শুনে বুঝলাম, আচ্ছা বলেন তো
আপনার মনে এত কিসের কষ্ট?
.
তারপর শুরু হল তার কথা বলা, কিসের জন্য এত কষ্ট?
কি কারণে, কেন এখনো কষ্ট পাচ্ছে? সব
আমাকে বলল। কথা গুলো শুনে আমারো কিছুটা
কষ্ট হয়েছিল, তার সব কষ্টের মূল একটি ছেলে।
মানুষ কতটা খারাপ হতে পারে তাও বুঝলাম আবার নতুন
করে তার কাছ থেকে। তারপর থেকে কথা বলা শুরু
প্রতিদিন ফেইসবুকে আসলেই তার ম্যাসেজ
আগে পেতাম। যেই মেয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন
করতো না, সেই তার এখন প্রশ্নের শেষ
কোথায় সে নিজেও জানে না।
.
সে এখন কথার ঝুরি নিয়ে বসছে আমার সাথে কথা
বলার জন্য । এভাবে কথা বলতে বলতে ৬ মাস পার
হয়ে গেল। এখন সে ফেইসবুকে ঢুকলে
আমাকে ছাড়া কিছুই বোঝেনা। আমারো ভাল
লাগতো তার সাথে কথা বলতে। আমি আসতে
আসতে তার প্রতি কিছুটা দূর্বল ছিলাম কিন্তু বুঝতে
দিতাম না। কারণ,সে যদি বুঝতে পারে আমি তার প্রতি
দূর্বল, তাহলে হয়তো আমার সাথে কথাই বলবে না।
তাই আমি তাকে বুঝতে দিতাম না। একদিন কথা বলে
বুঝলাম সে আমার প্রতি প্রায় অনেকটা দূর্বল।
.
তাই একদিন তাকে আমার মনে তার জন্য জমানো যত
কথা ছিল, তার জন্য সাঁজানো যত কথা ছিল, সব কথা
গুলো এক এক করে সব বলেই দিলাম আমি, আমি
আপনাকে পছন্দ করি অনেক আগে থেকে,
কিন্তু বলতে পারিনি। আপনার জীবনে দুঃখের কারণ
একটা ছেলে, তাই হয়তো আর একটা ছেলেকে
আপনার বিশ্বাস না হওয়াটাই সাভাবিক,কিন্তু সবাই এক না।
আজ থেকে আপনাকে সুখ না দিতে পারি, তবে দুঃখ
দিব না, আপনাকে হাজার বার "আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ
নাও বলতে পারি, তবে একটা বার মনের গভীরে
থেকে অনেক ভালবাসা জমা হয়ে আসা হাজারো
ভালবাসার সমান একটি বার মন খুলে বলবো আমি
আপনাকে অনেক ভালবাসি। আপনি কি ভালবাসবেন এই
আমাকে?
.
সেও রাজি হয়ে গেল, রাজি না হয়ে তো উপায়
নেই কারণ সেও তো আমার প্রতি দূর্বল। তবে
আমাকে কিছু শর্ত দিয়েছিল, আমি যেন ঐ
ছেলেদের মত না হই যারা তার ভালবাসার মানুষের
সাথে খারাপ ব্যবহার করে, বকাবকি যেন না করি, তার
কথা যেন কিছুটা হলেও শুনি। আমি তো এক পায় রাজি,
যদি অন্য পা না থাকে তাও রাজি, কারণ আমিও চাই কারো
সাথে আমার জীবনের কিছু কষ্ট, কিছু সুখের কথা
শেয়ার করতে। কারো ভালবাসার মধ্যে থাকতে,
কারো রাগ মাখা চেহারার বকা খেতে, ঝারি খেতে,
না খেলে রাগ করবে, আবার বকা দিবে। আমি তো
সব শর্তে রাজি।
.
এভাবে হয়ে গেল আমাদের ভালবাসা। এরপর
থেকে আমার দিন গুলো খুব খারাপ যাচ্ছে ওর জারি
খেতে খেতে। সকালে উঠতে লেট হলে
ঝারি, লেট করে খাওয়ার জন্য ঝারি, বেশি সময়
ফেইসবুকে থাকলে ঝারি, বেশি রাত জাগলেই ঝারি,
আর অন্য মেয়েদের দিকে তাকানোর কথা কি
বলবো। অন্য মেয়েদের দিকে এমনিতেই আমি
খুব কম তাকাই। এখন তাসমীম আমার জীবনের
আশার পর থেকে মেয়েদের দিকে তাকানোর
আগেই ওর ঝারি কথা চোখে ভাসে। এই বুঝি
আমাকে মাইর দেওয়া শুরু করলো, তাই ভুলেও অন্য
মেয়েদের দিকে তাকাই না যদি আবার ঝারি দেয়?
.
এসব ভাবতে ভাবতে কিভাবে যে অনেক সময় পার
হয়ে গেল নিজেও বুঝতে পারিনি। পেরায় ৬ ঘন্টা
পর, দুপুর ০২: ১১ মিনিটে বাস থেকে নামলাম রংপুর
বাস স্টান্ড । বাস থেকে নেমে দীর্ঘ একটা
নিশ্বাঃস ছেড়ে দিলাম। এরপর একটু সামনে যেতেই
কোথা থেকে বাতাস এসে আমাকে একদম ঠান্ডা
করে দিল। সামনে গিয়ে তাসমীমকে কল দিলাম।
আমাকে বলল পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে। আমি মিনিট
দুই অপেক্ষা করার পর সামনের দিকে তাকিয়ে আছি,
তিন মিনিটের মধ্যেই দেখলাম তিনজন মেয়ে
হেঁটে আসছে। তবে একজন হিজাব পরা আর অন্য
দুইজন সাধারণ পোশাক পরা।
.
হিজাব পরা মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আর অন্য দুই মেয়ে আমাকে দেখে আসচ্ছে।
সাথে সাথে আমার শরীরের পোশাকের দিকে
তাকালাম, আমার শরীরের খুজঁতেছি কোথাও আবার
কাকে পায়খানা করলো নাকি যে মেয়ে দুইটা
এইভাবে আসচ্ছে। না কোথাও পায়খানার তেমন
কিছুই পেলাম না, তার মানে কি এরা তিনজন আমার
কাছেই এসেছে।
.
আমি আবার হিজাব পরা মেয়েটার দিকে তাকালাম,
তাকিয়ে বুঝতে পারলাম এরা আমাকে নিতেই
এসেছে। হিজাব পরার জন্য শুধু তার চোখ দু'টোই
দেখা যাচ্ছে। তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম
কি মায়া সেই চোখে, শুধু তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছা
করে, চোখ ফেরানো দায়। আমি আবার তার
ভালবাসায় হারিয়ে গেলাম। এর মধ্যেই তিনজন আমার
সামনে এসেই বলছে :
---কোন সমস্যা হয়নি তো আসতে?
---না না কোন সমস্যা হয়নি, আপনারা সবাই কেমন
আছেন?
---হুম ভাল আছি, আচ্ছা চলুন কোথাও বসি?
---না বসবো না।
---কেন বসবেন না, এত পথ জার্নি করে
এসেছেন এখন কোথাও বসে কিছু খেয়ে
নেন?
---না বসবো না, এই ছয় ঘন্টা বাসে ভিতর বসেই ছিলাম
এখন আপনাদের সাথে ঘুরবো চলুন?
---ওকে, আপনি যা ভাল মনে করেন?
---হুম চলেন তাহলে?
.
ওদের মধ্যে একজন বলল এই যে হিজাব পরা এই
হল আপনার তাসমীম। যান মহারানী আপনার মহারাজার
সাথে কথা বলেন?এই কথা বলেই তারা দুই জন হিহিহি
করে হেসে দিল। তাসমীমের চোখ-মুখ লজ্জায়
লাল হয়ে গেছে হয়তো। এরপর আমি আর
তাসমীম একটু সামনে একটা বেঞ্চে বসে আমি
জিজ্ঞেস করলাম ::
---কেমন আছো?
---ভাল, আপনি?
---ভাল, তোমার পরিবারের সবাই কেমন আছেন?
---ভাল, আচ্ছা আপনি বাসে উঠার পর কিছু
খেয়েছিলেন?
---না কিছুই খাইনি।
---ভাল করেছেন?
এটা বলেই তাসমীম ওর ব্যাগে হাত ডুকালো, হাত
ডুকানোর সময় খালি হাত ডুকিয়েছিল কিন্তু বের করার
সময় ওর হাতে একটা বক্স দেখতে পেলাম। বক্সটা
নামিয়ে আমার কাছে দিল। আমি খুলে দেখি বক্সে
লুডুস, তাসমীম আমাকে বলল তোমার জন্য বানিয়ে
এনেছি খেয়ে নেও। আমি চামিস হাতে নিয়ে
বললাম আগে তুমি খাবে তারপর আমি। ও না বলল, তখন
আমিও বললাম ঠিক আছে আমিও খাবো না? তখন সে
রাজি হল খাওয়ার জন্য।
.
এরপর ওর হিজাব থেকে মুখের কাপড়টা খুলল আমি
তো ওর চেহারা দেখে আবার হারিয়ে গেলাম? কি
সুন্দর চেহারা একদম পরিই হবে দুই কানে দুইটা
ছোটো ছোটো দুল, চোখের ভুরুতে
কাজল, ঠোটে হালকা গোলাপি লিপিস্টিক, অসাধারণ
দেখাইছে তাকে, আমি আবার তার ভালবাসার প্রেম
পরে গেলাম।
---এই কি হল এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? কি
দেখছো এইভাবে?
---না না কিছুই না। আসলে তোমাকে দেখে আমি
আবার তোমার প্রেমে পরে গেলাম?
---
কিছু বলল না লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেলছে!
---যা দুষ্ট! আচ্ছা এখন খেয়ে নেও?
---তুমি খাবে না?
---না।
---আচ্ছা হা কর আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি? এরপর
ও হা করলো আমি ওকে খাইয়ে দিলাম তারপর আমিও
খেলাম। খাওয়া শেষে আমরা ঘুরতে যাওয়ার জন্য
এরপর আমরা সবাই গেলাম এক বিরাট বাড়ির সামনে
সেখানে
.
সেই বাড়িটার নাম "তাজহাট জমিদার বাড়ি"। সেখানে
আমরা অনেক সময় ঘুরে কাটালাম। তারপর আমরা ঝাল
মুরি খেলাম। এরপর আমি আর তাসমীমা একটা
বেঞ্চে বসে কথা বলছিলাম তখন তাসমীমা
জিজ্ঞেস করলো আচ্ছা কাল ১৪ ই ফ্রেব্রুয়ারি
"বিশ্ব ভালবাসা দিবস " গেল কাল না এসে তুমি আজ
আসলে কেন?
.
আমার জন্য তোমাকে ভালবাসার কোন দিবস নাই,
আমার জন্য সব দিনেই তোমাকে ভালবাসার দিবস,
আর আমার কাছে প্রতিদিনেই তোমাকে ভালবাসার
দিন?
.
এই কথা শুনে তাসমীমা কান্না করে দিল। আমি ওকে
আমার বুকের মাঝে নিয়ে ওর কপালে একটা পাপ্পি
এঁকে দিলাম। তাসমীমা আরো কান্না করছে আর
বলছে তুমি আমাকে এত ভালবাস রাকিব,, ( ছেলেটির
নাম)
.
হ্যাঁ আমি তোমাকে অনেক অনেক অনেক
ভালবাসি সোনা।
.
এরপর আমাকে বিদায় দিতে সবাই বাস স্টান্ড
আসলো। আমি সবাইকে বায় বলে তাসমীমকে
বললাম তোমাকে অনেক ভালবাসি, তোমাকে
ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। এই কথা শুনেই
তাসমীম কান্না কন্ঠে বলছে আমি তোমাকে
ছাড়তে পারবো না রাকিব? কথা গুলো বলতেই কান্না
শুরু করে দিল। বাস চলে এসেছে, আমি বাসে
উঠে বসলাম কিন্তু আমার মনটা এখনো ওর কাছে
পরে আছে, সিটে বসে বায় বলতেই বাস ছেড়ে
দিল। হয়তো যত সময় বাস দেখতে পারবে তত
সময় সেখানেই দাড়িয়ে কান্না করতে থাকবে এই
কথা ভাবতেই আমার চোখের কোণে এক
ফোঁটা জল এসে গেল,,,,,,

