শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঘর জামাই

আমি-এই বিড়ি দে।
কথাটা শুনে সুমন আমার দিকে চেয়ে আছে।
আমি- কি হলো বে, দে বিড়ি।
সুমন- তুই তো এসব খাস না।
।।
আমি চোখ মেরে বললাম, দে না।
সুনম একটা বিড়ি দিলো,
আমি- ম্যাচ কই?
সুমন- আমার কাছে নাই।
আমি- কি থাকে? এখন ম্যাচ পাবো কোথায়?
সুমন- দেখি কারো কাছে।
।।
একজন- বাবা! ম্যাচ লাগবে? এই নাও
আমি- না থাক! আমি এসব সস্তা ম্যাচ ব্যাবহার করি না।
মানুষটি- তুমি কোন ব্রান্ডের ম্যাচ ব্যাবহার করো আমাকে বলে দিয়ো সামনে বার থেকে সেটায় দিবো।
।।
সুমন- মানুষটা কে রে? চিনিস নাকি?
আমি- হ্যাঁ , আমার আব্বুর বন্ধু।
সুমন- যাহ্‌ শালা! এখন কি হবে? তোর বাবাকে যদি বলে দেয়, উনি ভাব্বে তুই কতো খারাপ, একে তো সিগারেট খাচ্ছিস তাও বড়দের সম্মান দিস না।
আমি- আমি ও তো সেটায় চায়।
সুমন- মানে?
।।
আমি- ইনি হচ্ছে আমার হবু শ্বশুর?
সুমন- কি?
আমি- হ্যাঁ। আর বলিস না, উনি নাকি কন্টেক্টারি করে, এখন ছোট মেয়ের জন্য আমার বাবাকে বলেছে সাথে বলেছে আয়ান আমার সাথে থাকবে, মাসে বেতন ও দিবে কিন্তু ওনার মেয়েকে বিয়ে করে ঘরজামাই থাকতে হবে, কেমন লাগে বলতো?
সুমন- তো করে নে না। ওর বাপের অনেক টাকা তো।
আমি- আমার টাকার ওপর লোভ নাই, কিন্তু আমি একমাত্র ছেলে, আমি চলে গেলে বাবা মায়ের কি হবে?
।।
দুপুরে খেতে বসেছি।
আব্বু- তোমার ছেলেকে আজ থেকে বেশি টাকা দিও হাত খরচের জন্য।
আম্মু- কেন? ও যা ইনকাম করে, অতে ওর চলে যায় আমি কেন টাকা দিবো?
আব্বু- আজ–কাল আমাদের ছেলে নাকি বিদেশি ব্রান্ডের সিগারেট আর ম্যাচ খাওয়া ধরেছে, তাই টাকা বেশি লাগতে পারে।
আম্মু- কি বলো এসব, আমার ছেলে তোমার মতো খারাপ না। আমার ভালো ছেলে।
আব্বু- কিরে তুই চুপ কেন? বল, কিছু? আমি কি ভুল বললাম।
।।
আমি- আমি বিয়ে করবো না বলে এসব করেছি।
আব্বু- তো সালাম(মেয়ের বাবা) কি পাগল এটা বুঝে না? সে জানে না বুঝি তুই কি রকম ছেলে? না জেনেই সে তোকে জামাই বানাবে?
আমি- জামাই না, ঘর জামাই।
আব্বু- অতো কিছু বুঝি না, আজ বিকেলে মেয়ে দেখতে যাবো। মনে কর আজকেই বিয়ে ঠিক।
।।
আব্বুর ওপর আর বেশি কিছু বলতে পারলাম না।
মন খারাপ করে ঘর থেকে বের হলাম।
ঘর জামাই কেমন জানি লাগছে, আমি চলে গেলে বাবা-মাকে কে দেখবে? আর আমার বাড়ী, যে বাড়ী আমি ছোট থেকে নিজের মতো করে বানিয়েছি, নিজের মতো করে সব কিছু সাজিয়েছি, ওসব কি হবে?
।।
আজ নিজেকে একটা মেয়ের যায়গায় রাখলাম, ওরাও তো এভাবে নিজের ঘর বাড়ী ছেড়ে অজানা এক পরিবেশে যায়, কতটুকু এর মূল্য পাই?
।।
বিকেলে একটা অটো-রিক্সাতে করে ও বাড়ী গেলাম। বছর ৪ আগেও এসেছিলাম এই মেয়ের বড় বোনের বিয়ের দাওয়াতে। তখন ভাবিনি যে এইভাবে দ্বিতীয় বার আসতে হবে।
।।
খুব ভালো ভাবেই আমাদের আপ্যায়ন করা হলো।
তারপর মেয়েটার সাথে আমার কথা!
আমাদের একটা ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো, এটা মেয়েটার ঘর। ওহ হ্যাঁ মেয়েটার নাম ইরা, বেশ অদ্ভুত নাম।
।।
ইরা- দেখেন আগে আমি কিছু কথা বলি, আমি বাবার ব্যাবসার কিছু দায়িত্ব নিতে পারবো না, আমার উকিল হবার ইচ্ছা তাই সেটায় চেষ্টা করছি, এই রুম আমার যা কিছু আছে আমার পছন্দের, তাই কিছু বদলানো যাবে না, আর হ্যাঁ রান্না আমি একটুও পারি না আর শিখার ইচ্ছাও নাই, তাই রান্নার ভার ও আপনার। এখন আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে করেন।
।।
আমি- এক গ্লাস পানি হবে?
ইরা- আজ প্রথম তাই দিলাম, বিয়ের পর আপনি আমাকে কোন হুকুম করতে পারবেন না।
আমি- আচ্ছা আপানার বড় বোন তো বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ীতে আছে তাহলে আপনি কেন ঘর জামাই নিয়ে থাকতে চান।
ইরা- আমি তো বিয়ে করতেই চাই না। ছেলে মানুষ মানেই বিরক্তি, আমি আমার ইচ্ছা মতো কিছু করতে পারবো না।
আমি- বুঝেছি।
।।
ইরা- আর একটা কথা! আমি চলে গেলে আমার বাবা মাকে কে দেখবে?
আমি- বিষয় টা তো আমার দিকেও একি, আমি আপনাকে বিয়ে করে এখানে থাকলে আমার বাবা-মাকে কে দেখবে?
ইরা- কেন? বাবা তো আপনাকে বেতন দিবে, আপনি পাঠিয়ে দিবেন।
আমি- টাকায় কি সব?
ইরা- আপনি এখানে কি দেখে বিয়ে করতে এসেছেন?
আমি- আমি আসিনি, আমাকে পরিস্থিতি নিয়ে এসেছে। তবে আমি এই বিয়ে করতে পারবো না আমাকে মাফ করবেন।
।।
ইরা- কেন?
আমি- আমি এমন একটা বউ চাই, যে আমাকে ভালবাসবে, আমাকে একটু রেধে খাওয়াবে, আমি এটা বলছি না যে সে শুধু আমার পিছনেই সারা দিন কষ্ট করবে, কিন্তু আপনি যেটা বলছেন, ওটা কে আর যায় বলুক একটা স্বামী- স্ত্রীর ভালোবাসার সংসার বলে না। আমি আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না আমাকে মাফ করবেন।
।।
ইরা- ঐ দিকে বারান্দা, ঐ দিকে কই যাচ্ছেন?
আমি- নীচ দিয়ে তো পালানো যাবে না, তাই এই দিক দিয়ে লাফ দিবো।
ইরা- পা ভেঙ্গে যাবে।
আমি- যাবে যাক, তাও প্রাণ তো বাঁচবে।
।।
তারপর এক লাফ দিয়ে আমি পালিয়ে আসি।
বাবার ভয়ে বাড়ী যায় না। রাত প্রায় ৯ টা ভাবলাম এখন যায় হোক বাড়ী যায়।
।।
বাড়ী গিয়ে দেখি, আমাদের বাড়ী খুব সুন্দর লাইটের ব্যাবস্থা।
আমি বাড়ী যাওয়াতেই একজন বলল, বর চলে এসেছে।
আমি- আম্মু শোন একটা কথা।
আম্মু- একটু পর শুনছি তুই রেডি হয়ে চলে আয়।
।।
আমি মন খারাপ করে ঘরে গেলাম। ঘরে গিয়ে দেখি, ইরা বসে টিভি দেখছে।
ইরা- কি ব্যাপার? এতো দেরি কেন?
আমি- তুমি? মানে আপনি এখানে?
ইরা- তো শ্বশুর বাড়ী আসা মানা নাকি?
আমি- ঐ আমি না বললাম বিয়ে করবো না, কিসের শ্বশুর বাড়ী?
ইরা- বললেই হলো নাকি? করবো না। আমার গায়ে হলুদ হয়ে গেছে।
আমি- এটা আবার কখন হলো
ইরা- একটু আগেই, আপানার ভাবিরা এসে দিয়ে দিলো।
আমি- আমি ঘর জামাই হবো না।
।।
ইরা- হতে হবে না। আমি আপনাদের বাড়ীর বউ হবো। তাহলে তো খুশী?
আমি- মানে?
ইরা-ওটা আপনাকে পরীক্ষা করছিলাম, আমি বিয়ে করতে চাচ্ছিলাম না কারণ এক তো আমি আগে উকিল হবো, দ্বিতীয় আমার বাবা-মাকে দেখাশুনা, এজন্য আব্বু বলল, প্রয়োজনে ঘর জামাই রাখবে কিন্তু বিয়ে করতে হবে,
।
কিন্তু আমি চাই না যে আমার স্বামী ঘর জামাই হয়ে থাক, সে নিজের বাড়ীতে থাকবে, আমি থাকবো তার বাড়ীতে, আমি বাবার পরিচয়ে না স্বামীর পরিচয়ে থাকতে চাই। আপনি যদি ওখানে আমার সব শর্ত মেনে নিতেন তবে আমি বিয়ে করতাম না।
তবে হ্যাঁ! আমি কিন্তু পড়বো, আর আমাকে বাবা-মায়ের বাড়ী যেতে বারণ করবেন না।
এখন যান রেডি হয়ে আসেন।
।।
আমি- আচ্ছা।
ইরা-কি হয়েছে, এভাবে হাঁটছেন কেন?
আমি- না, ঐ যে লাফ দিয়েছিলাম না, পায়ে লেগেছে।
ইরা- আচ্ছা আগে বিয়ে হয়ে যাক, আমি আপনার পা মালিশ করে দিচ্ছি, এখন আপনার পায়ে হাত দিতে কেউ দেখলে খারাপ ভাব্বে।
।।
আমি- আচ্ছা ঠিক আছে।
ইরা- আপনার রুম টা কিন্তু অনেক সুন্দর, শুধু একটু আগোছালো, আচ্ছা শুনলাম, ছাদের ওপর নাকি ফুল বাগান আছে? আমারা রাতে চুপ করে ছাদে গিয়ে চাঁদ দেখবো? কি নিয়ে যাবেন তো?
আমি- হ্যাঁ হ্যাঁ যাবো।
ইরা- আপনার আব্বু আর আর আমার আব্বু কাজী ডাকতে গেছে, এখুনি চলে আসবে। আচ্ছা যান। রেডি হয়ে আসেন।
।।
অতপর একটা সুন্দর চাঁদনী রাতে আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো।
//
<<<<<<<<< সমাপ্ত >>>>>>>>>>

কলি

- তুমি কি আজকেও আমার ফোন ধরবানা?
- হয়তো, আবার হয়তো না!
- হয়তো? নাকি হয়তো না?
- জানিনা!
- তুমি এত নিষ্ঠুর! তোমার কি শিশুদের জন্য কোনো মায়া মমতা নেই?
- তুমি শিশু?
- আমি শিশু না, আমার মেয়ে তো শিশু!
- তোমার মেয়ে কই থেকে আসলো এখানে?
- অবশ্যই আসলো! তুমি জানো আমার এই একটা কল তোমার ফোনের মিসড কল তালিকায় চলে যাওয়ার কারণে আমি আমার মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারবো না! এটা খুব ভালো কিছু হবে? বলো?
- মানে কি?
- মানে দেখো, তুমি আমার এই একটা ফোন না ধরলে আমাদের কথাবার্তা এগোবে না আর তোমার-আমার বিয়ে করারও কোনো সুযোগ দেখিনা, বিয়ে না হলে আমার মেয়েও হচ্ছে না, মেয়ে না হলে তাকে স্কুলে ভর্তি করানোরও প্রশ্ন ওঠে না, আর স্কুলেই যদি না ভর্তি হয় তাহলে কি আমি তার স্কুলের বেতন দিতে পারবো? ভাবো, একটু ভাবো!
-ভাবলাম
-ভেবে কি পেলে.?
-ভেবে পেলাম যে তুমি একটা ছাগল!
-তুমি এটা বলতে পারলে কলি??
-হুম। বলেই তো ফেলেছি।।
-আচ্ছা বলেই যখন ফেলেছ, বাদ দাও। এবার বলো,, কল দেবো??
-জানিনা...
-মানে কি???
-মানে জানিনা।।
- আমি কল দিচ্ছি। তুমি রিসিভ করবে। আমি কথা বলবো।
-রিসিভ করবো কিনা সিওর না।
-আমি জানি তুমি রিসিভ করবে।। 
-তোমার মাথা
-তোমার মন্ডু টাটা। ফোন দিচ্ছি।।দুজনের পরিচয় ফেইসবুকে। নাম্বার আদান প্রদান হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু কথা হয়নি কখন ও। অরিত্র অনেক বার চেয়েছে এবং দিয়েছেও। কিন্তু কলি না করে দেয় সব সময়। কল রিসিভ করেনা। আজ অরিত্রর মন বলছে যে সে রিসিভ করবে। ফোন দেয় সে। ওয়েলকাম টিউন বাজে অপর প্রান্তে" দূর হতে আমি তারে সাধিবো.. গোপন এ বিরহ ডোরে বাধিবো... " তারপর ভাইব্রেশন।। রিসিভ করেছে কলি। অতঃপর দু প্রান্তেই ১০সেকেন্ডের নিরবতা। কলিই প্রথম কথা বলে.. 
:: কি হলো? কথা বলছোনা যে.?
:: না মানে আমি ভাবলাম তুমি হয়তো রিসিভ করোনি। আমি স্বপ্ন দেখছিলাম।।
:: হিহি। রিসিভ করেছি। কথা বলো।। অরিত্র কথা বলতেই পারেনি। কথা সব এলোমেলো হয়ে যায়। একটা মেয়ের কন্ঠ এত্ত সুন্দর কেম্নে হতে পারে?? আবার নিরবতা ভেংগে কলিই বলে,,
-:: আজব ব্যাপার। চুপ করে আছো কেনো??
:: না মানে ইয়ে,, কেমন আছো??
:: হিহি ভালো আছি।। তুমি??
:: হাসছো ক্যান?? আমি ভালো আছি। খুব
:: এমনি হাসলাম। আচ্ছা আমি ফোন রাখি।
::রাখবে?
::হুম।।
::আচ্ছা। ফোন টা কেটে দেয় কলি। সে বুঝতে পারছে। অরিত্র ছেলেটা ক্রমশ তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। কলি কে সরে যেতে হবে। কিন্তু পারছেনা কলি ছেলেটাকে দূরে সরিয়ে রাখতে। কিছু বলতেও পারছেনা।
অরিত্র অনেক বেশী ভালোবেসে ফেলেছে মেয়েটাকে। অনেক বেশী। কিন্তু মজার কথা হচ্ছে তারা দুজন দুজনকে এখন ও কেউ দেখেনি। অরিত্র দেখতেও চায় না। তবে অরিত্র নিজের একটা ছবি কলি কে ফেসবুকে দিয়ে দেয়। কলি বলে,, - ছবি দিলে কেনো? 
-আমার ইচ্ছে হলো তাই।
-হু -একটা কথা বলবো কলি??
-হুম বলো।।
-একদিন দেখা করতে পারবে প্লিজ?/
-ক্যানো??
- কিছু কথা বলার ছিলো।
-কি কথা এখাবেই বলো।
-না এখানে সম্ভব না।
-তাহলে ফোন দাও।
-উঁহু ওভাবেও হবেনা। সামনা সামনি কথা বলতে হবে।
-- ভেবে দেখি।
-আচ্ছা।
অরিত্র দিন রাত কলি কে নিয়েই ভাবে। মেয়েটার মাঝে অনেক রহস্য আছে। যার কারনে মেয়েটার প্রতি প্রতিনিয়ত সে আরোও বেশী দুর্বল হয়ে পড়ছে। কল দেয় কলি কে,,
--কলি?
-হুম।
-করবে দেখা?
-আচ্ছা।
-সত্যি বলছো??
-হুম।
-কোথায় দেখা করবে বলো।।
-সরকারী কলেজ এর পাশে যে কফি শপ টা আছে, সেখানে।
-আচ্ছা। কবে??
