সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০১৫


তুমি ছুয়ে দিয়ে এই মন


--কেন এমন করলা বলো??
--সরি রিদিতা।
--আমার চোখের জলের মূল্য দিতে পারবে তুমি বলো? (চিৎকার দিয়ে)
--আমার কিছু করার ছিল না।
--আমি মরেই যাবো। আলভি।
--এখন আমি কি করতে পারি বলো?
--কিছু করতে হবে না, যা কিছু করার আমিই করবো।
--আরে শোনো?
--(হন হন করে কাদতে কাদতে চলে গেল, রিদিতা)
|
[[রিদিতা মেয়ে টি খুব অভিমানী, তাছাড়া কারো সাথে বেশি কথাও বলে না। এই তো ভার্সিটি তে শুধুই মেয়ে বন্ধুদের সাথেই চলে সে, কোনো ছেলে বন্ধু নেই তার। যেহেতু রিদিতা দেখতে অপ্সরীদের মত। তাই ভার্সিটির প্রথম দিক থেকেই ছেলেরা অনেকেই চান্স নিতে চেয়েছে। কিন্তু পারে নি।]]

[[এদিকে আলভির বন্ধুরা সবাই কলেজে আড্ডা দিতেছে,, এমন সময় রিদিতাকে নিয়ে কথা উঠলো, যে রিদিতার মনে প্রেম জাগাতে পারবে, তাকে ৫ হাজার টাকা দেয়া হবে। আর সেটাই অালভি করলো, রিদিতার সাথে প্রেমের অভিনয় করেছে। কিন্তু রিদিতা আলভি কে সত্তি কারের ভালো বেসে ফেলছে। কিন্তু আলভির জন্য সেটা কখনওই ভালবাসা ছিল না। শুধু মাত্রই ছিল একটা **ডিল** ।]]

[[এদিকে আলভিও যখন রিদিতাকে ছাড়া একা হয়ে গেল, তখন সে তার ভাল বাসার মানুষটির মর্ম বুঝতে পারল। কিন্তু রিদিতার কাছে কোন মুখে যাবে আবার সে তাই। নিজের মতই রয়ে গেল। এদিকে রিদিতা আজ সপ্তাহ খানিক ধরে কোনো যোগাযোগ করে নি আলভির সাথে। হয়তবা অভিমান করেই]]

[[কিন্তু রিদিতা সত্তি আলভি কে খুব ভালবাসত। তাই এত এতকিছুর পরও অভিমান ভেঙ্গে আলভি কে ফোন দিল]]

--কেমন আছো? (কান্না সুরে রিদিতা)
--আরে কাদতেছ কেন তুমি?
--প্লিজ একটু দেখা করতে পারবা?
--আজকে? আচ্ছা কখন?
--এই তো বিকেলে সেই জায়গায়, ভ্যালেন্টাইনে যেখানে আমি তোমার কাধে মাথা দিকে বসেছিলাম।
--আচ্ছা ঠিক আছে।
--আসবা কিন্তু প্লিজ।(কান্না স্বরে)
--আচ্ছা আসব, এখন কান্না বন্ধ করো প্লিজ।
--আচ্ছা। ঠিক আছে।

[[অতপর বিকেলে সেই জায়গাটায় ওরা দুজন দেখা
করতে গেল। রিদিতি এখনও কাদতেছে। ]]

--আলভি আমি এই শহর ছেড়ে চলে যাবো,তাই শেষ বারের মত তোমাকে দেখার জন্য এসেছি।
--কেন যাবে?
--এমনি, তোমার প্রিয় রংয়ের পান্জাবী, আর এই গোলাপ গুলো এনেছি। এই গুলো তোমার কাছে থাকলে হয় একটুও মনে করবে আমায়। যখন না থাকব।
--যদি যেতে না দেই? তোমায়?
--কোন বাধনে বেধে রাখবে?তুমি?
--ভালবাসার বন্ধনে বাধব তোমায়।
--কিন্তু তুমি কখনও তো ভালবাসো নি আমায়,শুধুই
অভিনয় ছিল সব।
--এখন থেকে শুধু তোমায় ভালবাসব।
--সত্তি?
--হ্যা সত্তি সত্তি সত্তি।(আলভি)
--আর কখনও যদি বলও যে অভিনয় করছো, তাহল কিন্তু
মরেই যাব।
--না কখনওই বলব না।
--আই লাভ ইউ অালভি। (বলেই অালভিকে জড়িয়ে
ধরে কাদতে লাগল)
--আহারে, থাক পাগলী টা কান্না না।
--হি হি হি। আমি তোমার না বাবুনি হই?
--ওহ হ্যা তাই তো। ইয়ে মানে ভুলে গিয়েছিলাম।
--আর কখনও ভুলবানা। আর হ্যা আমি যা বলব শুনবা।
--আচ্ছা। নীল পরীটা।
--এই পান্জাবীটা পড়ে কাল আসবা আমরা ঘুরতে
যাবো, ওকে?
--আচ্ছা পাগলী মেয়ে।
••
[[অবশেষে দুজনে পার্কের একটি বেন্চে বসেছে, হটাৎ
আলভির কাধে মাথা রেখে চোখ বুজে আছে পাগলীটা। কেউ কিছু বলছেনা, চুপ করে রয়েছে শুধু]]
অবশেষে,,,
••
--এই পাগলী চুপ করে আছো কেন?
--তোমার কাধে মাথা রাখতে আমার খুব ভাল
লাগে। কারন তোমাকে খুব ভালবাসি।
--হুম আমিও।
--কি?
--খুব ভালবাসি তোমায়।
--হি হি হি আমিও।

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

ফিরে চাই সেই ছেলেটি.