শুক্রবার, ১১ মার্চ, ২০১৬

অবহেলা অতঃপর উপসংহার

একে একে ৫ টা মেসেজ সেন্ড হওয়ার পর একটু খটকা লাগল সাথীর। প্রায় ৭মিনিট অতিক্রম হতে চলছে। কিছু না বলে হঠাৎ অফলাইনে চলে গেছে রিশান।
ভাবতে ভাবতে ফোন দিল সাথী......
তিন বার কল করার পর ফোন রিসিভ হলো ওপাশে..
সাথী: কই তুমি? হঠাৎ না বলে অফলাইনে গেলে কেন?
.
রিশান: একটু ব্যাস্ত।
.
সাথী: ব্যাস্ত বুঝলাম,কিন্তু একটু বলে যেতে পারতে। বোঝোই তো তুমি ছাড়া অামার ফেসবুক শূন্য মনে হয়।
.
রিশান: এত ঢং করো কেন? কখন কি করবো,কেন করবো সব তোমাকে বলে করতে হবে নাকি?
.
সাথী: বাবু তুমি এভাবে কথা বলছ কেন? অামি কি ভুল কিছু বলেছি? শুধু তো....
.
রিশান: চুপ থাকো তো। ফোন রাখো। অাজাইরা প্যাঁচাল পারতে পারবনা।
ওপাশে ঠাস করে ফোন রাখার শব্দ হলো...
ভেতরের সমস্ত প্রান্তরটা যেনো দুমড়ে-মুচড়ে অালোড়ন শুরু করল চাপা কষ্টের। অবাধ্য অশ্রুর বাঁধা না মানা উচ্ছাসে ফুঁপিয়ে উঠল সাথী।
.
প্রায় ছয় মাস অাগে ভার্চুয়াল নামের বর্তমান বাস্তব প্রতিবিম্বের অাধার ফেসবুকে পরিচয় উপরোক্ত দুঃখিনীর সাথে রিশান নামের ছেলেটার!

কাব্যজগৎ পেইজের কোন একটা কবিতার কমেন্টস দেখে রিশান এড দিয়েছিল সাথীকে। একসেপ্টের পর সৌজন্যতামূলক ধন্যবাদ। অতঃপর টুকিটাকি অালাপ! তারপর সাথীর পক্ষ থেকে কিঞ্চিৎ ভাব নেওয়ার প্রবণতা। মেয়ে বলে কথা।
কিন্তু শেষ পর্যন্তু ফ্রী হয়ে যায় দুজন। রিশানের সচ্ছল,মজাদার,কাব্যিক কথা-বার্তা ভাল লাগে সাথীর।

অতঃপর কিভাবে দুজন রিলেশনশিপে পৌছাঁল এটা নিশ্চয় অাপনাদের মত ভার্চুয়াল জগতের অভিঙ্গগতা সম্পন্ন বুদ্ধিমান/বুদ্ধিমতি ব্যাক্তিদের রোমান্টিতকা দিয়ে বোঝাতে হবে না।

অাস্তে অাস্তে রিশানের প্রতি দুর্বলতা,এবং নির্ভরশীল হয়ে পড়ল সাথী। কুমারী চিত্তের প্রথম ভাল লাগায় পরিনত হওয়া ভালবাসার সাথে সাথীর সমস্ত অাস্তীত্ব জুড়ে শুধুই রিশান!!!
প্রতিটা মুহূর্তে মনে হয় এখন কি করছে ছেলেটা? খেয়েছে? নাকি খেতে ভুলেই গেছে পাগলাটা? এসব ভাবনা তার প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গি হয়ে যায়। রিশান যেন তার সমস্ত বাগান জুড়ে ফোটা একটাই ফুল,পৃথিবীর কিছুই যেন সাথীর সামনে ধোঁয়াটে রিশান ছাড়া।

মেয়েটা এখনও ফুঁপিয়ে উঠছে মাঝে মাঝে। নিজেকে বার বার প্রশ্ন করেও উত্তর পায়না বোকা মেয়েটা কেন রিশান এমন করছে তার সাথে? বেশ কিছু দিন থেকেই সাথী ব্যাপারটা অনুভব করছে কিন্তু রিশানের দুই একটা মিষ্টি কথায় পানি হয়ে যায়।

ফোন দিলে রিসিভ করে না। নিজে থেকে ফোন খুব কম দেয়,সাথী দিলেও একটু কথা বলে সুকৌশলে ব্যাস্ততার দোহায় দিয়ে পরে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফোট কেটে দেয়।

অনলাইনে(ফেসবুক) অাসলেও সাথী টেক্সট না দিলে অাগে রিপ্লে দেয় না রিশান! অথচ কিছু দিন অাগেও সাথী ফোন রিসিভ না করলে এই রিশান ফোনের পর ফোন দিত কোন ক্লান্তি ছিল না,মেসেজের পর মেসেজে সাথীর ইনবক্সটা মাতিয়ে রাখত সারাদিন।
,,
নিস্তব্দ রজনীর নিঃস্বজ্ঞ ঝিঝি পোকা গুলোও যেন উপহাস করছে সাথীর দীর্ঘনিঃশ্বাস থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের! ক্ষত-বিক্ষত ভেতরটার প্রবাহমান বেদনার চাপা অার্তনাদ চাপাই রেখে ঘুমিয়ে পড়ল সাথী। জেগে থাকল শুধু কিছু ছিন্ন হতাশা।

সকাল ৭ টা। ফোনের ভাইব্রেশনে চমকে উঠল সাথী! নিশ্চয় রিশান ফোন করছে ভেবে। তড়িঘড়ি করে ফোনটা হাতে নিয়ে হতাশ হলো অন্য একটা কল দেখে।
রাগে ফোনটা সুইসড অফ করে ভাবল রিশান ফোন না দেওয়া পর্যন্তুু অামিও ফোন দিব না। দেখি কতক্ষন ফোন না দিয়ে থাকতে পারে।
.
সময় ১১.২৫। ইতি মধ্যে ছোট ভাইকে মামুলি কারনে দুই-চারটা কিলঘুসি মারা সম্পন্ন করেছে সাথী। এখন অাম্মুর অাদালতে বাদি হয়ে সাথীর ছোট ভাই সাথীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করতে ব্যাস্ত। অাম্মুর সাথে উচ্চবাচ্চ্য হয়েছে বেশ কয়েকবার সাথীর। সো-কেসে রাখা রোমান্টিক ভজ্ঞিমায় দুটি লাভ বার্ডের মাঝে একটা মাথা অার একটার পা ভাঙ্গার পিছনেও তার অবদান!

সবকিছু অাছে,সবকিছুই স্বাভাবিক তবুও অস্থির মনে হচ্ছে সাথীর,মনে হচ্ছে সবকিছু অসম্পূর্ন! কারন একটায় রিশানের সাথে কথা বলা হয়নি তার অাজ। সকাল থেকে বার বার ফোনটার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে অপেক্ষা,এই হয়ত ফোন দিবে রিশান কিন্তু.....! শেষ হয়না কোন এক নির্বোধের প্রতি জমানো অভিমানের পরশে মাখা অপেক্ষা। অাবার একবার হেরে যায় নিজের কাছে সাথী। সব অভিমানের প্রতিজ্ঞা ভুলে ফোন দেয় রিশানকে...
.
প্রায় ৫ বার কল করার পরে রিশান ফোন রিসিভ করল..
সাথী: হ্যালো? কেমন অাছো?
.
রিশান: ভাল। তুমি?
.
সাথী: কাল থেকে একটাবার ফোন দাওনি,অামার কত কষ্ট হয় বোঝনা রিশান?
.
রিশান: অাসলে একটু ব্যাস্ত ছিলাম। এখনও ব্যাস্ত।
.
সাথী: কি এমন ব্যাস্ততা একটু বলবে প্লিজ? খুব কথা বলতে ইচ্ছে করছে তোমার সাথে প্লিজ একটু কথা বলো।
.
রিশান: পরে বলব।এখন রাখলাম ।বাই।
.
সাথী: প্লিজ অার দুই মিনিট কথা ব.....!! হ্যালো? হ্যালো রিশান?
ফোনটা কেটে দিয়েছে ওপাশে।
ওপাশে রিশান নামের ছেলেটা সাথীর অাকুতির অপেক্ষায় নেই। ব্যাস্ততার অযুহাতে মুক্ত করেছে সে নিজেকে অাবার একবার!!!!

কানের সাথে চেপে রাখা ফোন,অভীমানি কম্পিত দুটি ঠোটে অব্যক্ত কাতরানি,গন্ডদেশ বয়ে গড়িয়ে পরা নোনতা জ্বলের ধারায় এখন সাথী নামের বোকা মেয়েটার শেষ উপহার!

উপরোক্ত দৃশ্যপটে ফুটে উঠেছে স্পষ্ট অবহেলিত ভালবাসার প্রতিচ্ছবি ! ভালবাসা শব্দটা ব্যাবহার করা হয়ত উচিত হলো না। রিশান নামের ছেলেটা কেন সাথী নামের মেয়েটাকে অবহেলা করছে বলতে পারেন? কেন বার বার ব্যাস্ততার অজুহাতে রিশান নিজেকে অাড়াল করে নিচ্ছে বলতে পারবেন?

কারন একটাই। অামরা মানুষ। হ্যাঁ অপরাধ নয় অামরা মানুষ বলে। অপরাধ অামাদের বৈশিষ্ট্যে। যখন রিশান বুঝতে পারল সাথী তার প্রতি যথেষ্ট দুর্বল,যথেষ্ট নির্ভরশীল হয়ে পরছে,যখন রিশান বুঝতে পারল সাথীকে রিক্ত,তিক্ত,চোখের জলে সিক্ত করলেও সাথী চলে যেতে পারবে না ঠিক তখনই অবহেলা করতে শুরু করল।

এটাকে অহংকার বললেও ভুল হবে না। অার মানুষ হিসাবে একটা অভ্যাস/বদঅভ্যাস অামাদের অাছে,যার কাছে যত বেশি অবহেলা,অনাদর পাওয়া যায়,তার প্রতি অাকর্ষন,মনোযোগ তত বেশি বৃদ্ধি পায়। অাজব হলেও সত্য। শুধু রিশান নয় পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক।
.
রিশানের স্থানে সাথী থাকলেও ব্যাপারটার প্রতিক্রিয়া একই হতো।
এক কথায় যতটা সহজলভ্য করবেন নিজেকে যার কাছে তার কাছে ততটা অবহেলিত হবেন,হোক সেটা ছেলে কিংবা মেয়ে।

তবে অবহেলা করা যেমন ভাল চোখে দেখা যায় না,ঠিক তেমনি নিজেকে যে সহজলভ্য করবে তাকেও সাধুর অাসনে বসা যায় না। "প্রেমে সর্গ প্রেমেই নরক,প্রেমেই বাঁচা মরা" একটা গানের কলি এইটা। বাস্তবে পুরোটা না হলেও অধিক ক্ষেত্রে কথাটা কার্যকরী। অাপনি ভালবাসবেন কিন্তু ভালবাসার মাঝে উঁচু-নিচু ভাবে নিজেদের অাসনটা ঠিক করবেন তবে তাকে ভালবাসা বলবেন না। ভুল করেছেন অাপনি অথবা অাপনার ভালবাসার মানুষটি,এমন তো কথা নেই দুজনের মাঝে যে ভুল করেছে সে অাগে সরি বলবে অথবা অাগে কথা বলবে। অাপনি অাগে বলুন সরি,নিজে খুজে গিয়ে কথা বলুন এতে সম্মান কমবে না বরং অাপনার মাহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে নিজের ভুলটা বুঝতে পারবে অাপনার প্রিয়জন।

এমন তো কোন চুক্তি নেই ভালবাসার মাঝে যে ভালবাসার প্রতিদান অবহেলা হতে হবে।
অাপনার ভাল লাগছেনা বীপরিত পাশের মানুষটাকে,তার উপস্থিতি এড়িয়ে চলতে চান ভালো কথা,সরাসরি তাকে বলে দিন অাপনার সিদ্ধান্তটা,তিলে তিলে অবহেলা করে সর্গীয় ভালবাসাটাকে ঘৃনায় পরিনত হওয়ার সুযোগ দিবেন না দয়া করে।
তবে মানুষ চিনতে ভুল করবেন না। সৌভাগ্য দড়জায় কড়া নাড়লে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া বোকামি ছাড়া অার কিছু নয়।

