বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৫
Nasir Uddin: বউ গেলে বউ পাবে কিন্তু বাবা গেলে তো আর বাবা পাবে ন...
Nasir Uddin: বউ গেলে বউ পাবে কিন্তু বাবা গেলে তো আর বাবা পাবে ন...: স্ত্রী অপর্না ব্যাগ গুছিয়ে রেডী হচ্ছে। - কি হলো? ব্যাগ গুছাচ্ছ কেনো? কোথায় যাচ্ছ? - কই আবার? আমার বাবার বাড়ি যাচ্ছি! - কেন? - কেন ত...
শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৫
অদ্ভূত অনুভূতি
>আচ্ছা তুমি এমন কেন?
>কেমন?
>কেমন বোকা বোকা?
>আমি এমনি
>আচ্ছা তুমি আমায় বিয়ে করেছো কেন?
>তোমাকে দেখে ভাল লেগেছিল তাই
>তুমি আমাকে ভালবাস?
>ভাল না বাসলে বিয়ে করতামনা
>তাহলে রাত্রে ঘুমানোর সময় অন্য দিকে মুখ ফিরে ঘুমাও কেন?
>তাহলে কিভাবে ঘুমাবো?
>যাও বাসা থেকে যাও
>কই যাবো?
>কই যাবা মানে?দোকানে যাও,আর আমার জন্য
দোকান থেকে চটপটি,ফোচকা,হালিম সবকিছু নিয়ে আসো।
>এত রাত্রে এগুলা কোথায় পাবো?
>কোথায় পাবা মানে?যেখান থেকে পারো নিয়ে আসবা,
যদি না আনতে পারো,রাত্রে বাসায় ডুকতে দিবোনা।
>তাহলে রাত্রে থাকবো কোথায়?
>ঐ যাবা?না.........
>ওকে যাচ্ছি।
নাহ এই ভিতুর ডিম ছেলেকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা।
যা করার আমাকেই করতে হবে।
~~~~
~~~~
আমি অত্তন্ত হিংসুটে,রাগী আর লুতুপুতু টাইপের একটা মেয়ে।
জীবনে কখনো প্রেম করিনি,আর আমার মত
একটা অশান্ত মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে
কোন ছেলে তার গাল নষ্ট করবে।
বিয়ের আগ পর্যন্ত অনেক গুলো ছেলেকে
প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার কারনে থাপরিয়েছি।
কিন্তু কেন যে এই আন রোমান্টিক
ভিতুর ডিম ছেলেটাকে বিয়ের জন্য
হ্যা বলে দিয়েছিলাম,আমি নিজেই
এর কারনটা খুজে পাচ্ছিনা।এখন মনে হচ্ছে
জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করেছি
এই ভিতুর ডিম ছেলেটাকে বিয়ে করে।
বিয়ের আগে ভাবতাম যে,আমার বর আমাকে
নিতে আসবে সাদা ঘোড়ায় চড়ে রাজপুত্রের মত।
বাসর রাতে আমরা দুজন এক সাথে
আকাশের চাঁদ দেখবো,সে আলতো করে
আমার হাত স্পর্শ করবে,আমি তখন
লজ্জায় লাল হয়ে যাবো।বাসর রাতে
তার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যাবো,
সারা রাত সে আমাকে নিয়ে বসে থাকবে।
বাসর রাতে সে আমার জন্য অনেক গুলো চূড়ি
নিয়ে আসবে।সে গুলো আমার হাতে
পড়িয়ে দিবে আর বলবে আই লাভ ইউ।
আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি নীরা।
কিন্তু সব কিছুই হল এর ঠিক উল্টো।
বিয়ের দিন আমার কাছে এমন মনে হল যে,
এই বাড়ি থেকে কনে নয় যেন লাশ যাচ্ছে।
বিয়ের দিন রাত্রে বাসর ঘরে বসে আছি।
রাত প্রায় ১টা বেজে গেছে কিন্তু আমার
বর মানে নিলয়ের আসার কোন খবর নেই।
কিছুক্ষণ পরে দেখলাম দুই তিনজন বন্ধু
ঠেলে ঠুলে বাসর ঘরে ঢুকাচ্ছে নিলয়ে কে।
যাক অবশেষে বাসর ঘরে এন্ট্রি হল বরের।
আমি খাট থেকে নেমে গিয়ে সালাম করলাম।
বিয়ের আগে বাসর রাতে স্বামীর সাথে
এটা করবো ওটা করবো কত প্ল্যান
করে রেখেছিলাম,কিন্তু সব প্ল্যানে জল ঢেলে দিয়ে
নিলয় বলল,সারাদিন তোমার উপর দিয়ে
অনেক ধকল গেছে তাই আজকে ঘুমিয়ে পড়।
আজকে বিয়ের ৫দিন হল কিন্তু এখন পর্যন্ত
নিলয় আমাকে একটি বারের জন্য স্পর্শ করেনি।
তাই আজকে সিদ্ধান্ত নিলাম সব গল্পে
রাজ কন্যাকে নেওয়ার জন্য রাজ পুত্র আসে।
আমার গল্পে না হয় রাজ কন্যা আসবে
রাজ পুত্রকে নেওয়ার জন্য।
~~~~
~~~~
নিলয় বাসা থেকে বের হওয়ার পর
তাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ১০১টা
মোমবাতি জ্বালালাম রুমে।মোমবাতি
জ্বালাচ্ছি আর ভাবছি আমি যে দস্যি মেয়ে
কখন না জানি বাসায় আগুন ধরিয়ে দেই।
তখন স্বামীর সাথে প্রেম না করে প্রেম
করতে হবে ফায়ার সার্ভিসের পানির সাথে।
রাত প্রায় ২টা বাজে এখনো বাসায় আসছেনা নিলয়।
আমার সারপ্রাইজের মোমবাতি গুলো
নিভে গেছে অনেক আগে,ফোনটাও করতে পারছিনা,ফোনটা
রেখে গেছে বাসায়।চিন্তায় অস্থির হয়ে গেলাম আমি।
একা একা বসে থাকতে আর ভাল লাগছেনা,
তাই একটা কফি বানিয়ে বাসার বারান্দায়
বসে খাওয়ার জন্য বের হলাম।বারান্দায়
এসে দেখি নিলয় মাথা নিচ দিকে
দিয়ে বসে আছে।আমাকে দেখে উঠে দাড়ালো নিলয়।
>দরজা নক না করে এখানে বসে আছো কেন?জানো কত চিন্তা হচ্ছিল তোমার জন্য?
>তুমিইতো বলেছিলে যদি ফোচকা,হালিম না আনতে পারি বাসায় ডুকতে দিবেনা তাই আর নক করিনি।
আমি আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলামনা
জড়িয়ে ধরলাম নিলয়কে।
>তুমি কি বুঝতে পারোনা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি?
>আমি জানি নীরা তুমি আমায় অনেক ভালবাস
>তাহলে আমাকে এড়িয়ে চল কেন?
>যখন ছোট ছিলাম,তখন দেখতাম
আমার মা আমার বাবার সাথে অনেক
ঝগড়া করতো,কখনো তারা হাসি খুশি ছিলনা,
তাই একদিন আমার বাবা মা`কে ডিভোর্স দিয়ে দিল,
তখন থেকে আমার মনে একটা ধারণা
জন্ম নিল যে,সব মেয়েরাই বোধহয়
তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে তাই
কখনো তোমাকে স্পর্শ করার সাহস হয়নি আমার,
কিন্তু বিশ্বাস কর নীরা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি।
>আমিও তোমাকে এই কয়েক দিনে
অনেক ভালবেসে ফেলেছি নিলয়,আমি কখনো
তোমার সাথে ঝগড়া করবোনা,কিন্তু
আর কখনো আমাকে এড়িয়ে চলবেনাতো?
.
এখন আর কথা বললনা নিলয়,আমাকে
জড়িয়ে নিল তার বুকের মাঝে।
আমিও সাড়া দিলাম নিলয়ের ডাকে।
যখন কোন মানবের ডাকে মানবী সাড়া দেয়
তখন তার মাঝে একটা অজানা অদ্ভূত অনুভূতির সৃষ্টি হয়,যা বোঝানো যায়না কাউকে।
নিশিমন পরী
১১;৪৫। বার্সার খেলা চলছে। একপলকে তাকিয়ে খেলা দেখছে আবির। হঠাত ফোনটা বেজে উঠল। সায়েম ফোন করেছে।
-কিরে তুই কোথায়?
-কোথায় থাকার কথা এখন আমার?
-না মানে, বাসায়?
-হ্যা। কেনো?
-কি করিস? ব্যাস্ত?
-বার্সার খেলা দেখি, না ব্যস্ত না। কোনো দরকার?
-আর্জেন্ট আমার বাসার সামনে আসবি প্লিজ?
-এখন? অসম্ভব। খেলা দেখছি আমি।
-আরে আয়না? প্লিজ প্লিজ প্লিজ? আমার শরীর খারাপ লাগছে। ডক্টরের কাছে যেতে হবে।
-কি হইছে?
-মাথা ঘোরাচ্ছে বমি বমি লাগছে। যেকোনো সময়......
-থাম! আচ্ছা আমি আসছি।
মুচকি হাসল আবির।
-ওকে ডান।
-কিরে তুই কোথায়?
-কোথায় থাকার কথা এখন আমার?
-না মানে, বাসায়?
-হ্যা। কেনো?
-কি করিস? ব্যাস্ত?
-বার্সার খেলা দেখি, না ব্যস্ত না। কোনো দরকার?
-আর্জেন্ট আমার বাসার সামনে আসবি প্লিজ?
-এখন? অসম্ভব। খেলা দেখছি আমি।
-আরে আয়না? প্লিজ প্লিজ প্লিজ? আমার শরীর খারাপ লাগছে। ডক্টরের কাছে যেতে হবে।
-কি হইছে?
-মাথা ঘোরাচ্ছে বমি বমি লাগছে। যেকোনো সময়......
-থাম! আচ্ছা আমি আসছি।
মুচকি হাসল আবির।
-ওকে ডান।
বিশ মিনিট পর...
বনানীর বিয়াল্লিশ নম্বর বাড়ির সামনে সাদা এলিয়নে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছেলে। পড়নে লাল ফর্মাল একটা শার্ট, কালো প্যান্টের সাথে ইন করে পড়ে আছে। দুহাত পকেটে ঢোকানো। ছেলেটা আবির।
আবিরের মাথার উপর ল্যাম্পপোস্টের সোডিয়াম আলো জ্বলছে। তার পিছনে অর্থাৎ রাস্তার বাম পাশে একটা মিডনাইট ক্লাব থেকে হালকা স্বরের মিউজিক আসছে। তার সামনেই বিয়াল্লিশ নম্বর বাড়ির পুরোটাই সাদা রঙ করা। সাততলা বাড়ির তিনতলায় সায়েমের ফ্যাট।
আবির আসার পর অলরেডি সায়েমকে দুবার ফোন দিয়েছে, সায়েম ধরেনি। কিছুটা সময় পেরিয়ে গেছে সায়েম এখনও নীচে নেমে আসেনি। দাঁড়িয়ে থাকার ফলে আবিরের চোখ হালকা ঢুলছে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার চোখ লেগে এসেছিল, হঠাত তার কাধে আস্তে করে কেউ চাপড়ে দিল। আবির চমকে ফিরে তাকাল। একটা অপরিচিত মেয়ে তার পাশে এসে দাড়িয়েছে অথচ সে খেয়াল করেনি!
বনানীর বিয়াল্লিশ নম্বর বাড়ির সামনে সাদা এলিয়নে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছেলে। পড়নে লাল ফর্মাল একটা শার্ট, কালো প্যান্টের সাথে ইন করে পড়ে আছে। দুহাত পকেটে ঢোকানো। ছেলেটা আবির।
আবিরের মাথার উপর ল্যাম্পপোস্টের সোডিয়াম আলো জ্বলছে। তার পিছনে অর্থাৎ রাস্তার বাম পাশে একটা মিডনাইট ক্লাব থেকে হালকা স্বরের মিউজিক আসছে। তার সামনেই বিয়াল্লিশ নম্বর বাড়ির পুরোটাই সাদা রঙ করা। সাততলা বাড়ির তিনতলায় সায়েমের ফ্যাট।
আবির আসার পর অলরেডি সায়েমকে দুবার ফোন দিয়েছে, সায়েম ধরেনি। কিছুটা সময় পেরিয়ে গেছে সায়েম এখনও নীচে নেমে আসেনি। দাঁড়িয়ে থাকার ফলে আবিরের চোখ হালকা ঢুলছে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার চোখ লেগে এসেছিল, হঠাত তার কাধে আস্তে করে কেউ চাপড়ে দিল। আবির চমকে ফিরে তাকাল। একটা অপরিচিত মেয়ে তার পাশে এসে দাড়িয়েছে অথচ সে খেয়াল করেনি!
মেয়েটা তার পাশেই তার মত গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুচকি একটা হাসি দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আবির?’
আবির ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। মুখ হা হয়ে গেছে। কোনো রকমে মাথা নেড়ে হ্যা সূচক জবাব দিল।
মেয়েটা অপরূপ সুন্দরী তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সে হালকা গোলাপি রঙয়ের একটা টি-শার্ট আর আকাশি জিন্স পড়ে আছে। মেয়েটার আরেকটা ব্যাপার হল চুলে বাদামি রঙ করা। সোডিয়ামের আলোয় তা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ঠোটে কড়া করে লিপস্টিক লাগিয়েছে। মেয়েটা হয়ত চুইংগাম চিবুচ্ছে তাই অনবরত মুখ নড়ছে। মুখে মিষ্টি হাসিটা লেগেই আছে। এতকিছুর পরও আবির মেয়েটার প্রতি কোনো আগ্রহ দেখালনা, মুখ ঘুরিয়ে নিল।
মেয়েটা সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল, ‘অনুমান করেছিলাম।’
আবির কিছু বললনা, চুপ করে গেল। মেয়েটা কেমন যেন উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। ব্যাপারটা আবিরের ভাল লাগলনা। বোঝা যাচ্ছে এ মেয়ে নিজে থেকে বেশি কথা বলবে।
মেয়েটা জিজ্ঞেস করল, ‘কারো জন্য অপেক্ষা করছ?’
আবির এবারো কিছু বললনা, মাথা নাড়ল। মেয়েটা আবার বলল, ‘তুমি জানো? আমি অনুমান করে অনেক কিছুই বলে দিতে পারি।’
আবির নির্লিপ্ত গলায় বলল, ‘ও তাই?’
