মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

আমার না বলা ভালোবাসা


"আবির,বাবা আমার বিয়ে ঠিক
করেছেন ।।।"
খানিকটা কষ্টের সুরে বলল বৃষ্টি
।।
বৃষ্টি আর আমার বন্ধুত্ব প্রায় দুই
বছরের ।।
আজ সকালে বৃষ্টি আমাকে ফোন
দিয়ে বলল
বিকেলে পার্কে দেখা করতে
।।। সে আবার
বলতে শুরু করল
-বাবার এক দূর সম্পর্কের
আত্মীয়ের ছেলের
সাথে বিয়ে ঠিক করেছেন ।।
ছেলে সফটওয়্যার
ইঞ্জিনিয়ার ।।
আমি চুপ করে ওর কথা শুনছিলাম ।।
আমার
চুপ করে থাকা দেখে সে
রাগান্বিত হয়ে বলল
-তুমি কিছু বলছনা কেন ??
সারাজীবন কি
এভাবে চুপচাপ থাকবে ??
আমি চুপ করে রইলাম আর ভাবতে
লাগলাম
দুই বছর আগের কথা ।।তখন আমি
জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী ২য়
বর্ষে পড়ি ।।
কলেজের অফিসে একটা কাজে
গিয়েছিলাম ।।
বের হওয়ার সময় একটা মেয়েকে
দেখলাম ।।
মেয়েটাকে দেখে আমি অবাক
হয়ে যায় ।।
মেয়েটার গায়ের রং ছিল
শ্যামলা কিন্তু
চেহারায় অসাধারণ মায়া ছিল
।। মেয়েটাই
ছিল বৃষ্টি ।। অনেক কষ্টে
নিজেকে সামলে
নিয়েছিলাম কারণ আমি
ছিলাম মধ্যবিত্ত
পরিবারের সন্তান ।। বাবা
অনেক কষ্টে
সংসার চালাতেন ।। তাই আমি
কোনদিন
এসব প্রেম নিয়ে ভাবিনি ।।
আমি অনেকটাই
চুপচাপ রকমের ছেলে ছিলাম ।।
তাই বন্ধুর
পরিমাণও ছিল কম ।। কয়েকদিন পর
কলেজে
পরীক্ষার টাকা দিতে গেলাম
।। সেদিন খুব
বৃষ্টি হচ্ছিল ।। টাকা দিয়ে
অফিস থেকে বের
হয়ে দেখলাম একটা মেয়ে
বৃষ্টিতে ভিজছে ।।
লক্ষ্য করে দেখলাম মেয়েটা আর
কেউ নই
বৃষ্টি ।। ওকে দেখে মনে হচ্ছে এক
মায়াবী
পরী ।। আমি মুগ্ধ নয়নে ওর দিকে
তাকিয়ে
ছিলাম ।।ও আমার এভাবে
তাকিয়ে থাকা
দেখে লজ্জা পেয়ে চলে গেল ।।
পরদিন
ক্যান্টিনে বসে চা পান
করছিলাম তখন বৃষ্টি
আমার সামনে এসে বসল আর বলল
-আপনি কাল আমার দিকে
এভাবে তাকিয়ে
ছিলেন কেন ??
আমি ওর কথার উত্তর না দিয়ে চা
পান
করতে লাগলাম ।। সে কিছুটা
রেগে গিয়ে বলল
-আপনি মেয়ে দেখতে পারেন
কিন্তু কথা
বলতে পারেন না?? আপনি কি
বোবা ??
আমি কিছু না বলে সেখান
থেকে চলে
আসলাম ।। পরদিন আবার বৃষ্টির
সাথে দেখা
।। সে আমার সামনে এসে দাঁড়াল
।। আমি
চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি দেখে
বলল
-আচ্ছা আমি কি ভূত নাকি যে
আমার সাথে
কথা বলছেন না ??
-আপনি ভূত কেন হবেন আপনি তো
মায়াবি
পরী ।।
সে আমার কথা শুনে হাসতে
লাগলো ।। ওর
হাসিটাও খুব সুন্দর ।।সে হাসি
থামিয়ে বলল
-আপনি তাহলে কথা বলতে
পারেন ।। আচ্ছা
আপনার পরিচয়টা জানা হলো
না ।। আমি
বৃষ্টি আর আপনি ???
-আমি আবির ।।
-আচ্ছা আপনি কি কম কথা বলেন ??
-আসলে প্রয়োজন ছাড়া কথা
বলতে আমার
ভালো লাগে না ।।
-ওওও ।। আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে
পারি ??
-যদি আপনি চান ।। (কিছুক্ষণ
ভেবে )
-তাহলে আজ থেকে আমরা বন্ধু ।।
সেই থেকে বৃষ্টির সাথে আমার
বন্ধুত্ব শুরু
।।ধীরে ধীরে বৃষ্টি আমার
জায়গা করতে
লাগলো ।। আমি ধীরে ধীরে
বুঝতে পারি
বৃষ্টিও আমাকে ভালোবাসে ।।
কিন্তু আমি যে মধ্যবিত্ত
পরিবারের ছেলে ।। এসব
ভালোবাসার জন্য
আমার কোনো সামর্থ্য ছিল না ।।
তাই আমি
শুধু বন্ধুত্ব করে গেছি ।।
বৃষ্টির ডাকে আমার ভাবনার
ছেদ পড়ল ।।
-কি হল ?? আচ্ছা তুমি কি আমাকে
কখনও
ভালোবাসোনি ??
আমরা মধ্যবিত্তরা সবকিছু পাই
না ।।ওকে বিয়ে
করে আমি কিছুই দিতে পারবো
না আর আমি
এখন ওকে বিয়ে করতে পারবো
না ।। নিজের
পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের
দূরাবস্তা দূর করতে হবে
।। তাই আমাকে আজ আমার
ভালোবাসার
বিসর্জন দিতে হবে ।। আমি ওকে
বললাম
-আমি তোমাকে কখনো
ভালোবাসিনি ।। আমি
শুধু তোমাকে ভালো বন্ধু
ভেবেছি ।।
আমার কথা শুনে সে আমার
দিকে তাকালো ।।
ওর চোখ দুটো টলমল করছে ।। সে
আমাকে
বলল
- তুমি সত্যিই আমাকে কখনও
ভালোবাসোনি ??
আমি মুচকি হেসে বললাম
-আমি কি কখনো তোমাকে
মিথ্যা বলেছি ।।
সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভালো
থেকো বলে চলে
গেল ।। ওর চলে যাওয়ার সাথে
সাথে আমার
ভালোবাসাও শেষ হয়ে গেল ।।
হয়তো আমার
চোখ থেকেও কয়েক ফোঁটা
পানি গড়িয়ে পড়ল ।।
না,আমার দুর্বল হওয়া চলবে না ।।
আমাকে যে
কঠোর হতে হবে ।। পরিবারের
হাল ধরতে হবে
।।
আমি এখন হাঁটছি ।। আশেপাশের
মসজিদ থেকে
আযানের ধ্বনি শুনা যাচ্ছে ।।
আচ্ছা বৃষ্টি কি
কখনো জানতে পারবে তার
প্রতি আমার
ভালোবাসার কথা ?? থাক না
কিছু কথা অজানা
।। আমি এখনও হাঁটছি ।। যে হাঁটার
নেই
কোনো গন্তব্য ।। যে হাঁটা চলবে
আজ
সারারাত পর্যন্ত ।।।।।

