বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৭

প্রতিশোধ

আমি আর অনু ছোটবেলা থেকেই একসাথে বড়
হয়েছি। একসাথে খেয়েছি, একসাথে খেলেছি,
এমনকি স্কুলেও একসাথে পড়েছি। আমি লেখাপড়ায়
তেমন ভালো ছিলাম না, কিন্তু অনু ছিলো আমাদের
ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী। আমি
এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করি। তবে নিজের
মেধার জোরে না, অনুর মেধার জোরে। আমি
বরাবরই অনুর দেখে লিখতাম, আর ফলস্বরূপ ভালো
রেজাল্ট আমার কাম্যই ছিলো। আমি জানতাম যে অনু
আমার প্রতি দূর্বল, এই সুযোগ টাই আমি কাজে
লাগাতাম। আমি অনুর সাথে মিথ্যা প্রেমের নাটক
করতাম, কিন্তু অনু আমার এই নাটক টাকেই সিরিয়াস
ভাবতো।
.
অনুর চেহারা মোটেও আমাকে আকর্ষণ করতো
না। কিন্তু নিজের প্রয়োজনেই আমি অনুকে
ব্যবহার করতাম ,ভালবাসার মিথ্যা মায়াজাল বুনতাম অনুকে
ঘিরে। ইন্টারেও আমি আর অনু একই কলেজে
ভর্তি হলাম। কলেজে ভর্তি হয়ে লেখাপড়ার প্রতি
একটু সিরিয়াসও হলাম। আস্তে আস্তে অনুকে দূরে
সরিয়ে দিচ্ছিলাম। কিন্তু পারলাম না। কলেজের
একপর্যায়ে আমি অনুর সাথে শারীরিক সম্পর্ক
পর্যন্ত করি। অনুকে নিয়ে একটা ঘোরের মধ্যে
ছিলাম, বিনা কারনেই অনুর দেহটা নরপিশাচের মতো
ভোগ করতাম। দেখতে দেখতে এইচএসসি
পরীক্ষা চলে আসলো। পরীক্ষাহলে আগের
মত অনুর দেখে লেখার সুযোগ না পেলেও,
বেশ সহায়তা পেতাম অনুর কাছ থেকে। প্যাকটিক্যাল
থেকে শুরু করে সবই অনুকে দিয়ে করাতাম।
বেশ ভালোভাবেই পরীক্ষা শেষ হলো
আমাদের। আশানুরূপ ফলও পেলাম। রেজাল্ট পাওয়ার
পর পুরো ফ্যামিলিসহ ঢাকায় চলে আসি। সেদিন অনুর
চোখের জল আমাকে মোটেও আটকাতে
পারেনি। সব সম্পর্ক ছিন্ন করে সেদিন বাবামায়ের
সাথে ঢাকায় চলে আসি।
.
শহরে এসে অনুকে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম।
শহরের নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধুবান্ধব পেয়ে
অনুকে একসময় প্যারা মনে হত। বেশ কয়েকটা
রিলেশনও করি শহরে এসে। শহরের ফ্যাশনেবল
মেয়ের সাথে ডেটিং করে আলাদা মজা পেতাম।
শহরের ফ্যাশনেবল মেয়েগুলোর মধ্যে লিমা
মেয়েটা বেশ আলাদা। লিমাকে দেখে আমার মন
ছুয়ে যেত। দিনদিন লিমার প্রতি আমি দূর্বল হতে
থাকি। অজানা কারনেই লিমাকে নিয়ে স্বপ্ন বুনতে
থাকি। লিমার চিন্তা করতে বেশ ভালো লাগতো।
লিমার প্রতি আমার আলাদা ফিল কাজ করতো, কেন জানি
ওকে খুব মিস করতাম। আমার সাথে একসময়
রিলেশনও হয় মেয়েটার। কিন্তু রিলেশনের
ছয়মাসের মাথায় ব্রেকআপও হয়। শহরের
মেয়েতো আমার মতো হাফ গাইয়া হাফ শহুরে
ছেলেকে পাত্তা দিবে কেন?
.
লিমার সাথে ব্রেকআপ হবার পর খুব খারাপ লাগতো।
অনুর কথা মনে হতো, মনে হতো অনুর সাথে
আমার কাটানো প্রতিটি মুহূর্তর কথা। একটা মেয়ে
একটা ছেলেকে কী পরিমাণ ভালবাসতে পারে
অনুকে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না। চাই না আমার
স্টাইলিশ, ফ্যাশনেবল মেয়ে, আমার শুধুই অনুকে
চাই। অনুই পারে আমার বাকিটা জীবন সাতরঙে
রাঙিয়ে দিতে। অনুর কাছে হাটু গেড়ে হাতজোড়
করে ক্ষমা চাইবো, আমি জানি অনু আমাকে
ফেরাতে পারবেনা। বাকিটা জীবন অনুকে নিয়ে
নিশ্চিন্তে কাটাবো।
.
আজ তিনবছর পর গ্রামে যাচ্ছি। আলাদা অনুভূতি হচ্ছে
মনের ভেতর। বাস যখন গ্রামে এসে পৌছালো
ততক্ষণে রাত ২ টা বেজে গেছে। ওহ! রিকশা,
ভ্যান কিছুই নেই, চার কিলোমিটার রাস্তা হেটে
যেতে হবে। হালকা বৃষ্টিপাতও শুরু হয়েছে, সাথে
বজ্রপাত তো আছেই। প্রথমে ভাবলাম
বাসস্ট্যান্ডেই রাতটা কাটিয়ে দেবো, পরক্ষণে
মনে হলো হেটেই যাই। পকেট থেকে
সিগারেটের প্যাকেট বের করলাম। দেখি একটাই
সিগারেট অবশিষ্ট আছে, ওটাই ধরালাম। নিশ্চিন্তে
সিগারেটটা শেষ করে অনুর বাড়ির উদ্দেশ্যে হাটা
দিলাম। কিছুদূর যাওয়ার পর বিকট শব্দে একটা বজ্রপাত
হলো। বজ্রপাতের আলোয় মনে হলো ...
কে যেন আমার সাথে তাল মিলিয়ে হাটছে। পাশে
তাকাতেই দেখে অনু। অনুকে দেখে আমার খুশি
দেখে কে? আমিই অনুকে বললাম ....
-- তুমি এখানে? তাও আবার এত রাতে?
-- তোমার জন্য অপেক্ষা করি। আমি জানতাম তুমি
একদিন ঠিকই আসবে।
-- তোমার সাথে আমি অন্যায় করেছি। আমাকে
ক্ষমা করবে না।
-- ক্ষমা। হাহাহাহাহাহহাহ
-- অনুর এই হাসিটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগলো।
এইরকম ভাবে কখনো অনুকে হাসতে দেখিনি।
তারপরেও বললাম ... আমি কী ক্ষমার এতোটাই
অযোগ্য?
-- (অনু নিঃশব্দে হেটে যাচ্ছে।)
-- কী হলো? আমি কী ক্ষমার এতোটাই
অযোগ্য?
কোনো উত্তর না পেয়ে ভাবলাম অনুকে একটু
জড়ায়ে ধরি। অনুর হাতে আমার হাতটা রাখবো। কিন্তু
অনুর হাতটা আমি ধরতেই পারছিনা, ভাবলাম অন্ধকার তাই
হয়তো। আমি যতই অনুর কাছে যাচ্ছি অনু তত আমার
থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তবে দেখে
বোঝার উপায় নেই যে অনু দূরে সরে যাচ্ছে।
আমার আর অনুর মাঝে এক হাতের ব্যবধান,
তারপরেও আমি ওকে ধরতে পারছিনা। আমি যতই
অনুকে ছোয়ার জন্য বামপাশে যাচ্ছি, অনুও তত
বামপাশে সরে যাচ্ছে। অনু যে আমাকে থেকে
দূরে সরে যাচ্ছে ওর হাঁটার ধরন দেখে
মোটেও বোঝার উপায় নেই, অথচ আমার আর
অনুর মাঝের দূরত্বটাও আগের মতোই আছে।
হঠাৎ আবারো প্রচন্ড বিকট শব্দসহ বজ্রপাত হলো,
কিন্তু বজ্রপাতের আলোয় অনুকে কোথাও
দেখতে পেলাম না। ভাবলাম এটা আমার মনের ভূল,
তাই আরো দ্রুত পা চালিয়ে হাটতে লাগলাম। আবার
মনে হল, কেউ আমার সাথে তাল মিলিয়ে হাটছে।
ডানপাশে তাকাতেই দেখি অনু! বজ্রপাতের
আলোয় এবার অনুকে স্পষ্ট দেখতে পেলাম।
.
তারপর আর কিছুই মনে নেই৷ চোখ মেলে
দেখি, আমি মসজিদে শুয়ে আছি। আমাকে ঘিরে
রয়েছে অনেকগুলো মুরুব্বি, তারমধ্যে একজন
আমার পাশে বসে বিড়বিড় করে কী যেন
আওড়াচ্ছেন। আমি উঠে বসলাম। আমাকে ঝাড়ফুঁক
করে আর পানিপড়া দিয়ে মুরুব্বি লোকটা আমায় বাসা
পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। অনুদের বাসায় এসে
সবাইকে দেখতে পেলাম কিন্তু অনুকে দেখতে
পেলাম না। আন্টিকে অনুর কথা বলতেই, আন্টি যা
বললেন তা শোনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত
ছিলাম না। আন্টি বললেন, আমি যাওয়ার ১৩ দিনের মাথায়
অনু আত্মহত্যা করে। অনুর কুকর্মের কারনে ওর
গর্ভে সন্তান জন্ম নেয়। অনেক চেষ্টা করেছি
কিন্তু মরার আগে মেয়েটা একবারের জন্যেও
ওই ছেলেটার নাম বলল না। কথাগুলো বলেই আন্টি
কাদতেঁ কাদতেঁ ঘরে চলে গেলেন। আমিও
