রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৭

সুখ

নিজের কাছেই বারবার প্রশ্ন করি, জিবনে কি কি পেয়েছি???
সুখ নামের অমূল্য সম্পদ পেয়েছি কি???
পাব কি??
নাকি পেয়েছিলাম???
যদি পেয়ে ও থাকি সেটা অগোচরে এসেছিল আবার চলেও গেছে।
আমি কাব্য, মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র সন্তান।
.
আমার জিবনের কত গুলো গল্প আছে যেগুলো গল্প না বাস্তবতা। যখন আমার বয়স চার (৪) তখন আমার জন্মদাত্রী মা ইহলোক ত্যাগ করে।
.মায়র ভালবাসা খুব কম সময়ই পেয়েছি।
.
মায়ের মৃত্যুতে বাবা চুপচাপ হয়ে যায়।
বাবা মা কে খুব ভালবাসতো। জিবনে শ্রেষ্ট ভালবাসার তিনটি জিবন্ত নিদর্শন দেখেছি।
তার মধ্য বাবাও একজন।
উপদেশ দেওয়ার দিক থেকেও বাবা আমার জন্য সবর্শ্রষ্ট শিক্ষক।মায়ের মৃত্যুর পর বাবা আর বিয়ে করে না।
.
কারণ আন্য কেউ হয়তো আমাকে মেনে নিতে পারবে না।
বাবা যখন প্রতিদিন হাত পুড়ে রান্না করতো তখন আমার খুব খারাপ লাগতো অনেকে অনেক চেষ্টা করেও বাবাকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে রাজি করাতে পারে নি।
প্রায় সময়ই মায়ের কথা মনে হত।কিন্তু বাবা কে বলতাম না। বাবাকে মায়ের কথা বললেই বাবার মন বিষন্ন হয়ে যেত।
.
যাআমি কখনোই চাই না।
জিবনে মা কে হাড়িয়েছি তাই বাবাই আমার কাছে সব।
আমি কারো সাথে তেমন মিশতাম না।
একা থাকতে আমার খুব ভাল লাগে।তাই আমার মনের দুঃখ শেয়ার করার মত কোন বন্ধু হয়ে ওঠে নি।
.
তবে সব কথা আমার বাবার সাথেই শেয়ার করতাম। সব বিষয় শেয়ার করতে পারতাম না। কারণ কথা গুলো শুনলে বাবার মন খারাপ হয়ে যাবে।
.
যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন আমি মারাত্নক ভাবে কষ্ট পেয়েছিলাম। জিবনে দ্বিতীয় বার কষ্ট পেয়েছি। আমি দেখতে সুন্দর না।
আর তাই ক্লাসে সবার শেষে বসতাম।আর মনযোগ দিয়ে স্যারের কথা শুনতাম। যেহেতু পিছনে বসতাম তাই কেউ আমার সাথে কথা বলতো না।
মনে হয় আমি ভিন্ন গ্রহের মানুষ, যারা মানুষের শক্র।
.
সবাই আমাকে কাইল্যা বলে ডাকতো। প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও পরে আর কিছু মনে হয় নি।.
.
দিন টি ছিল শনিবার। ইংরেজি স্যার ক্লাস নিচ্ছেন। পড়া ধরতে শুরু করলেন।ভাগ্যক্রমে কারোই পড়া হয় নি।স্যার কে বললাম আমার পড়া হয়েছে। স্যার বলল, কিরে কাইল্যা তুই আবার পড়তেও জানোস???????
স্যারের কথা শুনে খুব খারাপ লেগেছিল। স্যার কে বলেছিলাম, স্যার কালো রা কি মানুষ না????????
.
.স্যার বলল মুখে মুখে কথা।।।।।
জানিস আমি তোকে আজই স্কুল থেকে বেড় করে দিতে পারি।।।।। আমি আর স্যার কে কিছু বললাম না।
কথা টা বাবা কে বললাম।।
বাবা বলল শোন মানুষের বর্ণে নয়, মনুষ্যত্বের গুনে পরিচিত হতে হবে।
.
আমি জানি তুই অনেক বড় হবি। আমি তো কিছুই দিতে পারি নি। আর নিজেও অভাবের কারনে পড়তে পারি নি। তুই আমার স্বপ্ন পূর্ন করবি। বাবাকে বললাম দোয়া করো, আমি তোমার স্বপ্ন পূর্ন করব।।
.
.
.
s.s.c পরিক্ষা দিয়েছি , তার রেজাল্ট দেবে আজ। স্কুলে গেলাম।
গিয়ে জানতে পারলাম সবার থেকে ভালো করতে পেরেছি।
বাবার স্বপ্ন পূর্ন করতে পেরেছি।
অনেক ভাল লাগছে, জানি খবর টা শুনলে বাবাও খুশি হবে।
তাই দেরি না করে বাসার দিকে রওনা দিলাম।
.
বাবা এই সময় বাসায় থাকে। আসার সময় মিষ্টি নিতে ভুল করি নি।
বাসার সামনে অনেক মানুষের ভির। ব্যপার কি?? এত মানুষ কেন আমার বাসায়???
এত মানুষ এক সাথে দেখেছিলাম মা মারা যাওয়ার দিনে।
.
তাহলে কি আজ বাবাও????
আমার ধারণাই ঠিক হল।খুশির দিনে বাবাও চলে গেল।স্বার্থপর পৃথিবী তে থাকলাম শুধু আমি।
.
-কাঁদতে ও পারছি না।বেশি কষ্ট পেলে মানুষ কাঁদতে পারে না, আমার ও তাই হয়েছে।
.
পৃথিবী তে আমি ছন্নছাড়া। এই বিপদে পাশে দাড়িয়েছিল নাজমিন।
নাজমিন আমার প্রতিবেশী।
মেয়েটা কেমন যেন ভিন্ন স্বভাবের। মাঝেমাঝে নিজেই বুঝি না ওর কর্মকান্ড। অনেক কেয়ার করে। মাঝেমাঝে বিরক্ত লাগে।
.
আমাকে এত কেয়ার করা লাগবে কেন????
কে হই আমি ওর???
.!
বেচে থাকতে হলে খাবার দরকার। বাবর স্বপ্ন পূর্ন করার জন্য ও খাবার সংগ্রহের জন্য কাউকে না বলে চলে আসলাম শহরে।
বলবই বা কাকে??? কে আছে আমার????
নাজমিন কে বলতে গেলে ওর অশ্রু ভেজা চোখ দেখতে হবে।ঐ চোখ দুটিতে অসম্ভব মায়া আছে। যে মায়ায় আমি পড়তে চাই না।
.
কি লাভ মায়ায় পড়ে??
অনুভুতি গুলো কে হত্যা করেছি। আর মায়া বড় অদ্ভুত জিনিস কখন যে কমে যাবে তা বলা কঠিন।
.
এখন আমি স্বাধীন, একা চলেছি, একা আছি, একাই থাকবো। কোন এক দিন বাবা মার মতো আমিও হাড়িয়ে যাব সুন্দর এই পৃথিবী থেকে।

সহজ প্রেমের গল্প

আমার নাম বাপ্পি। আজ কলেজের ফরম তোলার জন্য যাচ্ছি।
এ সময় ফরম তোলার সময় মেয়েটির সঙ্গে দেখা
আসলে কয়েকদিন আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে হাতে ব্যাথা পাইছি,তাই লিখতে পারছিলাম না। ফরম পূরণের জন্য কারো হেল্প প্রয়োজন ছিল।
তখন মেয়েটির কাছে গিয়ে বললাম। এই যে আপু, প্লিজ,একটু হেল্প করবেন।
মেয়েটি পিছন ফিরে তাকিয়ে আমাকে বলল,কি হেল্প……। আমি তখন ফরম পূরনের কথা বললাম।যা হোক ফরম পূরণের ইচ্ছা না থাকলেও আমার হাতের দিকে তাকিয়ে দয়া হল মনে হয় এবং ফরম পূরন করে দিল।যা হোক সেদিন ধন্যবাদ দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসলাম।
.
ঐদিন রাতে কেন যেন মেয়েটির কথা বার বার মনে পড়তে লাগল।
.
কলেজে চান্স পেয়ে গেলাম।কলেজের প্রথম দিন গিয়েই দেখলাম মেয়েটি আমার বিভাগে চান্স পেয়েছে।শিক্ষাথীদের পরিচয় পর্বের সময় মেয়েটির নাম জানতে পারলাম ফারিয়া।এরপর প্রায়ই তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম।কিন্তু তার সামনে যেতে পারতাম না।তাকে একদিন ফলো করে তার বাড়ির ঠিকানা জানতে পারলাম,ধানমন্ডির ৩নং সেক্টরে। তার বাবা বড় ব্যবসায়ী।প্রায়ই ফারিয়ার পিছন পিছন যেতাম। একদিন সে আমাকে দেখে ফেলল।
.