★★★জীবন দিয়ে ভালোবাসি★★★


বিকেল প্রায় শেষের দিকে। সূর্য মামা লাল হতে শুরু করছে। এমন সময় নদীর পাের একা আনমনে বসে আছে শুভ। সূর্যের সোঁনালী আলোয় নদীর পানি জ্বলজ্বল করছে। পানির দিকে তাকালে চোখ ধরে যায়।
সেই নদীটা যেখানে জীবনের অন্তিম মুহূর্তগুলোর অনেকটাই কাটিয়েছে শুভ। যে কথাগুলো মনে হলে আজও হৃদয়টা হু হু করে কেঁদে ওঠে।
আজ তিন বছর পর সেখানে বসে কারও জন্য অপেক্ষা করছে শুভ।
মনে পরে যায় তিন বছর আগের কথা......
অষ্টম শ্রেনীর বার্ষিক পরিক্ষা শেষ করে নিজের বাড়ি থেকে অনেক দূরে মামার বাড়িতে লেখাপড়ার জন্য আসে শুভ। বড় মামাতো ভাই সেখানকার একটি স্কুলে নবম শ্রেনীতে ভর্তি করে দেয় শুভকে। দুয়েক দিন আনন্দে কাটলেও কয়েক দিন পর যেন আনন্দ মাটি হয়ে গেল। নতুন জায়গা নতুন পরিবেশ কেমন জানি একা একা লাগছে। ফেলে আসা দিনগুলে, বন্ধু বান্ধব, বাড়ির কথা খুব মনে পরছে। শুভর বাড়ি ছিল অনেক দূরে। চাইলেই বাড়িতে যাওয়া সম্ভব ছিল না।
এর মধ্যে স্কুলে ক্লাস শুরু হয়ে যায়। নতুন স্কুল নতুন ক্লাস সবকিছু নতুন। এই পরিবেশে কেমন জানি লাগছে। পড়ায় মন বসছে না।
এমনি করে প্রথম সাময়িক পরিক্ষা শেষ হল। পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ হল কিন্তু রেজাল্ট ভাল হল না।
কিন্তু এভাবে তো চলবে না। তাই শুভর মামাতো ভাই শুভর স্কুলের তার পরিচিত এক স্যারকে শুভকে পড়ানোর জন্য বলে। স্যার ছিল ব্যস্ত মানুষ। তাছাড়া এই সময় স্যার নবম শ্রেনীর কাউকে পড়াচ্ছে না। কিন্তু স্যারের সাথে শুভর মামাতো ভাইয়ের ভাল সম্পর্ক থাকায় স্যারের বাসায় অষ্টম শ্রেনীর একটা ব্যাচে শুভকে আসতে বলে। নিচের ক্লাসের ছেলেমেয়েদের সাথে পড়তে প্রথমে একটু বিব্রতবোধ হলেও দুদিন পরে ঠিক হয়ে যায়। সেখানে ছিল সোহেল, আরিফ, রবি, আল-আমিন, সাইফুল, সাথী, শিমু, হাফিজা। এর মধ্যে সোহেল আর রবির সাথে ভাল বন্ধুত্ব হয় শুভর।
পাঁচ দিন কেটে যায়। পরের দিন শুভ একটু আগেই পড়তে চলে যায়। স্যারেরর বাসায় গিয়ে দরজায় নক করতেই একটি মেয়ে দরজা খুলে। চোখে চোখ পরতেই অবাক ভাবে তাকিয়ে আছে শুভ। বয়স আনুমানিক ১৪ বছর হবে। উঠতি বয়সের মেয়ে। চেহারায় অস্বাভাবিক উজ্জলতা। চোখ দুটো টানা টানা যেন মায়ার ইন্দ্রজাল সৃস্টি করে দিয়েছেন বিধাতা। যে ওই চোখের দিকে একবার তাকাবে ওই চোখের মায়ায় পরে যাবে। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে শুভ। যেন চোখ সরাতে পারছে না। মনে হচ্ছে কোন স্বর্গীয় পরী ওর সামনে দাড়িয়ে আছে। মনে হয় অচেতন হয়ে গেছে।
হঠাৎ মেয়েটি বলল "কি দেখছেন?
শুভ মনে হয় জ্ঞান ফিরে পেল, আমতা আমতা করে বলল "কিছু না"।
মেয়েটি আর কিছু না বলে ভিতরে চলে গেল।
শুভ টেবিলের উপরে বইগুলো রেখে ঝিম খেয়ে বসে অাছে এ কি দেখল। কে এই মেয়েটি আগে তো কখনও দেিখনি ভাবছে শুভ।
ইতিমধ্যে সবাই চলে এসেছে পড়া শুরু হতেই বোঝার বাকি রইল না মেয়েটি কে। ও হচ্ছে স্যারের একমাএ মেয়ে নাম "কণা" ওদের সাথেই পড়ে। নানা বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল তাই এত দিন শুভ দেখে নি। আর আগে জানতোও না। পড়া শেষে শুভ, রবি, আর আরিফ নদীর পাড়ে চলে যায়। আজকের বিকালটা কেমন জানি লাগছে শুভর।
রাতে বিছানায় শুতেই ওর কথা মনে পরে। চোখ বুজলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ওই মায়াবী চোখের চাহনি। সেিদনের রাতটা ওর ভাবনায় নির্ঘুম কাটে শুভর।
প্রতিিদন পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ওর দিকে তাকিয়ে থাকত শুভ। রবি ছিল কণার চাচাতো ভাই একই বাড়িতে থাকত।
তাই যখনই ইচ্ছা কণাকে দেখতে নানা ছলে রবির কাছে যেত শুভ। সারাক্ষণ ওকে নিয়ে ভাবে কেমন জানি ওকেই মনে পরে। সারাক্ষণ দুচোখ ভরে ওকে দেখতে পারলে অনেক ভাল লাগে। ইতিমধ্যে বিষয়টা চোখে পরে রবির। শুভ সব খুলে রবি ও সোহেলকে। এই বার শুভ নিশ্চিত যে ও কণার প্রেমে পরে গেছে। লুকিয়ে লুকিয়ে কণাকে দেখে যাচ্ছে শুভ। পড়া ফাঁকি দিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত ওর দিকে ।
এ দিকে কণাও প্রায়ই ওর দিকে তাকাত ওর চোখে চোখ পরলে সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নিত। কণাও মনে হয় শুভর প্রেমে পরে গেছে ওকে দেখলেই অন্তরটা অজানা সুখে নেচে ওঠে। এভােবই মনের অজান্তে চোখের আড়ালে প্রেম করছে দুজন। কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলছে না।
এর মধ্যে সবার বার্ষিক পরিক্ষা শেষ। কণা নবম শ্রেনীতে পরে আর শুভ দশম শ্রেনীতে। সবাই একটু বড় হয়েছে। তাই এবার শুভ সিদ্ধান্ত নিল কণাকে ওর মনের কথা খুলে বলবে। একদিন পড়া শেষে সবাই নদীর পাড়ে ঘুরতে যায়। সুযোগ বুঝে শুভ ওর মনের কথা বলে দেয় কণাকে। কাছে ছিল সোহেল আর রবি লজ্জায় মুখ লাল হয়ে গেল মেয়েটির। কিছু না বলেই চলে গেল সেখান থেকে। কণাও ভালবাসে শুভকে কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছে না। মেয়ে মানুষ বুঁক ফাঁটে তবুও মুখ ফোটে না।
পরের দিন শুভকে নদীর পাঁড়ে একা ডাঁকে কণা। একটু আগেই গিয়ে বসে অপেক্ষা করছে কণা। শুভ যেতেই দাঁড়িয়ে ওঠে দুজন সামনা-সামনি দাড়িয়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুভকে জরিয়ে ধরে কণা। মনের ভাষা মুখে না বলতে পারলেও মন দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছে। দুজন দুজনকে জরিয়ে ধরে আছে। যেন ভালবাসার এক গভীর সমুদ্রে ভাসছে। প্রিয় মানুষটিকে এভাবে কাছে পাওয়ার মুহুর্তটা যে কত গভীর আর কত সুখের, তা একমাত্র তারাই অনুভব করতে পারে যারা তার ভালবাসার মানুষটিকে এভাবে কাছে পেয়ছেন।
এভাবেই সবার চোখের আঁড়ালে চলছে দুজনার প্রেম। দুজনেই গভীর প্রেমে আছন্ন। কেউ কাউকে ছাড়া একটি মূহুর্তও কাটাতে পাের না। যেন দুটি দেহে একটি প্রাণ। প্রায়ই এই নদীর পাড়ে দেখা করত দুজন। কণার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকত শুভ। যেন এক অজানা সুখে পরিপূর্ণ দুজনে।
কিন্তু এই সুখ ওদের কপাঁলে যেন বেশী দিন সইল না। হঠাৎ একটা কালবৈশাখী ঝড় কেড়ে নেয় সুখ। আর তার কারণ ছিল "সাথী"।
সাথী শুভকে পছন্দ করত। অনেক ভালও বাসত। কিন্ত শুভ ওকে পছন্দ করত না। শুভ ভালবাসে কণাকে আর কণা শুভকে। কিন্তু ওদের এই ভালবাসা সাথীর সহ্য হল না। তাই শুভ আর কণার ভালবাসার কথা বলে দেয় ওদের পরিবারের কাছে। ঝড় নেমে আসে ওদের জীবনে। কণার বাবার কাছে পড়া বন্ধ হয়ে যায় শুভর। বাসা থেকে মামা, মামী ভাই সবার ধিক্কার। ওদিকে কণার অবস্থাও খারাপ বাসা থেকে বের হওয়া বন্ধ। খাচায় বন্দি পাখির মত ডানা ঝাপটে মরছে।
