বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

-----লাভম্যারেজ-----

এক গবেষণায় দেখা গেছে লাভ ম্যারেজ হওয়া বিয়ে গুলোর ৪০% পরবর্তীতে ডির্ভোস হয়ে যায়! 
আর ৬০% টিকে থাকে তবে এই ৬০% এর মধ্যে ৫০% সুখি হয় না! 
সমাজ,পরিবার, লোক লজ্জার ভয়ে হয়তো তারা ডির্ভোস দিতে পারে না।
তাদের মধ্যে সব সময়ই ছোট ছোট কারন নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকে।
আর মাত্র ১০% কাপলই আছে যারা লাভম্যারেজে সুখি হয়! 
আর আমি বলবো এই ১০% কাপলদের ভালবাসাটাই ছিল সত্যি কারের ভালবাসা। আর ওই ৯০% কাপলদের ভালবাসাটা আর যাইহোক না কেন ওটা ভালবাসা ছিল না!😒 কারন যারা সত্যিকারে ভালবাসে তারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একে অপরকে ছেড়ে যায় না।
এই ১০% কাপলদের মধ্যে আমার মা-বাবাও আছে!☺
আজ আমার বাবা মায়ের ২৫তম বিবাহ বার্ষিকী! 😊কিন্তু এখনো তাদের ভালবাসা দেখলে কেউ বলবে না যে তাদের বিয়ের বয়স ২৫ বছর হয়ে গেছে! তাদের ভালবাসা দেখে মনে হয় যেনো নতুন বিয়ে হইছে!😁 দিন যত যাচ্ছে তাদের একে অপরেরর প্রতি ভালবাসাটাও দিনদিন বাড়ছে!💏
.
আমি যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকে আমার বাবা মায়ের মধ্যে খুব কমই ঝগড়া লাগতে দেখেছি!
আমার বাবা মায়ের মধ্যে ঝগড়া লাগলে আমার একাটা দিক দিয়ে লাভ হয়!😜
আর সেটা হলো তখন কেউ কারো সাথে কোনো কথা বলে না! 😶
কেউ কাউকে কিছু বলতে চাইলে আমাকে বলে আর আমি একজনের কথা অন্যজনকে গিয়ে বলে দেই। আর তখন নিজেকে ঘরের খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মনে হয়!।😎
মনে হয় আমাকে ছাড়া পুরো ঘরটাই অচল।😜
তাই মাঝেমাঝে নিজেকে ঘরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভাবার জন্য দোয়া করি যে আব্বু আম্মুর মধ্যে যেনো একটু ঝগড়া লাগে।😁
কিন্তু আব্বু আম্মুর মধ্যে ঝগড়াও লাগে না আর নিজেকেও ঘরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভাবা হয় না।🐸
.
তাদের মধ্যে ঝগড়া লাগবে কি করে!!😏
আব্বুকে যখন দেখি খু্ব রেগে যা তখন আম্মু একেবারে ভেজাবিড়াল হয়ে যায়! একটা কথাও তার মুখ থেকে বের হয় না! যদিও আম্মু গুনগুন করে কথার উত্তর দেয় কিন্তু সেটা আব্বুর কান পর্যন্ততো পৌছানো দূরের কথা নিজেরটা নিজেই শোনো কিনা সন্দেহ।
হয়তো আম্মু তখন আব্বুর কথার উত্তর দিলেই তাদের মধ্যে ঝগড়া লেগে যেতো।
আসলে যখন একজনের উপর রাগ উঠে আর তখন সে যদি মুখে মুখে তর্ক করে তখন রাগ আরো বেড়ে যায়! আর ঝগড়াটা তখনি লাগে।
তাই আম্মু চুপ থাকে দেখেই হয়তো ঝগড়াটা লাগে না।
.
আর আম্মু যখন আব্বুর উপর রাগ করে আব্বুকে কথা শুনায় তখন দেখি আব্বু আস্তে করে ঘর থেকে বের হয়ে যায়! 
পুরুষ মানুষের রাগ এমনিতেই একটু বেশি থাকে।হয়তো আব্বু তখন ঘরে থাকলে রাগ না সামলাতে পেরে আম্মুর কথার উত্তর দিতো আর তখনি ঝগড়টা লাগতো।
তাই আব্বু ঘর থেকে বের হয়ে যায় যেনো আম্মুর কোনো কথা শোনা না লাগে আর উত্তরও না দেয়া লাগে!
.