আমার কাছে এস বলল,
ফারিয়াঃ আমি দেখছি আপনি কিছুদিন থেকে আমাকে ফলো করছেন।
বাপ্পিঃকই না তো আমি আপনাকে ফলো করছিনা। এদিক দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলাম
ফারিয়াঃ মিথ্যা কথা বলবেন না।
বাপ্পিঃ নাতো আমি মিথ্যা কথা বলছি না। এটা তোমার ভুল।
ফরিয়াঃ মিথ্যা কথা আবার বলছ। তোমার আসল উদ্দেশ্য বল।
বাপ্পিঃ ঠিক আছে আমি মিথ্যা বলছি না,আসলে আমি তোমাকে ভালোবাসি।
ঠিক সেই মূহূর্তে আমার গালে একটা ছড় হল।আর দেখলাম ও্ কলেজের গেইট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।
.
ঐ দিন রাতে ঘুম আসল না।ওর কথা বার বার মনে পড়তে লাগল পরেরদিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে কলেজের দিকে রওনা হলাম। কলেজে পৌচেঁ গেটের সামনে দাড়িয়ে রইলাম। ক্লাস শুরু হওয়ার আগ পযন্ত ওর জন্য অপেক্ষা করলাম, কিন্তু ও আসলনা।এভাবে কয়েকদিন ও কলেজে আসল না। ফারিয়ার বান্ধবীদের কাছে খোঁজ নিলাম,কিন্তু কেউ খবর দিতে পারল না।
.
সাতদিন ও কলেজে না আসায় ঠিক করলাম ওর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।কলেজ শেষে ফারিয়ার বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম। ফারিয়ার বাড়ির গেটের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম,কিন্তু কিছুতেই যেতে পারছিলাম না। শেষ পযন্ত সংকোচ ত্যাগ করে গেটে টোঁকা দিলাম। কিছুক্ষন পর দারোয়ান গেট খুলে দিল।
.
দারোয়ানঃ কাকে চাই?
বাপ্পিঃ ফারিয়া আছে।
দারোয়ানঃ আপনি আপামনির কে?
বাপ্পিঃ আমি ওর বন্ধু।
দারোয়ানঃ ও! তা আপামনি তও হাসপাতালে।
বাপ্পিঃ ওর কি হয়েছে?
দারোয়ানঃ আপামনির পা ভাইঙ্গা গেছে,সিঁড়ি থেকে পড়ে।
বাপ্পিঃ ফারিয়া এখন কোন হাসপাতালে?
দারোয়ানঃ তা স্কয়ার হাসপাতালে।
.
তাড়াতাড়ি করে হাসাপাতালে রওনা দিলাম। হাসপাতালে পৌঁছে সরাসরি ওর কেভিনে ঢুকে গেলাম।আস্তে আস্তে ফারিয়ার দিকে আগাতে লাগলাম।দেখলাম ও আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।আমি ওর কাছে গিয়ে দাড়ালাম।
বাপ্পিঃ কেমন আছে এখন?
ফারিয়াঃ ভালো,আসতে এত দেরি করলে যে…
বাপ্পিঃ মানে!
ফারিয়াঃ বোকারাম আরে আমি তো প্রথম তিন দিন কলেজে যায়নি তোমার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য।এরপর তো পড়ে পাটা ভেঙ্গে গেল।আমি ভাবলাম আমি কলেজে যায় না দেখে তুমি আমার খোঁজ করতে আইসবা।
বাপ্পিঃ আই এম সরি……..। আসলে আমি ভয়ে আসতে পারি নাই,তুমি যদি আবার থাপ্পর দেও।
ফারিয়াঃ হা…হা…হা….।তুমি ভীতুর ডিম আস্ত।
বাপ্পিঃ তুমি সত্যি আমাকে ভালোবাসো…………………………..
ফারিয়াঃ I LOVE YOU
বাপ্পিঃ বাংলাতে বল………………
ফারিয়াঃ হা…….হা…..হা…..আমি তোমাকে ভালোবাসি।
বাপ্পিঃ আরকবার বল না……………………….
ফারিয়াঃ হা…….হা…..হা…..আরে আমার বধির প্রেমিক আমি তোমাকে ভালোবাসি। এবার তুমি বল……………………
বাপ্পি ঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি।
.
এরপর মিষ্টি ঝগড়া,ভালোবাসা,অভিমান নিয়ে পাচঁ বছর চলে গেল।আমি একটা সরকারি ব্যাংকে চাকরি পেলাম।তারপর ওর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম।প্রথমে ওর বাবা রাজি না হলেও একমাত্র মেয়ের জেদে রাজি হয়ে গেলেন। আগামী মাসে আমাদের বিয়ে সকলের দাওয়াত…………………………

★ত্যাগ অতঃপর ফিরে পাওয়া★

ক্যাম্পাসে একা একা বসে আছি, আর আনমনে কি যেন ভাবছিলাম, কিন্তু কি ভাবছি সেটাও জানিনা।হঠাৎ ভার্সিটির গেইটে আমার দৃষ্টি গেল। আর দেখতে পেলাম সাদা এর্পোনের উপর অরেঞ্জ কালারের উড়না পরিহিতা একটা মেয়ে ভার্সিটিতেই প্রবেশ করছে আমি মেয়েটির দিকে একদৃষ্টিতে তাখিয়ে আছি। এত সুনাদর রমণী এর আগে কখনো আমি আমাদের ভার্সিটিতে দেখিনি।ওর মায়া মাখা ঠোঁট আর হরিণির মত চোখ দুটো যেন আমার হৃদয় ছুঁয়েছে।ভার্সিটিতে অনেক মেয়ে কিন্তু কখনো খাউকে তেমন নজরে পড়েনি।এক কথায় বলতে গেলে প্রথম দেখায় আমি তার প্রেমে পড়ে গেছি।
ইস আবির হারমীটা যদি থাকতো তাহলে মেয়েটিকে আজকেই প্রপোজ করে ফেলতাম।কিন্তু হারামীটা ব্যবসার কাজে ভারতে গেছে।একবার গেলে আর আসার নাম গন্ধ থাকেনা,কম হলেও তিন মাস। কি ভাবে যে অনার্সটা শেষ করল আল্লাই জানে।এসব ভাবতে ভাবতে মেয়েটি আমার দৃষ্টি রেখার বাইরে চলে গেল।অর্থাৎ ক্লাসে ড়ুকে পরল।
,
ঔ হ্যা বলায় হয়নি,বাই দ্যা ওয়ে আমি সাইমন, মার্ষ্টাস ১ম বর্ষে পড়ি,আর আবির আমার একমাত্র বেস্টফ্রেন্ড।আমরা এক সাথে লেখাপড়া করি।আমি আবিরকে খুব ভালোবাসি, আবিরও আমাকে খুব ভালোবাসে।আমরা অনেকটা ভাইয়ের মত।ছোট বেলায় আমি মাকে হারিয়েছি।আর যখন ইন্টারে পা রাখি তখনি বাবা মারা যান।আবিরের বাবা আর আমার বাবা খুব ভাল বন্ধুছিল বাবা মারা যাওয়ার সময় আবিরের বাবার হাতে আমাকে তুলে দিয়ে যায়।আমার বাবার মৃত্যুর ঠিক একবছরের মাতায় আবিরের বাবাও মারা যায়, আর তখন থেকেই ওর বাবার করা ব্যবসা ও ই আগলে ধরেছে।আমি আবিরের মাকে কখনো আন্টি ড়াকিনি, আম্মিজান বলে ড়েকেছি, ওনি আমাকে আবিরের মতই ভালোবাসেন,ঠিক যেন নিজ সন্তান।
বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমি আবিরদের বাসায় থাকি।
.
আজ ভার্সিটিতে গেলাম, ওপরে সিঁড়ি বেয়ে যখনি ক্লাসে যাব ঠিক তখনি দেখতে সেই মেয়েটা অনার্সের ক্লাস রুমে ড়ুকছে।আমি এক পা সিঁড়ির ধাপে রাখলাম, আর অন্য পা পেছনে দিয়ে মেয়েটিকে ওকি মেরে দেখছিলাম।ওকি মেরে দেখতে গিয়ে মেয়েটির চোখে চোখ পড়ে যায় আমার, আমি লজ্জায় আর কিছু না মাতা নিচু করে সোজা ক্লাসে চলে গেলাম।আঁড় চোখে খেয়াল করলাম মেয়টি মুচখি হাসছে, আমি মেয়েটির মায়া মাখা হাসি দেখে আবারো তার প্রেমে পড়ে গেলাম।ক্লাস শেষ করে নিচে নামতেই দেখতে পেলাম মেয়েটি তার বন্ধুদের সাথে কথা বলছে, তার বন্ধুদের মধ্যে আমি আমার বন্ধু হোসেনকে দেখলাম। ওরা চলে যাওয়ার পর আমি হোসেনকে ড়াক দিলাম...
আমি :-দোস্ত কিরে কেমন আছিস?
