রবিবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৭

পাজি মেয়েটা

আমি নিলয়। একটা ছোট্ট জব করি। আর এখন আমি পরে পরে ঘুমোচ্ছি। আরে সকাল বেলা ঘুমাবো না তো কি করবো?
আর তখনই,,,
- নিলয় উঠ।
- উমমমম,, ইরা চাই।
- উঠবি কিনা!
- মা ইরা চাই।
- ওই হারামজাদা উঠ।
- ইরা দাও।
- ইরাকে বিয়ে করলেই তো পারিস, আমার কাছে চাস ক্যান?
- ইরা চাই।
( জল ঢেলে দিল)
.
- কে কে?
- ইরা নিবি না, ধর ইরা দিলাম।
- ধুরর মোড টাই নষ্ট করে দিলে। ইরাকে নিয়ে সপ্ন দেখছিলাম।
- বউ করে ঘরে এনে দুজনে সপ্ন দ্যাখ যা।
- ওতো রাজি হয়না।
- তোর মতো বান্দর পোলার কাছে ইরা ক্যা আর কোনো মেয়েই আসবো না।
- মা তুমি এটা বলতে পারলে?
- যেটা সত্যি সেটা কইছি,, এবার অফিস যা।
- আচ্ছা যাচ্ছি, যত্তোসব।
.
তারপর উঠে ফ্রেস হতে গেলাম। ইরা হচ্ছে আমাদের পাশের বাসার ফাজিল মেয়েটা। এবার অনার্স ফাস্ট ইয়ারে পরে। আর আমি ওকে হেব্বী লাভ করি, কিন্তু ও আমার দাতে দড়ি দিয়ে ঘুরাইতেছে। সবসময় আমার সামনে নাচানাচি করে কিন্তু যখন ফুল নিয়ে ওরে দিতে যাই তখনই ষাড়ের মতো তেড়ে আসে।
.
কি করা যায় এখন ওকে নিয়ে??? এসব ভাবতে ভাবতে ওয়াশ রুম থেকে এসে খেতে বসলাম। খাওয়া শেষে এখন অফিসের জন্য রওনা হবো। তাই বাসার বাইরে গিয়ে নিত্য দিনের মতো আবার ইরাদের বাসার সামনে দাড়ালাম ওকে দেখার জন্য।
.
এটা আমার প্রতিদিনের অভ্যাস। সেই ৬ মাস আগে ওকে দেখে প্রেমে পড়ছিলাম। সেই ৬ মাস ধরে আমি প্রতিদিন ওকে দেখার জন্য অফিস যাওয়ার সময় দশ মিনিট করে দাড়িয়ে থাকি।
.
আমরাই এখানে আগে থাকতাম। আর ওরা আসছে ৬মাস ২ দিন ধরে। ২ দিন আমি ছিলাম না, অফিসের কাজে বাইরে গেছিলাম। ২দিন পর এসে যেই ইরাকে দেখলাম আর তখনই গড়াইতে গড়াইতে ওর প্রেমে পড়লাম।
.
মেয়েটা এতো ফরসা না হলেও চোখ দুটি ছিলো মায়াবী। আর যখন মোটা ফ্রেমের চশমা পড়তো তখন চশমার আড়াল থেকে গোলগোল দুটি মায়া ঘেরা চোখ উকি মারতো তখন আরও কিউট লাগতো এই মেয়েটাকে।
.
আমি গিয়ে দাড়ালাম, ৪ মিনিট হয়ে গেল এখনো কেন বেলকুনিতে আসছে না। ৬ মিনিট পার হওয়ার পর দেখি দাত ব্রাশ করতে করতে আসলো।
কি মেয়েরে এটা, সকাল ৭টা বাজে, আমি অফিসের জন্য বেরিয়ে গেছি আর মহারাণী কেবল দাত ব্রাশ করে।
.
- শুভ সকাল ইরা,
- হুম।
- রাত কেমন কাটলো?
- মানে?
- ভালো না খারাপ?
- রাত আবার ভালো কেমন খারাপ কেমন?
- আমার কথা তুমি রাতে ভাবলে ভালো নয়তো খারাপ।
- ওহ্,,, খারাপ কাটছে।
- ধ্যাত, কবে আমার কথা ভাববে শুনি!!
- কোনো দিনই না।
- কেন?
- জানি না।
- তোমার নাম্বার টা দাও তো।
- না।
- আচ্ছা, না দিলা কিন্তু তোমার ফেসবুক আইডি কিন্তু আছে।
- আজকে ব্লক খাবেন।
- হাহাহা, তুমি চিনবে না সেটা, ফেইক আইডি।
- আপনি একটা চোর।
- কেন?
- আপনি সাইবার অপরাধী তাই।
- কি অপরাধ করছি।
- ফেইক আইডি দিয়ে আমার লিস্টে ঢুকেছেন।
- হিহিহি।
- হইছে এবার অফিস যান, দেরী হয়ে গেল।
- আচ্ছা যাচ্ছি। আর আজকে একটু ভাইবো।
- যত্তোসব।
- এহেম এহেম।
.
আজকের মতো এটুকু বলেই বিদায় হলাম। প্রতিদিন ওকে বিরক্ত করা আর ওর বকা শুনা আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। প্রতিদিন এভাবে ওর সাথে কথা বলার জন্য দাড়িয়ে থাকি। তবে ভালই লাগে ওর বকা শুনতে। নিজের ভালবাসার মানুষের বকা শুনতে কার না ভালো লাগে?
.