আমার আব্বু আম্মুর মধ্যে এই বোঝাপড়াটার কারনেই হয়তো তাদের সংসার ২৫টা বছর এই রকম ভালবাসার মধ্যে ঠিকে আছে।💒
আর আমার বিশ্বাস মিত্যুর আগ পর্যন্ত তাদের ভালবাসা একই রকম থাকবে।💕
আর তাদের ভালবাসাটা এই রকম অটুট থাকার আর একটা কারন একে অপরকে শ্রদ্ধা আর বিশ্বাস।
আমাদের দেশে যে ডির্ভোস গুলা হয় তার প্রধান কারন হলো পরকিয়া আর দ্বিতীয় কারনটা হলো অবিশ্বাস বা সন্দেহ।
এই সন্দেহ জিনিসটা খুবই খারাপ। সন্দেহ হলো সুদের মত। সুদের টাকা যেমন দিনদিন বাড়তে থাকতে তেমনি সন্দেহ জিনিসটাও দিন দিন বাড়তে থাকে।
যে সম্পর্কে ভিতর একবার সন্দেহ ডুকে যায় সেটা আর বেশিদিন ঠিকে না।
আর আমার আব্বু আম্মুর মধ্যে এই সন্দেহ জিনিসটা কোনদিন ছিলনা দেখেই তারা আজ ২৫টা বছর একই ছাদের নিচে কাটিয়ে দিতে পারছে।💕
.
অনেকেই বলে বিয়ের পর নাকি ভালবাসাটা আর আগের মত থাকে না! আমি এটা মানতে কোনো ভাবেই মানতে রাজি না।😒 
কারন সত্যি করের ভালবাসা কোনদিনও কমে না বরং দিন যত যায় ভালবাসাও ততো বাড়তে থাকে।💖💕
এটার সবচেয়ে বড় উদাহরন আমার বাবা-মা।☺✌🏼

ভালবাসা একটি অভিশাপ

-এই নির্জন স্থানে ডাকলে কেন?(আমি)
-খুলে দেখো এই প্যাকেটটা।(বলে একটা প্যাকেট এগিয়ে দিল)(দীনা)
-আইফোন?
-হুম।পছন্দ হয়েছে?
-হুম।এটা তো সবারই পছন্দ হবে।
-তাহলে আমি স্বার্থক।
-কার জন্য এটা?
-তোমার জন্য।তোমাকে গিফ্ট করলাম।
-হা হা হা।ফাজলামো করছো।এটা কত নিয়েছে।
-তোমাকে গিফ্ট করবো।তাই আমি ভাইয়াকে বলে আমেরিকা থেকে আনিয়েছি।
-খুব সুন্দর হয়েছে।কিন্তু আমি তো এটা নিতে পারবো না।
-কেন?
-তুমি তো জানো আমি মধ্যবিত্ত পরিবারেরর ছেলে।আমার হাতে এটা মানাবে না।
-তো কী হইছে? আমি তোমাকে ভালবাসি তাই এটা গিফট করলাম।তুমি ওই নষ্ট মোবাইল আর কত দিন চালাবা।তোমাকে কল দিলে ঠিক মত তোমার সাথে কথাও বলতে পারি না।তাই এখন থেকে এটা ব্যবহার করবা।
-ধন্যবাদ তোমাকে আমার কষ্ট বুঝে এই আইফোন আনার জন্য।কিন্তু আমি তোমার এই আইফোন নিতে পারবো না।তাই দুঃখিত।
আর কী বললা যে,আমাকে তুমি ভালবাসো।এটা বুঝলাম না।
-হুম।সেই প্রথম যেদিন তোমাকে আমি ভার্সিটিতে দেখি সেদিন থেকে।তুমি সেদিন একটা পথশিশুকে সাহায্য করেছিলে নিজের খাওয়ার জন্য কিনা খাবার দিয়ে।কিন্তু বলতে পারি নি।কারণ তুমি ভালবাসায় জড়াতে চাও না।পরে বন্ধুত্ত্বের অফার করে তোমাকে পাশে পাশে রাখি।
-দেখো দীনা,এখন আবেগ বাদ দাও।বুঝার চেষ্টা করো।তুমি বড়লোক পরিবারের আদরের রাজকন্যা।
আর আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে।তোমার এই আইফোন আর ভালবাসা নিলে আমি এই সমাজে মাথা উচু করে চলতে পারবো না।
-কেন?এগুলার সাথে সমাজে মাথা উচু করে চলার সম্পর্ক কী?
-আছে।
-বল আমাকে?
-শোনো,তুমি তো জানো আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে।আমার আরো ২ জন ভাই বোন আছে। আমার বাবা ছোট একটা দোকান চালায়।আর আমি ২ টা টিউশনি করে নিজের খরচ চালাই।আমি অনার্স শেষ করে এখনও বেকার। আমরা দিন আনি দিন খাই।
:
এখন যদি আমি তোমার আইফোন নেই তাহলে আশেপাশের মানুষ জিজ্ঞাস করবে এটা কোথায় পাইছি? কারণ তারা বিশ্বাস করে আইফোন-৭ কিনার মত টাকা আমাদের মত পরিবারের নেই।
তখন যদি বলি এটা আমাকে এক বন্ধু গিফট করছে তখন তারা তা বিশ্বাস করবে না।সন্দেহ করবে।মনে করবে চুরি করেছি।
:
আর যদিও বিশ্বাস করেও তাহলেও নানা কথা বলবে।
বলবে যে,ভাত খেতে ভাত পায় না।ফকিরের বাচ্চা জমিদারি দেখায়।কিন্তু যখন না খেয়ে থাকি তখন তারা দুমুঠো খাবার দিয়েও সাহায্য করে না।কিন্তু একটু বিলাসিতা দেখালেই যত দোষ।
তারপর থেকে আমার পরিবারকে নানা ভাবে হেনস্তা করবে।সমাজে আমাদের চলা খুব কষ্ট হয়ে যাবে।আর তার জন্য আমার পরিবার আমাকে দায়ি করবে।
:
আর তোমাকে ভালবাসলে সমাজ বলবে দেখ,ভিখারির বাচ্চা কত চালাক।একটা বড়লোক ঘরের মেয়েকে পটিয়ে নিয়েছে টাকার লোভে।তখন আমার পরিবারকেও দোষারোপ করা হবে।
এতে করে আমার পরিবারের সম্মান নষ্ট হবে।
আর আমাদের মত পরিবারের সম্মান একবার নস্ট হলে তা আর ফিরে পাবো না।এখানে আমাদের যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়।
:
কারণ একটাই ভয়,সমাজের কেউ যেন আমাদের নামে খারাপ কথা বলতে না পারে।এই সমাজ আমাদের জন্য না।তোমাদের মত ধনিদের জন্য।
(কথাগুলো বলে আমি দীনার দিকে তাকিয়ে দেখি ও কান্না করতাছে।এই কান্না থামানোর সামর্থ্য আমার নেই।)
-এই কারণেই আমি তোমার থেকে এগুলা নিতে নারাজ।
-তোমাকে আমি ৪ বছর ধরে চিনি কিন্তু তুমি এত কষ্টে আছো তা আমি জানতামই না আজকেই জানলাম। কীভাবে বেঁচে আছো কারো সাথে কষ্ট শেয়ার না করেও?
-আমরা এমনই।বাহিরে দিয়ে ভাল থাকার অভিনয় করি সমাজে বেঁচে থাকার জন্য।কারণ আমরা মধ্যবিত্ত।
-আচ্ছা তুমি কী সত্যিই কী আইফোনটা নিবা না??
-না।
-আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি?
-করো।
-তুমি কী সত্যিই আমাকে ভালবাসো না।(কান্না করতে করতে বলল)
-না।(মাথা নিচু করে)
-আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো।
-বললাম তো একবার বাসি না।এখানে চোখের দিকে কেন তাকিয়ে বলতে হবে?
-আমি জানি তুমিও আমাকে ভালবাসো।
-তুমি এখন এগুলা মাথা থেকে ঝেড়ে বাড়ি যাও।সামনে তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।তা নষ্ট করো না।আমার পিছনে ঘুরে কোনো লাভ হবে না।আমাকে যদি সত্যি ভালবেসে থাকো তাহলে আমাকে ভুলে যাও।আর কখনও দেখা করবে না আমার সাথে।
-আচ্ছা আমি তোমার সামনে আর কখনও ভালবাসার দাবি নিয়ে আসবো না।শুধু একটা ইচ্ছা পূরণ করবে?
-কী ইচ্ছা?
-তোমাকে একবার জড়িয়ে ধরতে চাই।
-আচ্ছা।
-(আমাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে।আর কান্না করছে।আমারও এখন ইচ্ছা হইতাছে ও কে জড়িয়ে ধরার কিন্তু আমি নিরুপায়।)
-এবার ছাড়ো।
-আরেকটা ইচ্ছা পূরণ করবে?
-না।
-কেন?
-কারণ এরপর তোমার চাহিদা আরো বেড়ে যাবে।
-আর তো আমাদের আর কখনও দেখা হবে না,তাই না?