-রবিবার।।
-মানে কাল???
-হুম।।
-আচ্ছা অনেক অনেক ধন্যবাদ।।
-হু রাখি।।
অরিত্র ঘুমাতে পারছেনা। ঘুম আসছে না। ভালোবাসার মানুষ টাকে প্রথম বার দেখবে সে। সেই খুশিতে সারারাত আর চোখ বুজতে পারলো না সে। সকাল ১০টায় অরিত্র কল করলো কলি কে।
-তুমি কই??
-বাসায়..
-কখন যাবা?
-বিকালে যাবো। ৪টায়।
-আচ্ছা।
-টাটা।
বিকাল ৪:০০টা বাজে। অরিত্র এসে বসলো কোনার একটা টেবিল এ।। কালো রঙ এর পাঞ্জাবি পরে। অরিত্র এসে অর্ডার দিলো কফির। সে শুনেছে কলির অনেক ফেভারিট কফি ক্যাপাচিনো। সেটা অর্ডার করলো।। কফি চলেও এলো.. কফি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কলি এখন ও নাই.. কল দিলো অরিত্র। ওপার থেকে যান্ত্রিক মানবী বলে উঠলো 'আপনার ডায়ালকৃত নাম্বার টিতে এই মুহুর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।। অনুগ্রহ পূর্বক কিছুক্ষন পর আবার......" কয়েকবার চেষ্টা করলো অরিত্র।। কোনো রেসপন্স পেলোনা সে। ফেসবুকে ঢুকলো সে। কলির নীল আইডিটা কালো হয়ে গেছে। তবে কি কলি তাকে মিথ্যা..?? না না এ কিভাবে হয়? কলি এমন টা করবেনা তার সাথে। রাত ৯টা পর্যন্ত বসে থাকে অরিত্র। কলি আসেনি।। সে যখন চলে আসছিলো,, তার বাড়ির সামনে একটা মেয়েকে দেখতে পায় সে। মেয়েটা অপরিচিত। অরিত্র কাছাকাছি গেলে মেয়েটি অরিত্র কে ডাকে। 
-আপনি কি অরিত্র ভাই??
-জ্বি বলুন।
-আমাকে আপনি চিনবেন না আমি নিতু। কলির ফ্রেন্ড। অরিত্র চমকে ওঠে। বলে ,,
-কলি কই?? ওর আসার কথা ছিলো।। মেয়েটি কাঁদতে থাকে।
- কলি আর নেই। আর দুপুরে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গ্যাছে সে।।
-মানে কি বলছো এসব??? -ঠিক ই বলছি। কলির ব্রেইন। টিউমার ছিলো। সে আপনাকে বলতে চেয়েছে অনেকবার। আজ বলে দিতো। কিন্তু পাগলী টা আর সে সময় টুকু পেলো না। চলে গেলো আমাদের ছেড়ে ।। অরিত্র মাটিতে বসে পড়লো।। সে কিচ্ছু ভাবতে পারছেনা। এমন টা কেনো হলো?? নিতু অরিত্র কে একটা কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো এটা আপনার জন্য। বলেই চলে ফেলো। অরিত্র কাগজ টা হাতে নিয়ে দেখলো সেটা একটা চিঠি। কলির লিখা। ,,,,,,,, অরিত্র,, আমি প্রথম থেকেই বুঝতে পারছিলাম আমার প্রতি তোমার দুর্বলতা টা। কিন্তু কি করবো বলো আমার কপালে কাউকে ভালোবাসার ভাগ্য নাই। আমার অসুখ টার কারনে কারো সাথে কথা বলতাম না। কিন্তু তোমার সাথে বলতাম। সত্যি বলছি অরিত্র তোমার সাথে কথা বললে আমার বাচার ইচ্ছেটা প্রবল হতো। আমি জানি আজ তুমি তোমার ভালোবাসার কথা টা বলতে। তুমি অনেক বেশী ভালোবাসো আমায় আমি এটাও জানি। আমি কতোক্ষন বাচবো জানিনা। তবে এটা জানি যতোক্ষন এ তুমি এই চিঠি টা পড়বে ততক্ষন এ আমি আকাশের তারা হয়ে তোমাকে দেখবো। কেদোনা প্লিজ অরিত্র। তুমি কাদলে আমার সহ্য হবেনা যে। তোমার ভালোবাসা যাতে ঘৃণায় পরিণত না হয়, তাই এই চিঠি লাগে... পারলে আমায় মাফ করে দিও... আর হ্যা আমিও ভালোবাসি। ভালোবাসি তোমাকে।। অনেক অনেক বেশী।। ,, কলি
অরিত্র চিঠিটা পড়ে চিৎকার করলো শুধু। আর কথা বলতে পারছেনা সে। শুধু মনে মনে বলছে। তুমি ভালো থেকো কলি..!.

"এ কেমন ভালোবাসা?"

রাজু সবেমাত্র ৮ম শ্রেণীতে উঠেছে। যদিও বয়সের তুলনায় আরো কয়েক শ্রেণী উপরে পড়ার কথা। কিন্তু মাঝখানে ৩বছর পড়ালেখা বাদ দেয়ার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তাই ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাত্র সেই।
.
এবছর তাদের ক্লাসে নতুন এক ছাত্রি ভর্তি হয়েছে। যার মুখের দিকে একবার তাকালে চোখ ফেরানো যায় না। মেয়েটার নাম আখি। যে কোনো ছেলে আখিকে ১ম দেখেই প্রেমে পড়ে যাবে।
.
রাজুর বেলায়ও তার ব্যাতিক্রম হলোনা। আখিকে ১ম দেখেই রাজু তার প্রেমে পড়ে গেলো।
.