এদিকে কণার রাড়ির ত্রিসীমানায়ও যেতে পারছে না শুভ। আর সে সময়টায় সবার হাতে মোবাইল ছিল না।তো এই নবম দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া ছেলে মেয়ের হাতে মোবাইল ছিল সাধ্যের বাইরে। দুজনার সাথে যোগাযোগ বন্ধ। এদিকে চেখের আড়ালে বুক ফাটা কষ্টে মরে যাচ্ছে দুজনে। খাওয়া নেই, ঘুম নেই দিন রাত বিছানায় শুয়ে নিরবে কেঁদে যাচ্ছে দুজনেই। ওদের দুজনকে আঁলাদা করতে কণাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় নানাবাড়ি আর শুভকে ওদের বড়ি।
প্রাঁয় মাসখানেক কেটে যায় পরিবেশটা শান্ত হলে শুভ ফিরে আসে মামাবাড়ি। কিন্তু ফিরে এসে দেখছে কণাদের বাড়ি খালি।রবির মাধ্যমে জনাতে পারে ওর বাবা অন্য জায়গায় বদলি হয়েছে। ওরা সপরিবারে সেখানে চলে গেছে। শুভ কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না।
.
.
.
.
তারপর অনেক কিছু ঘটে যায়। শুভ এস.এস.সি পরিক্ষা দিয়ে নিজের বাড়ি চলে যায়। কণাও সেখানের স্কুলে ভর্তি হয়।
কেটে যায় তিনটি বছর। কিন্তু তিন বছরে কেউ কাউকে মূহুর্তের জন্যও ভুলতে পারে নি।
কণা আর ওর পরিবার বাড়িতে আসে। রবির মাধ্যমে শুভকে খবর দেয় কণা।
আজ বিকালে শুভর সাথে দেখা করতে সেই নদীর পাড়ে আসবে কণা।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে চোঁখে জল চলে আসে শুভর। আজ তিন বছর পর দেখবে কণাকে ও কি আগের মতই আছে নাকি বদলে গেছে। সময়ের পরিবর্তনে ভুলে গেছে আমাকে??ওর সামনে দারিয়ে কি বলবে?? নিজেই নিজের কাছে প্রশ্ন করছে। আর ছোট ছোট ঢিল ছুরছে নদীতে।
হঠাৎ শুকনো পাতার মরমর শব্দে কারও আসার শব্দ পাচ্ছে। পিছন ফিরে তাকাতেই দেখে একটি মেয়ে। অনেক পরিবর্তন হয়েছে, অনেক বড়ও হয়েছে। তবুও চিনতে মোটেই কষ্ট হল না শুভর।সেই টানা টানা মায়াবী চোখ। কখনও কি ভোলা যায়। দুজনেই সামনা সামনি দাঁড়িয়ে। কোন কিছু বলার আগেই কণা জরিয়ে ধরে শুভকে। দুজনের চোখে আনন্দের অশ্রুধারা বয়ে যাচ্ছে। কারও মুখে কথা নেই শুধু সুখের কান্না। পৃথিবীর সব ভাষা যেন হারিয়ে গেছে। কিছুক্ষণ নীরবতা।
.
.
.
.
কণা শুভকে ছেড়ে দেয়।
: কেমন আছ শুভ?
: আগে কেমন ছিলাম জানি না তবে এখন ভাল আছি। তুমি?
: যাকে হৃদয় কোঁঠরে যায়গা দিয়েছিলাম তাকে ছাড়া ভাল থাকি কিভাবে বল?
: এখন থেকে আমরা ভাল থাকব। তোমায় নিয়ে চলে যাব দুর অজানায়। সেখানে শুধু তুমি আর আমি থাকব। আর কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।
: না শুভ তা আর হবে না। সে সময় আর নেই। আমি আর তোমার নেই। আমি এখন অন্য কারও।
: এ তুমি কি বলছ কণা !
কণা আংটিপরা অনামিকা শুভর চোখের সামনে ধরল।
শুভ তাকিয়ে দেখল। তারপর শুভ প্রচন্ড কষ্ট নিয়ে তাকাল কণার মুখের দিকে।
কণা খুব আস্তে করে বলল-
গত পরশু আমার বিয়ে হয়ে গেছে। আমি এখন অন্যর বউ। আগামী শুক্রবার আমাকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে। তাই সবাই বাড়িতে এসেছি। শুধু তোমায় শেষবারের মত দেখতে এসেছি।
- না! এ হতে পারে না। তাহলে এ পৃথিবী মিথ্যে হয়ে যাবে। এ তুমি মিথ্যে বলছ।
আমি বিশ্বাস করি না। মিথ্যে সব মিথ্যে।
-যা বলছি সবই ঠিক। আমি তোমাকে শুধু অনুরোধ করব, তুমি সারা জীবন ভালো থাকবে। তুমি মনে কর তোমার কণা মরে গেছে। সে তোমাকে কোনদিন চিনতো না। কখনো ভালবাসেনি তোমাকে। সব তোমার ভুল স্বপ্ন ছিল। ভুল জীবনে ছিলে।
শুভ বসে পরে মাটিতে। দুহাতে মুখ ঢেকে অবুঝ শিশুর মত কেঁদে ফেলে।
কণা বুঝতে উঠতে পারছে না কি করবে। আস্তে আস্তে শুভর মাথাটা বুকের কাছে টেনে নেয়। ওরনার আঁচল দিয়ে মুছে দেয় চোখের জল। তারপর আহত পাখির মত বেদনার্ত কন্ঠে বলল-
শুভ এছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না। আমার এ হাত-পা যে শিকলে বাধা। বন্দি খাচার পাখি হয়ে ছিলাম আমি।
-আগে বলনি কেন?
-বললে কি করতে? নিয়ে আসতে আমাকে? বিয়ে করতে? পারতে না। ওরা আমাদের মেরে ফেলতো। তবুও তোমার জীবনের সাথে আমার জীবন বাধতে দিত না।
কণার গলা ধরে আসে। আর বলতে পারে না।আনমনে শুভর মাথার চুলগুলো টানতে থাকে। কাঁদতে থাকে পাগলের মত।
-আমি পারতাম কি পারতাম না সেটা পরের কথা। মেরে ফেললে ফেলত। তবুও বললে না কেন। এত বড় সর্বনাশ তুমি কেন করলে?
-এছাড়া আমার কি উপায় ছিল বলো? আমি এক পরাধীন নারী।
-এসব ভুলে যাও কণা। মনে কর তোমার কিছুই হয়নি। এখনও তুমি সেই আগের মত। আমি তোমাকে এখনি এখান থেকে নিয়ে যাবো।
-না তা হয় না। যা বাস্তব তা অস্বীকার করার মত শক্তি আমাদের কারোরই নেই।
-কিন্তু তুমিও তো আমার ছাড়া অন্য কারও হতে পার না।
-শুভ আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো।
-ক্ষমাতে কি সব শেষ হয়! হয় না।আমার নিজের বুকের ভেতর যে আমি নিজেই তোমার জন্যে ভিন্ন এক চিতার আগুনে জ্বলছি,পুড়ছি। নিজেই নিজেকে পোড়ানো গন্ধ পাচ্ছি। দোহাই তোমার, তুমি আমাকে এত বড় কঠিন শাস্তি দিয়ো না। তুমি কি জান তুমি আমাকে কি জীবন দিতে যাচ্ছো?
সে জীবন যে কি যন্ত্রণাদায়ক তা তুমি বুঝবে না। কোনদিন বোঝার চেষ্টাও করোনি। আমাকে পোড়াও। যত খুশি তোমার। এই নাও আমি বুক পেতে দিলাম, যত খুশি আগুন ঢেলে দাও। পোড়াও। পুড়িয়ে শেষ করে দাও আমাকে।
সন্ধা প্রায় ঘনিয়ে। এমন সময় পাখিদের ঘরে ফেরার গান। শুভকে ছেড়ে চলে যেতে কণা কেঁদে ফেলে। কণার চোখের পানি মুছে দেয় শুভ। তারপর তার কপাঁলে ছোট একটা চুমু দিতে যেয়ে আবার কি যেন ভেবে ঠোঁট ফিরিয়ে নেয় শুভ। তারপর এক বুক অভিমান নিয়ে বললো,
-তুমি ভাল থেকো। সুখী থেকো।
কণা কিছুই বলতে পারল না। একবার ভাবল সব ছিন্ন করে শুভর সাথে চলে যাই। দূরে কোথাও যেয়ে সংসার গড়ি দুজনে। আবার ভাবল না, যাব না। গেলে সবাই কি বলবে। কি ভাববে সমাজ,জাতী?? কি করে মুখ দেখাবে সমাজে??
কণা ঝড়ের বেগে চলে যাচ্ছে।
শুভ তাকিয়ে দেখছে। কণা ক্রমেই দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে। ছায়ার মত মনে হচ্ছে ওকে। মনে হচ্ছে দূরে অস্পষ্ট কোন এক ছায়া হেঁটে যাচ্ছে। সে ছায়া যেন বারবার মুখ ফিরে পিছন তাকিয়ে দেখছে।
চোখের জলে ঝাপসা হয়ে আসছে সবকিছু।
ফুটে উঠেছে সন্ধা আলো। সূর্যের চারদিক গভীর লাল। মনে হয় তাজা এক মুঠো রক্ত। যেন রক্তের ছাপ। ব্যস্ততা শেষে নিড়ে ফিরছে পাখিরা। দূর আকাশে পাখা মেলে উড়ে যাচ্ছে আপন ঠিকানায়।
কিন্ত এসবের কিছুই ভাল লাগছে না শুভর। নদীর পাড়ে একা দাঁড়িয়ে আছে। কণা চলে যওয়ার পর থেকেই দাঁড়িয়ে আছে।
স্মৃতির পশরা বুকের ভেতর নড়ে ওঠে। নদীর পাড় ভাঙার মত যেন দুমড়ে মুচড়ে ভাঙতে থাকে তার বুকের ভেতরটায়। আর ভাবতে থাকে এ কি অন্ধকার জীবন হল আমার। নিজেই নিজেকে ধিক্কার দেয়। ঘৃণা করে।
কেন এ অাঘাত করলে? কেন এ কষ্ট দিলে? কেন আমাকে এমন করে প্রতারিত করলে? তোমাকে অন্ধের মত ভালবেসেছিলাম। আমার ভালবাসার এই মূল্য দিলে?
পাষণ্ডের মত নিক্ষেপ করলে এক কষ্টের জ্বলন্ত চিতায়। এই কি তোমার প্রেম? এই কি তোমার আদর্শ?
এরই নাম কি জীবন দিয়ে ভালোবাসা!
শুভ আর ভাবতে পারে না। নিজের সঙ্গে নিজেই যুদ্ধ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠছে। সে নিজেও জানে না এ যুদ্ধের শেষ কোথায়।
( সমাপ্ত )

বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০১৫

বর্তমান সময়ের জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ন

ছেলেটা আর মেয়েটা প্রেম করেই বিয়ে করেছে,তবুও আজ তাদের মধ্যে অজানা এক দূরত্ব কাজ করে।আজ মেয়েটার অনেক অনেক অভিযোগ ছেলেটাকে নিয়ে।দুজন দুই জায়গায় থাকে।এ দুই জায়গার থাকার কারন মেয়েটা একটা সরকারি নার্সিং ইন্সটুটিওয়েটে পড়ে এ জন্যে বাড়ি থেকে দূরে মেসে থাকতে হয়,বাসা থেকে ক্লাশ করা সম্ভব নয়। ,আর ছেলেটা তার নিজ শহরে জব করে,সারাদিন টিউশনি করায়,অনেক অনেক স্টুডেন্ট।মেয়েটা সপ্তাহে দুদিন শ্বশুর বাড়ি গিয়ে থাকে,সরকারি ছুটির দিন গুলোতে।ছেলেটাকে নিয়ে মেয়েটার অভিযোগের লিষ্টটা বিশাল বড়।ছেলেটা নাকি তাকে আর আগের মত ভালবাসেনা।তাকে আগের মত সময় দেয় না।সারাদিনে একবারও কল দেয় না।মেয়েটা বিয়ের আগের কথা গুলো ভেবে কষ্ট পায়।ছেলেটা তাকে নিয়ে কত পাগলামি করত এক সময়।একটু কথা বলার জন্যে কত কি করত,সারা রাত জেগে থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলত।সারা দিনে অসংখ্যবার কল দিত,একবার দেখা করার জন্যে কত ট্রাই করত,একদিন ঘুরতে যাওয়ার জন্যে কত প্ল্যান করত,কতজনকে ফাকি দিত,কিন্তু আজ বিয়ের পর নাকি ছেলেটা মেয়েটাকে কল দেবার মত সময়ই পায়না।তার জন্যে সে আর আগের মত পাগল নয়,আগের মত ভালবাসে না।আজ সে মেয়েটা অন্য কাউকে বলে,তোর BF এখন তোর জন্যে এত্ত পাগল,আগে বিয়ে হোক আর এ রকম পাগল থাকবেনা।

