বুধবার, ৩ মে, ২০১৭

***দুষ্টু মেয়ের মিষ্টি প্রেম কাহিনী***

 " আপনার নাকটা খুব সুন্দর ! আয়নার সামনে
নিয়ে
নাকটা ধরে বলুন কুটুকুটু বাবুটা..."
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে অভ্যাসবশত
নিজের
মোবাইলটার প্যাটার্ন লকটা খুলে সময় দেখে
ফেসবুকে লগইন করে রিফাত ! লগইন করতেই এই
অদ্ভূত মেসেজটা চোখের সামনে ভেসে
উঠে । একটা অজানা অচেনা মেয়ের আইডি এই
ধরনের মেসেজ আসাটা স্বাভাবিক নয় ।
মেসেজটা
সিন করার পরে কিছুটা সময় বোকার মতো
মেসেজটার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল রিফাত

বিছানার এক পাশে পরে থাকা চশমাটা
কোনোমতে
চোখে লাগিয়ে রিফাত রিপ্লাই দিল,
- সরি কে আপনি ? ঠিক চিনলাম না !
- চেনা লাগবে না ! কেবল শুনবেন ?
- আশ্চর্য ? কে আপনি ?
- বললাম না আমি কে সেটা চেনা লাগবে না !
কেবল
শুনবেন ! ঠিক আছে ? আর আজকে এটা কি গল্প
লিখছেন ? আপনি জানেন এটা পড়ে আমি
কতক্ষণ
কেঁদেছি ? "একদিন স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলে দেখি
স্মৃতির শূণ্য ম্যাগাজিন পড়ে আছে , স্মৃতিগুলো
সব
নষ্ট হয়ে গেছে" এই লাইনের মানে কী ?
- কোনো মানে নেই ! সব লাইনের মানে হয় না !
- না । এরপর থেকে আর এইরকম কষ্টের গল্প
লিখবেন না । অন্যকে কাঁদানোর কোনো
অধিকার
আপনার নেই !
বেশ কিছুদিন পরে মেয়েটা পুনরায় রিফাতকে
ইনবক্সে নক দেয়,
-আচ্ছা লেখক সাহেব, আপনি ইদানিং গল্প
লিখাটা কমিয়ে
দিয়েছেন কেন ?
- আসলে সেদিন ক্রিকেট খেলতে গিয়ে হাতে
খুব ব্যথা পেয়েছি, কীবোর্ড টাইপ করতে খুব
কষ্ট হয়..
- তাই বুঝি !!
- হুম..
- একটা কথা বলবো.. শুনবেন ?
- হুম বলুন..
- আজকে না আমার খরগোশটাকে অনেক মোটা
মোটা লাগছে..
- কেন কী হয়েছে ? সকালবেলা বেশী
খেয়েছে ?
- না বুদ্ধু.. আমার মনে হয় ওর বাচ্চা হবে..
অনলাইনের এই অদ্ভূত মেসেজগুলোর মাধ্যমে
ফ্রেন্ডশীপ হয় রিফাত আর অদ্রির । অদ্রির এই
অদ্ভূত মেসেজগুলোতে রিফাত প্রথমদিকে
বিরক্ত হলেও এখন আর হয় না.. কেননা
প্রতিনিয়ত
রিফাতকে মেয়েটার অদ্ভুত পাগলামী সহ্য
করতে
হয়.. ফ্রেন্ডশীপের প্রথমদিকে রিফাত শুধু
মেয়েটাকে অদ্ভূত ভাবেছিল, কিন্তু ইদানিং
অদ্রি যে
কতটা রাগী এবং জেদী সেটা রিফাত হারে
হারে
টের পাচ্ছে.. তবে রিফাত অদ্রির এই
পাগলামী
গুলো বেশ
উপভোগ করে..
"মেয়েটা আসলেই একটা পাগলী" এক ঘণ্টার
ভেতর বারোতম বারের মতো অদ্রির ফোনকল
রিসিভ করার সময় ভাবে রিফাত। বারবার
ফোন করা তো
নয়, বারোটা বাজানো একদম। কী যে পেয়েছে
মেয়েটা! আজ ওদের প্রথম দেখা হচ্ছে বলে
মাথায় উঠে বসে আছে একদম। বিকেল চারটায়
দেখা
করার আদেশ পেয়েছে রিফাত প্রথমবার।
তারপর
থেকে টি-শার্টের রং নীল থেকে সাদা, লাল,
হলুদসহ আরও কী কী সব আজব আজব রং
পেরিয়ে আবার নীলে এসে ঠেকেছে।
বিকেল চারটা !! রবীন্দ্র সরোবরের একটা
ফুচকা
চটপটির টং এর একপাশে দাঁড়িয়ে আছে
রিফাত !! হঠাত্
পেছন থেকে একটা সুনিপন নারী কন্ঠের
আওয়াজ,
- আমি অদ্রি !!
রিফাত কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল।
মোটা
ফ্রেমের চশমার মধ্য দিয়ে ভয়ংকর সুন্দর এই
মেয়েটিকে পড়ন্ত বিকেলের মিষ্টি রোদে
পরীর মতো লাগছে।
- আসলে এফবিতে প্রোফাইল
পিকচারটাতে ফেয়ার এন্ড লাভলী একটু বেশি
মাখা
ছিলো তো, তাই আজকে চিনতে পারিনি।
- দেখ তুমি কিন্তু আমাকে ইনসাল্ট করছো !
জন্ম
থেকেই তুমি আসলে একটা প্রতিবন্ধী ......
একটা
মেয়ের সাথে ঠিক মত কথাও বলতে পারো না!
রবীন্দ্র সরবোরের পাশের রাস্তা দিয়ে
রিফাত আর
অদ্রি পাশাপাশি হাঁটছে। অদ্রি কথা বলছে
না। রিফাত টানা ১৫
মিনিট সরি বলেছে। মন গলেনি অদ্রির । বলে
দিয়েছে, আগামী ১৫ বছর সরি বললেও কাজ
হবে
না। রিফাত ১৫ বছর সরি বলার জন্য
মানসিকভাবে প্রস্তুতি
নিচ্ছে। রিফাত চুপ করলো। অদ্রিকে দেখতে
এখন
খুব সুন্দর লাগছে। শুধু সাজগোজে নয়,
রাগান্বিত
অদ্রিকেও দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। রিফাত
মনে হয় অদ্রিকে ভালোবেসে ফেলেছে।
রিফাত এখন অদ্রিকে হঠাৎই ভালোবেসে
ফেলার
এই ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করছে।
- অদ্রি..
অদ্রি মুখ তুলে না তাকিয়েই উত্তর
করল,
- হুম.. বলো।
- আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই।
- চাইলে করতে পারো।
- আচ্ছা.. তুমি কি...
- আমি কি....?
- তুমি কি...
- আররে ধুর!! কি "তুমি কি তুমি কি" শুরু করলা??
প্রশ্ন
করো..
- অদ্রি.. আমি তোমাকে ভালোবাসি! তুমি কি
আমাকে
ভালোবাসবে?
- কবে থেকে বাসতে হবে শুনি?
(অদ্রির চোখে মুখে এখন দুষ্টামি খেলা করছে)
- আজকে থেকে পারবে না?