হোসেন:-ভাল তুই কেমন আছিস?
আমি:-ভাল,আচ্ছা তোরা যখন কথা বলতেছিলি, তখন তোদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটি কে রে?
হোসেন:-হা হা হা, তুই ইসরাতের কথা বলছিস না!?
আমি:-নাম কি জানিনা,তবে আমি প্রথম দেখায় ওর ওপর ক্রাস খায়ছি দোস্ত।দোস্ত পারলে ওর নাম্বারটা আমারে মেনেজ কইরা দে।
হোসেন:-নারে দোস্ত ওর সাথে আমার তেমন কোন কথা হয় না, ওর বন্ধুদের সাথে হয়, তবে শুনছি ইসরাত না কি রবি সার্কেল ইউস করে।আইডিটা আমার বান্ধুদের কাছ থেকে নিয়ে দিতে পারি।আর সার্কেলা আইডি পেলে তো নাম্বার যোগাড় করা একদম ইজি।
আমি:-আচ্ছা তাহলে তাই কর।নাম্বার পরে আমি নিব।
রাতে পড়ার টেবিলে পড়তে বসলাম কিছুতেই পড়াতে মন বসছেনা।বারবার ইসরাতের কথা মনে পড়ছে, ওর চেহারাটা আমার চোখে বারাবার ভাসছে। আর ওর হাসিটাও আমার চোখে বারবার ভেসে উঠছে।হঠাৎ মনে পরল হোসেনের কথা।
আমি:-হ্যালো..কে হোসেন?
হোসেন:-হ্যা দোস আমি, বল।
আমি :-কেমন আছিস?
হোসেন :-ভাল,তুই?
আমি:-ভাল,আচ্ছা তোরে যে কাজটা দিয়েছিলাম ঐটা মেনেজ করতে পেরেছিস?
হোসেন:-ইস..দোস্ত আমি একদম ভুলে গেছিরে,দাঁড়া আমি তোরে দশ মিনিট পর ফোন করতেছি।
আমি:-আচ্ছা ঠিক আছে।
দশ মিনিট পর....
হোসেন:-হ্যালো দোস্ত তোর কাছে কি কিছু পয়েন্ট হবে?
আমি :-কেন?
হোসেন:-আরে ওর আইডিটা নেয়ার জন্য আমি আমার একবন্ধুর সাথে চেট করছিলাম।কিন্তু এখন পয়েন্ট নাই।
আমি:-আচ্ছা দিতাছি।এই বলে আমি হোসেনকে ৫০০পয়েন্ট দিয়েছি।
প্রায় ১৫মিনিট পর হোসেন আমাকে একটা সার্কেল আইডি দেয়।আমি তো আনন্দে আত্বহারা।
আইডিতে এড় হয়ে আমি প্রথমেই...
আমি:-হাই।
মেয়ে :-নো রিপ্লে।
আমি:-হাই আমি সাইমন, ভার্সিটির খোখাবাবু।
মেয়ে:-নো রিপ্লে।
আমি ভাবলাম মনেহয় পয়েন্ট নেই তাই রিপ্লে দিতে পারছে না।তাই আমি ঐ আইডিতে ৮০০পয়েন্ট শেয়ার করি।
তারপর অনেক মেসেজ দিয়েছি কিন্তু কোন রিপ্লে নেই।
পরদিন...
আমি:-ঐ হারামজাদা কার আইডি দিয়েছিস, কোন রিপ্ল দেয় না, ওল্টো আমার ৮০০পয়েন্ট লস।
হোসেন:-হি হি হি, দোস্ত তাইলে আমি আর জানিনা।আমার বন্ধু আমাকে এটাই দিছে।
তারপর মনে মনে বললাম যা করার নিজেকে করতে হবে।
তারপর আমি ইসরাতের পিছু নিতে থাকি। ওর দিকে সবসময় তাখিয়ে থাকি।ইসরাত ও বোঝতে পেরেছে যে আমি ওকে ফলো করছি।এইভাবে প্রায় একসপ্তাহ পর একদিন ইসরাত আমাকে দেখিয়ে মাঠের মধ্যে একটা চিরকুট ফেলে যায়।আমি চিরকুটটি হাতে নিলাম, এতে একটা সার্কেল আইডি লেখা।আমি মনে মনে অনেক খুসী হলাম, আর মনে মনে বললাম এতদিনে আসল ঠিকানা পাওয়া গেল।
বিকাল চারটার দিকে আমি ইসরাতকে নক করলাম,
আমি:-হাই।
ইসরাত:-হ্যালো,
আমি:-চিনতে পারছেন?
ইসরাত:-হুম।
আমি:-কেমন আছেন?
ইসরাত:-ভাল,আপনি?
আমি:-হুম,ভাল।
এইভাবেই আমার আর ইসরাতের মধ্যে কথা হয়।আমি ইসরাতে সাথে প্রতিদিন মেসেজ করি, কিন্তু ভার্সিটিতে ওর সাথে কথা বলি না,তবে ওকে ফলো করতাম।
প্রায় দুমাসপর...
একদিন আমি ইসরাতকে ফলো করছি..
ইসরাত:-এইযে মিস্টার এদিকে আসেন।(রাগি মুড়ে)
আমি:-জ্বী আমাকে বলছেন?
ইসরাত:-আশেপাশে তো আর কেউ নাই,তো আপনাকে না কাকে ড়াকবো।
আমি:-জ্বী বলেন।
ইসরাত:-ফলো করেন কেন?কি বলতে চান সোজাসোজি বলতে পারেন না?(কোমরে হাত দিয়ে রাগি মুড়ে)
আমি ওর দিকে তাখিয়ে রইলাম,আর মনেমনে বললাম,ইস রাগলে যে তোমাকে এত সুন্দর লাগে তা এখন না দেখলে হয়ত কখনো বোঝতে পারতাম না।
ইসরাত:-এই যে আমি আপনাকে কিছু বলছি..
আমি:-জ্বী, ইয়ে মানে।
ইসরাত:-কি ইয়ে মানে?মেসেজে তো অনেক বক বক করেন কিন্তু এখন দেখি ভিতুর ড়িম।আচ্ছা আপনি না ভার্সিটির খোখা বাবু?
আমি:-জ্বী..না মানে ফ্রেন্ডেরা বলে আর কি।
ইসরাত:-ফ্রেন্ডরা বলুক আর যেই বলুল।আপনি তো খোখা বাবু,তো খোখা বাবুর কি এই রকম ভয় পেলে চলে?
আমি:-না,আসলে কি ভাবে যে বলি..
ইসরাত:-আরে এত আমতা আমতা করছেন কেন?বলবেন না কি আমি চলে যাব?!
আমি:-না না আমি বলছি।
ইসরাত:-হ্যা বলেন।
আমি:-আসলে.. আসলে.. আসলে।
ইসরাত:-কি আসলে আসলে,বলবেন না কি চলে যাব?!(রাগ করে)
আমি:-আসলে আই লাভ ইউ,
ইসরাত লজ্জায় মাতাটা নিচের দিকে করে বলল, এত সময় লাগে এই সামান্য কথাটা বলতে।
আমি :-আমি তোমাকে প্রথম যে দিন দেখেছিলাম ঐদিন ই তোমাকে ভালোবেসে ফেলি।
ইসরাত:-হুম,বোঝলাম।
আমি:-কি বোঝলে? আর তুমি তো কিছু বলছ না।
ইসরাত:-কি বলব?
আমি:-কি বলব মানে!?হ্যা বা না।
ইসরাত:-এত তাড়া কিসের পরে বলব।এই বলে ইসরাত হাসতে হাসতে
চলে যাচ্ছিল, আমি ড়াক দিয়ে বললাম আমাকে কিন্তু টেনশনে রাখলা।, আমি মুখ গোমরা করে বসে আছি।কিছুক্ষণ পর ইসরাত আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল লাভ ইউ টু।
আমি:-তুমি যাওনি!?
ইসরাত:-না যায়নি,লুকিয়ে দেখছিলাম আমার পাগলটা কি করছে।হি হি হি
এইভাবে চলতে থাকে আমাদের মিষ্টি মধূর ভালোবাসা।ইসরাতের সাথে আমার প্রতিদিন ই ফোনে কথা হয়।ও আমার খুব টেক কেয়ার করে।আমি ইসরাতকে খুব ভালোবাসি।ইসরাতও আমাকে ভালোবাসে।আমার প্রতি ওর কেয়ারিং, আমার খুব ভালই লাগে।
৬মাস পর...
আজকে আবির ভারত থেকে ফিরল।
পরদিন আমি আর আবির, আবিরের খালার বাড়িতে যায়।এর আগেও অনেকবার গিয়েছি।আবিরের একটা খালাতো বোন আছে, নাম ইফতি ও আবিরকে খুব ভালোবাসে, কিন্তু কেন যেন আবির তা বোঝেও না বোঝার ভান করে, ইফতিকে ও দুচোখে দেখতে পারেনা।ইফতি আর আমি খুব ভালো বন্ধু ও সবকিছু আমার কাছে শেয়ার করে। আজ আমি ইসরাতের ব্যপারে ইফতিকে সবকিছুই শেয়ার করেছি।ইফতি আবিরকে সরাসরি কিছু না বললেও বিভিন্ন ভাবে বোঝাতে যে আমি তোমাকে ভালোবাসি।কিন্তু আবিরটা কেমন যেন।..