সারাদিন অফিসে কাজ করলাম। আজ অফিস ছুটি দিল বিকেল ৫টায় আজ একটু আগেই ছুটি দিল। অন্য দিন আরও পরে দেয়। তাই ভাবলাম একটা গোলাপ ফুল নিয়ে যাই ইরার জন্য। দোকানে গিয়ে ফুল কিনে রিকশায় উঠে বসলাম। তারপর বাসার সামনে এসে নামলাম।
.
ওদের বাসার সামনে গিয়ে দেখি, ঝাল পরী আজ নিচে নেমে ছোট ছোট কিসের যেন চারাগাছ ওগুলোয় পানি দিচ্ছে।
- হাই, ইরা।
- আআআআ
- কি হলো?
- আপনি?
- তো কে থাকবে?
- হটাৎ এসে পিছে থেকে ডাক দিলেন কেন?
- ভয় পাইছো?
- একটু।
- আসো ছুয়ে দেই।
- ফাজিল, আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন তো ঘুসি দিয়ে দাত উড়াইয়া দিমু।
- একটু রোমান্টিক মোডে আসো না প্লিজ। সবসময় মেজাজ দেখাও।
- আপনার মতো বাঁদরের সাথে আমি রোমান্টিক হবো? কখনো না।
- আমি বাদর?
- পুরোটাই।
- এই নাও তোমার জন্য ফুল আনছিলাম।
.
হাতে দিয়ে রাগ দেখিয়ে চলে আসলাম। হুহ, আমি কি এমন করছি যে বাদর হয়ে গেলাম?? আমার পেছনে তো আর ল্যাজ নাই, যে আমি বাদর হবো??
.
আমার রুমে ঢুকে হাসি আর থামাতে পারলাম না। হিহিহি হাহাহা হোহোহো,, আমার বাদর হাহাহা,, আমি সত্যিই বাদর,,, ওর সাথে রাগ দেখিয়ে চলে আসলাম। আমার রাগ দেখানোটা একদম একটা ট্রেইলার মাত্র। ইরা এখনো আমার বাঁদরামির কিচ্ছু দেখে নাই। আজ দেখবো কি করি।
.
সন্ধ্যা বেলায় ওদের বাসায় গেলাম,, দেখি ও ওর ঘরে বসে পড়ছে। তাই ওর কাছে আর গেলাম না।
- আন্টি কি করেন?
- নিলয় বাবা তুমি?
- কেন আন্টি, আমি কি আসতে পারি না?
- কি যে বলো,, তুমি আমার বাসায় যখন ইচ্ছে তখন আসবা,,, তুমি তো আমার ছেলের মতো।
- ( কেন বলেন না তুমি আমার জামাইয়ের মতো) আচ্ছা আন্টি ইরার ফোন কই?
- কেন বাবা?
- আমার ফোনে যেন কি হইছে কল ঢুকে না, এখন ঠিক করলাম, কল দিয়ে দেখি যায় কিনা?
- দাড়াও আনছি।
- আন্টি আন্টি আর ওকে বলবেন না আমি ওর ফোন চাইছি।
- আচ্ছা।
.
একটু পর ইরার ফোন নিয়ে আসলো। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আন্টি। টুপ করে নাম্বার টা নিয়ে নিলাম।
- এখন আসি আন্টি।
- কি বলো এ সব?
- কেন?
- না খেয়ে যেতে দিব না, বস এখানে।
- ইরা রাগ করবো না তো?
- ও রাগ করবো কেন?
- করতেও পারে।
- তুমি বসো তো আগে।
বসে পড়লাম, ডাইনিং টেবিলে।
.
হেব্বী মজা করে রাতের ডিনার করতে লাগলাম। একটু পর দেখি টুকটুকি আসলো।
- এই এই আপনি এখানে কেন!
- কেন? তাতে কি হইছে!
- আবার বলে তাতে কি হইছে? আর খাবার দিছে কে আপনাকে?
- আমার হবু শ্বাশুড়ী মা।
- চুপ একদম চুপ, বেহায়া বাদর, কোথাকার।
- আম্মুওওওওও থুক্কু থুক্কু আন্টিইইইইই।
- কি হইছে বাবা চিল্লাও ক্যান?
- দেখছেন আপনার মেয়ে আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে।
- ইরা ওকে কি বলছিস?
- কই কিছু না তো।
নিলয় বাবা তুমি খাও।
.
O M G আমার শ্বাশুড়ী টা এতো ভালো আমার বউটা এমন করে ক্যা রে। ধুরর, শ্বাশুড়ীটার যদি বয়স আরেকটু কম থাকতো তাইলে এইটারে বিয়ে করতাম।
ছিঃছিঃ নিলয় এগুলো কি কস তুই) হটাৎ আমার আত্মাটা এই কথা কইয়া উঠলো।
.
তারপর খাওয়া শেষ করে বাসায় চলে আসলাম। এসেই রুমে গিয়ে খুশিতে কতখন নাচানাচি করলাম। মা দেইখ্যা কয় আমার পোলা পাগল হইয়া গেছে। আমি সত্যিই খুশিতে পাগল হইয়া গেছি। আজকের বুদ্ধিটা এর আগে কেন যে আইলো না।
( কথায় আছে না, চোর পালাইলে বুদ্ধি বাড়ে)
ইরার অপমান খাইয়া আমার বুদ্ধির ডিব্বা খুইলা গেছে।
.
১০টার সময় কল দিলাম ইরাকে।
- হ্যালো।
- হ্যালো।
- কি করো ইরা?
- আপনি কে?
- তোমার বর।
- কি বলছেন এগুলো, আপনি কে? কাকে চান?
- আমি তোমার বর আর আমি তোমাকে চাই।
- দেখুন পরিচয় দিন নয়তো ফোন রাখলাম।
- এ বাবা, ৬ মাস ধরে একটা বাদর তোমার পেছনে ঘুরছে এতো সহজে ভুলে গেলে।
- আপনি??