- নাহ! আজকে অনেক রাগ তোমার উপর। রাগ
কমলে স্টার্ট করবো। ঠিক আছে?
- ঠিক আছে। (রিফাত ক্ষীণ কন্ঠে উত্তর
করলো)
--------------------
--------------------
রিফাত নিজমনে অনেক হাসছে। হাসির কারণ,
তার মনে
হচ্ছে আজই অদ্রির রাগ কমে গেছে। তারা
দুইজন
এখন পাশাপাশি হাঁটছে, আর অদ্রি দু'হাতে
রিফাতের
ডানবাহু জড়িয়ে ধরে রেখেছে। অদ্রির মাঝে
এই
মুহুর্তে রাগ কিংবা অভিমানের কোন
প্রতিচ্ছবি নেই।
রিফাতের অবশ্য খুশিও লাগছে। এখন সে
জানে,
সে একাকি কাউকে ভালোবাসে না। তার
প্রিয় এই
মানুষটাও শুধু তাকেই ভালোবাসে। রিফাতের
নিজেকে এই মুহূর্তের দুনিয়ার সেরা সুখী
মানুষটা
মনে হচ্ছে।
★ধন্যবাদ★

ফ্রেন্ডের ভালোবাসা

ক্লাসে ঢুকে দেখি অামার ফ্রেন্ড মাহিন মন খারাপ করে বসে অাছে। ব্যাগটা কাঁধ থেকে রেখে বেঞ্চে বসতে বসতে ওর পিঠে হালকা থাপ্পড় দিয়ে বললাম,
--কিরে মন খারাপ নাকি?
--না দোস্ত,এমনিই।
--কিছু লুকাচ্ছিস, বলে ফেল সমস্যা নেই। দেখি তরজন্য কিছু করতে পারি কিনা।
--দোস্ত,অামার গার্লফ্রেন্ড রিদিমাকে অাজকে বরপক্ষ দেখতে অাসবে। ওর বাবা জেনে গেছে অামাদের রিলেশনের ব্যাপারটা,তাই ওকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
--হাহাহা,এটা নিয়ে মন খারাপ করার কি অাছে।
--শালা,অামার গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে অার অামি কি মন খারাপ না করে পার্টি দিমু?
--অারে শুন,ভালোবাসলে একটু কষ্ট করেই বিয়ে করতে হয়। ওরে নিয়া ভাইগা যা।
--নারে,অামার মা-বাবার বদনাম হবে। এমনিতেই বাবা একবার হার্ট এটাক করেছে। তবুও ভাবছি অার কোনো রাস্তা না পেলে পালাই যাইমু রিদিমারে নিয়া।
.
অামি ঠাস করে মাহিনের গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম, "শালা তর বাবা-মা তরে এতো কষ্ট করে লেখাপড়া করাচ্ছে তাদের মুখে চুলকানি মাখানোর জন্য? অার তুইতো প্রেম করেছিস,কোনো অন্যায়তো করিসনি ; তাইলে পালাইয়া চুরের মতো বিয়ে করবি কেন? রিদিমার এবং তর, দুজনের পরিবারের মতেই তদের বিয়ে হবে। অামার উপর ছেড়ে দে ব্যাপারটা। "
.
পরেরদিন অামি অার মাহিন রিদিমাদের বাড়িতে গেলাম। মাহিনকে বাহিরে দাঁড় করিয়ে ভিতরে ঢুকলাম। ভিতরে ঢুকে দেখি রিদিমার বাবা সোফায় বসে চা খাচ্ছে অার পত্রিকা পড়ছে, 
--অাসসালামুঅালাইকুম অাংকেল।
--ওয়ালাইকুম অাসসালাম,কে তুমি? 
--অামাকে চিনবেননা অাংকেল। অাপনার সাথে একটু কথা বলতে এসেছি।
--অাচ্ছা বসো। বলো কি বলবে। অার তোমার বাবার নাম কি? থাকো কোথায়?
--অামি ঢাকা বনানীতে থাকি । ঢাকা সাউথএস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এম বি এ করছি। বাবার নাম প্রফেসর কাউসার অাহমেদ। 
--অারে কাউসার সাহেবের ছেলে তুমি? 
(উনি একটু উত্তেজিত হয়ে পরলেন)
--জ্বী, চিনেন নাকি অাব্বুকে?
--অারে চিনি মানে। অামি যেই অফিসে চাকুরী করতাম,সেই অফিসের এসিসটেন্ট হেড তোমার বাবা। অামার অনেক সিনিয়র, তবুও অামাকে কখনো অবজ্ঞা করেনি,সবসময় ভাইয়ের মতো দেখতো । তা কেমন অাছেন কাউসার সাহেব? অার তুমি অামার এখানে?
(অামিতো পুরাই ফিদা । শেষ পর্যন্ত অাব্বুর পরিচিত লোকের কাছে অাসলাম উনার মেয়ের প্রেমের ব্যাপারে কথা বলতে :-( ) 
--জ্বী অাংকেল অাব্বু ভালো অাছে। যা বলার সরাসরিই বলি। অাসলে অাংকেল অামার ফ্রেন্ড মাহিন ও অাপনার মেয়ে রিদিমা দুজন দুজনকে ভালোবাসে। অাপনি হয়তো ব্যাপারটা জানেনও, তাই রিদিমার বিয়ে অন্য কোথাও দিয়ে দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু অাংকেল অামার মনে হয় মাহিন অার রিদিমার বিয়ে হলে ওরা সুখিই হবে,কেননা দুজন দুজনকে অাসলেই অনেক ভালোবাসে। তাছাড়া মাহিনও অনেক ভাললো ছেলে,অামার সাথেই পড়ছে,,
ব্লা ব্লা ব্লা……………………..
.
অারো অনেককিছুই বললাম ; মাহিনের সম্পর্কে, তার ফ্যামিলি সম্পর্কে । অবশেষে রিদিমার বাবা বললো "অাচ্ছা, তোমার ফ্রেন্ডের বাবা-মাকে অাসতে বইলো। তোমার দিকে চেয়ে অামি অামার সিদ্ধান্ত বদলাবার চেষ্টা করবো। "
"অাচ্ছা অাংকেল,অাসি এখন"।
.
খুশি মনে সেখান থেকে বিদায় নিলাম। ভাবলাম মাহিনের বাবা-মাকে কালকেই পাঠিয়ে দেবো তারপর সব ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা অার হলোনা, মাহিনের বাবাকে রিদিমার বাবার কাছে অাসতে বলাতে উনি বলতেছেন রিদিমার বাবা উনার কাছে অাসতে।
পরলাম মহা ঝামেলায়,"ছেলের বাবা বলছে মেয়ের বাবা তার কাছে অাসতে ; অার মেয়ের বাবা বলছে ছেলের বাবা তার কাছে অাসতে।
.
অবশেষে এর কোনো সমাধান না পেয়ে অামার অাব্বুকে বিষয়টা বুঝিয়ে বললাম (অামার অাব্বু অাম্মুও প্রেম করেই বিয়ে করেছিলো, তাই অাব্বুকে বুঝাতে কষ্ট হয়নি :-P )
তারপর মাহিনের বাবা এবং রিদিমার বাবাকে বললাম অামাদের বাসায় অাসতে, অাব্বু তাদেরকে অাসতে বলেছে।
সবশেষে অাব্বু এই ঝামেলাটার পরিসমাপ্তি ঘটালো এবং বিয়ের দিন তারিখও ঠিক হলো। 
.