কিন্তু তবুও যদি রিশানের মতো অবহেলা করতে থাকেন তাহলে শেষ পরিনতি কি হতে পারে?
অবহেলা নামের অাগুনটা যে কতটা পোড়াতে পারে তার সারমর্মটা বুঝা যায় ঠিক তখনই যখন এমন কিছু নিজেকে পোহাতে হয়। শত শত অবহেলার তিক্ত পুথি দিয়ে গাঁথা মালাটা বড় হতে থাকবে।

এক দিন... এক সপ্তাহ... এক মাস.. কয়েক মাস... একদিন ঠিকই উল্টে যাবে ধারাবাহিকতা! সাথীর মত অসংখ্য অবহেলা প্রাপ্ত মেয়ে/ছেলে দের বিন্দু বিন্দু করে হৃদয়ে জমানো অসীম ভালবাসাগুলো অবহেলার প্রহারে পরিণত হবে ঘৃনার অগ্নিকুন্ডে!! যতটা ভালবাসত বীপরিত পাশে মানুষটা অাপনাকে ঠিক ততটায় ঘৃনার উদ্ভব হবে তার অাপনার সান্নিধ্যে।

তখন নীয়তির দোষ দিয়ে কপাল ঘসবেন না পাথরে, সমস্ত মেয়ে অথবা ছেলে জাতির পবিত্র পৃষ্টায় অাপনার কুলষিত মানসিকতা দিয়ে যেন লিখবেন না স্বার্থপর শব্দটা!
কারন পরিবর্তন,পরিবর্ধন,পরিনতি সবকিছুর জন্য দ্বায়ী থাকবেন তখন অাপনি।
হ্যাঁ শুধুই অাপনি।