- ইয়েস।
- ফোন দিছেন কেন?
- আমার বউয়ের সাথে প্রেমআলাপ করবো তাই।
- বউ কে?
- তুমি
.
টুট
.
কল কেটে দিছে, আবার দিলাম।
- হ্যালো।
- আবার দিছেন কেন?
- কাটলে কেন?
- আমার ইচ্ছা,
- কল দিমু সেটা আমার ইচ্ছা।
- আর হ্যাঁ, মি: বাদর, আমি আপনার আইডি চিনে নিএছি, আপনার আইডি চেক করেন।
- আচ্ছা দেখছি।
.
কলটি কেটে দিয়ে ফেসবুকে লগইন করলাম। গিয়ে দেখি পাজি টা আমারে ট্যাগ দিয়ে ইয়া বড় এক গল্প লিখে ফেলেছে।
কিন্তু ওটা পড়ে আমার নাক কান দিয়ে লাল ধোঁয়া বেরুতে লাগলো।
.
পুরো পোস্টে আমার নামে বদনাম করা। গালিগালাজ তো আছেই। কুওা হনুমান বিলাই, কানে ধরাইছে। আর কতকিছু।
এবার সত্যি সত্যি খুব রাগ হলো। সেবার তো এমনি ফাজলামো করে রাগ দেখাইছিলাম, আজ সত্যিই খুব রাগ হলো।
.
আমার ৪০০০ ফ্রেন্ড ছিলো লিস্টে, সবাই দেখে ফেলেছে। আমার মান সম্মান সব শেষ। তবুও নিজে থেকেই খুব রাগ হলো।
.
ভালবাসবে না নাই বাসলে,, এমনি বাইরে তো সবসময় বকাঝকা,, অপমান, কুওা বাদর বলে অপমান করই আজ ফেসবুকে সবার সামনে,,, সবাই কমেন্টে কি না কি বলছে,, আমার এলাকার ফ্রেন্ড ছিলো বেশি। তারপর অফিসের সবাই ছিলো আমার লিস্টে। তারা সবাই কমেন্ট করছে। কে এটা তোমার সাথে কি সম্পর্ক। তোমাকে বকলো কেন? তুমি কি কিছু খারাপ কাজ করছিলা?
.
আমি এখন কাল কি করে ওনাদের সামনে গিয়ে মুখ দেখাবো। ওরা কি থেকে কি ভাবছে কে জানে। আমি তো এখন লজ্জায় ওনাদের সামনেই যেতে পারবো না।
তবুও ভাবলাম কাল অফিসে যাব, যা হওয়ার হবে। সবাই যা জানতে চাইবে তাই বলবো।
.
সকাল হলে প্রতিদিনের মতো ফ্রেস হয়ে খেয়ে নিয়ে অফিসে চললাম।
আজকে শুধু একটা অভ্যাস ঘুরিয়ে ফেলছি আর সব ঠিকই আছে। আজকে আর ইরাদের বেলকুনি কেন, আসার সময় ওদের বাসার দিকেই তাকাই নাই। যত্তোসব।
.
অফিসে যাওয়া মাত্র সবাই ধরলো, কে ওটা? আর আমাকেই বা কেন ওমন পোস্টে ট্যাগ দিল।
আমিও বললাম, ওকে চিনি না,, কোনো এক ফেইক আইডি হবে হয়তো,,, ফাজলামো করে আমাকে এমন ট্যাগ করছে। এখন ট্যাগ ডিলিট দিছি তার সাথে ও আইডিও ব্লক দিছি।
.
একথা বলে তবুও কোনো মতে কেটে পড়লাম। ভাগ্য ভালো কেউ বুঝতে পারে নাই ওটা ইরা নামের পাজি মেয়েটার আইডি।
.
অফিস ছুটির পর অফিসের বাইরে আসতেই এক বাচ্চা ছেলে কতগুলো ফুল নিয়ে ঘিরে ধরলো।
- ভাইয়া ফুল নিবেন।
- না।
- নেন না ভাইয়া।
- কার জন্য নিব?
- আপনার প্রিয় মানুষটার জন্য নিবেন।
- নাই রে কেউ। একজনকে ভালবাসতাম সে ভালবাসে না।
- ওহ্, তে যাইগা।
- তোর কাছে টাকা আছে।
- না।
- এই পাঁচশো টাকা রাখ।
- এতো টাকা দিয়ে কি করুম।
- তোর যা ইচ্ছা তাই কর।
- ফুল তো নিলেন না টাকা দিলেন কেন?
- কিছু ভালো খাবার খা হোটেলে গিয়ে যা।
- ভাইয়া আপনি অনেক ভালো।
- ধুরর, আমি তো বাদর।
- কি যে বলেন।
- হইছে যা।
.
ওকে বিদায় দিয়ে সামনে তাকাতেই দেখি ইরা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
কি ব্যপার? আজ ও আমার অফিসের সামনে কি করে। কি ভেবে আবার এখানে আসছে। আর কেনই বা আসছে???
নিশ্চয় আবার কোনো অপমান করার ফন্দি আছে।
.
কিন্তু আজ পাজিটা শাড়ি পরে আসছে, খুব সুন্দর লাগছে। কিন্তু আমি ওতোটা না ভেবে পাশ কাটিয়ে রাস্তায় আসলাম। এসে একটা রিক্সায় উঠলাম।
রিক্সায় উঠতেই আবার কোথা থেকে যেন ঝড়ের মতো এসে আমার পাশে বসলো।
.