.
আজ ভার্সিটিতে আমি আর আবির ক্যাম্পাসে বসে আছি,
আবির:-আবির দোস্ত মেয়েটা কে রে..?
তাখিয়ে দেখলাম ইসরাত।
আমি:-হি হি হি, কেন?
আবির:-দোস্ত আমি তো মেয়েটার ওপর ক্রাস খাইছি।দোস তুই যে করেই পারিস কোন একটা ব্যবস্থা করে দে।
আবিরের কথাটা শুনে আমার বুকের মধ্যে যেন মুচড় দিয়ে উঠল আমি আবিরকে সেটা দেখালাম না।
আমি আবিরকে হাসি মুখে বললাম আরে ব্যবস্থা একটা হয়ে যাবে। টেনশন নিসনা।
আবির:-যা করার তাড়তাড়ি কর।আচ্ছা তুই ঐদিন যেন তোর র্গালফ্রেন্ডের ব্যপারে কি একটা বলছিলি না!কই দেখাবি না তোর র্গালফ্রেন্ডেকে?
আমি:-হা হা হা কি যে বলিস, আজকালকার মেয়েদের কি সিংগেল পাওয়া যায়?আমারে রেখে আরেকজনের সাথে চলে গেছে,ভাগ্যিস ভালো করে প্রেম করিনি নয়তো বড় ধরনের একটা আগাত পেতাম।খুব সহজ ভাবে আবিরকে সব কিছু বানিয়ে বানিয়ে বলে দিছি,কিন্তু আমার মনের অবস্থা এখন কি রকম সেটা একমাত্র আমিই জানি।
.
রাতে বাসায় এসে আবিরের কথা আর ইসরাতের কথা ভাবছিলাম।ইসরাতের কথা ভাবতেই কেন যেন আমার চোখে জল আসল।আমি ভাবছি ইসরাতকে আবিরের কথাটা কি করে বলব।
.
পরদিন আবির আর ভার্সিটিতে যায়নি।
আমি ইসরাতকে ড়াকলাম।
আমি:-ইসরাত,
ইসরাত:-হুম বল।
আমি:-ইসরাত তোমাকে আমার কিছু বলার আছে।
ইসরাত:-হুম বোঝছি,না না এখন বিয়ে টিয়ে করতে পারবোনা।
আমি:-না আসলে তা না(মুখ কালো করে)
ইসরাত:-তো!?(অভাক হয়ে)
আমি:-ইসরাত, তুমি আমাকে ভুলে যাও।
ইসরাত:-হোয়াট!?এসব কি বলছ তুমি!? মাতা ঠিক আছে তোমার!?
আমি:-হ্যা আমার মাতা পুরো পুরি ঠিক আছে।
ইসরাত:-কিন্তু কেন!?
আমি ইসরাতকে আবিরের ব্যপারে সবকিছু বুঝিয়ে বললাম।
ইসরাত :-না এটা কখনো সম্ভব না,আমি তোমার জায়গা আর কাউকে দিতে পারবো না।
আমি:- ইসরাত তুমি যদি সত্যি আমাকে ভালোবাসো তাহলে আমার এই অনুরুধটি রাখতে পারবানা?তুমিই তো বলেছিলে তুমি আমার জন্য সব করতে পারবে।
ইসরাত:-হ্যা বলেছিলাম আমি তোমার জন্য সব করতে পারবো, কিন্তু আমি কখনো ভাবিনি তোমার জন্য তোমাকেই ভুলে যেতে হবে।ভুলতেই যদি হয় তাহলে তোমাকে ভালোবাসলাম কেন?(কান্না করে)
আমি ইসরাতের পায়ে ধরে বললাম আমি এতকিছু বুঝিনা, তুমি আবিরকে ভালোবাস, দেখবে তুমি অনেক সুখী হবে।কথা গুলো বলার সময় কখন যে কেঁদে ফেললাম নিজেও জানিনা।অবশেষে ইসরাতকে অনেক কষ্টে রাজি করিয়েছি।
,
ছোট বেলায় মা কে হারিয়েছি, আজ বন্ধুর জন্য ভালোবাসার মানুষটিকেও ত্যাগ করতে হচ্ছে,কথা গুলো ভাবতেই কেমন যেন লাগছে। আজকে মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে।আজ যদি মা বেচেঁ থাকতেন তাহলে মায়ের কোলেই সব কষ্ট ঝাড়তাম।কিন্তু আমার পুড়া কপাল মা ও বেচেঁ নেই।
,
আবির:-কিরে কি করছিস?
আমি:-না তেমন কিছুই না,আচ্ছা আম্মিজানকে বল আমার মাতা ব্যথা করছে, কফি বানিয়ে দিতে।
আবির:-দাঁড়া বলতেছি।মা...
আমি:-ঔ হ্যা তোর জন্য সুখবর আছে, ঐ যে মেয়েটা! ওর নাম্বার নিয়ে আসছি।আর তোর ব্যপারে সবকিছু বলে দিছি।
আবির:-কি করে করলি এতসব এত তাড়াতাড়ি।
আমি:-হি হি হি দেখতে হবে না!?আমি কার বন্ধু।কষ্টের তিব্রতা আমার ক্রমস বাড়ছে,কিন্তু আবিরকে দেখানোর জন্য না চাইলেও হাসতে হচ্ছে।
আবির :-কই দেখি নাম্বার দে।
আমি:-ধর নে 018.......37।
আবির ইসরাতকে বার বার কল করছে কিন্তু ইসরাত ফোন রিসিভ করছে না।
আবির:-কিরে কার নাম্বার দিলি রিসিভতো করে না।
আমি:-আবার ট্রাই কর, রিসিভ করবে।
আমি ইসরাতকে মেসেজ দিয়ে বললাম যেন আবিরের ফোন রিসিভ করে, আর যেন কথা বলে।
এইবার ইসরাত ফোনটা রিসিভ করল।
ইসরাত:-হ্যালো।
আবির:-হ্যালো, ইসরাত নাকি?
ইসরাত:-জ্বী, কে বলছেন?
আবির:-আমি আবির, সাইমনের ফ্রেন্ড।
ইসরাত:-ঔ, কেমন আছেন?
আবির:-জ্বী ভালো...
আর এইভাবেই ইসরাত আর আবিরের কথা বলা শুরু হয়।
.
আবির:-দোস্ত আজ ইসরাতকে প্রোপজ করছি।কথাটা শুনতেই যেন আমার মনের মধ্যে এক হারানোর ভয় কাজ করছে, আমি খুব স্বাভাবিক ভাবে আবিরকে বললাম....
আমি:-হি হি হি, এত তাড়তাড়ি প্রোপজ করে ফেললি!?তো কি বলল ও।
আবির:-পরে জানাবে বলছে।
.
বিকালের দিকে জামতলি পার্কে একা একা বসে পাখির কিচিরমিচির শব্দের ঝগড়া দেখছিলাম, হঠাৎ ইসরাতের ফোন....
আমি:-হ্যালো ইসরাত, বল।
ইসরাত:-কই তুমি?(কান্না জড়িত কণ্ঠে)
আমি:-এইতো জামতলি পার্কে বসে আছি, কেন কি হয়ছে?
ইসরাত:-তুমি ওখানেই থাক, আমি আসছি।
এই বলে ফোনটা কেটেদিল।
প্রায় আদঘন্টা পর ইসরাত আসল।
আমি:-কেমন আছো।
ইসরাত আমাকে কিছু না বলে জড়িয়ে ধরল কান্না করতে করতে বলল আমি তোমাকে ছাড়া বাচঁবোনা।আমি তোমার জায়গা অন্যকাউকে দিতে পারবোনা।
আমি:-আচ্ছা ছাড় লোকে দেখছে।আর কি হয়ছে সেটা বলবা তো!..
ইসরাত:-আবির আমাকে প্রোপজ করে ফেলছে।আমি কি বলব বোঝতে পারছি না।
আমি:-তুমি ওর প্রোপজ একসেপ্ট করে নাও।
ইসরাত:-না আমি পারবো না।
আমি :-যদি আমাকে একটু হলেও ভালোবাসো তাহলে ওকে একসেপ্ট করে নাও।বাকীটা তোমার ব্যপার।
ইসরাত আর কিছু না বলে কাঁদতে কাঁদতে চলে যায়।আমি ইসরাতের চলে যাওয়া দেখছিলাম, ইচ্ছে করছে চিৎকার করে বলতে, ইসরাত আমাকে ছেড়ে যেওনা।কিন্তু কি একটা জড়তা আমাকে বাঁধা দিচ্ছে।
.
