সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৭

না_বলা_কথা ..

এই সেজুতি শোন,,,
সেজুতি : কি হল।কি বলবি তাড়াতাড়ি বল আমার আবার ক্লাস আছে।
আমি : না, এমনি।যা তোর তো আবার ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।
.
.
বলি বলি করে আজ ২ বছর হয়ে গেল। আজ ও বলা হল না যে আমি ওকে ভালবাসি। আমি মাহবুব।এবার ভার্সিটি ৩য় বর্ষের ছাত্র। আর সেজুতি ও ৩য় বর্ষের কিন্তু আমদের সাবজেক্ট ভিন্ন।ওর সাথে আমার পরিচয় বাসে।আমরা একই এলাকার বাসিন্দা।তারপর থেকেসবসময় একসাথে যাওয়া আসা করতাম।এভাবে চলতে চলতে কবে যে ওকে ভালবেসে ফেলেছি তা জানি না।কিন্তু কখন ও বলতে পারি নি শুধু মাত্র বন্ধুত্তের খাতিরে।এইরকম চিন্তা করতে করতে আমিও আমার ক্লাসে চলে আসলাম।ক্লাস শেষে আবার দেখা
.
.
সেজুতি : কিরে,। তুই না বললি, কি জানো বলবি বল?
আমি : না,তেমন কিছু না।চল ক্যান্টিনে যাই।
সেজুতি : কিন্তু তুই না বললে আজ আর যাচ্ছি না।
আমি : আহ!! ওকে চল।তারপর বলব।
সেজুতি : চল।
.
আমাদের ক্লাস থেকে একটু খানি দূরেই ক্যান্টিন। ভাবছি আজ ওকে বলবই বলব।যা আছে কপালে।(ভাবতে ভাবতে, হঠাৎ...)
.
সেজুতি : কিরে বসিয়ে রাখবি?
আমি : হ্যা।ও তাইতো। এই মামা ২টা কফি দিওতো। তুই কি আর কিছু খাবি?
সেজুতি : না।আগে বল কি বলতে চাইছিলি।নাহলে আমি খাব না।
আমি : ওহ কি মুশকিল। আচ্ছা খেতে খেতে বলি।
সেজুতি : হুম।
.
এর মধ্যে ২ কাপ কফি এসে পড়েছে। আমি চুমুক দিতেই চিন্তা করছি।না আজ ওকে বলা যাবে না।আর না হয় অন্য দিন বলব।
.
সেজুতি : তা,আজ কি ক্লাস হল।
আমি : হুম।(হঠাৎ প্রসংগ বদলে যাওয়ায় আমি আর এগুলাম না)
না।আজ তো ইংরেজি ক্লাস ছিল।তোর না আজ বিকেলে আর একটা ক্লাস আছে।
সেজুতি : না রে,আজ আর ক্লাস করব না।আমকে কিন্তু আজ বাড়ি পৌছে দিতে হবে।
আমি : আচ্ছা তা দিব।
.
.
বিকেল ৩ টায় ক্যাম্পাস হতে বাসে উঠলাম।ও আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল।আর বাতাসে ওর মাথার চুলগুলা আমার মুখের ওপর এসে পরছিল।আমি মনে মনে বলছিলাম যদি ও এমনিভাবে আমার কাধে সারাজীবন শুয়ে থাকত।এমন সময় বাসের এক ঝাকিতে সেজুতির ঘুম ভেঙে গেল।
.
.
সেজুতি : কিরে আমার স্টেশন তো মিস করিয়ে দিলি।বলি ঘুমিয়ে কি ছিলাম আমি নাকি তুই।(মুচকি হেসে.)
আমি : তা তুই যাই মনে করিস।
সেজুতি : হয়েছে হয়েছে।এখন নাম।আমকে এখন এগিয়ে দিয়ে আসতে হবে।
আমি : জো হুকুম মহারাণী (মজা করে)
সেজুতি : কথা না বলে আপনার উপর বর্তিত দায়ীত্ত পালন করুন।(রিট্রান করে)
.