আমার খুব ভয় হতে লাগলো। এমন করছে কেন? আবার কি করতে চায়। কোনো দিন আমাকে ওর কাছে যেতে দেয়নি আর আজ নিজে থেকে এসে এক রিক্সায় আমার পাশে বসছে।
আমি একটু বিপরীত দিকে চেপে বসলাম যাতে ওর সাথে ছোঁয়া না লাগে।
.
সারা রাস্তা আসলো একটা কথাও বলিনি। দরকার কিসের, আমার দরকার নাই ভাব জমানোর। ভালবাসতে পারবে না, শুধু অপমান করতে পারবে। ৬ মাস শুধু শুধু ঘুরছি ওর পেছনে।
.
রিক্সা থেকে নেমে আমার ভাড়া টা দিয়ে চলে আসতে লাগলাম।
- এইযে মিঃ আমার ভাড়া কে দিবে?
- আপনার ভাড়া আপনি দিন।
- বাব্বা, এখন আপনি হয়ে গেলাম। কিন্তু ভাড়াটা আপনিও দিবেন।
- আচ্ছা দিচ্ছি।
.
ওর ভাড়া দিয়ে দৌড়ে চলে আসলাম, আমার বাসায়। তাহলে ভাড়া নেই বলে আমার সাথে আসা, হুহ। দেখা যাবে পরে। রাতে বসে বসে একটা উপন্যাস পড়ছিলাম, তখনই মোবাইল বেজে উঠলো,,, দেখি ওই পাজিটার নাম্বার থেকে কল,,,
ফোন বন্ধ করে দিলাম,,, যত্তোসব,,
এখন আসছে ভাব জমাতে।
.
তিনদিন হয়ে গেল আমি আমার মতো আছি। সেখানে খুশি সেখানে যাই, এখন আর বেলকুনির নিচে দাড়িয়ে অপেক্ষা করি না কারও জন্য।
( লাভ নিলয়, দাড়িয়ে থেকে লাভ নেই,, ভালবাসা তোর কপালে নেই)
.
৪ দিনের দিন আজ অফিস বন্ধ, শান্তি মতো ঘুমোচ্ছি।
- নিলয় উঠ তাড়াতাড়ি।
- যাও তো এখন ঘুমাতে দাও।
- উঠ বলছি।
- আজকে তো অফিস নেই, ঘুমাতে দাও।
- অফিস নেই তাতে কি হইছে? আজ তোর বিয়ে।
- কিইইইই?? ( লাফ দিয়ে ওঠে বসলাম)
- হুম।
- কখন কবে কার সাথে?
- এখন আজ ইরার সাথে।
- আমি ওকে বিয়ে করবো না।
- তুই করবি না তোর বাবা করবো।
- কিইইইই,,, হা হা হা হি হি হি হো হো হো।
- হাসছ কেন?
- বাবা বিয়ে করবে?
- চুপ হারামজাদা,,,, একটু আকটু কথায় কথায় ভুল হয়ই।
- ও আমাকে ভালবাসে না, ওকে বিয়ে করবো কেন?
- বিয়ে হলেই বুঝবি।
- হুম।
.
অনিচ্ছাকৃত ভাবে বিয়েটা হয়েই গেল।
বাসর ঘরে ঢুকবো কিনা, এটা নিয়ে টেনশনে পড়লাম।
শেষমেষ ভয় আর বিরক্ত নিয়ে ঢুকেই পড়লাম।
.
- এতখন লাগে আসতে?
- মানে!!!
- কটা বাজে হ্যাঁ, এতখন কই ছিলা?
- তাতে তোমার কি?
- ভুলে যেওনা আমি তোমার বউ।
- বউ ( খাটের পাশে বসলাম)
- হুম।
- এখন বিয়ে করার মানে কি?
- এ কয়দিন বেলকুনিতে যাওনি কেন?
- কার জন্য যাব?
- আমার জন্য।
- তোমার জন্য কেন যাব?
- ভালবাসো তাই যাবে।
- তুমি তো বাসো না।
- আরেক বার ওকথা বললে এখনো তাড়িয়ে দিব, বাদর কোথাকার (কাছে এসে বুকে পরে কান্না শুরু করলো)
- ছাড়ো,
- না।
- কেন?
- এমনি।
- তাহলে এতদিন নাটক করার কি ছিলো?
- তুমি জানো তোমাকে দেখার জন্য প্রতিদিন বেলকুনিতে আসতাম।
- তাহলে এতো ঢংগীদের মতো ঢংগ দেখাতে কেন?
- বাদরটার বাঁদরামি দেখার জন্য।
- শেষে বাঁদরের গলায় ঝুলে পড়লে?
- হুম।
- আর হ্যাঁ, বাদর বলবে না, বর বলবে।
- আচ্ছা।
- তাহলে এখন শুরু করি??
- মানে!!!!! কি বলো এগুলো লজ্জা করে না।
- এখন বাঁদরামি শুরু করবো হিহিহি।
- বাদর কোথাকার।
- বাতি নিভিয়ে দাও।
আচ্ছা দিচ্ছি, তারপর ঘুমাবে কিন্তু?
- একি তাইলে বাঁদরামি করবে কে?
- করা লাগবো না আজ। আজকে তোমাকে পাইছি, আজ সারারাত তোমার বুকে উপর মাথা রেখে ঘুমাবো।
- আচ্ছা, গুড নাইট।
- হুম, গুড নাইট

আজব...

হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে, খালি পায়ে প্রচন্ড রোদে
পিচঢালা রাস্তায় হাটছি। আপনারা ভাবছেন আমি হিমু হওয়ার
প্রয়াস করছি! মোটেও না হিমু হওয়ার কোনো
ইচ্ছাই আমার মধ্যে নেই। হিমুর পাঞ্জাবি
পকেটবিহীন, আমার পাঞ্জাবিতে পকেট
আছে। হ্যাঁ! দশমিনিট আগে আমার পায়ে জুতো
ছিলো, এখনও আছে তবে পায়ে না হাতে।
রাস্তায় হোচট খাওয়ার কারনে জুতোর ফিতা
ছিড়ে গেছে, তবে ফেলে দিতে পারছি না।
মাসে দুজোড়া জুতো কিনবো আমার সেই
সামর্থ্য নেই, তাই হাতে নিয়েই হাটছি। দশমিনিট খালি
পায়ে হেটেই পায়ের অবস্থা কাহিল। তাড়াহুড়ো
করে মোবাইলটাও মেসে ফেলে এসেছি।
পকেটে যে কয়টা টাকা আছে তা দিয়েই গোটা
মাস চলতে হবে। নতুন জুতো কেনার
কোনো প্রশ্নই আসেনা। জাতীয় সঙ্গীত
গাইতে গাইতে আনমনে হেটে যাচ্ছি।
আসলে জাতীয় সঙ্গীত ছাড়া আমি আর
কোনো সঙ্গীতই আমি গাইতে পারিনা।
.
কিছুদূর যেতেই দেখি একটা বড়সর জটলা। কাছে
যেতেই দেখি একজন ভিক্ষুক আহত অবস্থায়
রাস্তায় পড়ে আছে। আহত লোকটা বেশ
বয়স্ক। রাস্তা পার হতে গিয়ে বাইকের সাথে
এক্সিডেন্ট করেছে। যারা আহত লোকটাকে
নিয়ে জটলা পাকিয়ে রয়েছে, তারা
তিনশ্রেনিতে বিভক্ত। একপক্ষ বক্তা, এরা সুস্পষ্ট
ভাষায় দূর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে যাচ্ছেন। আরেক পক্ষ
শ্রোতা, এরা ধৈর্য্য সহকারে ঘটনার বিবরণ গলাধঃকরণ
করছেন। কিছু লোক ভিডিও ফুটেজ তুলতেই
ব্যস্ত। আমি মনে করি নানা বল সাবানের সাথে
মানুষের যথেষ্ঠ মিল আছে। নানা বল সাবানের
প্রচলিত বানী হচ্ছে, "নামে নয়, গুণে পরিচয়!"
আর মানুষের ক্ষেত্রে "নামে নয়, টাকায় পরিচয়!
"
আহত লোকটা যদি ভিক্ষুক না হয়ে বড় কোনো
ব্যবসায়ী কিংবা মন্ত্রী হতেন, তাহলে
এতক্ষণে হুলস্থূল কান্ড ঘটে যেত। খবরের
কাগজেও বড় করে হেডলাইন ছাপা হতো।
লোকগুলোর বিবেক দেখে মাঝেমধ্যে
অবাক হয়ে যাই! অবশেষে আমি আহত
লোকটাকে নিয়ে রিকশায় উঠলাম, গন্তব্য
হাসপাতাল। কিছু লোক উৎসুক দৃষ্টিতে আমার দিকে
চেয়ে আছে। ভাবখানা এমন, যেন আমি মানুষ না
এলিয়েন!
.
লোকটাকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে, ওষুধ
আর কিছু খাবার কিনে দিলাম। বেশিক্ষণ হাসপাতালে
থাকলাম না, বের হয়ে আসলাম। হাসপাতালের এত
রোগী, আমি সহ্য করতে পারিনা। হাসপাতাল
থেকে বের হয়ে, ফুটপাতে হেটে
চলেছি। আহত লোকটার রক্ত, আমার হলুদ
পাঞ্জাবিটাকে লাল করে দিয়েছে। আমার
শরীরের কিছু অংশে এখনও রক্ত লেগে
আছে৷ সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি, রোদের কারনে
খুব দূর্বল লাগছে। হাঁটার শক্তিটুকুও নেই বললেই
চলে। মানিব্যাগটা বের করে দেখি, দশটাকা
অবশিষ্ট আছে। দশটাকা দিয়ে দুটো সিগারেট
কিনলাম। সিগারেটের ক্লান্তি ও চিন্তা দূর করবার এক
আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে। সিগারেটে টান
দিতেই ক্ষুধার কথা মন থেকে উধাও হয়ে
গেলো। এক অজানা সুখ নিয়ে রাস্তায় হেটে
যাচ্ছি। তবে লক্ষ্য করলাম, কিছু লোক আমার
দিকে যথেষ্ট কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে আছে।
আমার দিকে বললে ভূল হবে, আমার পাঞ্জাবির
দিকে। আমার পাঞ্জাবিতে লেগে থাকা রক্তই
যে এর কারন বুঝতে দেরী হলোনা।
.
কলেজের পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ
একটা জীপগাড়ি এসে আমার সামনে দাড়ালো। পাশ
কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। তখনি গাড়ি থেকে কিছু
পুলিশ নেমে এসে, আমাকে জোর করে
গাড়িতে তুললো। কিছু বলার সুযোগও দিলো না।
গাড়িটা সোজা থানায় এসে থামলো। পাতলা হাবিলদার
টাইপের একজন আমাকে গাড়ি থেকে বের
করে, সোজা হাজতের ভিতরে ঢুকালো। আমি
ব্যাপারটাকে বেশ মজা হিসেবেই নিলাম। আমি
ছাড়াও আরো চারজন হাজতে বন্দী রয়েছে।
সবাই আমার থেকে বয়সে বড়। একজনের
চেহারা অনেকটা পালোয়ানের মতো।
পালোয়ান টাইপের লোকটাই বললো, "পকেট
মারছিস? নাকি চুরি করছিস? "
একজন বললো, "দেখেন না ভাই, পাঞ্জাবিতে
রক্ত লেগে, মনে হয় খুন! খুন করছে! "
আমি কিছু বললাম না, শুধু রহস্যময় একটা হাসি দিলাম।
এরমধ্যে একজন কনস্টেবল ওসির কথা বলে
আমাকে বাইরে বের করলো। ওসির কাছে
যেতেই, ওসি বসার জন্য ইশারা করলো। ওসির
মুখোমুখি চেয়ারে বসলাম। ওসি আমার দিকে
ঝুকে, আমাকে বললেন,
-- নাম কী?