আবির:-দোস্ত কাজ হইয়া গেছে, ইসরাত প্রোপজ একসেপ্ট করেছে।
আমি:-একসেপ্ট করতেই হবে দেখতে হবেনা তুই কার বন্ধু!?(মনে মনে আমার খুব কান্না পাচ্ছে কিন্তু সেটা আবিরকে দেখাতে পারছি না।)
আবির:-কিন্তু দোস, ইসরাত না!আমার সাথে তেমন কথা বলতে চাইনা,এই দেখ সেই কখন থেকে ফোন করছি কিন্তু রিসিভ করছে না।
আমি:-দাঁড়া পাঁচ মিনিট অপেক্ষা কর, দেখবি রিসিভ করবে।
আমি ইসরাতকে মেসেজ করে বলে দিলাম যেন ফোন রিসিভ করে।
এইবার আবির ইসরাতের সাথে কথা বলছে।কথা বলা শেষে আবির হঠাৎ বল উঠল আমি ঠিক বোঝতে পারিনা। ইসরাত কি তোকে ভালোবাসে না আমাকে।
আমি:-কেন বলতো!(একটু ইতস্ত হয়ে)
আবির:-তুই বলার সাথে সাথে দেখি ফোন রিসিভ করে।তুই কি জাদু বিদ্ধা জানিস নাকি?
আমি:-হা হা হা, জানি তো আর সেটা তোর কাজে লাগায়।
.
এরি মধ্যে আম্মিজানের ড়াক, কিরে কই তোরা খেতে আই।
খাবার টেবিলে হঠাৎ আম্মিজান বলে উঠল।
এত বড় বাড়িতে আমার আর একা একা সারাদিন ভাললাগেনা। কবে যে নাতি নাতনির মুখ দেখবো পুত্র বধূর মুখ দেখবো আল্লাই জানে(দির্ঘশ্বাস ফেলে)
আমি:-আম্মি জান আবিরের একটা মেয়েকে পছন্দ আছে তুমি যদি রায় দাও তা হলে আমি খুঁজ খবর নিতে পারি।
আবির:-ঐ শুধু শুধু আমার পেছনে কেন বাঁশ দিচ্ছিস, নিজেরটা নিজে চিন্তা কর,আমারে নিয়া তোরে ভাবতে হইবো না।
আম্মিজান:-হয়ছে হয়ছে, আর ঝগড়া করতে হবেনা।সাইমন তুই মেয়েটার খবর নে, আগামীকাল ই আমি মেয়েটাকে দেখতে যাব।
.
পরদিন ইসরাতকে দেখানোর জন্য আম্মিজানকে ওদের বাসায় নিয়ে যায়।
ইসরাতকে আম্মিজানের খুব পছন্দ হয়ছে।এদিকে ইসরাতের পরিবারও রাজি।আর একসাথে বিয়ের বিয়ের তারিখ ও ঠিক, আগামী ১৪তারিখ১লা বৈশাখ বিয়ের দিন ঠিক করা হল।
আমি:-বলে উঠলাম ভাবি আপনার তো কোন আপত্তি নেই আমার ভাইকে বিয়ে করতে।
ইসরাত কিছু না বলেই ভেতরে চলে গেল।জানি এখন মেয়েট ডুকরে ড়ুকরে কাঁদছে।কিন্তু এখন আমার কিছুই করার নেই।
বাসায় এসে আম্মিজান বলল আবিরের টাতো দেখলাম এবার তোরটা বল।
আবির:-মা,ছোট খালার মেয়ে ইফতির সাথে দেখি সাইমনের গলায় গলায় ভাব,ওদের দুজনকে কিন্তভাল মানাবে,তুমি কি বল মা?
আম্মিজান:-হ্যা ঠিক বলেছিস,আমারও ইফতিকে ভাল লাগে।
আমি তোর খালার সাথে আজ ই কথা বলব।
আমি:-আরে আমি ইফতিকে জাস্ট বন্ধু হিসেবে জানি,আমি ওকে বিয়ে করতে পারবো না।
আম্মিজান:-বন্ধু তো কি হয়ছে, বন্ধুকে কি বউ বানানো যায় না?দ্যাখ সাইমন আমি আমার দুই সন্তানের বউ এক সাথে ঘরে তুলতে চাই।আর আমার বিশ্বাস তুই আমার কথার বাইরে কিছু বলবি না।
আমি:-ঠিক আছে আম্মিজান তুমি যা ভাল মনে কর।
এইবলে আমি নিজের রুমে চলে গেলাম।
রুমে বসে বসে ড়াইরিতে নিজের অবক্ত কথা গুলো লিখছিলম।আর নিজের অজান্তে চোখের অশ্রু ফেলছিলাম।
হঠাৎ করেই আবিরের আগমন।
আবির :-কিরে কি করছিস?
আমি:-তেমন কিছুই ন
আবির:-একি তুই কাঁদছিস কেন?
আমি:-কই না তো
আবির:-আমি দেখছি তুই কাঁদছিস, আর তুই বলছিস না।
আমি:-ঔ হ্যা কিছুক্ষণ আগে চোখে একটা পোকা পড়েছিল এখনো ব্যথা করছে। তাই হয়ত চোখে পানি পড়ছে, দাঁড়া আমি একটু ওয়াস রুম থেকে আসি।
ওয়াস রুম থেকে এসে দেখি আবির চলে গেছে। আমি আবির কে খুঁজতে ওর রুমে গেলাম।না এখানেও নেই।ছাঁদে গিয়ে দেখি আবির মোবাইল হাতে নিয়ে একা একা বসে বসে কি যেন ভাবছে।
আমি:-কিরে এখানে একা একা কি করছিস,?তোর আবার কি হয়ছে? ঔ বুঝছি ইসরাত ফোন রিসিভ করছেনা না!?দাঁড়া পাঁচ মিনিট অপেক্ষা কর।
আবির:-তোকে কিছু করতে হবে না।আমি ইসরাতের সাথে কথা বলছি।
আমি:-তো তোর মন খারাপ কেন।
আবির:-তোর জন্য।
আমি:-ঠিক বুঝলাম না(অভাক হয়ে)
আবির:-তোকে বুঝতে হবে না,আগে বল তুই আমাকে এত ভালোবাসিস কেন?(আমাকে জড়িয়ে ধরে)
আমি:-আমি আবার কি করলাম?
আবির:-কিছুই করিসনি মানে, এইযে এত সহজে সব কিছু করে ফেললি।
আমি:-আমি ঠিক তোর কথার কিছুই বোঝতে পারছি না আবির, প্লিজ একটু ক্লিয়ার করে বলবি!?
আবির:-তোকে কিছু বুঝতে হবে না।শুধু আগে বিয়েটা হতে দে।হি হি হি।
.
এই বল আবির একটা অট্টহাসি দিয়ে ওখান থেকে চলে গেল। আমি "থ" হয়ে ওখানে দাঁড়িয়ে রইলাম।
.
আজ ১৪তারিখ ১লা বৈশাখ, আজ আমাদের বিয়ে। মনের মধ্যে একটা বড় পাথর আমাকে চেপে ধরে আছে, কিন্তু সেটা আমি কিছুতেই সরাতে পারছিনা।
ইসরাত কে আজ খুব সুন্দর লাগছে, যেন একটা লাল পরি।আমি ইসরাতকে এই সাজেই দেখতে চেয়েছিলাম যখন ও আমার বউ সাজবে।কিন্তু নিয়তি আমার খুব খারাপ। আমি একটা জিনিস লক্ষ করলাম ইসরাতকে কেমন যেন খুসী খুসী দেখাচ্ছে।যেন বিয়েটা ওর ইচ্ছেতেই হচ্ছে।ওর ভেতর আমি একটুও কষ্ট দেখতে পেলাম না।
.
রাত ১১টার পর..
আবির রুমে ড়ুকল ইফতি আবিরকে পা ছুঁয়ে সালাম করল, ইফতি আবিরের দিকে একটু ও তাখালো না,
সালাম করার পর ইফতি বিছানায় গিয়ে বসে পরল, আর বলল....
ইফতি:-দেখ সাইমন তুমি তো ভালো করেই জান আমি আবির কে ভালোবাসি, আর আবিরের জায়গাটা আমি কাউকে দিতে পারবো না,সো প্লিজ আমাদের সর্ম্পকটা বাইরে থেকে স্বমী স্ত্রীর থাকবে কিন্তু আমি তোমাকে স্বামীর যে হক স্ত্রীর প্রতি আছে আমি তোমাকে তা দিতে পারবো না।তাই আমার কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করবে না।
আবির:-তাই না কি!? তা তো আমি আগে জানতাম না,আমি তো ভাবছি আমার বউয়ের সাথে জুটি বেধে একটা ফুটবল টিম তৈরি করব।
ইফতি:-তুমি!?তুমি এখানে কি করছ?(অভাক কন্ঠে)
আবির:-ওমা আমি আমার বউয়ের কাছে আসতে পারবো না।!?
