বুধবার, ৩ মে, ২০১৭

বিবেকের বদলা

--এই ছাড়ো, জাহিদ দেখে ফেলবে তো।
--অফিসে যাওয়ার আগে বউকে একটু আদর করবোনা?
--জাহিদ অন্য রুমে থাকলে করতে, এখন করলে দেখে ফেলবে না?
--ধ্যাত, এমন জানলে বাচ্চাই নিতামনা।
--ওই, বাচ্চাকে নিয়ে কিছু বলবানা।
--থাকো তুমি তোমার বাচ্চাকে নিয়ে, আমি অফিসে গেলাম।
--সাবধানে যেও।
--আচ্ছা, বাই।
.
জান্নাত এবং জাকিরের বিয়ের দশবছর পূর্ণ হবে মাত্র পাঁচদিন পর। বিয়েটা হয়েছিলো পারিবারিকভাবে, তবে বিয়ের পর দুবছর পর্যন্ত দুজনের মধ্যে মতের মিলন হয়নি খুব একটা। কয়েকদিন পরপরই জাকিরকে নিয়ে মেয়ে সংঘটিত বিভিন্ন কাহিনী শুনতো। বিয়ের দুবছর পর ঝগড়া, অবহেলাকে উপেক্ষা করেই তাদের একমাত্র সন্তান জাহিদ পৃথিবীতে আসে। জাহিদকে কেন্দ্র করেই জাকির এবং জান্নাতের সম্পর্কে দৃঢ়তা আসে। সেই জাহিদেরই বয়স এখন আট, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। জাহিদকে নিয়ে জান্নাত এবং জাকিরের সংসারটা চলছে ভালোবাসামাখা মুহূর্তগুলোকে সঙ্গী করেই।
.
রাতে জাকির বাসায় ফিরলো চোখে-মুখে কিছুটা বিষন্নতা নিয়ে। জান্নাত অনেকবার জিজ্ঞেস করেছিলো এর কারণ, কিন্তু বলেনি জাকির। জান্নাতের কথার কোন উত্তর না দিয়ে শুয়ে পড়ে জাকির। অতঃপর জান্নাত......
--আচ্ছা তোমার কি হয়েছে আমাকে একটু বলবা প্লিজ?
--হয়তো আমার চাকরিটা আর থাকবেনা।
--কেনো? কি হয়েছে?
--রিয়াদ স্যারের সাথে একটা অন্যায় করেছি।
--কি অন্যায় করেছো? আর তুমিতো সবসময়ই বলতে তোমার রিয়াদ স্যার তোমাকে অনেক ভালোবাসে।
--হ্যাঁ, কিন্তু আমার চেয়েও অন্য একজনকে হাজারগুণ বেশি ভালোবাসে।
--কাকে?
--তোমার নামেরই একটা মেয়েকে।
--তুমি কি ওই মেয়ের সাথে কিছু করছো?
--ওই মেয়েকে চিনলে তো তার পায়ে পড়তাম গিয়ে।
--ধ্যাত, ঠিক করে বলনা কি হয়েছে?
--পরে বলবো, আগে স্যারকে একটা কল করে আবারো সরি বলে নিই, তুমি খাবার রেডি করো।
.
খাবার-দাবার শেষ করে জাকির এবং জান্নাত দুজনই শুয়ে আছে, পাশেই ঘুমিয়ে আছে জাহিদ। জান্নাত জাকিরকে বললো.....
--তোমার রিয়াদ স্যার কি বললো?
--কল পিক করেনি, হয়তো রেগে আছে।
--কেনো? কি করেছো তুমি?
--সবসময়ই স্যারের ব্যাগ থেকে লেপটপ কিংবা এটা-ওটা বের করতে গেলেই একটা ডায়রি দেখতাম। স্যার যেখানেই যায়, ব্যাগে করে সেটাও নিয়ে যায়। তাই খুব ইচ্ছে হলো ডায়রিটা পড়ার। অনেক চেষ্টার পর আজকে সুযোগ পেয়ে গেলাম। স্যার লাঞ্চের সময় ব্যাগটা নিয়ে গেলেও ভুল করে ডায়রিটা নেয়নি, আসলে আমরা কয়েকজন মিলেই যুক্তিকরে ডায়রিটা সরিয়ে রাখি। স্যার চলে যাওয়ার পর ডায়রিটা পড়ে অনেককিছু জানতে পারি।
.
--তোমার চাকরি কেনো যাবে বললেনাতো?
--ডায়রি টা পড়ার অপরাধেই চাকরি যাবে।
--কিহ? তুমিতো বলতে তোমার স্যার তোমাকে অনেক ভালোবাসে, একটা সামান্য ডায়রি পড়ার জন্য চাকরি যাবে সেটা কেমন কথা?
--ওইটা সামান্য ডায়রি নয়, অসামান্য ডায়রি।
--তবুও একটা মানুষের চেয়ে তো আর দামী নয়।
--দামী মানুষকে ঘিরেই যে তার ডায়রিটা।
--ভনিতা না করে কাহিনী টা বলো।
--স্যার জান্নাত নামের একটা মেয়েকে ভালোবাসে, খুব ভালোবাসে। ১২বছর আগে স্যারের সম্পর্ক ছিলো মেয়েটার সাথে, তখন দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসতো। আসলে স্যার মেয়েটাকে ভালোবেসেছিলো মেয়েটার সীমাহীন ভালোবাসা দেখেই। কিন্তু হঠাত করেই বদলে যায় মেয়েটা, স্যারের ভালোবাসাকে ফিরিয়ে দেয়। স্যার অনেক চেষ্টা করেছিলো তাকে ফেরানোর, মেয়েটার পিছনে কুত্তার মতো ঘুরেছিলো। কিন্তু কোন লাভ হয়নি, মেয়েটা ফিরে আসেনি। শেষমেশ স্যারের ভালোবাসার প্রমাণ দেখতে চেয়েছে ওই নিষ্ঠুর মেয়েটা। প্রমাণস্বরূপ মেয়েটার সাথে যোগাযোগ করতে পারবেনা, মেয়েটার কথা কাউকে বলতে পারবেনা, মেয়েটার খোজ নিতে পারবেনা, শুধু দূর থেকে অজানাভাবে ভালোবেসে যেতে পারবে। স্যার মেয়েটিকে কথা দিয়েছিলো তাকে ছাড়া অন্য কোন মেয়েকে বিয়ে করবেনা। সব মিলিয়ে স্যার মেয়েটাকে অনেক ভালোবাসে তার প্রমাণ দিয়েছে। এখনো মেয়েটাকে স্যার খুব ভালোবাসে, তাই এখনো বিয়ে করেনি, মেয়েটার কথা কাউকে বলেনা, মেয়েটার খোজ রাখেনা। শুধু কষ্ট কমানোর জন্য ডায়রিতে লিপিবদ্ধ করে।
স্যারের লেখাগুলো পড়ে আমরা সবাই কেঁদে ফেলেছিলাম। এত্তো ভালোবাসার পরও যে মেয়েটা ভালোবাসা বুঝেনা, সে মেয়েটা মানুষনা, তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া উচিত।
.
ততক্ষণে জাকিরের চোখে আবারো জল চলে আসে। জান্নাতও তার চোখের জল মুছতে মুছতেই বললো...