একসাথে হাত ধরে হাটতে হাটতে ওর বাড়ির সামনে এসে পড়লাম। ও আমকে বিদায় জানিয়ে এমন সময়।
.
সেজুতি : ওহ হ!!! তোর কথাটা তো শোনা হল না।
আমি : ওটা পরে বলা যাবে।এখন বাই বাই।
সেজুতি : ওকে বাই।সি ইউ টুমরো...
.
.
আমি এখন একলা একলা হাটছি।ওকে কি কখন ও আমার মনের কথা বলতে পারব না।হঠাৎ ক্রি ক্রি শব্দ।
রিকশাচালক : কি মিয়া দেইখা যাইতে পারো না।
আমি কিছু বললাম না।বাড়ি এসে পরেছি।বেল টিপেই ঘরে ঢুকে শুয়ে পরলাম সোফার উপর.....
.
.
সোফায় শুয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি নিজেও জানি না।ঘুম থেকে উঠে দেখি রাত ৮ টা বাজে।ওফ ফ,,,!আমার তো আবার আবিরের বাসায় যাবার কথা ছিল।আজ ভার্সিটির ম্যাম একটা নোট সংগ্রহ করতে বলেছে।সেদিন আর আবিরের বাড়ি যাওয়া হল না।পরদিন সকাল ৯ টায় ভার্সিটিরর উদ্দেশ্য রওনা হলাম।আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম আজ যদি ও কিছু জিজ্ঞেস করে বলেই ফেলব।এই ভাবনা করতে ভার্সিটি এসে পড়লাম।হঠাৎ...
.
.
ড্রাইভার : মামা, নামবেন না।ভার্সিটিত তো আইসা পরছি।
আমি : ও হ্যা।( ৫ টাকার একটা নোট দিয়ে নেমে পড়লাম)
.
.
প্রতিদিনই সেজুতির সাথে আমার গেটে দেখা হত।হয়ত আমি এসে দাঁড়িয়ে থাকতাম নয়তো ও এসে আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতো। কিন্তু আজ ওকে কোথাও দেখতে পেলাম না।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে
.
.
আমি : নাহ,টাইম তো ঠিকই আছে।কিন্তু সেজুতি কই।আর এদিকে আমার ক্লাস শুরু হবার সময় হয়ে এল।
.
প্রায় ১ঘন্টা দাঁড়িয়ে রইলাম সেজুতির জন্য।কিন্তু ওর দেখা মিলল না।নাহ,ওত কখন এমন করে না।যেদিন না আসবে তার আগে তো আমাকে বলেই রাখে।আজ আবার কি হল।নাকি ও আমার মনের কথা বুঝতে পেরে গেছে। তাই আসে নি,,,একরকম আনমনা হয়ে ক্লাসে চলে এলাম।সারা ক্লাস শুধু ওর কথা চিন্তা করলাম।না,ওকে গিয়ে sorry বলে আসবো। ক্লাস শেষে ওর ডিপার্টমেন্ট এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। ওদের ক্লাস শেষ।কিন্তু সেজুতি বের হল না।সাথে সাথে দেখা হল রিতুরর সাথে।(রিতু সেজুতির friend)
আমি : এই রিতু??
রিতু : ও মাহবুব ভাইয়া।কেমন আছেন?
আমি : বেশি ভালো না।সেজুতি এসেছে??
রিতু : না, ওত আজ আসে নি।কেন কোনো সমস্যা মাহবুব ভাই।
আমি : না,এমনি,আচ্ছা তুমি যাও।
.
.