১৩ই জানুয়ারি শুক্রবার ওদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের দিন রিদিমা অামাকে বললো "শুভ ভাইয়া, অামাদেরতো বিয়ে দিয়ে দিলেন,অাপনি করবেন কবে? "
"যেদিন অামার স্বপ্নের রাজকুমারীকে খুজে পাবো, সেদিন থেকে ঠিক ১ বছর পর তাকে বিয়ে করবো। ঐ ১ বছর তার সাথে চুটিয়ে প্রেম করবো। দোয়া করো যাতে ঐ রাজকুমারীকে তাড়াতাড়ি পেয়ে যাই। "

রোমান্টিক

>> এইযে কি সমস্যা কি আপনার? (মেয়ে)
<< পকেটে টাকা নাই তাই হেটে হেটে যাচ্ছি। (আমি)
>> চুপ মিথ্যুক, সেই কখন থেকে দেখতে পাচ্ছি আপনি আমাদের ফলো করে আসছেন।
<< আমি?
>> হ্যা হ্যা আপনি।
<< আচ্ছা আপনার কেন মনে হলো যে আমি আপনাদেন ফলো করছি?
>> কেন মনে হলো মানে কি? সেই কখন থেকে দেখতে পাচ্ছি আপনি আমাদের পিছু নিছেন, আমরা তাড়াতাড়ি হাটলে আপনিও তাড়াতাড়ি হাটেন আমরা রাস্তার এ সাইডে গেলে আপনিও সে সাইডে যান কি কি সমস্যা কি?
<< আরে সমস্যা তো একটাই পকেটে টাকা নাই,
>> তো?
<< সে জন্যই তো হেটে হেটে যাচ্ছি।
>> আমাদের পিছু নিলেন কেন?
<< পিছু নিলাম কোই? আপনারই তো আমার সামনে সামনে হাটছেন।।
>> খুব প্যাচালো লোক তো আপনি।
<< আপনি কম কিসে?
>> চুপ করেন, রাস্তা ঘাটে সুন্দরী মেয়ে দেখলেই পিছু নেন ডিস্টার্ব করা শুরু করেন।
<< অয়েট অয়েট আপনি ভুল বললেন, বলতে হবে রাস্তা ঘাটে মেয়ে দেখলেই পিছু নেন ডিস্টার্ব করেন। কারন আপনি দেখতে মোটেও সুন্দর না হু।
>> এবার রাগে লাল হয়ে গেলো মেয়েটা।
<< এটা আমি বলতে পারে যে অনেক সুন্দ্রি মেয়েরা আমার সাথে প্রেম করার জন্য লাইন মারে।
>> এএএএ এই চেহারায় দেখতে তো একদম খাটাশের মতো আবার বলে কিনা মেয়েরা লাইন মারে।
<< তারপরেও আপনার চাইতে সুন্দর আছি, আপনাকে তো দেখা যায় পেত্নীর মতো, তারচাইতে আপনার পাশে যে বান্ধবি আছে তাকে অনেক সুন্দর দেখায় সে কিছু বলছে না পেত্নী মার্কা আসছে বক বক করতে।
>> চোখ গুলো বড় বড় করে আমার দিকে তাকালো।
<< আহা কি সুন্দর মায়াবী চোখ, কি সুন্দর নাক উফ দেখার মতো একদম যেনো নাইকা ক্যাটরিনা ( আসল যায়গায় বাশ দিছি ঠেলা সামলাও)
আমার কথা শুনে পেত্নীর পাশে থাকে মেয়েটা দিব্বি ফুলে যাচ্ছে হাহাহা
>> আর পেত্নী লাল হচ্ছে রাগে, আপনার মতো খাটাশের সাথে কথা বলা মানে সময় নষ্ট করা বলেই হাটা শুরু করলো
আমি হাসতে হাসতে শেষ
আমি অভি এবার অনার্স প্রথম বর্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট পড়ছি। মামার বাসায় থাকি
ক্লাশ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে মাঝে মাঝে দেখা এদের সাথে
মাঝে মাঝে বলতে যেদিন যেদিন আমি হেটে হেটে আসি সেদিন।
মেয়ে দুটাকে আমি চিনি কিন্তু আমাকে চিনে না।
যেটাকে পেত্নী বলছি সেটার নাম হচ্ছে আনিশা আর সাথেরটার নাম সাথী
দুজনে এবার ইন্টার সেকেন্ডে ইয়ার।
আনিশা খুব রাগি মেয়ে সেটা আমি জানি অন্য সবার থেকে একটু আলাদা।
প্রথম যেদিন আনিশাকে দেখছিলাম বন্ধুর সাথে হাটতে গিয়ে তখনি মেয়েটাক ভালো লাগে কিন্তু বন্ধুকে বুঝতে দেই নাই। তারপর থেকে আনিশার পিছু নেওয়া
বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দেয়ে একটা ঘুম দিলাম বিকালে মামা একটা ব্যাগ হাতে আর একটা লিষ্ট দিয়ো বললো বাজারে যেতে, বাজার করতে আমার ভালো লাগে তাই কোন কথা না বলে ব্যাগ নিয়ে চলে আসলাম।
<< মামা পাচ কেজি আলু , চার হালি ডিম তিন কেজি রসুন দেন তাড়াতাড়ি করেন।
^ ^ দিচ্ছি দাড়ান।
উরিস্লা পেত্নিটা এখানে কি করে বাজার করতে আসছে নাকি। চোখাচোখি হতেই
<< হাই
>> খাটাইশ
<< বাজার করতে আসছো তাইনা? তোমার বাবা, ভাই নেই?
>> আনিশা একটা মহিলার দিকে তাকালো আবার আমার দিকে তাকালো।
<< বুঝলাম তার মা
তাই কিছু বললাম না।
<< কি হলো তাড়াতাড়ি দেন, মাছ বাজার যেতে হবে।
খেয়াল করলাম আনিশা আমার নিচের দিক থেকে উপরের দিকে পর্যবেক্ষন করছে
আর হাসছে, ঘটনা কি
নিচে তাকিয়ে দেখলাম ওহ লুঙ্গি পড়ছি সে জন্য হাসছে এখানে হাসার কি হলো পেত্নী কোথাকার
বাজার করে বাসায় চলে আসলাম
খুব ক্লান্ত লাগছে রুমে এসে বসলাম কিছুসময় পর শুনতে পেলাম
== দেখছো অভি কতো সুন্দর করে বাজার করে আনছে একটা জিনিসও পঁচা নেই, তুমি আনলে তো বেশিরভাগই পঁচা থাকে। ঠিক মতো বাজারটাও করতে পারো না ছেলাটার গুন আছে।
ওয়াও ওয়াও কি প্রশংসা, যাক বিয়ের পর বউ কোনরকম ঝামেলা করতে পারবে না।
~~ ঠিক আছে আজ থেকে প্রতিদিন বাজার অভিই করবে।
<< এ্যা গুষ্টি কিলাই বাজারের। মাইনকা চিপায় পইরা গেলাম
আজ আনিশাদের কলেজে বিদায় অনুষ্ঠান আমার এক বন্ধু নিয়া গেলো তাদের কলেজে।
চারপাশ খুজতে লাগলাম আনিশাকে দেখা যায় কিনা আমার এটা দেখে বন্ধুর সন্দেহ হলো
== কিরে কারে খুজস?