বর্তমার সময়ের প্রাইয় ৬০ পারসেন্ট প্রেম করে বিয়ে করা মেয়েরই তার হাজবেন্ড কে নিয়ে এই অভিযোগ যে তার হাজবেন্ড তাকে আর আগের মত ভালবাসে না,তাকে সময় দেয় না।আমি জানি সেই ৬০ পারসেন্ট এর মধ্যে কেউ না কেউ এই স্ট্যাটাসটি পড়ছেন।তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আপু আপনি কি ভাইয়াকে আগের মতয় ভালবাসেন?আপনি কি আগের মতয় তার জন্যে এখনও পাগল?আমি জানি আপনি এক কথায় উত্তর দিবেন,হ্যা অবশ্যই,আমি এখনও তার জন্য আগের মতয় পাগল।
আমি বলব আপনি মিথ্যেবাদি,খুব বড় মাপের মিথ্যেবাদি,আপনি তার জন্যে আগের মত পাগল নয়,আপনি অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছেন,অনেক বেশি,যেইটা আপনি শিকার করতে চাইছেন না।

আচ্ছা আপু যা ভাইয়াটা বিয়ের আগে আপনার জন্যে এত্ত এত্ত পাগলামি করেছে,সারাদিন এত্ত এত্ত কল দিয়েছে আজ কেন আপনাকে সারা দিনে একবারও কল দেয় না??????????
আপনি হয়ত বলবেন ও সারাদিন ওর কাজ নিয়ে ব্যস্ত,আমার জন্যে সময়ই নেই।আচ্ছা আপু ভাইটা সারাদিন এত্ত এত্ত কষ্ট করে কাজ করছে তা কার জন্যে??শুধুই কি তার জন্যে?না আপনার জন্যে?আপনাদের ভবিষত্বের জন্যে?আচ্ছা আপু কাজ কি কেউ সখে করে?কেউ কি সখের বশে সারাদিন অফিসে পরে থাকতে চায়?হার ভাংগা পরিশ্রম করতে চায়?তার কি একটুও ইচ্ছে করে না সারাদিন নিজের মত রেষ্টে কাটাতে?সত্যিই কি তা একটুও ইচ্ছে করেনা আপু???তবুও সে তার সব কিছু বিসর্জন দিয়ে কেন এত্ত সব কিছু করছে?কেন?একটি বার কি এসব ভেবেছেন?

আচ্ছা ভাইয়াকে নিয়ে আপনার এত্ত এত্ত কমপ্লেইন,আপনাকে সারাদিনে কল দেয় না,খোজ খবর রাখেনা,আপনি সারা দিনে কতবার ভাইয়ার খোজ খবর নেন?ভাইয়াকে সারাদিনে কতবার কল দেন?কত দিন দুপুরে কল দিয়ে শুনেছেন সে খাইছে কিনা?কি খেয়েছে?কতদিন অসময়ে তাকে কল দিয়ে বলেছেন,তোমার সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে?কতদিন?কি একদিনও নয়,তাই তো?
আসলে আপু যে ভাইয়া আপনাকে এত্ত ভালবেসে তার জীবন সংগি বানিয়েছে,তার সুখ দুঃখের সংগি বানিয়েছে সে নি;সন্ধেহে আপনাকে আগের মতয় ভালবাসে।শুধু অভ্যাসের একটু পরিবর্তন হয়েছে।যখন প্রেম করতেন তখন কিন্তু ভাইয়া কিংবা আপনি এক দিনে একে অপরের প্রতি এত্ত আকৃষ্ট হননি।দিনে দিনে হয়েছেন।প্রথম হয়ত সারা দিনে একবার কথা বলতেন,তখন এত কষ্ট হয়নি তার সাথে কথা না বলার জন্যে,এর পর ধিরে ধিরে এমন একটা অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল সারা রাতে কয়েক ঘন্টার যদি কম কথা হত তবে খুব কষ্ট হত,কান্না করে ফেলতেন দুজনই।একদিন কথা না হলে হলে খুব অস্থির হয়ে পরতেন।এটা আপনাদের দুজনার অভ্যাসে পরিনত হয়ে পরেছিল,এ জন্যে একদিন কথা না হলে ভাইয়া এত্ত পাগলামি করত।

ঠিক এমনি ভাবেই একটু একটু করে আপনাকে সারা দিনে একবারও কল না দেওয়া ভাইয়ার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে।প্রথম প্রথম কাজে গিয়ে আপনাকে কিন্তু ঠিকই কল দিত,কিন্তু কোনদিন হয়ত কাজের চাপে কল দিতে পারেনি,সেদিন ভাইয়ার কিন্তু অনেক কষ্ট হয়েছিল,এর পরেরদিন আবার কাজের চাপে কল দিতে পারেনি,সেদিনও কষ্ট হয়েছে,এ ভাবে দিনে দিনে তার কষ্টটা সহে গেছে,আপনাকে কল না দেওয়া অভ্যাসে পরিনত হয়েছে।এতে কিন্তু আপনার অনেক ব্যর্থতা আছে,তার এই অভ্যাসের পিছনে আপনার রেসপোনসিবলিটি ৭০-৮০ পারসেন্ট।আপনি কেন তাকে এই অভ্যাসে পরিনত হওয়ার সুযোগ দিলেন।আপনি কেন একটা মায়া সৃষ্টি করে রাখতে পারলেন না তার উপরে?ভাইয়া কল দিতে পারেনি,আপনি প্রত্যেকদিন কল দিতে পারতেন,হয়ত সে তখন কল রিসিভ করতে পারত না,কিন্তু খুব ট্রাই করত কাজ শেষ করে আপনাকে কল দিতে।কিন্তু আপনি তা তো পারেননি।কি ভাইয়া বকত কল দিলে?একটু বকলেই বা কি এমন হত?সে তো আপনারই,একান্ত আপনারই।নিজের জিনিসের উপর জোর খাঠাতে কোন লজ্জ্বা নেই,কোন পাপ নেই।কথা হল একটাই,যা আপনার তার উপর আপনার মায়া পুরোপুরি ফেলে রাখতে হবে,নিজের ফুল কর্তৃত রাখতে।এক মুহুর্তের জন্যেও ভূল করেও আপনাকে ভুলতে দেওয়া যাবে না।আর কেনয় বা তাকে সে সুযোগ দিবনে,যার সাথে আপনি সারা জীবন থাকবনে।যদি সে অভ্যাসটা তার তৈরি হয়,তবে আপনার বাড লাক,আর এর জন্যে আপনিই দায়ি।