ওহ! বড্ড ভুল হয়ে গেছে ওকে এভাবে বলে।এখন কি মনে করবে।কিন্তু এছাড়া যে আমার কিছু করার নেই।ওর মোবাইল নাম্বার থাকলে ও কল করার সাহস পেলাম না। নাকি ওর বাড়ি গিয়ে মাফ চেয়ে আসব।আমাদের ২ বছরের friendship. শুধু এই কারনেই ওকে আজও বলা হয়নি।খুব একটা মন খারাপ হল না।কেননা দোষ টা আমারই ছিল।কেন যে বলতে গেলাম।আর আমিতো ওকে ডাইরেক্ট ভালবাসি বলি নি।বাসে করে বাড়ি এসে সোফায় বসে রইলাম।ফোন করব কিনা চিন্তা করছি।নাহ,করেই দেখি,
ফোন করেই দেখি মোবাইল বন্ধ।আমি আর কোন কিছুই করলাম না।এভাবে ২ দিন চলে গেল।হঠাৎ একদিন বিকেলে বাড়ির বাইরে বের হয়েছি ঘুরতে।বেরিয়ে দেখি সেজুতি আমার গেটের সামনে।আর ওর হাতে একটা লাকেস।আমি থ ম হয়ে।
.
.
আমি : কিরে তুই।তুই এখানে?
সেজুতি :(আমার হাত ধরে) চল যাই।
আমি : যাই মানে।কোথায়????
সেজুতি : কাজি অফিস।
(আমি ভড়কে গেলাম।এ দেখি হিতে বিপরীত)
আমি : দাড়া, দাড়া।তার আগে বল এ দুইদিন কোথায় ছিলি।
সেজুতি : বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে।
আমি : ভা ভালই তো। (বুকে কষ্ট চেপে)
সেজুতি : তুই চাস আমি অন্য কারো ঘর করি।
আমি : আমার চাওয়া না চাওয়ায় কি আসে যায়। (রাগের ভাব দেখিয়ে)
সেজুতি : ওকে তাই হবে।
.
.
ও আমার হাত ছেড়ে লাকেস টা নিয়ে রাস্তা বরাবর হাটা শুরু করল।হঠাৎ.....এক ট্রাক এসে ওর নরম দেহটাকে সজোরে ধাক্কা মেরে রাস্তার সাথে মিশিয়ে দিল।কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমি হতভম্ভ হয়ে দারিয়ে রইলাম।আমার চোখ দিয়ে গড় গড় করে পানি গড়িয়ে পড়ল। আমি চিৎকার দিয়ে বললাম,,,
সেজুতি I love you...I love you.
কিন্তু এর কোনো পতিউত্তর আমি পেলাম না।শুধু ওর রক্তাক্ত মুখটা আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।যেন বলছে আমি তোমার এই কথাটাই একবার শুনতে চেয়েছিলাম।
.
.
হঠাৎ....আমার ড্রাইভারের গলা।
স্যার নামেন বাসায় আইসা পরছি।এতক্ষণ আমার জ্ঞান এল।আমি এখন ঢাকায় বিজনেস করি।আমার মা আমকে অনেক সাধাসাধি করেও আমাকে বিয়ে দিতে পারে নি।অতীতের সেই সৃতি মনে করতেই চোখ দিয়ে পানি ঝরে পড়ল।......

রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৭

বলা হয়নি ভালোবাসি

সময় সকাল ৯টা , বাসের জন্য
অপেক্ষা করছিলাম ধানমন্ডি ২৭
নাম্বার রোডে । গন্তব্য উত্তরা ,
সজল এর সাথে দেখা করতে যাবো ।
আমার অনেক ভালো ফ্রেন্ড ,
ভালোর থেকেও অধিক ভালো ।
অনেক দিন দেখা হয়না সজল এর
সাথে , আমি কখনো সজল এর সাথে
দেখা করতে এর আগে উত্তরা