‘বিশ্বাস হচ্ছেনা তোমার? মেয়েটা অবাক হওয়ার মত করল। ‘আমি শিওর তোমার পকেটে লুমিয়া ১০২০ আছে। তাইনা?’
আবির হঠাত হকচকিয়ে যায়। পকেটে হাত দিয়ে তার লুমিয়াটা বের করে আনল। সে মনে মনে ভেবে পাচ্ছেনা মেয়েটা কিভাবে জানল ব্যাপারটা। অপরিচিত কারো জানার কথা নয়।
মেয়েটা মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল, ‘কি বিশ্বাস হয়? তুমি আরও প্রমাণ চাও?’ আবির হতবুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে আছে। ‘তুমি কারো জন্য অপেক্ষা করছিলেনা? তাকে আবার ফোন কর তো? এবার নিশ্চিত বন্ধ পাবে।’
আবির সাথে সাথেই সায়েমকে ফোন করল, ‘এই মূহুর্তে আপনার কাঙ্খিত নাম্বারে......’ সত্যিই ফোন বন্ধ। মেয়েটা মুচকি হেসে উঠে বলল, ‘কি বলেছিলাম?’ গলার স্বর নামিয়ে বলল, ‘শোনো, তুমি চমকে যাচ্ছ। চমকাবার কিছু নেই। আমি আনুমান করে যা বলি তা স্বাভাবিক ভাবেই মিলে যায়।’ মুচকি হেসে একবার চোখ টিপল।
আবিরের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। মেয়েটা আবার বলল, ‘তুমি নিশ্চয়ই বাসায় চলে যাবে এমন কিছু চিন্তা করছ আর আমাকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারছোনা তাইনা? দেখ, আমি নিশ্চিত বাসার পথে যাওয়ার সময় তুমি এক্সিডেন্ট করতে পার।’
আবির চোখে আবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার কথা যেরকম বিশ্বাস করতে পারছেনা সেরকম অবিশ্বাসও করতে পারছেনা।
‘আবির তুমি এরকম কনফিউজড হয়ে পড়ছ কেনো? আমি যা বলছি সব অনুমান করেই বলছি। আর তা সত্যিও হয়ে যাচ্চে এটা তুমি এখন অবিশ্বাস করতে পারনা। আমি তোমাকে একটা অফার করব?’
আবির মুখ ফসকে বলে ফেলল, ‘বল?’
‘আজ রাত তো বাসায় জরুরী কোনো তাড়া নেই তাইনা? আর বাসার পথ ধরাও তো ঠিক হবেনা। চল এক কাজ করি রাতটা আমরা গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াই পুরো শহর।’
আবির এতক্ষণে বুলি ফোটাল, ‘তোমার অনুমান বেশ খারাপ।’
মেয়েটা চমকে গেল, ‘কেনো?’
‘রাতটা ঘোরার মত যথেষ্ট তেল আমার আমার নেই।’
‘ও, এই কথা! আচ্ছা চল কোথাও গিয়ে বসব নাহয়।’
আবির ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। মুখ হা হয়ে গেছে। কোনো রকমে মাথা নেড়ে হ্যা সূচক জবাব দিল।
মেয়েটা অপরূপ সুন্দরী তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সে হালকা গোলাপি রঙয়ের একটা টি-শার্ট আর আকাশি জিন্স পড়ে আছে। মেয়েটার আরেকটা ব্যাপার হল চুলে বাদামি রঙ করা। সোডিয়ামের আলোয় তা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ঠোটে কড়া করে লিপস্টিক লাগিয়েছে। মেয়েটা হয়ত চুইংগাম চিবুচ্ছে তাই অনবরত মুখ নড়ছে। মুখে মিষ্টি হাসিটা লেগেই আছে। এতকিছুর পরও আবির মেয়েটার প্রতি কোনো আগ্রহ দেখালনা, মুখ ঘুরিয়ে নিল।
মেয়েটা সহজ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল, ‘অনুমান করেছিলাম।’
আবির কিছু বললনা, চুপ করে গেল। মেয়েটা কেমন যেন উড়ে এসে জুড়ে বসেছে। ব্যাপারটা আবিরের ভাল লাগলনা। বোঝা যাচ্ছে এ মেয়ে নিজে থেকে বেশি কথা বলবে।
মেয়েটা জিজ্ঞেস করল, ‘কারো জন্য অপেক্ষা করছ?’
আবির এবারো কিছু বললনা, মাথা নাড়ল। মেয়েটা আবার বলল, ‘তুমি জানো? আমি অনুমান করে অনেক কিছুই বলে দিতে পারি।’
আবির নির্লিপ্ত গলায় বলল, ‘ও তাই?’
‘বিশ্বাস হচ্ছেনা তোমার? মেয়েটা অবাক হওয়ার মত করল। ‘আমি শিওর তোমার পকেটে লুমিয়া ১০২০ আছে। তাইনা?’
আবির হঠাত হকচকিয়ে যায়। পকেটে হাত দিয়ে তার লুমিয়াটা বের করে আনল। সে মনে মনে ভেবে পাচ্ছেনা মেয়েটা কিভাবে জানল ব্যাপারটা। অপরিচিত কারো জানার কথা নয়।
মেয়েটা মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল, ‘কি বিশ্বাস হয়? তুমি আরও প্রমাণ চাও?’ আবির হতবুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে আছে। ‘তুমি কারো জন্য অপেক্ষা করছিলেনা? তাকে আবার ফোন কর তো? এবার নিশ্চিত বন্ধ পাবে।’
আবির সাথে সাথেই সায়েমকে ফোন করল, ‘এই মূহুর্তে আপনার কাঙ্খিত নাম্বারে......’ সত্যিই ফোন বন্ধ। মেয়েটা মুচকি হেসে উঠে বলল, ‘কি বলেছিলাম?’ গলার স্বর নামিয়ে বলল, ‘শোনো, তুমি চমকে যাচ্ছ। চমকাবার কিছু নেই। আমি আনুমান করে যা বলি তা স্বাভাবিক ভাবেই মিলে যায়।’ মুচকি হেসে একবার চোখ টিপল।
আবিরের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। মেয়েটা আবার বলল, ‘তুমি নিশ্চয়ই বাসায় চলে যাবে এমন কিছু চিন্তা করছ আর আমাকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারছোনা তাইনা? দেখ, আমি নিশ্চিত বাসার পথে যাওয়ার সময় তুমি এক্সিডেন্ট করতে পার।’
আবির চোখে আবিশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার কথা যেরকম বিশ্বাস করতে পারছেনা সেরকম অবিশ্বাসও করতে পারছেনা।
‘আবির তুমি এরকম কনফিউজড হয়ে পড়ছ কেনো? আমি যা বলছি সব অনুমান করেই বলছি। আর তা সত্যিও হয়ে যাচ্চে এটা তুমি এখন অবিশ্বাস করতে পারনা। আমি তোমাকে একটা অফার করব?’
আবির মুখ ফসকে বলে ফেলল, ‘বল?’
‘আজ রাত তো বাসায় জরুরী কোনো তাড়া নেই তাইনা? আর বাসার পথ ধরাও তো ঠিক হবেনা। চল এক কাজ করি রাতটা আমরা গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াই পুরো শহর।’
আবির এতক্ষণে বুলি ফোটাল, ‘তোমার অনুমান বেশ খারাপ।’
মেয়েটা চমকে গেল, ‘কেনো?’