একটা কাজ করেন আপু আপনি আগামি এক মাস প্রত্যেকদিন একই সময়ে ভাইয়াকে দিনে ৫ বার করে কল দিবেন,ভাইয়া বকাবকি করলেও,রিসিভ না করলেও.১ম দিন হয়ত রিসিভ করবেনা,কিন্তু ৭ দিন পর দেখবেন আপনাকে বকাবকি করার পরও যখন কল দিচ্ছেন ভাইয়া দিনের সেই সময় গুলোতে নিজেকে ফ্রি রাখার ট্রাই করছে।এ ভাবে ৩০দিন রেগুলার কল দিয়ে ৩১ তম দিনে সার দিনে আর একবারু কল দিবেন না,দেখবেন আপনার কল না পেয়ে ভাইয়াই আপনাকে কল দিয়েছে,যদি আরও বেশি কিছু দেখতে চান তবে আপনার সব বাসার,আপনার সব নাম্বার অফ করে রাখেন,দেখবেন সময়ের আগেই ভাইয়া পাগলের মত বাসায় চলে এসছে,আর আপনাকে নাম্বার অফ করে রাখার জন্যে অনেক অনেক বকা দিচ্ছে।জাষ্ট এক মাস ট্রাই করার পর আমায় এসে বলেবেন ভাইয়া আমি আমি ভূল ছিলাম,ও সত্যিই আমাকে এখনও আগের মতয় ভালবাসে।

আর ভাইয়া আমরা জব করি যাতে আপন মানুষ গুলোকে সুখি রাখার জন্যেই তো তাই না?যে মেয়েটাকে আপনি এত্ত ভালবেসে বিয়ে করলেন,যে আপনাকে এত্ত ভালবাসে বিয়ে করল কাজের ব্যস্ততার দোহায় দিয়ে কেন তাকে নিজের অজান্তেই কষ্ট দিচ্ছেন।সে তো জাষ্ট আপনার কাছে আপনার অনেক ব্যস্ত সময়ের মাঝে তার জন্যে একটু সময় চায়।এই একটু সময়েই সে সুখি,খুব সুখি।যে জব,যে কাজ,যে ব্যস্ততা আপন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারেনা,আপন মানুষ গুলোর সাথে নিজের এক অজানা দূরত্ব তৈরি করে সে কাজের মূল্য কতখানি?।জীবন মানেই ব্যস্ততা,সে ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্যে,আপন মানুষ গুলোর জন্যে সময় করে নিতে হয়।আপনি চাইলেই সে সময় করে নিতে পারবেন,শুধু চাইতে হয়,আর সে অনুসারে কাজ করতে হয়।

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০১৫

"ভালোবাসা'র শেষ হাসি"


- হি হি হি
- ওই ছাগলীর মতো হাসিস ক্যান?
- আমি ছাগলী?
- হ্যা। তুই ছাগলী ।
- আমি ছাগলী হলে তুই ছাগল।
- হুমম। আমি ছাগলীর ছাগল।
- বয়েই গেছে আমার।
- আমাকে তোর বর বানাবি?
- ইহ! ছেলের শখ কতো! !! আমার বর হতে চায়। আমার
বর তোর মতো ছাগল নয়।
- তাই নাকি? তাহলে কি ভেড়া?
- আরে ধুর, আমি কি সেটা বলছি? ??
- তাহলে কি বলছিস?
- খুব স্মার্ট হবে।
- আমি স্মার্ট না?
- তুই তো ................. থাক আর না বলি।
- না বলিস নাই। একবার ভালোবাসি বল না রে।
- যাহ। ভাংতি নাই। পরে আসিস। বিবেচনা করে দেখবো।
- এতো দিন পর ওয়েটিং লিষ্টে রাখলি?
- হুমম। রাখি তাহলে।
- আচ্ছা গুড নাইট ।
- গুড নাইট।
কথা বলতে বলতে কখন যে রাত এতো গভীর হয়ে
গেছে দুজনের একজন ও টের পায় নি। রিফাত এতো
রাতে ছাদে যাওয়ার চিন্তা করলো।ঘরির কাটায় রাত তখন ২ টা
বাজে। রিফাত ধির পায়ে ছাদে গেলো। জোৎস্না ভরা
রাতটি তখন প্রায় নিভু নিভু ভাব নিয়েছে। আর চাদ টার
আলো ও কমতে শুরু করেছে। হালকা আলোয়
নিজের প্রতিচ্ছবি ও খুব হালকা দেখা যায়। রিফাত রুপার কথা
ভাবতে লাগলো।
.
রিফাত আর রুপা খুব ভালো বন্ধু। শুধু বন্ধু নয়। বন্ধুর
চাইতেও অনেক বেশি। যা চোখে দেখা যায় না। শুধুই
অনুভব করা যায়। রিফাত আর রুপাও ঠিক ঐ অবস্থানে আছে।
মানে, একে অপরের প্রতি দুর্বল। একে অপরকে
ভালোবাসে। কিন্তু রুপা কিছুতেই তার ভালোবাসার কথা
প্রকাশ করতে চায় না। রিফাত জানেও না যে রুপা কাকে
ভালোবাসে !
.
একদিন রুপা আর রিফাত কলেজে বসে কথা বলতে
বলতে রিফাত বলল
- আচ্ছা রুপা একটা সত্য কথা বলবি?
- হ্যা বল।
- আচ্ছা তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?
- হ্যা , ভালোবাসি। ক্যান বলতো ?
- আমি ভালোবাসি তোকে, আর তুই অন্য
কাউকে....................
- আরে তুই আর আমি তো বন্ধু। নাকি?
- হ্যা। আমি যে তোকেই ভালোবাসি। শুধু তোকেই।
- দেখ , তুই আর আমি বন্ধু । আর কিছুই না।
- আচ্ছা তুই কাকে ভালোবাসিস?
- বলা যাবে না।
- ক্যান? আমি তোর বন্ধু না?
- বন্ধু তো অবশই।
- তাহলে বল।
- বাসায় যা। তোকে ফোনে বলব।
- আচ্ছা। থাক আমি গেলাম। তোর ফোনের জন্য
ওয়েট করবো।
.
রাতের বেলা । রুপা ছাদে হাটছে আর ভাবছে " কিভাবে
রিফাতকে বলা যায় ? " হঠাৎ রুপার স্মরন হলো, তার
রিফাতকে ফোন দেওয়ার কথা ছিলো। রিফাতের নাম্বার
সেভ করে নি। এতো নাম্বারটা ইউজ করে যে সেটা
মুখস্ত হয়ে গেছে। রিফাতকে ফোন দিলো
- হ্যালো রিফাত
- হ্যা বল
- কেমন আছিস?
- ভালোই। তুই?
- আমিও। তোকে একটা কথা বলার ছিলো ।
- হুমম বল।
- আমি তোকে ( বলেই থেমে গেলো। রুপা
ভাবলো আর কয়দিন জালাই। তারপর ওকে বলব)
- কি ? আমাকে ভালোবাসিস?
- তোর মতো ছাগলকে? আমি তোকে বন্ধু ভাবি।
- তো? তুই কাকে ভালোবাসিস? নামটা বল। প্লিজ
- রওনোক। খুব ভালোবাসে আমায়। আমিও খুব
ভালোবাসি ওকে। হি হি হি
- ও ,ভালো থাকিস । আমি সরি রে।
বলেই ফোন বন্ধ করে দেয় রিফাত। রিফাতের Heart
এর সমস্যা। ডাক্তার বলেছে রিফাত যেন টেনশন না
করে। না হলে যে কোনো সময় Heart Attack
করতে পারে। তাই রিফাতের বাবা মা রিফাতকে খুব কেয়ার
করে।
.
সেদিন রাতে রুপা অনেকবার রিফাতের ফোনে ফোন
দেয়। কিন্তু প্রত্যেকবার নাম্বার বন্ধ দেখায়। রুপা একটু
ভয় পেলো। আবার ভাবলো, হয়তো ফোনের
ব্যাটারি ড্যামেজ হয়ে গেছে। একটু পর রুপা ঘুম এলো।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার ফোনে একটি
ম্যাসেজ। ম্যাসেজটি রিফাতের। ম্যাসেজে লেখা
ছিলো " হি হি হি " । রুপা কিছু বুঝতে না পেরে রিফাতের
নাম্বারে ফোন দেয়।
- হ্যালো রিফাত
- কে? রিফাত কাল রাতে Heart Attack এ মৃত্যু বরণ করে।
( কাঁদোকাঁদো কন্ঠে এক মহিলা বলল)
- কিই? রিরিফাত মারাআ গেএছে? ( মুখ থেকে কথা বের
হচ্ছিলো না)
- হ্যা। তুমি কে?
- ( রুপা কোনো কথা বলছে না। চোখের পানি
অঝোরে ঝরছে। মনে মনে নিজেকে অপরাধী
করলো। তার জন্যই তো রিফাত আজ চিরনিদ্রায় শায়িত
হয়েছে। )
.
রিফাত যখন ফোন বন্ধ করলো তার কিছুক্ষণ পর তার
বুকের ব্যথা বাড়তে শুরু করলো। চোখ ফেটে পানি
বের হতে চাইছিলো। কিন্তু আর সুযোগ নেই। খুব
তাড়াতাড়ি ফোন অন করলো।এম সি এ তে দেখে, রুপার
অনেক কল এসেছিলো। খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো রুপাকে
ফোন করতে। কিন্তু নিজের অবস্তা খুবি খারাপ। তাই
ছোট্ট একটা হাসির ম্যাসেজ দিলো। কিছুক্ষণ পর
রিফাতের হাত থেকে ফোনটা পড়ে যায়। রিফাত বিছানায় গা
এলিয়ে দেয়।চোখ যে আর খুলছে না। শ্বাস যে আর
বের হচ্ছে না। আস্তে আস্তে দেহ থেকে প্রাণটা
বেড়িয়ে যায়। কেউ টের পায়নি। সকালে রিফাতের মা
এসে তার লাশটা দেখতে পায়।
.
সেই থেকে রুপা হাসি জিনিসটার সাথে আর পরিচয় হয়নি।
জীবনে আর মিথ্যাও বলেনি। যে মিথ্যা প্রাণকে হারায়
সেই মিথ্যাকে আর প্রশ্রয় দেয়নি।

"বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা""


>> ঐ অর্নব এইদিকে আয়...
> কিছু বলবি?
>> ঐ গাধা বলার জন্য ই তো ডাকলাম
> হুম কি বলবি বল
>> আচ্ছা তুই ক্লাশে আমার দিকে ওভাবে হা করে তাকিয়ে থাকিস ক্যান? জানিস তর জন্য আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে
> তর দিকে তাকাই? কবে? কখন? আমিতো সব সময় চুপ করে বসেই থাকি তাহলে আবার তর দিকে তাকালাম কখন?
>> হইছে হইছে আর ন্যাকামো করতে হবে না, শোন কাল থেকে তো কলেজ বন্ধ ভাবছি মামার বাড়ি বেড়াতে যাবো নিশু ও যাবে ভাবছি তোকে ও নিয়ে যাবো বল যাবি?
অর্নব আগে থেকেই অবনীকে ভালোবাসে..
তাই কিছুদিনের জন্য দুরে থাকবে এটা সে চায়না..
এসব ভেবে বললো তুই নিতে পারলে আমি যেতে পারবো না ক্যান?
আমি ও যাবো তোদের সাথে...
এসব বলেই অর্নব আর অবনী ক্লাশে চলে গেলো অর্নব মনে মনে ভাবছে গাধী টা ও মনে হয় আমাকে ভালোবাসে হইতো কিছু বুঝতে দেয়না...
এসব ভাবতে ভাবতে ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলো
সবাই যার যার মত বাসায় চলে আসলো..
ঐ অর্নব গাধা টা বাসায় এসে তো মহা খুসি কারন অবনী কে ও ভালোবাসে আর ওর সাথেই কাল বেড়াতে যাবে..
এসব ভাবতে ভাবতে ছাগল টা গোসল করলো তারপর খেয়ে দেয়ে দিনের বেলা ই ঘুমিয়ে পরলো...
রাত কাটার পর সেই সুন্দরতম সকাল টা চলে আসলো ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে ১০:২৫ বাজে সেই মুহুর্তে অবনীর কল
>> কিরে রাতে কি ঘুমাস না তুই?
> হুম ঘুমাই তো
>> হুম বুঝছি...
আধঘন্টার মধ্যে চলে আয় নিশু তো চলে আসছে
> এই দেখ আমি আইসা পরছি।
এসব বলেই হুট করে রেডি হয়ে বাসা থেকে বিদায় নিলো অর্নব
গিয়ে দেখে ওরা দুজন এই মাত্র বের হলো
>> এত তারাতারি এলি যে?
> প্রিয় মানুষের কাছে তো তারাতারি ই আসতে হয়
>> মানে?
> বুঝবি না এবার চল তো...
অতঃপর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এর দিকে যেতে লাগলো
অনেক্ষন বাসে থাকার পর অবশেষে পৌছে গেলো চট্টগ্রামে...
গাড়ি থেকে নামার পর ই ফোন আসলো নিশুর বাবা অসুস্থ হয়ে গেছে মেডিকেলে নিবে..
তখন নিশু বাড়ির দিকে রউনা দিলো..
এখন ওরা দুজন অর্নব আর অবনী
অর্নব গাধা টা বেশ খুশি নিশু চলে যাওয়া তে কারন এখন রাতের পর রাত দিনের পর দিন অবনীর সাথে আলাপ করতে পারবে...
অবশেষে দুজনে মামার বাড়ি গিয়ে উঠলো
মামা মামি তো বেশ খুশি অবনী কে দেখে উনারা খুব আদর করে অবনী কে...
যাই হোক দুজনে ফ্রেস হয়ে সন্ধাবেলা চারজনে গল্পের আসরে বসলো
গল্প করতে করতে একসময় অবনীর মামি অর্নব কে জিজ্ঞেস করলো
"" আচ্ছা অর্নব তোমাদের দুজনের নাম তো বেশ মিল আছে তুমি কি ওকে ভালোবাসো?
> না মানে....
ইয়ে....
"" হুম বুঝে গেছি আর বলতে হবেনা।
তারপর তারা চলে অন্য কথায়..
এভাবে গল্প করতে করতে রাত অনেক হয়ে গেলো তারপর খেয়ে দেয়ে যে যার মত ঘুমাতে চলে গেলো
অর্নব গাধাটার তো আর ঘুম আসেনা একাকীত্ব হয়ে ছটফট করতে থাকে...
ওদিকে ঐ অবনীর ও এক অবস্থা
ওরা দুজন দুজন কে ভালোবাসে কিন্তু অবনী কখনো বুঝতে দেইনি আর অর্নব গাধা লজ্জায় তা বলতে পারেনি
একসময় অর্নব অবনী কে ফোন দেয়
>> কিরে এত রাতেও ঘুমাস নি?
> তোকে ছাড়া আমার যে ঘুম আসে না
>> মানে কি?
> মানে কি শুনবি?
>> হুম বল
> শুনতে হলে ছাদে আসতে হবে
>> হুম এত রাতেই
> হ্যা এত রাতেই
>> দেখি মামা মামি কে ফাকি দিয়ে আসতে পারি কিনা যদি যেতে পারি তাহলে তোকে ফোন দিবো তখন তুই চলে আসবি কেমন?
> আচ্ছা
পাঁচ মিনিট পর অবনীর ফোন
>> চুপ করে চলে আয় কেউ জানি টের না পায়
> আচ্ছা
একসময় ছাদে হাজির হলো এবং পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো কানের কাছে গিয়ে ফিস ফিস করে বলে দিলো
I Love You Gadha
এই সেই কথা যা বলার জন্য কত পাগল হয়ে ছিলাম অবনী কোনোমতে ওর কাছ থেকে ছোটে ঠাষ করে গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো
>> এই ফালতু কথার জন্য ছাদে ডেকে আনলি যত্যসব ফালতু
আরো কিছুক্ষন বক বক করলো অর্নব তা আশা করেনি
(হ্যা অবনী ও ওকে ভালোবাসে ওকে একটু পরিক্ষা করার জন্য এমন টা করছে...
এসব বলার জন্যই ওকে চট্টগ্রাম এনেছে)
অর্নব কিছু না বলে অভিমান করে রুমে চলে গেলো..
মিনিট পাঁচেক পর..
অবনী অর্নব এর রুমের কাছে গিয়ে দরজায় নক করলো তখন বিদ্যুৎ ছিলো না তাই লাইট সব বন্ধ তাই কিছু দেখা যাচ্ছিলো না
দরজা খুলে
> কে?
>> তর জান..গাধা কোথাকার...
ঠিক অর্নব এর মতই জড়িয়ে ধরে বলে দিলো
I Love You Too Gadha...
যেই গাধাটা যাকে নিয়ে এত সপ্ন দেখেছিলো সেই আজ মুখ ফুটে বলে দিলো তাকে সে ভালোবাসে..
সেদিন তাদের আর ঘুম হলোনা
সারারাত খোলা আকাশের নিচে বসে বসে গল্প করলো...
এই নিয়ে ওদের অর্নব অবনীর গল্প।