আসিনি । সজলই সবসময় আমার
সাথে দেখা করতে ধানমন্ডিতে
আসতো । আমি ওকে বলেছি আমি
আজ ওর সাথে দেখা করতে উত্তরা
যাবো ।
আজ ওকে আমি একটা সারপ্রাইজ
দেবো , যা ওর সাথে পরিচয় এর ৩
বছরেও দেওয়া হয়নি । একটি রুমাল ,
আর রুমালে লেখা ''এই রূমালটি শুধু
আমাদের ভালোবাসার মাঝের ছোট
ছোট ভুল গুলো মুছে ফেলার জন্য ,
আমি যে তোমাকেই ভালোবাসি '' ।
আর রুমালের মধ্যে একটি তাজা লাল
গোলাপ মোড়ানো । যার প্রতিটা
পাপড়িতে লিখেছি '' তোমাকেই
ভালোবাসি '' ।
সজল উত্তরা তে একটি বেসরকারি
বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইন এ
পড়াশোনা করছে । অনেক ভালো
আবৃতি করতে পারে , আর ওর হাতের
আঁকা ছবি গুলো দেখলে মনে হয়
জীবন্ত প্রতিছবি । আর ও সবার
থেকে একটু অন্য রকম সব দিক
থেকে , কথা বার্তা , আচার-আচরন ,
পোশাক-আশাক , চলাফেরা । তবে
একটু বেশি লাজুক ।
প্রায় ২০ বিশ মিনিট অপেক্ষার পর
বাস আসলো , ভাগ্য ভাল ছিল তাই
একটি সিট ও পেয়ে গেলাম । উঠেই
সজলকে ফোন দিয়ে বললাম উত্তরা
হাউজ বিল্ডিং এর সামনে অপেক্ষা
করতে । রাস্তায় মোটামুটি ভালোই
জ্যাম আছে যেতে অনেক্ষন লেগে
যাবে , এই ফাকে ওর আর আমার
কিছু কথা বলি ,
আমি একটু ভিতু সবসময় , ঢাকাতে
চলাফেরা করার অনেক বড় একটি
সমস্যা রাস্তা পার হাওয়াতে । রোড
সিগন্যাল এ থাকলেও আমি রাস্তা
পার হতে ভয় পেতাম । এমনি আমি
একদিন ভার্সিটির সামনে দারিয়ে ,
রাস্তার ওপারে ভার্সিটি । জ্যাম নেই
কিন্তু কিছুক্ষণ পর পরই গাড়ি
যাচ্ছে , আমিও রাস্তা পারহতে
পারছিলাম না । এমন সময় উজ্জল
শ্যামবর্ণের , মাঝারি শরীর , আমার
থেকে ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা একটি ছেলে
এসে নামলো , কাধে ব্যাগ সাথে
আর্ট পেপার । চুল গুলো তার
ওগোছালো , চোখে সাদা চশমা ।
পঢ়নে জিন্স এবং সাদাকালো টি-
শার্ট । একবার আমার দিকে
তাকালো , আমিও তাকালাম
( চোখাচোখি ) । মুহূর্তেই ছেলেটি
রাস্তা ওপারে চলে গেল , আমি
তখনও দারিয়ে । এদিকে ক্লাস এর
সময় হয়ে যাচ্ছে , ১০ মিনিট পরেই
মেনেজমেন্ট টিউটোরিয়াল পরিক্ষা ।
বিষণ্ণ মনে দারিয়ে আছি , দেখলাম
ওই ছেলেটি ওপারে একটি ছেলের
সাথে কথা বলছে আর আমার দিকে
আড় চোখে মাঝে মাঝে তাকাচ্ছে ।
ছেলেটি কথা শেষ করে আবার রাস্তা
পার হয়ে এপারে চলে আসলো , মনে
হলো আমার দিকেই আসছে ।
ছেলেটি আমার কাছে এসেই
জিজ্ঞাসা করলো ,
ছেলেঃ- আপনাকে অনেক্ষন ধরে
খেয়াল করছি আপনি এখানে দারিয়ে
আছেন , কোন সমস্যা থাকলে বলেন

আমিঃ- না মানে তেমন কিছুই না ,
রাস্তা পার হতে পারছিনা ।