-হুম।
-সিফাত এখনও ভেবে দেখ।
-আমি আসি।বায়।
:
বলে পিছন ফিরে হাটা দিয়েছি।কারণ এখানে আর বেশিক্ষণ থাকলে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারবো না।কারণ আমি মানুষ,মহাপুরুষ না।
:
আমার এখন অনেক কাজ।ছোট ভাই বোনের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হবে।ওদের ভবিষ্যত গড়তে হবে।মানুষের মত মানুষ করে গড়তে হবে।
মানে পুরো পরিবারের দায়িত্বই নিতে হবে।কারণ বাবা আর কত কষ্ট করবে।তারও তো একটু আরামের প্রয়োজন।
:
আসলে আমাদের মত পরিবারের বড় ছেলেদের মন বলে কিছু থাকতে নেই।কারণ আমাদের দায়িত্ব অনেক।
আর কাউকে ভালবাসা তো অনেক দূর।
:

অসমাপ্ত ভালবাসা

তেহাড়ীর পাতিল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে লোকেরা। বেশ হই হুল্লোর চলছে। ঢাক-ঢোল পেটানো। একজন কম পেলেই সব উল্টিয়ে ফেলবে! যে যার যার হাতে হাতে নিয়ে খেয়ে ফেলছে তাদের রাতের খাবার। মনে হয়, ভালো স্বাদের হয়েছে! দু'জনকে দেখলাম ২ প্লেট করে তেহারী পুড়ে নিয়েছে!
আমি ক্যানন ৬০-ডি এর ফ্রেম এ একটা জুম লেন্স লাগানো অবস্থায় তাকিয়ে আছি। এপারচার টেস্ট করছি। মনে হয় লেন্স ঠিক মতো মোছা হয়নি। সামনে এক বিশাল স্টেইজ। ৩টা সোফা। ২টা ছোট। ১ টা বড়! ফ্রেম মাঝের সোফাটায় তাক করে রেখেছি।
মেয়েটার চেহারার গ্লো টা অনেক সুন্দর লাগছে। ক্যামেরায় খুব ভালো লাগছে। খাওয়ার সময় হয়েছে বলে সবাই ব্যস্ত খাবার নিয়ে। বউ যে একা বসে আছে তার কোন বিকার নেই। সামনে
একখানা টেবিল ভরপুর আঙ্গুর, সেমাই, কাবাব, মিষ্টি আর তুথপিক এ।
পাশে আবার মৌচাক মার্কেট এর পেছনে আনারকলি মার্কেট থেকে কেনা সিল্ভার রঙ করা ৩টা বাটি। একটাতে হলুদ, বাঁটা হলুদ, আরেকটাতে মেহেদি। অন্যটাতে একটা নেভা প্রদীপ। হলুদের বাটিটা অগোছালো। এব্রো-থেব্রো। অনেকে হাত দিয়েছে যে।
ওহ আচ্ছা আমার অবস্থা। ক্যামেরা তাক করে বসে আছি। ২-৩টা ক্লিক করলাম। ফ্রেম এর ডান পাশে রেখে ছবি তুলতে আমি বেশি পছন্দ করি। আজকে আসার পর ৫৬৮তম ছবিটা তুললাম। মজার বিষয় ২০৩ খানা ছবি শুধুই মাঝের সোফায় বসে থাকা মেয়েটার। আসলে আমি এখানে ছবি তুলতে এসেছি। মেয়েটা আমার বান্ধবী। পুরানো বান্ধবী। হয়তো আরেকটু
এই হাসি দেখে জীবনে অনেকবার পড়েছি! এই হাসি দেখে দেখে অনেক রাত কাটিয়েছি। ফোনের ওয়ালপেপার ছিল প্রায় ৬ বছর। অনেক ভালো ছিল দিনগুলো। আর তার কণ্ঠের যাদু ছিল অলৌকিক। সত্যি অলৌকিক। আর কিছু করা লাগতো না। শুধু তার কথা শুনেই আমার দিন-রাত পূরণ হয়ে যেত।
সম্পর্কটা ভেঙ্গেছিলামও আমি। কেন ভেঙ্গেছিলাম। কি উদ্দেশ্য ছিল? তা আমি জানি না। সম্পর্ক ভাঙলেও কখনো ভুলতে পারিনি এই নারীকে। পড়ে ও অন্য ছেলের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। মানব-মন তো। কনফিউশন এ ভরপুর। কনফিউশনে ও সবসময় ছিল। এই কনফিউশনও ওর মনে ছিল যে আমি ? নাকি ঐ আরিফ। যাই হোক সে আরেকদিন বলবো।
যখন আজ প্রথম দেখলাম ওকে। ২ বছর পর দেখা হয়েছে আমাদের। আমার