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০১৫

"তেলাপোকা ও ভালোবাসা"


¤
ইন্টারে একই কোচিং এ পড়তো ছেলে ও মেয়েটা।
.
ছেলেটি ছিল প্রচন্ড দুষ্টু আর মেয়েটি ছিল শান্ত স্বভাবের কিন্তু অহংকারী।
.
ছেলেটি প্রথম দেখায় মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলে।
লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়েটিকে দেখতে প্রতিদিন ছেলেটা।
মেয়েটি বিষয়টা খেয়াল করত কিন্তু কিছু বলতো না।
.
একদিন ছেলেটা মেয়েটাকে বলে-"আমি না তোমার প্রেমে পড়ে গেছি।তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছি সেদিন থেকেই তোমাকে ভালোবাসি।"
মেয়েটি-"তো আমি কি করবো??
যাও ভাগো এখান থেকে।যত্তসব ফালতু কথা বলতে আসে।বিয়াদব কোথাকার।"
এছাড়া আরো খারাপ কথা বলে ছেলেটিকে অপমান করে মেয়েটি।
ছেলেটি তার অপমান সহ্য করে এবং শেষে বলল-"অহংকার ভালো না।অপেক্ষা করো।আমাকেই তুমি ভালোবাসবে মেয়ে।"
এটা বলে ছেলেটি চলে গেল।
মেয়েটি তার বান্ধবীদের সামনে একটু ভাব নিয়ে বলল-"যত্তসব ফালতু ছেলে!আর ভাল লাগে না এদের জ্বালাই।ধ্যাত ছাই!"
.
.
এর মাঝে অনেক দিন কেটে গেল।
ছেলেটি হঠাত্‍ একদিন মেয়েটার সামনে এসে বলল-"সেদিন তো অপমান করলে।সহ্য করেছিলাম এবং বন্ধুদের কাছে অনেক কথা শুনেছি।আজ তুমি সবার সামনে আমাকে বলবে i love you too."
মেয়েটি একটু অতিরিক্ত পার্ট নিয়ে বলল-"তোমার লজ্জা করে না?
বিয়াদব ছেলে আবার এসেছো জ্বালাতে?দাঁড়াও তোমার খবর করতেছি।"
ছেলেটি তখন মেয়েটিকে বলল-"যথেষ্ট বলেছো।আর না।আজ আমি তোমার খবর করবো।যদি ভালোবাসি না বলো তো দেখবে আমি কি করি তোমার।"
মেয়েটি-"কি করবি তুই?বজ্জাত ছেলে কোথাকার!"
এমন সময় ছেলেটি তার ব্যাগ থেকে একটা বোতল বের করে বলল-"এর ভেতর তোলাপোকা দেখতে পাচ্ছ তো?সবগুলো তোমার গায়ে দিয়ে দিবো।যদি ভালোবাসো তাহলে দিবো না।"
মেয়েটি তেলাপোকা দেখে প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেল।
ছেলেটি বোতলের মুখ আস্তে আস্তে খুলতে লাগল।
মেয়েটি তা দেখে কান্না শুরু করে দিল এবং ছেলেটিকে বলল-"প্লীজ তুমি এটা করো না।আমার ভুল হয়ে গেছে তোমাকে অপমান করে।
আমাকে মাফ করে দাও।"
ছেলেটি বোতলের মুখ খুলে বলল-"তুমি এখন চিত্‍কার করে বলবে ভালোবাসি।যদি না বলো তো তেলাপোকা তোমার গায়ে ছেড়ে দিবো।"
এটা বলে ছেলেটি একটা তেলাপোকা মেয়েটির দিকে ছেড়ে দিল।
মেয়েটি তখন দৌড়ে এসে ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে বলল-"আআআমি তোমাকে ভালোবাসি।
সত্যি বলছি তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি।আমিও প্রথম থেকেই তোমাকে পছন্দ করতাম।তোমাকে তাড়িয়ে দিয়েছি যদি তুমি ইয়ার্কি করো আমার সাথে ভালোবাসা নিয়ে।তুমি তো খুব দুষ্টু।তাই খুব ভয়ে ছিলাম।"
ছেলেটি তখন মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে বলল-"তেলাপোকা সব ফেলে দিচ্ছি।আর আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি।"
.
.
আড়াল থেকে বন্ধুরা সব দেখতে থাকলো আর মনে মনে বলতে থাকলো-
হাই রে তেলাপোকা!
মেয়েটিকে বানালি বোকা!
বন্ধু এখন হিরো,পূর্বে ছিল খোকা!
হাই রে তেলাপোকা!!
অকা অকা অকা অকা।।
ক্লাস টু-তে এক পিচ্চি মেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলছে, ‘টিচার টিচার, আমার আম্মু কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে?’
টিচার বললেন, ‘তোমার আম্মুর বয়স কত সোনা?’
পিচ্চি বললো, ‘চল্লিশ।’
টিচার বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার আম্মু প্রেগন্যান্ট হতে পারবেন।’
পিচ্চি এবার বললো, ‘আমার আপু কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে?’
টিচার বললেন, ‘তোমার আপুর বয়স কত সোনা?’ পিচ্চি বললো, ‘আঠারো।’
টিচার বললেন, ‘হ্যাঁ, তোমার আপু প্রেগন্যান্ট হতে পারবে।’
পিচ্চি এবার বললো, ‘আমি কি প্রেগন্যান্ট হতে পারবো?’
টিচার হেসে বললেন, ‘তোমার বয়স কত সোনা?’
পিচ্চি বললো, ‘নয়।’
টিচার বললেন, ‘না সোনা, তুমি প্রেগন্যান্ট হতে পারবে না।’ এ কথা শোনার পর পেছন থেকে ছোট্ট বাবু পিচ্চিকে খোঁচা দিয়ে বললো, ‘শুনলে তো? আমি তোতখনই বলেছি,
আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই…