শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

"এ কেমন ভালোবাসা?"

রাজু সবেমাত্র ৮ম শ্রেণীতে উঠেছে। যদিও বয়সের তুলনায় আরো কয়েক শ্রেণী উপরে পড়ার কথা। কিন্তু মাঝখানে ৩বছর পড়ালেখা বাদ দেয়ার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তাই ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাত্র সেই।
.
এবছর তাদের ক্লাসে নতুন এক ছাত্রি ভর্তি হয়েছে। যার মুখের দিকে একবার তাকালে চোখ ফেরানো যায় না। মেয়েটার নাম আখি। যে কোনো ছেলে আখিকে ১ম দেখেই প্রেমে পড়ে যাবে।
.
রাজুর বেলায়ও তার ব্যাতিক্রম হলোনা। আখিকে ১ম দেখেই রাজু তার প্রেমে পড়ে গেলো।
.
আখি ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে শান্ত প্রকৃতির ছাত্রি। দরকার ছাড়া কারো সাথেই তেমন কথা বলে না। প্রেম ভালোবাসা সম্পর্কে সে কিছুই বোঝেনা।
. .
এদিকে রাজু আখিকে কিভাবে তার প্রেমের জালে ফেলানো যায় সেই চিন্তা করছে। কোনো ভাবেই আখিকে তার প্রেমের কথা বলতে সাহস পাচ্ছেনা সে।
.
রাজু অনেকবার আখির বান্ধবীদের দিয়ে আখিকে তার ভালোবাসার কথা বলেছে। কিন্তু আখি রাজি হয়নি। আখি বলেছে যে সে কখনও প্রেম করবেনা।
.
.
এরমধ্যে আখি, তার বান্ধবীরা এবং আরো কিছু মেয়েরা গনিত স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে শুরু করে দিয়েছে।
.
রাজুও তাদের সাথে পড়তে চাইলো। কিন্তু মেয়েদের ব্যাচে মেয়েরা তাকে নিতে নারাজ। তবুও রাজু ও তার কয়েকজন বন্ধু স্যারকে বলে রাজি করিয়ে তাদের ব্যাচেই প্রাইভেট পড়তে লাগলো।
.
স্যার যখন অঙ্ক করাতো, রাজু তখন অঙ্ক না করে শুধুই আখির দিকে তাকিয়ে থাকতো। আখি প্রতিদিনই লক্ষ করতো যে রাজু তারদিকে শুধু তাকিয়ে থাকে।
.
ওদের মধ্যে তেমন বেশি কথা হতোনা। মাঝে মাঝে শুধু পড়ালেখার ব্যাপারেই দুএকটা কথা হতো।
.
এরমধ্যে আখিও ধীরে ধীরে রাজুর প্রতি কেমন যেন দূর্বল হতে লাগলো। কিন্তু আখি সেটা কউকে বুঝতে দিতো না। আখি স্বাভাবিক ভাবেই রাজুর কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতো। আখি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছে যে সে কখনও প্রেম করবে না।
.
.
একদিন প্রাইভেট শেষ করে আখি বাড়িতে যাচ্ছে। তখন রাজুও আখিকে কিছু না বলেই তার সাথে হাটা শুরু করলো। আখি মাথা নিচু করে শুধু হেটেই চলেছে। কেউ কাউকে কিছু বলছেনা।
.
কিছুদূর যাওয়ার পর একটা ছোট্ট ব্রিজে গিয়ে রাজু আখিকে থামালো। রাজু তার পকেট থেকে ১টা লাল টকটকে গোলাপ বের করে আখির দিকে হাত বাড়িয়ে তাকে প্রোপজ করলো।
.
আখি কিছুই বললোনা। এমনকি ফুলটাও নিলো না। কিছু না বলেই আখি আবার বাড়ির দিকে রওনা হলো।
.
রাজু আগের জায়গাতেই ফুল হাতে চুপ করে দাড়িয়ে রইলো। সেদিন আর কিছু বললো না। এরপর আরেকদিন রাজু আখিকে ভালোবাসার কথা বলে। সেদিনও আখি কোনো সারা না দিয়ে চলে যায়।
.
এরপর রাজু ঠিকমতো ক্লাসে আসতো না, প্রাইভেট পড়তো না। আখি তার বান্ধবীদের কাছ থেকে জানতে পারলো যে রাজু তার জন্য খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সে যদি রাজুর সাথে প্রেম না করে, তাহলে নাকি রাজু নিজের ক্ষতি করবে।
.
তখন আখি তার নিজের প্রতিজ্ঞার কাছে হেরে গেলো। আখি তার বন্ধবীদের কাছে বলল রাজুকে বলতে যে সেও তাকে ভালোবাসে।
.
তারপর আখি আর রাজুর প্রেম শুরু হলো। আখির বান্ধবীরা তাদের প্রেম করতে সহযোগিতা করতো। আখির নিজস্ব ফোন না থাকায় ওর বান্ধবীদের ফোন দিয়ে রাজুর সাথে কথা বলতো। .
ভালোই চলতে লাগলো তাদের প্রেম। রাজু মাঝে মাঝে আখি ও তার বান্ধবীদের নিয়ে ফুসকা, আইসক্রিম খেতে নিয়ে যেত।
.
.
এরমধ্যে রাজু আখিকে দূরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললো। কিন্তু আখি যেতে অস্বীকার করলো।
.
রাজুর মাথায় খারাপ চিন্তা ভাবনা ভর করলো। রাজু ভাবলো যে যদি একবার আখিকে নিয়ে রুম ডেট করা যায়, তাহলে আখি তাকে কখনই ছেড়ে যাবে না।
.
আখিকে কিছু না জানিয়ে রাজু গোপনে সবকিছুর ব্যবস্থা করতে লাগলো। রাজু আখির বান্ধবীদেরকে টাকা পয়সা খাইয়ে তাদের হাত করে ফেললো।
.
এরপর একদিন রাজু আখিকে বলল যে তার সাথে ঘুরতে যেতে। আখি যেতে না চাইলে তার বান্ধবীরা তাকে জোর করিয়ে রাজি করালো। তারা বললো আমরাও তোর সাথে যাব। তোর কোনো ভয় নেই।
.