--আমার চোখেও পানি এসে গেছে। তোমার স্যার সত্যিই অনেক মহান মানুষ, খুব যত্ন করেই ভালোবাসতে পেরেছে, তবে বোকা মেয়েটা বুঝলো না। ওই বেয়াদব মেয়েটাকে সামনে পাইলে আমি একঘন্টা ধরেই থাপরাইতাম।
--আমি ওরে পাইলে তো একদম খুন করতাম.
.
--আচ্ছা জাকির, তুমি আমাকে তোমার স্যারের মতো ভালবাসো?
--যদি সত্যি বলি, তাহলে উত্তরটা "না" হবে। আসলে সবাই এতোটা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারেনা। কাউকে ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা এবং কষ্ট পেয়েও তাকেই ভালোবাসার মাঝে পার্থক্যটা আকাশসম।
--হুম, সেটা ঠিক। আচ্ছা তোমার স্যার ওই বেয়াদব মেয়েটার জন্য কেনো নিজেকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছে?
--চুপ, আর এইভাবে বলোনা। আমরা ডায়রিটা পড়ার পর স্যারকে সবকিছু জানাই এবং বোঝানোর জন্য এই কথাটা বলার পরই স্যার অনেক বেশি রেগে যায়। স্যারের মতে যাকে ভালোবাসা যায়, তাকে খারাপ ভাবা যায়না।
--হুম, সত্যিই তোমার স্যার একটা পাগল, পাগলের মতোই এখনো ভালোবাসে মেয়েটাকে। তবে আফসোস সেই বোকা মেয়েটার জন্য, যে বুঝলোনা ভালোবাসা।
--হুম, মেয়েটা আসলেই অনেক বোকা। জানিনা মেয়েটা এখন কোথায় আছে, তবে সুখী হতে পেরেছে কিনা সন্দেহ।
--আচ্ছা জাকির, স্যারের রাগ কমলে আমাদের দশম বিবাহবার্ষিকীতে স্যারকে ইনভাইট করো।
--আমিও তাই ভেবে রেখেছিলাম। কিন্তু ডায়রিটা পড়ার পরই সব উল্টাপাল্টা হয়ে গেলো। তবুও চেষ্টা করবো।
.
পরেরদিন জাকির এবং অন্য সবাইমিলে রিয়াদ স্যারের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। সবার সম্মিলিত আবদার নাকোচ করার মতো এতো শক্ত মানুষ রিয়াদ স্যার নয়, তাই ক্ষমা করেই দেয়। তবে আদেশ এবং অনুরোধ করে যেনো ডায়রির লেখাগুলো না পড়ে, কারন জান্নাত নামের মেয়েটা চেয়েছিলো তার কথা অন্য কাউকে না জানাতে।
সব মেনে নেয় জাকির এবং তার কলিগরা। অতঃপর স্যারকে সহ অন্য সব কলিগকে জাকির-জান্নাতের দশম বিবাহবার্ষিকী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়। স্যার প্রথমে রাজি না হলেও অন্য সব কলিগদের অনুরোধে রাজি হতে হয়।
.
অফিস তাড়াতাড়ি শেষ করে সন্ধ্যার মধ্যেই সবাই চলে আসে জাকিরের বাসায়। রিয়াদ স্যারও আসে আটটার কাটা অতিক্রম করার আগেই। অফিসের সবাই জাকিরের বউয়ের সাথে এসেই পরিচিত হয়েছে, কিন্তু জাকিরের বউয়ের স্পেশাল মেহমান রিয়াদ স্যারের সাথে পরিচয় হয়নি এখনো। জাকির জাহিদকে কোলে করে এসে রিয়াদকে বললো, "স্যার, এই আমার ছেলে জাহিদ, ক্লাস থ্রিতে পড়ে।"
রিয়াদ জাহিদের সাথে কিছুক্ষণ দুষ্টামি করলো আর এটা-ওটা জিজ্ঞেস করলো জাহিদকে। কিছুক্ষণ পর জাহিদকে খুঁজতে আসে জাকিরের বউ, তখন জাকির রিয়াদ স্যারের সাথে তার বউয়ের পরিচয় করিয়ে দেয়। রিয়াদ জাকিরের বউয়ের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়, নিশ্চুপ হয়ে বসে পড়ে তত্ক্ষণাত্। কারন জাকিরের বউই যে রিয়াদের ভালোবাসার মানুষ, জান্নাত। কিন্তু জান্নাত এতটাই স্মৃতিহারা হয়েছে যে, সে চিনতেই পারেনি তার প্রেমের পাগলটাকে৷ অতঃপর অনুষ্ঠান শুরু করার জন্য খুব একটা কথা না বলে চলে যায় জান্নাত, তবে অনুষ্ঠান শেষে আড্ডার দাওয়াত দিয়েই গেছিলো রিয়াদ স্যারকে।
.
কেক কাটা হলো, আনন্দ মাস্তি খুব একটা হওয়ার আগেই খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শুরু হয়ে গেলো। অনুষ্ঠানের সব আলোই রিয়াদ স্যারকে ঘিরে, সব আয়োজনই স্যারকে কেন্দ্র করে। তাই চোখের জলকে বের হতে দিচ্ছেনা রিয়াদ, টলমলকৃত জলগুলোও স্বাধীনতা পাচ্ছেনা। রিয়াদ স্যার খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বাসায় ফেরার তাগিদ দেখালেও কাজ হয়নি অন্য সবার জন্য। কারন একটা আড্ডার আয়োজন করা হয়েছিলো ভালোবাসার গল্প নিয়ে। জান্নাত তখনও চিনতে পারেনি রিয়াদকে, জানেইনা স্যারের গল্পের নায়িকা সে নিজেই।
.
সবাই অন্যসব কাজ শেষ করে রিয়াদ স্যারকে ঘিরেই বসলো। জাকির এবং জান্নাত স্যারের সামনে, জান্নাতের খুব রিকুয়েস্ট ছিলো স্যারের ভালোবাসাময় গল্পটা প্রকাশ করার। হয়তো জান্নাত ছাড়া অন্যকেউ এই কথাটা বললে রেগে যেতো রিয়াদ, তবে না রাগলেও না বলার জন্য বিনীত অনুরোধ করেছে সবার কাছে। স্যারের চোখে পানি দেখে সবাই চুপ, আবারো সবাই স্যারের ভালোবাসাকে সম্মান প্রদর্শন করলো এবং ভালোবাসার গল্পকে আড্ডার বিষয় থেকে বিচ্যুতি দেয়া হলো। অতঃপর এই কথা সেই কথায় জমিয়ে আড্ডা হচ্ছিলো স্যারের মন ভালো করার জন্য। কিন্তু স্যারের মন ভালো হওয়ার সব দরজা যে বন্ধ হয়ে গেছে কেউ তা জানেইনা।
.
আড্ডা শেষে জান্নাত রিয়াদ স্যারকে তার গ্রামের বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলো, পাশ থেকে জাকির উত্তর দিলো, "আমাদের রামগঞ্জেই স্যারের বাড়ি।"
কৌতুহলী কণ্ঠে জান্নাত আবারো জিজ্ঞেস করলো, "রামগঞ্জ এর কোন গ্রাম?"