জ্ঞানশূন্যের মতো ওখানেই পরে থাকলাম।
.
নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে আরো দুইবছর
কাটিয়ে ফেলেছি। এই দুবছরে যে কী পরিমাণ
কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে, সেটা শুধু আমিই
জানি। আয়নায় নিজের চেহারার বদলে অনুর চেহারা
দেখতে পাই। পানি থেকে শুরু করে সব কিছুতেই
অনুকে দেখি। অনুর অট্টহাসি আমি সহ্য করতে
পারিনা। মনের মধ্যে আলাদা ভয়, আলাদা ভীতি কাজ
করে। অনেকবার মরার চেষ্টা করেছি পারিনি,
হয়তো অনুই আমাকে মরতে দেয়নি। অনু আমার
ভেতরটা কুড়েকুড়ে খাচ্ছে। হ্যাঁ! এটাই আমার
পাপের শাস্তি। অনু আমার প্রতি প্রতিশোধ নিচ্ছে।
কিন্তু আমি এই প্রতিশোধ আর সহ্য করতে পারছিনা,
আমার যে মুক্তি চাই। মুক্তি....। বাকিটা জীবনের
প্রতিটি মূহুর্ত কাটে মুক্তির আশায়!!!
.
নিজ অপরাধের শাস্তি আমি ভুগছি দিবারাত্রি .....
তুমি নিচ্ছো প্রতিশোধ, কিন্তু আমি যে চাই
মুক্তি.....
ঘড়িতে সময় দুপুর ২টা বেজে ৩০মিনিট কাজ থেকে বের হইছি উদ্দেশ্য দুপুরের খানাপিনার কাজটা বাড়িতেই করবো। তাই বাড়ির উদ্দেশ্যে হাটতে শুরু করলাম হাটার গতি অন্য দিনের তুলনায় অনেকটা বেশি। তার অবশ্য একটাই কারণ পেটের ভিতরের ছুচুটা দ্রুত গতিতে দৌড়াচ্ছে যা আমার আয়েত্তের বাইরে।
সূর্য মামাটা হাটার মাঝে বড় ধরণের একটা বেঘাত ঘটাচ্ছে কারণ আজ ওনি কেনো যেনো প্রচন্ড রেগে আছে।তাই ওনার তাপটাও অন্য দিনের তুলনায় অনেকটা বেশি। মনে হচ্ছে সকাল সকাল ওনার গফের সাথে ওনার বড় ধরণের ঝগড়া হইছে,,,,,
আচ্ছা সূর্যেরও কি গফ আছে,,,???? কি জানি ভাই আমার জানা নাই তবে ওনার তাপের পরিমাণ দেখে এটাই মনে হচ্ছে। গায়ের টিশার্টা প্রায় ঘামে চুপসে গেছে তারপরেও বাজার থেকে বের হতে পারলাম না তার কারণ আজ হাটবার,,,,
,
আশে পাশের গ্রামের যত দোকান পাট আছে সব আজ আমাদের বাজারে এসে জমা হইছে। প্রতি সপ্তাহে সোমবার এখানে হাট হয় প্রচুর ভিড়। আমার চোখের সামনে শুধু মানুষের মাথা আর তরকারির ব্যাগ দেখতে পাচ্ছি তাছাড়া কিচ্ছু না। হঠাৎ পকেটে থাকা আলেকজেন্ডার ভাইয়ের তৈরি মহা মূল্যবান আবিষ্কার ফোনটা বাজতে শুরু করলো। পকেটের ফোনটা বের করে দেখলাম আম্মুর ফোন,,,,,,
,
হ্যাঁ মা বলও,,,,??
,
বাসায় আসবি না,,,??
,
হুম আসছি রাস্তায়,,,,
,
আচ্ছা। আসার সময় একটা লাউ নিয়া আসিস বাবা,,,,
,
আচ্ছা,,,,
,
আম্মুর ফোন কেটে দিয়ে পাশের তরকারির দোকান গুলোতে লাউ খোজতে শুরু করলাম। আশেপাশে কোনো লাউ দেখতে পেলাম না তাই আরেকটু সামনে চলে আসলাম। হাটের ভিতরে আসতেই দেখলাম পাশে এক বয়স্ক চাচা একটা পাথির মাঝে কয়েকটা লাউ নিয়ে বসে আছে।আমি জীবনে কখনও লাউ কিনি নাই এটাই জীবনে প্রথম বার লাউ কিনা অন্য সব বাজার আমি করতে পারি তাতে কোনো সমস্যা নাই।
চাচার সামনে কোমরে হাত দিয়ে এক দৃষ্টিতে লাউ গুলার দিকে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি লাউ কি দেখে কিনে ওজন নাকি সাইজ,,,,??
ভাবনা বাদ দিয়া একটা মাঝারি সাইজের লাউ হাতে নিলাম আর চাচারে জিগাইলাম,,,,,
,
চাচা লাউটা কত টাকা,,,??(এমন একটা ভাব নিছি যে আমি লাউ কিনাতে পারদর্শি)
,
বাজান তোমার লাইগা ৪০টাকা রাখমু এইডা,,,,,
,
বাজান কিছু কম হয় না,,,,??
,
নাহ বাজান বিসমিল্লাহ করমু তুমিই প্রথম,,,,,
,
আইচ্ছা বাজান ৪০টাকাই দিমু তবে একটা কথা বাজান,,,,
,
কি কথা বাজান,,,,
,
আসলে বাজান আমি জীবনে লাউ কিনি নাই লাউ কি দেইখা কিনে একটু কইবেন,,,??
,
এইডা কি কও বাজান লাউ কিনো নাই জীবনে,,,?
এত বড় পোলা হইয়া এইডা সম্ভব,,,??
,
হু বাজান সবই সম্ভব ডিজিটাল বাংলাদেশ বলে কথা বুঝেন না কেরে,,,,,
,
হু বুঝছি। তুমি এই লাউডা নেও একদম কচি হইবো,,,,
,
বাজান কেমনে বুঝলেন এইডা কচি লাউ,,,,??
,
তুমি লাউটার নিচে নখ দিয়া চিমটি দিবা যদি দেখো নখটা হালকা চাপে ঢুইকা গেছে তো বুঝবা এইডাই কচি লাউ,,,,(বলেই চাচা একটা চিমটি দিলো লাউটাতে সাথে আমিও)
,
আইচ্ছা বাজান নেন টাকাটা আমি যাই,,,,,
,
টাকাটা দিয়ে চাচার ওখান থেকে লাউটা হাতে নিয়ে হাটতে শুরু করলাম। লাউয়ে চিমটি দিয়া মজাই লাগছে মন চাইতাছে আরেকটা দেই তবে লাউটার নিচটায় নখের দাগ পরে যাবে তাই আর চিমটি দিলাম না। কেমন জানি মায়া লাগছে লাউটার জন্য।
লাউটা হাতে নিয়ে সোজা বাসার দিকে হাটছি। বাজার পার করে বাসার রাস্তায় আসতেই এক ভদ্র লোক ডাক দিলো,,,,,,
,
বাজান লাউটা কত হইছে,,,,??
,
চাচা মাও ৪০টাকা,,,,
,
লোকটা একটা ভূবন ভুলানো হাসি দিয়া চলে গেলো। ওনার হাসি দেখে আমিও একটা বেক্কলের মত হাসি দিলাম। যদিও হাসিটা কৃএিম ছিলো অন্তর থেকে আসে নাই ওনি দিছে তাই আমিও দিলাম এই আর কি,,,,
আরেকটু সামনে আসতেই আরো জন জিগ্গেস করলো,,,,
,
কিরে হিমু লাউটা কত নিছে,,,??
,
মাএ ৪০ টাকা,,,,
,
কচিনি লাউটা,,,,??
,
হু যার থেকে কিনছি সে তো কইছে কচি,,,,,,
,
হুম মনে হয় কচিই হবে,,,,,
,
হু বাসায় যাই তারপর কাইটা দেখমুনে কচি নাকি,,,??
,
আবারও হাটতে শুরু করলাম আরেকটু সামনে আসতেই পাশের বাসার এক আঙ্কেল বললেন,,,,
,
কিরে হিমু লাউটা দেখি,,,,??
,
নেন দেখেন,,,,
,
ওনি লাউটা হাতে নিয়ে দুইটা চিমটি দিলেন আর বললেন,,,,
,
লাউটা তো কচি না তেমন তুই কি দেইখা কিনলি,,,??
,
আরে নাহ আঙ্কেল কচি লাউ একদম,,,,,,,
,
আরে না বেটা তেমন কচি না,,,,,
,
না হইলে বাকিটা পেটে গিয়া হইবোনে,,,,,
,
বলেই লাউটা হাতে নিয়া বাসায় চলে আসলাম। বাসায় ঢুকার পথে পাশের বাড়ির আন্টি ডাক দিলেন,,,,
,
কিরে হিমু লাউ কিনছোস,,,???
,
হু আন্টি,,,,
,
কত নিছে,,,??
,
৪০ টাকা নিছে,,,,
,
দেখি লাউটা,,,,,
,
লাউটা হাতে নিয়ে ওনিও কয়েটা চিমটি দিলেন লাউটার পাছায়। মেজাজটা এমন ঠান্ডা হইছিলো মন চাইছিলো লাউটা আবার ফেরত দিয়া আসতে। শালার এক লাউ কিনলাম নাকি অন্য কিছু আল্লাহ জানে,,,,,
বাসায় ১০টা মুরগি ইয়া বড় মাছ নিয়া আইলেও কেউ রাস্তায় এতবার জিগায় না যে কত হইছে আর শালার ৪০ টাকার এক লাউ কিনলাম মনে হইতাছে তাজমহল কিনছি।
আমার মনে হয় না তাজমহল কিনলেও কেউ এতবার দাম জিগাইবো লাউ কিন্না যতবার জিগাইছে।
পাখার নিচে বসে বসে এটা ভাবতে লাগলাম "স্বাদের লাউ তুই আমারে ফেমাস বানায় দিলি "।
,
,
বি : দ্রি : লাউ ফ্রিজে রাখা আছে কালকা রান্না হবে লাউ প্লাস চিংড়ি।লাউ চিংড়ি কিন্তু হেব্বি টেষ্ট,,,,
ঐ মিয়া না চাইয়া থাইকা মন চাইলে আহেন লাউ চিংড়ি আর গরম গরম ভাত খাই কি কন,,,,??