আখি অবশেষে তার বান্ধবীদের কথায় ঘুরতে যেতে রাজি হলো। বান্ধবীদের উপর আস্থা রেখে একদিন দূরে ঘুরতে গেলো।
.
রাজু আগে থেকেই সেখানে একটা রুম ঠিক করে রেখেছে। আখি সেগুলোর কিছুই জানেনা। আখির বান্ধবীরা আখির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করলো।
.
রাজু, আখি ও তার ২জন বান্ধবী সিএনজিতে করে সেই স্থানে গিয়ে পৌছালো। নদীর পাশের একটা গ্রামে গেলো তারা। যাওয়ার সময় অনেক খাবার কিনে নিয়ে গেলো।
. .
নদীর ধার দিয়ে সেগুলো খেতে খেতে তারা হাটতে লাগলো। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা নির্জন বাড়ি দেখিয়ে রাজু বললো যে ঐটা আমার ফুফুর বাড়ি। সবাই চলো আমার ফুফুর সাথে দেখা করেই আমরা চলে যাব।
.
আখি বললে যাবেনা। তখন আখির বান্ধবীরা বলল "যাবিনা কেন? রাজু এতো করে বলছে, গেলে সমস্যা কি? চল যাই"
আখি তার বান্ধবীদের কথায় যেতে রাজি হলো।
.
তারপর সেই বাড়িতে তারা গেলো। বাড়িটার আশেপাশে কোনো বাড়ি নেই। খুবই নির্জন জায়গা। বাড়িটাতে ঢুকতে আখির ভয় করতে লাগলো। সাথে বান্ধবীরা আছে, তাই কিছুটা সাহস পেলো।
.
বাড়িতে ঢুকে দেখলো ২টা ঘর। বাইরে রাজুর সমবয়সী একটা ছেলে বসে আছে। রাজু ছেলেটার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। বলল যে এটা আমার ফুফাতো ভাই। আখি সেটাই বিশ্বাস করলো।
.
তারপর একটা ঘরে তাদের সবাইকে বসতে দেয়া হলো। রাজুর ফুফাতো ভাই রূপি ছেলেটা বলল যে
"তোমরা সবাই এই ঘরে বসো। মা ঐ পাড়ায় গেছে একটা কাজে। আমি মা কে ডেকে নিয়ে আসি। তোমরা বসে গল্প করো"
.
এটা বলেই ছেলেটা চলে গেলো। তারপর সবাই বসে কিছুক্ষন গল্প করলো। আখির এক বান্ধবী বলল যে "তোরা থাক, আমি একটু বাথরুমে যাবো"
সাথে আরেক বান্ধবী বলল যে আমিও যাব।
এটা বলে আখির ২বান্ধবীই ঘর থেকে বের হয়ে গেলো।
.
. .
এখন ঘরে শুধু আখি আর রাজু। আখির অনেক ভয় করতে লাগলো। রাজু আখির পাশে গিয়ে বসলো এবং আখিকে জড়িয়ে ধরলো। তখন আখি নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে দরজার কাছে গেলো।
.
দরজার কাছে গিয়ে দেখলো দরজা বাইরে থেকে নক করা। আখি জোরে চিৎকার করতে গিয়েও ভয়ে চিৎকার করতে পারলোনা।
.
এরপর রাজু জোর করে আখিকে খাটের উপর ফেলে দিলো। রাজু জোর করে আখির ওড়না কেড়ে নিয়ে আখির দুহাত বেধে ফেললো।
.
আখি কেঁদে কেঁদে রাজুর কাছে ক্ষমা চাইলো। আখির কান্নায় যেন রাজু আরো নরপশু হয়ে গেলো। রাজু জোর করে আখিকে ধর্ষন করলো। আখির তখন কান্না করা ছাড়া কিছুই করতে পারলো না।
.
আখি কেঁদে কেঁদে বললো:
"এটাই কি তোর ভালোবাসা? আমি অনেক বিশ্বাস করেছিলাম তোকে, আর তুই এতো বড় বিশ্বাস ঘাতকতা করলি আমর সাথে? আল্লাহ তোর বিচার করবেন একদিন"
.
এগুলো বলে আখি জ্ঞান হারিয়ে ফেললো। রাজু তার কাজ শেষ করে আখির মুখে পানি ছিটিয়ে আখির জ্ঞান ফেরালো। তারপর আখিকে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো। সারাটা পথ আখি শুধু চোখের পানি ফেলেছে। কারো সাথে কথা বলেনি।
.
কথা বলবেই বা কার সাথে, যে বান্ধবীদের সে এতোটা বিশ্বাস করতো, শেষ পর্যন্ত তারাও তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করলো?
. .
ঐ ঘটনার পর থেকে আখি অনেক দিন স্কুলে আসলোনা। আখি রাজুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলো। তার বেইমান বান্ধবীদের সাথেও সম্পর্ক ছিন্ন করলো।
.
আখি অনেকদিন মন মরা হয়ে থাকলো। কিছুদিন পর থেকে আখি সবকিছু ভুলে গিয়ে আবার নিজের মতো করে বাঁচতে শুরু করলো।
.
তারপর jsc পরিক্ষার পর আখি তার পরিবারের সাথে দূরে কোথাও চলে গেলো।
.
[[গল্পের ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন।
একটা সত্য ঘটনা অবলম্বে গল্পটা লেখা। গল্পের রাজু নাম হলো ছদ্মনাম। সে নিজেই তার নিজের মুখে তার কুকর্মের কথা বর্ননা করেছে।
আখি দূরে চলে যাওয়ার পর রাজু তার নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে।তারপর এই ঘটনা বলেছে।
.
আর এভাবে হাজারো আখির জীবন কিছু রাজুর মতো পশুর দ্বারা নষ্ট হচ্ছে। তাই সকল মেয়েদের এই গল্প থেকে শিক্ষা নেয়া উচিৎ। আর আখির বান্ধবীদের মতো মানুষদের থেকে দূরে থাকা উচিৎ]]
.
___{সমাপ্ত}___

বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

পাগলী

- শিয়াম।
- কী।
- শিয়াম।
- আরে হ্যাঁ।
- শিয়াম।
- বয়ড়া নাকি? কথা বলতেছি শুনেন না?