-- রাজ!
-- কী করিস?
-- লেখাপড়া!
-- শরীরে রক্ত কেন?
-- এক আহত লোককে হাসপাতালে ভর্তি
করতে গিয়ে, ওনার রক্ত আমার শরীরে
লেগেছে।
-- ফাজলামো করিস আমার সাথে? এই মিজান! এরে
কয়েকঘা দে! ভালো করে জামাই আদর কর।
বুঝুক পুলিশ কী!!! ঘুঘু দেখেছো, ঘুঘুর ফাদ
দেখোনি!!!
.
বলতে দেরী হলো, মারতে দেরী
হলোনা। প্রথমে ভেবেছিলাম, চুপ করে
থাকবো কিন্ত শেষে পারিনি। শেষে অবস্থা
এমন "ছেড়ে দে মা, কেদে বাচি!"
মিজান সেকেন্ড অফিসার! আমাকে ইচ্ছামতো
মেরে আবার হাজতে ভরে রাখলেন। আমি
ভেতরে যেতেই বাকি চারজন একসাথে জটলা
পাকালো। সবাই ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে
চেয়ে আছে। পালোয়ানটারও যে
চোখেমুখে ভয়, বুঝতেই পারলাম। ওদের
দিকে তাকিয়ে বেশ হাসলাম। মনে হয় ওরা
আরো ভয় পেয়েছে।
.
হাসছি আর মনে মনে ভাবছি ... "বড় বিচিত্র এ
পৃথিবী। এখানে একদল মানুষ অপরাধ করেও
দাপিয়ে বেড়ায়। আর একদল বিনা অপরাধে সাজা
ভোগ করে। আমিও অনেকটা সেই দলে! এই
বিচিত্র পৃথিবীতে আর কত যে আজব
রঙ্গলীলা দেখতে হবে, এইটা একমাত্র তিনিই
জানেন। আমাদের তো শুধু সময়ের
অপেক্ষা!!!"
পরিচয়টা এই ফেইসবুকে। আমাদের বাসা থেকে কিছুটা দুরের একটা রুমে কিছুটা অদ্ভুত কিসিমের একটা মেয়ে ছিল। মেয়েটাকে দেখে বোঝার উপায় নেই মেয়েটা কেমন। একটা অপরিচিত মানুষের কাছে আপনি তখনই বিশ্বস্থ হবেন যখন মানুষটা আপনাকে বিশ্বাস করে ফেলবে। এমনিতে দেখলে মনে হতো খুব ভাল, হাসিখুশি কিন্তু কেমন যেন একটু অন্যরকম। বুকে যথেষ্ট কষ্ট পুষে রাখতে সে ব্যাতিব্যাস্ত। আমি লক্ষ্য করেছি সে অন্য সবার থেকে আলাদা। একদম ই আলাদা।
-
প্রথম যেদিন জানতে পারলাম মেয়েটা রান্না করে খায় অথচ সপ্তাহে একটাদিনও ঠিকমত বাসার রান্নাঘরে দ্যাখা যায় না, শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম। কিছু জিজ্ঞেস করলে মৃদ্যু হেসে উত্তর দেয়। হাসিটা ই তার ঐতিয্য। আমার বিশ্বাস এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। সারাদিনে বোধয় প্রয়োজন ছাড়া কখনোই রুম থেকে বের হয় না।চারপাশে এই যে অসংখ্য মেয়ের ভীড়ে আমি জেনেছি সে কখনোই টিভির রুমে কিংবা ছাদে দেখা যায় না। মাঝেমাঝে ভাবতাম আচ্ছা, মেয়েটা এমন কেন?
-
মেয়েটা যে কথা বলে না বা হাসে না, এমনটা কিন্তু নয় ই। অনেক হাসে, কথাও বলে কিন্তু দেখেছি তাকে অন্য দশজন মেয়ের মতো সাজতে হয় না, কথা বলার ভঙ্গিমা যথেষ্ট মনকাড়া আর এই অসীম ক্ষমতাটা মেয়ে হিসেবে উপর ওয়ালা নিজ থেকেই দিয়েছেন।
মাঝেমাঝে দেখতাম সময় অসময় বাইরেও যায়। মাঝেমাঝে বন্ধুদের সাথেও দেখতাম, বাস্তবে নয় ফেইসবুকের আপলোডকৃত ফটো দেখে। আবার মাঝেমাঝে দেখতাম, আড্ডা দেওয়ার মত কোন কোন জায়গায় উদাস হয়ে হাটছে, একা। আমার সাথে মেয়েটার কথা হয়েছে বেশ কয়েকবার। সুন্দর গুছিয়ে বলতে পারে আর প্রত্যেকবারই হেসে হেসে উত্তর দিত।
-
মেয়েটাকে লক্ষ্য করলে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা সাড়া দেয় তা হলো- "ধৈর্যধারন ক্ষমতা"
যতদিনই কথা হয়েছে ঝগড়া ছাড়া কিছুই উপহার দিতে পারি নি। আর সে এই পর্যায়টাতে যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। জানি না এই গোপন তথ্যটা জানার পর সে কেমন আচরন করবে, তথ্যটা এই "তার ধৈর্য ধারন ক্ষমতা দেখে আমি মুগ্ধ" বাজে রিয়্যাক্ট করতে দেখিনি কখনও। আমার কোনো আচরনেও তার কাছ থেকে বাজে রিয়্যাক্ট ফেরত পাই নি কখনও। ভেবেছিলাম মেয়েরা বোধ হয় এমন ই কিন্তু না, এরকম ক্ষমতা সবার থাকে না।
-
মাঝেমাঝে যখন কথা হতো, শুনতাম সে হয়তো মোবাইল নয়তো বই [হোক সেটা টেক্স কিংবা গল্পের] য়ে ডুবে আছে ! এমনও মানুষ হয় ?