ভালোবেসে শুধুই যে বেধে রাখে


চারু চুপচাপ দোলনায় দোল খাচ্ছে আস্তে আস্তে,, ও আবার বেশি জোড়ে দোল খেতে পারে নাহ!! মাথা চক্কর দেয়। আর অপেক্ষা করছে শুভ্রর জন্য!! সেই সাথে মনে রয়েছে একরাশ অভিমান। কারন শুভ্রর জন্য অনেকক্ষন যাবত চারু অপেক্ষা করছে। দেরী করার অভ্যাসটা শুভ্রর শুরু থেকেই!! প্রথম যখন চারুর সাথে এই পার্কে দেখা করতে এসেছিলো,, সেদিনো ছেলেটা পাক্কা পনে এক ঘন্টা লেট করে আসে। কিন্তু চারুর তখন বিন্দু মাত্র রাগ হয়নি, কারন শুভ্রর চোখের মধ্যে অন্যরকম কিছু একটা দেখেছিলো,, যেটা বার বার চারুকে আকৃস্ট করে। 

শুভ্রর সাথে চারুর প্রথম দেখা হয় সাকিনের বার্ডেতে! সেখানেই শুভ্রর সাথে পরিচয়। মুলত সাকিন ই পরিচয় করিয়ে দেয় ওদেরকে। প্রথম দেখায় চারু ক্রাশ না খেলেও,, একরকম ভালো লাগা জন্মে শুভ্রের প্রতি,, ছেলেটা কেমন জানি!! অল্পতেই মায়া জন্মিয়ে দেয় চারুর উপর। মুখে হালকা দাড়ি! চুল গুলো গোছানো,, পড়নে সাদা রং এর পাঞ্জাবি, হাতের নক কাটা, আর বিশেষ করে শুভ্রর পা অনেক ফর্সা! যতটা না ওর চেহারার। মাঝে মাঝে অবাক লাগে মানুষের পা এতো পরিস্কার হয় কিভাবে!!শুভ্র কে ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করাতে অট্টহাসি দিতো। এমনভাবে হাসতো মনে হয় যেন আশ-পাশের লোকজন ওর দিকে তাকিয়ে থাকবে। যার দরুন চারুকে প্রায়ই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। শুভ্রর এই একটা ব্যাপারই চারুর অসম্ভবরকমের বিরক্ত লাগে। কথা নেই- বার্তা নেই হঠাৎ করে উচ্চ স্বরে হেসে ফেলা। বিরক্ত হয়ে চারু জিজ্ঞেস করেই ফেলে,,,
.
" এতো হাসার কি আছে!! "
.
প্রতিউত্তরে শুভ্র মুচকি হেসে বলে,,,,
.
"চারু কি করবো বলো!! তোমার প্রতিটি কথা যে আমায় অনেক মুগ্ধ করে,, অনেকটা কবিতার মতো"
.
"মুগ্ধ করে তো সেটা মনযোগ দিয়ে শুনবা, এতে এতো হাসার কি আছে হাদারামের মতো"
.
এরপর শুভ্র,, চারুর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,,,
.
"আচ্ছা ঠিক আছে!! এরপর থেকে মুগ্ধ হয়ে শুনবো তোমার কথা"
.
শুভ্ররর নরম সুরের কথা শুনে চারু কেমন জানি লজ্জা পেয়ে গেলো। 