এখন আর "আজিম" আগের মত নদীর কুলে বসে গভীর নিশিতে বাজায়না করুণ সুরের সেই বাঁশি। আগের মত ছেলেটি রহস্য আর হাসি মাতনের কথাগুলো বলেনা। "মনা'র" চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়না সেই বন্ধুদের সাথেও। কয়েকদিন থেকেই নীরব হয়ে গেছে "আজিম " বেছে নিয়েছে একাকীত্ব। তার দিকে দেখলে মনে হয় এই পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখি মানুষটা হয়তো সে।
-
মনে হয় তাঁর এই পৃথিবীতে কেউ নেই। আগে দেখতাম কত রঙ্গের কথা আর গানে মাতিয়ে রাখতো সবাইকে। যেই ছেলেটির বাশির করুণ সুরে মাঝ রাতে কান পেতে থাকতাম। মুগ্ধতায় নিশ্চুপ হয়ে শুনতে থাকতাম তার বেদনা মাখা সুর গুলো। আজ সেই ছেলেটি লোকারণ্যে থেকেও যেন লোকশুন্য কোন ভিন্ন জগতে।
আগে নামাজের সময় সে মাসজিদে নিয়ে যেতো মানুষকে ডেকে। কিন্তু তাঁর আজকে এমন কি হয়ে গেলো যে। সে রাস্তায় বসে সিগারেট টানে মাঝে মাঝে গাঞ্জাও টানে। পথে ঘাটে পড়ে থাকে। একলা নিরিবিলি সারাক্ষণ শুধু ভাবনায় থাকে আর সিগারেটে টান দিয়ে চেয়ে থাকে দুর দিগন্তে।
-
পাড়ার লোকেরা কিছুই বুঝতে পারেনা শুধু হতবাক চোখে দেখে যায় সেই সোনার ছেলেটাকে। বুঝবে কি করে তাঁর যে জীবনে হাজারো স্বপ্ন ছিলো একজন কে নিয়ে সেকি তা কাউকে বলেছে।তাইতো আজ সবার অজান্তেই আজিমের স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে চুর মার হয়ে গেছে। শত আসা আর স্বপ্ন নিয়ে যাকে জীবনে পাওয়ার জন্য এত অবিনয় করে যাচ্ছে আজিম। তা মানুষ কোনদিন কল্পনাও করতে পারেনা।
-
আসলে আজিমের জীবনের শুধু ভালোবাসা নয় পুরো জীবনটাই ছিলো তাঁর জন্য। তাঁর নাম "রুমা" রুমা'র সাথে আজিমের পরিচয় বহুত পুরোনো। মাদ্রাসার বারান্দায়। আজিম - রুমা তখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রী। এক পথে যাওয়া আসার কারণে আজিম আর রুমা কথা বলতে বলতে বাড়িতে যেতো। কিন্তু তাদের মনে তখন কিছুই ছিলোনা।
-
পড়ার জন্য একে অন্যকে হেল্প করতো একজন মাদ্রাসায় গেলে সে এসে বলতো আজকে এই এই পড়া দিয়েছে। তখন পরদিন মাদ্রাসায় গেলে মার খাওয়ার আশঙ্কা কম থাকতো।
-
এভাবেই তারা ভালো বন্ধু হয়ে যায়। ক্লাস গুনে যতই উপরে উঠছিলো ততই একজন আরেকজনকে জানতে বুঝতে শিখে এখন আর তাদের আগের মত কথা বলা মানায় না। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেও আর কথা বলার সাহস হয়না। কারণ সমাজের মানুষ দেখলে আবার হুজুরদের কাছে বলে দিবে।তখন তারা প্রায় কথা বলতে পারতোনা। আজিম ছিলো একটু অন্য প্রকৃতির ছোট বেলা থেকেই সে ছিলো অগোছালো। তার সব কিছুই ছিলো এলোমেলো। আজিমের বাবা একজন সাধারন কৃষক। বছর জুড়ে পরিশ্রম করে যা পায় তা দিয়েই কোন মতে দিন কাটে তাদের। দশম শ্রেণীতে উঠার পর আজিমের বাবা লেখা পড়া বন্ধ করে দেয় আজিমের। আজিম এখন কি করবে মাত্র ষোল বছর বয়স। বাবা'র সাথে সেও যোগ দেয় কৃষি কাজে।
-
এদিকে আজিমের এমন অবস্থা দেখে অস্থির হয়ে উঠেছে রুমা। কি করতে পারে আজিমের জন্য। আজিমের ছোট বেলা থেকে ব্ন্ধু হওয়ার কারণে রুমা'র বাড়ির সবাই আজিম কে চিনে। রুমা তার বাবাকে বল্লো আজিম কে হেল্প করার জন্য।রুমার বাবা আজিমের বাবা'র সাথে কথা বলে আবার লেখা পড়া করাতে বলে। কিন্তু আজিমের বাবা বলে তারও ইচ্ছা আছে লেখা পড়া করাতে সংসারের এমন অবস্থা দখে তিনি বাদ দিয়ে দেন। রুমার বাবা বলে আপনি ওসব নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমি আপনার ছেলেকে দেখবো। এমন একটা শান্ত শিষ্ট ছেলেকে কে না দেখবে!। আজিম আগের মত লেখা পড়া করতে থাকে। আজিম আর রুমা'র ভালোই বন্ধুত্ব হয়ে যায়।
-
তারা মেট্রিক পরিক্ষা একই সাথে শেষ করে। আস্তে আস্তে আজিম একজন নম্র ভদ্র একজন সামাজিক ছেলে হয়ে উঠে।পরিক্ষার রেজাল্ট আসে আজিম কৃতিত্ব ভরা একটা নাম্বার পায় ( জি পি এ ৫) এই রেজাল্ট দেখে পাড়ার সবাই খুশি। সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে রুমা'র বাবা। যার টাকা পয়সা দিয়ে আজকে আজিম এত বড় হয়েছে। আজিম ও তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলো।এদিকে রুমা ও আজিম একে অপরের প্রতি ভালোবাসার নজরে তাকায় কিন্তু কেউ কিছু বলেনা।
-
তারা দুজনই আবার মাদ্রাসা অনুযায়ী "আলিম" এ ভর্তি হয়। একদিন আজিম চিন্তা করে তাকে কিভাবে বলা যায়। চিন্তা ভাবনা করে একদিন তাকে এক যায়গায় আসতে বলে।রুমা সময় মতো হাজির হয় সেখানে। আজিম অত্যান্ত লজ্জা নিয়ে বল্লো রুমা আমি তোমাকে ভালোবাসি। রুমা বল্লো আমিও এতদিন তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।
-
অতঃপর দুজনের শুরু হয় ভালোবাসার জীবন মাদ্রাসাতে যাওয়া আসা করতো একসাথে গভীর প্রেমে হাবুডুবো খাচ্ছিল দুজন একজন আরেকজন কে ছাড়া থাকতে পারতোনা। কিন্তু এসব ব্যাপার ছিলো এলাকার মানুষের অজানা।
একদিন রুমা বল্লো আমার "বাশির" সুর শুনতে খুবই ভালো লাগে কি যে এক মধুর সুর। সেদিনই আজিম বাজার থেকে একটা বাশি কিনে নিয়ে আসে। কিন্তু বাজাতে জানেনা। রাস্তার মোড়ে বসে সুর হীন বাশিটা বাজাতে থাকে আজিম। আস্তে আস্তে কিছুদিন পর শিখে ফেলে বাশি বাজানো। পুরাপুরি এখন সুর তুলতে জানে সে। তাই গভীর রাতে নদীর পাড়ে বসে সুরের বাশিটা বাজাতে থাকে।খুব সুন্দর লাগতো যখন দুঃখের কোন সুর নিয়ে বাশি বাজাতো মুগ্ধ হয়ে কান পেতে থাকতো রুমা দক্ষিনের জানালায়।ওহ কি মধূর সে সূর।আর নিস্তব্ধ রজনীতে বাশির সুরগুলো শুন্যতায় মিলিয়ে যায়।
-
পরদিন রুমা'র সাথে আজিমের দেখা হয়। আজিম কে ধন্যবাদ দেয় রুমা।আজিম শুধু নিরবে বলে তোমার ভালোবাসার জন্য আমি যেকোন কিছুই করতে পারি। ইতি মধ্যে আজিম লেখা পড়া বন্ধ করে দেয়। কারণ রুমার বাবা দুরে সরতে শুরু করেছে। তার আর ভালো লাগেনা সংসারের এমন অভাব অনটান।কি করবে ঢাকায় গিয়ে কোন একটা কাজে যোগ দেয়।আজিম রুমাকে ফোনে খোজ খবর নিতো।রুমা আজিম কে দেখার জন্য পাগল পারা হয়ে থাকতো সব সময়।আজিমও রুমাকে দেখতে চাইতো কিন্তু কিছুই করার নেই। জীবিকার তাগিদে তাকে ছেড়ে থাকতেই হবে।কিছুদিন পর আজিম বাড়িতে আসে পাড়ার সবাই খুশি।আজ আবার আজিম আগের মত নিস্তব্ধ রজনীতে বসে বসে বাশি বাজাচ্ছে। মন মুগ্ধকরা সেই সুরে রুমা হারিয়ে যেতো স্বপ্নের জগতে।
-
ইতিমধ্যে রুমা'র আলিম ফাইনাল পরিক্ষা। আজিম বল্লো তুমি পরিক্ষা দাও আমি ঢাকা থেকে ঘুরে আসি।আজিম চলে যায়।এদিকে রুমা পরিক্ষা দিয়ে পরিক্ষা শেষ করে।আজিম চিন্তা করে তাঁর জন্য সারপ্রাইজ দরকার তাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে আজিম গিফ্ট কিনে রুমা'র জন্য। রুমা অনেক দিন আজিমকে দেখেনা তাই সে দেখার জন্য পাগল পারা প্রায়। আজিম বলছে আজকে কালকে এভাবে করে করে আসছেনা।ইতিমধ্যে আজিম তাঁর মোবাইলে মেসেজ পায়।
-- আজিম। আমাকে আজ দেখতে এসেছে ওদের আমাকে পছন্দ ও হয়েছে বাবা মা বলছে কথা বার্তা ঠিক হলে বিয়ে দিয়ে দিবে।তমি বাড়িতে আস তাড়াতাড়ি প্লিজ। মেসেজটা দেখে আজিমের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। পায়ের নিছ থেকে মাটি গুলো সরে যাচ্ছে। তাকে যেন আমাবস্যার আঁধারে ঘিরে ফেলেছে।বিশ্বাস করতে পারছেনা সে এমন কথা। তবুও কোন রকম নিজেকে সামলে নিয়ে রিপ্লাই দিলো "আমি আসতেছি" পরদিন আজিম বিষন্ন মনে বাড়ি ফিরে। কিন্তু কি করবে কিছুই করার নেই মনের মাঝে ভিষণ যন্ত্রনা। রুমাকে ফোন দিলো
-- হেলো রুমা কি খবর।
-- আর কি সবার সব কিছু রেডি।
-- তার মানে তার মানে?
-- আগামী সোম ও মঙ্গলবার আমার বিয়ে।
-- তোমার মাথা ঠিক আছে?
-- আমি কি করবো অনেক নিষেধ করেছি কেউ আমার কথা মানতে ছায়না তুমি একটা কিছু করনা প্লিজ।
-- কিভাবে আমাদের যে অবস্থা তাতে তোমাকে সত্যই অসম্ভব আমি কি করবো নিজেও জানিনা।
--সবাই কে সাহস করে বল!!
-- কি বলবো থাক বাবু মনের ব্যাথা নিয়ে দুজন কে দুদিকে যেতেই হবে।
-- আমার কিছুই করার নেই
-- আমারও নেইইইইই।
-
লাইন কাটতেই হু হু করে কেঁদে উঠলো আজিম। রুমার ও একই অবস্থা দুজন দু প্রান্তে কান্দে আর সেই কান্নার ধ্বনি লোকারণ্যের আড়াল হয়ে শুন্যে মিলিয়ে গেলো।মনের হাহাকার নিয়ে আজিমের জীবন বিগ্ন ঘটতে শুরু করে।নিরবতার দীর্ঘ শাঁসে কাঁদছে তাঁর জীবন আকাশের স্বপ্নগুলো। জোৎনা মাখা সেই চাঁদটাও যেন আজ তাদের দুঃখে দুঃখী হয়ে লুকিয়ে যায় মেঘের আড়ালে।
-
ঐ নীরব রজনীতে এখন ভেসে আসেনা মুগ্ধ করা সেই বাসীর সুর। এখন আর আগের মত নির্ঘুম চোখে কান পেতে থাকিনা সেই সুরের অপেক্ষায়। আজ এই সমাজের মানুষগুলোও তাকে নিয়ে হতাশ। যেই সমাজের মানুষদের ছেলেটা মাতিয়ে রাখতো সেই ছেলেটাই আজ পাল্টে গেছে।পড়ন্ত বিকেলে নদীর কুলে বসে আগে যে ছেলেটা গানের সুর তুলতো।সেই ছেলেটা নদীর কুলে বসে চোখের জ্বলে ভেসে যাচ্ছে।গাল বেয়ে পড়া কয়য়েক ফোঁটা জ্বল গড়িয়ে সবুজ ঘাঁসের আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
-
রাতের আকাশে জ্বলে উঠা হাজার নক্ষত্র মিটি মিটি হেসেও তার ব্যাথা ভুলানোর ব্যার্থ চেষ্টা করছে।কোন কিছুতেই যেন তাঁর শান্তি নেই। পৃথিবীটা তার জন্য মনে হচ্ছে একটা অশান্ত কারাগার। এদিকে রুমার বিয়ের দিনও এগিয়ে আসছে।আর ঐ দিকে সোনার ছেলেটা ধুঁকে ধুঁকে মরছে। নিঃস্ব অসহায় আজিমের শরীরটা অনেক ভেঙ্গে পড়েছে। তার মা বাবাও কিছু বুঝতে পারেনা ছেলেটির কথা। কোন ভাবেই সে পরিত্রাণ পাচ্ছেনা নিঃশব্দ এই বেদনা থেকে।
-
সকল কিছু শেষ হয়ে আজ রুমা'র গায়ে হলুদের রাত। বন্ধুরা বল্লো অনেকদিন বাঁশিটা পড়ে আছে। চল্ আজকে একটু বাশি বাজা!। অনেক সাধের সেই বাঁশিটা হাতে তুলে নেয় আজিম রাতের অন্ধকারে চলে যায় নির্দিষ্ট স্থানে।কিন্তু বাজানোর জন্য গায়ে শক্তি নেই জীর্ণ শির্ণ হয়ে গেছে তাঁর শরীরটা।তবুও বহু কষ্টে বেদনা মাখা একটা সুর তুল্লো আজিম।তা এতটাই করুন ছিলো যে পাশের বন্ধুরাও কেঁদে দিয়েছে।এখনো হলুদের আসরে বসা রুমা বসে বসে বারবার চোখের জ্বলে ভেসে যাচ্ছে আত্মীয় স্বজনেরা ভেবেছে সব মেয়ে বিয়ের আগে কাঁদে রুমাও তার ব্যাতিক্রম নয়।
-
কিন্তু না এযে সে একজনকে হারনোর বোবা কান্না। হাতে মেহেদী লাগাচ্ছে রুমার আর অমনি শুনতে পেলো দিগন্ত থেকে ভেসে আসা সেই করুণ সুর। টপ টপ করে চোখ বেয়ে জ্বল নেমে আসলো রুমা'র। এই যে তাঁর চেনা বাশির সুর। সে যেন শুনছে তাঁর মনের কুটিরে বসে থাকা মানুষটি তাঁকে সুরে সুরে ডাকছে। সেই ভাষা বুঝবে কয়জন। রুমা হউ মাউ করে কেঁদে উঠে হাতের মেহেদী ধুয়ে ফেলে।চলে যায় হলুদের আসর ছেড়ে। ওদিকে করুণ সুরে এখনো ডেকে যাচ্ছে
-
আজিম।রাতের নীরবতার আড়ালে বাশির সুরটা দিগন্তে মিলিয়ে যাচ্ছে। ক্লান্ত শ্লান্ত শরীর নিয়ে রাতে ঘুমিয়েছিল আজিম। হটাত কোন এক খটকা শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় ওহ বেলাতো অনেক হয়েছে।বন্ধুরা সবাই এসেছে।
-- কিরে তুই বিয়েতে যাবি না?
--নারে তোরা যা
-- আরে বেটা চল তারে শেষ বারের মত দেখে আয়?
-- নারে ও যদি আমারে দেখে হয়তো বিয়ের আসর ভেঙ্গে যাবে।আর আমি চাইনা ওর বিয়েটা ভেঙ্গে যাক।
-- কি বলচিস কিছু হবেনা চল!
-- কিন্তু কিভাবে না কলিজা মানবে নারে।ওওওওওহহ
-- তুই না গেলে পাড়ার সবাইকে বলে দিবো তুই যা করতেচিস সব রুমা'র জন্য।
-- তোদের পায়ে ধরি আচ্ছা আমি যাবো চল। কিন্তু গিফ্ট কোথায়
-- গিফ্ট আমরা কিনেছি সবাই মিলে এটা দিবো চল্
-- ওকে আমি ফ্রেশ হয়ে আসি
-
আজিম বন্ধুদের চেঁচামেছিতে পড়ে যেতে হলো তবে কিছুই খায়নি তাকেও দেখতে যায়নি। শুধু বিয়ের আসরটা এক নজর দেখে আসলো।খুব শিঘ্রই বেরিয়ে এসে বাড়ির অদুরেই রাস্তার পাশে বসে পড়লো। কিছুক্ষণ পরেই রুমাকে নিয়ে যাবে। গাড়িটা চলে এসেছে রুমাকে কেউ একজন কোলে করে গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল। আর রুমা'র আর্ত চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে।
-
আজিমের এতদিনে অশ্রু শুকিয়ে যাওয়া চোখেও পানি চলে আসলো গাড়িটির পানে চেয়ে দু চার ফোটা জ্বল গড়িয়ে হারিয়ে গেলো সবুজ ঘাঁসের ডগায়। আর থাকতে পারেনি সেখানে চলে এসেছে।এরপর থেকে আজিম এখনো অগছালো। পায়নি ফিরে আর হারানো দিন গুলো। সমাজের মানুষের অজান্তেই রয়ে গেলো আজিমের হাজারো স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ার কথা।আজো সমাজ ফিরে পেতে চায় সেই আজিমকে যে ছিলো একজন সমাজের গর্বিত সন্তান। সমাজ ফিরে চায় তাকে যে ছিলো সমাজের একজন আদর্শ সন্তান ও সকল ছেলেদের জন্য আদর্শ।
**---**--**--*↓