ইফতি:-তুমি তো ইসরাত কে বিয়ে করেছো।
আবির:-না আমি তোমাকেই বিয়ে করেছি, আর এটাই তোমার সারপ্রাইজ।
ইফতি:-কিন্তু কিভাবে, তুমি তো ইসরাতকে ভালোবাসো।
আবির:-বাসতাম, কিন্তু যখন জানতে পারলাম সাইমন ইসরাতকে ভালোবাসে, তাও আমার আগে থেকে, তখনি ঠিক করলাম ওকে একটা সারপ্রাইজ দিব আর আমাকে যে সত্যিকারের ভালোবাসে তাকেও।
ইফতি আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি আসলে তোমার ভালোবাসাটা বোঝতে পারিনি।
ইফতি আবিরের বুকে মাতা রেখে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলল, ক্ষমা করব তবে এক স্বর্থে,
আবির:-একটা কেন তোমার হাজারটা স্বর্থ মানতে আমি রাজি।বল কি সেটা।
ইফতি:-বেশি কিছু করতে হবে না, আমাকে বেশি করে ভালোবাসতে হবে,
আবির ইফতিকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, আর বলল হা হা হা পাগলি ভালোবাসি অনেক অনেক।.
.
এদিকে আমি...
মনকে অনেক কষ্টে স্থির করে রুমে ড়ুকলাম,রুমে ড়ুকতেই ইসরাত আমাকে পা ছুঁয়ে সালাম করল।আমি ওর দিকে একটু তাখালাম না।কিছুক্ষণ পর আমি বললাম...
আমি:-দেখ ইফতি, তুমি তো ভাল করেই জান, আমি ইসরাতকেই ভালোবাসি, ওর জায়গা আমি আর কাউকে দিতে পারবো না। তাই তুমি আমার কাছ থেকে বেশি কিছু আশা করো না।
ইসরাত:-হি হি হি তাই না কি!?
কন্ঠটা আমার কেন যেন চেনা চেনা লাগছে। তাই বউয়ের দিকে তাখালাম।
আমি:-এ কি তুমি!?(অভাক হয়ে)
ইসরাত:-হ্যা আমি, অভাক হচ্ছ কেন?
আমি :-অভাক হবনা মানে, তোমার সাথে তো আবিরের বিয়ে হয়ছে।
ইসরাত:-আরে হাদারাম কামিন নামায় সাইন করার সময় দেখনি পাত্রির নাম কি?
আমি:-আমি অনেক টেনশনে ছিলাম তাই অতশত খেয়াল করিনি।(মুখ কালো করে)
ইসরাত:-যাক না দেখে ভালই করেছো।নইলে সারপ্রাইজটা দিতে পারতাম না।
আমি:-সারপ্রাইজ মানে!?আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
ইসরাত:-আমি তোমাকে সব বুঝিয়ে বলছি।তুমি ঐদিন ড়াইরিতে তোমার আমার আবিরের আর ইফতির কথা গুলো লিখছিলে, আর কাঁদছিলে।যখন আবির তোমাকে জিজ্ঞেসা করছিল তুমি কাঁদছো কেন, তুমি বলেছিলে তোমার চোখে পোকা পরেছে,এই বলে তুমি ওয়াসরুমে চলে গিয়েছিলে। আর তখনি আবির তোমার ড়াইরিটা পড়ে ফেলে, আর আমাকে ফোন করে সব বলে দেয়, আর বলে জোর করে কখনো ভালোবাসা আদায় করা যায় না,ভালো মন থেকে বাসতে হয়,।আমিও আবিরকে সব বলে দিই।আর দুজনে প্ল্যান করি তোমাকে আর ইফতিকে একটা বড় সারপ্রাইজ দিব,আর আমার পরিবারেও সব বলে দিই যেন তোমাকে কিছু না বলে, সাথে আম্মিজানকেও। হি হি হি, কেমন দিলাম সারপ্রাইজ?
আমি ইসরাতের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাখিয়ে রইলাম,কি বলব বুঝতে পারছিনা,কিছুক্ষণ পর আমি ইসরাতকে জড়িয়ে ধরি আর বলি হা হা হা পাগলি.. ভালোবাসি তোমায়। তুমি কি দেবে তোমায় একটু ভালোবাসতে?তুমি কি দেবে তোমার রাঙ্গা পায়ে নিজ হাতে নুপুর পরিয়ে দিতে?তুমি কি দেবে তোমায় নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে?
ইসরাত:-হি হি হি, পাগল।আমিও তোমাকে ভালোবাসি,আমার সব কিছুই তো তোমার।
আমি ইসরাতের কপালে এক চিলতে চুমু আলতো করে এঁকে দিই।ইসরাত' লজ্জা মাখা মুখটা আমার বুকের ভেতর লুকিয়ে ফেলে।
শুরু হয় আমাদের নতুন জীবন।

জোনাকি রাত

-ওই কই তুমি?
--গরুর ঘাস কাটছি
--থাপ্পর দেবো। সত্য বলো?
--ঘুম থেকে উঠলাম
--আজ একটু দেখা করবা?
--কেন?
--তোমার কি আমায় দেখতেও ইচ্ছে করে না
--করবে না কেন?
--তো এমন বললা কেন
--কেমন
--উফফ! আজাইরা প্যাঁচাল রাখো। কইটায় আসবা এটা বলো?
--তুমি যখন বলবা
--আচ্ছা চারটায়
--আচ্ছা
.
এই হলো তানহা। মা বাবা ছোটকালেই রোড এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছেন।তখন খুব ছোট আমি। খালা আমার লালন পালন করেছেন। এমনকি এখনও আমি খালার সাথে থাকি। আমাদের বাসায় চাচা থাকেন। তারা ও আমার মা বাবার মতো ই। তিনবছর হলো তারা আমাদের বাসায় থাকেন। অবশ্য এক্ষেত্রে আমই বলেছি তারা যেন আমাদের বাসায় গিয়ে থাকেন।
.
চাচার একটা মেয়ে ই। আমি যাকে ভালোবাসি। তানহার সাথে সম্পর্কের এক বছর মাত্র। এরপর থেকেই তার সাথে দেখা করতে নিজের বাড়িতেই যাওয়া। কেউ কিছু বলে না অবশ্য তার আমার মিল দেখে। তবুও চাচা কে ভয় পাই। শশুর বলে তো কথা। হি হি হি।
.
.
আজ যেতে একটু লেট ই হয়ে গেলো।
আজ কপালে কি আছে কে জানে?
বাসায় গিয়ে কলিং বেল চাপলাম...
টিং টিং টিং
--ওই তোর এত্ত দেরি কেন? (তানহা)
--তুই???
--হ্যা তুই ই বললাম। তোর কোনো সমস্যা?
--নাহ।
--দেরি করলি কেন তুই এটা বল?
--আসলে রাস্তায় ছেলেরা ক্রিকেট খেলছিলো। এক ওভার খেলা দেখছিলাম।
--কিহহ! তুই আমারে অপেক্ষা করাইয়্যা এ দিকে খেলা দেখস? তোর সাথে ব্রেকাপ...
--না না না এমন বলিও না। আমি ভুল করেছি আর এমন ভুল হবে না
--তোর কথার গুল্লি মারি।সররর তুই
--জান এমন আর হবে না। তুমি যা বলবা তাই হবে
--আচ্ছা। তো আজ সারারাত ছাদে আমার সাথে আড্ডা দিবা?
--আচ্ছা দেবো
--ওকে। ভেতরে আসো বাবু
--ইহহ। এখন আদর দেখাও
--না তুমি ছাড়া কে আছে আমার
.
ভেতরে ঢুকতেই দেখি। সব ফাঁকা চাচা চাচি ও নাই। জিগ্যেস করলাম,
--তারা কোথায়?
--বাহিরে গেছে।রাতে আসবে
রাতের আধার ঘনিয়ে এলো।
ও আর আমি ছাদে বসে আছি। রাতটা খুব সুন্দর। তাঁরা ভরা আকাশ।
দুজন মিলে তাঁরা গুনছি। কিন্তু শেষ হচ্ছে না। ও হঠাৎ বলে উঠলো
--এই তাসিন দেখো দেখো জোনাকি
--হুমম
--আমি ধরবো
--এগুলা তো ছাদের বাহিরে
--ভেতরে আসলেই ধরবো
--নাহ থাক। ওরা আমাদের রাতটা আরো সুন্দর করছে। ধরবো না
--আসলেই তো।আচ্ছা জানু আমরা আমাদের সন্তানদের নাম কি রাখবো জানো?
--কি
--জোনাকি আর রাত
--দূরর। এ কেমন নাম?
--বেশ দারুণ। ছেলের নাম রাত আর মেয়ের নাম জোনাকি
--আচ্ছা রাখবো।
--এজন্যই তো তোমায় এত ভালোবাসি।
.