চারু ভেবে পায় নাহ,, হয়তো ও শুভ্রকে বোকা বোকা প্রশ্ন করে এজন্য শুভ্র মনে হয় ওর কথায় বেশির ভাগ সময় হাসে!! কিন্তু প্রশ্ন না করেও চারু থাকতে পারে নাহ!! কেমন যেন অস্থিরতা কাজ করে ওর মাঝে। সম্পর্কের শুরুর পর থেকে শুভ্রর ব্যাপারে কৌতুহুল যেন আরো বাড়তে থাকে চারুর! শুধু এটুকু জানে শুভ্র এতিম খানায় বড় হয়েছে এবং একটি মাদ্রাসার টিচার যেটা সাকিনদের বাসার পাশে। চারুর এখন একটাই ইচ্ছা শুভ্রকে ওর ফ্যামিলির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করা। তারপর বিয়ে হওয়া!! এই ভেবেই চারু নিজের মাঝেই আত্নহারা হয়ে উঠে। 

২য় বার শুভ্রর সাথে দেখা হয় বইমেলার একটা স্টলে,, চারু শুরুতে চিনতে না পারলেও পরে ঠিকই চিনতে পারে। বিশেষ করে শুভ্রর পড়নে সাদা পাঞ্জাবি দেখে!! 
.
" আপনি শুভ্র নাহ!!"
.
চারুকে এরকম হঠাৎ স্টলে দেখে অনেকটা চমকে যায় শুভ্র এবং সেটা লুকানোর চেষ্টা করে বলে,,,
.
" হ্যা!! কেমন আছেন আপনি?"
.
" জি ভালো। এতোগুলো বই কিনে ফেলেছেনে একদিনে!!"
.
শুভ্রর হাতে তখন ১০/১২টার মতো বই!! চারুর প্রশ্নে কিছুটা বিব্রত হয়ে শুভ্র জবাব দিলো,,,
.
"আসলে মাদ্রাসা সপ্তাহখানিকের জন্য ছুটি দিয়েছে, তাই সময় কাটানোর জন্যই বই গুলো কিনা! আপনি কোন বই কিনেছেন?"
.
মুলত চারুর হাতে কোন বই না দেখেই শুভ্র প্রশ্নটা করে বসে। তারপর চারু কিছুটা মন খারাপ করে বললো,,,
.
"না কিনি নি!! আমি দুসপ্তাহ ধরে মেলাতে ঘুরছি। প্রায় সব লেখকের গল্পই ভালো লেগেছে কিন্তু এখন কোনটা কিনে কোনটা কিনবো বুঝতে পারছি নাহ!!
.
শুভ্র হাসিমুখে ওর ওখান থেকে দুটো বই চারুর সামনে দিয়ে বললো,,
.
" এগুলা পড়তে পারেন। আশা করি ভালো লাগেব!"
.
চারুর কেমন জানি ইতস্ত করতে লাগলো!! শুভ্র ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললো,,,
.
" সমস্যা নেই,, আপনার পড়া শেষ হলে বইগুলো সাকিনকে দিয়ে যাইয়েন। আমি ওর কাছ থেকে পরে নিয়ে নিবো। "
.
পরক্ষনেই চারুর চেহারায় একটা নিশ্চিন্তের ছাপ দেখতে পেলো শুভ্র! ওদিন চারুর ব্যবহারে যথেষ্ট অবাক হয়েছে শুভ্র। কারন এর আগে সে এরকম সোজা-ঝাপ্টা মেয়ে দেখেনি। বিশেষ করে সামান্য ব্যাপারেই ওর দ্বিধায় জড়িয়ে পড়া। মাঝে মাঝে শুভ্রর মনে হয় চারুকে চাইলে যেকোউ সহজেই বোকা বানাতে পারবে। ভেবেই শুভ্র আপন মনে হাসে!!

বইমেলায় শুভ্রর সাথে দেখা হওয়ার ১৫/১৬ দিন পরেই শুভ্রর মাদ্রাসার সামনের কয়েকটা বিলিডিং পরেই সাকিনের মাধ্যমে চারু একটা কোচিং সেন্টারে পার্ট টাইম টিচার হিসেবে জয়েন্ট করে। এবং একই এলাকায় চাকরি করার সুবাদে দুজনের যোগাযোগ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়!! যার ফলে চারু আরো জটিল ভাবে শুভ্রর মায়ায় আবদ্ধ হয়ে যায়। ইদানীং রোজ ই চারু অপেক্ষা করে শুভ্রর মাদ্রাসার সামনে, যে কখন শুভ্র বের হবে। তারপর দুজন একসাথে বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস উঠবে। কিন্তু শুভ্রর বলতে গেলে এই ব্যাপারে তেমন কোন ফিলিংস নেই। বড্ড শান্ত রকমের ছেলে শুভ্র। কোন কিছুতেই যেন তার তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই! একবারে শান্তশিষ্ট যাকে বলে। শুভ্রকে দেখে চারু যতটা নাহ উত্তেজিত হয়ে পড়ে,, শুভ্র ততটাই স্বাভাবিক থাকে! বিশেষ করে বাসে উঠার সময়। যখন ওরা দুজন একই সিটে বসে। ভুল করে যখন চারুর হাতটা শুভ্রের হাতের ছোয়া পায় চারুর ভিতরে ভিতরে কেমন যেন শিহরিত হয়ে পড়ে!! আর সেই সাথে অনেক লজ্জাও পেয়ে যায়। কিন্তু শুভ্রর সেদিকে কোন খেয়ালই নেই। ছেলেটা যেন সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে দেখে। ব্যাপারটা চারুকে কেমন জানি অস্থির করে তোলে, কারন এতোদিনে অন্য যেকোন ছেলের বুঝে উঠার কথা, যে একটা মেয়ে তাকে কি বলতে চায়। অস্থিরতা কেমন জানি ছাড়তেই চায় নাহ, ঝড়ের গতিতে যেন বাড়তেই থাকে চারুর ভিতরে,, যখন সে শুভ্রর সাথে থাকে। এ কেমন অনুভুতি! চারু সেটা ভেবে কোন কুল-কিনারা পায় নাহ। নিজেকে একদিন ধরে রাখতে না পেরে সবকিছু বলে দেয় শুভ্রকে এবং হঠাৎ চারুর মুখ থেকে এরকম কথা শুনাতে শুভ্র যথেষ্ট হতভম্ব হয়ে পড়ে। কারন সে এরকম প্রতিক্রিয়া চারুর কাছ থেকে মোটেও আশা করেনি,, সে চারুকে শুধুই নিজের ভালো একজন বন্ধু ভেবে ছিলো!! 

শুভ্র সাফ মানা করে দেয় যখন চারু ওকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।এতে চারু অনেকটা হতভম্ব হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষন হা হয়ে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে, ভাবতেই পারেনি চারু,, যে শুভ্র সরাসরি চারুকে মানা করে দিবে!!তাও আবার এতো দ্রুত!! তারপর জিজ্ঞেস করাতে শুভ্র বললো,,,
.
"এখন আমার হাতে কোন জমানো টাকা পয়সা নেই"
.
চারু কোমল কন্ঠে বললো,,,,
.
"দেখো আমার টাকা-পয়সার দরকার নেই, শুধু আমার জীবনে এখন তুমি থাকলেই হলো!!"
.
কথা শুনেই শুভ্রর মেজাজ চিরচিরে হয়ে গেল!!
.
" সিনেমার ডায়লগ মেরো না তো চারু! আমার এগুলা শুনতে অসহ্য লাগে।
.
"ও!! আমার কথা এখন সিনেমার ডায়লগ হয়ে গিয়েছে!!"
.
কথাটা বলার পর পরই চারুর চোখে পানি চলে আসলো। ব্যাপারটা দেখার পরই শুভ্র অনেকটা অস্থির হয়ে পড়লো চারুর কান্না থামতে!!
.
" আচ্ছা আমাকে কটা দিন সময় দাও চিন্তা করে বলি! বিয়ে-শাদির ব্যাপার হুট করেই তো করা যায় নাহ!!"
.
চারু কান্নাজড়িত কন্ঠে বললো,,,
.
" এখানে চিন্তা করার কি আছে!! তোমাকে আমার বিয়ে করতেই হবে শুভ্র নাহলে আমি তোমাকে ছাড়বো নাহ"
.
অনেকটা রেগে গিয়ে কথা গুলো শুভ্রকে বলে ফেললো। কান্না আর রাগ এই দুটো অনুভুতি চারুর সহজে আসে নাহ,, আর যদি আসে তাহলে বুঝতে হবে, চারু কোন ব্যাপারে ভিষন কস্ট পেয়েছে। ছয় মাসের পরিচয়ে এবং দুবছরের রিলেশনে শুভ্র এটা খুব ভালো করেই জানে। শুরুতে চারু একদমই মেনে নিতে পারে নি। অনেক কান্নাকাটি করেছে শুভ্রের কাছে। শেষে গিয়ে শুভ্র চারুর কাছে দুবছর সময় চায়,, সব কিছু গুছিয়ে নেওয়ার জন্য! কিন্ত তাতেও চারু একদম রাজি হচ্ছে নাহ। ও চায় ২/৩ মাসের মধ্যেই বিয়েটা হউক,,যেটাতে শুভ্রর একদম মত নেই। শুরুতে শুভ্রকে কেমন জানি প্রতারক মানুষ মনে হচ্ছিলো চারুর! কিন্তু পরে গিয়ে চারুকে বোঝাতে সক্ষম হলো শুভ্র কেন সময় চাচ্ছে। কারন শুভ্রর হাত খালি!! তার উপর শুভ্র থাকে মেসে। তাই বিয়ের আয়োজন ২/৩ মাসে সম্ভব নয়। মিনিমাম দেড় বছরের মতো সময় লাগবেই। একটা সময় চারুও ব্যাপারটা বুঝতে পেরে পরিস্থিতি মেনে নেয়!! মনে মনে বলে দুবছরই তো, সেটা নাহয় দেখতে দেখতেই চলে যাবে। 