বয়স ২৬। প্রেমটা হয়েছিল ১৬ বছর বয়সে থাকতে। ১০ বছর। গত ৩ বছরে ও আমাকে দেখেনি। আমি দেখেছি বহুবার। কখনো স্বপ্নে কখনো বাস্তবজীবনে। মানে মাঝে মাঝে ভার্সিটি থেকে আসার সময় ক্লাস কম থাকলে ওর বাসার ওদিক থেকে ঘুরে আসতাম। মাঝে মাঝে দেখতাম। আমাকে দেখেনি ঐ ভাবে কখনো। দেখতে চায়নি হয়তো। ভুলে গিয়েছিল আমাকে।
আজ দেখে অবাক দৃষ্টিতে প্রায় ৪.৬৯৮৭ সেকেন্ড ধরে তাকিয়ে ছিল। জিজ্ঞেস করেছিলাম, কেমন আছো? জবাব দিয়েছিল অবাকভাবেই। ভালো আছে। আমাকে ও অনেক ভালোবাসতো। আমার থেকে অনেক বেশি। অনেক অনেক বেশি। তার হাতে হাত রেখে অনেক অনেক দিন হেটেছি ফুটপাথ ধরে। সময়ের টের পাইনি। অদ্ভুত ছিল ঐ দিনগুলো। অদভুত। জিজ্ঞেস করেছিল আরো, বাসার সবাই কেমন আছে? রায়হান
কেমন আছে? বললাম ভালো আছে। রায়হান আমার ছোট ভাই।
এখনো ক্যামেরার ফ্রেমেই তাকিয়ে আছি। পেছন থেকে একটা হাত রাখলো কেউ কাঁধের ওপর।
এক বন্ধু। খাওয়ার জন্য ডাকছে। বললাম, এখন খাবো না। ইচ্ছে করছে না। আজ আমি এখানে বসে দেখবো। শুধু দেখবো। আজই শেষ। আর কোনদিন তাকে দেখতে পারবোনা তাকে। এতক্ষণ ধরে। এত সময় নিয়ে। এত ভালোভাবে। এত কাছ থেকে। আজ সত্যি সত্যি চলে যাবে ও। আর কোনদিন ওর কণ্ঠ আমার কানে বাজবে না। কোনদিন আর ওর ১ মিটারেও আসতে পারবোনা।
কথা বলতে বলতে ভোর হয়ে যাওয়া দিনগুলি কখনো ফিরে পাবোনা। চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি। আর, তার চোখগুলো দেখে নিঃশ্বাস আটকে যাবে না এক্সাইট্মেন্ট এ!
থাকুক। হয়তো আরিফ ওকে অনেক সুখে রাখবে। সবচেয়ে সুখি রাখে যেন ওকে আরিফ সেই প্রার্থণা করি।
খাওয়া-দাওয়া শেষ। হলুদ লাগানোর দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হচ্ছে। ছবি তুলতে হবে। ওর অনেক কাজিন। ২৬টা কাজিন ওর! গায়ে হলুদ এ কি রমরমা অবস্থা বুঝতেই পারছেন।
একের পর এক শাটার পরলো। ছবির পরিমান ১২৫২ তে গিয়ে পৌছুলো। ছবি তোলা শেষ! রাত ১১ টা বাজে।
এবার নাচ গান আর ফুর্তির পালা শুরু। এগুলোতে আমি সবসময় মেতে থাকি কিন্তু আজ আমার দ্বারা এগুলো হবেনা। গান বাঝছে। বুক কাপানো গান। চলছে লাইটিং এর খেলা। ও বসে আছে। কাছে গেলাম। শেষ কিছু কথা বলে নেই।
কেন যেন অতো হাসি-খুশি না। বললো, "হয়তো। কিন্তু তুমি কি আমাকে এখনো ভালোবাসো ? আগের মতো?" । মুচকি হেসে উঠলাম আনমনে। বললাম,"জানি না। ভালোবাসা দেখতে কেমন আমি জানিনা। তোমাকে ভালোবাসিকিনা তাও জানিনা। কনফিউসড। মনে হয় বাসি।" ও আমার চোখের দিকে তাকিয়েছিল। একটু হালকা হাসলো। আর বললো, "আমি তো তোমাকে চিনি। আমি জানি তুমি আমাকে এখনো আগের  মতোই মনে রেখেছ।" আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, "তবে কেন আবার শুরু করোনি কেন? আমরা তো আরেকবার চেষ্টা করতে পারতাম।" "হয়না। আর হয়না। আরিফকে আমি ভালোবেসেছিলাম। নতুন করে। তোমাকে ভুলতে আমার ২ বছর লেগেছে। তাও পারিনি। দেখেছি তোমাকে অনেকবার বাসার আশেপাশে। ইচ্ছে করতো কখনো গিয়ে জিজ্ঞেস করি তোমার অবস্থা। কিন্তু হয়নি। আরিফকে দিয়ে দিয়েছি আমি