‘রাতটা ঘোরার মত যথেষ্ট তেল আমার আমার নেই।’
‘ও, এই কথা! আচ্ছা চল কোথাও গিয়ে বসব নাহয়।’
ব্যাপারটায় আবিরের বেশ কৌতুহল হচ্ছে। মেয়েটা তার কাছে কি চাইছে তা জানার আগ্রহ বাড়ছে। তাই সে আর না করলনা। বলল, ‘চল।’
আবির ড্রাইভিং সীটে উঠে বসতেই মেয়েটা তার পাশের সীটে উঠে বসল। আবির জিজ্ঞস করল, ‘কোথায় যাব প্রথমে?’
‘তুমি যেদিকে ভাল মনে কর?’
আবির জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার নামটা জানা হলনা।’
‘আনিকা!’
‘রূপসী। সুন্দর নাম।’ আবির ড্রাইভিং করছে আর সামনে তাকিয়া কথা চালিয়ে যাচ্ছে।
‘হুম! তোমার সম্পর্কে আরেকটা অনুমান আমার হচ্ছে।’
‘কি অনুমান?’
‘তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে তাইনা?’
আবির সামনে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘হুম! ঠিক অনুমান করেছ। তার নামটা অনুমান করতে পারবে?’
আনিকা একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘উম, সরি বলতে পারছিনা।’
‘তুমি যেদিকে ভাল মনে কর?’
আবির জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার নামটা জানা হলনা।’
‘আনিকা!’
‘রূপসী। সুন্দর নাম।’ আবির ড্রাইভিং করছে আর সামনে তাকিয়া কথা চালিয়ে যাচ্ছে।
‘হুম! তোমার সম্পর্কে আরেকটা অনুমান আমার হচ্ছে।’
‘কি অনুমান?’
‘তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে তাইনা?’
আবির সামনে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘হুম! ঠিক অনুমান করেছ। তার নামটা অনুমান করতে পারবে?’
আনিকা একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘উম, সরি বলতে পারছিনা।’
আধ ঘন্টা পর...
আবির আর আনিকা রাস্তার পাশে একটা বেঞ্চিতে বসে আছে। সামনে খোলা মাঠ। রুটির মত খোলা চাদটা সারা মাঠ আলোকিত করে বেড়াচ্ছে। সবদিকে অপরূপ স্নিগ্ধতার সাথে শহরের কোলাহল স্তব্ধ হয়ে গেছে। পরিবেশের সাথে আনিকা মেয়েটাও নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আবির একটু আগের আনিকার সাথে এখন এই নিশ্চুপ আনিকার মিল খুজে পাচ্ছেনা।
আবির নিরবতা ভেঙ্গে বলল, ‘তুমিত অনেক অনুমান করলে, সত্যিও হল। এবার আমি একটু অনুমান করি?’
আনিকা না তাকিয়েই জানতে চাইল, ‘কি অনুমান করবে?’
আবির চাদটার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকাল। সে বলতে শুরুর করল, ‘সপ্তাহখানেক আগে থেকে একটা অপরিচিত মেয়ে আমাকে প্রতিনিয়ত আমাকে ফোন করে আমার খোজখবর রাখে। যেমন খেয়েছি কিনা, ঘুমোলাম কিনা, কোথায় গেলাম না গেলাম এসব। মেয়েটির সাথে কথা বলতে বলতে আমারো ভালো লেগে যায়। মেয়েটি আমার খোজ খবর নিয়েছে কারণ সে আমাকে ভালোবাসে।’ আবির একটু থেমে আবার বলতে শুরু করল, ‘আর আমি নিশ্চিত আমার পাশে বসা মেয়েটিই সেই মেয়েটি তাইনা? তুমিই পারিশা নওকি?’ কথাটা বলে আবির অল্প হাসছে।
মেয়েটি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল কতক্ষণ। ‘আ...আ...আজ্জব! তু... তুমি কি করে বুঝলে?’
আবির হেসে হেসে বলল, ‘পুরো ব্যাপারটাই এখন আমার কাছে পরিষ্কার। আমার অনুমান সত্যি হলে, তুমি আর সায়েম আগে থেকেই প্ল্যান করে নিয়েছিলে সব। আমাকে কল করে ডেকে আনবে। অনুমানের কথা আমাকে হতভম্ব করে দিবে। তারপর যেন আমি তোমার কথাগুলো শুনতে বাধ্য হই আর তোমার সাথে সময়টা কাটাই। তাইনা?’
পারিশা এবার একেবারে হা হয়ে গেছে, ‘হ্যা!’
এবার আরেকটা অনুমান করি। তোমার এতসব ঘটনা বানানোর কারণ নিশ্চয়ই আমাকে সামনাসামনি প্রপোজ করে আরো বোকা বানানোর জন্য। তাইনা?’
‘অনেকটাই ঠিক। কিন্তু তুমিত বললে তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে।’
‘ হাহা! সেখানেই তুমি ধরা খেয়েছ। তুমি আমার কাছ থেকে না আশা করছিলে কিন্তু আমি হ্যা বলায় তুমি বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। নাম জিজ্ঞেস করায় তুমি আরও থতমত খেয় যাও। আর এরপর থেকে পুরোটা সময়ই তুমি চুপচাপ হয়ে ছিলে।’
পারিশা এবার খিল খিল করে হেসে দিল। ‘উফফ! কি মানুষরে বাবা। আচ্ছা মাফ চাইছি এতসবের জন্য। কিন্তু এতকিছু যার জন্য করলাম তার উত্তরটা কি পাবনা?’
আবিরও হেসে দেয়। ‘আমার নিশিমন পরী উত্তরটা নিশ্চয়ই আপনি ভালো অনুমান করতে পারছেন। হ্যা ভালোবাসি তোমাকে। চাদের নিঃস্বার্থ আলোর মত ভালোবাসি তোমাকে।’
আবির পারিশাকে কাছে টেনে নেয়। পারিশাও তার কাধে মাথা গুজে দেয়। এই নিরবতায় আর কোনো কথা হবেনা।
আবির আর আনিকা রাস্তার পাশে একটা বেঞ্চিতে বসে আছে। সামনে খোলা মাঠ। রুটির মত খোলা চাদটা সারা মাঠ আলোকিত করে বেড়াচ্ছে। সবদিকে অপরূপ স্নিগ্ধতার সাথে শহরের কোলাহল স্তব্ধ হয়ে গেছে। পরিবেশের সাথে আনিকা মেয়েটাও নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আবির একটু আগের আনিকার সাথে এখন এই নিশ্চুপ আনিকার মিল খুজে পাচ্ছেনা।
আবির নিরবতা ভেঙ্গে বলল, ‘তুমিত অনেক অনুমান করলে, সত্যিও হল। এবার আমি একটু অনুমান করি?’
আনিকা না তাকিয়েই জানতে চাইল, ‘কি অনুমান করবে?’
আবির চাদটার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকাল। সে বলতে শুরুর করল, ‘সপ্তাহখানেক আগে থেকে একটা অপরিচিত মেয়ে আমাকে প্রতিনিয়ত আমাকে ফোন করে আমার খোজখবর রাখে। যেমন খেয়েছি কিনা, ঘুমোলাম কিনা, কোথায় গেলাম না গেলাম এসব। মেয়েটির সাথে কথা বলতে বলতে আমারো ভালো লেগে যায়। মেয়েটি আমার খোজ খবর নিয়েছে কারণ সে আমাকে ভালোবাসে।’ আবির একটু থেমে আবার বলতে শুরু করল, ‘আর আমি নিশ্চিত আমার পাশে বসা মেয়েটিই সেই মেয়েটি তাইনা? তুমিই পারিশা নওকি?’ কথাটা বলে আবির অল্প হাসছে।
মেয়েটি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল কতক্ষণ। ‘আ...আ...আজ্জব! তু... তুমি কি করে বুঝলে?’