আখি ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে শান্ত প্রকৃতির ছাত্রি। দরকার ছাড়া কারো সাথেই তেমন কথা বলে না। প্রেম ভালোবাসা সম্পর্কে সে কিছুই বোঝেনা।
. .
এদিকে রাজু আখিকে কিভাবে তার প্রেমের জালে ফেলানো যায় সেই চিন্তা করছে। কোনো ভাবেই আখিকে তার প্রেমের কথা বলতে সাহস পাচ্ছেনা সে।
.
রাজু অনেকবার আখির বান্ধবীদের দিয়ে আখিকে তার ভালোবাসার কথা বলেছে। কিন্তু আখি রাজি হয়নি। আখি বলেছে যে সে কখনও প্রেম করবেনা।
.
.
এরমধ্যে আখি, তার বান্ধবীরা এবং আরো কিছু মেয়েরা গনিত স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে শুরু করে দিয়েছে।
.
রাজুও তাদের সাথে পড়তে চাইলো। কিন্তু মেয়েদের ব্যাচে মেয়েরা তাকে নিতে নারাজ। তবুও রাজু ও তার কয়েকজন বন্ধু স্যারকে বলে রাজি করিয়ে তাদের ব্যাচেই প্রাইভেট পড়তে লাগলো।
.
স্যার যখন অঙ্ক করাতো, রাজু তখন অঙ্ক না করে শুধুই আখির দিকে তাকিয়ে থাকতো। আখি প্রতিদিনই লক্ষ করতো যে রাজু তারদিকে শুধু তাকিয়ে থাকে।
.
ওদের মধ্যে তেমন বেশি কথা হতোনা। মাঝে মাঝে শুধু পড়ালেখার ব্যাপারেই দুএকটা কথা হতো।
.
এরমধ্যে আখিও ধীরে ধীরে রাজুর প্রতি কেমন যেন দূর্বল হতে লাগলো। কিন্তু আখি সেটা কউকে বুঝতে দিতো না। আখি স্বাভাবিক ভাবেই রাজুর কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতো। আখি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছে যে সে কখনও প্রেম করবে না।
.
.
একদিন প্রাইভেট শেষ করে আখি বাড়িতে যাচ্ছে। তখন রাজুও আখিকে কিছু না বলেই তার সাথে হাটা শুরু করলো। আখি মাথা নিচু করে শুধু হেটেই চলেছে। কেউ কাউকে কিছু বলছেনা।
.
কিছুদূর যাওয়ার পর একটা ছোট্ট ব্রিজে গিয়ে রাজু আখিকে থামালো। রাজু তার পকেট থেকে ১টা লাল টকটকে গোলাপ বের করে আখির দিকে হাত বাড়িয়ে তাকে প্রোপজ করলো।
.
আখি কিছুই বললোনা। এমনকি ফুলটাও নিলো না। কিছু না বলেই আখি আবার বাড়ির দিকে রওনা হলো।
.
রাজু আগের জায়গাতেই ফুল হাতে চুপ করে দাড়িয়ে রইলো। সেদিন আর কিছু বললো না। এরপর আরেকদিন রাজু আখিকে ভালোবাসার কথা বলে। সেদিনও আখি কোনো সারা না দিয়ে চলে যায়।
.
এরপর রাজু ঠিকমতো ক্লাসে আসতো না, প্রাইভেট পড়তো না। আখি তার বান্ধবীদের কাছ থেকে জানতে পারলো যে রাজু তার জন্য খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সে যদি রাজুর সাথে প্রেম না করে, তাহলে নাকি রাজু নিজের ক্ষতি করবে।
.
তখন আখি তার নিজের প্রতিজ্ঞার কাছে হেরে গেলো। আখি তার বন্ধবীদের কাছে বলল রাজুকে বলতে যে সেও তাকে ভালোবাসে।
.
তারপর আখি আর রাজুর প্রেম শুরু হলো। আখির বান্ধবীরা তাদের প্রেম করতে সহযোগিতা করতো। আখির নিজস্ব ফোন না থাকায় ওর বান্ধবীদের ফোন দিয়ে রাজুর সাথে কথা বলতো। .
ভালোই চলতে লাগলো তাদের প্রেম। রাজু মাঝে মাঝে আখি ও তার বান্ধবীদের নিয়ে ফুসকা, আইসক্রিম খেতে নিয়ে যেত।
.
.
এরমধ্যে রাজু আখিকে দূরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললো। কিন্তু আখি যেতে অস্বীকার করলো।
.
রাজুর মাথায় খারাপ চিন্তা ভাবনা ভর করলো। রাজু ভাবলো যে যদি একবার আখিকে নিয়ে রুম ডেট করা যায়, তাহলে আখি তাকে কখনই ছেড়ে যাবে না।
.
আখিকে কিছু না জানিয়ে রাজু গোপনে সবকিছুর ব্যবস্থা করতে লাগলো। রাজু আখির বান্ধবীদেরকে টাকা পয়সা খাইয়ে তাদের হাত করে ফেললো।
.
এরপর একদিন রাজু আখিকে বলল যে তার সাথে ঘুরতে যেতে। আখি যেতে না চাইলে তার বান্ধবীরা তাকে জোর করিয়ে রাজি করালো। তারা বললো আমরাও তোর সাথে যাব। তোর কোনো ভয় নেই।
.
আখি অবশেষে তার বান্ধবীদের কথায় ঘুরতে যেতে রাজি হলো। বান্ধবীদের উপর আস্থা রেখে একদিন দূরে ঘুরতে গেলো।
.
রাজু আগে থেকেই সেখানে একটা রুম ঠিক করে রেখেছে। আখি সেগুলোর কিছুই জানেনা। আখির বান্ধবীরা আখির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করলো।
.