এবারো জাকিরই উত্তরটা দিলো, "পূর্ব ভাদুর"
এবার একদমই এক্সাইটেড হয়েই বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করলো জান্নাত, তবে কোন উত্তর পায়নি। জান্নাত আবারো জিজ্ঞেস করলো, "স্যার আপনাদের কি বাড়ি বললেন না তো?"
তখন রিয়াদ বাধ্য হয়েই উত্তর দিলো, "বাড়ির কথা সবাইকে জানালে ডাকাতির ভয় থাকে, তাই জানাতে পারলাম না।"
উত্তরটা দিয়েই স্যার বাসায় ফেরার তাগিদে প্রস্থান করলো জাকিরের বাসা থেকে।
.
রিয়াদ স্যার চলে গেলেও অন্য সবাই বসে রইলো আড্ডায়। ওদের আড্ডা টা ছিলো রিয়াদ স্যারের ভালোবাসাকে ঘিরেই। একজন বলছে মেয়েটাকে পেলে মারবে, কাটবে, উষ্টাবে, হ্যান করবে, ত্যান করবে ইত্যাদি এবং অন্যজন বলছে মেয়েটাকে পেলে তার পায়ে ধরে হলেও স্যারের কাছে এনে দিবে। কথার একপর্যায়ে একজন তো মেয়েটাকে গালি দিয়ে বলেই ফেললো, "কু*র বাচ্চা, শু*র বাচ্চা, ভালোবাসা যদি না ই বুঝস, তাহলে কেনো স্যারের মনে ভালোবাসা জাগাইলি, কেনো স্যারকে শয়তান বর, পাগল বর বলে আপন করে দূরে ঠেলে দিলি?"
কথাটা শুনে একটা শক খেলো জান্নাত। অতঃপর জান্নাত রিয়াদ স্যারের গ্রামের বাড়ির নাম জানতে মরিয়া হয়ে উঠলো। একজন কলিগ স্যারের ফুল ডিটেলস জানতো, তাই সে জান্নাতকে উত্তর বলে দেয়।
.
আড্ডা শেষ করে একে একে সবাই ফিরে যায় যে যার পথে। জাকির এবং জান্নাতও সব ঠিকঠাক করে শুয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারেনি জান্নাত, জাকির কাছে ঘেঁষতে চাইলেও কাছে নেয়নি মন খারাপের ছলে। জান্নাত শুয়ে শুয়ে ভাবছে, "যে মেয়েটাকে পেলে আমি একঘন্টা ধরে, থাপরাইতাম, যে মেয়েটাকে আমার স্বামী খুন করতে চায়, যে মেয়েটাকে অফিসের সবাই খারাপ মেয়ে হিসেবে গালি দেয়, সেই মেয়েটাকেই রিয়াদ স্যার পাগলের মতো ভালোবাসে এবং আর সেই খারাপ মেয়েটাই আমি।"
.
পরদিন সকালে জাকির অফিসে যাওয়ার আগেই তার ফোন থেকে রিয়াদ স্যারের নাম্বার রেখে দেয় জান্নাত। অতঃপর একটা সময় জান্নাত রিয়াদ স্যারকে ভয়ে ভয়েই কল করে.....
--হ্যালো
--হ্যালো, কে বলছেন?
--আপনি কি আবির?
--নাহ, কল কেনো করেছেন?
--একটু কথা ছিলো ফারহান আবিরের সাথে।
--আর কোন কথা না থাকাটাই ভালো।
--আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?
--নাহ, আর চিনতেও চাইনা। সুখে আছেন, সুখেই থাকেন।
--আর আপনি? আপনি কেনো বিয়ে না করে অসুখী হচ্ছেন?
--আমি একজনকে ভালোবাসি, আর আমার মতে ভালোবাসার অর্থ এটাই।
--ভুল অর্থ, ভালোবাসা মানে তো সুখে থাকা, সুখে রাখা।
--হয়তো। কিন্তু আমাকে সে সুখে রাখেনি, তাই আমি অসুখী। আর কল না দিলেই ভালো হবে৷ ভালো থাকবেন, বাই।
.
কলটা ইচ্ছে করে কেটেছে ঠিকই, কিন্তু এই মানুষটার সাথেই ঘণ্টার পর ঘন্টা কথা বলার অতৃপ্তিটা রয়ে গেছে রিয়াদের। চোখের জল তার প্রমাণও দিচ্ছে সঠিকভাবে, ওপাশে জান্নাতও ভেঙ্গে পড়েছে কান্নায়। কেউ তাকে এতো ভালোবাসে, কিন্তু না বুঝে তাকে কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে আজ নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে তার। তার কাছে ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে, তবে জাকির এবং জাহিদের অবাধ্য বাধাটা ডিঙ্গানোর ক্ষমতাও তার নেই। তাই চোখের জলেই মাশুল গুনছে সে।
.
জাকির এবং জান্নাতের সম্পর্কটা আগের মতো নেই, বদলে গেছে জান্নাত। সবসময় চুপচাপ থাকে সে, জাকিরের সাথেও খুব একটা কথা বলেনা। জান্নাতের এমন আচরণের কারনে সংসারে সবকিছুই এলোমেলো হয়ে গেছে। জাকিরও আজকাল জান্নাতের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে, কারন জান্নাত ভালোভাবে কথা বলছেনা, জাহিদের দিকেও খুব একটা খেয়াল রাখছেনা। জান্নাত এমন করছে কিসের জন্য, তার নির্দিষ্ট কারণটাও জানতে পারেনি জাকির। সমস্যাটা একসময় প্রবল রূপ নেয়, ফলে ডিভোর্সের কথা চিন্তা করে জাকির।
.
বিয়ের এগারো বছরে জাহিদের মতো সুন্দর একটা সন্তানকে রেখেও ডিভোর্স দিতে হবে, এমনটা কখনো ভাবেনি জাকির। রিয়াদের কানে কথাটা যাওয়ার পরই রিয়াদ দেখা করে জাকির জান্নাতের সাথে। জান্নাত চোখের জলে ভাসছে রিয়াদের দিকে তাকিয়ে। জাকিরের কাছ থেকে সব কাহিনী শুনে জান্নাতকে উদ্দেশ্য করেই বললো, "এমনটা কেনো করছেন?" অতঃপর জান্নাত উত্তর দিলো, "আমার জন্য একজনের জীবন নষ্ট হয়ে গেছে, তাই তার প্রায়শ্চিত্ত করছি।"
কথাটা বলার পরেই জান্নাতের গালে কষে একটা থাপ্পড় দিয়ে রিয়াদ নিজেই কান্না শুরু করেছে। চোখের জলে ভাসতে ভাসতেই বললো.......
--জীবন নষ্ট হয়েছে একজনের, তাই বলে আরো দুজনের নষ্ট করবেন? জাকির তো আপনাকে ভালোবাসে, সে তো আপনার স্বামী, তাকে কেনো কষ্ট দিচ্ছেন? আর জাহিদের কি দোষ? সে তো এখনো আপনাকে ছাড়া চলতে শিখেনি, তাহলে কেনো এমন পাগলামী করছেন?
.
সবাই নিশ্চুপ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে, হঠাত্ করেই জান্নাত এসে রিয়াদকে জড়িয়ে ধরলো আর কাঁদতে কাঁদতে! বললো.....
--পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন, আমি আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি, আপনার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছি।
জান্নাতের এমন কাহিনী দেখে কারো বুঝতে বাকি নেই, রিয়াদ স্যার যে মেয়েটাকে এখনো পাগলের মতো ভালোবাসে, সে জান্নাতই হলো জাকিরের বউ জান্নাত।
অতঃপর রিয়াদ জান্নাতকে ছাড়িয়ে বললো, 
--"আমাকে আমার মতো থাকতে দেন, আমার যা হবার হয়ে গেছে। তবে জাহিদ, জাকিরকে কষ্ট না দিলে আমি একটু হলেও সুখী হবো। যদি ভাবেন আপনি আমাকে কষ্ট দিয়েছেন, তাহলে জাহিদ, জাকিরকে সুখী করলেই আমি আমার কষ্ট সেরে যাবে।"
.
সবকিছু বুঝে-শুনে জাকির চোখের জল মুছতে মুছতেই বললো.....
--"স্যার, আপনি চাইলে জান্নাতকে নিয়ে যেতে পারেন। হয়তো আপনার কাছে থাকলেই জান্নাত বেশি সুখী হবে, আপনিও সুখী হবেন৷ আর এইরকম কিছু হলেই আমরা খুশি হবো।"
তখন রিয়াদ বলতে বাধ্য হলো......
--আমি জান্নাতকে কখনো আমার করে পাওয়ার আশায় ভালোবাসিনি, শুধু তার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ভালোবেসেছি। যদি সে কখনো আমাকে ভালোবেসে থাকে, তবেই আমার ভালোবাসা স্বার্থক এবং আমার কাছে ভালোবাসার মানে হলো এটাই।
তাছাড়া জান্নাত আমার কাছে থাকলে কেউ সুখী হতে পারবোনা, বরং জান্নাত যদি জাহিদ এবং তোমাকে নিয়ে আগের মতো করেই থাকে, তাহলে আমিও সুখী হবো।
.
রিয়াদের এমন মন্তব্যে জান্নাত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো......
--"কাউকে কষ্ট দেয়ার বদলে কষ্ট পেতে হয়, সময় হয়তো অন্য কোন মানুষ দ্বারা কিংবা নিজ বিবেক দ্বারাই বদলা নেয়। তবে বিবেক দ্বারা কষ্ট পাওয়াটা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন শাস্তিস্বরূপ এবং এই কঠিন শাস্তিটাই আমি পাচ্ছি।
রিয়াদ স্যারের ভালোবাসা সম্পর্কে জানার পর থেকেই আমি মরণ যন্ত্রণায় ভুগছিলাম, খুব অপরাধী মনে হচ্ছিলো নিজেকে। জাহিদ-জাকির একপাশে এবং অন্যপাশে রিয়াদ স্যারের ভালোবাসা, কোনটা সঠিক বুঝতে পারছিলাম না, যার জন্য আজকের এই দিন দেখতে হলো। রিয়াদ স্যার যেহেতু বলছে আমি জাহিদ-জাকিরকে নিয়ে থাকলে তিনি খুশি হবেন, তাহলে আমি তাই করবো৷ কিন্তু শর্ত হলো তিনিও যেনো বিয়ে করে তার উজাড় করা ভালোবাসা দিয়ে বউকে ঘিরে রাখে, তাহলে আমিও কিছুটা স্বস্তি পাবো।"
.
কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর রিয়াদ উত্তর দিলো......
--"আমি অন্য কাউকে উজাড় করে ভালোবাসতে পারবোনা, তাই কাউকে বিয়ে করে ঠকাতে চাইনা। তবে আমার মতে ভালোবাসা মানে সবসময় ভালোবাসার মানুষের জন্য মঙ্গল কামনা করা, যেনো সে যেখানেই থাকে, ভালো থাকে সবসময়। আমিও সেটাই চাই এবং আমি বিয়ে করলে যদি সে একটু স্বস্তি পায়, তাহলে তাই করবো৷
সুখে থাকুক প্রিয় মানুষটি।"
.
প্রকৃতপক্ষে এটাই বাস্তব যে, কাউকে কষ্ট দিয়ে সুখী হওয়া যায়না৷ হয়তো ক্ষণিকের জন্য সুখী হতে পারলেও একটা সময় অর্জিত সুখগুলোও অশান্তিতে রূপ নেয়৷ মানুষকর্তৃক কষ্ট না পেলেও বিবেকের আদালতে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়৷

বউ বউ লাগছে

অনেক দিন ধরে খালার বাসায় যাই না। অনেক দিন বললে ভুল হবে, অনেক বছর ধরে যাই না। সেই ক্লাস নাইনে থাকতে একবার গেছিলাম, তারপর বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় এসে পড়াশোনা শুরু করি " তাই বাড়িতে গেলেও আর খালার বাসায় যাওয়া হয় না। তাই ভাবলাম এবার দীর্ঘ ছুটি নিয়ে বাসায় গিয়েও খালার বাসায় যাব বেড়াতে।
.
সবাইকে খুব মিস করছি, খালা, খালু আর,,,,,,,,, ধ্যাত নামটাই তো মনে আসছে না। ও আমার ১ বছরের বড়, ও হ্যাঁ এবার মনে পড়ছে, ওর নাম সিনথিয়া। বয়সে বড় হওয়ার জন্য আমি যখন ছোট ছিলাম তখন ওকে আপু বলেই ডাকতাম।
.
আর যখন ছোট ছিলাম তখন খালার বাসায় গিয়ে ওর সাথে বউ - জামাই খেলতাম। ও বউ হতো আর আমি বর সাজতাম। তারপর দুজনে মিলে খেলতাম, আমাদের কুটুম ছিলো কয়েক টা পুতুল।
.
তখন ও অনেকটা শ্যামলা টাইপের ছিলো,, তাই ওকে কালো বলে অনেক ক্ষ্যাপাতাম। আর ও রেগে আমাকে মারতো। কিন্তু এখন তো বড় হইছি, এখন ওসব কথা মনে পড়লে হাসিও পায় আবার লজ্জায় করে।
.
আমি নীল এবার অনার্স ফাইনালে , আর সিনথিয়াও বোধ হয় আমার সাথে একই ক্লাসে পড়ে,, কারণ ও আমার বয়সে বড় হলেও ছোট থেকে আমরা এক ক্লাসেই পড়তাম। যদি ও কোনোটায় ফেল যায় তাহলে আমার নিচে আর তা নাহলে আমার সাথেই পড়বে, এটা স্বাভাবিক। 
.
আমি এখন বাসায় না, আমি ঢাকা থেকে পড়াশোনা করছি, আর ওরা আমরা এক জেলায়ই থাকি , শুধু এলাকা ভিন্ন। আমি চাইলে ওখানেই আমাদের কলেজে ভর্তি হতে পারতাম কিন্তু মা বাবার জন্য পারিনি। কারণ তাদের ইচ্ছে আমাকে ঢাকা পড়াবে। তাই আমিও ঢাকা চলে আসি।
.
খালা খালু হয়তো এখন আমাকে দেখে চিনতেই পারবে না, আর সিনথিয়া আপু তো দূরে থাক, ও তো অনেক আগে আমাকে দেখছে এখন চেহারা মনে রাখতে পারবে কি করে? আমার চেহারায় অনেক পরিবর্তন আসছে, তাই অনেক দিন না দেখার কারণে হয়তো চিনতে পারবে না।
.