( ছেলেটি আমার কথা শুনে মনে হলো
অবাক )
ছেলেঃ- এই কথা ( হা হা করে হেসে )
,চলুন আমি আপনাকে সাহায্য করছি
আপনার কোন আপত্তি না থাকলে ।
আমিঃ- না আমি একাই পারবো ।
ছেলেঃ- পারবেন ? তাহলে আমি যাই ।
( মনে মনে ভাবলাম একাই পারবো
কথাটা বলে ভুলই করলাম )
আমিঃ- এই যে শুনুন , ঠিক আছে
আমাকে একটু হেল্প করুন ।
ছেলেঃ- ওকে চলুন । আর আর আপনি
এতো রাস্তা পার হতে ভয় পান
কেন ? ফিউচারে অনেক সমস্যায়
পরবেন । এখানে কোন সাব্জেক্ট এ
পড়ছেন ? ( জিজ্ঞাসা করলো )
আমি কিছুই বললাম না , রাস্তা পার
হয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ক্লাস
এর আর ৩ মিনিট আছে । আমি
উনাকে বললাম , ক্লাস এর দেরি হয়ে
গেছে আমি যায় । এই বলে আমি
ভার্সিটিতে ঢুকে গেলাম । ( এর পরে
ছেলেটার রি-একশন কি ছিল জানিনা,
কারন থাঙ্কস ও বলিনি )
বাস বনানী চলে এসেছে , বনানী বাস
স্ট্যান্ড থেকে আমার এক ক্লাস
ফ্রেন্ড জিসান উঠলো । ওর সাথে
দেখা হয়ে ভালোই হলো , কারন
জিসান এরই বাল্য কালের বন্ধু
সজল । জিসান এর মাধ্যমেই সজল
এর সম্পর্কে জানা । জিসান আমাকে
বাসের মধ্যে দেখেই জিজ্ঞাসা
করলো -
জিসানঃ কিরে তুই বাসে , কোথায়
যাবি ?
আমিঃ আবার কোথায় !! সজলের
সাথে দেখা করতে ।
জিসানঃ (অবাক হয়ে) কিরে তুই
সজল এর সাথে দেখা করতে যাবি
মানে !! এর আগে এমন তো কখনো
শুনিনি ।
আমিঃ হুম , শুনিছনি ; আজ শুনলি ।
আর আজকেই প্রথম ওর সাথে দেখা
করতে আমি নিজ থেকে উত্তরা
যাচ্ছি ওকে সারপ্রাইজ দেওয়ার
জন্য । তুই কোথায় যাবি ?
জিসানঃ তাই নাকি কি সারপ্রাইজ ,
আর আমি উত্তরা ল্যাব এইড
হসপিটাল এ যাবো , একজন
রিলেটিভ ওখানে এডমিট হয়েছে । তুই
কোথায় নামবি ?
আমিঃ ওহ । আছে সারপ্রাইজ , এখন
বলা যাবে না । সজল কে বলেছি
হাউজ বিল্ডিং এর সামনে আসতে ,
ওখানেই নামবো ।
জিসানঃ ওহ ঠিক আছে এখন শুনবো
না । আমিও হাউজ বিল্ডিং এর
সামনে নামবো ।
আমিঃ ঠিক আছে তাহলে একসাথে
নামা যাবে ।
আমরা খুটিনাটি বলছি আর বাস বনানী
ফ্লাই ওভার পার হয়ে আবার
উত্তরার দিকে চলতে লাগলো ...
রাস্তা পারাপারের ওই ঘটনার ৪ দিন
পর ...
ওই দিন কোন রকম রাস্তা পার হয়ে
ক্লাস গেলাম , একটা ক্লাস করেই
লাইবেরি তে গিয়েছিলাম । লাইবেরিতে
ঢুকেই জিসান এর সাথে দেখা হলো -
আমিঃ কিরে জিসান , ক্লাস এ
দেখলাম না কেন ? কোথায় ছিলি ?
জিসানঃ হুম , প্রথম ক্লাস টা করতে
পারলাম না । বাইরের একটা ফ্রেন্ড
এসেছে ওকে ভার্সিটি ঘুরিয়ে
দেখাচ্ছিলাম , ও কিছু ছবি আঁকালো
আমাদের ভার্সিটির ।
আমিঃ ওহ ! পরের ক্লাস করবি ?