আবির হেসে হেসে বলল, ‘পুরো ব্যাপারটাই এখন আমার কাছে পরিষ্কার। আমার অনুমান সত্যি হলে, তুমি আর সায়েম আগে থেকেই প্ল্যান করে নিয়েছিলে সব। আমাকে কল করে ডেকে আনবে। অনুমানের কথা আমাকে হতভম্ব করে দিবে। তারপর যেন আমি তোমার কথাগুলো শুনতে বাধ্য হই আর তোমার সাথে সময়টা কাটাই। তাইনা?’
পারিশা এবার একেবারে হা হয়ে গেছে, ‘হ্যা!’
এবার আরেকটা অনুমান করি। তোমার এতসব ঘটনা বানানোর কারণ নিশ্চয়ই আমাকে সামনাসামনি প্রপোজ করে আরো বোকা বানানোর জন্য। তাইনা?’
‘অনেকটাই ঠিক। কিন্তু তুমিত বললে তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে।’
‘ হাহা! সেখানেই তুমি ধরা খেয়েছ। তুমি আমার কাছ থেকে না আশা করছিলে কিন্তু আমি হ্যা বলায় তুমি বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছিল। নাম জিজ্ঞেস করায় তুমি আরও থতমত খেয় যাও। আর এরপর থেকে পুরোটা সময়ই তুমি চুপচাপ হয়ে ছিলে।’
পারিশা এবার খিল খিল করে হেসে দিল। ‘উফফ! কি মানুষরে বাবা। আচ্ছা মাফ চাইছি এতসবের জন্য। কিন্তু এতকিছু যার জন্য করলাম তার উত্তরটা কি পাবনা?’
আবিরও হেসে দেয়। ‘আমার নিশিমন পরী উত্তরটা নিশ্চয়ই আপনি ভালো অনুমান করতে পারছেন। হ্যা ভালোবাসি তোমাকে। চাদের নিঃস্বার্থ আলোর মত ভালোবাসি তোমাকে।’
আবির পারিশাকে কাছে টেনে নেয়। পারিশাও তার কাধে মাথা গুজে দেয়। এই নিরবতায় আর কোনো কথা হবেনা।
প্রেমপত্র
খুব মনোযোগ সহকারে স্যারের লেকচার শুনছি। এমন সময় কোথা থেকে একটা কাগজের ঢিল গায়ে এসে লাগলো। কোনো বন্ধু হয়তো দুষ্টামি করছে এই ভেবে পুনরায় লেকচারে মনোযোগ দিলাম। কিছুক্ষণ পর আবার একটা কাগজের ঢিল উড়ে এসে আমার গায়ে লাগলো। কাগজের ঢিলটা হাতে নিয়ে আশেপাশের বন্ধুদের দিকে দেখছি যে ঢিলটা কে ছুড়তে পারে!
.
হটাৎ কেন জানি মনে হলো কাগজটায় কিছু লিখা থাকতে পারে। সাথে সাথে খুলে দেখলাম। কাগজে লিখা- "আগের কাগজটা ব্রেঞ্চ এর নিচ থেকে তুলে পড়ো"
.
ব্রেঞ্চ এর নিচে খুজে দেখছি কিন্তু কাগজের ঢিলটা খুজেই পাচ্ছিনা। স্যারের লেকচার চলছে তাই ভালভাবে খুজতেও পারছিনা। স্যার যাতে বুঝতে না পারে এমনভাবে আগের কাগজটা খুজছি এমন সময় আরেকটা কাগজের ঢিল গায়ে এসে পড়লো। সাথে সাথেই এদিক ওদিক তাকালাম, সবাই লেকচার শোনায় ব্যস্ত, সম্ভাব্য ঢিল ছুড়নে ওয়ালা কে হতে পারে তা আমি বুঝতেই পারলাম না।
.
এবারের কাগজটা খুলে দেখলাম, লিখা- "হাদারাম, তোমার সামনের ছেলেটার পায়ের কাছে দেখো কাগজটা"।
.
আমি অবাক হবো না হতবাক হবো, কিছুই বুঝতে পারছিনা। ওই কাগজটায় এমন কি রাজ অন্তর্নিহিত আছে যে পর পর দুইবার ঢিল ছুড়ে কেবল ওই কাগজেটাই পড়ার জন্য নির্দেশ করছে। তবে একটা ব্যাপারে খটকা লেগেই রইলো যে, আমাকে 'হাদারাম' বলে সম্বোধন করতে পারে কোন মহান ব্যক্তি!
.
অতঃপর নির্দেশিত কাগজের ঢিলটা খুজে পেলাম। কাগজটা খুলে দেখলাম, দেখি যে ডাবল বাউন্ডারি দিয়ে সুন্দর করে বিশাল একটা লাভ আঁকা যাকে আমরা হৃদয় বা ভালবাসার প্রতীক হিসেবেই জানি। এই লাভ দেখেই যেমন কাগজ তেমন করে পকেটে রেখে দিলাম। ভেতরে কিছু লিখা ছিলো কিন্তু ক্লাসের মধ্যে লাভ লেটার পড়াটা ভদ্রতার মধ্যে পড়েনা তাই পরে সুন্দর পরিবেশে ফিলিংস নিয়ে পড়ার জন্য যত্ন করে পকেটে রেখে দিলাম। এই প্রথম প্রেমপত্র পেয়ে আমিতো খুশিতে দিশাহারা। তবে এড় প্রেরকটা কে হতে পারে তা নিয়ে একটা বড় রকমের দ্বিধা দ্বন্দ্বে পরে গেলাম।
.
আমি প্রথম বারের মত প্রেমপত্র পেয়েছি এই ভেবে গর্বে আমার বুক ফুলে উঠছে। মনে মনে ভাবতে লাগলাম সালার বন্ধুদের এবার দেখিয়ে দিবো প্রেম কি জিনিস! যারা আমায় বলতো 'তোর জীবনে কোনোদিন গার্লফ্রেন্ড হবেনা' তাদের সামনে এখন আমি ওপেন রোমান্স করবো। দেখি কে ঠেকায়।
.
ক্লাসের একটা মেয়েকে অল্প অল্প পছন্দ করতাম যার নাম ঈশিতা। বন্ধু বান্ধবীদের মধ্যে অনেকেই এটা জানতো। কিন্তু সাহস করে কোনোদিন ঈশিতাকে মনের কথা বলা হয়নি। ইস! ঈশিতাই যদি এই প্রেমপত্র দিয়ে থাকে তাহলে তো আমি আনন্দে হার্ট ফেইল করে ফেলবো।
.
.
পর পর আরো দুটো ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরলাম। বাসায় এসে আম্মু বলা শুরু করলো,
- এই অমি, পরনের জিন্সটা সহ আর কি ধোয়া লাগবে নিয়ে আয়।
.