ওদিনের বাসের ঘটনার পর শুভ্র অনেকটাই বিব্রত হয়ে পড়ে চারুর ব্যাপার। আসলে চারুর পছন্দ যে শুভ্র হবে,,সেটা অনেকটাই চমকে দেওয়ার মতো বিষয় শুভ্রের কাছে। কেননা শুভ্রের মতে সে তেমন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী নাহ! যে মেয়েরা তাকে নিজ থেকে প্রপোজ করবে। শুভ্র প্রথমে চিন্তা করলো ফিরিয়ে দিবে চারুকে। কিন্তু পরে চারু এমনভাবে শুভ্রকে তার মনের অনুভুতিগুলো প্রকাশ করলো,, যেখানে শুভ্রের মনটা কিভাবে যেন চারুর মায়াতে আটকে পড়ে গেল। বলতে গেলে শুভ্রর চারুকে ভালো লেগে যায়। বিশেষ করে চারুর অসম্ভব রকমের সরল চিন্তা-ভাবনাটা। যার মধ্যে কোন প্যাচ নেই। তবে শুভ্রর একটা ব্যাপার চারুর খুব ভালো লাগতো আর সেটা হলো শুভ্র খুব সুন্দর করে কুরাআন শরীফ তেলাওয়াত করতে পারতো। যেটা চারুর শুনতে বেশ ভালো লাগে। আর রিলেশনের পর থেকে শুভ্রই চারুর বেশি খোজ-খবর নেওয়া শুরু করে। বিশেষ করে নামাজের টাইমের ১০/১৫ মিনিট আগে। ফোন দেওয়ার মুল উদ্দেশ্যই থাকে, চারুকে নামাজ পড়ার জন্য তাগিদ দেওয়া,, যাতে চারু রেগুলার নামাজ পড়ার ব্যাপারটা মেইনটেইন করে। রিলশনের শেষের দিকে দুজন-দুজনকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছিলো, যদিও দুজনের ভালোবাসার ধরন ছিলো ভিন্ন। তারপরেও তারা বেধে রাখতো তাদের সম্পর্ককে নিজেদের ভালোবাসা দিয়ে!! 