বন্ধন

কয়েক দিনের জন্য অফিস
থেকে ছাড়া পেলাম।তাই দিন
গুলো কাটানোর জন্য একটা
রুটিন ও করে ফেল্লাম।লাভের
লাভ কিছুই হল না।প্রথম দিন
আম্মুর চিল্লানি
--কাব্য তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে
উঠ।আমরা এক জায়গায় মেয়ে
দেখতে যাব।
...
যেই দিন চাকরি পাইছি সেই
দিন থেকে আমার মা শুরু
করেদিছে।বিয়ে নামক এক
পিড়িতে বসতে হবে।কত করে
বুঝালাম যে আম্মু বিয়ে করা
আর খাল কেটে কুমীর আনা
এক কথা।লাভের লাভ কিছুই
ঘটলনা।অতঃপর আমার
আম্মাজীর বিশেষ উক্তি প্রয়োগ
করলে উনি না কি খাল কেটে
কুমির আনতে চায় ;-(;-(।
--ওই তুই ঘুম থেকে উঠলি।
--হুম উঠতেছি।
সকালে ঘুম থেকে উঠতেই
বাড়িতে উৎসবের আমেজ
পেলাম।আমাদের বাড়িটা যদি
হয় একটা দেশ হয় তাতে আম্মু
হবে প্রধানমন্ত্রী আর আমি
হলাম সাধারণ একজন প্রজা।
আমার আম্মুর কথা আমার
আব্বা পর্যন্ত ফেলতে পারেনা
আর আমি সাধারণ প্রজা হয়ে
কিভাবে কথা ফেলতে পারি।
তাই বাধ্য ছেলের মতো পোষাক
পরে তৈরি হলাম।
..
2
...
মাথার উপর এক ঘেয়ে ফ্যানটা ঘুরতে
সাথে উচ্চ সরে শব্দ বেসে আসছে।
একটু পরে লাল
শাড়ি পরে এক হাতে শরবতে
ট্রে নিয়ে হাজির হল এক
বালিকা।
বালিকার সাথে এক বার
চোখাচোখি হতে
তো আমি পুরা টাস্কি।রংঙ্গিন
কাল দেশে সুন্দরী বালিকা।
অতঃপর আম্মু উক্ত বালিকার
দিক চাহিয়া প্রশ্ন ছুরিলেন
--নাম কি তোমার।
--জ্বি কবিতা চৌধুরী।
নামটা শুনে আরেক বার টাস্কি
খাইলাম।কারণ নামটা সাথে
আমার নাম অনেক মিল।আমি
কাব্য ও হল কবিতা।মানে
কাব্য-কবিতা।
--বাহ সুন্দর নামতো তোমার
তা কিসে লেখা পড়া করছ।
--জ্বি অনার্স শেষ বর্ষ।
বালিকা চলে যাবার পর শুরু
করল মেয়ে পছন্দ হল কিনা।
আমি তাদের দিক চাহিয়া এক
বিরট লুক ছাড়লাম সাথে
বিশেষ উক্তি:
--আপনারা যা ভাল
মনে করেন।
...
কাজীর সামনে তিন বার কবুল
বলে তাকে নিজ সম্পত্তি করে
নিলাম।বাহ কতইনা চমৎকার।
..
ফ্রেন্ড সার্কেলে বরাবর বাচাল
টাইপের ছিলাম।সবসময় মুখে
কথার ঝুড়ি থাকে।তবুও আজ
বন্ধুদের কাছ থেকে উর্বর
মষ্তিষ্কের প্রমাণিত কিছু টিপস
নিলাম যাতে বিড়ালকে ঠিক
ভাবে শিকার করতে পারি।ঘরে
ঢুকতে থুক্কু বাসর ঘরে ঢুকতেই
কবিতা দেখলাম বড় করে
গুমটা দিয়ে বসে আছে।লাল
শাড়ির আচল তোলতেই আমি
হাজার একটা টাস্কি খাইলাম।
হালা মেকাপ এ গাল দুটো
রক্তিম আভা সৃষ্টি হয়েছে।
বন্ধুদের বুদ্ধি কোনো কামে
আসছে না।আমি আসছি
বিড়ালকে শিকার করতে উলটা
আমি বিড়াল হয়ে গেলাম সে
হয়ে গেল শিকারী।আস্তে আস্তে
রাতের অন্ধকার দূর হতে
থাকে।
সকাল ঘনিয়ে আসছে তবুও
এই দুই মানবের কথার শেষ
হয়না।
...
সকাল হয়ে গেছে জানালার
ফাক দিয়ে সূর্যের আলোকরশ্মি
চোখে পরতে লাগল।না আর
ঘুমিয়ে থাকা যায় না।
কিন্তু এই কথা আমার ঘুম বেটা
কিছুতেই মানতে চায় না।
আসলে রাতে আমার উপর
দিয়া হেব্বি দখল গেছে।
আরে আপনারা কি ভাবছেন
তার নাকি বলে অনেক দিনের
সখ তার স্বামী ও সে বিয়ের
দিন ছাদে বসে এক সাথে
ফুলের মতো ফুটে উঠা
আকাশের তারা ও চাঁদ
দেখবে।কি আর
করার বাধ্য হয়ে যেতে হল।
কবিতা আকাশের দিক তাকিয়ে
কথা শুরু করে দিল।আমি তার
পাশে বসে মশার সাথে যুদ্ধ
শুরু করে দিলাম।
একটু পরে ছাদ থেকে নেমে
এসে সেইরাম একটা ঘুম
দিলাম:-D:-D:-D।
--এই তুমি এখনও ঘুম থেকে
উঠনাই।
--হুম।
--হুম!!! কি??? তাড়াতাড়ি উঠ
বলতেছি....এত দেরি করলে
বাড়ি লোক জন কি বলবে হুম।
--কি আর বলবে,,,বলবে
আমরা দু মিলে চুটিয়ে প্রেম
করছি:-):-)।
--হইছে আপনার পাকনামি:-P।
এইবার উঠ,,,তা না হলে কিন্তু
আমি পানি আনলাম:->:->।
বালিকা বলে কি বিয়ার প্রথম
দিন এই অবস্থা আল্লাহ জানে
বাকি দিন গুলো কেমনে পার করি:-P;-
(।
-উঠলা।
--হুম।
পানির ভয়ে আর শুয়ে থাকতে
পারলাম না।কবিতা হয়ত
অনেক আগে ঘুম থেকে উঠে
পরছে।এরি মধ্যে গোছলও করে
ফেলছে।
তাকে পিছন দিক দিয়ে জড়িয়ে
ধরলাম এমন সময় দরজায়
টুকা পরল।
দরজা খুলতেই দেখলাম
আমার ভাই স্ত্রী মিস সুমি ভাবি
ও তার গেং হাজির।
বাড়ির ছোট ছেলের বিয়ে।
এই বিয়েতে ভাবী একটা গেং
তৈরি করছে।সেই গেং এ শুধু
মাত্র মেয়েরা অন্তর্ভুক্ত হতে
পারে।আমাকে ধাক্কা দিয়ে
সরিয়ে বলল
--দেখি,,দেখি।
একটু পরে ভাবী চিল্লানি
শুরুছে
--এইত পাইছি পাইছি।
--কি পাইছেন।
একটা কাপড় আমার দিক
বাড়িয়ে বল্ল এইটা কি।
আমি তাকিয়ে দেখলাম
উনার দুই ঠুটের লাল আভ
আমার
করুন পরিণতিতে উপন্তি
হইয়াছি।
কবিতার তাকিয়ে দেখলাম
লজ্জায় গাল,,নাক লাল হয়ে গেছে।
--হুম টাকা বাইর কর।
--কিসের টাকা।
বেশি কথা না বারিয়ে
মহিলাদের গেং এর চিপা থেকে
মুক্তি নিলাম।একটু পরে খাবার
খাইতে বসছি এমন সময়
--অআহ।
--কি,,হল।
--জ্বিবা তে ব্যথা করতে।
রাতে ভুল বসত জোরে জ্বিবার
পরে গেছিল।কি সাংঘাতিক লজ্জার
বেপার:-P:-P।
--প্লিজ লক্ষিটি একটু কষ্ট করে
খেয়ে ফেল।
...
:-|;-)
শেষ হয়ে হইল না শেষ.