আসলেই জিন্সটা ময়লা হয়েছে। জিন্সটা চ্যাঞ্জ করে আম্মুকে দিয়ে আসলাম। কিছুক্ষণ পর আবার আম্মুর ডাক,
- এই অমি, অমি... তোর পকেটে এটা কিসের কাগজ, আরেকটু হলে তো ধুয়ে দিতাম। দেখতো কোনো দরকারি কাগজ কিনা?
.
হার্টবিট বেড়ে গেলো। দৌড়ে গিয়ে দেখি আমার প্রেমপত্র এখনও অক্ষত আছে। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। কাগজটা যদি ভিজে যেতো তাহলে তো বড় রকমের একটা বিপদ হয়ে যেতো। এমনিতেই চিঠিটা কে দিয়েছে এখনও তার নামই জানিনা।
.
ঘরের দরজা বন্ধ করে কাগজটা খুললাম। ভাজ সোজা করে লিখার শেষের দিকে আগে আমার হবু প্রেমিকার নাম খুজতে লাগলাম। কিন্তু কি আশ্চর্য্য লিখার শেষে কোনো নামও দেখলাম না। বাধ্য হয়ে প্রথম থেকে পড়া শুরু করলাম।
.
অমি,
আমি ঈশিতা বলছি,..
..............................
..............................
..............................
ক্লাস শেষে প্লিজ লাইব্রেরিতে দেখা করো।
.
চিঠির মাঝখানে অনেক কিছু লিখা। প্রেম শুরু না করতেই এত প্রেম আর আবেগ দিয়ে চিঠিটা লিখার কোনো মানেই ছিলোনা। কলেজ থেকে বাসায় এসেছি আধঘন্টা হলো তার মানে ঈশিতা আমার জন্য আধঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছে। বিদ্যুৎ গতিতে রওনা দিলাম, অটোতে যেতে প্রায় পনেরো মিনিট লাগবে। এতক্ষন ঈশিতা থাকবে কিনা চলে যাবে এটা ভাবতেই নিজের মাথার চুল একটা একটা করে ছিড়তে ইচ্ছে হচ্ছে। কেনো যে কাগজের লিখাটা তখনই পড়লাম নাহ!
.
.
লাইব্রেরিতে না ঢুকতেই দেখি ঈশিতা বের হচ্ছে। এক প্রকার দৌড়ে গিয়ে তার সামনে দাড়ালাম।
.
- ঈশিতা, আমি এত্তগুলা সরি।
- কিসের আবার সরি! পথ ছাড়ো।
- আচ্ছা, আমি আরো অনেক অনেক সরি।
- আমি এখন বাসায় যাবো, পথ ছাড়ো
- আচ্ছা তোমার চোখ লাল দেখাচ্ছে ক্যান?
- কই? কোথায়? কিছু পড়ছে মনে হয়!
- আচ্ছা, একটু শান্ত হয়ে আমার কথাটা শোনো
.
সবকিছু খুলে বললাম, ঈশিতার রাগী আর গোমরা মুখটা ধীরে ধীরে সুশ্রী আর মিষ্টি হতে লাগলো।
.
- তুমি তো তখন কাগজটা খুলে দেখলা,
- খুলছি কিন্তু পড়িনি তো
- কেনো পড়োনি শুনি?
- ক্লাসরুম এর পরিবেশ যে প্রেমপত্র পড়ার জন্য উপযোগী নয় তাই।
- হয়েছে থাক, আচ্ছা আন্টি আবার কাগজটা খুলে দেখেনি তো?
- আরে নাহ, আম্মু তো দরকারি কাগজ মনে করে রেখে দিয়েছিলো, দেখেনি
- ভাগ্যিস আন্টি দেখেনি!!
- আর দেখলেও তেমন একটা সমস্যা হতোনা, আম্মু তোমার কথা জানে
- আমার কথা জানে মানে?
.
এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো, দেখি যে আম্মু ফোন দিয়েছে,
- হ্যা আম্মু বলো
- দেখা হয়েছে তো?
- হ্যা হয়েছে!!! আম্মু কার সাথে দেখা হওয়ার কথা বলছো?
- কার সাথে আবার ঈশিতার সাথে
- আ!!! আম্মু তুমি কি তাহলে...
- হ্যা, তোর প্রেম পত্র আমি পড়ে ফেলেছি। ঈশিতাকে একটু ফোনটা দে তো
.
ঈশিতাকে ফোনটা দিলাম। ঈশিতা আমার কাছ থেকে একটু দূরে গিয়ে কথা বলে আসলো।
.
- কি বললো আম্মু?
- তোমাকে তো বলা যাবেনা বাব্বুউউ..
- উহু বলোনা
- উহু বলবনা
.
প্রিয় সম্পর্কগুলো তো এমনই, যেমন মধুর তেমন সুখময়। যে সম্পর্কগুলোর জন্য অনেকদিন বাঁচতে ইচ্ছে করে, ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করেনা কোনোদিন।
.
ভালবাসা!!কেন এত অসহায়?
-দোস্ত দেখ হিমেল কেমন জানি একা একা
থাকে।
মোবাইল থেকে নজরটা শরিয়ে মেঘনার কথায়
ধ্যান দিল রাফা।
-হুমম।
-কি হুমম।ও কারো সাথে কথা বলেনা কোন
মেয়ের সাথে মিশেনা ইভেন কোন ছেলের
সাথেও না।একা একা শুধু পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে
ইস্ট্রেঞ্জ।
-ওর কিছু একটা করা দরকার।
-কি করব?
-আই থিংক ওর একটা প্রেম করিয়ে দেয়া দরকার।
ও চেঞ্জ হয়ে যাবে।
-প্রেম আর ওর সাথে ইম্পসিবল!!ও কাওকে পাত্তা
দিবে না।আর কেও ওর সাথে প্রেম করবে না।
-আর যদি করে।
-কে করবে শুনি?
-আমি আর কে?
-হা হা।ও তোর দিকে ফিরেও তাকাবে না।
-ও আমার সাথে প্রেম করবে।তুই দেখবি?
-বাজি ধর।তুই পারবি না।
-আচ্ছা ডান।ও যদি আমার প্রেমে পড়ে তুই
আমাদের বন্ধুদের সবাইকে ট্রিট দিবি।
-ওকে ডান।কিন্তু আবির কি বলবে।তোদের
রিলেশনের প্রবলেম হবে তো?
-আরে কিচ্ছু হবেনা।আমি ওরে সব বুঝিয়ে দেব।
-আচ্ছা দেখা যাক কি হয়।
-দেখ কি করি।
.
বলে হিমেলের কাছে যায় রাফা।চিকন চোখে
চশমা পড়া ছেলেটা হলো হিমেল।আর ও সবসময়
একা থাকতে পছন্দ করে।তাই রাফা মেঘনার
সাথে বাজি ধরে হিমেলের সাথে প্রেম করবে।
শিড়িতে বসা হিমেলের কাছে ছুটে যায় রাফা।
.
-হিমেল আজকের এসাইনমেন্ট করতে আমাকে
হেল্প করবে প্লিজ?
.
রাফা হিমেলের পাশ ঘেসে বসে তাই হিমেল
একটু দূরে সরে চশমাটা ঠিক করে।
-আজকেরটা।আচ্ছা ঠিক।
.
বলে রাফার এসাইনমেন্ট করতে হেল্প করে
হিমেল।তাদের মাঝে হাসি ঠাট্টা চলে।হিমেল
পরে বাসায় চলে যায়।
পরেরদিন ক্যান্টিনে বসে পড়তে থাকে হিমেল।
এর মধ্যে রাফা আসে।
.