রাজু, আখি ও তার ২জন বান্ধবী সিএনজিতে করে সেই স্থানে গিয়ে পৌছালো। নদীর পাশের একটা গ্রামে গেলো তারা। যাওয়ার সময় অনেক খাবার কিনে নিয়ে গেলো।
. .
নদীর ধার দিয়ে সেগুলো খেতে খেতে তারা হাটতে লাগলো। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা নির্জন বাড়ি দেখিয়ে রাজু বললো যে ঐটা আমার ফুফুর বাড়ি। সবাই চলো আমার ফুফুর সাথে দেখা করেই আমরা চলে যাব।
.
আখি বললে যাবেনা। তখন আখির বান্ধবীরা বলল "যাবিনা কেন? রাজু এতো করে বলছে, গেলে সমস্যা কি? চল যাই"
আখি তার বান্ধবীদের কথায় যেতে রাজি হলো।
.
তারপর সেই বাড়িতে তারা গেলো। বাড়িটার আশেপাশে কোনো বাড়ি নেই। খুবই নির্জন জায়গা। বাড়িটাতে ঢুকতে আখির ভয় করতে লাগলো। সাথে বান্ধবীরা আছে, তাই কিছুটা সাহস পেলো।
.
বাড়িতে ঢুকে দেখলো ২টা ঘর। বাইরে রাজুর সমবয়সী একটা ছেলে বসে আছে। রাজু ছেলেটার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। বলল যে এটা আমার ফুফাতো ভাই। আখি সেটাই বিশ্বাস করলো।
.
তারপর একটা ঘরে তাদের সবাইকে বসতে দেয়া হলো। রাজুর ফুফাতো ভাই রূপি ছেলেটা বলল যে
"তোমরা সবাই এই ঘরে বসো। মা ঐ পাড়ায় গেছে একটা কাজে। আমি মা কে ডেকে নিয়ে আসি। তোমরা বসে গল্প করো"
.
এটা বলেই ছেলেটা চলে গেলো। তারপর সবাই বসে কিছুক্ষন গল্প করলো। আখির এক বান্ধবী বলল যে "তোরা থাক, আমি একটু বাথরুমে যাবো"
সাথে আরেক বান্ধবী বলল যে আমিও যাব।
এটা বলে আখির ২বান্ধবীই ঘর থেকে বের হয়ে গেলো।
.
. .
এখন ঘরে শুধু আখি আর রাজু। আখির অনেক ভয় করতে লাগলো। রাজু আখির পাশে গিয়ে বসলো এবং আখিকে জড়িয়ে ধরলো। তখন আখি নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে দরজার কাছে গেলো।
.
দরজার কাছে গিয়ে দেখলো দরজা বাইরে থেকে নক করা। আখি জোরে চিৎকার করতে গিয়েও ভয়ে চিৎকার করতে পারলোনা।
.
এরপর রাজু জোর করে আখিকে খাটের উপর ফেলে দিলো। রাজু জোর করে আখির ওড়না কেড়ে নিয়ে আখির দুহাত বেধে ফেললো।
.
আখি কেঁদে কেঁদে রাজুর কাছে ক্ষমা চাইলো। আখির কান্নায় যেন রাজু আরো নরপশু হয়ে গেলো। রাজু জোর করে আখিকে ধর্ষন করলো। আখির তখন কান্না করা ছাড়া কিছুই করতে পারলো না।
.
আখি কেঁদে কেঁদে বললো:
"এটাই কি তোর ভালোবাসা? আমি অনেক বিশ্বাস করেছিলাম তোকে, আর তুই এতো বড় বিশ্বাস ঘাতকতা করলি আমর সাথে? আল্লাহ তোর বিচার করবেন একদিন"
.
এগুলো বলে আখি জ্ঞান হারিয়ে ফেললো। রাজু তার কাজ শেষ করে আখির মুখে পানি ছিটিয়ে আখির জ্ঞান ফেরালো। তারপর আখিকে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো। সারাটা পথ আখি শুধু চোখের পানি ফেলেছে। কারো সাথে কথা বলেনি।
.
কথা বলবেই বা কার সাথে, যে বান্ধবীদের সে এতোটা বিশ্বাস করতো, শেষ পর্যন্ত তারাও তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করলো?
. .
ঐ ঘটনার পর থেকে আখি অনেক দিন স্কুলে আসলোনা। আখি রাজুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলো। তার বেইমান বান্ধবীদের সাথেও সম্পর্ক ছিন্ন করলো।
.
আখি অনেকদিন মন মরা হয়ে থাকলো। কিছুদিন পর থেকে আখি সবকিছু ভুলে গিয়ে আবার নিজের মতো করে বাঁচতে শুরু করলো।
.
তারপর jsc পরিক্ষার পর আখি তার পরিবারের সাথে দূরে কোথাও চলে গেলো।
.
[[গল্পের ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।
একটা সত্য ঘটনা অবলম্বে গল্পটা লেখা। গল্পের রাজু নাম হলো ছদ্মনাম। সে নিজেই তার নিজের মুখে তার কুকর্মের কথা বর্ননা করেছে।
আখি দূরে চলে যাওয়ার পর রাজু তার নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে।তারপর এই ঘটনা বলেছে।
.
আর এভাবে হাজারো আখির জীবন কিছু রাজুর মতো পশুর দ্বারা নষ্ট হচ্ছে। তাই সকল মেয়েদের এই গল্প থেকে শিক্ষা নেয়া উচিৎ। আর আখির বান্ধবীদের মতো মানুষদের থেকে দূরে থাকা উচিৎ]]
.