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

``অপেক্ষার ধ্রুমজাল``

 ১.
খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে ছেলেটাকে মানায় খুব।ক্লাসের
কোনের টেবিলটাতে সব সময় বসে থাকে কেন ছেলেটা!
কারো সাথেই কথা বলতে চায় না।এমন কেন সে! মনকে
প্রশ্ন করে অর্পা।মন কোন উত্তর দেয় না।ছেলেটা প্রায়ই অর্পার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে থাকে।তবে কথা বলতে চায়না কেন সে! অর্পা তা ভেবে পায়না।প্রতিদিন
নিয়ম মাফিক করে ক্লাসের ফাকে ফাকে আড় চোখে
অর্পাও ছেলেটাকে দেখে আর বারবার মুগ্ধ হয়।বারবার
মুগ্ধ হতে অর্পার ভালোই লাগে। এই মুগ্ধতাই আস্তে
আস্তে ভালোবাসায় রূপান্তর হয়ে গেছে।মুখ ফুটে অর্পা
কিছু বলতে পারে না।বলবেই-বা কিভাবে! এখনো তো
ছেলেটার সাথে খুব একটা কথাই হয়নি।অর্পা অপেক্ষার ধ্রুমজাল বুনে।যেকোন একদিন কথা বলবেই।অর্পা অনেকবার
চেয়েছে কথা বলতে।কিন্তু ছেলেটা
প্রয়োজন ছাড়া যেন কথাই বলতে চায় না।এমন একটা
ছেলেকে অর্পা পছন্দ করেছে! অর্পার বান্ধবীরা এটা
নিয়ে অনেক ঠাট্টা করে।তবে সেদিকে অর্পার কোন
ভ্রুিক্ষুপ নেই।এমন একটা ছেলেকেই অর্পা তার জীবনে
চেয়েছিল।তার মত ছেলেরাই খুব গভীর আবেগ নিয়ে আপন করে
ভালোবাসতে যানে।আবেগ ছাড়া ভালোবাসা কল্পনার বাহিরে।
.
ছেলেটার নাম ইমরান।অর্পার সাথে একই ক্লাসে পড়ে।
ইমরানের সাথে অর্পার প্রথম দেখা হয় ছাদের কোনে।
পাশাপাশি বাসা দুজনের।দুই ছাদের নিচে দুজনের
আবাসস্থল।ভেজা চুলগুলো শুকানোর জন্য ছাদের উপর
উঠেছিল অর্পা।ছাদে উঠেই চোখ গেলো পাশের বাসার
ছাদের উপর।চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা পড়ে ছাদের
রেলিং ধরে অন্যমনস্ক হয়ে দাড়িয়ে ছিল ইমরান।গায়ে
ছিল ধূসর সাদা পাঞ্জাবি।
.
অর্পা দুষ্টুমি করে ইমরানকে ডেকে উঠল,
"এই যে?......."
কোন প্রতি উত্তর নেই ইমরানের কাছ থেকে।আবারো
অর্পা ডাকল,
"এই যে শুনছেন?...."
"এই,আপনি কি কানে শুনতে পান না নাকি?"
অন্যমনষ্কতা ভেদ করে শেষের বাক্যটা ইমরানের কান
অব্দি পৌঁছিয়েছে।ফিরে তাকালো ইমরান।অচেনা
একটি মেয়ে।ঠোঁটের বেলকুনিতে হাসি এঁকেছে।
মেয়েটি কি ইমরানকেই ডেকেছিল?!! নাহ অপরিচিত
মেয়ে কেন ইমরানকে ডাকবে! ভেবেই তাৎক্ষনিক
মাথাটা ঘুড়িয়ে নিল ইমরান।অর্পা ভিমচিৎ খেয়ে
গেলো।আবারো ডাকল,
"এই শুনছেন? ফিরে দাড়ালেন কেন? এদিকে ঘুড়োন।
আপনাকেই ডেকেছি"
চশমাটা ঠিক করতে করতে ঘুড়ে দাড়ালো ইমরান।থমকে
থমকে মুখগহব্বর থেকে চুপসানো ধ্বনি বের হল।অর্পা
শুনতে পায়নি অস্পষ্ট কথাটুকু।অর্পা বলল,
"কি বললেন শুনতে পাইনি"
"না মানে কি জন্য ডেকেছিলেন?"
"কেন! আপনাকে ডাকা কারো নিষেধ আছে নাকি!!"
"তেমন কিছু নয়।আমি তো আপনাকে চিনিনা"
"কিন্তু আমি আপনাকে চিনি।(একটু মজা করে মিথ্যা
বলল অর্পা)"
অর্পা ইমরানকে চিনে কথাটা শুনেও ইমরান একটুও
চমকালো না।ইমরানের কাছে পরিচিতির ব্যাপারটা
কমন মনে হয়।খানিকক্ষন চুপ থেকে ইমরান বলল,
"ভালো"
"ভালো মানে! আপনি আমাকে চিনেন না অথচ আমি
আপনাকে চিনি সেটা আপনার কাছে আশ্চর্য্যের মনে
হলো না!!"
"আশ্চর্য্যের কি আছে? আচ্ছা আমি যাই"
"আচ্ছা। ওহ আপনার নামটা কি?"
"ইমরান"
"আমি অর্পা"
ফিকে একটু হেসে সিঁড়ির দিকে ইমরান পা বাড়ালো।
ইমরানের চলে যাওয়ার দিকে এক দৃষ্টিতে অর্পা
তাকিয়ে রইল।মনে মনে ভাবছে ছেলেটা কতটা সরল
সোজা।তবে মোটা ফ্রেমের চশমায় ছেলেটাকে দারুন
মানায়।একফালি হেসে অর্পা তার নিজের রুমে চলে
গেলো।
.
(২)
ক্লাস শেষে বাড়িতে ফিরল অর্পা।অর্পা বরাবর প্রতিদিনের মতই অপেক্ষা করে কখন বিকেল হবে।বেশ কিছুদিন হলো ইমরান আর ছাদে আসে নি।তবে ক্লাসে যদিও প্রতি দিনই দুজনের দেখা হয় কিন্তু কথা হয়না বললেই চলে।অর্পা প্রতিনিয়ত ছাদে আসত।ছাদের কোনে একটি হুইল চেয়ার স্থাপন
করেছে সে।পরন্ত গৌধুলি বিকেলে ছাদের কোনে বসে
থাকে অর্পা।একদিন বিকেলে নীল আকাশের সাদা মেঘ
ধীরে ধীরে ঘন কালো হয়ে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে।তীব্র
বাতাসের সাথে দলা বেঁধে নিকশ কালো মেঘেরা
ছুটাছুটি করছে।এই বুঝি ধুপ করে ছাপিয়ে বৃষ্টি নামবে।
নিকশ কালো মেঘলা আকাশ ইমরানের খুব পছন্দের।
জানালার পর্দার ফাক দিয়ে দলা বাঁধানো মেঘের
ছুটাছুটি দেখে রুম থেকে বেড়িয়ে ছাদে এসেছে ইমরান।
.
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে।বৃষ্টির একেকটি ফোটা একেক
জনের মনে একেক রকম ভালো লাগার জন্ম দিলেও
কারো কারো মনে এক অদ্ভূত ভালোলাগার অনুভূতির
জন্ম দেয়।তাদের মধ্যে ইমরান একজন।
ছাদে এসে ইমরান মুর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে।অর্পাও
বৃষ্টিতে ভিজে কাক ভেজা হয়ে গেছে।চুলগুলো লেপ্টে
আছে সারা মাথা জুড়ে।চুলের ঝরা বৃষ্টির জলগুলো গাল
দুটো বেয়ে থুতনি দিয়ে বুকের উপর ফোটায় ফোটায়
পড়ছে।
.
অপলক দৃষ্টিতে ইমরান তাকিয়ে রইল অর্পার দিকে।বৃষ্টি
ভেজা ললনাদের এতটা সুন্দর লাগে কাছ থেকে না
দেখলে সেটা বুঝার উপায় নেই।ইমরানের কাছে আজ
অর্পাকে মেঘকন্যা মনে হচ্ছে।ঠান্ডা হিমেল বাতাসে
শরীরে কাুপঁনি চলে এসেছে অর্পার।ছাদ থেকে নেমে
নিচে যাওয়ার ছলে ঘুরতেই দেখে ইমরানও ছাদের উপর
ভিজছে।চোখের দৃষ্টি রয়েছে অর্পার উপর।থমকে গেল
অর্পা।স্থির দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষন।প্রবল বেগে বৃষ্টির
বড় বড় ফোটা পরছে।টিপ টিপ পায়ে ইমরানের
কাছাকাছি যাচ্ছে অর্পা।ইমরানও ধীরে ধীরে অর্পার
দিকে ছাদের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এগুচ্ছে।রেলিং এর
সাথে আচমকা ধাক্কা লেগে চোখের পলক পরল।এতক্ষন
কি তাহলে ইমরানের চোখের পলক পরেনি!! মনে পরছে
না ইমরানের।অর্পাকে যত দেখে ততই কেন ভালো
লাগছে ইমরানের!! ব্যাখ্যাটা ইমরানের জানা নেই।
ভাবনায় শুধুই অর্পা।
.
ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে দুজন।হঠাৎ করেই
ধমকা বাতাসে শরীরটা কাঁপুনি দিয়ে উঠল দুজনের।
ইমরান বলল,
"বৃষ্টিতে ভিজছেন যে জ্বর আসবে না?"
"আপনিও তো ভিজছেন! আপনারও তো জ্বর আসতে পারে!"
সাবলীল উত্তর অর্পার।মেয়েটা গুছানো কথা বলে,ভাবছে ইমরান।ফুরফুরে বাতাস যেন অর্পার ভেজা চুলগুলো নিয়ে শূন্যে খেলা করতে চাচ্ছে।শরীরের কাঁপুনিতে চিকন গোলাপি ঠোঁট জোড়াও কাঁপছে অর্পার।
"বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করেন?" প্রশ্ন ছুড়ল অর্পা।
"হুম,অনেক বেশি পছন্দ।তবে মেঘলা আকাশ তার চাইতেও আরো বেশি পছন্দের"
ফিকে একটু হেসে অর্পা ছোট্ট করে বলল,
"আমারো খুব পছন্দ বৃষ্টিতে ভিজতে"
অতঃপর ঝুম বৃষ্টির ছায়ার নিচে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে
দুজনের খানিকক্ষন কথোপকথন হল।সেই কথার সুত্র ধরেই কিছুদিনের মধ্যেই দুজনের বন্ধুত্বের সূচনা হয়।
.
(৩)
যে ছেলেটা ক্লাসে কারো সাথেই কথা বলতে চাইত না সেই ছেলেটাই আজ ক্লাস মাতিয়ে রাখে।ইমরানের এতটা পরিবর্তের একমাত্র কারন অর্পা।বন্ধুত্বের অটুট বন্ধনে বাঁধা দুজনে।
দুজনার মনের ছোট্ট কৌঁঠিরে ভালোবাসা নামক এক অদৃশ্য অনুভূতির জন্ম নিয়েছে।কিন্তু হারিয়ে ফেলার অজানা এক ভয়ের হাত না বলা কথাগুলোকে চেপে ধরে রাখে।
ইমরান অনেকবার ভাবে আজ বলেই দিবে অপ্রকাশিত ভালোবাসার কথা।কিন্তু আবার খটকা লাগে যদি হাতটা অর্পার হাতের মুঠোয় মুষ্টিবদ্ধ না হয়! যদি অর্পা মুখের উপর না করে দেয়! পরক্ষনে আবারও ইমরান ভাবে ৩বছরের বন্ধুত্বের মধ্যে এক চিমটি ভালোবাসা হলেও তো অর্পার মনের কোনে জন্মিয়েছে।
অর্পার মনের ভাবনা ও চিন্তাধারা ইমরানের মতই।অপ্রকাশিত ভালোবাসার অনুতপ্ততা মনের ভেতরের জায়গাটুকু জুড়িয়ে নিচ্ছে।
.
ছাদের উপর দাড়িয়ে রয়েছে ইমরান।অর্পাকে ফোন করে ছাদে আসতে বলেছে।অনেক্ষন হলো অপেক্ষা করছে,তবুও অর্পার ছায়াও দেখা যাচ্ছে না।আজ ভালোবাসার কথা বলবেই ইমরান।যা হবার হোক।মনের কোনে অপ্রকাশিত ভালোবাসার স্ফরতা আর বইতে পারবে না সে।ঝিঁ ঝিঁ পোকার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে চারদিকে।আকাশের চাঁদটা ঠোঁট বাকানো হাসিতে ঝুলে রয়েছে।
ইমরান আকাশের চাঁদটাকে কল্পনায় ঠোঁটের আকৃতিতে আঁকছে।মনে হচ্ছে সুদূর আকাশের তেপান্তর থেকে অর্পা হাসছে।হঠাৎ করেই নুপুরের ঝনঝন শব্দ এসে কানে মিছিল করছে।জ্যোৎস্নায় টুইটুম্বুর চারদিক।স্নিগ্ধ হাওয়ায় মাতাল করা এক গন্ধ ভেসে আসছে।বেলি ফুলের গন্ধ মনে হচ্ছে।কিন্তু আশেপাশে তো কোন বেলি ফুলের গাছ নেই! তাহলে কোথায় থেকে এই গন্ধ আসছে! বেশ খানিকক্ষন ভাবনার ঘোরের পর বেলি ফুলের গন্ধের অবসান ঘটল।জ্যোৎস্নাময়ী রাতে ধীরে ধীরে সামনের দিক থেকে অর্পা যেন জ্যোৎস্নার সাথে ভেসে আসছে।কড়া পারফিউম মেখেছে সে।তার উপস্থিতিতে বেলি ফুলের গন্ধে চারদিকটা মাতাল উন্মাদনাময় হয়ে উঠেছে।
.
(৪)
সামনা সামনি দাঁড়িয়ে দুজনে।মাত্র কয়েক কদমের ব্যবধান রয়েছে মাঝে।ব্যবধান বলতে দুই ছাদের উপর দুজন।মাঝে শুধু ছাদের শেষাংশের ফাঁকাটুকুই।রূপালি জ্যোৎস্নায় আজ অর্পাকে রূপালিকন্যা মনে হচ্ছে।একেক সময় অর্পাকে একেক রকম লাগে।অদ্ভূদ ধরনের সুন্দর লাগে তাকে।মেঘের জলে ভিজলে মনে হয় যেন মেঘকন্যা,রূপালি জ্যোৎস্না গায়ে মাখালে মনে হয় যেন রূপালিকন্যা।আর কিসে তাকে অন্য কোন রূপ এসে আকঁড়ে ধরে?!
"কি হয়েছে রে তোর! দিক ভুলা হয়ে তাকিয়ে আছিস কেন?"
ভাবনার ঘোর কাটল ইমরানের।এখন অপ্রকাশিত ভালোবাসার কথা বলতেই হবে।বুকের বাম পাশটা ধিকিধিকি স্বজোরে কাপঁছে।নিঃশ্বাসটা তাৎক্ষনিক ভারি হয়ে গেছে তার।খোলা আকাশের নিচে ছাদের উপর বাতাসের পথে দাঁড়িয়ে থেকেও ঘেমে যাচ্ছে ইমরান।অনুভূতিরা ঘিরে ধরেছে তাকে।ইমরান বুক ধুকধুকানি নিয়েই বলল
"তোকে একটা কথা বলার ছিল"
"বল"
"এমনি না।চোখ বন্ধ কর।চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলে তোকে বলতে পারব না"
"মেয়ে নাকি তুই যে, চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারবি না"
"বন্ধ কর না" কন্ঠে ভীষন আকুলতা।
"পারব না,চোখের দিকেই তাকিয়ে বল"
"আগে কথা দে,যেটাই বলি- না রাখতে পারলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করবি না"
"আচ্ছা কথা দিলাম"
"উহু,এভাবে না।হাতটা এদিকে দে।"
"এত দূর থেকে ধরতে পারবি?"
"এদিকে হাতটা বাড়িয়ে দেখনা"
"এই নে,,,,,,,,,,,,,,,"
বলেই হাত দুটোই বাড়িয়ে দিল অর্পা।হাতের আঙ্গুলগুলো ধরে নিল ইমরান।মূহুর্তেই লজ্জায় মাথাটা নুইয়ে নিলো অর্পা।ইমরান বলল,
"এবার কথা দে।তবে হাত ছাড়বি না কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত"
"আচ্ছা ছাড়ব না।আর কথা দিলাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করব না"
"নিচের দিকে তাকিয়ে আছিস কেন! তুই না বললি চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে! চোখের দিকে তাকা"
পাপড়ি দুটো সরু করে ইমরানের চোখের দিকে তাকাল অর্পা।ইমরান বলতে চাচ্ছে কিন্তু কোন কথা যেন বের হচ্ছে না।মনে হচ্ছে স্বজোড়ে বলছে ইমরান তবুও সে যেন শুনছে না।এমন লাগছে কেন ইমরানের ভেবে পায় না।অস্বস্তি লাগছে নাকি অনুভূতিরা এসে গ্রাস করল!গলাটা হালকা ভাবে ঝাঁকিয়ে ইমরান বলল,
"কিভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করতে হয় জানিনা।আমি কোন কবি নই যে কাব্যিক ভাষায় ভালোবাসার ব্যাখ্যা করব।কেন জানি তোর পাশে থাকলে নিজেকে হারিয়ে ফেলি তোর মাঝে।তোর আলিঙ্গনের সর্বস্র উঠোন জুড়ে আনমনে খোঁজে বেড়াই নিজেকে।কোথাও পাইনা এই আমাকে।কোনখানে নিয়ে রেখেছিস তুই তা জানিনা।তোর আলতো স্পর্শে শরীরটা তুমুলভাবে নেচে উঠে।তোর একটু অভিমানে পাপড়ি কেঁপে কেঁপে চোখের এক কোনা দিয়ে জল ঝরে।আচ্ছা এটাকে কি ভালোবাসা বলে? যদি তাই হয়,তবে তোকে আমি ভালোবাসি।অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি।তোর হাতের আঙ্গুলগুলো যেভাবে আমার হাতের মুঠোয় মুষ্টিবদ্ধ আছে সেভাবে সারাটা প্রনয় তোকে ধরে রাখতে চাই।তোর হাত ধরে রাখার অধিকারটুকু কি আমায় তুই দিবি? তুই থেকে তুমি করে বলতে চাই তোকে।"
.
কথা শেষ করতেই রূপালি জ্যোৎস্নায় ইমরান দেখল অর্পার চোখে জল ছলছল করছে।চোখের নোনা জল বাঁধ ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসতে চাচ্ছে।আচমকা হু হু করে কেঁদেই দিল অর্পা।
"এই কথাটা বলতে এতদিন লাগল!! তুমি কি বুঝো না কতটা ভালোবাসি তোমাকে! চোখের দিকে তাকিয়েও কি বুঝতে পারো নি অজস্র ভালোবাসার অনুভূতির ভীড় সেখানে! খুব ভালোবাসি তোমায়"
কাঁদো কাঁদো ধরা কন্ঠে বলল অর্পা।
.
(৫)
ফ্লাইওভারের উপর নিয়ন বাতির লালচে আলোয় হাটছে ইমরান। বন্ধুত্বের পর ভালোবাসার সম্পর্কের ২বছর পেরিয়েছে।কখনো অর্পা তার সাথে এমন ব্যবহার করেনি।তবে আজ কেন এমনটা করল! অর্পার আব্বু দেশের বাহিরে থাকে।অর্পা আর তার আম্মু দেশে থাকত।আগামি মাসে দুজনেই তার আব্বুর কাছে যাবে বেড়াতে।প্রায় অনেকদিন ইমরানের সাথে দেখা হবে না এটা ভেবে রাগে হয়ত এমন ব্যবহার করেছিল।এটা ভেবে ইমরান সান্তনা দিল মনকে।
.
কিছুদিন ধরে অর্পা মাঝে মাঝে মাথা ঘুরে লুটিয়ে পরে যায়।এমনটা অর্পার আগে কখনো হত না।কি কারনে এমনটা হয় অর্পার আম্মু ভেবে পায় না।শহরের ভালো ডাক্তারের সাথে অর্পার আম্মু এটা নিয়ে কথা বলেছে।ডাক্তার বলেছে অর্পাকে নিয়ে যেতে কিছু চেকআপ করতে হবে।বিশেষ করে মাথাটা স্ক্যান করতে হবে।নির্দিষ্ট সময়ে চেকআপ শেষে রিপোর্টের দিন অর্পার আম্মুর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরল।মস্তিষ্কের ভেতরে টিউমার বেঁধেছে।অপারেশনের মাধ্যমেও সেটা বের করা সম্ভব নয়।খুব শীঘ্রই অর্পা পৃথিবী পারি দিতে পারে।ডাক্তারের কাছ থেকে কথাগুলো শুনে অর্পার আম্মুর কাছে তা স্বপ্ন মনে হচ্ছে।চিমটি দিলে হয়ত স্বপ্নটা ভেঙ্গে যাবে।নিজেই চিমটি কাটল।নাহ! কান ভুল শুনেনি।সবই সত্যি।হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল সে।কিভাবে তা সম্ভব! বাড়িতে ধুমকালো মুখ নিয়ে ফিরে দেখে অর্পা বাসায় নেই।অর্পার আব্বুকে সব জানালো।অর্পার আব্বু বলেছে বিদেশে নিয়ে যেতে।ঐখানে যেভাবেই হোক অপারেশনের ব্যবস্থা করবেই।কিন্তু অর্পাকে কোন ভাবে জানানো যাবে না।এসব কিছুই অর্পা জানেনা।ইমরান তো জানেই না।অর্পা যানে কিছু দিনের জন্য সে তার আম্মুর সাথে আব্বুর কাছে বেড়াতে যাবে।
.
সূর্যাস্তের বিকেলে পুকুরের পানিতে যেন স্বর্নদানা চিকচিক করছে।প্রতিটি ছোট ছোট ঢেউয়ের সাথে স্বর্নদানা উপচে পড়তে চাইছে।অর্পা আসবে বলে দেশের বাহিরে গিয়েছে আজ আট মাস পেরিয়ে নয় মাসের পদার্পন হলো।কিন্তু অর্পা বলেছিল তিন মাস পরই চলে আসবে।প্রথম দুইমাস ফোনে যোগাযোগ হত।কিন্তু শেষের ছয়মাস আর কোন প্রকার যোগাযোগ হয়নি অর্পার সাথে।অর্পার ফোনের লাইনটাও গত ছয়মাস ধরে অফ পাচ্ছে।কি হলো হঠাৎ অর্পার! একটা মানুষ কিছু দিনের ব্যবধানে কি এতটা পরিবর্তন হতে পারে! মানুষটি আসলে পরিবর্তন হয়নি।অপারেশনের সময় অর্পা পৃথিবী পারি দিয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে।কিন্তু তা ইমরানের কল্পনার বাহিরে।ইমরান এসবের কিছুই যানে না।জানবেই বা কিভাবে! কারো সাথেই তো ইমরানের যোগাযোগ নেই।
ইমরান ভাবছে,অর্পা তো ইমরানকে ছেড়ে যেতে চায়নি।এক প্রকার জোর করেই অর্পাকে দেশের বাহিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।যাওয়ার আগের দিন ইমরানকে জড়িয়ে ধরে ঠুঁকরে ঠুঁকরে কেঁদেছিল অনেকক্ষন ধরে।তবে কেন এভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল! কি কারনেই বা অর্পা আর ফিরল না।তবুও একরাশ কষ্টের কুন্ডুলি বুকে বেঁধে নির্বিক পথিকের মত অপেক্ষার ধ্রুমজাল বুনছে ইমরান।আশার অতীত অর্পা ফিরবেই।
`
`
`