কেন যেন অতো হাসি-খুশি না। বললো, "হয়তো। কিন্তু তুমি কি আমাকে এখনো ভালোবাসো ? আগের মতো?" । মুচকি হেসে উঠলাম আনমনে। বললাম,"জানি না। ভালোবাসা দেখতে কেমন আমি জানিনা। তোমাকে ভালোবাসিকিনা তাও জানিনা। কনফিউসড। মনে হয় বাসি।" ও আমার চোখের দিকে তাকিয়েছিল। একটু হালকা হাসলো। আর বললো, "আমি তো তোমাকে চিনি। আমি জানি তুমি আমাকে এখনো আগের  মতোই মনে রেখেছ।" আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, "তবে কেন আবার শুরু করোনি কেন? আমরা তো আরেকবার চেষ্টা করতে পারতাম।" "হয়না। আর হয়না। আরিফকে আমি ভালোবেসেছিলাম। নতুন করে। তোমাকে ভুলতে আমার ২ বছর লেগেছে। তাও পারিনি। দেখেছি তোমাকে অনেকবার বাসার আশেপাশে। ইচ্ছে করতো কখনো গিয়ে জিজ্ঞেস করি তোমার অবস্থা। কিন্তু হয়নি। আরিফকে দিয়ে দিয়েছি আমি
সব। আরিফই এখন আমার একমাত্র মানুষ। আগে বলতাম না? একজন আসল পুরুষ পেলে বিয়ে করবো? এই আরিফই আসল পুরুষ! ও-ই পারবে আমাক স্বপ্ন পূরণ করতে। সুখে রাখতে।" আমার চোখ জ্বলছিল। অদ্ভুত এক অনুভূতির মাঝে হারিয়ে যাচ্ছিলাম ওখানে দাঁড়িয়ে। বললাম, "ওহ তাহলে আমাকে ভুলে যাওনি? কিন্তু তুমি এরকম মন খারাপ করে বসে আছো কেন? আজ তো তোমার সবচেয়ে খুশির দিন! কাল তুমি নতুন জীবন শুরু করবে। অনেক সুন্দর করে। অনেক অনেক সুন্দর করে!" "জানি না। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, আমি কিছু একটা ভুল করছি। আর তোমাকে দেখার পর থেকে কেন জানি আগের কথা অনেক মনে পড়ছে। অনেক! আমাকে কেন এভাবে ভালোবাসতে?" বললাম, "ওসব ভুলে যাও। ওসব ইতিহাসেও আর নেই। সময়কালে অনেক কিছু হয়। ভুলে যাও তুমি। আমিও তোমাকে ভুলে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ভালো থেকো।" দেখলাম ওর চোখ কোন এক কারণে ছলছল করছে।
উঠে ক্যামেরার ব্যাগটা গুছিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিলাম। সবকিছু কেমন যেন আজব লাগছিল। বাস্তবতার কাছে বারবার হেড়ে যাই। আর দেখবো না তাকে! এটা ভাবলেই সব গুলিয়ে আসে! ক্যামেরা থেকে মেমোরি কার্ডটা বের করে ছুড়ে ফেলে দিলাম।
ওহ পরিচয় দেইনি আমার। আমার নাম নাফিস। আর ঐ মেয়েটার নাম, সুইটি

"জোৎস্না বিলাসী"

মেয়েটির নাম রুপা ।
আমাদের ফ্ল্যাটে নতুন এসেছে।প্রথম যেদিন 
দেখেছিলাম সেদিনই ভালো
লেগে যায়,কিন্তু কখনো কথা বলার সুযোগ
পাইনি।মাঝে মাঝে 
তাদের রুম থেকে
চিল্লাচিল্লির 
আওয়াজ ভেসে আসত।আমার রুমটা তাদের রুমের
পাশাপাশি হওয়ায় 
আমি কান পেতে শুনতাম যে,তার মা তাকে
গালিগালাজ করছে।তখন
রুপার জন্য খুব 
মায়া লাগত।ভাবতাম,এ কেমন মা?
যে তার মেয়েকে সব সময় বকাঝকা করে।
পরে জানতে পারি উনি রুপার 
সৎমা,তাই তাকে এত 
বকাঝকা করে।আচ্ছা, সৎ মায়েরা 
এমন হয় কেন?আমারো সৎ মা আছে আমাকেও খুব বকে।
তবে আমি ওসবে 
একদম কান দেয়না।
.একদিন রাতে বাসায় ফিরে এসে শুনলাম,রুপাকে আজ তার মা মেরেছে।একথা শুনে আমি অনেক কষ্ট 
পেলাম কিন্তু আমার তো 
আর কিছু করার ছিল না।সেদিন রাত্রে না খেয়েই শুয়ে পড়লাম কিন্তু কিছুতেই ঘুমোতে পারছিলাম না।বারবার শুধু রুপার কথায় মনে পড়ছিল
তাই ভাবলাম ছাদ থেকে একটু ঘুরে আসি।ছাদে গিয়ে 
দেখি রুপা ছাদের রেলিং ধরে নিচের দিকে তাকিয়ে কাদছে।আমি পেছন থেকে গিয়ে 
ছোট্ট করে একটা ডাক দিলাম 
"রুপা"।আমার ডাক
শুনে সে ভূত দেখার মত চমকে উঠল।পরে স্বাভাবিক হয়ে বলল;
.