একবার মেয়েটাকে প্রশ্ন করেছিলাম, "তুমি গান বলতে পারো? "
সে বলেছিল, "একটু একটু"
একটা গান শোনাবে ?
সে বলেছিল, " তুমি শুনবা আমার গান? হা হা হা, হাসাইওনা তো ! "
-
তাকে যদি কখনও বলতাম তুমি না সাজলেই তোমাকে ভালো লাগে। তখন সে ভাবতো এই প্রসংশাটা তাকে করা হয় নি, অন্য কাউকে করা হইছে। এসব কথা নাকি তাকে মানায় না। এই ধরনের মনমানসিকতা থেকে আমার মনে হয় বের হওয়া উচিত, কারন "একটা তেলাপোকা যখন একের অধিকবার শরীরে উড়ে আসে তখন আমরা ক্ষিপ্ত হই কিন্তু প্রজাপতি উড়ে আসাতে আনন্দ পাই"
.
বলি কি, নিজেকে কখনও ছোট করে দেখতে নেই। আমি যা, আমি তা ই। আমি অনলি ওয়ান। কারো নেগেটিভ কিংবা পজিটিভ কিছু বলাতে কিছু যাবে আসবে না।
-
অতপরঃ একদিন গভীর রাতে মেয়েটা একটা গান গেয়ে শুনিয়েছিল। আমি সেই থেকে তার ওই গানটার ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এর পর থেকে কখনও কথা হলে শুরুতেই বলতাম যেন সেই গানটা গেয়ে শোনায়।
-
-
-
বলি কি,
গভীর রাত,
ক্লান্ত তুমি অতল ঘুমের গহীনে, যদি ডেকে তুলে বলি তোমায়, তোমার ঘুমজড়ানো মায়ার গোলাপজ্বলে ভেজানো কণ্ঠে একবার তোমার দেয়া আদুরে নামটায় ডাকো আমায় !!
তুমি কি ডাকবে?
-
বলি কি,
জোৎস্না রাত,
তুমি ঘুমিয়ে আছো,চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ছে তোমার মুখে,আমার নিঃশ্বাসের শব্দে যদি তোমার ঘুম ভেঙে যায়,চোখ মেলে তুমি যদি দেখো আমি একবার তাকাই তোমার দিকে একবার তাকাই চাঁদের দিকে কে বেশি রূপসী কে বেশি মোহনীয় তা বুঝতে।
তুমি কি আমায় উন্মাদ ভাববে?
-
বলি কি,
বর্ষার রাত,
তুমি কপালে হাত রেখে দেখলে আমার গায়ে ভীষণ জ্বর। ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছি। এক কাঁথাতে কিছুতেই কাজ হচ্ছে না দেখে তুমি কি বোকার মতো কম্বল বের করতে যাবে নাকি কণ্ঠের আকুলতা বুঝে নিয়ে নিজেই হবে উষ্ণতার পরম আধার?
-
বলি কি,
গ্রীষ্মের রাত,
শহরজুড়ে লোডশেডিং। আমি দরদর করে ঘামতে ঘামতে জেগে উঠে যদি বলি আমার বক্ষ জুড়ে অনন্ত তৃষ্ণা। তবে তুমি কি বোকার মতো জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢালা শুরু করবে
নাকি চোখের ভাষা বুঝে নিয়ে ঠোঁট বাড়িয়ে দেবে?

অচেনা সেই ছেলেটি

মেয়েটি দেখতে খুব বেশি একটা সুন্দর
না।তবে খুবই শান্ত শিষ্ঠ নম্র ভদ্র
একটা মেয়ে।ছেলেদের সাথে বেশি একটা
কথা বলেনা।খুবই লজ্জাবতী একটা
মেয়ে।কিন্তু তার ব্যাবহার খুবই ভালো।
.
.
মেয়েটির স্কুলের কোন এক বন্ধুর
কাছথেকে কথাগুলো শুনে না দেখেই
মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায় ছেলেটি।
কেননা ছেলেটি আগেই ভেবেরেখেছিলো
যে সে যদি কোনদিন প্রেম করে তবে
নম্র,ভদ্র ও লজ্জাশীল কোন মেয়ের
সাথেই প্রেম করবে।
.
.
মেয়েটির ঐ বন্ধুর কাছথেকে মেয়েটির
ফোন নাম্বার নেয় ছেলেটি।
.
.
ছেলেটা একটু ভীতু টাইপের হওয়ায়
মেয়েটির নাম্বারে অনেকবার ফোন দিতে
গিয়েও কেটে দেয়।তো একদিন রাতে
ছেলেটি সাহস করে মেয়েটির নাম্বারে
একটা ম্যাসেজ দেয়।একটু পর মেয়েটি
দেখতে পায় একটা আনোন নাম্বার থেকে
ম্যাসেজ এসেছে তার ফোনে।মেয়েটি
ভাবে তার কোন বন্ধু ম্যাসেজটা দিয়েছে
হয়তোবা।
.