<< কোই না কাউকে না।
== আমারতো মনে হয় কাউকে খুজছিস
<< আরে না কিছুনা।
== চল ওপাশটায় যাই।
<< হ্যা চল
এপাশে এসে তো আমি পুরাই অবাক
পেত্নীটা আজ দেখি পুরো নীল পরী হয়েগেছে
নীল শাড়ি সাথে নীল টিপ উফফ কি দারুন।
একাবার চোখাচোখি হয় আল্লাহ একটা চোখটিপ মারবো হিহিহি
কিন্তু না একবারও হলো না কি দুঃখ।
অনুষ্ঠান শেষ সবাই চলে যাচ্ছে
<< এই আনিশা দাড়াও
>> আমার কথা শুনে দাড়িয়ে পিছনে তাকালো।
<< আজকে কিন্তু তোমাকে দারুন লাগছে একদম নীল পরীর মতো।
>> থ্যাংকু।
<< আচ্ছা আমি কি তোমার সাথে যেতে পারি?
>> জ্বি না
<< কেনো।
>> কারন আপনি খুব ঝগড়াটে, পথে পথে আমি ঝগড়া করতে পারবো না।
<< তুমি মনে হয় কম ঝগড়াটে শুধু আমার দোষ দিচ্ছো
>> এইতো শুরু করছেন।
<< আচ্ছা সরি চলো ঝগড়া করবো না।
>> আমি কিন্তু এখনো আপনাকে ভালো করে চিনি নাই।
<< চিনার কথাও না, আমার নাম অভি
অনার্স ফাষ্ট ইয়ারে পড়ি এখানে মামার বাসায় থাকি মামার নাম আতিফ ইসলাম।
>> আতিফ আংকেল বাসায়?
<< হ্যা চিনো তুমি?
>> চিনবো না কি বলেন উনাদের সাথে খুব ঘনিষ্ঠতা আগে তো প্রতিদিনই বিকালে যেতাম এখন পড়ার চাপে যাওয়া হচ্ছে না।
<< কেন যে এতো তাড়াতাড়ি এক্সামটা আসলো
>> আমার নাম হচ্ছে
<< জানি আমি আনিশা তোমরা দুই বোন বড় বোন বিবাহিত বাবা মারা গেছে তোমার ছোট্ট একটা ভাই আছে ।
>> অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো
এতোকিছু কিভাবে জানেন।
<< তোমাকে প্রথম দেখেছিলমা তোমাদের বাসার সামনে প্রথম দেখাতেই ভালো লাগে তারপর তোমার সম্পর্কে সব জানলাম এটাও জানলাম তুমি খুব রাগি এবং ঝগড়াটে। এবং এ কারনে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছে।
>> আবার আমার দিকে তাকালো।
<< ভালো করে এক্সাম দিও দুআ রইলো।
বলেই চলে আসলাম ইয়াহু বলে দিলাম আজকে যা হবার হবে একটা।
বেশ হাসিখুশি লাগছে।
মামা মামি বুঝতে পারছে
আসলে মামা মামি তাদের কোন সন্তান নেই আর হবেও না সমস্যাটা আসলে মামির যেহেতু ভালোবেসে বিয়েটা হয়েছে সেহেতু মামা বলছে সন্তান না হলে নাই তিনি মামিকে নিয়েই থাকবেন।
আমাকে উনারা তাদের সন্তানের মতোই দেখে
~~ কিরে তোকে আজ বেশ খুশি খুশি লাগছে কারন কি? ( মামা)
<< কোই নাতো কিছুনা।
~~ প্রেমে টেমে পড়ছিস নাকি অভি (মামি)
মামি কিভাবে বুঝলো মামির সাথে বিষয়টা শেয়ার করতে হবে।
মামিকে সব বললাম
== আমার জানামতে আনিশা খুব রাগি তোকে পাত্তা দিবো তো
<< কিযে বলো প্রথম দিনে ঝগড়া দ্বিতীয় দিনে বলে দিছে ভালোবাসি
== কি বললো?
<< বলার আগেই চলে এসেছে।
== আমার মনে হয় এতো সহজে রাজি হবে না।
<< হবে হবে।
পরদিন আনিশা আমাদের বাসায় আসলো সামনে এক্সেম দুআ চাইতে
আর মামার কাছ থেকে ফ্রিতে সাজেসন নিতে।
আমি আমার রুমে বসে বসে পড়তেছি
>> আন্টি এই রুমে কোন ছাগলে থাকে কি নোংরা হয়ে আছে।
<< সুন্দর করে সাজিয়ে দিলেই তো পারো।
<< আমি কেন সাজাবো?
>> বিয়ের পর ঠিকেই সাজাবে
<< কখনোই না বিয়ের পর আমার স্বামীই সব করবে হুহু
<< মাইরও খাইবা
== ওই তোরা চুপ করবি আনিশা তোর আংকেল ছাদে আছে
<< আমার কাছ থেকে দুআ না নিলে ফেল নিশ্চিত।
>> খাটাইশ বলেই ছাদে চলে গেলো।
আনিশার এক্সাম তাই আর ওকে কোন প্রকার ডিস্টার্ব করলাম না।
দেখতে দেখতে ওর এক্সাম শেষ
প্রতিদিন বিকালে আসতো মামির সাথে গল্প করার জন্য যেহেতু মামা অফিসে থাকে আমি পড়ার থাকি মামি একা আনিশা আসলে শুরু হয় গল্প তাদের
আমিও যোগ দেই শুরু হয় ঝগড়া
সে কি প্রচন্ড কেউই হারতে রাজি না
এটা যেনো প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গেছে।
মাঝখানে আমি বাড়িতে চলে আসছি
বন্ধ পেয়ে কতদিন মা বাবাকে দেখি নি
হটাৎ একদিন মামি ফোন দিয়ে বলে
== কিরে কবে আসবি?
<< ১ সাপ্তাহ পর।
== তাড়াতাড়ি চলে আয় আনিশা তো আমার কান ঝালাফালা করে ফেলছে।
<< কেন?
== বলে কবে আসবে কবে আসবে, তোকে মনে হয় মিস করে।
<< দেখছো মামি বলছিলাম না পটে যাবে।
তারপরের দিনেই চলে আসলাম
খুব ক্লান্ত এসেই ঘুম
দরজায় নক করার শব্দে ঘুম ভাঙ্গে গেলো বিরক্ত নিয়ে দরজা খুলে দেখি আনিশা
<< কেমন আছো জানপাখি।
>> কে আপনার জানপাখি? (রাগিমুডে)
<< কি ব্যাপার এতো রাগ কেন।
>> কিসের রাগ সরেন ভিতরে ডুকে আমার গল্পের বই নিয়ে বিরিয়ে গেলো
বুঝলাম আমা যতদিন ছিলাম আমার রুমে হানা দিছে এই পেত্নী আর রেগেও আছে আমি না বলে বাড়িতে গেছি সে জন্য।
ফ্রেশ হয়ে দেখি মামি আনিশা গল্প করছে
<< মামি আমার কথা আপনাকে বারবার জিঙ্গাসা করছে কে?