-থ্যাংক ইউ সো মাচ হিমেল।তুমি না থাকলে
মনে হয় আজকে স্যার মেরেই ফেলত।
কথাগুলা বলতে বলতে টেবিলে রাখা হিমেলের
হাতে হাত পরে যায় রাফার।ঘাবরে গিয়ে
ততক্ষনাক হাতটা সড়িয়ে নেয় হিমেল।
.
-কি হলো?
-না কিছুনা।
.
কথাটা শুনে অটঠাসিতে ফেটে পড়ে রাফা।
তারপর দুজন কথা বলতে থাকে।এক পর্যায়ে রাফা
বলে:
-তোমাকে চশমা ছাড়া অনেক সুন্দর লাগবে।আর
টি-শার্ট না পড়ে শার্ট পড়লে অনেক মানাবে।
.
কথাগুলা হিমেল সিরিয়েসলি নেয়।আর মনে মনে
খুশি হতে থাকে।কারন জিবনের প্রথম কোন মেয়ে
ওকে এই কথাগুলা বলেছে।
বাসায় গিয়ে হিমেল চশমা ছাড়া শার্ট পড়ে
আয়নার সামনে দাড়ায় আর মুচকি হাসি দিতে
থাকে।তারপর সারারাত রাফার ব্যাপারে
ভাবতে থাকে।কারন ওর মনে রাফার জন্য একটা
জায়গা তৈরি হয়।
.
পরেরদিন হিমেলকে চশমা ছাড়া আর শার্ট পড়া
দেখে ভার্সিটির সবাই চমকে যায়।আর ওদিকে
রাফা মেঘনাকে বলে:
-দেখেছিস কি পরিবর্তন এনেছি।দেখবি এখন
আমার কাছেই আসবে।
হিমেল রাফার কাছে গিয়ে দাড়ায়।রাফা
হিমেলের প্রশংসা করতে থাকে:
-এইত কি সুন্দর লাগছে।তোমাকে দেখে তো
যেকোন মেয়ে ক্রাশ খেয়ে যাবে।
হিমেল নরমসূরে বলে
-সত্যি যেকোন মেয়ে?
-আরে হ্যা।আমি কি মিথ্যা বলব নাকি।যাও এখন
ক্লাসে যাও আমাদের ওখানেই দেখা হবে।বায়।
.
হিমেল ক্লাসের দিকে এগিয়ে যায়।আর ওদিকে
মেঘনা রাফাকে বলে:
-মানতে হবে।তুই বাবা লা-জবাব।ছাগল দিয়েও
হাল চাষ করতে পারিস।
-এখন দেখবি কাল ও আমাকে প্রপোস করেছে।
-আচ্ছা দেখি।
.
পরেরদিন:
--------
মাঠে সবাইকে রাফা আগে থেকেই বলে
রেখেছিল।হিমেল পকেটে গোলাপ ফুলটা রেখে
দৌড়ে আসে রাফার দিকে।
-(হাপাতে হাপাতে)রাফা!!রাফা।আমি
তোমাকে কিছু বলতে চাই।
-হ্যা বলো।
তারপর হিমেল হাটু গেরে বসে রাফাকে প্রপোস
করে।
-আই লাভ ইউ রাফা।তুমি আমাকে অনেক বদলে
দিয়েছ।ওয়িল ইউ ম্যারি মি।
.
কথাটা শুনে আনন্দে লাফ দিয়ে উঠে রাফা।আর
চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে:
-হে গায়েস আই ডু ইট।
বলে দৌড়ে গিয়ে মেঘনার হাতের সাথে হাত
মিলায় রাফা।হিমেল বোকার মতো দাড়িয়ে
দাড়িয়ে দেখছিল।তারপর রাফা গিয়ে সব খুলে
বলে হিমেলকে।
রাফা চলে যাওয়ার সময় হিমেল পিছ থেকে
হাতটা ধরে।
.
-দাড়াও।তুমি এইভাবে চলে যেতে পারো না।
রাফার হাসি মুখ বন্ধ হয়ে যায়।আর হাতটা
ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
-হাত ছাড়ো হিমেল।সবাই দেখছে।
-দেখতে দাও।তুমি কেন এমন করলে বলে যাও।
-হাত ছাড়তে বলেছি ছাড়ো।
-ছাড়বো না।
হাত না ছাড়াতে বাম হাত দিয়ে একটা থাপ্পড়
দেয় রাফা।আর সবার সামনে বলে উঠে:
-কি মনে কর তুমি নিজেকে?আমার সাথে প্রেম
করার মতো কি যোগ্যতা আছে তোমার।হেসে ২
টা কথা কি বলেছি তুমি মনে করেছ আমি
তোমার প্রেমে পড়েছি।তোমার মতো ফাউল
ছেলেকে আমি আমার জুতা মুছার জন্যও রাখি
না।
.
কথাগুলা বলে চলে যায় রাফা।ওদিকে গালে হাত
দিয়ে চলে যায় হিমেল।
.
পরেরদিন:
--------
হিমেলের বন্ধু রনি এসে রাফাকে একটা চিঠি
দেয়।তারপর কাদতে কাদতে চলে যায়।চিঠিটা
খুলে পড়তে থাকে রাফা:
.
আসলে ঠিকই বলেছ আমার কোন যোগ্যতা ছিল
না তোমার সাথে প্রেম করার।তুমি হয়তোবা
বাজি ধরে কাজটা করেছ কিন্তু আমার ভালবাসা
তো সত্য ছিল।তোমাকে ঘৃনা করতে আমি
পারবোনা।কারন তোমাকে জুড়ে আমার মনে শুধু
ভালবাসা আছে ঘৃনার কোন জায়গা নেই।তাই
চলে যাচ্ছি বহুদূর।যেখানে তোমাকে ঘৃনা করতে
হবেনা আমাকে।সুখে থেক ভাল থেক।
.
চিঠিটা পড়ে কাদতে লাগল রাফা।আর
নিজেকেই নিজে বলতে লাগল:
-কি ভুল করলাম।যার প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগও
পেলাম না।
বন্ধুত্ব
আবির শোন! তোর সাথে কিছু কথা
ছিল। রিপার পিছু ডাক।
আবির থামলো। কি বলবি তাড়াতাড়ি
বল, আমার কাজ আছে।
.
মাঠে যেতে হবে ওরা আমার জন্য
অপেক্ষা
করছে, যা বলার তাড়াতাড়ি বল।
.
রিপা:মনে হচ্ছে তুই
অনেক ব্যস্ত, যা মাঠে যা বন্ধুদের নিয়ে
আড্ডা দে। না আমার কিছুই বলার নেই।
.
রিপার মন খারপ আবির কে কি যেন
বলতে গিয়েও থেমে গেলো তাই।
.
আবির ও রিপার পাশাপাশি বাড়ি,
একই কলেজের ছাত্র ছাত্রী । দুজন
দুজনের বাসাতে যায়-আসে, আবার
কখনো গল্প আড্ডায় অনেক লম্বা সময়
কাটিয়ে দেয় ওরা।
.
কলেজ থেকে শুরু করে কোচিং সব একই
সাথে করে।
.
ওরা দুজন দুজনের ভাল বন্ধু, ছোট বেলা
থেকে এ পর্যন্ত ওদের মাঝে গড়ে
উঠেছে ভাল
এক সম্পর্ক যা বন্ধুত্বের চেয়ে একটু
বেশী।
.