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আমার না বলা ভালোবাসা


"আবির,বাবা আমার বিয়ে ঠিক
করেছেন ।।।"
খানিকটা কষ্টের সুরে বলল বৃষ্টি
।।
বৃষ্টি আর আমার বন্ধুত্ব প্রায় দুই
বছরের ।।
আজ সকালে বৃষ্টি আমাকে ফোন
দিয়ে বলল
বিকেলে পার্কে দেখা করতে
।।। সে আবার
বলতে শুরু করল
-বাবার এক দূর সম্পর্কের
আত্মীয়ের ছেলের
সাথে বিয়ে ঠিক করেছেন ।।
ছেলে সফটওয়্যার
ইঞ্জিনিয়ার ।।
আমি চুপ করে ওর কথা শুনছিলাম ।।
আমার
চুপ করে থাকা দেখে সে
রাগান্বিত হয়ে বলল
-তুমি কিছু বলছনা কেন ??
সারাজীবন কি
এভাবে চুপচাপ থাকবে ??
আমি চুপ করে রইলাম আর ভাবতে
লাগলাম
দুই বছর আগের কথা ।।তখন আমি
জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী ২য়
বর্ষে পড়ি ।।
কলেজের অফিসে একটা কাজে
গিয়েছিলাম ।।
বের হওয়ার সময় একটা মেয়েকে
দেখলাম ।।
মেয়েটাকে দেখে আমি অবাক
হয়ে যায় ।।
মেয়েটার গায়ের রং ছিল
শ্যামলা কিন্তু
চেহারায় অসাধারণ মায়া ছিল
।। মেয়েটাই
ছিল বৃষ্টি ।। অনেক কষ্টে
নিজেকে সামলে
নিয়েছিলাম কারণ আমি
ছিলাম মধ্যবিত্ত
পরিবারের সন্তান ।। বাবা
অনেক কষ্টে
সংসার চালাতেন ।। তাই আমি
কোনদিন
এসব প্রেম নিয়ে ভাবিনি ।।
আমি অনেকটাই
চুপচাপ রকমের ছেলে ছিলাম ।।
তাই বন্ধুর
পরিমাণও ছিল কম ।। কয়েকদিন পর
কলেজে
পরীক্ষার টাকা দিতে গেলাম
।। সেদিন খুব
বৃষ্টি হচ্ছিল ।। টাকা দিয়ে
অফিস থেকে বের
হয়ে দেখলাম একটা মেয়ে
বৃষ্টিতে ভিজছে ।।
লক্ষ্য করে দেখলাম মেয়েটা আর
কেউ নই
বৃষ্টি ।। ওকে দেখে মনে হচ্ছে এক
মায়াবী
পরী ।। আমি মুগ্ধ নয়নে ওর দিকে
তাকিয়ে
ছিলাম ।।ও আমার এভাবে
তাকিয়ে থাকা
দেখে লজ্জা পেয়ে চলে গেল ।।
পরদিন
ক্যান্টিনে বসে চা পান
করছিলাম তখন বৃষ্টি
আমার সামনে এসে বসল আর বলল
-আপনি কাল আমার দিকে
এভাবে তাকিয়ে
ছিলেন কেন ??
আমি ওর কথার উত্তর না দিয়ে চা
পান
করতে লাগলাম ।। সে কিছুটা
রেগে গিয়ে বলল
-আপনি মেয়ে দেখতে পারেন
কিন্তু কথা
বলতে পারেন না?? আপনি কি
বোবা ??
আমি কিছু না বলে সেখান
থেকে চলে
আসলাম ।। পরদিন আবার বৃষ্টির
সাথে দেখা
।। সে আমার সামনে এসে দাঁড়াল
।। আমি
চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি দেখে
বলল
-আচ্ছা আমি কি ভূত নাকি যে
আমার সাথে
কথা বলছেন না ??
-আপনি ভূত কেন হবেন আপনি তো
মায়াবি
পরী ।।
সে আমার কথা শুনে হাসতে
লাগলো ।। ওর
হাসিটাও খুব সুন্দর ।।সে হাসি
থামিয়ে বলল
-আপনি তাহলে কথা বলতে
পারেন ।। আচ্ছা
আপনার পরিচয়টা জানা হলো
না ।। আমি
বৃষ্টি আর আপনি ???
-আমি আবির ।।
-আচ্ছা আপনি কি কম কথা বলেন ??
-আসলে প্রয়োজন ছাড়া কথা
বলতে আমার
ভালো লাগে না ।।
-ওওও ।। আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে
পারি ??
-যদি আপনি চান ।। (কিছুক্ষণ
ভেবে )
-তাহলে আজ থেকে আমরা বন্ধু ।।
সেই থেকে বৃষ্টির সাথে আমার
বন্ধুত্ব শুরু
।।ধীরে ধীরে বৃষ্টি আমার
জায়গা করতে
লাগলো ।। আমি ধীরে ধীরে
বুঝতে পারি
বৃষ্টিও আমাকে ভালোবাসে ।।
কিন্তু আমি যে মধ্যবিত্ত
পরিবারের ছেলে ।। এসব
ভালোবাসার জন্য
আমার কোনো সামর্থ্য ছিল না ।।
তাই আমি
শুধু বন্ধুত্ব করে গেছি ।।
বৃষ্টির ডাকে আমার ভাবনার
ছেদ পড়ল ।।
-কি হল ?? আচ্ছা তুমি কি আমাকে
কখনও
ভালোবাসোনি ??
আমরা মধ্যবিত্তরা সবকিছু পাই
না ।।ওকে বিয়ে
করে আমি কিছুই দিতে পারবো
না আর আমি
এখন ওকে বিয়ে করতে পারবো
না ।। নিজের
পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের
দূরাবস্তা দূর করতে হবে
।। তাই আমাকে আজ আমার
ভালোবাসার
বিসর্জন দিতে হবে ।। আমি ওকে
বললাম
-আমি তোমাকে কখনো
ভালোবাসিনি ।। আমি
শুধু তোমাকে ভালো বন্ধু
ভেবেছি ।।
আমার কথা শুনে সে আমার
দিকে তাকালো ।।
ওর চোখ দুটো টলমল করছে ।। সে
আমাকে
বলল
- তুমি সত্যিই আমাকে কখনও
ভালোবাসোনি ??
আমি মুচকি হেসে বললাম
-আমি কি কখনো তোমাকে
মিথ্যা বলেছি ।।
সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভালো
থেকো বলে চলে
গেল ।। ওর চলে যাওয়ার সাথে
সাথে আমার
ভালোবাসাও শেষ হয়ে গেল ।।
হয়তো আমার
চোখ থেকেও কয়েক ফোঁটা
পানি গড়িয়ে পড়ল ।।
না,আমার দুর্বল হওয়া চলবে না ।।
আমাকে যে
কঠোর হতে হবে ।। পরিবারের
হাল ধরতে হবে
।।
আমি এখন হাঁটছি ।। আশেপাশের
মসজিদ থেকে
আযানের ধ্বনি শুনা যাচ্ছে ।।
আচ্ছা বৃষ্টি কি
কখনো জানতে পারবে তার
প্রতি আমার
ভালোবাসার কথা ?? থাক না
কিছু কথা অজানা
।। আমি এখনও হাঁটছি ।। যে হাঁটার
নেই
কোনো গন্তব্য ।। যে হাঁটা চলবে
আজ
সারারাত পর্যন্ত ।।।।।