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

"বসন্তে বাসন্তী, রাজকন্যাই রাজরানী"

-কিরে তুই কলেজে যাবিনা??
--নারে. আমারা ভাল লাগছেনা। তুই যা...
--মানে? তুই আমাকে রেডি হয়ে আসতে বললি, আর এখন বলিছিস যাবিনা, তাহলে আমাকে আসতে বললি ক্যান?
--এসেছিস তুই যা, আমার ভাল লাগছেনা তাই যাবো না।
.
খাতাটা পাশে নামিয়েই নওশিনের পাশে স্নিগ্ধা বসে পরলো। স্নিগ্ধা জিজ্ঞাস করলো---
--কি হয়েছে তোর? মুখটা শুকনো লাগছে কেন? ইমুর সাথে নিশ্চয় আবার ঝগড়া হয়েছে?
--নারে.. ঠিক তা না!
--তাহলে?
--ওর কথা খুব মনে পরছে,
--বুঝলাম, তা হঠাৎ করে এতোটা মনে পরার কারন কি শুনি?
.
নওশিন একটু চরা গলায় বলে উঠলো---
--হঠাৎ করে মানে!! ওর কথাতো আমার সব সময়ই মনে পরে। তুই হঠাৎ করে বললি ক্যান?
--ওহ্! তাইতো তাইতো, ভুল হয়ে গেছে রে..... ও তো তোর স্বপ্নচারী, কল্পনাচারী,ভাবিনু। আমাদের কথা না হয় হঠাৎ হঠাৎ ভাবিস, ওকে তো তোর সব ভাবনার মাঝেই রাখিস।
--আবারও ওকে নিয়ে পরলি????
--না, চল কলেজে যাবি।
--ধূর, আমার ভাল লাগছেনা তুই যা.....
--না তোকে যেতেই হবে, আমি সাগর-কে আসতে বলেছি। ও এসে হয়তো এতোক্ষন অপেক্ষা করছে।
--ওওওও, সেইটা বল! আজ কেন এতো তাড়া, তা তুই কলেজের নামে পার্কে গিয়ে আড্ডা মারবি। আর আমি তোদের দু'জনকে বসে বসে পাহারা দেবো, তাইনা?
--চলনা একটু, তোর জন্যেও একটা কিছু আছে।
--কি?
--সেটা না গেলে দেখতে পারবিনা, চল........
.
স্নিগ্ধা, নওশিনের বান্ধবি। সেই ছোট থেকে একইসাথে বেড়ে উঠেছে দু'জনে। রাতে ঘুমানোর সময় টুকু বাদে সারাবেলাই হাতে হাত রেখে তাদের ছুটে চলা। দুজনেই এখন কলেজে পড়ে। সময়টা বুঝি দুজনের মাঝে একসময় ঠিকি দূরত্ব এনে দিবে। মেয়েদের জীবনটা খেয়াল করলে দেখা যায় ছেলেদের চাইতে একটু বেশিই কঠিন হয়।
.
মেয়েটির বয়স যখনঃ পাঁচ (০৫)
.
মায়ের হাত ধরে হাটা শিখেছে।
বাবার কাধে চড়ে সারা মহল্লা ঘুরিয়ে বেড়িয়েছে।
বড় ভাইয়া টি চকলেট এনেছে ভেবে দৌড়ে গিয়ে কলে উঠেছে।
ভুল করে কোনদিন চকলেট নিয়ে না ফিরলে।
মায়ের কোলে গিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করেছে।
মা ভাত মাখিয়ে মুখে তুলে খায়িয়েছে।
আরও কত কি......
.
মেয়েটির বয়স যখনঃ দশ (১০)
.
মা সারাদিন বকার উপরে রেখেছে_______
--কিসের এতো খেলা? সারাদিন খাওয়া নেই, নাওয়া নেই, শুধু পুতুল আর পুতুল, সব পুতুল চুলায় দিবো কিন্তু.....
.
ভাইয়া_______
--কি রে.... তোর স্কুলের স্যাররা কি সারাদিন ঘুমায় নাকি? একই পড়া প্রতিদিন পড়তে দেখি,পড়া কি নেয় না?
.
বাবা মায়ের সাথে চেঁচিয়ে বলবে________
আমার মেয়েটা কোথায়? সারাদিন কি করে, কোথায় যায়? খেলো কি খেলো না, কারো কোন খেয়াল নেই। সবার মাথার উপরে কি বোঝা দিয়ে রাখা হয় নাকি?
.
বড় আপি_______
এই তোকে না বলছি, তুই আমার কানের দুল ধরবিনা। নিয়েছিস কেন? খুল, খুল বলছি! নিজেরটা হারিয়ে, এখন আবার আমারটা হারাতে বসেছে। আর কিন্তু এই দুল ধরবিনা।
.
মেয়েটির বয়স যখনঃ পনেরো (১৫)
.
বাবা প্রত্যেকদিন স্কুলে রিকশা/বাইকে করে অফিসে ফেরার পথে পৌছে দিয়ে যাবে। আর যখন মেয়েটি স্কুলের গেইটের সামনে নেমে হাটতে শুরু করবে, তখনই বাবা ডেকে বলবে---
--মামণি, এই নাও টাকা, টিফিনের সময় কিছু খেতে মন চাইলে খেয়ে নিও।
(সাথে টিফিন থাকা সত্ত্বেও)
.
ভাইয়া_______
আড্ডায় থেকেও বার বার ঘড়ির দিকে তাকাবে। কখন বোন'টাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে হবে এইভাবে।
.
মা_______
সারাদিন মনে মনে ভাববে। পাগলীটি না থাকলে বাড়িটা একদম ফাকা ফাকা লাগে।
.
আপিটা_______
ঝগড়াটা না করতে পেরে। বিষন্নতায় ভুগবে। আসার সাথে সাথে বলবে। সারাদিন স্কুলে কি করিস? চেহারা এভাবে মলিন করে নিয়ে ফিরিস, কিভাবে?
.
মেয়েটির বয়স যখনঃ বিশ (২০)
.
খুব ভোরেই উঠে নামাজ পড়ে, মাকে কাজের জন্য সাহায্য করতে যাবে।
(কিছু না বলা সত্ত্বেও)
আবার কখনো শত বলিয়েও কোন একটা কাজ না করাতে পেরে মা বলবে---
--বাবার বাড়িতে আয়েস করাই যায়, শ্বশুর বাড়ি গিয়ে বুঝিস কেমন মজা!!!
.
বড় আপিটার যেদিন থেকে বিয়ে ঠিক হবে। সেদিন থেকেই ভেতরে শূন্যতা কাজ করবে। ক্ষনে ক্ষনে মনে হবে। "আপি না থাকলে কার সাথে মজা করবো? কার সাথে ঝগড়া করবো" বার বার বলতে মন চাইবে, 'তুই আমায় ছেড়ে যাস না রে.. আপি। আমি ভিষন একা হয়ে যাবো। আপিও হয়তো জড়িয়ে ধরে দু'নয়ন ভাসিয়ে ফেলবে। আর বলবে 'তোকে ছেড়ে আমি কোথাও যাবোনা, পাগলী বোন আমার' বলতে বলতেই চোখের মাঝে থেকে জল মুছে দিতে থাকবে।
.
ভাইয়াটা_______
খুবই খেয়াল রাখবে রাস্তাঘাটে কোন ছেলে বিরক্ত করে কিনা! একটু এদিক সেদিক দেখলেই হাতে হকিস্টিক ধরতে একটু দ্বিধাবোধ করবেনা। মাঝে মাঝে এসে সরাসরি বলবে---
--রাস্তাঘাটে কোন ছেলে বিরক্ত করলে বলবি। আর প্রয়োজন ছাড়া কখনো কলেজের বাইরে বের হবিনা।
.
বাবা এখন_______
মেয়েটাকে তো হাত করেই নিয়েছে। এখন আর তাকে কিছু বলতে হয়না। উল্টো মেয়েটায় বাবার খাওয়া-দাওয়া, যত্নের দিকে খেয়াল রাখে।
.
ছোট মামাটা/চাচুটা এসে বলে_______
--মেয়েতো আমার ছোটটাই বিয়ে তো মনে হচ্ছে একসাথেই নিতে হয়।
বলেই একটু তাকিয়ে মুচকি হাঁসি হাঁসবে।
.
এইসব ভালবাসার মানুষ গুলোর সাথে পৃথিবীর আর কারো ভালবাসাই তুলনা করা যায় না। প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মেয়েই রাজকন্যার মতো থাকে। আর ছোট মেয়ে হলেতো কোন কথাই নেই। এইসব শত আদরের রাজকন্যার ভার এক সময় আমার আপনার মতো ইমুর উপরেই পরে। মা-বাবা, ভাইয়া-ভাবি, আপি, ছোট চাচুর সমস্ত ভালবাসা ছেড়ে কোন এক নতুন পরিবেশে গিয়ে তাকে বাঁচতে শিখতে হয়। মেনে নিতে হয় পরিবেশের নিয়ম। বিবাহ বন্ধনটা তাদের আলাদা করে দেয়। কিন্তু কি আর করার, হাজার হলেও মেয়ে বলে কথা,স্বামীর বাড়িতে তো একদিন ঠিকি যেতেই হবে। যেই মেয়েটি ফেলে আসা ২০ টি বছর যে ধূলিকণার সাথে মিশে বড় হয়েছে। তাকে আজ এসবই বিষর্জন দিতে হচ্ছে। এ বিষর্জন সিতা বিষর্জনের চাইতে অনেক বড়। নিজের কাছের মানুষ গুলো ছেড়ে যে মেয়েটি আপনার সাথে সংসার যাত্রায় জাল বুনতে শুরু করেছে। তাকে যদি কোন ভাবে কষ্ট দেন খোদাও হইতো নারাজ হয়ে যাবে আপনার উপর।
.
নওশিন আজ সত্যিই রাজকন্যা। তবে ইমু নওশিন-কে তার রাজ্যের মধ্যে এনে পদ মর্যাদা রাজকন্যা থেকে রাজরানী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপন জনদের চাওয়া কে না পূরণ করতে চায়। হয়তো সব চাওয়াই পূরণ হয়না। তবে ভালবাসার মানুষটির চাওয়া পূরণ করার জন্য চেষ্টার ত্রুটি কোন ব্যক্তিই করেনা। এসব কথা লিখতে থাকলে হয়তো ছোট কোন উপন্যাস রচিত হয়ে যাবে। এক উপন্যাস আজ দুই বছর ধরে লিখছি সেটাই শেষ করতে পারলাম না। তাই আর নতুন কোন লিখায় হাত দিতে চাইনা।
ফিরে যাচ্ছি সেই রাজকন্যার গল্পে।