খালার সাথে কয়েক দিন পরপর ফোনে কথা হয় তবে আর কারও সাথে হয় না, কে জানে আপু কেমন আছে আর কি রকম হইছে।
এখানে এসেছি অনেক বছর হইছে তবুও আজকে কেন জানি একটু বেশীই মনে পড়ছে ওদের।
.
২০ দিন পর,,,,,,
স্যারের পায়ে ধরে ১ মাসের ছুটি চেয়ে এনেছি,, আবার কলেজ একটা কারণে দশ দিনের বেশি বন্ধ আছে আর দিন আমি ছুটি চেয়ে আনলাম।
.
উফফফ বাচা গেল,, এখন টিকিট কেটে ছো মেরে বাসায় চলে যাব তারপর খালার বাসায় যাব।
.
বাসায় গিয়ে কলিং বেল বাজালাম আর মা এসে দরজা খোলে দিল,,,
- জ্বী বাবা তুমি কে?
- হোয়াট?
- এখানে কি চাও?
- মা আমি নীল।
- আমার ছেলের নাম তুমি জানলে কি করে?
- উফফফ, আমিই তোমার ছেলে নীল।
- আমার ছেলে তো আমাকে না জানিয়ে বাসায় আসে না।
- যাও তো ঢুকতে দাও। ( জোর করে ঘরে ঢুকলাম)
- পাগল ছেলে,, এভাবে না জানিয়ে আসলি কেন?
- সারপ্রাইজ।
- সত্যি করে বল বলছি,,
- তুমিও না,,,, খালার বাসায় যাব। 
- হইছে এবার বুঝছি।
- কি বুঝছো?
- এতো দিন পর সেই পুতুল খেলা বউটার কথা মনে পরছে।
- মানে!!!!
- সিনথিয়ার সাথে দেখা করতে যাবি?
- ওর সাথে দেখা করে আমি কি করবো?
- বিয়ে করা বউয়ের সাথে দেখা করে কি করবি মানে!!!!
- বউ????
- ছোট বেলায় যখন বউ জামাই খেলতি তখন তো বউ বলেই ডাকতি।
- মা য়য়য়,,,, ও আমার বড়, আমার আপু হয়, ওকে বউ করবো কেন?
- আইচ্ছা,,, গিয়ে যখন ওকে দেখবি তখন এ কথা মনে থাকলেই হলো,,,
- ফ্রেস হয়ে আসি খাবার দাও,, কাল সকালেই যাব ওখানে। আর কি সব উল্টো পাল্টা ভাবো, যত্তোসব।
.
হুম, ফ্রেস হতে গেলাম। বাসায় এসে একটু দাড়াতেও পারলাম না, মন মেজাজ গরম করে দিল। ওকে দেখে আমার বউ বানানোর ইচ্ছে হবে কেন? যত্তোসব """ আর ও সেই আগের মতো শ্যামলাই রয়ে গেছে বোধ হয়,, আর আমার পেছনে কত সুন্দরী মেয়ে ঘুরঘুর করে। আর সিনথিয়া এতো দিনে কেমন হইছে কে জানে।
.
বিকেলে বাসায় আসলাম তাই খেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
তারপরের দিন সকাল ১০টায় রওনা হলাম ওদের বাসার দিকে,,
.
স্টান্ডে এসে নামলাম,, 
একটু ভেতরে যেতেই আমার বাতি নিভে গেল,,, চিনতে পারছি না কিছু,, সব চেন্জ হয়ে গেছে এ কয় বছরে,, এখন কি হবে?
.
ওয়াও,,, এতো সুন্দর পরী,, আমার সামনে দিয়ে এগিয়ে আসছে ধীর পায়ে ফোন টিপতে টিপতে। কেউ এতো সুন্দর হতে পারে? :( ক্রাশ)
ধ্যাত, চিনি না জানি না, এভাবে কেউ কারও উপর ক্রাশ খায় নাকি,,
.
যাচ্ছে যাক, আমার এতো ক্রাশ খেয়ে কাজ নেই,,,
অতঃপর আমি মাথা নিচু করে পরী কে অতিক্রম করতে লাগলাম,,
আর হটাৎ কে যেন আমার কলার ধরে দিল এক টান,,
মাথা উচুঁ করতেই দেখি, ওই পরী আমার কলার ধরে আছে আর আমার দিকে রাগী লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে।
.
- জ্বী আপু, এটা কি হলো আমার কলার ধরলেন কেন?
- এইতো ভদ্র ছেলে, আমাকে সবসময় আপু বলবি আর আপনি করে বলবি, এখন চল আমার সাথে।
- মামমমম মানে, কই যাব আপনার সাথে?
- আমার বাসায়।
- একি আমি আসছি খালার বাসায় আর আমি আপনার সাথে যাব কেন? আপনি কে?
- আরে হনুমান, তোর খালাই আমার আম্মু।
- হোয়াট, তার মানে তুই সিনথিয়া?
- ওই তোকে না বলছি আপনি করে বলতে।
- ধুর, বউকে কেউ আপনি করে বলে নাকি? ( মার কথা বোধ হয় সত্যি হয়ে গেল,,,, ও মা তোমার ছেলে প্রেমে পরে গেছে গো, তাও আবার ১ বছর সিনিয়র মেয়ের)
- এই দ্যাখ ভালো হবে না কিন্তু। আগের কথা ফেলে দে, এখনকার কথা ভাব,, আর এখন আমার সাথে চল।
- ওকে।
- আর আমাকে এখানে আসছি এটা জানলি কেমনে?
- তোর আম্মু বলে দিছে ফোন করে তুই এখানে আসছিস আর আমার আম্মু জানতো তুই কিছু চিনতে পারবি না তাই আমার আম্মু আমাকে জোর করে এখানে পাঠিয়ে দিছে।
- জোর করে মানে? জোর করে না পাঠালে তুই আসতি না?
- দরকার কি?
- ওহ্,, তাইতো,, দরকার কিসের আবার। ( মনটা খারাপ হলো)
- হু, জোরে হাট, 
- আমাকে চিনলি কেমনে?
- ফোনে সব বলে দিছে তোর বর্ণনা। আর তোর কাছে কি থাকবে সেটাও ,তোর এই নীল ব্যাগ, নীল শার্ট প্যান্ট,, সব শুধু নীল আর নীল।
- আমার নামটাই নীল,, তাই সবকিছু নীলই রাখি সবসময়। 
- হুম,
.
তার পর খালার বাসায় চলে এলাম ওর সাথে।
বিশ্রাম নিতে লাগলাম বিছানায় শুয়ে,,, ভাবলাম,,, ওর তো অনেক পরিবতর্ন আসছে, এখন বেশী মিশতে চায় না। রেগে কথা বলে। আর খুব শক্ত ও, ওকে যেকোনো ভাবে গলাতেই হবে। নাহলে ওকে হারাতে হবে।
.
যেকোনো ভাবে ওর মন জয় করবই। আজ থেকেই মিশন শুরু করবো, যা হবার হবে।
তারপর উঠে পড়লাম,, অনেক সময় বিশ্রাম নিলাম, ঘুমও এসে গেছিল, তিনটা বাজে,, তাই খেয়ে নিয়ে সিনথিয়ার ঘরে গেলাম।
.