★★★জীবন দিয়ে ভালোবাসি★★★


বিকেল প্রায় শেষের দিকে। সূর্য মামা লাল হতে শুরু করছে। এমন সময় নদীর পাের একা আনমনে বসে আছে শুভ। সূর্যের সোঁনালী আলোয় নদীর পানি জ্বলজ্বল করছে। পানির দিকে তাকালে চোখ ধরে যায়।
সেই নদীটা যেখানে জীবনের অন্তিম মুহূর্তগুলোর অনেকটাই কাটিয়েছে শুভ। যে কথাগুলো মনে হলে আজও হৃদয়টা হু হু করে কেঁদে ওঠে।
আজ তিন বছর পর সেখানে বসে কারও জন্য অপেক্ষা করছে শুভ।
মনে পরে যায় তিন বছর আগের কথা......
অষ্টম শ্রেনীর বার্ষিক পরিক্ষা শেষ করে নিজের বাড়ি থেকে অনেক দূরে মামার বাড়িতে লেখাপড়ার জন্য আসে শুভ। বড় মামাতো ভাই সেখানকার একটি স্কুলে নবম শ্রেনীতে ভর্তি করে দেয় শুভকে। দুয়েক দিন আনন্দে কাটলেও কয়েক দিন পর যেন আনন্দ মাটি হয়ে গেল। নতুন জায়গা নতুন পরিবেশ কেমন জানি একা একা লাগছে। ফেলে আসা দিনগুলে, বন্ধু বান্ধব, বাড়ির কথা খুব মনে পরছে। শুভর বাড়ি ছিল অনেক দূরে। চাইলেই বাড়িতে যাওয়া সম্ভব ছিল না।
এর মধ্যে স্কুলে ক্লাস শুরু হয়ে যায়। নতুন স্কুল নতুন ক্লাস সবকিছু নতুন। এই পরিবেশে কেমন জানি লাগছে। পড়ায় মন বসছে না।
এমনি করে প্রথম সাময়িক পরিক্ষা শেষ হল। পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ হল কিন্তু রেজাল্ট ভাল হল না।
কিন্তু এভাবে তো চলবে না। তাই শুভর মামাতো ভাই শুভর স্কুলের তার পরিচিত এক স্যারকে শুভকে পড়ানোর জন্য বলে। স্যার ছিল ব্যস্ত মানুষ। তাছাড়া এই সময় স্যার নবম শ্রেনীর কাউকে পড়াচ্ছে না। কিন্তু স্যারের সাথে শুভর মামাতো ভাইয়ের ভাল সম্পর্ক থাকায় স্যারের বাসায় অষ্টম শ্রেনীর একটা ব্যাচে শুভকে আসতে বলে। নিচের ক্লাসের ছেলেমেয়েদের সাথে পড়তে প্রথমে একটু বিব্রতবোধ হলেও দুদিন পরে ঠিক হয়ে যায়। সেখানে ছিল সোহেল, আরিফ, রবি, আল-আমিন, সাইফুল, সাথী, শিমু, হাফিজা। এর মধ্যে সোহেল আর রবির সাথে ভাল বন্ধুত্ব হয় শুভর।
পাঁচ দিন কেটে যায়। পরের দিন শুভ একটু আগেই পড়তে চলে যায়। স্যারেরর বাসায় গিয়ে দরজায় নক করতেই একটি মেয়ে দরজা খুলে। চোখে চোখ পরতেই অবাক ভাবে তাকিয়ে আছে শুভ। বয়স আনুমানিক ১৪ বছর হবে। উঠতি বয়সের মেয়ে। চেহারায় অস্বাভাবিক উজ্জলতা। চোখ দুটো টানা টানা যেন মায়ার ইন্দ্রজাল সৃস্টি করে দিয়েছেন বিধাতা। যে ওই চোখের দিকে একবার তাকাবে ওই চোখের মায়ায় পরে যাবে। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ। যেন চোখ সরাতে পারছে না। মনে হচ্ছে কোন স্বর্গীয় পরী ওর সামনে দাড়িয়ে আছে। মনে হয় অচেতন হয়ে গেছে।
হঠাৎ মেয়েটি বলল "কি দেখছেন?
শুভ মনে হয় জ্ঞান ফিরে পেল, আমতা আমতা করে বলল "কিছু না"।
মেয়েটি আর কিছু না বলে ভিতরে চলে গেল।
শুভ টেবিলের উপরে বইগুলো রেখে ঝিম খেয়ে বসে অাছে এ কি দেখল। কে এই মেয়েটি আগে তো কখনও দেিখনি ভাবছে শুভ।
ইতিমধ্যে সবাই চলে এসেছে পড়া শুরু হতেই বোঝার বাকি রইল না মেয়েটি কে। ও হচ্ছে স্যারের একমাএ মেয়ে নাম "কণা" ওদের সাথেই পড়ে। নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল তাই এত দিন শুভ দেখে নি। আর আগে জানতোও না। পড়া শেষে শুভ, রবি, আর আরিফ নদীর পাড়ে চলে যায়। আজকের বিকালটা কেমন জানি লাগছে শুভর।
রাতে বিছানায় শুতেই ওর কথা মনে পরে। চোখ বুজলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ওই মায়াবী চোখের চাহনি। সেিদনের রাতটা ওর ভাবনায় নির্ঘুম কাটে শুভর।
প্রতিিদন পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ওর দিকে তাকিয়ে থাকত শুভ। রবি ছিল কণার চাচাতো ভাই একই বাড়িতে থাকত।
তাই যখনই ইচ্ছা কণাকে দেখতে নানা ছলে রবির কাছে যেত শুভ। সারাক্ষণ ওকে নিয়ে ভাবে কেমন জানি ওকেই মনে পরে। সারাক্ষণ দুচোখ ভরে ওকে দেখতে পারলে অনেক ভাল লাগে। ইতিমধ্যে বিষয়টা চোখে পরে রবির। শুভ সব খুলে রবি ও সোহেলকে। এই বার শুভ নিশ্চিত যে ও কণার প্রেমে পরে গেছে। লুকিয়ে লুকিয়ে কণাকে দেখে যাচ্ছে শুভ। পড়া ফাঁকি দিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত ওর দিকে ।
এ দিকে কণাও প্রায়ই ওর দিকে তাকাত ওর চোখে চোখ পরলে সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নিত। কণাও মনে হয় শুভর প্রেমে পরে গেছে ওকে দেখলেই অন্তরটা অজানা সুখে নেচে ওঠে। এভােবই মনের অজান্তে চোখের আড়ালে প্রেম করছে দুজন। কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলছে না।
এর মধ্যে সবার বার্ষিক পরিক্ষা শেষ। কণা নবম শ্রেনীতে পরে আর শুভ দশম শ্রেনীতে। সবাই একটু বড় হয়েছে। তাই এবার শুভ সিদ্ধান্ত নিল কণাকে ওর মনের কথা খুলে বলবে। একদিন পড়া শেষে সবাই নদীর পাড়ে ঘুরতে যায়। সুযোগ বুঝে শুভ ওর মনের কথা বলে দেয় কণাকে। কাছে ছিল সোহেল আর রবি লজ্জায় মুখ লাল হয়ে গেল মেয়েটির। কিছু না বলেই চলে গেল সেখান থেকে। কণাও ভালবাসে শুভকে কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছে না। মেয়ে মানুষ বুঁক ফাঁটে তবুও মুখ ফোটে না।
পরের দিন শুভকে নদীর পাঁড়ে একা ডাঁকে কণা। একটু আগেই গিয়ে বসে অপেক্ষা করছে কণা। শুভ যেতেই দাঁড়িয়ে ওঠে দুজন সামনা-সামনি দাড়িয়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুভকে জরিয়ে ধরে কণা। মনের ভাষা মুখে না বলতে পারলেও মন দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছে। দুজন দুজনকে জরিয়ে ধরে আছে। যেন ভালবাসার এক গভীর সমুদ্রে ভাসছে। প্রিয় মানুষটিকে এভাবে কাছে পাওয়ার মুহুর্তটা যে কত গভীর আর কত সুখের, তা একমাত্র তারাই অনুভব করতে পারে যারা তার ভালবাসার মানুষটিকে এভাবে কাছে পেয়ছেন।
এভাবেই সবার চোখের আঁড়ালে চলছে দুজনার প্রেম। দুজনেই গভীর প্রেমে আছন্ন। কেউ কাউকে ছাড়া একটি মূহুর্তও কাটাতে পাের না। যেন দুটি দেহে একটি প্রাণ। প্রায়ই এই নদীর পাড়ে দেখা করত দুজন। কণার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকত শুভ। যেন এক অজানা সুখে পরিপূর্ণ দুজনে।
কিন্তু এই সুখ ওদের কপাঁলে যেন বেশী দিন সইল না। হঠাৎ একটা কালবৈশাখী ঝড় কেড়ে নেয় সুখ। আর তার কারণ ছিল "সাথী"।
সাথী শুভকে পছন্দ করত। অনেক ভালও বাসত। কিন্ত শুভ ওকে পছন্দ করত না। শুভ ভালবাসে কণাকে আর কণা শুভকে। কিন্তু ওদের এই ভালবাসা সাথীর সহ্য হল না। তাই শুভ আর কণার ভালবাসার কথা বলে দেয় ওদের পরিবারের কাছে। ঝড় নেমে আসে ওদের জীবনে। কণার বাবার কাছে পড়া বন্ধ হয়ে যায় শুভর। বাসা থেকে মামা, মামী ভাই সবার ধিক্কার। ওদিকে কণার অবস্থাও খারাপ বাসা থেকে বের হওয়া বন্ধ। খাচায় বন্দি পাখির মত ডানা ঝাপটে মরছে।
এদিকে কণার রাড়ির ত্রিসীমানায়ও যেতে পারছে না শুভ। আর সে সময়টায় সবার হাতে মোবাইল ছিল না।তো এই নবম দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছেলে মেয়ের হাতে মোবাইল ছিল সাধ্যের বাইরে। দুজনার সাথে যোগাযোগ বন্ধ। এদিকে চেখের আড়ালে বুক ফাটা কষ্টে মরে যাচ্ছে দুজনে। খাওয়া নেই, ঘুম নেই দিন রাত বিছানায় শুয়ে নিরবে কেঁদে যাচ্ছে দুজনেই। ওদের দুজনকে আঁলাদা করতে কণাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় নানাবাড়ি আর শুভকে ওদের বড়ি।