== মামি হেসে দিলো
>> রাগে ফোসতেছে
== এখন ঝগড়া শুনতে চাই না যা তো তুই অভি
আজকে আনিসার রেজাল্ট দিবে খুব টেনশনে আছে মেয়েটা সকালে দেখলাম মুখখানা শুকনো হয়ে গেছে।
দুপুরে ভার্সিটি থেকে বাসায়ে এসে দেখি হাসাহাসি চলছে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি দুটো বাঝে তারমানে রেজাল্ট দিয়ে দিছে আনিশা পাস করছে
আমি জানি আনিশা অনেক ভালো ছাত্রী
<< কি ব্যাপার মামি এতো হাসাহাসি কিসের।
== আরে আনিশা এ + পাইছে
<< আরে দূর দেখেন নকল টকল করে পাশ করছে আরকি এতো ভালো ছাত্রী নাকি ও?
>> ওই ওই কি বললেন আপনি কি বললেন আমি নকল করি না
<< খুব খুদা পেয়েছে মিষ্টি আনছো তুমি
>> আনলেও সেটা আপনাকে দিচ্ছি না।
<< লাগবে না তোমার মিষ্টি খাবো না যাও
বলেই রুমে চলে আসলাম ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি টেবিলে মিষ্টি রাখা
এখন একটু ভাব নিতে হবে।
<< মামি আমি মিষ্টি খাবো না। রেখে চলে আসলাম
== কেন হইলো আবার তোর
<< কিছুনা ভাত দেন আপনি
>> সরি আসলে আমি দুষ্টামি করে বলছি প্লিজ একটা হলেও খান
<< এই দুইটা মিষ্টি কাউকে দেয় আমার ১ কেজি লাগবে এর কমে আমি খাই না।
<< দেখছেন আন্টি কি খাদকের খাদক রাক্ষস একটা।
কিছুদিন পর মোবাইল কিনলো একটা
বাহ বাহ ভালোই হলো এবার ফোনে কথা বলা যাবে।
একদিন ফোন দিলাম
<< আমার রেজাল্ট তো পেলাম না।
>> আমি আপনাকে ভালোবাসসি না
<< সত্যি তো
>> হ্যা সত্যি
<< তাইলে আমি বাড়িতে গেছি সে জন্য আমাকে মিস করছে কে মামিকে বারবার জিঙ্গাসা করতো কে কবে আসবো আমার রুমে ডুকে গল্প বই পড়তো কি ওগুলা কি ছিলো হ্যা কি ছিলো
>> কিছুনা বলেই ফোন কেটে দিলে
রাত ৮ টায় আবার ফোন দিলো
>> আমাকে কিছু জোনাকি পোকা এনে দিতে পারবেন?
<<জোনাকি পোকা কোই পাবো আমি
>>আমি কি জানি
<< দিতে পারি একটা শর্ত আছে.
>> কিহ
<< আমাকে মিষ্টা শুরে আই লাভ ইউ বলতে হবে রাজি?
>> কিছুক্ষন চুপ থেকে আচ্ছা ঠিকাছে
কোই পাবো জোনাকি পোকা যাক নেমে পরলাম জোনাকি পোকা খুজতে
অনেক কষ্টে কতগুলো আনলাম
আনিশার বাসায় সামনে এসে ফোন দিলাম
<< এনেছি এবার বলো
>> আগে পোকাগুলে ছেড়ে দেন
<< এতো কষ্ট করে ধরে আনছি ছেড়ে দেওয়ার জন্য
>> যা বলছি তাই করেন
<< ছেড়ে দিলাম ওয়াও কি সুন্দর দৃশ্য
আমি নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেলাম
<< হইছে হইছে এবার বলো।
>> আপনি খুব ক্লান্ত বাসায় গিয়ে ফোন দিয়েন সুন্দর করে বলে দিবো
বাসায় এসে দেখি ফোন বন্ধ
কি গুটিবাজি করলো মনটাই খারাপ হয়ে গেলো
রাত ১১ টায় ফোন দিলো
তাড়াতাড়ি রিসিভ করলাম
>> আই (চুপ) লাভ (চুপ) ইউ খাটাইশ
কিছু বলতে যাবো অমনি কেটে দিলে
আবার ফোন বন্ধ
যাক এবার শান্তিতে একটা ঘুম দেই
.

তৃপ্তিকর হাসি

পাশাপাশি চেয়ারে বসিয়ে যখন ছবি তুলতে যাবে, তখন আমার বউয়ের দিকে আমার নজর পড়ল। দেখলাম বউয়ের মুখ একদম সাদা হয়ে আছে। খুব বিশ্রি লাগলো আমার কাছে। মা যখন অরণীর ছবি হাতে নিয়ে বলেছিল, দেখতো মেয়েটাকে পছন্দ হয় নাকি? মেয়েটা বেশী ফরশা না কিন্তু চেহারায় মায়াবী একটা ভাব আছে। আমি মাকে বলেছিলাম, মা তোমার পছন্দ হলে হবে আমাকে দেখতে হবে না। মা আমার কথা শুনে বলেছিল বিয়ে করবি তুই আর তুই দেখবি না? তুই দেখ পছন্দ না হলে তাদের জানিয়ে দিব। আমি মায়ের হাত থেকে ছবি নিয়ে দেখছিলাম শ্যামলা একটা মেয়ে মাথায় ওড়না দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটাকে দেখে আমার মন ছুঁয়ে গেছিল, একদম মায়াবী চেহারা। মায়ের কথায় বিন্দুমাত্র ভুল নেই। শুধু ফরশা হলেই মেয়েরা সুন্দরী হয় এটা যেমন ভুল কথা। তেমনি কালো অথবা শ্যামলা হলে মেয়েরা অসুন্দরী হয় এটা ভুল কথা। সত্যিকার সুন্দরী মেয়েরা হয় মায়াবতী এদের চেহারায় সবসময় মায়া জাড়ানো থাকে। এই মুহূর্তে অরণীর সাথে ছবি তুলতে আমার খুব অসহ্য লাগছে। আমার খুব করে বলতে ইচ্ছে করছিল অরণী তোমার এই চেহারায় একদম ভাল লাগছেনা। কিন্তু বলতে পারলাম না মনের কথা মনেই থেকে গেল। ছবি তোলা শেষ হলে মেয়ের খালা মামা মামী সব আত্মীয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল আমি সবাইকে সালাম করতে লাগলাম। গাড়ীতে উঠার সময় অরণী ওর মা বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে গাড়ীতে উঠলো। অরণীদের বাড়ি থেকে যখন রওনা দিলাম তখন প্রায় সন্ধে হয়ে গেছে। রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর আমি এদিকওদিক তাকিয়ে দেখে অরণীর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললাম, মেকআপে তোমার মায়াবী চেহারাটা একদম বিশ্রী হয়ে গেছে। অরণী আমার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল। 
.
বাড়িতে আসার পর চিড়িয়াখানার প্রাণী দেখার মত সবাই আমার বউকে দেখতে আসলো। রাত ১১ টা পর্যন্ত এই কাজ চলতে থাকলো। ভীর কমলে মা প্লেটে খাবার নিয়ে গিয়ে অরণীকে খাইয়ে আসলো। প্রায় সাড়ে এগারোটার সময় খালাতো বোনের বর এসে বলল, শালা বাবু এবার বউয়ের কাছে যাও। আর কতক্ষণ নতুন বউ রেখে বাইরে থাকবে? বুঝতেছিতো ভয় পাচ্ছো, ভয়ের কিছু নেই। দুলাভাইয়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম দুলাভাই মুচকি মুচকি হাসছে। আমি দুলাভাইয়ের কথার জবাব না দিয়ে উনার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে রুমে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। রুমের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এমন সময় ছোট ভাই এসে বলল, ভাইয়া মা তোকে ডাকে। মায়ের রুমে গেলে মা একটা গলার হাড় বের করে দিয়ে বলল, এটা বৌমাকে দিস। আমি হাড়টা হাতে নিয়ে মায়ের দিকে তাকালাম। মা আমার তাকানোর কারণ বুঝতে পেরে বলল, এই হাড় আর একজোড়া বালা তোর দাদী আমাকে দিয়েছিল। আমি এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছি এগুলা পড়ার বয়স আমার নেই। তুই এটা অরণীকে দিস, বালা জোড়া আবিরের বৌকে দিব। হাড়টা নিয়ে আমি রুম থেকে বেরিয়ে আসলাম অন্যরুমে ঢোকবার জন্য। যে রুমে ঢোকার জন্য প্রতিটা ছেলে মেয়ে আলাদা আলাদা স্বপ্ন বুনে। রুমে ঢোকার সময় সালাম দিয়ে তারপর রুমে ঢুকলাম। অরণী সালামের উত্তর দিল, দরজা আটকিয়ে বিছানার কাছে গেলে অরণী বিছানা থেকে নেমে এসে আমাকে সালাম করলো। অরণীকে দাড় করিয়ে পকেট থেকে হাড় বের করে ওর গলায় পরিয়ে দিলাম। তারপর ঘোমটা সরিয়ে ওর একগোছা চুল হালকা করে ধরে সূরা আলামনাশরহ পড়ে ওর মুখে ফুঁ দিলাম। এক মাওলানা ওয়াজ করার সময় বলেছিল, বাসার রাতে সূরা আলামনাশরহ পড়ে স্ত্রীর মুখে ফুঁ দিলে অনেকদিন পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীর মনোমালিন্য হয় না। 
.
অরণীর চুল ছেড়ে দিয়ে বললাম, বাহ এখন অনেক ভাল লাগছে মেকআপ ধুয়ে ফেলছো তাই না? অরণী বলল, হ্যাঁ আপনি তখন বললেন মেকআপে বিশ্রি লাগছে তাই মুখ ধুয়ে ফেলছি। আচ্ছা আপনি আমার চুল ধরে কি পড়লেন তারপর আবার মুখে ফুঁ দিলেন? আমি অরণীর কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলাম মেয়েটা কত স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে। আমি বললাম, এখানে দাঁড়িয়েই কথা বলবে নাকি?আসো বিছানায় গিয়ে কথা বলি। অরণী বলল, আগেই বিছানায় যাওয়া যাবেনা। আগে দুই রাকাত নামাজ পড়বো তারপর,আপনার অজু না থাকলে বাতরুমে গিয়ে অজু করে আসুন।আমি বললাম, নামাজ পড়তেই হবে? অরণী শক্ত কন্ঠে বলল হ্যাঁ।অরণীর কথা শুনে আবারো আশ্চর্য হলাম প্রথম রাতেই কী শক্ত শক্ত কথা বলছে না জানি বাকি জীবন কী করে। আমি বললাম আমার সাথে কথা বলতে তোমার ভয় করছেনা? আবার প্রথম রাতেই অধিকার খাটাচ্ছো। অরণী আমার কথা শুনে মুচকি হাসি দিয়ে বলল, আপনি কী বাঘ নাকি ভাল্লুক আপনাকে দেখে ভয় পেতে হবে। আর গত বাইশ বছর ধরে জমিয়ে রাখা অধিকার আর জমিয়ে রাখতে পারছিনা। তাই এখন থেকেই অধীকার খাটানো শুরু করে দিলাম। আমি বললাম, বাইশ বছর ধরে জমিয়ে রাখা অধিকার মানে কী? অরণী বলল, যে দিন থেকে বুঝেছি বিয়ে করে ঘরসংসার করতে হবে। সেদিন থেকেই অধিকার জন্মানো শুরু করেছি তাছাড়া আমার বয়স এখন বাইশ বছর ধরে নিন অধিকারটাও বাইশ বছরের। আমি বললাম, ওহ তার মানে তুমি সেই ছোট সময় থেকে অধিকার জমিয়ে রেখছো? অরণী আমার কথা শুনে কপাল কুঁচকে বলল মানে? আমি বললাম, মানে তুমি পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকেই অধিকার জমিয়ে রেখেছো।অরণী আমার দিকে তাকিয়ে বলল আমি তাই বলছি? আমি বললাম, তোমার বয়স বাইশ অধিকার বাইশ বছরের এর মানে কি বোঝায়? অরণী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,ভাল হচ্ছে না কিন্তু আমাকে রাগানোর চেষ্টা করছেন। আমি যা বলছি তাই ভুল বললেও সঠিক, সঠিক বললেও সঠিক। আমি হেসে দিয়ে বললাম আচ্ছা ঠিক আছে। অরণী বলল, এখন অজু করে এসে নামাজে দাঁড়ান। আমি বাতরুমের দিকে ঘুরে দাঁড়ালে অরণী বলল, চুল ধরে কী করলেন বলবেন না? আমি অরণীকে বিষয়টা বুঝিয়ে দিলাম।
.