রিপার অনেক ভাল লাগতে থাকে
আবির কে,
আবিরের ও একটু একটু।
.
আর এই ভাল লাগা থেকেই ভালবাসার
জন্ম রিপার হৃদয়ে। অনেক দিন যাবত
বলবে-বলবে ভাবছে রিপার ভালবাসার
কথা।
কিন্তু ভয়ে ভয়ে আর বলা হয়ে উঠেনা।
.
আবির ও কিছুটা বুঝতে পারে রিপার যে
ওকে ভাল লাগে, কিন্তু আবির থাকে চুপ
চাপ
কিছুই যেনো বুঝেনা!!
.
আবিরের হৃদয় কেনো জানি প্রেম
ভালবাসার প্রতি অনেক অনিহা।
.
সমাজের দেখা এই প্রেম-ভালবাসা
ওকে
যেন অনেক ভাবায়। আবির সমাজের
প্রচলিত প্রেম ভালবাসায় মেটেও
বিশ্বাসিনা।
.
তারপরেও কেন যেন এক গভীর টান
রিপার জন্য।
.
রিপারকে যেকোন ব্যাপারে আবির
সাহায্য
করে। রিপার দুঃখ-কষ্ট, হাসি-আনন্দ সব
ভাগাভাগি করে নেয়।
.
ওদের দু'জনের মাঝে এমন এক সম্পর্ক গড়ে
উঠে যা সঙ্গায়িত করার ভাষা আবির
খুজে পায়না।
.
একদিন আবির ও রিপা পার্কে বসে গল্প
করছে।
.
কথা ছলে হঠাৎ রিপা বলে ফেললো,
আবির আমি তোকে ভালবাসি!!
আমার হৃদয়ে শুধু তুই তোকে ছাড়া আমি
বাচবোনা। তুই আমার জান প্রান সব।
.
বল তুই আমাকে ভালবাসিস কি না?
.
আবির চুপ একদম চুপ
হয়ে গেল, কিছুই মুখ দিয়ে বের হলো
না।
.
আবির রিপাকে বললো, রিপা আমার
মাথা
ব্যাথা করছে। আমি এখন কিছু বলতে
পারছিনা, আমি এখন যাবো।
.
কথা না বড়িয়ে আবির চলে গেলো।
.
সেই রাতে আবিরের ঘুম নেই কাল কি
বলবে
রিপাকে??
.
আবির কিছুই ভাবতে পারছেনা। আবির
শুধু ভাবে। এই ভালবাসা আমাকে এবং
রিপাকে অনেক কষ্ট দিবে।
.
সামান্য প্রেম-ভালবাসার জন্য আমার
বন্ধুত্ব নষ্ট করতে পারবো না। মোহ
ফুরালে ভালবাসা হারিয়ে যাবে।
হারিয়ে যাবে বন্ধুত্ব। না না আমি
কিছুতেই আমার বন্ধুকে হারাতে
চাইনা। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলো
আবির।
.
পরদিন সকাল বেলা আবির রিপাকে
বললো
.
দেখ রিপা আমি তোকে অনেক
ভালবাসি অনেক।
কিন্তু আমরা দুজন বন্ধু সারা জীবন বন্ধু
হয়েই থাকতে চাই।
.
তুই যে প্রেম ভালবাসার কথা বলেছিস
ওটা
আমি পারবো না।
.
তুই আমার বন্ধু আমার দুজন বন্ধু হয়েই
থাকতে চাই।
.
বন্ধু তোকে আমি অনেক ভালবাসি
বলেই ফিরিয়ে দিলাম। আমি চাইনা
কখনো আর আর আমার বিশ্বাস নষ্ট হয়ে
যাক। আমি চাইনা কখনো তুই আমাকে
ভুলে বুঝে অথবা আমি তোকে কখনো ভুল
ভেবে দূরে হারিয়ে যাই।
.
আবির এর কথা গুলো শুনছে আর গড় গড়
করে চোখ দিয়ে আশ্রু ধারা ঝাড়াচ্ছে
রিপা।
.
আবিরের হাত ধরে রিপা বললো।
.
আমি জানতাম তুই আমাকে
ভালবাসিস, আমিও তোকে অনেক
ভালবেসেছিলাম।
কিন্তু আজ আমার আর তুর বন্ধুত্বের
প্রতি ভালবাসা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে
গেলাম দোস্ত।
.
তবে যদি কখনো আমাকে তোর জীবন
সঙ্গিনী করিস আমি তুর ভালবাসার
দাসি হয়ে থাকবো।
.
আর তুর ভালবাসা, তোকে আপন করে
পাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনবো।
.
_________________
সত্যি অবাক লাগে বন্ধুত্ব এমন একটা
জিনিষ
ভালবাসাও তার কাছে হার মানে।
.
যদি কখনো কেউ এমন বন্ধু জীবনে পেয়ে
থাকেন তাহলে সত্যি আপনি অনেক
ভাগ্যবান/ভাগ্যবতী।
বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৫
ভালোবাসা কোন সস্তা জিনিস না
...
সপ্তাহে ২ বার ডেটে গেলে বা ১০
বার I Love You বললেই
ভালোবাসা হয় না ...
টাইমলাইনে প্রতিদিন পোস্ট করলেই
ভালোবাসা
প্রকাশ পায় না ...
"জানু, বেবি" -
সম্বোধন করলেই বুঝা যায় না সে
আসলেই তোমাকে
ভালোবাসে কিনা !!
…
ভালোবাসতে "CARE" লাগে ...
ভালোবাসতে "SHARE" লাগে !!
তোমাকে যে আসলেই ভালোবাসে,
সে তার দিনের প্রতিটা
মূহুর্তের কথা তোমার সাথে SHARE না
করে পারবে না…
...
তার ভেতর খচ খচ করতে থাকবে ...
কথাগুলো বলার জন্য সে উশখুশ করতে
থাকবে ...
সবকিছু না বলা পর্যন্ত,
সবকিছু না SHARE করা পর্যন্ত সে একদম
শান্তি
পাবে না !!
…
তোমাকে যে আসলেই
ভালোবাসে,সে তোমার দিনের
প্রতিটা মূহুর্তে তোমার
CARE না করে পারবে না ... সকালে ঘুম
ভাঙতেই
বালিশের নিচ থেকে মোবাইলটা
হাতড়ে বের করে সে
তোমার খোঁজ নিবে ...
ক্লাসের ফাঁকে, কাজের ফাঁকে হঠাৎ
তার মনে হবেঃ
"আচ্ছা, ও কি করতেছে এখন ??" ...
দুপুরের খাবারটা মুখে তোলার আগে
সে জিজ্ঞেস
করবে তুমি খেয়েছো কিনা ...
...
সে ব্যস্ততার অজুহাত দেখাবে না ...
বরং সে তোমার
CARE নিতেই ব্যস্ত থাকবে !!
......
সে শুধু হাসির ইমো আর কান্নার ইমো
দিবে না ...
তোমাকে সত্যি সত্যি হাসাবে ... ...
এবং তোমাকে সত্যি সত্যি কাঁদাবে
...
এবং তারপর আলতো করে গাল থেকে
অশ্রুটুকু মুছে
দিবে !!
ভালোবাসা খুব কঠিন না ...
বরং ভালোবাসার মর্ম বুঝে
এরকম মানুষ
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)