প্রাঁয় মাসখানেক কেটে যায় পরিবেশটা শান্ত হলে শুভ ফিরে আসে মামাবাড়ি। কিন্তু ফিরে এসে দেখছে কণাদের বাড়ি খালি।রবির মাধ্যমে জনাতে পারে ওর বাবা অন্য জায়গায় বদলি হয়েছে। ওরা সপরিবারে সেখানে চলে গেছে। শুভ কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না।
.
.
.
.
তারপর অনেক কিছু ঘটে যায়। শুভ এস.এস.সি পরিক্ষা দিয়ে নিজের বাড়ি চলে যায়। কণাও সেখানের স্কুলে ভর্তি হয়।
কেটে যায় তিনটি বছর। কিন্তু তিন বছরে কেউ কাউকে মূহুর্তের জন্যও ভুলতে পারে নি।
কণা আর ওর পরিবার বাড়িতে আসে। রবির মাধ্যমে শুভকে খবর দেয় কণা।
আজ বিকালে শুভর সাথে দেখা করতে সেই নদীর পাড়ে আসবে কণা।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চোঁখে জল চলে আসে শুভর। আজ তিন বছর পর দেখবে কণাকে ও কি আগের মতই আছে নাকি বদলে গেছে। সময়ের পরিবর্তনে ভুলে গেছে আমাকে??ওর সামনে দারিয়ে কি বলবে?? নিজেই নিজের কাছে প্রশ্ন করছে। আর ছোট ছোট ঢিল ছুরছে নদীতে।
হঠাৎ শুকনো পাতার মরমর শব্দে কারও আসার শব্দ পাচ্ছে। পিছন ফিরে তাকাতেই দেখে একটি মেয়ে। অনেক পরিবর্তন হয়েছে, অনেক বড়ও হয়েছে। তবুও চিনতে মোটেই কষ্ট হল না শুভর।সেই টানা টানা মায়াবী চোখ। কখনও কি ভোলা যায়। দুজনেই সামনা সামনি দাঁড়িয়ে। কোন কিছু বলার আগেই কণা জরিয়ে ধরে শুভকে। দুজনের চোখে আনন্দের অশ্রুধারা বয়ে যাচ্ছে। কারও মুখে কথা নেই শুধু সুখের কান্না। পৃথিবীর সব ভাষা যেন হারিয়ে গেছে। কিছুক্ষণ নীরবতা।
.
.
.
.
কণা শুভকে ছেড়ে দেয়।
: কেমন আছ শুভ?
: আগে কেমন ছিলাম জানি না তবে এখন ভাল আছি। তুমি?
: যাকে হৃদয় কোঁঠরে যায়গা দিয়েছিলাম তাকে ছাড়া ভাল থাকি কিভাবে বল?
: এখন থেকে আমরা ভাল থাকব। তোমায় নিয়ে চলে যাব দুর অজানায়। সেখানে শুধু তুমি আর আমি থাকব। আর কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।
: না শুভ তা আর হবে না। সে সময় আর নেই। আমি আর তোমার নেই। আমি এখন অন্য কারও।
: এ তুমি কি বলছ কণা !
কণা আংটিপরা অনামিকা শুভর চোখের সামনে ধরল।
শুভ তাকিয়ে দেখল। তারপর শুভ প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে তাকাল কণার মুখের দিকে।
কণা খুব আস্তে করে বলল-
গত পরশু আমার বিয়ে হয়ে গেছে। আমি এখন অন্যর বউ। আগামী শুক্রবার আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে। তাই সবাই বাড়িতে এসেছি। শুধু তোমায় শেষবারের মত দেখতে এসেছি।
- না! এ হতে পারে না। তাহলে এ পৃথিবী মিথ্যে হয়ে যাবে। এ তুমি মিথ্যে বলছ।
আমি বিশ্বাস করি না। মিথ্যে সব মিথ্যে।
-যা বলছি সবই ঠিক। আমি তোমাকে শুধু অনুরোধ করব, তুমি সারা জীবন ভালো থাকবে। তুমি মনে কর তোমার কণা মরে গেছে। সে তোমাকে কোনদিন চিনতো না। কখনো ভালবাসেনি তোমাকে। সব তোমার ভুল স্বপ্ন ছিল। ভুল জীবনে ছিলে।
শুভ বসে পরে মাটিতে। দুহাতে মুখ ঢেকে অবুঝ শিশুর মত কেঁদে ফেলে।
কণা বুঝতে উঠতে পারছে না কি করবে। আস্তে আস্তে শুভর মাথাটা বুকের কাছে টেনে নেয়। ওরনার আঁচল দিয়ে মুছে দেয় চোখের জল। তারপর আহত পাখির মত বেদনার্ত কন্ঠে বলল-
শুভ এছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না। আমার এ হাত-পা যে শিকলে বাধা। বন্দি খাচার পাখি হয়ে ছিলাম আমি।
-আগে বলনি কেন?
-বললে কি করতে? নিয়ে আসতে আমাকে? বিয়ে করতে? পারতে না। ওরা আমাদের মেরে ফেলতো। তবুও তোমার জীবনের সাথে আমার জীবন বাধতে দিত না।
কণার গলা ধরে আসে। আর বলতে পারে না।আনমনে শুভর মাথার চুলগুলো টানতে থাকে। কাঁদতে থাকে পাগলের মত।
-আমি পারতাম কি পারতাম না সেটা পরের কথা। মেরে ফেললে ফেলত। তবুও বললে না কেন। এত বড় সর্বনাশ তুমি কেন করলে?
-এছাড়া আমার কি উপায় ছিল বলো? আমি এক পরাধীন নারী।
-এসব ভুলে যাও কণা। মনে কর তোমার কিছুই হয়নি। এখনও তুমি সেই আগের মত। আমি তোমাকে এখনি এখান থেকে নিয়ে যাবো।
-না তা হয় না। যা বাস্তব তা অস্বীকার করার মত শক্তি আমাদের কারোরই নেই।
-কিন্তু তুমিও তো আমার ছাড়া অন্য কারও হতে পার না।
-শুভ আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো।
-ক্ষমাতে কি সব শেষ হয়! হয় না।আমার নিজের বুকের ভেতর যে আমি নিজেই তোমার জন্যে ভিন্ন এক চিতার আগুনে জ্বলছি,পুড়ছি। নিজেই নিজেকে পোড়ানো গন্ধ পাচ্ছি। দোহাই তোমার, তুমি আমাকে এত বড় কঠিন শাস্তি দিয়ো না। তুমি কি জান তুমি আমাকে কি জীবন দিতে যাচ্ছো?
সে জীবন যে কি যন্ত্রণাদায়ক তা তুমি বুঝবে না। কোনদিন বোঝার চেষ্টাও করোনি। আমাকে পোড়াও। যত খুশি তোমার। এই নাও আমি বুক পেতে দিলাম, যত খুশি আগুন ঢেলে দাও। পোড়াও। পুড়িয়ে শেষ করে দাও আমাকে।
সন্ধা প্রায় ঘনিয়ে। এমন সময় পাখিদের ঘরে ফেরার গান। শুভকে ছেড়ে চলে যেতে কণা কেঁদে ফেলে। কণার চোখের পানি মুছে দেয় শুভ। তারপর তার কপাঁলে ছোট একটা চুমু দিতে যেয়ে আবার কি যেন ভেবে ঠোঁট ফিরিয়ে নেয় শুভ। তারপর এক বুক অভিমান নিয়ে বললো,
-তুমি ভাল থেকো। সুখী থেকো।
কণা কিছুই বলতে পারল না। একবার ভাবল সব ছিন্ন করে শুভর সাথে চলে যাই। দূরে কোথাও যেয়ে সংসার গড়ি দুজনে। আবার ভাবল না, যাব না। গেলে সবাই কি বলবে। কি ভাববে সমাজ,জাতী?? কি করে মুখ দেখাবে সমাজে??
কণা ঝড়ের বেগে চলে যাচ্ছে।
শুভ তাকিয়ে দেখছে। কণা ক্রমেই দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে। ছায়ার মত মনে হচ্ছে ওকে। মনে হচ্ছে দূরে অস্পষ্ট কোন এক ছায়া হেঁটে যাচ্ছে। সে ছায়া যেন বারবার মুখ ফিরে পিছন তাকিয়ে দেখছে।
চোখের জলে ঝাপসা হয়ে আসছে সবকিছু।
ফুটে উঠেছে সন্ধা আলো। সূর্যের চারদিক গভীর লাল। মনে হয় তাজা এক মুঠো রক্ত। যেন রক্তের ছাপ। ব্যস্ততা শেষে নিড়ে ফিরছে পাখিরা। দূর আকাশে পাখা মেলে উড়ে যাচ্ছে আপন ঠিকানায়।
কিন্ত এসবের কিছুই ভাল লাগছে না শুভর। নদীর পাড়ে একা দাঁড়িয়ে আছে। কণা চলে যওয়ার পর থেকেই দাঁড়িয়ে আছে।
স্মৃতির পশরা বুকের ভেতর নড়ে ওঠে। নদীর পাড় ভাঙার মত যেন দুমড়ে মুচড়ে ভাঙতে থাকে তার বুকের ভেতরটায়। আর ভাবতে থাকে এ কি অন্ধকার জীবন হল আমার। নিজেই নিজেকে ধিক্কার দেয়। ঘৃণা করে।
কেন এ অাঘাত করলে? কেন এ কষ্ট দিলে? কেন আমাকে এমন করে প্রতারিত করলে? তোমাকে অন্ধের মত ভালবেসেছিলাম। আমার ভালবাসার এই মূল্য দিলে?
পাষণ্ডের মত নিক্ষেপ করলে এক কষ্টের জ্বলন্ত চিতায়। এই কি তোমার প্রেম? এই কি তোমার আদর্শ?
এরই নাম কি জীবন দিয়ে ভালোবাসা!
শুভ আর ভাবতে পারে না। নিজের সঙ্গে নিজেই যুদ্ধ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠছে। সে নিজেও জানে না এ যুদ্ধের শেষ কোথায়।
( সমাপ্ত )

বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০১৫

বর্তমান সময়ের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ন

ছেলেটা আর মেয়েটা প্রেম করেই বিয়ে করেছে,তবুও আজ তাদের মধ্যে অজানা এক দূরত্ব কাজ করে।আজ মেয়েটার অনেক অনেক অভিযোগ ছেলেটাকে নিয়ে।দুজন দুই জায়গায় থাকে।এ দুই জায়গার থাকার কারন মেয়েটা একটা সরকারি নার্সিং ইন্সটুটিওয়েটে পড়ে এ জন্যে বাড়ি থেকে দূরে মেসে থাকতে হয়,বাসা থেকে ক্লাশ করা সম্ভব নয়। ,আর ছেলেটা তার নিজ শহরে জব করে,সারাদিন টিউশনি করায়,অনেক অনেক স্টুডেন্ট।মেয়েটা সপ্তাহে দুদিন শ্বশুর বাড়ি গিয়ে থাকে,সরকারি ছুটির দিন গুলোতে।ছেলেটাকে নিয়ে মেয়েটার অভিযোগের লিষ্টটা বিশাল বড়।ছেলেটা নাকি তাকে আর আগের মত ভালবাসেনা।তাকে আগের মত সময় দেয় না।সারাদিনে একবারও কল দেয় না।মেয়েটা বিয়ের আগের কথা গুলো ভেবে কষ্ট পায়।ছেলেটা তাকে নিয়ে কত পাগলামি করত এক সময়।একটু কথা বলার জন্যে কত কি করত,সারা রাত জেগে থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলত।সারা দিনে অসংখ্যবার কল দিত,একবার দেখা করার জন্যে কত ট্রাই করত,একদিন ঘুরতে যাওয়ার জন্যে কত প্ল্যান করত,কতজনকে ফাকি দিত,কিন্তু আজ বিয়ের পর নাকি ছেলেটা মেয়েটাকে কল দেবার মত সময়ই পায়না।তার জন্যে সে আর আগের মত পাগল নয়,আগের মত ভালবাসে না।আজ সে মেয়েটা অন্য কাউকে বলে,তোর BF এখন তোর জন্যে এত্ত পাগল,আগে বিয়ে হোক আর এ রকম পাগল থাকবেনা।