সুর্যটা আস্তে আস্তে ডুবছে এবং সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। চারু এখন দোলনা থেকে উঠে, পশ্চিমের দিকে তাকিয়ে রইলো। হঠাৎ করেই চারুর চোখে পানি জমতে শুরু করলো। সেদিন শুভ্রর সকালের দিকে চারুর বাসায় যাওয়ার কথা ছিলো। চারুর বাবা-মার সাথে নিজেদের বিয়ের ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলার জন্য। সত্যি কথা বলতে শুভ্রর মনেও অনেক আনন্দ হচ্ছিলো, যে সে তার প্রথম ভালোবাসার মানুষটাকে পেতে যাচ্ছে। যেটার সৌভাগ্য পৃথিবীর খুব কম মানুষেরই হয়!!বাস স্ট্যান্ডের দাঁড়িয়ে সকাল ১১ টার বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলো শুভ্র। হঠাৎ!! বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেপে উঠলো। লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকে এদিক-ওদিক এবং তাদের মুখে শুনতে পাওয়া যায় বোম-ব্লাস্ট হয়েছে বাস স্ট্যান্ডে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বাসস্ট্যান্ডে যারা দাঁড়িয়ে ছিলো তারা সবাই মারা যায়। পুলিশ এসে পুরো এলাকাটা ঘিরে ফেলে এবং লাশ গুলো সনাক্তের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেদিন চারু সারাটাদিন শুভ্রর জন্য অপেক্ষা করে। শুভ্রকে অনেকবার ফোন ও করে চারু কিন্তু ফোন বন্ধ! পরের দিন পত্রিকাতে শুভ্রের ছবি দেখে চারু মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যায়। টানা দুদিন হাসপাতালে বেহুশ থাকার পর চারুর জ্ঞ্যান ফিরে কিন্তু পরক্ষনেই মনে পরে যায়, যে শুভ্র আর এই পৃথিবীতে নেই। চলে গেছে না ফেরার দেশে!! প্রতিদিন শুক্রবার চারু এই পার্কটাতে এসে দোলনায় বসে শুভ্রের জন্য অপেক্ষা করে, এই বুঝি শুভ্র আসবে বলে!! জায়গাটা দুজনেরই খুব পছন্দের ছিলো এবং প্রতি শুক্রবার চারু আর শুভ্র পার্কের এই দোলনার এখানেই দেখা করতো। তবে আজো চারু ভালোবেসে বেধে রেখেছে শুভ্রকে ওর হৃদয়ে!!!!
ছেলেটা তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে, বিন্দাস জীবন চলছিলো ভার্সিটির। নিজের এলাকায় যাওয়ার পরেই ইন্টার পড়ুয়া এক মেয়ের সাথে রিলেশন হয় ছেলেটার। মাঝেমাঝে এলাকায় গেলেই মেয়ের সাথে দেখা হয়। আর দূরে থাকলে অত্যাধুনিক মিডিয়ার যুগে ইমো, ফেসবুক, মোবাইলে কথা চলতে থাকে। মেয়েটার অর্থের অভাবে যখন লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম, ছেলেটা তখন মেয়েটার পাশে দাঁড়ায়। তাকে মানসিকভাবে সাহস দিতে থাকে, যতটুকু সম্ভব মেয়েটাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে থাকে। ছেলেটার সাথে একসময় মেয়েটার পরিবারেরও ভালো সখ্যতা গড়ে উঠে। রিলেশনের বিষয়টা মেয়ের পরিবার যে একেবারেই জানতো না, ব্যপারটা তা নয়। বিষয়গুলো এমন হয়ে গেলো যে, একসময় মেয়েটির পরিবারের পাশেও ছেলেটি দাঁড়ায়। মেয়েটির পরিবার মনেই করে নিলো, ছেলেটা আমাদের ঘরের। মেয়েটা একসময় ইন্টার পাশ করে ভার্সিটি কোচিংএ ভর্তি হয়, ছেলেটার পারামর্শেই। মেয়েটার ভার্সিটি কোচিং থেকে শুরু করে, থাকা, খাওয়া যাবতীয় খরচ ছেলেটাই দেওয়ার চেষ্টা করে। মেয়েটা একসময় বিভিন্ন ভার্সিটিতে ভর্তি পরিক্ষা দেওয়া শুরু করে। সৌভাগ্যক্রমে মেয়েটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে যায়। মেয়েটা যখন টাকার অভাবে ভার্সিটিতে ভর্তি হতে হিমশিম খাচ্ছিলো, তখনো এই বেকার ছেলেটার টাকায় মেয়েটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যায়। আপনার হয়তো ভাবতে পারেন। ছেলেটার ফ্যামেলি ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক ভালো ছিলো, মেয়েটাকে অনেক ভালো লেগেছে। তাই মেয়েটাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছে। ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। ছেলেটাকে দেখতাম দৈনিক ৩/৪ টা টিউশনি করাতো, পরিবার থেকে সহযোগিতা করার মতো কোনো অবস্থা ছিলো না। একদিন দেখলাম রাতে কাঁচুমাচু করে ছেলেটা আমার রুমে এসো বললো, ভাই আপনার কাছে কিছু টাকা হবে, খুব দরকার। রিলেশনের ব্যাপারটা তো আগেই জানতাম। তাই একটু মজা করেই বললাম, টাকা টা কি তোর দরকার, না ওর। ছেলেটা একটু হাসিমুখ করে বলার চেষ্টা করলো, ভাই, আসলে মেয়েটার ভার্সিটিতে ভর্তি হতে আরো কিছু টাকা দরকার। আমি আর কিছু জিজ্ঞাসা করার সাহস পেলাম না। শুধু জিজ্ঞাসা করলাম খাইছস কিছু। ছেলেটা শুধু মাথা নাড়ালো। পাবলিক ভার্সিটিতে পড়া স্টুডেন্ট হিসেবে, এর অর্থ আমি আমার মতো করে বুঝে নিলাম। যাওয়ার সময় শুধু বলে গেলো, ভাই আসলে ভাবছিলাম আজ টিউশনির টাকাটা পাবো কিন্তু পেলাম না। আমি শুধু বললাম, আর কিছু বলতে হবে না। বুঝতে পারছি। ছেলেটা সেদিন চলে যায়, আমি তার দিকে চেয়ে থাকার চেষ্টা করি কিন্তু আমার চোখ ধরে আসে।
মেয়েটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার পরেও ছয় মাস রিলেশনটা ভালোই চলছিলো। বিপত্তি শুরু হয় কিছুদিন পর, ছেলেটার তখন ফোর্থ ইয়ার পরিক্ষা সামনে। হঠাৎ করেই মেয়েটার আচার আচরন অভাবনীয় পরিবর্তন হতে শুরু করে। ফোন দিলে আগের মতো আর রেন্সপন্স পাওয়া যেতো না। আগে যেখানে মেয়েটা একমুহুর্ত কথা না বলে থাকতে পারতো না। সেখানে মেয়েটা এখন ছেলেটার কোনো খোঁজখবর নেওয়ারই প্রয়োজনবোধ করে না। বারবার ফোন দিলে বলে, এতো ফোন দেওয়ার কি আছে? বারবার বিরক্ত করছো কি জন্য, তুমি আমার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছো কি জন্য। এরকম নানা কথার বাহানা শুরু হয়ে যায়। রিলেশনটার একপ্রকার ভেঙ্গে যাওয়ার মতো অবস্থা! ভালবাসার মানুষের অবহেলায় আর নির্মম কথার আঘাতে ছেলেটার পড়াশুনাও একসময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। কাঠের মনেহয় শেষ পেরেকটা ঠোকাটা বাকি ছিলো। মেয়েটা একদিন ফোন করে জানিয়ে দেয়। ছেলেটার পড়াশুনা বন্ধ হলে তার কিছু আসে যায় না, সে একা থাকতে চায়। সে পড়াশুনা করবে, তার অনেক স্বপ্ন আছে। ছেলেটার জন্য সে অপেক্ষা করতে চায় না। কোনো বাধা গন্ডির মধ্যে সে থাকতে চায় না। ছেলেটাকে তার নিজের পথ খুঁজে নিতে বলে। ছেলেটার তখন পরিক্ষার ঠিক কয়েকদিন বাকী ছিলো। পড়াশুনাও তেমন হয়ে ওঠে না। মেয়েটাকে শেষবারের মতো অনুরোধ করে পরিক্ষার কয়েকটা দিন পাশে থাকার জন্য কিন্তু মেয়েটা তাতেও সায় দেয় না। ছেলেটার অনেকদিন যোগাযোগ না হওয়ায় এতো কিছু জানতাম না। শুধু জানতাম একটু আধটু নাকি এখন মাঝেমাঝে অভিমান হয় কিন্তু জল এতো ঘোলা হয়েছে তা আমার ধারনার বাইরে ছিলো। পরিক্ষার কয়েকদিন আগে ছেলেটা আমার কাছে এসে বললো, ভাই! আমি এখন কি করবো? ছেলেটাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা আমার কাছে ছিলো না। শুধু বললাম, এতো চিন্তা করিস না। পরিক্ষা সামনে এই ধাপটা পার হতে হবে, যে করেই হোক। ভালবাসার মানুষ চলে গেছে কিন্তু পরিক্ষায় পাশ না করলে সার্টিফিকেটাও পাবি না। যা নিজেকে একটু স্থির রাখার চেষ্টা কর। জীবন কারো জন্য কখনো থেমে থাকে না। ছেলেটা বারবার বলছিলো, একটা মেয়ে কিভাবে পারে ভাই, এরকম করতে, কিভাবে? আমার মাথায় আসে না, ভাই। ছেলেটার চোখ বেঁয়ে জল গড়িয়ে পড়তে থাকে। এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। ছেলেটাকে বুঝানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু আমার কথায় কাজ হলো কি না বুঝতে পারলাম না। আসলে এই পরিস্থিতিতে যতকিছুই ভালবাসার মানুষটাকে বোঝানো হোক না কেনো? কোনো কথাই ঠিক মাথায় ঢুকতে চায় না। ছেলেটে অঝরে কাঁদছে, মন খুলে একটু কাঁদুক। কেঁদেও যদি কষ্ট কিছুটা কম হয়। তাও ভালো।
ভালবাসায় গড়া তিলেতিলে একটা গড়া সম্পর্ক মুহুর্তেই মধ্যে যারা ভেঙ্গে দিতে পারে, আর যাই হোক তাদের সম্পর্কের প্রতি কোনো সম্মান বা ভালবাসা থাকে না। ভালবাসায় কেউ কাউকে ছেড়ে দিতে চাইলে, আপনি কাকে অপরাধী করবেন? ভালবাসাকে, নাকি যে ছেড়ে যেতে চায় তাকে। একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন। তাদের ভালবাসার পথটা কিন্তু ঠিকই একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু হঠাৎই কেনো মেয়েটা এরকম বাঁধা হয়ে দাঁড়ালো? ব্যাখ্যাটা আসলে আপনি কিভাবে দাঁড় করাবেন? ভার্সিটিতে চান্স হওয়ার পর পরিবেশের সাথে খাওয়াতে, নিজের স্বপ্নের পথে পা বাড়াতেই হয়তো মেয়েটা আর সম্পর্ক রাখতে চাইছে না? ভালবাসার মানুষকে হয়তো কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় কিন্তু ভালবাসাকে নয়। মেয়েটা ইচ্ছে করলে সম্পর্কটা রাখতে পারতো কিন্তু তার ইচ্ছে হয় নি। যাস্ট ইচ্ছে হয় নি। নয়তো নিজের জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারনে সে আর সম্পর্কটাকে নিয়ে আর সামনে আগাতে চায় নি। আমি কিন্তু বলছি না মেয়েটা ভালবাসার প্রথম থেকেই এরকম প্রতারণা করবে বলে ভেবেছিলো। আসলে সময়ের সাথেসাথে মানুষের মন পরিবর্তনশীল। মনকে জোর করে বেঁধে রাখা যায় না। হয়তো মেয়েটাও সেই পরিবর্তেনের জোঁয়ারে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। ভালবাসাকে যারা খেলনা ভেবে দু'পায়ে পদদলিত করে, আসলে অপরাধটা শুধু তারই, সেই অকৃতজ্ঞ মানুষগুলোর। ভালবাসায় কোনো অপরাধ নেই, থাকে না। আমরা নিজেরাই স্বার্থের জন্য ভালবাসাকে কলুষিত করি। মানুষের হৃদয়ে অবিশ্বাসের বীজ বুনে দেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালবাসার মানুষগুলো ফিরে আসবে বারবার। শুদ্ধতম ভালবাসা বেঁচে থাকবে স্বর্গে মর্তে, বিশ্বাসীদের হৃদ মাঝারে, আমার আপনার বুকের ভিতর।।