-আপনি(রুপা)
-হুম(আমি)
-(নিশ্চুপ)
-কাদছিলে বুঝি?
-এছাড়া তো আর কিছু করার নেই
-আমরা কি বসে কথা বলতে পারি?
-কেন?
-তোমার কি সমস্যা হবে?
-না
-তাহলে?
-আচ্ছ­া চলুন(এরপর দুজনে বসে পড়লাম)
-আজ তোমার গায়ে হাত তুলেছিল বুঝি?
-নিশ্চুপ
-দেখো,,­,আমারও সৎমা আছে,আমাকেও বকাঝকা করে কিন্তু আমি ওসবে কানই দেয় না।যতক্ষণ পারে বকে পরে এমনিতেই আবার থেমে যায়.
তুমিও ওসবে কান দিওনা কেমন?
-নিশ্চুপ
-কি ব্যাপার কথা বলছো না যে?
-নিশ্চুপ
-কি হলো?চুপ কেন?
-আমাকে কেউ ভালোবাসে না,সবাই আমাকে অবহেলা করে।মনে হয় তাদের 
অবহেলার কারণেই একদিন আমি মরে যাব
-আমি তোমার পাশে আছি নিজেকে একা ভেবো না।
-যার পাশে নিজের বাবা মা নেই,তার পাশে আপনি কেন থাকবেন?
-দেখো রুপা,মানুষত্য বলে একটা কিছু আছে
-এখানে আপনি মানুষত্য দেখাতে এসেছেন বুঝি?
-নাহ
-তবে
-একটা অনুভুতি কাজ করে,,,আমরা কি বন্ধু হতে পারি
-বন্ধু হতে চান?
-হুম বন্ধু হতে চাই
-আচ্ছা,ঠিক আছে(অনিচ্ছা থাকা স্বত্তেও বলল)
-এখন যাও ঘুমিয়ে পড়ো,রাত অনেক হয়েছে
-হুম
-গুড নাইট
-গুড নাইট.এরপর থেকে প্রতিরাতে রুপার সাথে ছাদে বসে বসে চাঁদ দেখতাম।
আর সে গল্প-কবিতা শুনতে ভালোবাসতো তাই প্রতিদিন কবিতা শুনার বায়না ধরতা।তাই তার জন্য প্রতিদিন একটা করে হলেও কবিতা লিখে শুনাতাম।গল্প বেশি শুনাতে পারতাম না,কারণ গল্প বিষয়টা আমার মাথায় কম আসে।এভাবেই আমাদের
দিনগুলো অতিবাহিত হচ্ছিল।একবার এক মামাতো 
বোনের বিয়ে উপলক্ষ্যে এক সপ্তাহের জন্য গ্রামের বাড়ি গেলাম।বিয়ে বাড়ির ব্যস্ততায় তাকে ফোনে বেশি
সময় দিতে পারিনি।এক সপ্তাহ গ্রামে কাটিয়ে 
ফিরে এলাম ঢাকায়।তো সেদিন রাতে 
ছাদে গিয়ে দেখি,রুপা 
চাঁদের দিকে তাকিয়ে গুন
গুন করে গান গাইছে,তাই তাকে 
সারপ্রাইজ দেবার 
জন্য চুপি চুপি পেছন থেকে গিয়ে তার চোখ চেপে ধরলাম।
.
-কে আপনি(এক ঝটকায় চোখ থেকে হাত ছাড়িয়ে নিল)
-দেখ কে আমি?
-এখানে কেন এসেছেন?গ্রামেই থেকে যেতেন(অভিমান করলে আপনি করেই বলে)
-সরি,আজ তোমাকে এত্তগুলা কবিতা শুনাব
-না শুনব না।আপনি এখান থেকে যান
-গল্প শুনবে,বিয়ে বাড়ির গল্প
-না
-আরে শুনেই দেখ।মেয়েদের সাথে খুব মজা করেছি বিয়ে বাড়িতে
-ঐ তুই কি বললি?মেয়েদের সাথে,,,,,,,,(শার্টের­­ কলার চেপে ধরে)
-তাতে তোমার কি?