বর্তমার সময়ের প্রাইয় ৬০ পারসেন্ট প্রেম করে বিয়ে করা মেয়েরই তার হাজবেন্ড কে নিয়ে এই অভিযোগ যে তার হাজবেন্ড তাকে আর আগের মত ভালবাসে না,তাকে সময় দেয় না।আমি জানি সেই ৬০ পারসেন্ট এর মধ্যে কেউ না কেউ এই স্ট্যাটাসটি পড়ছেন।তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আপু আপনি কি ভাইয়াকে আগের মতয় ভালবাসেন?আপনি কি আগের মতয় তার জন্যে এখনও পাগল?আমি জানি আপনি এক কথায় উত্তর দিবেন,হ্যা অবশ্যই,আমি এখনও তার জন্য আগের মতয় পাগল।
আমি বলব আপনি মিথ্যেবাদি,খুব বড় মাপের মিথ্যেবাদি,আপনি তার জন্যে আগের মত পাগল নয়,আপনি অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছেন,অনেক বেশি,যেইটা আপনি শিকার করতে চাইছেন না।

আচ্ছা আপু যা ভাইয়াটা বিয়ের আগে আপনার জন্যে এত্ত এত্ত পাগলামি করেছে,সারাদিন এত্ত এত্ত কল দিয়েছে আজ কেন আপনাকে সারা দিনে একবারও কল দেয় না??????????
আপনি হয়ত বলবেন ও সারাদিন ওর কাজ নিয়ে ব্যস্ত,আমার জন্যে সময়ই নেই।আচ্ছা আপু ভাইটা সারাদিন এত্ত এত্ত কষ্ট করে কাজ করছে তা কার জন্যে??শুধুই কি তার জন্যে?না আপনার জন্যে?আপনাদের ভবিষত্বের জন্যে?আচ্ছা আপু কাজ কি কেউ সখে করে?কেউ কি সখের বশে সারাদিন অফিসে পরে থাকতে চায়?হার ভাংগা পরিশ্রম করতে চায়?তার কি একটুও ইচ্ছে করে না সারাদিন নিজের মত রেষ্টে কাটাতে?সত্যিই কি তা একটুও ইচ্ছে করেনা আপু???তবুও সে তার সব কিছু বিসর্জন দিয়ে কেন এত্ত সব কিছু করছে?কেন?একটি বার কি এসব ভেবেছেন?

আচ্ছা ভাইয়াকে নিয়ে আপনার এত্ত এত্ত কমপ্লেইন,আপনাকে সারাদিনে কল দেয় না,খোজ খবর রাখেনা,আপনি সারা দিনে কতবার ভাইয়ার খোজ খবর নেন?ভাইয়াকে সারাদিনে কতবার কল দেন?কত দিন দুপুরে কল দিয়ে শুনেছেন সে খাইছে কিনা?কি খেয়েছে?কতদিন অসময়ে তাকে কল দিয়ে বলেছেন,তোমার সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে?কতদিন?কি একদিনও নয়,তাই তো?
আসলে আপু যে ভাইয়া আপনাকে এত্ত ভালবেসে তার জীবন সংগি বানিয়েছে,তার সুখ দুঃখের সংগি বানিয়েছে সে নি;সন্ধেহে আপনাকে আগের মতয় ভালবাসে।শুধু অভ্যাসের একটু পরিবর্তন হয়েছে।যখন প্রেম করতেন তখন কিন্তু ভাইয়া কিংবা আপনি এক দিনে একে অপরের প্রতি এত্ত আকৃষ্ট হননি।দিনে দিনে হয়েছেন।প্রথম হয়ত সারা দিনে একবার কথা বলতেন,তখন এত কষ্ট হয়নি তার সাথে কথা না বলার জন্যে,এর পর ধিরে ধিরে এমন একটা অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল সারা রাতে কয়েক ঘন্টার যদি কম কথা হত তবে খুব কষ্ট হত,কান্না করে ফেলতেন দুজনই।একদিন কথা না হলে হলে খুব অস্থির হয়ে পরতেন।এটা আপনাদের দুজনার অভ্যাসে পরিনত হয়ে পরেছিল,এ জন্যে একদিন কথা না হলে ভাইয়া এত্ত পাগলামি করত।

ঠিক এমনি ভাবেই একটু একটু করে আপনাকে সারা দিনে একবারও কল না দেওয়া ভাইয়ার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে।প্রথম প্রথম কাজে গিয়ে আপনাকে কিন্তু ঠিকই কল দিত,কিন্তু কোনদিন হয়ত কাজের চাপে কল দিতে পারেনি,সেদিন ভাইয়ার কিন্তু অনেক কষ্ট হয়েছিল,এর পরেরদিন আবার কাজের চাপে কল দিতে পারেনি,সেদিনও কষ্ট হয়েছে,এ ভাবে দিনে দিনে তার কষ্টটা সহে গেছে,আপনাকে কল না দেওয়া অভ্যাসে পরিনত হয়েছে।এতে কিন্তু আপনার অনেক ব্যর্থতা আছে,তার এই অভ্যাসের পিছনে আপনার রেসপোনসিবলিটি ৭০-৮০ পারসেন্ট।আপনি কেন তাকে এই অভ্যাসে পরিনত হওয়ার সুযোগ দিলেন।আপনি কেন একটা মায়া সৃষ্টি করে রাখতে পারলেন না তার উপরে?ভাইয়া কল দিতে পারেনি,আপনি প্রত্যেকদিন কল দিতে পারতেন,হয়ত সে তখন কল রিসিভ করতে পারত না,কিন্তু খুব ট্রাই করত কাজ শেষ করে আপনাকে কল দিতে।কিন্তু আপনি তা তো পারেননি।কি ভাইয়া বকত কল দিলে?একটু বকলেই বা কি এমন হত?সে তো আপনারই,একান্ত আপনারই।নিজের জিনিসের উপর জোর খাঠাতে কোন লজ্জ্বা নেই,কোন পাপ নেই।কথা হল একটাই,যা আপনার তার উপর আপনার মায়া পুরোপুরি ফেলে রাখতে হবে,নিজের ফুল কর্তৃত রাখতে।এক মুহুর্তের জন্যেও ভূল করেও আপনাকে ভুলতে দেওয়া যাবে না।আর কেনয় বা তাকে সে সুযোগ দিবনে,যার সাথে আপনি সারা জীবন থাকবনে।যদি সে অভ্যাসটা তার তৈরি হয়,তবে আপনার বাড লাক,আর এর জন্যে আপনিই দায়ি।

একটা কাজ করেন আপু আপনি আগামি এক মাস প্রত্যেকদিন একই সময়ে ভাইয়াকে দিনে ৫ বার করে কল দিবেন,ভাইয়া বকাবকি করলেও,রিসিভ না করলেও.১ম দিন হয়ত রিসিভ করবেনা,কিন্তু ৭ দিন পর দেখবেন আপনাকে বকাবকি করার পরও যখন কল দিচ্ছেন ভাইয়া দিনের সেই সময় গুলোতে নিজেকে ফ্রি রাখার ট্রাই করছে।এ ভাবে ৩০দিন রেগুলার কল দিয়ে ৩১ তম দিনে সার দিনে আর একবারু কল দিবেন না,দেখবেন আপনার কল না পেয়ে ভাইয়াই আপনাকে কল দিয়েছে,যদি আরও বেশি কিছু দেখতে চান তবে আপনার সব বাসার,আপনার সব নাম্বার অফ করে রাখেন,দেখবেন সময়ের আগেই ভাইয়া পাগলের মত বাসায় চলে এসছে,আর আপনাকে নাম্বার অফ করে রাখার জন্যে অনেক অনেক বকা দিচ্ছে।জাষ্ট এক মাস ট্রাই করার পর আমায় এসে বলেবেন ভাইয়া আমি আমি ভূল ছিলাম,ও সত্যিই আমাকে এখনও আগের মতয় ভালবাসে।

আর ভাইয়া আমরা জব করি যাতে আপন মানুষ গুলোকে সুখি রাখার জন্যেই তো তাই না?যে মেয়েটাকে আপনি এত্ত ভালবেসে বিয়ে করলেন,যে আপনাকে এত্ত ভালবাসে বিয়ে করল কাজের ব্যস্ততার দোহায় দিয়ে কেন তাকে নিজের অজান্তেই কষ্ট দিচ্ছেন।সে তো জাষ্ট আপনার কাছে আপনার অনেক ব্যস্ত সময়ের মাঝে তার জন্যে একটু সময় চায়।এই একটু সময়েই সে সুখি,খুব সুখি।যে জব,যে কাজ,যে ব্যস্ততা আপন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারেনা,আপন মানুষ গুলোর সাথে নিজের এক অজানা দূরত্ব তৈরি করে সে কাজের মূল্য কতখানি?।জীবন মানেই ব্যস্ততা,সে ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্যে,আপন মানুষ গুলোর জন্যে সময় করে নিতে হয়।আপনি চাইলেই সে সময় করে নিতে পারবেন,শুধু চাইতে হয়,আর সে অনুসারে কাজ করতে হয়।