ওজু করেতে করতে ভাবলাম যাক মেয়েটা খুব সহজেই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আসলে আমিও একটু নার্ভাস ছিলাম মেয়েটা নার্ভাসনেস কাটিয়ে দিল। ওজু করে আসার পর অরণী বলল, আপনি সামনে গিয়ে দাঁড়ান আমি আপনার পিছে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ব। আমি অরণীর কথামত সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। নামাজ শেষে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম প্রায় সাড়ে বারোটা বাজে। অরণীকে দেখলাম ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি অরণীকে ডাক দিয়ে বললাম আজ না আমাদের বাসর রাত তুমি ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছো কেন? অরণী বলল, বাসর রাত তো কী একদম উল্টাপাল্টা চিন্তা করবেন না আমার ঘুম আসছে আমি ঘুমাব। আমি বললাম আচ্ছা ঘুমাবে কিন্তু কিছু কথা বলব। অরণী বলল, দুষ্টামি করবেননাতো? আমি বললাম, আরে নাহ তুমি আমাকে অবিশ্বাস করো নাকি? অরণী আমার কথা শুনে আমার দিকে এগিয়ে এসে শুয়ে পড়ল। আমি বললাম, আমি তোমার কাছে কাছে একটা জিনিস চাইবো, সেটা হলো তুমি আমার মায়ের মধ্যে কখনো দেয়াল সৃষ্টি করবেনা। আমি জানি একটা বিবাহিত নারী তার স্বামীর কাছে আর কিছু না চাইলেও ভালবাসা চায়। তুমি যদি আমার মাকে ভালবাসতে পারো আমিও তোমাকে ভালবাস। তুমি হয়তো জানো আমার কোন বোন নেই। আসলে আমার একটা বোন ছিল মাত্র তিন দিন বয়সে মারা যায়। আমি চাইব তুমি আমার মায়ের কাছে তার মেয়ে হয়ে থাকবে। কথা বলা শেষ না হতেই দেখলাম অরণীর একটা হাত আমার গলার উপর চলে এসেছে। আমি বললাম, এটা কি হচ্ছে? আমার দম আটকে যাবেতো। অরণী ঘুমঘুম কন্ঠে বলল, এতটুকু সহ্য করতে না পারলে বিয়ে করছেন কেন?আমি বললাম, আমি এতক্ষণ কী বলছি তুমি শুনেছো? অরণী বলল হু। আমি অরণীকে আর ডিস্টার্ব করলাম না। বিয়ের দিন একটা মেয়ের উপর অনেক ধকল যায়। তারপর একটা বাড়ি ছেড়ে হুট করেই আর একটা বাড়িতে এসে বসবাস শুরু করতে হয়। বিয়ের চার দিন পর অরণীদের বাসায় থেকে ঘুরে আসার পর দুপুরে খেয়ে বিছানায় শুয়ে ছিলাম। অরণীকে দেখলাম মায়ের রুমে গেল, বাসায় লোকজন না থাকলে মা আমার পাশের রুমেই থাকে। আমি বিছানায় শুয়ে থেকেই অরণীর কথা শুনতে পাচ্ছিলাম। অরণী মায়ের কাছে যাওয়ার পরেই বলল মা আমি কিছু কথা বলতে চাই। মা বলল, বিছানায় এসে বসো তারপর যা বলার বলো। অরণী মনে হয় বিছানায় গিয়ে বসলো, তারপর বলল মা আমি আজ থেকে আপনাকে তুমি বলেই ডাকবো ঠিক আছে? আর আমাকে শুধু বৌমার চোখে দেখলে হবে না। আমাকে নিজের মেয়ের মতো ভালবাসতে হবে। আমাকে বৌমা বলে ডাকা যাবে না, আমাকে নাম ধরে তুই তুই করে ডাকতে হবে যেভাবে মা মেয়েকে ডাকে বুঝছো? মা মনে হয় অরণীর কথা শুনে আশ্চর্য হলে গেছিল প্রায় এক মিনিট পর বলল, পাকা পাকা কথা শিখে ফেলেছিল। এদিকে আয় দেখি,আমার কাছে আয়। মায়ের কথা শোনার পর আমি তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে উঠে মায়ের রুমের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে উকি মারলাম। দেখলাম মা অরণীর মুখ দুই হাতে ধরে অরণীর কপালে চুমু এঁকে দিয়ে অরণীকে জড়িয়ে ধরে বলল আমি তোর সব কথা মেনে নিলাম। আজ থেকে তুই শুধু আমার ছেলের বউ না তুই আমার মেয়ে ছেলের বউ দুইটাই। বিয়ের একবছর গত হয়ে গেছে মা আর অরণীর সম্পর্ক এখনো মা মেয়ের মতোই আছে। আমি ছুটির দিনে বাসায় থাকলেও দুপুরে অরণী আমার কাছে শোয় না মায়ের কাছে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে থাকে। হঠাৎ যদি কখনো মা আরর অরণীর মধ্যে মনোমালিন্য হয় তখন মা বলে "আমিতো আর নিজের মা না " মায়ের কথা শুনে অরণী ভেঙচি দিয়ে বলে আমিও তোমার নিজের মেয়ে না বলে এমন হইছে। ওদের কথার মধ্যে আমি কিছু বললে অরণী আমাকে ঝাড়ি দিয়ে বলবে আমাদের মা মেয়ের ব্যাপারে তোমাকে নাক গলাতে বলিনি। যেদিন একটু ঝগড়া লাগে ওইদিন অরণী দুপুরবেলা নিজের হাতে খাবার খায়না যতক্ষণ না মা অরণীর মুখে তুলে খাইয়ে দেয়। মা আর অরণীর এমন মধুর সম্পর্ক দেখে আমার মুখে সবসময় একটা তৃপ্তিকর হাসির আভা লেগে থাকে।আমি মনে মনে আল্লাহতালার শুকরিয়া আদায় করি।

নিজের বাড়ি

দেখতে দেখতে তিনটা বছর হয়ে গেছে।আজ আবারও শাহেদ তার অতি আদরের লক্ষ্মী বোন রিসার বাড়িতে যাচ্ছে।এই তিন বছরে অনেকবারই গিয়েছ ওর বাড়িতে।তবে আজকের দিনটা একটু বেশিই স্পেশাল।কারণ আজ রিসার জন্মদিন।আবার এই দিনেই রিসা বাবার বাড়ি ছেড়ে অন্যের বাড়িতে পাড়ি জমায়।যদিও এখন সেটা তারই বাড়ি।এখন পর্যন্ত কোনো জন্মদিনেই দুই ভাই বোন কখনো আলাদা হয়নি।যদিও তিন বছর আগের জন্মদিনটা ছিল একটু অন্যরকমই।কারণ ঐ দিনেই সব থেকে প্রিয় ভাইয়াটাকে ছেড়ে আসতে হয় রিসার।
..
রিসা আইসক্রিম,চকলেট খুব পছন্দ করতো।শাহেদ অনেকগুলো চকলেট আর আইসক্রিম নিলো সাথে।ছুটে চলছে তার আদরের বোনটার কাছে।আর তার মনে পড়ে যাচ্ছে বোনের সাথে কাটানো পুরোনো স্মৃতিগগুলো।
..
..
রিসা শাহেদের থেকে চার বছরের ছোট।তবে বয়সের ব্যবধানটা ভাই বোনের ভিতর কখনোই ফুটে ওঠেনা।আর এর ব্যতিক্রম তাদের বেলায়ও হয়নি।সারাক্ষণ মারামারি করতেই থাকতো।আবার একজন একটু চোখের আড়াল হলেই অন্যজন পাগল হয়ে যেত।একবার শাহেদ মামা বাড়ি গিয়েছিল অার রিসা বাড়িতে ছিল।আর তাতেই রিসা পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল।দুই দিন জ্বরে বেহুস হয়ে ছিল।ভাই বোনের এ ভালোবাসা ছিল অতুলনীয়।কেও একজন অসুস্থ হলে আর একজনের যেন আরো বেশি কষ্ট হয়।সেবার রিসা অসুস্থ হলে শাহেদ সারা রাত তার পাশে বসে ছিল।আর কেঁদেছিল।তাদের দুটি দেহ কিন্তু প্রাণ ছিল একটা।
..
..
আর জন্মদিন আসলে ২জনের চোখে আর ঘুম আসতো না।কি গিফ্ট দেবে।কি খাবে।কোথায় যাবে।প্লানের যেন আর শেষ হয়না।
..
..
এসব কথা ভাবতেই শাহেদের মুখের কোণে হাসি জমতে থাকলো।হয়তো কোনো বোকামির কথাও মনে পড়ে যাচ্ছে।মনে পড়ে যাচ্ছে দুজনে মারামারি করে কান্না করার কথা।তারপর দুজনেই আম্মুর হাতে মার খাওয়ার কথা।কত কথাই তো মনে পড়ে।কিন্তু অতীত তো আর ফিরে পাওয়া যায়না।সবই এখন স্মৃতি।
..