সেদিন সকালে আসি তাদের এখান থেকে।
এরপর বেশ কয়েকদিন চলে যায়।
একদিন ও ফোন করে বলে
--আমার খুব কষ্ট হচ্ছে তুমি কোথায় বাবু
আমি এক দৌড়ে তার এখানে যায়। বাসায় কেউ নেই। ও চিৎকার করছে। তাড়াতাড়ি করে হাসপাতালে নেই।
সেদিন ই আমার মনের আকাশের সবগুলো জোনাকি বন্দী হয়ে যায়।
তাদের আলো হারিয়ে যায়।
যখন জানতে পারি তার ফুসফুস ক্যান্সার।
.
কিভাবে তাকে বলবো তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। নাহহ বলবো না। কষ্ট সব চেপে রাখবো।ওর কি হয়সে সেটা ও বুঝতে দেবো না। আর বলবো ও না এটা তার ফুসফুস ক্যান্সার।তিনদিন পর বাসায় নিয়ে আসা হলো।
ও যেন কেমন বদলে গেছে আগের মতো হাসে না চেহারাটা কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেলো।
আমি তাকে কখনও ভুলতে পারবো না।
আমি তার হয়েই থাকবো তাই এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম।
আমি তাকে বিয়ে করবো সারাজীবন তাকে আমার বউ ভেবেই কাটিয়ে দেবো।
আমি তা সরাসরি চাচাকে বলে দিলাম
'আমি বিয়ে করতে তানহাকে '। চাচা কথাটা শুনে কেঁদে দিলো। এ কি বলছি আমি যা সম্ভব না। কিন্তু আমি অনেক কষ্টে তাকে রাজি করালাম। তানহা ও আমার অনুরোধে রাজি হলো।
.
এর দশ দিন পর বিয়েটা সম্পন্ন হলো। কিন্তু শুধু বিয়ে না। সেদিন বাসর ঘরে আমি তার লাশটা দেখতে পাই। হঠাৎ ব্যাথা উঠে যায়। এবং সে দুনিয়াটা ত্যাগ করে।
শুধু বিয়ে হয় নি হয়েছিলো দাফন কাফন সেদিন।
.
এখনও আমার রাত হলে জোনাকিরা যখন জ্বেলে আলো তারা ও সেই সাথে। মনে পড়ে তাকে কোথায় সে?
আমি যে তাকে খুঁজি এ রাতে।
জোনাকি রাত, জোনাকিপোকা, তাঁরা সব ই আছে। শুধু নেই তুমি।
তাতে কি আমি স্বপ্ন বুণি হবে দেখা হয়তো তোমার ওপারে।
যেখানে এসে মিলবো আবার দুজনে।
ইচ্ছে করে বলি তোমায়
ভালোবাসি ভালোবাসি
খুব বেশি তোমায়...
যত দূরেই থাকো
আমি শুধু তোমার।.........
রাস্তায় যদি কোনো রিক্সাওয়ালা একটা মেয়েকে এক্সিডেন্ট করে সবাই রিক্সাওয়ালাকে কোনো কথার সুযোগ না দিয়েই চোখ বন্ধ করে রিক্সাওয়ালেকে দোষ দিয়ে দেয়।হয়তো ঘটনার গভীরে গেলে দেখা যেতো দোষটা মেয়েটার ই।বিভিন্ন এফএম এ যখন মেয়েরা তাদের লাভ স্টোরিগুলো করুণভাবে শেয়ার করে,তখন ও আমরা চোখ বন্ধ করে মেয়েটার লাভারকে একচেটিয়াভাবে দোষ দেই।কিন্তু আসলেই কি সব দোষ ছেলেদের?প্রতিটা মেয়েই রিলেশনের ক্ষেত্রে তার বিএফ থেকে কিছুটা যৌনতা এক্সপেক্ট করে।তাই প্রথম দিন লেটা যখন মেয়েটার হাত ধরে,মেয়েটা কিছু বলে না।পরদিন জড়িয়ে ধরলেও খুব একটা রিএ্যাক্ট করে না।তৃতীয় দিন মেয়েটার ঠোঁট ঠোঁট রেখে ছেলেটা ব্যারিকেড সৃষ্টি করলেও মেয়েটা হয়তো কিঞ্চিৎ বাধা দেয়,তবে সে বাধাটা খুব ই নাজুক।আচ্ছা মেয়ে! তুমি কি তোমার মাঝে কোনো পরিবর্তন মার্ক করতে পারছো?পারছোনা এইতো? তাহলে আজ রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়বে,তখন দু'চোখ বন্ধ করে শরীরের প্রতিটা শিরা-উপশিরা সজাগ রেখে নিজের পরিবর্তনগুলো চিহ্নত করতে ট্রাই করো।যে মেয়ে তুমি কোনো ছেলেকে মুখে "আই লাভ ইউ" বলতেও বুক কাঁপতো,আজ সে মেয়ে তুমি ই দিচ্ছ একটা ছেলেকে লিপকিস করতে!যে তুমি কোনো ছেলেকে দেখলেই মাথায় ঘোমটা টানতে,সে তুমি ই আজ নিজকে নগ্ন করে অন্যকে পিক দিচ্ছ।ভাবছো কি এ আর এমন কি?এতে তো ও সুখ পাচ্ছে মাঝখানে বোনাস হিসেবে আমিওতো এ্যানজয় করছি।আর ভুলটা এখানেই।কি করে?হুম,বলছি।আসলে মূল কথা হচ্ছে এই ছোট ছোট যৌনতাগুলোই তোমাকে নিষিদ্ধ-অবৈধ যৌনতায় অভ্যস্ত করে তুলছে।তাই কিছুদিন পর ছেলেটা যখন তোমাকে বিছানায় ডাকবে,তোমার অবচেতন মন বিদ্রোহ করতে ভুলে যাবে।আর বিষয়টা তোমার কাছে তখন আট-দশটা কাজের মতো স্বাভাবিক ই মনে হবে।আর যে ছেলে একবার তোমাকে ব্যবহার করবে সে স্বেচ্ছায় তোমাকে বিয়ে করবে এই আশা শুধুই অলীক কল্পনা তোমার।কারণ যাকে বিশ্বাস করে তোমার সব ওর হাতে তুলে দিলে দু'দিন পর সেই তোমাকে নষ্টা মেয়ে বলবে ছুঁড়ে ফেলবে।এখন কোয়েশ্চেনটা থেকেই যাচ্ছে যে,মেয়েটার দোষ কোথায় এখানে?ছেলেটা কি না কি ভুলবাল বুঝিয়ে মেয়েটাকে কি করছে তাতে এই অবলা-বোকা নারীর দোষ কোথায়?
.
মেয়েরা বোকা?হাসালে ম্যান! যে মেয়ে ফ্যামিলি,সমাজ,ধর্মের অনুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দিনের পর দিন পার্কে,রাস্তার মোড়ে,দামী রেষ্টুরেন্ট এর আলো-আঁধারিতে বিএফ এর সাথে ডেটিং চালিয়ে যেতে পারে সে মেয়ে বোকা? যে মেয়ে নিজকে অনেক আগেই বিলিয়ে দিয়ে নিঁখুত সতিত্বের অভীনয় করে চলতে পারে সে মেয়ে বোকা?আই কান্ট বিলিভ ইট।একটা রিলেশন এর ক্ষেত্রে মেয়েরা সব সময় প্রেমিকের তুলনায় নিজকে চালাক ভাবে প্রবলেম টা এখানেই।স্থান-কাল-পাত্রভেদে অনেক কিছুই করতে হয়।নিজকে কঠোর করো।যেদিন তোমার বিএফ তোমার শুধু লিপ এর পিক চাইবে সেদিন ই তাকে এভোয়েড করো,ওকে বোঝাও।যেদিন আর ও গভীর এ যাবে সেদিন থেকে সব যোগাযোগ ই স্টপ করে দাও।জানি কয়দিন কাঁদবে তুমি।খুব কাঁদবে।রাতের পর রাত তোমার ঘুম হবে না।খাওয়ায় যতোটাসম্ভব অরুচি হবে।তাহোক!তবুওতো তোমার সবচেয়ে দামী সম্পদ সতীত্ব রক্ষা পাবে।আর তা না করলে দু'টোই হারাবে।তো কোনটা বেস্ট?সতীত্ব রেখে ওকে হারানো?নাকি দু'টোই হারানো?কারণ যার ভালোবাসার প্রতি সামান্য রেসপেক্ট থাকবে সে কখনোই নিষিদ্ধ যৌনতা চাইবে না।যে যাবে তাকে হাজার বার সতীত্ব দিলেও সে যাবেই।সো নিজকে সচেতন করো।তুমিও যে হাজার সাধনার বস্তু তা প্রমাণ করো।বুঝিয়ে দাও চাইলেই তোমাকে পাওয়া যায় না।তুমি সময়ের প্রয়োজনে ব্যবহৃত সস্তা টিস্যু পেপার নয়।তুমি রক্তে-মাংসে গড়া নারী।ছোট ছোট যৌনতাগুলোকে কখনোই প্রশ্রয় দিবে না।দেখবে দিনশেষে তাকে না পেলেও তুমি তৃপ্ত।চরম তৃপ্ত!কারণ সতীত্ব রক্ষার গৌরবে আর যাই হোক তখন তুমি অন্তত নিজকে ক্ষমা করতে পারবে।কি তাইতো????