গিয়ে দেখি ম্যাসেঞ্জারের শব্দ " তার মানে ও ফেসবুকে চাটিং করছে কার সাথে, হুম, দেখতে হবে ব্যপার টা, যেই উকি দিলাম ওমনি আমাকে দেখে ফেললো,,
.
- এই তুই এখানে কি করিস?
- চল একটু ঘুরতে যাই।
- আমি পারবো না, তুই একা যা।
- চল না, লক্ষী বউ আমার।
- মুখ সামলে কথা বলবি।
- কেন?
- ভুলেও আর বউ বলবি না।
- কেন?
- আমি তোর বউ নাকি? আমাকে আপু বলবি।
- বলবো না কি করবি? তুই আমার বউ বউ বউ।
- যা এখান থেকে ( চিৎকার দিয়ে)
- ওকে,,
( চিৎকার শুনে খালা আসলো)
.
- নীল কি হইছে?
- দেখো না খালা ওকে বললাম ঘুরতে নিয়ে যেতে কিন্তু ও যাবে না।
- তোর ফোন কিন্তু ভেঙে দিব সিনথিয়া, সবসময় ওটা নিয়ে পড়ে থাকিস, আর ছেলেটা এতো দিন পর আসলো,, ঘুরতে নিয়ে যা বলছি,,
.
- আচ্ছা যাচ্ছি যত্তোসব।
.
তারপর দুজন মিলে ঘুরতে বের হলাম। অনেক দূর এসে পড়ছি তবুও একটা কথা বলিনি,, কথা বললেই বিপদ হবে, কারণ ও এখন আমার উপরে এমনিতেই খুব রেগে আছে।
.
উফফফ ও এমন কেন? আজ আসলাম, একটু ভালভাবে কথা বললে কি এমন হতো।
হাটতে হাটতে কলাবাগানে এসে গেলাম।
.
ফুরফুরে বাতাস বইছে চারদিক দিয়ে হাটতে খুব ভালো লাগছে। এখন যদি ওর হাত টা ধরে হাটতে পারতাম তাইলে আরও ভালো হতো।
হটাৎ কিসের যেন শব্দ হলো, পেছনে তাকিয়ে দেখি সিনথিয়া মাটিতে বসে আছে,,
.
দৌড়ে ওর কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি পা অনেক টা কেটে গেছে, আর রক্ত পড়ছে। দেখে খুব কষ্ট হলো,,,
- এসব কি করে হলো?
- ওখানে পেরেক ছিলো আর জুতা ছিদ্র হয়ে পায়ে লেগে গেছিল।
- দেখে চলতে পারস না?
- ওটা দেখলে তো আর পা দিতাম না।
- হইছে হইছে, ( পকেটের রুমাল টা দিয়ে বেধে দিলাম)
- এখন বাড়ি যাব কেমনে? বাইক নিয়ে আয় যা। 
- বাইক না আমি ওই কলাগাছের ভেতর থেকে প্লেন নিয়ে আসছি।
- এমন করে বলছিস কেন?
- কলাগাছের ভেতর বাইক পাব কই?
- তাইলে আমি যাব কি করে এখন?
- ওয়েট,,, ( কোলে তোলে নিলাম)
- নীল ভালো হবে না কিন্তু, ছাড় বলছি ছাড়।
- রাস্তা পর্যন্ত যেতে দে।
- একটুও দরকার নেই, আমি যেতে পারবো।
- ছাড়বো না, আজকে আমার বউকে কোলে নিয়েছি ছাড়বো কি করে?
- ঠাস,, এরপরও ছাড়বি না? ছাড় এবার।
- মারলি কেন?
- ছাড়তে বলছি,
- তোর রাস্তা পর্যন্ত যেতে কষ্ট হবে, তাই এতদূর আমিই নিয়ে যাই।
- তোকে আমি,,,, লজ্জা করে না তোর? আমি তোকে বকলাম মারলাম তবুও লজ্জা করে না?
- বউয়ের কাছে কি কেউ লজ্জা পায়।
- হারামজাদা,,
- গলা টা ধর তো,
- ( ইচ্ছা না থাকতেও বাধ্য হয়ে সিনথিয়া আমার গলা ধরলো) 
.
তারপর বড় রাস্তার পাশে যেতেই নামিয়ে দিলাম আর আমাকে রেখেই একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেল। আর আমি উঠতে চাইলে দুইটা ঝাড়ি দিয়ে নামিয়ে দিল। কি আর করবো, একা হেটেই গেলাম।
.
কেবল তো মাত্র একদিন হলো, আর পচিঁশ দিন থাকবো এখানে দেখি আমাকে ভালো না বেসে যায় কই। ছোট হইছি তাতে কি হইছে ভালবাসা নিজেই আদায় করে নিব।
.
তারপর বাসায় গিয়ে দেখি বিছানায় শুয়ে আছে আর এখনো রুমাল টা ওর পায়ে আছে। আমি গিয়ে কিছু বললাম না, রুমাল টা খুলে ফেললাম,, আর ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিলাম কিন্তু কিছু বললো না, অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল শুধু।
.
তার পরের দিন,, সকালে দেখি হাটতে বের হইছে বাইরে ঘাসের উপর দিয়ে। একটু খুড়িয়ে হাটছে, মনে হয় এখনো একটু ব্যথা আছে।
- এইযে মিষ্টি বউ ব্যথা গেছে?
- তুই আবার বউ বলছিস?
- আগে বল ব্যথা আছে নাকি?
- একটু আছে,,
- চিন্তা করে না বউ, ঠিক হয়ে যাবে।
- আমি তোর কোন জনমের বউ।
- এই জীবনের এবং ভবিষ্যৎ জীবনের।
- দ্যাখ বাড়াবাড়ি করবি না, আমার বয়ফ্রেন্ড আছে।
- তাতে কি হইছে, ব্রেকআপ করে দে, আমার বউ হয়ে যা।
- আরে আমি তোর বড়, আমার পেছন ছেড়ে দে প্লিজ।
- বড় হইলে কি বিয়ে করা যায় না নাকি?
- জানি না, তুই এখান থেকে চলে যা, সয্য হয় না তোকে।
- যাব না। আই লাভ ইউ বউ। ( পাশের গাছ থেকে গোলাপ ফুল দিয়ে)
- তোকে আমি,, ওই দাড়া।
- আমাকে ধরতে পারবি না, তোর পায়ে ব্যথা পাবি।
- ধ্যাত,,, ( ঘাসে বসে পড়ছে)
- এই তুই না অনেক সুন্দর (ওর কাছে এসে চোখে চোখ রেখে বললাম)
- চোখ কিন্তু গেলে দিব।
- তোর চোখ টা দে আমার টা নে যাতে সবসময় তোকে দেখতে পারি।
- তোকে আজ মেরেই ফেলবো ( কাছে এসে গলায় ধরছে)
- তাই নাকি? ( গলা ছাড়িয়ে জড়িয়ে ধরলাম)
- (অতঃপর ঠাস)
.
এক বালতি রাগ নিয়ে চলে গেল। তুই ভুলে যাস না আমি ছেলে,, তোর চেয়ে শক্তি আর লম্বা সব দিক দিয়েই আমি বেশী,, আমার সাথে পারবি না। আমার মিষ্টি বউ।
.