করলে চল ।
জিসানঃ না , আজ কে আর কোন
ক্লাস করবো না । তাছাড়া আজ আর
কোন ইম্পরট্যান্ট ক্লাস নেই ।
আমিঃ তা ঠিক বলেছিস । পরের
ক্লাসটা না করলেও চলবে ।
জিসানঃ হ্যাঁ ! তাহলে চল বাইরে যায়
। আমার ফ্রেন্ড বাইরে ছবি
আঁকাচ্ছে চল গিয়ে দেখি । তুই তো
ছবি আকানো অনেক পছন্দ করিস ।
আমিঃ তাহলে চল যায় , দেখি তোর
ফ্রেন্ড কেমন ছবি আঁকে ।
বাইরে এসে দেখলাম একটি ছেলে
ছবি আঁকাচ্ছে , কয়েকজন তাকে ভিড়
করে দারিয়ে আছে ।
জিসানঃ সজল এদিকে দেখ , আমার
ক্লাস ফ্রেন্ড সজনী । তোর ছবি
আঁকানো দেখার জন্য ক্লাস না করে
চলে এলো ।
( আমি ছেলেটাকে দেখে অবাক , মনে
হচ্ছে কোথায় যেন দেখেছি )
সজলঃ হাই ( আমার দিকে তাকিয়ে ) ।
আমিঃ হাই । আপনার ছবি আঁকানো
দেখতে এলাম , জিসান বলছিল
আপনি ভালো ছবি আকান ।
সজলঃ ধন্নবাদ । একটু ভালো
আকার চেষ্টা করি এই আরকি একটু ।
( হাসি মুখে )
আমিঃ আপনাকে পরিচিত মনে হচ্ছে ,
কোথায় যেন দেখেছি ।
সজলঃ হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন , আপনি
অনেক ভিতু , রাস্তা পার হতে পারেন
না । এবার বুঝুন কোথায় দেখেছেন ?
আমিঃ ওহ হ্যাঁ মনে পড়ছে , ওই দিন
জন্য অনেক ধন্নবাদ আপনাকে ।
আজ ধন্নবাদ দিচ্ছেন বলেই হা হা
করে হেসে দিল সজল , আর সেই দিন
থেকেই সজল আমার অনেক ভালো
বন্ধু , শুধু বন্ধু না আমার একটি
আত্তা । আর বন্ধুত্বের মাঝে নীবির
সম্পর্ক ভালোবাসা যা আজ
পর্যন্ত বলা হয়নি একজন
আরেকজন কে । কিন্তু আমরা
দুজনেই জানি আমরা একজন আরেক
জন কে অনেক ভালোবাসি ।
বাস হাউজ বিল্ডিং এ এসে থামলো ,
আমি আর জিসান বাস থেকে নেমেই
সজল কে ফোন দিলাম ।
আমিঃ কোথায় তুমি ? আমি হাউজ
বিল্ডিং এর সামনে এসে গেছি ।
সজলঃ হাউজ বিল্ডিং এর এর
অপজিট সাইট এ , তুমি এপারে চলে
আসো । পার হতে পারবে তো ?
( হাসতে হাসতে ) ।
আমিঃ কি যে বলো , আমি এখন
অনেক সাহসী , পারবো । ( জিসান
আছে আমার সাথে এটা ওকে বললাম
না )
এপার থেকেই ওকে দেখতে পেলাম ।
রীতিমত আমি অবাক সজল আজ
পাঞ্জাবি পরেছে জা কিনা ওর
সবচেয়ে বিরক্তিকর পোশাক । তবে
পাঞ্জাবি পড়ে যে ওকে এতো
ভালো লাগছিল ও হয়তো এটা
জানেনা । আমি রাস্তা পার হচ্ছি ,
আজ গাড়ি গুলো যেন একটু বেশিই
জোরে চালাচ্ছে । রাস্তার প্রথম
অর্ধেক পার হলাম । শেষ অর্ধেক
টুকু পার হচ্ছি ... কেমন যেন ভয় ভয়
কাল করছে মনের ভিতর । ও যদি
আমার ভালোবাসার রুমাল , গোলাপ
ফিরিয়ে দেয় । হটাত মাথা ঘুরে
উঠলো , রাস্তার মাঝ খানে দারিয়ে
পড়লাম । এটা দেখে সজল আমার
দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো । পিছন
দিকে দেখলাম একটি গাড়ি দ্রত
আমার দিকে আসছে ... .