.
ছেলেটি পরেরদিন সকালে আবার
মেয়েটিকে ম্যাসেজ দেয়।মেয়েটি দেখে
আবার ঐ নাম্বার থেকে ম্যাসেজ
এসেছে।লেখা "good morning"।
কে ম্যাসেজ দিয়েছে তা জানার জন্য
মেয়েটি ফোনদেয় ঐ নাম্বারে।কিন্তু
ছেলেটা এতটাই ভিতু যে ফোন ধরতে
সাহস পায়না।ভাবে কী বলবে মেয়েটিকে।
কী পরিচয় দিবে তাকে।তিন চারবার
ফোন দেওয়ার পর মেয়েটি আর ফোন
দেয়না।ভাবে তার কোন বান্ধবী
হয়তোবা তার সাথে ফাইজলামো করছে।
.
.
সেদিন কলেজে গিয়ে মেয়েটি তার বন্ধু
বান্ধবীদের নাম্বারটা দেখিয়ে বলে কে
তাকে এই নাম্বার থেকে ম্যাসেজ দিয়েছে
কিন্তু কেউ বলতে পারেনা।মেয়েটি খুব
চিন্তায় পরে যায় তাহলে কে তাকে
ম্যাসেজটা দিতে পারে।
.
.
সেদিন রাত এগারোটার দিকে আবার ঐ
নাম্বার থেকে ম্যাসেজ আসে মেয়েটির
নাম্বার।সুন্দর করে লেখা "good
night"।মেয়েটি তখন আবার ঐ
নাম্বারে ফোন দেয় কিন্তু ছেলেটি ফোন
ধরেনা।
.
.
এভাবে প্রতিদিন রুটিন মাফিক সকালে
ও রাতে মেয়েটির নাম্বারে ম্যাসেজ
আসে।আর মেয়েটিও ঐ নাম্বারে ফোন
দেয়।কিন্তু প্রতিবারই ফোন বাজে
কিন্তু কেউ ধরেনা।
.
.
এভাবে ছেলেটির ম্যাসেজ দেওয়া ও
মেয়েটির ম্যাসেজ দেখেই ঐ নাম্বারে
ফোন দেওয়া কিন্তু ছেলেটির ফোন
রিসিভ না করার মাধ্যমে চলতে থাকে
দিন।
.
.
কিন্তু একদিন রাতে ছেলেটি খুব অসুস্হ
ছিলো এবং ফোনে টাকাও ছিলোনা তাই
মেয়েটির নাম্বারে ম্যাসেজ দিতে
পারলোনা।মেয়েটি সেদিন রাতে কোন
ম্যাসেজ দেখতে পেলোনা।
.
পরেরদিন
সকালেও মেয়েটি ঘুমথেকে উঠে দেখল
৮টা বেজে গেছে।কিন্তু ৭টায় তার
একটা কোচিং ছিলো।প্রতিদিন ছয়টা
বিশ মিনিটে ছেলেটির ম্যাসেজে
মেয়েটির
ঘুম ভাঙ্গতো।যা মেয়েটির অভ্যাসে
পরিনত হয়েগিয়েছিলো।কিন্তু সেদিন
সকালে কোন ম্যাসেজ না আসায়
মেয়েটির সেদিন সকালে উঠতে লেট হয়।
পরে মেয়েটি ম্যাসেজ চেক করে দেখলো
সেদিন সকালেও তার ফোনে কোন
ম্যাসেজ আসেনি।মেয়েটি মনে মনে কী
যেন মিস করতে লাগলো।আর বারবার
শুধু মোবাইলে ম্যাসেজ চেক করতে
থাকলো।সে নিজেও ভেবে পেলোনা কেন
তার এমন ফিলিংস হচ্ছে।তাহলে কী সে
অচেনা ছেলেটিকে ভালোবেসে ফেলেছে।
.
.
এভাবে মেয়েটির নাম্বারে অনেকদিন
আর কোন ম্যাসেজ আসলোনা।আর
মেয়েটিও অনেক মিস করতে লাগলো
ম্যাসেজ ঐ ম্যাসেজ গুলোকে।আর
ভাবলো সত্যিই আমি কী তাহলে তাকে
ভালোবেসে ফেলেছি ঐ অচিন
মানুষটিকে।
.
.
মেয়েটি আরও কয়েকদিন যাওয়ার পর
আর সহ্য করতে না পেরে ছেলেটির
নম্বরে একটা ম্যাসেজ দিলো-
"জানিনা আপনি কে।কিন্তু আপনি যেই
হোন না কেন।আপনি আমার এই কথাটির
উত্তর দিবেন প্লিজ আমি আপনাকে
কেন এত মিস করছি।কেনইবা এতদিন
আমাকে ম্যাসেজ দিলেন আর কেনইবা
একবারে ম্যাসেজ দেওয়া বাদ দিলেন।
উত্তর দিবেন প্লিজ।"
.
.
কিন্তু সেই ম্যাসেজটিরও রিপ্লাই
আসলোনা মেয়েটির ফোনে।
.
.
আর আসেওনি কোনদিন এই ম্যাসেজের
রিপ্লাই।কেননা পৃথিবীতে যে নেই আর
সেই ছেলেটি।
.
.
হ্যা সেদিনই সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ
করে চলে গিয়েছে যেদিন সে খুব অসুস্হ
থাকা সত্তেও মেয়েটিকে ম্যাসেজ দিবে
বলে মোবাইলে টাকা ভরতে গিয়েছিলো।
হ্যা সেদিনই ছেলেটি রাস্তা পার হতে
গিয়ে
ট্রাকের নিচে চাপা পরেছিলো।