___{সমাপ্ত}___

বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

পাগলী

- শিয়াম।
- কী।
- শিয়াম।
- আরে হ্যাঁ।
- শিয়াম।
- বয়ড়া নাকি? কথা বলতেছি শুনেন না?
- এই যে শিয়াম।
- ধুর।
- এই শিয়াম।
- কী?
- শিয়াম হিহি।
- এত্ত মজা লাগে ক্যান আমাকে শিয়াম ডাকতে? সিয়াম বললে মুখে ব্যাথা লাগে?
- হ্যাঁ শিয়াম।
- প্লীজ আন্টি মাফ চাই শিয়াম বইলেন না মাথা গরম হয়ে যায়।
- তাই শিয়াম?
- ঐ ছেড়ি কইতেছি না শিয়াম না ডাকতে?
- শিয়াম শিয়াম। 
- বইন রে কী জন্য আইছস কইয়া চইলা যা প্লীজ আমারে রাগাইস না রাগাইলে আমি উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলতে পারি।
- কচু। শিয়াম।
- আম্মুউঁ! এইটা আপনি কী করলেন?
- তোমার ঠোঁটটা চেক করে দেখলাম তুমার ঠোঁটে বিষাক্ত কিছু আছে কী না। এখন ডাকো শিয়াম।
- আমি এক্ষণি আম্মুকে গিয়ে বলে দিবো।
- প্লীজ দেরি করিস না তাড়াতাড়ি গিয়ে বল তোর সাথে আমার বিয়েটা যেন জলদি হয়ে যায়।
- পাগল নাকি? আপনাকে বিয়ে করতে যাবো কোন দুঃখে? 
- তোমার আম্মুকে বললেই আমাদের বিয়ে হয়ে যাবে।
- আমি বলবই না।
- তুই বলবি তোর বাপ বলবে।
- কচু। বলবই না।
- সত্যি?
- হ্যাঁ। 
- তাইলে এবার যা।
বালিকা হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। হাহা আমার সাথে মজা নিতে আসে। এক মিনিট আপনারা আবার অন্য কিছু ভাবিয়েন না। আমি বালিকাকে চুমু দেইনি বালিকার ঠোঁটে অনেক জোরে একটা চিমটি দিছি।
শিয়াম ডাকার সময় ঠোঁট দিয়ে ভেঙচি মারে তো সেজন্য। শুধু সমস্যা একটাই দাঁত দিয়ে চিমটি দিছি! আল্লাহ জানে বালিকা সত্যিই সত্যিই আন্টিকে গিয়ে বলে দেয় কী না! 
বড় আপুর ননদ। দুলাভাইয়ের অফিসে যাওয়ার সুবিধার্থে আমাদের বাসার পাশের বাসাতেই তাঁরা থাকে। বাসা চেঞ্জ করে। আর সেজন্যই আমার এই প্যারাকে সহ্য করতে হয়।
অহ নো বলতে না বলতে আবার বালিকার আগমন! এসেই জোর গলায় বললঃ-
- শিয়াম।
- কামর খাইতে আসছেন আবার?
- না আমি প্রতিশোধ নিতে আসছি।
- তাহলে ঠিকাছে আমার ঠোঁটে কামর দিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নেন।
- পাগলের শখ কত! আমি আপনাকে মারবো এখন।
- তা দা-ছুরি কিছু আনছো সাথে?
- হুম্ম আপনি চোখ বন্ধ করেন। 
- কেনো ঠোঁটে কামর দিবা নাকি?
- বদমাইশ। 
আবার রাগ করে চলে গেলো। বোকা মেয়ে উস্তাদকে কে রাস্তা চেনায়! নিশ্চিত এখন গিয়ে বাচ্চাদের মতো ওয়াঁ ওয়াঁ করে কাঁদছে নিজের রুমে বসে। 
আজকে একটু বেশিই রাগিয়ে দিলাম কারণ আর তাঁকে এভাবে রাগানোর সুযোগ পাবো না। চাকরীটা অবশেষে হয়েই গেলো! মা বাবার বোঝা কমলো। 
ঢাকা ছেড়ে একেবারে ফেনি! কপাল সবই আমার কপাল। কালকেই আবার ট্রেন ধরতে হবে। আবার বালিকার আগমন! সময় অসময় বুঝে না।
এবার চোখমুখ দেখি শান্ত! এই মেয়ের মুখ এরকম থমকে যাওয়া সপ্তম আশ্চর্য! সবসময় মুখে একটা হাসি লেগেই থাকে। বুঝলাম বেশি করে ফেলেছি।
ফলমূল কাটার ছুড়ি একটা আমার বিছানার নিচে থাকে ওটা নিয়ে কানা তুক্কু কণার হাতে দিয়ে বললামঃ- 
- নাও প্রতিশোধ। 
- সিনেমার ডায়লগ বন্ধ করেন।
- যাহ বাবা তুমি প্রতিশোধ নিবা না?
- আপনার মা দেখলাম আপনার সব কাপড়চোপড় গোছাচ্ছে। কোথাও যাবেন নাকি?
- ওহ নো! তুমি আমার চাকরীর মিষ্টি পাওনি? তাহলে তোমার সাথে বেঈমানি করা হইছে।
- আমি তো ভেবেছিলাম এমনিই ফান করে হয়তো ভাবী বলেছে আপনার চাকরী হয়ে গেছে।
- গরীবের সুখ কারো সহ্য হয় না। আমার চাকরী হয়েছে বলে আপনি যে খুশি না সেটা আমি বুঝেছি।
- শিয়াম।
- বলেন ম্যাম।
- শিয়াম বললাম রাগ করবেন না?
- না।
- কেনো? 