তার পরের দিন থেকে ঠিক এই রকম ভাবে প্রতিদিন আমি ওকে কোনো ছুতো দিয়ে আমার সাথে নিয়ে যেতাম আর ফুল দিয়ে প্রপোজ করতাম। আর বাসায়ও আমি ওর পেছনে লেগে থাকতাম সবসময়, ১ মিনিটের জন্যও পিছু ছাড়তাম না।
.
ও আবার কলেজে যেতো প্রতিদিন, আর আমি ওকে নিয়ে যেতাম আর নিয়ে আসতাম।
এভাবে চলে গেল ২০ দিন।
কিন্তু আমি এখনো আমার ভালবাসার কোনো উন্নতি দেখতে পেলাম না।
.
সবসময় পেছনে পরে থাকি, কিন্তু এখনো একটু জায়গা করে নিতে পারলাম না ওর মনে। 
একুশ দিনের দিন,,
ভাবলাম কতগুলো চুড়ি আরেক টা শাড়ি কিনে দেই ওকে। 
 .
তাই সকালে বের হলাম একটু ঘোরাঘুরি করে ১১টার সময় বাসায় ফিরে আসলাম। দেখি ওর রুমে বসে টিভি দেখছে।
- আমার বউটা কি করছে?
- তুই এ ঘরে আসছিস কেন?
- এ মা, আমার বউয়ের ঘরে আমি আসবো না তো কে আসবো?
- দ্যাখ, মাথা গরম করবি না, এমনই খুব রাগ উঠছে এখন।
- কেন?
- তোর জেনে লাভ কি? বেরিয়ে যা বলছি,,
- এইনে তোর জন্য আনছিলাম,, নীল শাড়ি, আর সবুজ, নীল, লাল অনেক গুলো চুড়ি, ধর ( হাতে দিলাম)
- তোকে এগুলো আনতে বলছি আমি? ( নিচে ফেলে দিল)
- নিবি না বললেই পারতি, ফেলে দিলি কেন? ( ওগুলো উঠিয়ে বিছানার একপাশে রেখে চলে আসলাম)
.
আমার মনে হয় কপাল খারাপ, এখনো ওর মনে জায়গা করে নিতে পারলাম না। তাই ভাবলাম ওকে আর বিরক্ত করবো না। আর চার দিন আছি ওর সাথে ভালো হয়েই থাকবো। ওর পেছনে লেগে নিজেকে ওর কাছে ছোট করে লাভ নেই।
.
তার পরের দিন, আজ সকাল ১০টা বেজে গেল এখনো উঠি নাই বিছানা ছেড়ে, চোখ চেয়ে শুয়ে আছি। সাড়ে দশটার সময় খালা আসলো,,,
- নীল উঠতো, এতো সময় কেউ ঘুমায়?
- আচ্ছা।
- খাওয়া হলে সিনথিয়া কে নিয়ে একটু মার্কেটে যাস।
- আচ্ছা দেখছি।
.
খেয়ে নিয়ে সিনথিয়া কে নিয়ে মার্কেটে গেলাম। রিক্সা করে আসছি, তবুও আজ আর একটা কথা বলিনি। কেনার সময় ওর যেটা খুশি কিনেছে আমি কিছু বলিনি, একটু পর একটা দোকানের সামনে গিয়ে হা করে দাড়িয়ে পড়লো।
.
- আপু কি হইছে এখানে দাঁড়ালেন কেন? ( ওর কথাই এখন মেনে চলছি)
- এমনি,,
- চলুন ( ওর দৃষ্টি ভেদ করে তাকিয়ে দেখি ও দুটি কাপলদের দিকে তাকিয়ে আছে দোকানের ভেতর)
- একটু দাঁড়া, একটা ফোন করবো,
- তাড়াতাড়ি,
.
ফোন বের করে কল দিতেই সেই পাশের কাপলদের মধ্যে ছেলেটির ফোন বেজে উঠলো,, ছেলে বোধ হয় এখনো ওকে দেখেনি। তাই ফোন কেটে দিল ওর জিএফ এর সামনে।
.
সিনথিয়া আপু আরও কয়েক বার দিল ফোন, যে কয়েক বার দিল সেই কয়েক বার ওই ছেলের ফোন বেজেছে আর কেটে দিছে।
বুঝতে পারলাম কি হয়েছে,, ওই ছেলেটাই বোধ হয় ওর বয়ফ্রেন্ড ছিলো,, আর এখন আপুর অনুপস্থিতিতে ওই মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বের হইছে। 
.
- নীল এই নীল, ব্যাগ গুলো ধর তো।
- আচ্ছা দিন,,
.
আরে বাবা,, কি মেয়েরে এটা, ব্যাগ গুলো আমার কাছে দিয়ে দৌড়ে গিয়ে সবার সামনে ওই পোলারে ঠাস কইরা একটা দিল, তারপর আবার আমার দিকে আসছে, এইরে আবার যে কি করে,,
.
- নীল চল এখান থেকে ( আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে চললো)
.
এটা কি হলো, হটাৎ আমার হাত ধরলো কেন? বাঘিনীটার আবার কি হলো, ওর কাছে যেতে দেয়নি এখন আবার হাত ধরছে,, ছোট ভাইয়ের হাত ধরতেই পারে তাই না।
.
তারপর বাসায় এসে পড়লাম। বাসায় এসে ফ্রেস হলাম, তারপর রুমে যাওয়া মাত্রই কোথা থেকে এসে আমার কাছে বসে পড়লো ধপাস করে। আমি কিছু বললাম না, আমি আমার চিন্তায় ডুবে রইলাম।
.
তারপরের দিন,,
আমার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে প্রায়। আজকে দিয়ে আর মাত্র চার দিন আছি, তারপরই ফিরে যাব আবার ঢাকায়।
সবার চাওয়া পাওয়া বোধ হয় পূর্ণ হয় না। কারও অপূর্ণও হয়। তেমন টা আমার হইছে। 
.
সেদিন আর সিনথিয়ার কাছে যাইনি। নিজের রুমেই বসে টিভি দেখছি। শুধু একবার দরজার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আর ওমনি কে যেন দরজার কাছ থেকে সরে গেল, আমার এতো কিছু জেনে দরকার নেই কে ছিলো আর না ছিলো " যত্তোসব।
.
তার পর দুই দিন গেল, এ দুই দিনে সিনথিয়া আমার কাছে আসছিল শুধু ডাকার জন্য, এখানে ওখানে যেতে আর খেতে। কিন্তু এ দুই দিন আর খালাকে আসতে দিল না আমার কাছে, কিন্তু কেন?
.
চব্বিশ দিনের দিন বিকেলে রুমে বসে মিনি মিলিটারি গেমস খেলছি। হটাৎ ফোনটা কে যেন ছু মেরে কেড়ে নিল। দেখি সিনথিয়া,, আর আজ সেই আমার দেওয়া শাড়ি আর চুড়ি পরে আসছে। আর মিটিমিটি হাসছে।
.
- আপু আমার মোবাইল টা দিন।
- বাব্বা আমার বরটা তো খুব ভদ্র হইছে।
- আপু ফোন দিন।
- চল আমার সাথে।
- কই?
- ঘুরতে যাব।
- এখন পারবো না।
- থাপ্পড় খেলেই পারবি।
- আচ্ছা চলুন,,
.