নওশিন রেডি হয়ে স্নিগ্ধার সাথে বের হলো। কলেজে একটা ক্লাস করেই সাগর-স্নিগ্ধা, নওশিন বেরিয়ে পরলো। কোন এক পার্কে তিনজন মিলে আইসক্রিম খেতে খেতে খুব আনন্দ করছে। কিন্তু নওশিনের আনন্দটা থমকে থমকে ইমুর কথা ভেবে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। মনে মনে ভাবাছে, 'ইমু এখানে থাকলে কতই না মজা হতো' ইমু বেশ কয়েক দিন যাবৎ তার ফুপির বাসায় বেড়াতে গেছে। আজ প্রায় ০৮ দিন হবে। নওশিন এর মাঝে তাকে একটি বারও দেখতে পায়নি। ফোনেও খুব কম কথা বলা হয়েছে। আসলে ইমু স্নিগ্ধা-কে ফোন করে আজ ঠিক এখানেই নওশিন-কে নিয়ে আসতে বলেছে। কারণ আজ ইমু ফুপির বাসায় থেকে এসে সরাসরি নওশিনের সাথে দেখা করবে। কিন্তু সেটা নওশিন-কে একদম জানানো হয়নি। সাগর-স্নিগ্ধা, নওশিন যখন গল্প জুরে বসেছিলো তখনই ইমুর ফোন---
--হ্যাললললো,
নওশিন রেগে বলল---
--গুষ্টি কিলাই তোর হ্যাললললোর, ফুপাতো বোন নিয়ে তো ভালই দিন কাটাচ্ছিস। সারা দিন বাদে বিকেল ৩ টায় তোর ফোন দিবার সময় হলো, তাইনা? তুই আর আমার সাথে কোন যোগাযোগ করবিনা বলে দিলাম।
.
রাগের পরিমানটা কিছুটা আন্দাজ করা যাচ্ছে। ইমু বলল---
--কোথায় তুমি?
--আমি জমের বাড়ি আছি, আমি কোথায় থাকি, না থাকি, সেটা তোর না শুনলেও চলবে।
--বলনা?
--বললাম, জমের বাড়ি আছি।
--আচ্ছা জমের বাড়ির ঠিকানা দাও, আমিও আসছি।
--কোথাও আসতে হবেনা তোকে, তুই তোর ফুপির কোলে গিয়ে আরো কিছুদিন ঘুম পেয়ে আয়, যা......
.
স্নিগ্ধা নওশিনের কথা শুনে সব বুঝতে পারছে। ইমু দূরত্ব এখন নওশিনের চাইতে সর্বচ্চ ১০০ গজ দূরে হবে। পাশেই এক গাছের আড়ালে দাড়িয়ে কথা বলছে ইমু। নওশিন, সাগর-স্নিগ্ধা- কে বাসায় যাওয়ার জন্য তাড়া দিতে লাগলো। ইমু আস্তে করে পিছন দিক থেকে এসে দু'হাত দিয়ে নওশিনের চোখ ধরলো। শরীরের স্মেইল'টা খুব পরিচিত। স্পর্শ করাতেই চোখ থেকে ইমুর হাত সরিয়ে নিয়ে নওশিন ইমুর হাত ধরে উঠে দাঁড়ালো। কোন কথা না বলেই সাগর-স্নিগ্ধা-কে রেখে ইমুর হাত ধরে দূরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে নওশিন। ইমু বলছে---
--কি ব্যাপার? এভাবে টেনে কোথায় নিয়ে যাচ্চ?
--কোন কথা বলবিনা! চুপ!
.
ইমুর হাত ধরে নওশিন টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আর ইমু ব্যাগ কাধে নিয়ে নওশিনের পিছ পিছ হেটে যাচ্ছে। স্নিগ্ধা-সাগর দুজনেই দেখে খুব হাঁসছে। নওশিন ইমুকে নিয়ে দূরের একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলো। বসেই নওশিন ইমুর কলার চেপে ধরলো। নওশিন---
--তুই এখানে এসেছিস কেন, বল?
--কলারটা ছাড়ো, আশে পাশের মানুষ তাকিয়ে আছে তারা কি ভাববে!!
.
কলার ঝাকাতে ঝাকাতে নওশিন বলল---
--তাদের যা মন চায় তাই ভাবুক, তোকে কি আমার কাছে আসতে বলেছি? তুই এসেছিস ক্যান? এসেছিস ক্যান?
--পাখি শোন, শোন পাখি......
--তোর কোন কথাই শুনবো না আমি!!
.
ইমু এরমধ্যেই ব্যাগটার চেইন খুলে, লাল কৃষ্ণচুড়া ফুল গুলো নওশিনের চুলে পরিয়ে দিলো। নওশিনের প্রিয় ফুল, যা দেখলে নিজেই বসন্ত'তে পরিণত হয়। সব রাগ ভুলে গিয়ে ইমুর গলা চেপে জড়িয়ে ধরলো নওশিন। আর বলতে লাগলো---
--তোকে না দেখে থাকতে আমার কষ্ট হয়'না বুঝি?
ইমুও জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো---
--পাগলী আমার, আর কোত্থাও তোকে ছেড়ে গিয়ে থাকবোনা।
--সত্যিতো?
--সত্যি, সত্যি, সত্যি,
.
প্রায় বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে। বাসার ফিরার টেনশন'টাও কাজ করছে নওশিনের। আবার যেতেও মন চাচ্ছেনা। তবুও যে রবী ঠাকুরের লাইনটি মনে পরেই যায়....
"যেতে নাহি দেব হায়,
তবু যেতে দিতে হয়,
তবুও চলে যায়"
সব ভাবনা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো নওশিন। ইমু-কে নিয়ে স্নিগ্ধা-সাগরের কাছে গিয়ে বলল---
--বাড়ি ঘর কি সব ভুলে গিয়েছিস নাকি, বাসার কথা একবারও বলছিস না?
.
স্নিগ্ধা নওশিনের মাথায় কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখে কিছুটা বিচলিতই হলো। সাগর দেখে একবার স্নিগ্ধার দিকে তাকালো। সাগর বলল---
--ইমু এইটা কিন্তু ঠিক হলোনা,
--কোনটা?
--তোমরা বসন্তে বাসন্তী হয়ে ঘুরছো, আমাদের মাথা খালি। এইটা কি ঠিক বলো?
--কি করবো বলো, ইমু মানে তো একটু বেশীই ইমোশনাল। তাই আর কি!
হা হা হা....
.
বাইরে গিয়ে দুটি রিকশা ঠিক করা হলো। আগের রিকশায় স্নিগ্ধা-সাগর। পিছনের রিকশায় ইমু-নওশিন। সবুজ ছায়াঢাকা রাস্তার মাঝখান দিয়ে আস্তে আস্তে চলছে রিকশা দুটো। আশে পাশ থেকে বসন্তের কোকিলের ডাক ভাসে আসছে। নওশিন ইমুর বাহু আঁকড়ে ধরে আছে। হঠাৎ নওশিন বলল---
--আমায় একটা গান শুনাও.....
--এই সময় গান? কোকিলের ডাক বাদ দিয়ে এই কাকের গান শুনবা? বাহ্! অবাক করে দিলে!!!
--ঐ আমি শুনাতে বলছি তুই শুনাবি কি না?
.
ইমু কিছুক্ষন চুপ করে রইলো। খেয়াল করলো নওশিন অপলক দৃষ্টিতে চোখের চাওয়ায় সেতু বানাচ্ছে, ওমনি ইমু অর্থহীনের গানটা ধরলো---
" ভ্যান গগের ছবি
ভিভালদির সুর,
অলিভার স্টোনের মুভি
আর আমার পাকা চুল।
.
রান্নাঘরের নিভানো চুলা,
তোমার চুলে কৃষ্ণচূড়া।
.
লা লা লা লা
.
সাদা রং এর নতুন গাড়ি,
একটি পোড়া বাড়ি।
.
এশারের ছবি
মোৎসার্টের সুর।
ত্যারেন্তিনোর মুভি
আর আমার পাকা চুল।
.
আমার কাঁধে হালকা ঝোলা,
তোমার চুলে কৃষ্ণচূড়া ফুল
.
লা লা লা লা
.
কৈশোরের দিন গুলা এভাবেই পার হয়। মা-বাবা, ভাইয়া-আপি, মামা-চাচু সবার ভালবাসার মধ্যে কোন এক রাজপুত্রের ভালবাসা প্রয়োজন হয়। কোন এক রাজকন্যার ভালবাসা প্রয়োজন হয়। একটি ভালবাসার মানুষের প্রয়োজন হয়। যে মানুষটি ছাতার মতো মাথার উপরে থাকবে। দারুণ চৈত্রীর খড়ায় একটু ছায়া হয়ে দাঁড়াবে। আষাঢ়ের বর্ষণের মাঝে একটুও বৃষ্টিজল মাথার উপর ঝড়তে দেবেনা। প্রত্যাশায় থাকুন সেই মানুষটির, যে আপনাকে জীবন নামের এই সারাটি পথে আগলে রাখবে হৃদয় দিয়ে।

" কি দরকার ছিল ? "