- এই যে শিয়াম।
- ধুর।
- এই শিয়াম।
- কী?
- শিয়াম হিহি।
- এত্ত মজা লাগে ক্যান আমাকে শিয়াম ডাকতে? সিয়াম বললে মুখে ব্যাথা লাগে?
- হ্যাঁ শিয়াম।
- প্লীজ আন্টি মাফ চাই শিয়াম বইলেন না মাথা গরম হয়ে যায়।
- তাই শিয়াম?
- ঐ ছেড়ি কইতেছি না শিয়াম না ডাকতে?
- শিয়াম শিয়াম। 
- বইন রে কী জন্য আইছস কইয়া চইলা যা প্লীজ আমারে রাগাইস না রাগাইলে আমি উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলতে পারি।
- কচু। শিয়াম।
- আম্মুউঁ! এইটা আপনি কী করলেন?
- তোমার ঠোঁটটা চেক করে দেখলাম তুমার ঠোঁটে বিষাক্ত কিছু আছে কী না। এখন ডাকো শিয়াম।
- আমি এক্ষণি আম্মুকে গিয়ে বলে দিবো।
- প্লীজ দেরি করিস না তাড়াতাড়ি গিয়ে বল তোর সাথে আমার বিয়েটা যেন জলদি হয়ে যায়।
- পাগল নাকি? আপনাকে বিয়ে করতে যাবো কোন দুঃখে? 
- তোমার আম্মুকে বললেই আমাদের বিয়ে হয়ে যাবে।
- আমি বলবই না।
- তুই বলবি তোর বাপ বলবে।
- কচু। বলবই না।
- সত্যি?
- হ্যাঁ। 
- তাইলে এবার যা।
বালিকা হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। হাহা আমার সাথে মজা নিতে আসে। এক মিনিট আপনারা আবার অন্য কিছু ভাবিয়েন না। আমি বালিকাকে চুমু দেইনি বালিকার ঠোঁটে অনেক জোরে একটা চিমটি দিছি।
শিয়াম ডাকার সময় ঠোঁট দিয়ে ভেঙচি মারে তো সেজন্য। শুধু সমস্যা একটাই দাঁত দিয়ে চিমটি দিছি! আল্লাহ জানে বালিকা সত্যিই সত্যিই আন্টিকে গিয়ে বলে দেয় কী না! 
বড় আপুর ননদ। দুলাভাইয়ের অফিসে যাওয়ার সুবিধার্থে আমাদের বাসার পাশের বাসাতেই তাঁরা থাকে। বাসা চেঞ্জ করে। আর সেজন্যই আমার এই প্যারাকে সহ্য করতে হয়।
অহ নো বলতে না বলতে আবার বালিকার আগমন! এসেই জোর গলায় বললঃ-
- শিয়াম।
- কামর খাইতে আসছেন আবার?
- না আমি প্রতিশোধ নিতে আসছি।
- তাহলে ঠিকাছে আমার ঠোঁটে কামর দিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নেন।
- পাগলের শখ কত! আমি আপনাকে মারবো এখন।
- তা দা-ছুরি কিছু আনছো সাথে?
- হুম্ম আপনি চোখ বন্ধ করেন। 
- কেনো ঠোঁটে কামর দিবা নাকি?
- বদমাইশ। 
আবার রাগ করে চলে গেলো। বোকা মেয়ে উস্তাদকে কে রাস্তা চেনায়! নিশ্চিত এখন গিয়ে বাচ্চাদের মতো ওয়াঁ ওয়াঁ করে কাঁদছে নিজের রুমে বসে। 
আজকে একটু বেশিই রাগিয়ে দিলাম কারণ আর তাঁকে এভাবে রাগানোর সুযোগ পাবো না। চাকরীটা অবশেষে হয়েই গেলো! মা বাবার বোঝা কমলো। 
ঢাকা ছেড়ে একেবারে ফেনি! কপাল সবই আমার কপাল। কালকেই আবার ট্রেন ধরতে হবে। আবার বালিকার আগমন! সময় অসময় বুঝে না।
এবার চোখমুখ দেখি শান্ত! এই মেয়ের মুখ এরকম থমকে যাওয়া সপ্তম আশ্চর্য! সবসময় মুখে একটা হাসি লেগেই থাকে। বুঝলাম বেশি করে ফেলেছি।
ফলমূল কাটার ছুড়ি একটা আমার বিছানার নিচে থাকে ওটা নিয়ে কানা তুক্কু কণার হাতে দিয়ে বললামঃ- 
- নাও প্রতিশোধ। 
- সিনেমার ডায়লগ বন্ধ করেন।
- যাহ বাবা তুমি প্রতিশোধ নিবা না?
- আপনার মা দেখলাম আপনার সব কাপড়চোপড় গোছাচ্ছে। কোথাও যাবেন নাকি?
- ওহ নো! তুমি আমার চাকরীর মিষ্টি পাওনি? তাহলে তোমার সাথে বেঈমানি করা হইছে।
- আমি তো ভেবেছিলাম এমনিই ফান করে হয়তো ভাবী বলেছে আপনার চাকরী হয়ে গেছে।
- গরীবের সুখ কারো সহ্য হয় না। আমার চাকরী হয়েছে বলে আপনি যে খুশি না সেটা আমি বুঝেছি।
- শিয়াম।
- বলেন ম্যাম।
- শিয়াম বললাম রাগ করবেন না?
- না।
- কেনো? 
- আজকের দিনটাই তো আছে যত ইচ্ছা ডাকো তারপরে তো আর সুযোগ পাবে না। শুনেছি ফেনির মেয়েরা নাকি অনেক কিউট হয়। ঈদের সময় একেবারে একটা ফেনির কিউট বালিকা বিয়ে করে নিয়ে চলে আসবো। 
- ফেনি গিয়ে চাকরী না করলে হয় না?
- আপনার বাবা আমাকে খাওয়াবে তাহলে? বড় হইছি না? তাছাড়া তোমার যন্ত্রণার থেকে কমপক্ষে বাঁচলাম।
ওমা বালিকা দেখি আবেগ ধরে রাখতে পারলো না। সোজা আমার বুকে! এই সিন বালিকার মা দেখলে সত্যি সত্যিই আমাদের বিয়ে দিবে। বাচ্চাদের মতো কাঁদছে। আমিও শান্তনা দিচ্ছি না। 
ভালই তো লাগে মেয়েরা বুকে থাকলে। তার উপর জড়িয়ে রাখলে তো আর কথাই নাই। কাঁদুক আমি চুপ করে থাকি। বালিকা কাঁদ কাঁদ স্বরে বললঃ- 
- আমি আর কখনো আপনার অবাধ্য হবো না। 
- মনে হচ্ছে আপনি আমার বিয়ে করা বৌ! প্রেমিকাও তো না। হুদাই আপনারে আমি বাধ্য হতে বলবই বা কেনো? 
অহ নো বালিকা আমার গেঞ্জি ভিজায় দিচ্ছে। কাঁদতেও পারে না। হুদাই চোখ দিয়া পানি বের হয়। 
আমার শরীরে যেন কারেন্ট লাগছে! বালিকা চুপ করে আছে বলে আমিই বললামঃ-
- এখন না ছাড়লে কিন্তু কামড় দিবো।
কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা দেখে আবার বললামঃ-
- লজ্জা করেনা একটা হ্যান্ডসাম ছেলেকে এভাবে জড়িয়ে ধরতে? খুব মজা না?
কোনোভাবেই তাঁর নাক তুক্কু চোখ থেকে পানি বন্ধ হচ্ছে না। শেষমেশ বললামঃ-
- আই লাভ ইউ।
বালিকা অনেক্ষণ নীরব থাকার পর বললঃ-
- কচু।
- হ।
- সত্যিই কচু?
- হ।
- ফেনির মেয়েরা অনেক সুন্দর না? আর আমি সুন্দর না? 
- আই লাভ ইউ।
- কচু।
- হ।
- উফফ।
- কবুল বল।
- আপনি যে কখন কী বলেন আমার মাথায় ধরে না।
- হ। তুই কিন্তু আমাকে আর ছাড়িস না। একটা সেল্ফি তুলে রাখি তোর আম্মারে দেখাব তাহলে বিয়ের টিকিট কনফার্ম।
- কথার কোনো তারছির নাই। একবার আপনি একবার তুমি আরেকবার তুই। আপনারে বিয়া করার ঠেকা পরছে তো আমার।
- বাঁচাইলেন বইন। একটু আগে যে বলছিলেন আপনি আমার কথার অবাধ্য হবেন না কখনো। আমি ভাবছিলাম সেটা সত্য। তওবা তওবা তওবা আমি আর ভুলেও আপনাকে বিয়ের কথা বলবো না।
কাহিনী পুরো উল্টে গেলো! ভাবছিলাম কানা তুক্কু কণা আমাকে ভালবাসে এখন সেই ভাবা ফিফটি ফিফটি হয়ে গেলো! বালিকাও চলে গেলো!
বাহ আবার স্বাভাবিক ভাবে এসে কথা বলছে। এই জন্যই কবী বলেছেন মেয়েদেরকে কখনো ওয়েট করাইতে নাই। তাঁদের মন যে কখন পাল্টে যায় সেটা তাঁরা নিজেরাই জানে না।
এক রাশ মন খারাপ। কিভাবে যে মেয়েটার মায়ায় পরে গেলাম। এখন তো তাঁর দাম আকাশে উঠে গেছে। ধুর রবীন্দ্রসঙ্গীত ছেড়ে আবারো ঘুমানো যাক।
ধুর ঘুমাতেও পারলাম না। আবার বালিকা হাজির। 
- শিয়াম।
- ঘুমাব প্লীজ মাফ চাই। যান এখান থেকে।
- শিয়াম।
- এবার কামর দিলে হাসপাতালে যাওয়া লাগবে কিন্তু।
- শিয়াম শিয়াম হিহি। 
ধুর যত ইচ্ছা ডাকুক আমি না সারা দিলেই হয়।
- এই শিয়াম।
- একটা দিনই তো আন্টি প্লীজ শান্তিতে থাকতে দেন।
- এইযে শিয়াম। আমি কামড়ের প্রতিশোধ নিবো।
- প্লীজ নিয়া চইলা যান।
- এখন না আরো তিন বছর পরে নিবো।
- অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
- আমার কিন্তু আপনার মতই একটা বাবু চাই। একেবারে ঠিক আপনার মতো হতে হবে। ওর নাম রাখবো সায়েম আর আমি শায়েম বলে রাগাবো। আমাকে আম্মু আম্মু ডাকবে। ইশ কত ভালো লাগবে আমার তখন। কী এই শাস্তি টা গ্রহণ করবেন না?
- হ্যাঁ অব্যশই। আমারও একটা মেয়ে বাবু চাই তোমার মতো। নাম রাখবো এনি। আমি কানী বলে রাগাবো। আর আমাকে আব্বু আব্বু ডাকবে। ইশ কত ভাল লাগবে আমার তখন। কী আমাকে এমন একটা মেয়ে দিবা না?
- হুঁহ শখ কত.....! 

-----লাভম্যারেজ-----

এক গবেষণায় দেখা গেছে লাভ ম্যারেজ হওয়া বিয়ে গুলোর ৪০% পরবর্তীতে ডির্ভোস হয়ে যায়! 
আর ৬০% টিকে থাকে তবে এই ৬০% এর মধ্যে ৫০% সুখি হয় না! 
সমাজ,পরিবার, লোক লজ্জার ভয়ে হয়তো তারা ডির্ভোস দিতে পারে না।
তাদের মধ্যে সব সময়ই ছোট ছোট কারন নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকে।
আর মাত্র ১০% কাপলই আছে যারা লাভম্যারেজে সুখি হয়! 
আর আমি বলবো এই ১০% কাপলদের ভালবাসাটাই ছিল সত্যি কারের ভালবাসা। আর ওই ৯০% কাপলদের ভালবাসাটা আর যাইহোক না কেন ওটা ভালবাসা ছিল না!😒 কারন যারা সত্যিকারে ভালবাসে তারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একে অপরকে ছেড়ে যায় না।
এই ১০% কাপলদের মধ্যে আমার মা-বাবাও আছে!☺
আজ আমার বাবা মায়ের ২৫তম বিবাহ বার্ষিকী! 😊কিন্তু এখনো তাদের ভালবাসা দেখলে কেউ বলবে না যে তাদের বিয়ের বয়স ২৫ বছর হয়ে গেছে! তাদের ভালবাসা দেখে মনে হয় যেনো নতুন বিয়ে হইছে!😁 দিন যত যাচ্ছে তাদের একে অপরেরর প্রতি ভালবাসাটাও দিনদিন বাড়ছে!💏
.
আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে আমার বাবা মায়ের মধ্যে খুব কমই ঝগড়া লাগতে দেখেছি!
আমার বাবা মায়ের মধ্যে ঝগড়া লাগলে আমার একাটা দিক দিয়ে লাভ হয়!😜
আর সেটা হলো তখন কেউ কারো সাথে কোনো কথা বলে না! 😶
কেউ কাউকে কিছু বলতে চাইলে আমাকে বলে আর আমি একজনের কথা অন্যজনকে গিয়ে বলে দেই। আর তখন নিজেকে ঘরের খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মনে হয়!।😎
মনে হয় আমাকে ছাড়া পুরো ঘরটাই অচল।😜
তাই মাঝেমাঝে নিজেকে ঘরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভাবার জন্য দোয়া করি যে আব্বু আম্মুর মধ্যে যেনো একটু ঝগড়া লাগে।😁
কিন্তু আব্বু আম্মুর মধ্যে ঝগড়াও লাগে না আর নিজেকেও ঘরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভাবা হয় না।🐸
.
তাদের মধ্যে ঝগড়া লাগবে কি করে!!😏
আব্বুকে যখন দেখি খু্ব রেগে যা তখন আম্মু একেবারে ভেজাবিড়াল হয়ে যায়! একটা কথাও তার মুখ থেকে বের হয় না! যদিও আম্মু গুনগুন করে কথার উত্তর দেয় কিন্তু সেটা আব্বুর কান পর্যন্ততো পৌছানো দূরের কথা নিজেরটা নিজেই শোনো কিনা সন্দেহ।
হয়তো আম্মু তখন আব্বুর কথার উত্তর দিলেই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে যেতো।
আসলে যখন একজনের উপর রাগ উঠে আর তখন সে যদি মুখে মুখে তর্ক করে তখন রাগ আরো বেড়ে যায়! আর ঝগড়াটা তখনি লাগে।
তাই আম্মু চুপ থাকে দেখেই হয়তো ঝগড়াটা লাগে না।
.
আর আম্মু যখন আব্বুর উপর রাগ করে আব্বুকে কথা শুনায় তখন দেখি আব্বু আস্তে করে ঘর থেকে বের হয়ে যায়! 
পুরুষ মানুষের রাগ এমনিতেই একটু বেশি থাকে।হয়তো আব্বু তখন ঘরে থাকলে রাগ না সামলাতে পেরে আম্মুর কথার উত্তর দিতো আর তখনি ঝগড়টা লাগতো।
তাই আব্বু ঘর থেকে বের হয়ে যায় যেনো আম্মুর কোনো কথা শোনা না লাগে আর উত্তরও না দেয়া লাগে!
.
আমার আব্বু আম্মুর মধ্যে এই বোঝাপড়াটার কারনেই হয়তো তাদের সংসার ২৫টা বছর এই রকম ভালবাসার মধ্যে ঠিকে আছে।💒
আর আমার বিশ্বাস মিত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের ভালবাসা একই রকম থাকবে।💕
আর তাদের ভালবাসাটা এই রকম অটুট থাকার আর একটা কারন একে অপরকে শ্রদ্ধা আর বিশ্বাস।
আমাদের দেশে যে ডির্ভোস গুলা হয় তার প্রধান কারন হলো পরকিয়া আর দ্বিতীয় কারনটা হলো অবিশ্বাস বা সন্দেহ।
এই সন্দেহ জিনিসটা খুবই খারাপ। সন্দেহ হলো সুদের মত। সুদের টাকা যেমন দিনদিন বাড়তে থাকতে তেমনি সন্দেহ জিনিসটাও দিন দিন বাড়তে থাকে।
যে সম্পর্কে ভিতর একবার সন্দেহ ডুকে যায় সেটা আর বেশিদিন ঠিকে না।
আর আমার আব্বু আম্মুর মধ্যে এই সন্দেহ জিনিসটা কোনদিন ছিলনা দেখেই তারা আজ ২৫টা বছর একই ছাদের নিচে কাটিয়ে দিতে পারছে।💕
.
অনেকেই বলে বিয়ের পর নাকি ভালবাসাটা আর আগের মত থাকে না! আমি এটা মানতে কোনো ভাবেই মানতে রাজি না।😒 
কারন সত্যি করের ভালবাসা কোনদিনও কমে না বরং দিন যত যায় ভালবাসাও ততো বাড়তে থাকে।💖💕
এটার সবচেয়ে বড় উদাহরন আমার বাবা-মা।☺✌🏼

ভালবাসা একটি অভিশাপ

-এই নির্জন স্থানে ডাকলে কেন?(আমি)
-খুলে দেখো এই প্যাকেটটা।(বলে একটা প্যাকেট এগিয়ে দিল)(দীনা)
-আইফোন?
-হুম।পছন্দ হয়েছে?
-হুম।এটা তো সবারই পছন্দ হবে।
-তাহলে আমি স্বার্থক।
-কার জন্য এটা?
-তোমার জন্য।তোমাকে গিফ্ট করলাম।
-হা হা হা।ফাজলামো করছো।এটা কত নিয়েছে।
-তোমাকে গিফ্ট করবো।তাই আমি ভাইয়াকে বলে আমেরিকা থেকে আনিয়েছি।
-খুব সুন্দর হয়েছে।কিন্তু আমি তো এটা নিতে পারবো না।
-কেন?
-তুমি তো জানো আমি মধ্যবিত্ত পরিবারেরর ছেলে।আমার হাতে এটা মানাবে না।
-তো কী হইছে? আমি তোমাকে ভালবাসি তাই এটা গিফট করলাম।তুমি ওই নষ্ট মোবাইল আর কত দিন চালাবা।তোমাকে কল দিলে ঠিক মত তোমার সাথে কথাও বলতে পারি না।তাই এখন থেকে এটা ব্যবহার করবা।
-ধন্যবাদ তোমাকে আমার কষ্ট বুঝে এই আইফোন আনার জন্য।কিন্তু আমি তোমার এই আইফোন নিতে পারবো না।তাই দুঃখিত।
আর কী বললা যে,আমাকে তুমি ভালবাসো।এটা বুঝলাম না।
-হুম।সেই প্রথম যেদিন তোমাকে আমি ভার্সিটিতে দেখি সেদিন থেকে।তুমি সেদিন একটা পথশিশুকে সাহায্য করেছিলে নিজের খাওয়ার জন্য কিনা খাবার দিয়ে।কিন্তু বলতে পারি নি।কারণ তুমি ভালবাসায় জড়াতে চাও না।পরে বন্ধুত্ত্বের অফার করে তোমাকে পাশে পাশে রাখি।
-দেখো দীনা,এখন আবেগ বাদ দাও।বুঝার চেষ্টা করো।তুমি বড়লোক পরিবারের আদরের রাজকন্যা।
আর আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে।তোমার এই আইফোন আর ভালবাসা নিলে আমি এই সমাজে মাথা উচু করে চলতে পারবো না।
-কেন?এগুলার সাথে সমাজে মাথা উচু করে চলার সম্পর্ক কী?
-আছে।
-বল আমাকে?
-শোনো,তুমি তো জানো আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে।আমার আরো ২ জন ভাই বোন আছে। আমার বাবা ছোট একটা দোকান চালায়।আর আমি ২ টা টিউশনি করে নিজের খরচ চালাই।আমি অনার্স শেষ করে এখনও বেকার। আমরা দিন আনি দিন খাই।
:
এখন যদি আমি তোমার আইফোন নেই তাহলে আশেপাশের মানুষ জিজ্ঞাস করবে এটা কোথায় পাইছি? কারণ তারা বিশ্বাস করে আইফোন-৭ কিনার মত টাকা আমাদের মত পরিবারের নেই।
তখন যদি বলি এটা আমাকে এক বন্ধু গিফট করছে তখন তারা তা বিশ্বাস করবে না।সন্দেহ করবে।মনে করবে চুরি করেছি।
:
আর যদিও বিশ্বাস করেও তাহলেও নানা কথা বলবে।
বলবে যে,ভাত খেতে ভাত পায় না।ফকিরের বাচ্চা জমিদারি দেখায়।কিন্তু যখন না খেয়ে থাকি তখন তারা দুমুঠো খাবার দিয়েও সাহায্য করে না।কিন্তু একটু বিলাসিতা দেখালেই যত দোষ।
তারপর থেকে আমার পরিবারকে নানা ভাবে হেনস্তা করবে।সমাজে আমাদের চলা খুব কষ্ট হয়ে যাবে।আর তার জন্য আমার পরিবার আমাকে দায়ি করবে।
:
আর তোমাকে ভালবাসলে সমাজ বলবে দেখ,ভিখারির বাচ্চা কত চালাক।একটা বড়লোক ঘরের মেয়েকে পটিয়ে নিয়েছে টাকার লোভে।তখন আমার পরিবারকেও দোষারোপ করা হবে।
এতে করে আমার পরিবারের সম্মান নষ্ট হবে।
আর আমাদের মত পরিবারের সম্মান একবার নস্ট হলে তা আর ফিরে পাবো না।এখানে আমাদের যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়।
:
কারণ একটাই ভয়,সমাজের কেউ যেন আমাদের নামে খারাপ কথা বলতে না পারে।এই সমাজ আমাদের জন্য না।তোমাদের মত ধনিদের জন্য।
(কথাগুলো বলে আমি দীনার দিকে তাকিয়ে দেখি ও কান্না করতাছে।এই কান্না থামানোর সামর্থ্য আমার নেই।)
-এই কারণেই আমি তোমার থেকে এগুলা নিতে নারাজ।
-তোমাকে আমি ৪ বছর ধরে চিনি কিন্তু তুমি এত কষ্টে আছো তা আমি জানতামই না আজকেই জানলাম। কীভাবে বেঁচে আছো কারো সাথে কষ্ট শেয়ার না করেও?
-আমরা এমনই।বাহিরে দিয়ে ভাল থাকার অভিনয় করি সমাজে বেঁচে থাকার জন্য।কারণ আমরা মধ্যবিত্ত।
-আচ্ছা তুমি কী সত্যিই কী আইফোনটা নিবা না??
-না।
-আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি?
-করো।
-তুমি কী সত্যিই আমাকে ভালবাসো না।(কান্না করতে করতে বলল)
-না।(মাথা নিচু করে)
-আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো।
-বললাম তো একবার বাসি না।এখানে চোখের দিকে কেন তাকিয়ে বলতে হবে?
-আমি জানি তুমিও আমাকে ভালবাসো।
-তুমি এখন এগুলা মাথা থেকে ঝেড়ে বাড়ি যাও।সামনে তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।তা নষ্ট করো না।আমার পিছনে ঘুরে কোনো লাভ হবে না।আমাকে যদি সত্যি ভালবেসে থাকো তাহলে আমাকে ভুলে যাও।আর কখনও দেখা করবে না আমার সাথে।
-আচ্ছা আমি তোমার সামনে আর কখনও ভালবাসার দাবি নিয়ে আসবো না।শুধু একটা ইচ্ছা পূরণ করবে?
-কী ইচ্ছা?
-তোমাকে একবার জড়িয়ে ধরতে চাই।
-আচ্ছা।
-(আমাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে।আর কান্না করছে।আমারও এখন ইচ্ছা হইতাছে ও কে জড়িয়ে ধরার কিন্তু আমি নিরুপায়।)
-এবার ছাড়ো।
-আরেকটা ইচ্ছা পূরণ করবে?
-না।
-কেন?
-কারণ এরপর তোমার চাহিদা আরো বেড়ে যাবে।
-আর তো আমাদের আর কখনও দেখা হবে না,তাই না?
-হুম।
-সিফাত এখনও ভেবে দেখ।
-আমি আসি।বায়।
:
বলে পিছন ফিরে হাটা দিয়েছি।কারণ এখানে আর বেশিক্ষণ থাকলে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারবো না।কারণ আমি মানুষ,মহাপুরুষ না।
:
আমার এখন অনেক কাজ।ছোট ভাই বোনের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হবে।ওদের ভবিষ্যত গড়তে হবে।মানুষের মত মানুষ করে গড়তে হবে।
মানে পুরো পরিবারের দায়িত্বই নিতে হবে।কারণ বাবা আর কত কষ্ট করবে।তারও তো একটু আরামের প্রয়োজন।
:
আসলে আমাদের মত পরিবারের বড় ছেলেদের মন বলে কিছু থাকতে নেই।কারণ আমাদের দায়িত্ব অনেক।
আর কাউকে ভালবাসা তো অনেক দূর।
:

অসমাপ্ত ভালবাসা

তেহাড়ীর পাতিল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে লোকেরা। বেশ হই হুল্লোর চলছে। ঢাক-ঢোল পেটানো। একজন কম পেলেই সব উল্টিয়ে ফেলবে! যে যার যার হাতে হাতে নিয়ে খেয়ে ফেলছে তাদের রাতের খাবার। মনে হয়, ভালো স্বাদের হয়েছে! দু'জনকে দেখলাম ২ প্লেট করে তেহারী পুড়ে নিয়েছে!
আমি ক্যানন ৬০-ডি এর ফ্রেম এ একটা জুম লেন্স লাগানো অবস্থায় তাকিয়ে আছি। এপারচার টেস্ট করছি। মনে হয় লেন্স ঠিক মতো মোছা হয়নি। সামনে এক বিশাল স্টেইজ। ৩টা সোফা। ২টা ছোট। ১ টা বড়! ফ্রেম মাঝের সোফাটায় তাক করে রেখেছি।
মেয়েটার চেহারার গ্লো টা অনেক সুন্দর লাগছে। ক্যামেরায় খুব ভালো লাগছে। খাওয়ার সময় হয়েছে বলে সবাই ব্যস্ত খাবার নিয়ে। বউ যে একা বসে আছে তার কোন বিকার নেই। সামনে
একখানা টেবিল ভরপুর আঙ্গুর, সেমাই, কাবাব, মিষ্টি আর তুথপিক এ।
পাশে আবার মৌচাক মার্কেট এর পেছনে আনারকলি মার্কেট থেকে কেনা সিল্ভার রঙ করা ৩টা বাটি। একটাতে হলুদ, বাঁটা হলুদ, আরেকটাতে মেহেদি। অন্যটাতে একটা নেভা প্রদীপ। হলুদের বাটিটা অগোছালো। এব্রো-থেব্রো। অনেকে হাত দিয়েছে যে।
ওহ আচ্ছা আমার অবস্থা। ক্যামেরা তাক করে বসে আছি। ২-৩টা ক্লিক করলাম। ফ্রেম এর ডান পাশে রেখে ছবি তুলতে আমি বেশি পছন্দ করি। আজকে আসার পর ৫৬৮তম ছবিটা তুললাম। মজার বিষয় ২০৩ খানা ছবি শুধুই মাঝের সোফায় বসে থাকা মেয়েটার। আসলে আমি এখানে ছবি তুলতে এসেছি। মেয়েটা আমার বান্ধবী। পুরানো বান্ধবী। হয়তো আরেকটু
এই হাসি দেখে জীবনে অনেকবার পড়েছি! এই হাসি দেখে দেখে অনেক রাত কাটিয়েছি। ফোনের ওয়ালপেপার ছিল প্রায় ৬ বছর। অনেক ভালো ছিল দিনগুলো। আর তার কণ্ঠের যাদু ছিল অলৌকিক। সত্যি অলৌকিক। আর কিছু করা লাগতো না। শুধু তার কথা শুনেই আমার দিন-রাত পূরণ হয়ে যেত।
সম্পর্কটা ভেঙ্গেছিলামও আমি। কেন ভেঙ্গেছিলাম। কি উদ্দেশ্য ছিল? তা আমি জানি না। সম্পর্ক ভাঙলেও কখনো ভুলতে পারিনি এই নারীকে। পড়ে ও অন্য ছেলের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। মানব-মন তো। কনফিউশন এ ভরপুর। কনফিউশনে ও সবসময় ছিল। এই কনফিউশনও ওর মনে ছিল যে আমি ? নাকি ঐ আরিফ। যাই হোক সে আরেকদিন বলবো।
যখন আজ প্রথম দেখলাম ওকে। ২ বছর পর দেখা হয়েছে আমাদের। আমার
বয়স ২৬। প্রেমটা হয়েছিল ১৬ বছর বয়সে থাকতে। ১০ বছর। গত ৩ বছরে ও আমাকে দেখেনি। আমি দেখেছি বহুবার। কখনো স্বপ্নে কখনো বাস্তবজীবনে। মানে মাঝে মাঝে ভার্সিটি থেকে আসার সময় ক্লাস কম থাকলে ওর বাসার ওদিক থেকে ঘুরে আসতাম। মাঝে মাঝে দেখতাম। আমাকে দেখেনি ঐ ভাবে কখনো। দেখতে চায়নি হয়তো। ভুলে গিয়েছিল আমাকে।
আজ দেখে অবাক দৃষ্টিতে প্রায় ৪.৬৯৮৭ সেকেন্ড ধরে তাকিয়ে ছিল। জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেমন আছো? জবাব দিয়েছিল অবাকভাবেই। ভালো আছে। আমাকে ও অনেক ভালোবাসতো। আমার থেকে অনেক বেশি। অনেক অনেক বেশি। তার হাতে হাত রেখে অনেক অনেক দিন হেটেছি ফুটপাথ ধরে। সময়ের টের পাইনি। অদ্ভুত ছিল ঐ দিনগুলো। অদভুত। জিজ্ঞেস করেছিল আরো, বাসার সবাই কেমন আছে? রায়হান
কেমন আছে? বললাম ভালো আছে। রায়হান আমার ছোট ভাই।
এখনো ক্যামেরার ফ্রেমেই তাকিয়ে আছি। পেছন থেকে একটা হাত রাখলো কেউ কাঁধের ওপর।
এক বন্ধু। খাওয়ার জন্য ডাকছে। বললাম, এখন খাবো না। ইচ্ছে করছে না। আজ আমি এখানে বসে দেখবো। শুধু দেখবো। আজই শেষ। আর কোনদিন তাকে দেখতে পারবোনা তাকে। এতক্ষণ ধরে। এত সময় নিয়ে। এত ভালোভাবে। এত কাছ থেকে। আজ সত্যি সত্যি চলে যাবে ও। আর কোনদিন ওর কণ্ঠ আমার কানে বাজবে না। কোনদিন আর ওর ১ মিটারেও আসতে পারবোনা।
কথা বলতে বলতে ভোর হয়ে যাওয়া দিনগুলি কখনো ফিরে পাবোনা। চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি। আর, তার চোখগুলো দেখে নিঃশ্বাস আটকে যাবে না এক্সাইট্মেন্ট এ!
থাকুক। হয়তো আরিফ ওকে অনেক সুখে রাখবে। সবচেয়ে সুখি রাখে যেন ওকে আরিফ সেই প্রার্থণা করি।
খাওয়া-দাওয়া শেষ। হলুদ লাগানোর দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হচ্ছে। ছবি তুলতে হবে। ওর অনেক কাজিন। ২৬টা কাজিন ওর! গায়ে হলুদ এ কি রমরমা অবস্থা বুঝতেই পারছেন।
একের পর এক শাটার পরলো। ছবির পরিমান ১২৫২ তে গিয়ে পৌছুলো। ছবি তোলা শেষ! রাত ১১ টা বাজে।
এবার নাচ গান আর ফুর্তির পালা শুরু। এগুলোতে আমি সবসময় মেতে থাকি কিন্তু আজ আমার দ্বারা এগুলো হবেনা। গান বাঝছে। বুক কাপানো গান। চলছে লাইটিং এর খেলা। ও বসে আছে। কাছে গেলাম। শেষ কিছু কথা বলে নেই।
কেন যেন অতো হাসি-খুশি না। বললো, "হয়তো। কিন্তু তুমি কি আমাকে এখনো ভালোবাসো ? আগের মতো?" । মুচকি হেসে উঠলাম আনমনে। বললাম,"জানি না। ভালোবাসা দেখতে কেমন আমি জানিনা। তোমাকে ভালোবাসিকিনা তাও জানিনা। কনফিউসড। মনে হয় বাসি।" ও আমার চোখের দিকে তাকিয়েছিল। একটু হালকা হাসলো। আর বললো, "আমি তো তোমাকে চিনি। আমি জানি তুমি আমাকে এখনো আগের  মতোই মনে রেখেছ।" আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, "তবে কেন আবার শুরু করোনি কেন? আমরা তো আরেকবার চেষ্টা করতে পারতাম।" "হয়না। আর হয়না। আরিফকে আমি ভালোবেসেছিলাম। নতুন করে। তোমাকে ভুলতে আমার ২ বছর লেগেছে। তাও পারিনি। দেখেছি তোমাকে অনেকবার বাসার আশেপাশে। ইচ্ছে করতো কখনো গিয়ে জিজ্ঞেস করি তোমার অবস্থা। কিন্তু হয়নি। আরিফকে দিয়ে দিয়েছি আমি
কেন যেন অতো হাসি-খুশি না। বললো, "হয়তো। কিন্তু তুমি কি আমাকে এখনো ভালোবাসো ? আগের মতো?" । মুচকি হেসে উঠলাম আনমনে। বললাম,"জানি না। ভালোবাসা দেখতে কেমন আমি জানিনা। তোমাকে ভালোবাসিকিনা তাও জানিনা। কনফিউসড। মনে হয় বাসি।" ও আমার চোখের দিকে তাকিয়েছিল। একটু হালকা হাসলো। আর বললো, "আমি তো তোমাকে চিনি। আমি জানি তুমি আমাকে এখনো আগের  মতোই মনে রেখেছ।" আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, "তবে কেন আবার শুরু করোনি কেন? আমরা তো আরেকবার চেষ্টা করতে পারতাম।" "হয়না। আর হয়না। আরিফকে আমি ভালোবেসেছিলাম। নতুন করে। তোমাকে ভুলতে আমার ২ বছর লেগেছে। তাও পারিনি। দেখেছি তোমাকে অনেকবার বাসার আশেপাশে। ইচ্ছে করতো কখনো গিয়ে জিজ্ঞেস করি তোমার অবস্থা। কিন্তু হয়নি। আরিফকে দিয়ে দিয়েছি আমি
সব। আরিফই এখন আমার একমাত্র মানুষ। আগে বলতাম না? একজন আসল পুরুষ পেলে বিয়ে করবো? এই আরিফই আসল পুরুষ! ও-ই পারবে আমাক স্বপ্ন পূরণ করতে। সুখে রাখতে।" আমার চোখ জ্বলছিল। অদ্ভুত এক অনুভূতির মাঝে হারিয়ে যাচ্ছিলাম ওখানে দাঁড়িয়ে। বললাম, "ওহ তাহলে আমাকে ভুলে যাওনি? কিন্তু তুমি এরকম মন খারাপ করে বসে আছো কেন? আজ তো তোমার সবচেয়ে খুশির দিন! কাল তুমি নতুন জীবন শুরু করবে। অনেক সুন্দর করে। অনেক অনেক সুন্দর করে!" "জানি না। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, আমি কিছু একটা ভুল করছি। আর তোমাকে দেখার পর থেকে কেন জানি আগের কথা অনেক মনে পড়ছে। অনেক! আমাকে কেন এভাবে ভালোবাসতে?" বললাম, "ওসব ভুলে যাও। ওসব ইতিহাসেও আর নেই। সময়কালে অনেক কিছু হয়। ভুলে যাও তুমি। আমিও তোমাকে ভুলে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ভালো থেকো।" দেখলাম ওর চোখ কোন এক কারণে ছলছল করছে।
উঠে ক্যামেরার ব্যাগটা গুছিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিলাম। সবকিছু কেমন যেন আজব লাগছিল। বাস্তবতার কাছে বারবার হেড়ে যাই। আর দেখবো না তাকে! এটা ভাবলেই সব গুলিয়ে আসে! ক্যামেরা থেকে মেমোরি কার্ডটা বের করে ছুড়ে ফেলে দিলাম।
ওহ পরিচয় দেইনি আমার। আমার নাম নাফিস। আর ঐ মেয়েটার নাম, সুইটি