অতঃপর প্রেমের অপমৃত্যু...

ছোটোমামার কাছ থেকে পাঁচশো টাকা নিয়ে
দোকানে এসেছি। মেজাজটা বেশ ফুরফুরে।
কারন খরচ শেষে অবশিষ্ট টাকা, পুরোটাই আমার।
মামার জন্য একপ্যাকেট গোল্ডলিফ সিগারেট,
নুডুলস, ডিম কেনার পরেও দুইশো তিনটাকা
বেচে গেছে। একেই বলে আমার পৌষ মাস,
আর মামার সর্বনাশ! আপাতত মামার সর্বনাশের চিন্তা না
করে রাস্তায় হাটছি। আমার একহাতে বাজারের ব্যাগ,
আর এক হাতে মোবাইল। ফেসবুকে এক
সুন্দরী ললনা পেয়েছি, ওটার সাথেই চ্যাটিং করছি
আর সমান্তরাল ভাবে রাস্তায় হাটছি।
.
সুন্দরী ললনার সাথে, আমার চ্যাটিং যখন সেই
পর্যায়ে ঠিক তখনি ঘটলো বিপত্তি। একটা
মেয়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে, রাস্তায় পড়ে
গেছি। আসলে সুন্দরী ললনার মোহে এতটাই
বিভোর ছিলাম যে, সামনের কিছুই খেয়ালই করিনি।
যাই হোক, মেয়েটাকে সরি বলবো! তার
আগেই আমার গালে উষ্ণগরম পরশ অনূভব করলাম।
মানে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই, মেয়েটা
আমার গালে কষে থাপ্পর মারছে। কানের কাছে
ভনভন শব্দ হচ্ছে। মেজাজ আমার একদম সেই
পর্যায়ে। মামার সিগারেটের প্যাকেট ছিঁড়ে,
একটা সিগারেট বের করলাম। যদিও আমি সিগারেট
খাইনা, তারপরেও ভাব নিলাম আরকি! পরক্ষণেই
মনে হল দিয়াশলাই কোথায় পাবো? তাই সিগারেটটা
মুখ থেকে নামিয়ে হাতে নিলাম। কর্কশ কন্ঠে
মেয়েটাকে বললাম ....
-- এলাকায় কী নতুন?
-- মেয়েটা ভয়ভয় করে বললো " হ্যাঁ! আসলে
মেজাজ খুব গরম ছিলো। তাই ভূল করে চড়
মারছি। প্লিজ ভাইয়া কিছু মনে করবেন না! "
-- হা হা হা! কী বললে কিছু মনে করবো না! তুমি
জানো আমি কে? আমার গায়ে হাত দিয়ে তুমি
রেহাই পাবে? ভাবলে কী করে!
-- বললাম তো সরি! আপনি চাইলে আমাকে
মেরে শোধ নিতে পারেন। প্লিজ! আমায় মাফ
করে দেন!
-- মেয়েটার মুখ ভয়ে একদম বাচ্চাদের মতো
লাগছে। যদিও আমি মজা করছিলাম, মেয়েটা আমার
এই মজাকেই সিরিয়াস মনে করে ভয়ে চুপসে
আছে। মেয়েটাকে আর কিছু বললাম না, বিদায়
দিলাম।
.
পথে শাকিলের সাথে দেখা, ওর সাথে কিছুক্ষণ
আলাপ করে বাড়ি আসলাম। বাড়ি এসেই, আমার চোখ
ছানাবড়া! দেখি রাস্তার ওই মেয়েটা আমাদের
বাসায়। তাহলে কী, আমার নামে বিচার দিতে
এসেছে? এইসব চিন্তাভাবনার মধ্যে বড় আপু
বললো, " রাজ ওর নাম অনু! আমার ক্লাসমেট। আর
এটা আমার কিউট ভাই রাজ। "
যাইহোক একটু দম পেলাম, মেয়েটার সামনে
বেশিক্ষণ থাকলাম না। ঘরে চলে আসলাম। ঘর
থেকে শুনতে পেলাম, মা মেয়েটাকে
বলছে "আমার ছেলেটা খুব লাজুক,
মেয়েদের সাথে কথাই বলেনা! "
ভাগ্যিস ওই সময় ড্রয়িং রুমে ছিলাম না, নাহলে
মেয়েটার মুখখানি দেখতে পারতাম। এইসব চিন্তা
করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি,
নিজেই বলতে পারিনা!!!
.
মেয়েটার আমাদের বাড়িতে যাতায়াত বেড়ে
গেছে। প্রত্যেকদিন সকালে আমাদের
বাড়িতে আসবে, আপুর সাথে একসাথে কলেজ
যাবে আবার একসাথে ফিরবে। প্রথমে
মেয়েটা আমাকে খুব ভয় করতো, এখন আর
করেনা। আপু কলেজে না গেলে, এখন আমি
কলেজে ড্রপ করে দেই। অনুর আর আমার
সম্পর্কটা বেশ বন্ধুর মতো। যদিও অনু আমার
থেকে দুইবছরের বড়।
.
সকাল থেকে শুয়ে আছি! কালকে রাতে অনুর
সাথে চ্যাটিং করতে করতেই রাত শেষ হয়ে
গেছে। স্বপ্ন দেখছি, আমি আর অনু হাত ধরাধরি
করে হেটে যাচ্ছি! ঠিক এই সময়েই আম্মু
দিলো ঘুমটা ভেঙে। ধুর!
"তোর আপু আজ কলেজ যাবেনা, তুই অনুকে
কলেজে দিয়ে আয় " বলেই আম্মু রান্নাঘরে
চলে গেলো। কী আর করার? যেতেই
হবে। আমার কিন্তু মোটেও খারাপ লাগছে না,
বরঞ্চ ভালোই লাগছে। অনুর সাথে কোথাও
যেতে আমার অসম্ভব ভালো লাগে!
.
অনু আর আমি পাশাপাশি হেটে যাচ্ছি। অনুর পড়নে
হলুদ শাড়ি। হলুদ আমার খুব প্রিয় কালার। অনুর চুল
গুলো খোলা থাকায় অনুকে অসম্ভব মায়াবী
দেখাচ্ছে। আমি মুগ্ধ নয়নে অনুর দিকে
চেয়ে আছি। বুকের মধ্যে ভয় নিয়ে বলেই
ফেললাম ....
-- অনু আপু! আমি তোমাকে ভালোবাসি!
-- আমিও তোমায় ভালবাসি! পিচ্চি ভাই
-- আমি তোমায় বিয়ে করতে চাই।
-- হোয়াট!!! কী বলছিস এইসব?
-- হুম! ঠিকই বলছি।
-- তুই জানিস না আমি তোর থেকে বড়?
-- হুম! জানি। মাত্র দুইবছরের বড়।
-- দুইবছর তোর কাছে মাত্র মনে হয়?
-- নয়তো কী! মহানবী যদি তার প্রথম স্ত্রী
হিসেবে বিবি খাদিজাকে মেনে নিতে পারে,
তুই কেন আমায় পারবি না। তাছাড়া শেক্সপিয়ার
থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় মনীষী
তাদের থেকে বেশি বয়স্ক মহিলাকে বউ
হিসাবে স্বীকার করেছে। তোর সমস্যা
কোথায়?
.
অনু আর দাড়ালো না। সোজা কলেজ চলে
গেলো একলাই, আমাকেও যেতে দিলো না।
বাসায় এসে শুয়ে আছি। এমন সময় আপু আসলো...
-- তুই আমার বান্ধবীরে কী বলছিস?
-- আমি আবার কী বললাম? (ভয়ে ভয়ে)
-- (প্রচন্ড কষে একটা চড় মারলো) ফাজলামি করিস
সাথে। আম্মু... আম্মু
মা এসেও অনেক বকতে লাগলো, একটা
পর্যায়ে গায়েও হাত তুললো। ভাবলাম ঝড় বোধ
হয় শেষ। ঠিক তখনি আমার আব্বু টর্নেডো
হয়ে এল। ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে সবার
সামনে মারলো। ঠিক এই সময়ই আপু বললো " ও
সিগারেট খায়। তাও আবার গোল্ডলিফ সিগারেট "
এই কথা শুনে আব্বুর সাথে আম্মুও ভূমিকম্প
চালালো। তারপর বাড়ি থেকে বের করে
দিলো। তারপর! তারপর আর কী! একটা প্রেম
শুরুর আগেই আর একটা প্রেমের অপমৃত্যু
ঘটলো!!!