.
.
.
যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন
আমাকে সবাই মিলে একটি গারিতে
তুলতে লাগলো হসপিটাল এ নেওয়ার
জন্য । আমি তখন চিৎকার করে
সজল কে ডাকতে থাকলাম । কিন্তু
ওই দিন আর সজল আমার ডাকে
সারা দেয়নি , আমাকে বাচাতে গিয়ে
ওর নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে ... :

সমবয়সী ভালোবাসা

তাহসান এবার দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়াশুনা করে। দুই দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।
তাহসানের একটা রিলেশন ছিলো সমবয়সী।
মেয়েটির নাম মিথিলা।
মিথিলা আর তাহাসান একই ক্লাসেই পড়ত।
তারা বুঝতে পারে নাই তাদের এই আবেগী আর আকাশ কুসুমের মতো মিথ্যা সম্পর্কের যে কোনো মূল্য নেই সমাজ নামক একটা সংসারে!!!!
বলতে গেলে সেই ছোট্র বেলা থেকেই তাদের এ ভালোবাসার চিত্র। তাহসান মিথিলাকে প্রচন্ড ভালোবাসে আর মিথিলা???
তার কথা না বললেই নয় কারন তাহসান তার বাসায় পরিবারের সাথে অভিমান করে ২টা দিন যাবৎ বাসায় কোনো খাওয়া দাওয়া করে নাই আর এ কথা শুনে পাগলি মিথিলা ও নিজের পাকস্তলিকে অনায়াসে ২ টা দিন শাস্তি দিয়েছে ( ক্ষুদার্ত অবস্থাতে)....
এতোটা পাগল ছিলো তারা দুজন।
মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাদের রিলেশনের বয়স ছিল ৫ বছর ২ দিন।৫ বছরের দিন তারা দেখা করে তাদের সেই প্রিয় জায়গায় মেঘনা নদীর তীরে।
যেখানে কাটিয়েছে তারা দীর্ঘ সময় আর তাদের জীবনের কিছু রোমন্ছকর সময়।
নদীর ভাঙ্গা সেই তীরে মিথিলা কে তাহসানের কাঁধে মাথা রেখে বসে থাকা কালীন তাদের দেখে যায় মিথিলার পরিবারের তার চাচা ।
ওরা পাশাপাশি গ্রামে থাকায় মিথিলার পরিবার তাহসানকে ভালো করে চিনতো।এবং তাহসানের সব কিছু পজেটিভ ছিলো, অনেক ভালো ছেলে তাহসান কিন্তু সমস্যা হলো তারা সমবয়সী।মিথিলার পরিবার এই একটা কারনেই সম্পর্কটা মানেনি।
তাদের একসঙ্গে দেখার বিষয়েও মিথিলার পরিবারের কেউই কিছু বলেনি।
কিন্তু মিথিলার বাবা গোপনে তার বিয়ে ঠিক করে।
মিথিলাকে তার বিয়ে সম্পর্কে কিছু জানানো হয় নি তার পরিবার থেকে কিন্তু মিথিলা জেনে গেলো তার বাবার এ ষড়যন্ত্র এবং সাথে সাথে তাহসানকে মেসেজ করে।
মেসেজটা এমন ছিলো:-
আমার পরিবার থেকে গোপনে আমার বিয়ে ঠিক করেছে যে কোন সময় বিয়ে হয়ে যাবে।তুমি যা করার তাড়াতাড়ি কর।না হলে আমি আত্মহত্যা করব।
মেসেজটি তাহসানের ফোনে আসার পরেই তা দেখে তাহসান পাগলের মতো হয়ে গিয়েছে কি করবে কিছু বুঝতে পারছিলো নাহ্!!!!!
তাহসান মিথিলাকে ফোন দিতে গেলো কিন্তু ঠিক তখনি ফোন বন্ধ কারন মিথিলার বাবা ফোনটা তাৎখনিক কেঁড়ে নিয়েছে...!!!