-আমার কি মানে?তোর জন্য মেয়েদের দিকে তাকানোও হারাম
-কেন?তুমি আমাকে ভালোবাসো নাকি?
-আমার ঠেকা পড়েছে যে,তোর মত একটা ফালতু ছেলেকে ভালোবাসতে যাবো?
-কিহ?আমি ফালতু ছেলে!
-হুম,তুমি একটা ফালতু ছেলে
-যাই তাহলে(উঠে আসতে লাগলাম)
-আরে কয় যাও(পেছন থেকে টেনে হাত ধরে)
-আর,ওসব বলবা না,ওকে
-হুম,ওকে,এবার কবিতা শুনাও.রুপাকে কবিতা শুনাচ্ছিলাম আর সে
আমার পিঠে পিঠ রেখে নিরবে কবিতা শুনছিল,কবিতা বলা শেষ হলে গল্প বলতে
শুরু করলাম।গল্পটা 
এত বড় ছিল যে,সে শুনতে শুনতেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল 
বুঝতে পারিনি।গল্প বলা শেষ করে তাকে ডাক দিলাম।.
-রুপা,,,,
-নিশ্চুপ
-আরে উঠো
-হুম
-উঠো
-উফ এতরাত হয়েছে,কয়টা বাজে
-বারোটা(মোবাইলে সময় দেখে বললাম)
-সর্বনাশ,বাসায­় গেলে যে কি করবে আল্লাই ভালো জানে,আচ্ছা আসি,গুড নাইট
-গুড নাইট
.পরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গল রুপার বাসার চিল্লাচিল্লি শুনে।তার মা আজ তাকে
অনেক বকছে।তাকে নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছে।যা শুনে আমার খুব কষ্ট লাগল 
তাই আমি বাসা থেকে বেড়িয়ে গেলাম।দুপুরে বাইরে থেকে বাসায় ফিরে এসে দেখি রুপা আমার রুমে বসে আছে।
-রুপা?
-আজ তোমার সাথে কিছু কথা আছে নীল
-বলো
-আমি তোমাকে ভালোবাসি
-জানি,আর আমিও তোমাকে ভালোবাসি
-আমাকে বিয়ে করতে পারবে?
-বিয়ে তো তোমাকেই করব
-আজ এখন করতে পারবে?
-এখনই কেমনে করব?
-আমার আর এত কষ্ট সহ্য হয়না নীল।আম্মু আমাকে
আজ খুব বাজে বকেছে
-কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর।এখন তোমাকে নিয়ে 
কোথায় যাব বলো?
-প্লিজ,নীল,তুমি না করো না।আমি যে আর এত কষ্ট 
সহ্য করতে পারছিনা(আমার হাত ধরে কাদতে কাদতে বলল)
.
.
.
কি আর করব?সেদিনই তাকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করলাম।এরপর এক
বন্ধুর বাসায় গেলাম।বাসর রাতে ঘরে ঢুকার পর সে আমাকে
সালাম জানাল।এরপর চাঁদ দেখার বায়না ধরল.
..-চল ছাদে যাই
-আজ কেন ছাদে যাবে?
-চাঁদ দেখব
-আজ তো আমাদের বাসর রাত
-বাসর রাত টা না হয় চাঁদ দেখেই কাটিয়ে দেব
-এ কেমন কথা
-হুম,আজ পূর্ণিমা,আজ সারারাত তোমার কাধে মাথা রেখে কবিতা শুনব।
-নাহ,আজ না যাওয়াটাই ভালো হবে-উফ,চল প্লিজ
-আমি যাবো না।(কঠিন হয়ে বললাম)
-কি বললি যাবি না?(পাঞ্জাবীর কলার চেপে ধরে)
-ওরে বাবা,এ কেমন দস্যি মেয়ে?চলো তাহল
-এভাবে হবে না
-তাহলে
-আমাকে কোলে করে নিয়ে যেতে হবে?
-ধুরর,,,পারব না।
-কিহ পারবিনা?(রাগানিত্ব হয়ে)
-আচ্ছা(ভয়ে ভয়ে).
এরপর তাকে কোলে করে নিয়ে ছাদে গেলাম,আর তাকে 
কবিতা শোনাচ্ছিলাম।এভাবে জোৎস্না স্নান করতে 
করতে রাত ১২টা বেজে গেল।আর ততক্ষণে সে আমার 
কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে আর সমস্ত চাঁদের জোৎস্না যেন আজ তার মুখে এসে 
পড়েছে।তাই তার চাঁদ বদনে আলতো করে একটা চুমু একে দিয়ে তাকে না জাগিয়ে কোলে করে নিয়ে 
এসে শুয়ে পড়লাম।এরপর বাকিটুকু আপনাদের না জানাই ভালো।