..
রিসার বাড়ির কাছাকাছি চলে আসলো শাহেদ।দূর থেকেই ওর বাড়িটা দেখা যাচ্ছে।অনেক ছোট।একটা ইটের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা।তিন বছর আগে এই বাড়িতে আসে রিসা।সব বন্ধন ছিড়ে চলে আসতে হয়।এটাই তো নিয়ম।
..
শাহেদ আবার হারিয়ে গেল তিন বছর আগের সেই দিনটাতে।
..
..
সেদিন ছিল রিসার ১৭তম জন্মদিন।পুরো বাড়িতে রঙ বেরঙের বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছিল।আত্নীয়স্বজনদে­র বলার মতো অনুষ্ঠান ছিলনা।তাই নিজেরাই সবাই ছিল।সেদিন রিসার প্রিয় খাবার গুলো রান্না করা হয়েছিল।শাহেদ বাজারে গিয়েছিল ওর চকলেট আর আইসক্রিম আনতে।ওটা না হলে রিসার চলবেইনা।আর সকলের জন্মদিনেই ওদের আম্মু পায়েস তৈরী করবেই।সব কিছু তৈরী হয়ে গিয়েছিল।শুধু পায়েস রান্না হচ্ছিল।আর কিছুক্ষণ লাগবে হয়ত।এমন সময় রিসাকে ওর আম্মু বললো একটু রান্না ঘরে দিয়ে পায়েসটা দেখতে।উনি ততক্ষণে বাইরের দিকটা গুছিয়ে নেবে।রিসা রান্না ঘরে গেল।
..
২মিনিট পর
..
হঠাৎই একটা বিকট শব্দ।মনে হলো কোনো কিছু ফেটে গেছে।কেও কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখতে পেলো রান্না ঘর থেকে দাও দাও করে আগুন জ্বলছে।কারো বুঝতে পাকি রইলোনা যে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেই এটা ঘটেছে।চারিদিক থেকে মানুষজন ছুটে এলো।সকলের সহযোগীতায় আগুন নেভানো হলো।বের করে আনা হলো রিসার ঝলসে যাওয়া শরীরটা।তাকানোর মতো ছিলনা।কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো।
ততক্ষণে চকলেট, আইসক্রিম নিয়ে চলে এসেছে শাহেদ।একটি বারের জন্য আদোরের বোনটার ঝলসানো মুখটা দেখতে পেল।কিন্ত ও বিশ্বাস করতে চাইনা যে এই তার বোন।চিৎকার করে বলতে লাগল
--আমি বিশ্বাস করিনা।এ আমার পাগলি রিসা না।আমার রিসার মুখটা এতো কালো নয়।ওর মুখটা অনেক সুন্দর ছিল।ও আম্মু, অাম্মু।তুমি বলোনা এ আমার রিসা হতে পারেনা মা।প্লিজ একবার বলো মা।তোমরা কেও বলোনা কেন।কি হইছে তোমাদের।আচ্ছা থাক আমি আমার বোনকে ডেকে নিচ্ছি।ও বোন,বোন.কই তুই।তোর চকলেট নিবিনা।দেখ কত চকলেট আনছি।আইসক্রিম ও আনছি।কি হলো কই তুই।আই।নাহলে আমি চলে যাবো কিন্তু।
..
কিন্তু কোনো ডাকে আর সাড়া পেলোনা শাহেদ।তখন তার চিৎকারে যে আকাশ ভারী হয়ে যাচ্ছিল।এদিকে শাহেদের আম্মু সেই প্রথম থেকেই নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে রইল।তারপর থেকে আর কখনো কথা বলেনি।হয়তো সেদিন সে রিসাকে ওখানে না পাঠালে এটা হতোনা।সেই কষ্টে সে আর কথা বলেনি।
..
..
রিসা সেদিন আদোরের ভাইয়াকে ছেড়ে চলে অাসে অন্য এক বাড়িতে।সম্পূর্ণই ভিন্ন সে বাড়ি,ভিন্ন সে জগৎ।যে বাড়ি থেকে আর কোনো দিন ফিরে যেতে পারবেনা ভাইয়ার কাছে।কখনো বলতে পারবেনা ভাইয়া,আইসক্রিম খাবো।এনে দেনা প্লিজ।কিন্তু শাহেদ মনে করে আজও রিসা ওর কাছে আইসক্রিম এনে দিতে বলে।আবার ভাবে, নাহ হয়ত ওই বাড়িতেও কোনো ভাইয়াকে পেয়েছে যে ওকে চকলেট আইসক্রিম এনে দেয়।তবুও যখনই শাহেদ ছোট বোনের কবরটা একবার দেখতে আসে তখনই নিয়ে আসে অনেক চকলেট,আইসক্রিম।
আজও সে ভুল করনি।
.
হাটতে হাটতে এগিয়ে গেল পাচিল দেওয়া কবরটার কাছে।তারপর মাথার কাছে গিয়ে কবরের ওপর রেখে দিল আইসক্রিম আর চকলেটগুলো।
--আজ তোর জন্মদিনরে,বোন।কোথায় রে তুই।তোর জন্য আনছি এগুলো রে বোন।তোর তো আমাকে মনেই নেই।নিশ্চয় নতুন ভাইয়া কে পাইছিস।কিন্তু আমি তো তোকে আর পেলাম নারে।আমাকে একটু তোর কাছে নিবি।নে না রে।অনেক চকলেট দেবো তাইলে।জানিস কিছুদিন পর আমার বিয়ে।তোর ভাবি আসবে।তুই তো বলেছিলি যে আমার বিয়েতে অনেক মজা করবি।চলে আই বোন।তোর জন্য আম্মু আজও কথা বলেনা।আমাকেও ডাকেনা।আম্মু তোরে অনেক ভালবাসে রে।প্লিজ ফিরে আই একটি বার।
কান্নার করতে করতে কথাগুলো বলল শাহেদ।ওর কান্নার যেন আর শেষ হয়না।সেই তিন বছর আগের মতোই চিৎকার করতে লাগলো।
--তুই আসবিনা আমি জানি।তুই খুব খারাপ।আচ্ছা থাক আসতে হবেনা।আমি চলে যাচ্ছি।আর ডাকবোনা তোকে।
.
উঠে চলে আসল শাহেদ
..
--ভাইয়া........(মনের­ ভুলে ডাক শুনতে পেল)
পিছনে ফিরে তাকলো শাহেদ।কিন্তু কেও নেই।শুধুও শুন্যতা।আর পড়ে আছে ওই আইসক্রিম।সেটাও বা কতক্ষণ থাকবে।রোদ্রের তাপে গলে যাবে আইসক্রিম।তারপর বাতাসের সঙ্গে মিশে জলীয় বাস্পে পরিণত হবে।আর তার থেকে নামবে বৃষ্টি।যে বৃষ্টির কয়েকটা পড়বে রিসার কবরের ওপর।যাতে মিশে থাকবে তার ভাইয়ার আইসক্রিম এর স্বাদ।কিন্তু আদৌ সেই স্বাদটা রিসা পাবে তো!!!!