অতঃপর আজ আমাকে বাধ্য হয়ে ওর সাথে যেতে হচ্ছে। কিছুদূর যেতেই,,,
- ওই একটু কোলে নে তো, পা টা খুব ব্যথা করছে।
- ব্যথা করছে কেন?
- জানলে কি আর তোকে বলতাম।
- আপু আমি পারবো না, গেলাম।
.
তারপর আমি চলে আসলাম ওখান থেকে। ওকে রেখেই, আমি জানি না ওর কি হইছে, ও আজ এমন করছে কেন?
.
.
.
.( দুজনের কথা)
.
.
.
নীল চলে গেছে সিনথিয়া কে রেখে, দৌড়েই চলে গেছে একপ্রকার। আর সিনথিয়া এখন একপা দুপা করে বাসার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
আর সিনথিয়ার চোখ দিয়ে টপটপ পানি পড়ছে।
.
আজ কেন কাঁদছে ও, সেদিন তো নিজের বয়ফ্রেন্ড কে অন্য মেয়ের সাথে দেখলো তবুও ও কোনো রকম করলো না। আর আজ নীল ওকে রেখে চলে গেছে আর ওকে কোলে নেয়নি তার জন্য সিনথিয়া কেন কাঁদছে?
.
হুম, সেদিন ওই ছেলেটির প্রতি ওর কোনো ভালবাসা ছিলো না, আর আজ নীলের প্রতি ওর ভালবাসা আছে। কারণ এ কয়দিন নীল যেভাবে ওর পেছনে পরেছিল আর যা কিছু করছে ওর জন্য সেটা ওর আগের ভেগে যাওয়া বয়ফ্রেন্ড তার কিচ্ছু করেনি। আর তার জন্যই আজ নীলের জন্য ওর মনে ভালবাসা জমে গেছে। আজ সেই ছোটবেলার স্মৃতি গুলো সিনথিয়ার খুব মনে পরছে। আজ ওর নীলকে খুব ভালবাসতে ইচ্ছে করছে কিন্তু পারছে না, মুখ ফুটে আজ বলতে পারছে না নীল আমি তোকে খুব ভালবাসি।
.
তারপরের দিন,,,
সিনথিয়া কলেজ চলে গেছে, ও হয়তো জানে না আজ নীল চলে যাবে। কারণ আমি ওকে বলিই নাই আমি আজ চলে যাব।
.
১১ টার দিকে এখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য রওনা হলাম। ১ মাসের ছুটি নিয়ে আসছি। আজ ঢাকা ছেড়ে এখানে আসছি ছাব্বিশ দিন হলো, একদিন আমাদের বাসায় আর ওদের বাড়িতে পচিঁশ দিন। বাকি আছে আর চারদিন। তিনদিন আমার বাড়িতে থাকবো তারপরের দিন চলে যাব। 
.
এখান থেকে এখন স্টান্ড পর্যন্ত হেটেই যেতে হবে। প্রায় এক কিলোমিটার হাটতে হবে, উফফফ হায়রে কপাল, এখানে কেন রাস্তা পাকা করলো না। তবে রিক্সা চলে, অনেক ঝাকুনি খেতে হয় এ রাস্তায়, তাই হেটে যাওয়াই ভালো।
.
মাথা নিচু করে ধীরে ধীরে হাটতে লাগলাম,, কোনো দিকে ভালো করে খেয়াল না করে,,
.
.( ওর বাড়িতে) 
.
- কি রে সিনথিয়া আজ এতো আগেই চলে আসলি কলেজ থেকে?
- ক্লাস নেই তাই চলে আসছি।
- ওহ্,
- কিন্তু মা নীল কে দেখলাম রাস্তায়,, কই যাচ্ছে? স্টান্ডে যাচ্ছে? আসুক আজ আমাকে না নিয়েই গেছে।
- ও তোকে দেখেনি?
- দেখেনি বোধ হয়, বান্ধুবীরা একসাথে রিক্সায় আসছি তো তাই মনে হয় খেয়াল করেনি।
- ওহ্,
- কই যাচ্ছে?
- ঢাকায়,
- মানে!!!!
- ও চলে গেছে একটু আগে।
- না,,, তুমি কি বলছো? ও যেতে পারে না।
- কেন?
- ও আমার, আমি ওকে ভালবাসি, আমি ওকে যেতে দেব না ( দিছে স্টান্ডের দিকে দৌড়) 
 .
ওর আন্দাজ মতো এখনো নীল যেতে পারেনি। কারণ ও হেটে যাচ্ছে আর সিনথিয়ার ধারণা অনুযায়ী ও দৌড়ে ওকে ধরতে পারবে।
ওকে সিনথিয়ার আটকে রাখার দরকার নেই, ওকে এখন থামানোর কারণ হলো, ওর মনের কথা নীলকে বলে দেওয়া।
.
অনেক দূর আসলো এখনো পেল না, তাই আরও প্রাণপণে ছুটতে লাগলো। স্টান্ডের কাছাকাছি গিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো সিনথিয়া,, শয়তানটা এখনো যায়নি, বাসের অপেক্ষা করছে,,
.
- ঠাস,
- আপু আমাকে মারলেন কেন?
- চুপ, আমাকে না বলে কেন আসলি?
- বলার কি আছে,, আমি তো একটা আপদ তাই না?
- তুই সত্যিই একটা আপদ,,
- সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত এতগুলো থাপ্পড় না মারলেই পারতেন।
- বেশ করছি, আরও কয়েক টা দেব এখন, যদি আরেক বার আপনি করে বলো।
- তাহলে কি বলবো?
- বউকে কি করে বলতে হয়ে সেটা শিখিয়ে দিতে হবে, তুমি করে বলবা।
- কে বউ?
- আমি।
- কার?
- তোমার।
- না।
- কেন? ( কান্না করে দিছে)
- বউ হতে চাইলে, এখন তুমি আমাকে প্রপোজ করবে।
- আচ্ছা করছি,, হনুমান কোথাকার।
- হুম,,
.
অতঃপর লোকালয় থেকে দূরে গিয়ে,, 
.
- কি দিয়ে প্রপোজ করবো?
- আপাতত তোমার খোপার ফুল টা দিয়ে করো।
- ইসসসস শখ কত!!
- তাড়াতাড়ি,,,
- আই লাভ ইউ জামাই (হাটু গেড়ে নিচু হয়ে)
- হাহাহা,,
- হাসলে কেন?
- প্রপোজ স্টাইল টা দারুণ হইছে।
- মানে!!!
- কেউ হয়তো এখনো বিয়ের আগে, আই লাভ ইউ জামাই, বলে প্রপোজ করে নাই।
- আমরা তো সেই ছোটবেলা থেকেই জামাই বউ তাই না।
- তা ঠিক,, আর তোমাকে না এখন,,, বউ বউ লাগছে।
- আপু বলবে না কিন্তু আর!
- ধুর বউকে কেউ আপু বলে নাকি?
- ঠিক,, 
.
শুরু হলো এক হাতের ফাক দিয়ে আরেক জনের হাত দিয়ে নতুন পথচলা।
কলেজে নাহয় আর কয়েক দিন পরেই যাই। আগে কয়েক দিন সামনাসামনি প্রেম করে নেই।
বিয়ে টা নাহয় পরীক্ষা দিয়ে এসেই করবো।