অবশেষে তাহসান মিথিলাদের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্য দৌড়ে রাস্তার এপার থেকে ওপার যাওয়ার সময়ে একটা ব্রেক ফেল করা ট্রাকের ধাক্কায় এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায় সেই মিথিলার পাগল রাজকুমার তাহসান আর বিদায় নেয় পৃথিবীর এ সংসার থেকে আর মিথিলার জীবন থেকে!!
মিথিলা প্রথমে তাহসানের এ ভয়ংকর মৃত্যুর খবর পায় নি কিন্তু দুই দিন পর এক বান্ধবীর মাধ্যমে জানতে পারে।
তারপর তাহসানের ফোনে আরেকটি মেসেজ আসে মিথিলার তাতে লেখা ছিলো:-
আমার কাছে তুমি মানে সাত রাজার ধন, আমার কাছে তুমি মানে অন্য রকম। তাহসানরে কেনো চলে গেলি বল না বল আমায়, সবারি বেঁচে থাকার একটা উদ্দেশ্য থাকে কিন্তু আমার উদ্দেশ্য তো ছিলি তুই তাহলে তুই চলে গেলি বহুদূর আমাকে একলা করে!! আমার বেচেঁ থাকার আর কোনো মানে নেই রে তাহসান।
না বলে চলে গেলে আমিও আসছি তোর কাছে তখন আমরা অনেক সুখি থাকবো কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে নাহ্ আমি আসছি অপেক্ষায় থাক তাহসান!!
তাহসানের এক্সিডেন্ট এর পর তাহসানের পোষ্টমার্টামের পর তাহসানের সাথে যা ছিলো সব পুলিশ রেখে দেয়।
কিছুদিন পর কোনো এক কান্নাময়ী সকালে থানার এক অফিসার
তাহসানের
ফোন চালু করে মিথিলার মেসেজ দুইটা পায়।
তখনই থানা থেকে দুজন পুলিশ সহ মিথিলার বাড়িতে যায়।
কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।মিথিলা ১৫টা ঘুমের ওষুধ খেয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর মিথিলার বাবা হার্ট অ্যাটাক করে।বর্তমানে হাসপাতালে আছে।
মিথিলার মৃত্যুর পর তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিরদিনের জন্য চলাচল করার শক্তি হারায়।
এ সমবয়সী একটি ভ্রান্ত আর দুঃস্বপ্নময় সম্পর্কের কারনে মিথিলার পরিবার যা হারিয়েছে তা আর কোনোদিন ফিরে পাবেনা।
আরেকটি পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।যার সাথে মিথিলার বিয়ে ঠিক হয়েছে তার পরিবার।
.
.
.
সমবয়সী রিলেশন
আমাদের দেশে প্রায় প্রতিটি স্কুল, কলেজেই অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা ক্লাসমেটদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।কিন্তু এসব সম্পর্কের মধ্যে কতগুলো সম্পর্কের শুভ সমাপ্তি ঘটে??
যারা পালিয়ে বিয়ে করে আর যারা তাদের পরিবারকে রাজি করাতে পারে।
কিন্তু
অন্য গুলোর পরিনতি হয় করুন সমাপ্তির মাধ্যমে।এতে ২ জন মানুষই না শুধু নষ্ট হয়ে যায় ২-৩ টি সুখের পরিবার!!
মিথিলার জীবনের সমাপ্তি ছিলো সম্পুর্নই ভুল একটা পদক্ষেপ কারন জীবন মানেই বিশাল কষ্ট বুকে নেয়ে মৃত্যু বরন নয় বরং সকল আঘাত, জড় উপেক্ষা করে জীবনকে এক উন্নতর শেখরে নিয়ে পোছাঁনো আর তাহসান নামক সেই ছেলেটিকে আবার অন্য কারো মাঝে খুঁজে নেওয়া আবার জীবনের সুখের পথ প্রদর্শন করা।
হুম তবে এটা ঠিক যে মানুষ কতোটা দুঃখ আর আঘাত ফেলে আত্মহত্যা করে।
তা হলে আমি বলবো তারা জীবনের কাছে পরাজিত হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে যা একজন বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়।