গভীর রাতে ছাদে বসে আছি একা একা.ঘড়ি সঙ্গে
নেই .সময় ও আন্দাজ করতে পারছি না ! তবে সময়
দিয়ে এখন আর কাজ নেই ' আমি এখন সময়হীন
জগতের বাসিন্দার মত ।ঘড়ির সময়ে এখন আর কিছু
যায়,আসেনা …কোন কিছুতেই যায় ,আসে না
আমি আকাশের দিকে তাকালাম ! আকাশ
অন্ধকারাচ্ছান্ন ।মনে হচ্ছে কালো মেঘে ঢাকা ।
শেষবার যখন ভালো করে আকাশ দেখেছিলাম
,মনে পরে সেবার আকাশ বেশ স্বচ্ছ ছিল আর
অনেক তারা ছিল ! আজ শুধুই অন্ধকার ! কিছু দেখা
যাচ্ছে না ! তবে মনে হচ্ছে আজকের সাথে
অন্যদিনের কোথো যেনো একটা স্থূল অমিল।
পার্থক্যটা অনুভব করার মত।আমি ভেবেছিলাম এই
মুহুর্তটা আমাকে গাঢ় বিষাদ কিংবা তীব্র
ভীতি নয়ত প্রচন্ড ব্যাথাবোধ আচ্ছন্ন করে রাখবে
।আশ্চর্য ।তা না হয়ে কেনো যেন উল্টোটা হচ্ছে
।গভীর এক আনন্দ আমাকে ঘিরে ধরেছে…কেমন
যেন এক মুগ্ধতা নিয়ে কালো আঁধারে দৃষ্টি ছুড়ে
দিয়ে তাকিয়ে আছি…
হঠাৎ আকাশে আলোর ঝলকানিতে বিদ্যুত রেখা
দেখা গেল …...
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মেঘ
ডাকল ,বিজলী চমকাল ,আকাশ ভাঙতে শুরু করেছে
.…এবারের অপেক্ষা অবশ্যই দীর্ঘ ছিল.সবাই
তীব্র গরমে যেভাবে হাঁসফাস করছিল
এতদিন,অনেকদিন পরে মানুষজন কিছুটা স্বস্তি
পাবে অবশ্য একই স্বস্তির কারণ আবার কয়দিন
পরে তাদের বিরক্তির কারণ হবে ,যখন কাজকর্মে
ব্যাঘাত ঘটবে ,এরকমই বৃষ্টির কারণে।এই এখন
মানুষের চলমান জীবনধারা ।
আর আমার মত গতি থমকে থাকা দের জন্য মনে হয়
কিছু ভিন্ন … মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছি জগতের
সবচেয়ে সুন্দর গানে .বৃষ্টির ছন্দ্বময় শব্দ,ক্ষনিকের
জন্য হারিয়ে যাওয়া ,অন্তঃজগতের গভীরে
পরিভ্রমন ,নিরবচ্ছিন্ন শান্তি -পুলক - স্বচ্ছ
মুগ্ধতা …আমার জন্য এসব সব ই পুরনো …তবে যতই
এই আবেদনে সাড়া দেই ,ততই যেন আগের থেকে
বহুগূনে বৃদ্ধি পেয়ে আমার কাছে ফিরে আসে… .
… .… ..…….
গভীর রাতে ,নিকষ অন্ধকারে , ঠান্ডা হাওয়া
গায়ে মেখে ! পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর আওয়াজ :
ঝুম বৃষ্টির শব্দ কানে নিয়ে ,অপার্থিব কোনও
জানা/ অজানা আকুলতাময় হাতছানি অনুভব
করতে করতে ভাবতেই পারি ঠিক এই মুহুর্তে আমি
ধরনীর সবচেয়ে সুখী মানব ।ভাবতে তো আর
ক্ষতি কিছু নেই ! তবে তা ভাবতে গেলে এসব
ভাবনাও কাবাবের হাড্ডির মত আপনাআপনি এসে
যায় যে : "নিরবিচ্ছিন্ন/অবিমিশ্র সুখ বলতে কিছু
নেই" ,"সময়/মুহূর্ত কখনো চিরস্থায়ী
হয়না" ,"জীবনের কোন moment কে movie এর মত
pause বা resume অথবা forward বা bacward
করা যায়না ইত্যাদি ,ইত্যাদি .
সে যাই হোক ,এসব ভাবনার এখন আর কোন গুরুত্ব
নেই ! এই মুহুর্তে আমি আসলেই খুব সুখী …আমি
আনন্দিত ।এই আনন্দ মুক্তির,চিরমুক্তির।শান্তি
আমায় প্রবলভাবে গ্রাস করেছে।ঠিক এই মুহুর্তের
মত প্রশান্তি আগে কখনো অনুভূত হয়নি …এ বুঝি
বড্ড অচেনা -অজানা প্রফুলতা …যেন এর অস্তিত্ব
এ জগতে নয়।অন্য কোন চিরপ্রসন্নময়ী ভূবনে ।
অসম্ভব সুন্দর কোন মাদকতা আমাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন
করছে দ্রুত !!
একটু আগে আমি অতীতের বহুবারের মত কাজটা
করতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে আসিনি..…।
অবশেষে তাহলে সত্যি এ কাজটা সম্পন্ন হল ।তবে
এখন কোন পিছুটান অনুভব করছি না ।এই মুহূর্তে
আমার সাথে যা ঘটছে ,মোটামুটি এরকম এ একটি
দৃশ্যপটের বর্ণনা পড়েছিলাম কোন এক উপন্যাসের
শেষাংশে !
সেখানে মূল চরিত্র সুইসাইড করে শেষ পর্যন্ত।
আসলে মাঝে মধ্যেই এরকম হয় ! গল্প,উপন্যাস বা
নাটক,সিনেমার কাহিনীর দৃশ্য মিলেমিশে
একাকার হয়ে যায় ..........
যেনো গল্পের বাস্তবতা আর মানুষের জীবনের
বাস্তবতা জায়গা অদল বদল করে ! অনেকেই
ব্যপারটা লক্ষ্য করে অবাক হয়।কিন্তু আশ্চর্যের
কিছুই নেই …গল্প,কাহিনী,সিনেমার স্ক্রিপ্ট
মানুষেরই লেখা। তা যতই কল্পনাপ্রসূত আর
ফিকশনপ্রবণ ই হোক ,সেই কল্পনা বাস্তব দর্শন ও
জীবনবোধ এর মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে না ।
এর আলোকেই হয়।
আমার ইচ্ছে করছে আমার বর্তমান অবস্থা হুবহু
লিখে ফেলতে ।রিয়েলিটিকে কনভার্ট করে
গল্পাকারে বন্দী করতে ।যেন এসব বাস্তবে কিছু
হচ্ছে না ।গল্পে ঘটছে ।কিন্তু এখন আর তা সম্ভব
নয়..……একটু আগে সত্যি সত্যি অনেকগুলো ঘুমের
ট্যাবলেট পানি দিয়ে গিলে ফেলেছি !
একেবারে কয়েকপাতা।এখন যেন পুরো শরীর জুড়ে
হাজার বছরের ক্লান্তি ভর করেছে ! আমি বুকভরে
নিঃশাস নিলাম …দূরে কোথা থেকে যেনো
অপূর্ব সঙ্গীত ভেসে আসছে ! হ্যালুসিনেশান হবে
হয়ত।কিন্ত কি অদ্ভূত সুন্দর সুর।যেনো অপার্থিব
মায়ায় মেশানো।আমার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে
পড়ছে ।বৃষ্টির পানির সাথে মিশে অশ্রুও যেন
প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে চাইছে ! যেমন
আমি হারিয়ে যাচ্ছি বিস্তৃতির অতলে।প্রকৃতি
আমার জনম জনম ধরে জমানো ক্লান্তিমাখা -
বেদনাবিধুর- হাহাকার মিশ্রিত - কষ্টক্লেশ
গ্ঁাথা - ব্যাথাভরা -জ্বালাময় কলুষ একবারে ধুয়ে
ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যেন অঝোড় বারিধারায়।
শত কলঙ্কময় ,গ্লানি ঘেরা এ পৃথিবীতে লুকানো
এত মায়া মায়া সৌন্দর্যের কি দরকার ছিল ? আর
গভীর বিস্বাদ ঠাসা ,যাতনার এই মানব জীবনে
এত ছায়া ছায়া শান্তিরও বা কি দরকার ছিল ?!?!

★কান্নাজড়িত ভালবাসা★

এই যাহ মরেছি আজকেও লেট তাও আবার ২০
মিনিট। আল্লাহ জানে কি আছে কপালে?
দূর থেকেই ডোরা সাপের ফস ফস আওয়াজ আর
ফনা টের পাচ্ছি ঠিক ঝরের আগ মুহূর্ত টা যেমন
হয় আর কি?
নীলিমার সামনে যেতেই......
:- কিরে তোর এত দেরী হল কেন?
:-কেন আবার জ্যাম ছিল
:-(ঠাস)....মিথ্যে বলবি না একদম।
:-সরি মনে ছিল না (গালে হাত দিয়ে)
:-(ঠাস)....
:-আবার কেন মারলি?
:-এই যে আমার কথা ভুলে গিয়ে অন্য কোন
মেয়েকে যেন মনে না করো।
:-হুম দাঁড়িয়ে থাকবো আমি?
:-না এইবার বসতে পারো(হাসি দিয়ে)....
হাসলে নীলিমাকে খুব সুন্দর লাগে একদম একটা
নিষ্পাপ মুখ এই হাসির জন্য সব কিছু করতে পারে
শাওন। তাইতো এত অত্যাচার সহ্য করেও
ভালবাসে নীলিমাকে)
:-কিরে বাচ্চাদের মত দুই গালে হাত দিয়ে
তাকিয়ে আছিস কেন?
:-না অলরেডি দুইটায় দুইটা পরে গেছেতো তাই
ভাবছি আমার তিন নাম্বার গালটা কোথায়?
:-কি?
:-না কিছু না।
:-Good Boy....
:-হুম বল কি বলবি?
:-আজকাল তোকে লামিয়ার সাথে দেখা যায়
ঘটনা কি?
:-ও সেটা? আমি লামিয়াকে ভালবাসি আর
লামিয়া আমাকে।
:-কি বললি?(চোখ বড় করে মনে হয় আরেকটা
পোড়বে)
:-না কিছু না আমি তোকেই ভালবাসি রে।
:-আচ্ছা?
:-হুম।(গালে দুই হাত দিয়েই যদি আরেকটা পরে)
:কিন্তু তুই কি করে ভাবলি তোর মত ছ্যাচ্রাকে
আমি ভালবাসবো?
:-কি তার মানে তুই আমাকে ভালবাসিস না?
:-আ.. হ্যা... না...
:-মানে?
:-না।
:-আচ্ছা তুই তাইলে থাক লামিয়া আমার জন্য
ওয়েট করতাছে।
:-কি?
:-হ্যা যাই।
:-যাই মানে?
:-যাই মানে চলে যাচ্ছি আর কিছুই না।
:-আচ্ছা আচ্ছা যা।
:-হুম চললাম।
★এতক্ষন শাওন ও নীলিমার মধ্যে কথা হচ্ছিল
শাওন নীলিমাকে প্রচন্ড পরিমানে ভালবাসে।
আর নীলিমাও শাওনকে ভালবাসে কিন্তু শাওন
কে একটু বেশী শাসন করে নীলিমা।কিন্তু অন্য
কোন মেয়ের সাথে শাওনকে একডম সহ্য করতে
পারে না আর শাওনের সাথে লামিয়াকে দেখেই
মাথায় খুন চেপে যায় নীলিমার তাই চর গুলো
বোনাস হিসেবে দিল নীলিমা শাওনকে।
পরেরদিন ক্যাম্পাসে......
:-শাওন তুই তো বলতে পারিস নীলিমাকে যে তুই
ওকে ভালবাসিস..(লামিয়া)
:-আরে বলছি তো।(শাওন)
:-তবে?
:-আরে যতবার বলেছি ততবারই চর খেয়েছি প্লিজ
দোস্ত একটু হেল্প কর।(বলেই হাত ধরে লামিয়ার
এর মাঝেই নীলিমার আবির্ভাব)
:-শাওন।
:-কি?
:-বিপদ সংকেত ১০।
:-মানে?
:-নীলিমা দেখ।
:-কই?
:-এইযে আমি এই মহাশয় কি হচ্ছে এসব?
:-কি আবার? সবই তো দেখছিস।
:-হ্যা তাইতো বলছি কি হচ্ছে?
:-কি আবার আমি আমার লাভারের হাত ধরেছি
তাতে তোর সমস্যা কি?
:-আছে...
:-আমার কিচ্ছু করার নাই।
:-নাই মানে?
:-তুই কি মনে করেছিস তুই ছাড়া আমার লাইফ
অচল? এই দেখ একদিনেই লাভার হয়েছে।
:-ওই শালা তোর এত বড় সাহস তোর?(কলার ধরে
বলতাছে তার মানে কাজ হয়েছে)
:-ছাড় বলছি প্লিজ।
:-কোন ছাড়াছাড়ি নাই তুই শুধু আমাকে
ভালবাসবি অন্য কোন মেয়ের সাথে দেখলে খুন
করে ফেলবো।
:-সরি আমার লাভার আছে।
:-দেখ শাওন আমি তোকে ভালবাসি খুব খুব
(কান্নাজড়িত কন্ঠে না আর ঠিক হবে না কিছু
করা তাইলে খবর আছে)
:-হ্যা আমিও তোকে ভালবাসি।
:-তাইলে লামিয়া?
:-আরে এটা তো একটা খেলা ছিল।
:-কি?
:-হুম
:-ঠাস...
:-আবার কেন?
:-আমাকে কাঁদানোরর জন্য।
:-আজ যত পারিস কেঁদে নে।এরপর আর কাঁদতে
দিবো না(বুকে জড়িয়ে)
:-হুম ভালবাসি।
:-ভালবাসি।
এভাবেই তাদের ভালবাসার পথ চলা শুরু হয়।

সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৬

"কোন এক অবেলায় "