- আজকের দিনটাই তো আছে যত ইচ্ছা ডাকো তারপরে তো আর সুযোগ পাবে না। শুনেছি ফেনির মেয়েরা নাকি অনেক কিউট হয়। ঈদের সময় একেবারে একটা ফেনির কিউট বালিকা বিয়ে করে নিয়ে চলে আসবো। 
- ফেনি গিয়ে চাকরী না করলে হয় না?
- আপনার বাবা আমাকে খাওয়াবে তাহলে? বড় হইছি না? তাছাড়া তোমার যন্ত্রণার থেকে কমপক্ষে বাঁচলাম।
ওমা বালিকা দেখি আবেগ ধরে রাখতে পারলো না। সোজা আমার বুকে! এই সিন বালিকার মা দেখলে সত্যি সত্যিই আমাদের বিয়ে দিবে। বাচ্চাদের মতো কাঁদছে। আমিও শান্তনা দিচ্ছি না। 
ভালই তো লাগে মেয়েরা বুকে থাকলে। তার উপর জড়িয়ে রাখলে তো আর কথাই নাই। কাঁদুক আমি চুপ করে থাকি। বালিকা কাঁদ কাঁদ স্বরে বললঃ- 
- আমি আর কখনো আপনার অবাধ্য হবো না। 
- মনে হচ্ছে আপনি আমার বিয়ে করা বৌ! প্রেমিকাও তো না। হুদাই আপনারে আমি বাধ্য হতে বলবই বা কেনো? 
অহ নো বালিকা আমার গেঞ্জি ভিজায় দিচ্ছে। কাঁদতেও পারে না। হুদাই চোখ দিয়া পানি বের হয়। 
আমার শরীরে যেন কারেন্ট লাগছে! বালিকা চুপ করে আছে বলে আমিই বললামঃ-
- এখন না ছাড়লে কিন্তু কামড় দিবো।
কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা দেখে আবার বললামঃ-
- লজ্জা করেনা একটা হ্যান্ডসাম ছেলেকে এভাবে জড়িয়ে ধরতে? খুব মজা না?
কোনোভাবেই তাঁর নাক তুক্কু চোখ থেকে পানি বন্ধ হচ্ছে না। শেষমেশ বললামঃ-
- আই লাভ ইউ।
বালিকা অনেক্ষণ নীরব থাকার পর বললঃ-
- কচু।
- হ।
- সত্যিই কচু?
- হ।
- ফেনির মেয়েরা অনেক সুন্দর না? আর আমি সুন্দর না? 
- আই লাভ ইউ।
- কচু।
- হ।
- উফফ।
- কবুল বল।
- আপনি যে কখন কী বলেন আমার মাথায় ধরে না।
- হ। তুই কিন্তু আমাকে আর ছাড়িস না। একটা সেল্ফি তুলে রাখি তোর আম্মারে দেখাব তাহলে বিয়ের টিকিট কনফার্ম।
- কথার কোনো তারছির নাই। একবার আপনি একবার তুমি আরেকবার তুই। আপনারে বিয়া করার ঠেকা পরছে তো আমার।
- বাঁচাইলেন বইন। একটু আগে যে বলছিলেন আপনি আমার কথার অবাধ্য হবেন না কখনো। আমি ভাবছিলাম সেটা সত্য। তওবা তওবা তওবা আমি আর ভুলেও আপনাকে বিয়ের কথা বলবো না।
কাহিনী পুরো উল্টে গেলো! ভাবছিলাম কানা তুক্কু কণা আমাকে ভালবাসে এখন সেই ভাবা ফিফটি ফিফটি হয়ে গেলো! বালিকাও চলে গেলো!
বাহ আবার স্বাভাবিক ভাবে এসে কথা বলছে। এই জন্যই কবী বলেছেন মেয়েদেরকে কখনো ওয়েট করাইতে নাই। তাঁদের মন যে কখন পাল্টে যায় সেটা তাঁরা নিজেরাই জানে না।
এক রাশ মন খারাপ। কিভাবে যে মেয়েটার মায়ায় পরে গেলাম। এখন তো তাঁর দাম আকাশে উঠে গেছে। ধুর রবীন্দ্রসঙ্গীত ছেড়ে আবারো ঘুমানো যাক।
ধুর ঘুমাতেও পারলাম না। আবার বালিকা হাজির। 
- শিয়াম।
- ঘুমাব প্লীজ মাফ চাই। যান এখান থেকে।
- শিয়াম।
- এবার কামর দিলে হাসপাতালে যাওয়া লাগবে কিন্তু।
- শিয়াম শিয়াম হিহি। 
ধুর যত ইচ্ছা ডাকুক আমি না সারা দিলেই হয়।
- এই শিয়াম।
- একটা দিনই তো আন্টি প্লীজ শান্তিতে থাকতে দেন।
- এইযে শিয়াম। আমি কামড়ের প্রতিশোধ নিবো।
- প্লীজ নিয়া চইলা যান।
- এখন না আরো তিন বছর পরে নিবো।
- অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
- আমার কিন্তু আপনার মতই একটা বাবু চাই। একেবারে ঠিক আপনার মতো হতে হবে। ওর নাম রাখবো সায়েম আর আমি শায়েম বলে রাগাবো। আমাকে আম্মু আম্মু ডাকবে। ইশ কত ভালো লাগবে আমার তখন। কী এই শাস্তি টা গ্রহণ করবেন না?
- হ্যাঁ অব্যশই। আমারও একটা মেয়ে বাবু চাই তোমার মতো। নাম রাখবো এনি। আমি কানী বলে রাগাবো। আর আমাকে আব্বু আব্বু ডাকবে। ইশ কত ভাল লাগবে আমার তখন। কী আমাকে এমন একটা মেয়ে দিবা না?
- হুঁহ শখ কত.....!