ইরার কথন:-
হঠাৎ রিংটোনের শদ্বে ঘোর
কাটলো। কিন্তু এই টোনটা আমার
চেনা। এটা শুধু বিশেষ একজনের
জন্য সেইভ করা। এখন আমার
কাজ হচ্ছে দরজা খোলা। কারন
দরজার ওপাশে শাকিল ভাই দারিয়ে
আছে।
.
কিরে সং সেজে দারিয়ে আছিস কেন?
আমার কাছে কোন টাকা নেই। সর
সামনে থেকে ভিতরে ঢুক্তে দে।
তিনি তার মতো করে ঢুকে গেলো।
আমি তার কান্ড দেখে অবাক।
সে মাঝেমাঝেই এইরকম উদ্ভট কাজ
কর্মের জন্য খুবি বিখ্যাত। কিন্তু
এইবার যা করছে তা আরো
বিরক্তিকর। আপনার মাথার চুল
গুলা কই। বুঝলি ইরা ইদানিং খুব
গরম পরছে। ভাবলাম মাথার চুল
গুলা ফালিয়ে দেই। একটা সন্ন্যাসী
সন্ন্যাসী ভাব এসেছে। ভালো লাগছে
না এখন আমাকে। কচু চিনেন
সেই কচুর মতো লাগছে। আমারতো
মনেহয় আপনি নিশ্চই কোন
মেয়ের পিছে লাইন মারছিলেন
তাই সেই মেয়ের বরো ভাই
আপনাকে ধরে টাক করে দিছে।
সেইটা লজ্জায় এখন বলতে
পারছেন না। তুই সারাদিন নাটক
দেখিস মনেহয়। দিন দিন তোর
মাথায় সব কুটনুতিক বুদ্ধি যায়গা
করে নিচ্ছে। এই স্টার জলসা
আসলেই তোর মাথাটা খেলো।
আপনাকে বলছে? মাই ডিয়ার
ইরা আমাকে কে কি বলবে? এইযে
আমার এখন খুব ইচ্ছা করছে আপনার
ওই টাক মাথায় আমি আলকাতরা
মেখে দেই। ইরা তোর মেজাজ
সবসময় এইরকম চরায় কেন
উঠে থাকে আমাকে বলবি?
আপনার ওই হনুমান মাকরা মুখ
দেকলেই আমার মেজাজ গরম
হয় বুঝলেন! আচ্ছা খাল্লামা কি
তোর জন্মের সময় ভুল করে মধুর
বদলে করলার রস খাইয়ে দিছিলেন।
তা আমি কি যানি সেটা আপনার
খাল্লামাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন।
.
মাই ডিয়ার ইরা এখন ঝটপট
এক গ্লাস সরবত বানিয়ে নিয়ে
আস।
.
আমাকে কি কোন এংগেলে কাজের
বিটি রহিমা মনেহয়। না আমার
কপালে কিছু লেখা আছে।
.
বুঝলি ইরা আমার খানিক
সন্দেহ হয় তুই সত্যি আসাদের
বোন তো। তোর ভাই এতো
ভালো আর তুই হুবাহু রিনা খান।
.
আপনার টাক মাথা আমি ফাটিয়ে
ফেলবো। এখনি সরবত খেয়ে
বিদায় হন।
.
শাকিল ভাই আমার বরো ভাইর
বন্ধু। আসাদ ভাইয়া এইতো
মাত্র দুই বছর হলো পাশ করে
চাকরি নিয়েছে। আর শাকিল
ভাই এখনো বেকার। তার নাকি
চাকরি ভালো লাগে না। তার
নাকি চাকরি বন্দী আসামির মতো
মনেহয়। তাই প্রত্যেক বার
যখন তার কোন চাকরির ইন্টার্ভিউ
থাকে ঠিক দুই দিন আগে সে
বাড়ি ছারা হয়ে যায়। কিনা কোন
দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসে।
ইন্টার্ভিউর পরের দিন এসে
বলবে। বুঝলি ইরা ওনেক ভাবলাম
আসলে চাকরির ইন্টার্ভিউর
সাথে আমার কোয়ালিটি যায় না।
এই দেশে ওনেক হতো দরিদ্র
আছে যারা চাকরি পায় না। এখন
তুই ভাব আমি যদি চাকরি নেই
ওই একটা ছিট ভরে যাবে আর
একটা দরিদ্র চাকরি থেকে
বঞ্চিত হলো। আমাদের দেশের
মানুষ গুলো খুব ভালো এদের
দিকটাও তো আমার ভাবা উচিৎ।
তাই একাকি এইসব ভাবার জন্য
সিলেট গিয়েছিলাম। অনেক
সুন্দর যায়গা। না গেলে জীবন
বৃথা। কেমন উদাস উদাস হয়ে
এই কথা গুলো বলে আমার শুধু
তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে।
ইন্টার্ভিউর পর কিছুদিন সে
এখানেই থাকে কারন তার বাবা
খুব রাগী আর তার বাবার একটা
লাইসেন্স করা গুলি আছে যেটা
নয়ে সে বসে থাকে তার জন্য।
শাকিল ভাই যে কয়দিন আমাদের
বাসায় থাকে সে কয়দিন আমি
কলেজে যাই না। সারাদিন আমি
তার সাথে গল্প করি হাসা হাসি
করি। মাঝেমাঝে চোখে পানি
এসে পরে এতো আনন্দ সত্যি কি
আমি পাবো এইভেবে। আর তিনি
বোকার মতো আমার দিক ফ্যালফ্যাল
করে তাকিয়ে থাকে আর বলে
বুঝলি ইরা মেয়েরা হচ্ছে গিরগিটির
মতো খালি রং বদলায়। আর
এই ক্ষেত্রে পৃথিবীর সমস্ত ছেলেরা
হচ্ছে কালার ব্লাইন্ড। যখন সে
চলে যায় তখন কেন যানি সব
খালি খালি লাগে।
.
একদিন সে এসে বলে মাই
ডিয়ার ইরা মাঝেমাঝে জীবন টা
কেন যানি খালি খালি লাগে।
যেদিকে তাকাই শুধু কাপেল আর
কাপেল। আমারো ইচ্ছা হয় পাশে
কাউকে নিয়া তার হাত ধরে ঘুরে
বেরাতে। আমি মুখ ঝামটা দিয়ে
বলতাম উম বুরা বয়সে ভিমরতি।
.
সেদিন হঠাৎ করেই তাকে ফেইসবুক
থেকে ব্লক করলাম। কারন
সে একটা মেয়ের ছবিতে কমেন্টে
করছে "তোমাকে দেকতে ওনেক
কিউট লাগছে " আর প্রতিদিন
হোম পেইজে দেখি ৪ বা ৫ টা
মেয়ে তার ফ্রেন্ড তাই রাগে তাকে
ব্লক করলাম । উনি কি বুঝতে
পারে না আমি তাকে কতো
ভালবাসি।
__
শাকিলের কথন :-
ইরা হচ্ছে আমার বন্ধুর ছোট বোন।
সেই কবে থেকে ওদের বাসায়
আমার যাওয়া আসা। খাল্লামা
আমাকে তার ছেলের মতোই যানে।
কিন্তু ওই পিচ্চি আমাকে দেকলেই
তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। কিন্তু
একটা জিনিস ভেবে খুব শান্তি
পাই যে মেয়েরা যাকে বেশি ভালবাসে
তার সাথেই বেশি রাগারাগি করে।
আমার মতে ইরাও আমাকে
ভালবাসে। সেদিন ওনেক কষ্ট
করে জীবনের প্রথম একটা কবিতা
লিখেছিলাম ওর জন্য। তারপর
ফেইসবুকে মেসেজ দিয়ে ছিলাম।
.
"মাই ডিয়ার ইরা
তোমায় দেকলে আমার
বুকে জাগে প্রেমের পিড়া
আমায় দেবে নাকি একটু ক্ষীরা "
.
পরে অনুধাবন করেছিলাম এইসব
কবিতা লিখতে মনের মাধুর্য লাগে
আর গুরু গম্ভীর শদ্ব ব্যাবহার করা
লাগে। আর কবিতায় ছন্দ থাকা
জরুরি। কিন্তু আমার কবিতায়
এসব কিছুই নেই। তাই চেষ্টা
করছি। আমার ইচ্ছা কোন
এক বর্ষায় ঝুম বৃষ্টির মধ্যে কয়েক
গুচ্ছ কদম ফুল নিয়ে ওর সামনে
গিয়ে বলবো "বুঝলি ইরা আমার
মনেহয় আমি তোকে ভালবাসি "।
.
কিন্তু ওর মাথা অলটাইম গরম
লাভার মতো গরম থাকে। একটু
সুন্দর চেহারা নিয়া কতোই না
বরাই দেখায়। আমি ওর একটা
নাম দিছি বুচি ইরা। চিন্তা করছি
বিয়ের পর এই নামটা ধরে ডাকবো।
.
এইতো সেদিন গরমের ভিতর
দারিয়ে ছিলো আমি দেখে তারাতারি
ওর জন্য আইস্ক্রিম নিয়ে আসলাম।
কিন্তু বদ মেয়েটা আমার হাত থেকে
আইস্ক্রিম টা নিয়ে সোজা হাটা দিলো।
একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত দিলো না।
যানি এটা আমার দায়িত্ব। সেদিন
রাতে ফোন দিয়ে বললাম তুই কি
আমার উপর রেগে আছিস। ও
বলে "আপনি আমার বরো ভাইর
বন্ধু আপনার উপর কেন রাগ করবো"
আমার কথা শুনে নিজের মাথার
চুল ছিরে ফেলতে ইচ্ছা করছিলো
তাই তো চুল ফেলে দিলাম।
.
ইরার কথন:-
ওনেক দিন থেকে তাকে ফোন
দিচ্ছি কিন্তু শাকিল ভাই ফোন
ধরছে না। যানি তিনি আর কোনদিন
এসে বলবেনা দরজার সামনে
সং সেজে দারিয়ে আছিস কেন?
ইরা এক গ্লাস ঠান্ডা সরবত নিয়ে
আয়তো। মানুষটা সবসময়
তারা হুরায় থাকে। এইতো দিন
৩০ আগে রাস্তা পারের সময়
হঠাৎ ট্রাকের সাথে ধাক্কা খায়
আর পরে যায়। তার মা সেদিন
পঈ হাসপাতাল থেকে ফোন করে
ওনেক কেঁদেছিলেন। তিনি নাকি
আর স্ক্রাস ছারা হাটতে পারবে না।
তাকে ওনেক ফোন দেই কিন্তু
তিনি একবারো ফোন রিসিভ করে
না। মাঝেমাঝে একটা দু স্বপ্ন দেখি।
দেখি তিনি এক বরো রাস্তার
মাঝখানে একা দাড়িয়ে আছে
স্ক্রাস নিয়ে। আর আমার দিক
শিশুশুলভ লুক নিয়া বলে বুঝলি
ইরা রাস্তাটা ওনেক বরো। কিভাবে পার
হবো বল তো। আমি ফ্যাল ফ্যাল
করে তার দিক তাকিয়ে থাকি।
ওনেক ফোন করার পর তিনি
কল ধরছেন আর বলেছেন।
কাল দেখা করবে।
.
শাকিলের কথন:-
মেয়েটা বড্ড বোকা। আগে যদি
এরকম করতো তা নহয় একটা কথা
ছিলো। কিন্তু এখন এই অনিশ্চিত
জীবনের সাথে ওকে কোন
ভাবেই মিলানো সম্ভব না। তাই
ওকে দেখা করতে বলেছি।
পার্কে। কালকেই সব শেষ করে
দিতে হবে।.
আজ আকাশটা কালো হয়ে
র্যেছে মনেহয় কিছুক্ষনের
মধ্যেই বৃষ্টি পরবে। হঠাৎ ঝুম
বৃষ্টি পরা আরম্ভ করলো।
আমি স্ক্রাসটা নিয়ে দাড়ালাম।
দূরে দেখি সাদা সেলোয়ায় পরে
ইরা আসতেছে হাতে সাদা চুড়ি
হাতে মেহেদি। এসেই বলে দেখেন
তো মেহেদি মুছে গেছে কিনা।
আমি বলি না ঠিকি আছে।
বুঝলি ইরা জীবটা সিনেমা
না তুই যা ভাবছিস সেটা কোন
দিন সম্ভব না। আপনাকে বলছে।
তুই চলে যা। আপনি চুপ করে আমার
হাত ধরুন আর এটা ফেলে দিন।
এটা কোনদিন সম্ভব নয় ইরা।
আপনি আমার কথা না শুনলে
রাস্তায় গিয়ে আমিও গাড়ির
নিচে লাফ দিবো। তখন বুঝবেন।
আপনি তো যানের আমি কি
করতে পারি। এই মেয়ে দেখি
কাদতেছে। কিন্তু পানি বুঝা
যায় না। ঠোটতা মৃদু কাপছে।
আমি ওর হাত ধরে দাড়ালাম।
ওকে উপেক্ষা করা সম্ভব না।
চিন্তা করছি কদম ফুল কই পাই।
ইরা বললো আপনি যানেন আপনি
আমার স্বপ্নে জিজ্ঞাস করতেন
"বুঝলি ইরা রাস্তাটা ওনেক বরো
কিভাবে পার হবো বলতো "
তুই তখন কি বলতি? এই যে
এখন যেভাবে আপনাকে ধরে হাটছি
এই বলে হাসি দিলো। আমিও
একটা হাসি দিলাম। হাটতে হাটতে
চিন্তা করছি জীবনা সিনেমা হলে
খারাপ হতো না।