অতঃপর বিয়ে

-"আপনাকে বললাম না আমি আপনাকে আমি
স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারবো না।তাও আপনি 
কেনো বার বার এক রকম কথা বলেন"।(তুষার)
-"কেনো আরও বিয়ে করার ইচ্ছে আছে নাকি।
তাহলে খুন করে ফেলবো।আমি ছাড়া আর কোন
মেয়ে আপনার জীবনে আসতে পারবে না"।(শিখা)
-"আপনার এই সব কথা শুনার ইচ্ছে নেই আমার।
আর আপনি আপনার কাজ করেন,আমাকে আমার
কাজ করতে দেন।আর আমার সামনে না আসলে 
আমি খুশি হবো"।(তুষার)
-"আমি আসবো,আপনি আমার স্বামী আপনার কাছে
আসার অধিকার আছে"।(শিখা)
-"দেখুন জোর করে কিছু পাওয়া যায় না।আর আমি
আগেই আপনাকে সব বলে দিয়েছি"।(তুষার)
-"বলছেন ভালো করছেন।আমি আমার অধিকার
আদায় করে নিবো।আর কিভাবে নিতে হবে তা
আমি ভালো করে জানি"।(শিখা)
-"আপনাকে আমি সহ্য করে পারতেছি আর।দয়া 
করে আপনি এখন এইখান থেকে চলে যান"।(তুষার)
-"না যাবো না।কি করবেন আপনি,মারবেন তাহলে 
মারেন আমাকে।তাও আমি যাবো না"।(শিখা)
..
"কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম।ভালো লাগে না আর।বিয়ে করবো না আগেই বলে দিয়েছি।তাও বিয়ে করতে হয়েছে।আমার বিয়েটা অন্য রকম ভাবে হয়েছে"।
..
"এক দিন অফিস থেকে বাসায় এসে রাতে 
সবাই খেতে বসলাম।তখন নীলিমা আপু 
আমার বড় বোন বলতেছে যে আমাদের 
এক আত্মীয় বিয়ে আমাদের সবার যেতে 
হবে।আমি না করে দিলাম কারন আমার 
অফিসে কাজ আছে তাই।কিন্তু সবাই 
অনেক জোর করলো যেতেই হবে আমার।
আমি তাও না করে দেই।আমার এই সব 
ভালো না লাগে না।আমার একা থাকতে 
ভালো লাগে তাই আমি সব সময় একা থাকি"।
..
"বিয়ের দিন জোর করেই আমাকে নিয়ে যায়।
বিয়ে বাড়িতে যাবার পর দেখতে পেলাম 
আমাদের সব আত্মীয় উপস্থিত।আমি চমকে 
যায় সবাই আসার কথা না।মামা থেকে শুরু 
করে চাচা সবাই,এমনকি ভাই-বোন যারা আছে 
সবাই আসছে।আমি মনে মনে বলতেছি কিছু 
একটা আমার থেকে লুকানো হয়েছে"।
..
"বিয়ের কিছুক্ষন আগে নীলিমা আপু এসে 
বললো বিয়ে নাকি ভেঙ্গে গেছে তারা নাকি 
আর আসবে না।আমি বললাম তাহলে আমারা 
চলে যাই।এইখানে থেকে তো আর কিছু হবে না।
আপু বললো না আমারা কেউ যাবো না।আসলে 
যখন শুনলাম বিয়ে হবে না তখন আমারা বিয়ে 
ঠিক করেছি তোর সাথে বিয়ে হবে মেয়েটির।না 
করিস না দেখ মেয়েটি এমনি কষ্ট পেয়েছে বিয়ে 
না হবার কারনে।আর মেয়েটি যদি উল্টাপাল্টা 
কিছু করে তখন কি হবে।আর আমারা এমনিতেও 
তোর জন্য মেয়ে দেখছিলাম।আর মেয়েটা অনেক ভালো"।
..
"আমি বললাম আমি ছাড়া তো এইখানে অনেকে 
আছে তাদের বলো আমি পারবো না।আর আমি 
আগেই বলে দিয়েছি আমি বিয়ে করবো না।আপুর 
সাথে অনেক রাগারাগি হলো।এক প্রাকার জোর 
করেই শেষে আমার সাথে মেয়েটির বিয়ে দিলো।
আমার কথা কেউ শুনলো না"।
..
"সব শেষে বাসায় আসলাম সবাই।আমাকে আমার 
রুমে দিয়ে আসলো।রুমে গিয়ে তো আমি আবার 
চমকে গেলাম।রুমটা সাজানো,আমি যখন বিয়েতে 
যাই তখন সব ঠিক ছিলো"।
..
-"দেখুন আমি আপনাকে কখনো স্ত্রীর মর্যাদা দিতে 
পারবো না।কেনো এই প্রশ্ন করবেন না।আর আমি 
বিয়েও করতাম আমাকে জোর করে বিয়ে করানো 
হয়েছে।আর আপানর বিয়ে না ভাঙ্গলে তো আর
এমন হতো না"।(তুষার)
-"বিয়ে ভাঙ্গলে তো আর আপনার সাথে বিয়ে হতো
না।আপনার সাথে আগে থেকেই আমার বিয়ে ঠিক 
করা ছিলো।আপনি নাকি বিয়ে করবেন না তাই
সবাই মিলে বুদ্ধি করে আমাদের বিয়ে দিয়েছে"।(শিখা)
-"কি বললেন আপনি আপনারা সবাই নাটক করেছেন
আমার সাথে"।(তুষার)
-"আপনি রাজি থাকলে তো আর করতে হতো না"। 
(শিখা)
..
"আমি রুম থাকে বেড়িয়ে সবাইকে ডাকলাম।আমি বললাম তোমারা আমার সাথে এমন করতে পারলা।আমি না করার পরেও তোমার এই ভাবে অভিনয় করলে আমার সাথে।আরও অনেক কথা বলে বাসা থেকে বেড়িয়ে আসি।মোবাইলও বন্ধ করে রাখি।সিগারেট ধরিয়ে টানতে থাকি আর রাস্তায় আনমনে
হাটি"। 
..
"আমার পরিচয় দেওয়া হয়নি।আগে পরিচয় দেই।
আমি তুষারএকটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি 
করছি।সবার যেমন বিয়ে অনেক সপ্ন থাকে আমার 
এক সময় সপ্ন ছিলো।কিন্তু কেউ এক জন সেই সপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে।এখন আর কেউ কে বিশ্বাস করতে 
পারি না"।
..
"আজ থেকে ৫ বছর আগের কথা।তখন 
আমি অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ি।তখন 
তাসফিয়ার সাথে আমার পরিচয় হয়।
তাসফিয়া তখন অনার্স ২য় বর্ষে পড়ে।
আমরা একি ভার্সিটিতে পড়তাম।
আমাদের সম্পর্ক ভালো চলছিলো।
দুজন দুজনের খেয়াল রাখতাম,সময় 
পেলেই ঘুরতে যেতাম।ঝগড়া হলে 
বেশিক্ষন কথা না বলে কেউ থাকতে 
পারতাম না।কিছুক্ষন পর আবার সব 
কিছু ঠিক হয়ে যেতো"।
..
"প্রথমে বুঝতে না পারলেও এক সময় বুঝতে পারি 
যে তাসফিয়া আমাকে এড়িয়ে চলছে।আমি কিছু 
বলে নাই কারন আমি জানতাম আমাদের সম্পর্ক 
খুব তারাতারি শেষ হয়ে যাবে।তাই শুধু দেখ ছিলাম তাসফিয়া কি করে। এক দিন তাসফিয়া আমাকে বললো দেখা করতে।আমি জানি তাসফিয়া কি 
বলবে।আমি সময় মতো দেখা করতে যাই"।
..
-"তোমাকে কিছু কথা বলার জন্য আজ দেখা করতে
বলছি"।(তাসফিয়া)
-"তোমার যা বলার বলতে পারো"।(তুষার) 
-"আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে,আগামি মাসে আমার
বিয়ে।তোমার তো চাকরি নেই তাই আমার বাসা
থেকে কেউ রাজি হয়নি।আমার কিছু করার নেই,
আমি চেষ্টা করেছি রাজি করার জন্য।তুমি আমাকে 
ভুলে যাও,আমার জন্য তোমার জীবন নষ্ট করবে না"।(তাসফিয়া)
-"তুমি তো খুব ভালো মিথ্যে কথা বলতে পার।আমি 
আগেই জানতাম এরকম কিছু হবে।কয়েক দিন
ধরে তোমাকে ফোন দিলেও ফোনে পেতাম না,
আগের মতো কথা বলতে না,আরও অনেক কিছু 
আছে।সম্পর্ক করার সময় এই কথাটা মনে ছিলো
না যে তুমি পরিবারের পছন্দে বিয়ে করবে,তোমার
পছন্দে বিয়ে করবে না।আর তুমি কি ভাবে ভাবলে
যে আমি একটা মেয়ের জন্য নিজের জীবন নষ্ট
করবো।আমি এই ধরনের ছেলে না যে একটা মেয়ের 
সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো তা শেষ হয়ে গেছে তাই 
নিজের জীবন নষ্ট করে দিবো।যাই হোক তোমার
নতুন জীবনের জন্য শুভ কামনা রইলো।আর অন্য 
কারো সাথেএই রকম অভিনয় করবে না।আমার
সাথে করছো ঠিক আছে"।(তুষার)
..
"কথা গুলি বলেই চলে আসলাম।আমার যে খারাপ লাগছে না এমন না,আমার অনেক খারাপ লাগছে।
কি না করছি যখন যা বলতো তাই করতাম।নিজেকে সামলে নিয়ে সব কিছু আবার নতুন করে শুরু করলাম"।
..
"এই দিকে রাত তখন ৩ টা বাজে।বাসায় এসে নক 
করার সাথে সাথে দরজা খুলে দিলো।আপু আমাকে অনেক বুঝাইতেছে যে সব কিছু আবার নতুন করে 
শুরু করতে।আসলে আমার সব ইচ্ছে শেষ হয়ে গেছে।মেয়েদের এখন আর দেখতে পারি না"।
..
"শিখা মেয়েটা অনেক ভাল।সব সময় আমার 
খেয়াল রাখে।আমার জন্য মেয়েটার জীবন নষ্ট 
হবে এইটা মানতে পারছি না।কারো সাথে কথা 
না বলে শুয়ে পড়ালাম।আর ভাবতেছি কি করবো।আমার জন্য শিখা কে কষ্ট পেতে দিবো না।কিছু 
একটা করতে হয়ে।যাই হোক শিখাকে সব খুলে 
বলবো ঠিক করলাম।তারপর যদি মনে হয় শিখা 
এমন কিছু করবে না তাহলে মানে নিবো।কারন 
এইটা ছুড়ে ফালিয়ে দেওয়ার মতো না,যে চাইলেই 
ছুড়ে ফেলে দিবো"।
..
-"আপনি তো সব শুনলেন এখন কি করবেন আপনি"।(তুষার)
-"আমি এখন যেমন আপানর পাশে আছি,সব সময়
এই ভাবেই আপনার পাশে থাকবো।আগে যা হয়েছে 
সব ভুলে জান"।(শিখা)
-"তাহলে আপনি করে বলছেন যে।তুমি করে বলবেন 
না"।(তুষার)
-"আচ্ছা তুমিও তুমি করে বলবে এখন থেকে কেমন"।
(শিখা)
..
"এই ভাবে শুরু হয় নতুন আরেক জীবন।শিখা সব 
সময় আমাকে আমার খেয়াল,আমি বাসায় থাকলে আমার কি লাগবে,কি দরকার তাই নিয়েই ব্যস্ত থাকে।শিখা কে নিয়ে অনেক ভালোই আছি এখন।শিখা আমাকে অনেক ভালোবাসে আর আমিও শিখাকে অনেক ভালোবাসি"।

মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৭

একটা স্ট্যাটাস

কি অদ্ভুত রকমের একটা ব্যাপার, সেদিন আমার চোঁখে পরলো একটি মেয়ে তার আইডিতে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে,,,,সেটিতে লেখা ছিলো,,,,, 
 ,
""উফফ আর ভালো লাগে না,অপেক্ষা বাড়লো আরো একটা দিন""
,
লেখাটা ছিলো খুব ছোট কিন্তু যার ব্যাপার তার কাছে কারণটা হলে ও হতে পারে বিশাল বা বিশেষ কোন ব্যাপার তাই সে সেটা প্রকাশ করেছে, আর সেই মেয়েটা হয়তো অধির আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে কখন আসবে তার সেই অপেক্ষারত সময়,,,,
,
কিন্তু সেখান থেকে তখন আমি বুঝলাম যে যেই মেয়েটা ওই স্ট্যাটাসটা দিয়েছে তার ওই ব্যাপারটা নিয়ে তার থেকে ও বেশি টেনশনে আছে অন্য কিছু মানুষ,, মানে তার ফেসবুকের বন্ধুরা,, লেখাটিতে লাইক আর কমেন্ট পড়েছে প্রায় সমান,, লাইক দিয়েছে ১২২ জন আর সেই সাথে কমেন্ট করেছে ১০২ জন,,মেয়েটা তো ভাবতে পারে বাকি ২০ জন কি তাহলে তার বন্ধু না,,? না তারা হয়তো লজ্জায় কমেন্ট করতে পারেনি,,,,, যাই হোক এই রকম একটা ব্যাপার তাই কমেন্ট গুলা দেখার বা পড়ার লোভ আমি সামলাতে পারলাম না বা তার ক্ষমতা তখন আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম,,,,
,
মেয়েটার ওই ছোট্ট স্ট্যাটাসটি পড়তে পড়তে আমার মনে হতে থাকলো যে মেয়েটির হয়তো ফেসবুকে কোন মেয়ে বন্ধু নাই,আর আমার এই রকম মনে হতেই পারে কারন মেয়েটির পোস্টে সব গুলি কমেন্ট ছিলো ছেলেদের আর সেদিন আমি ওই স্ট্যাটাসটি না পরলে খুব মিস করতাম আর বুঝতে পারতাম না যে মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা যে এখনো বেঁচে আছে হোক চেনা বা অচেনা,,,,
,
তার স্ট্যাটাসের কিছু কমেন্ট ছিলো এই রকম,,,,,
,
"আমি কি জানতে পারি কি হয়েছে তোমার,,?
,
"যদি বন্ধু ভাবো তাহলে বলতে পারো তোমার সব মনের লুকানো কথা,,
,
"প্লিজ আমাকে একটিবার বলো কি হয়েছে তোমার,,?
,
"বুঝতে পেরেছি কাল হয়তো তোমাকে দেখতে আসবে বিয়ের জন্য,তুমি রাজি না থাকলে বলো আমি আছি,,
,
"মন খারাপে পাশে না থাকলে কেমন বন্ধু,,? বলেন কি হয়েছে,,?
,
"কি হবে প্লিজ বলো না,,?
,
"আমার কি জানার অধিকার নাই কাল কি হতে পারে,,?
,
"তোমার মোবাইল নাম্বারটা দাও কি হবে কল করে শুনবো,,?
,
"কাল মনে হয় তোমার ব্রেক আপ হতে যাচ্ছে, ভয় নাই আমি তো আছি,,?
,
"যদি বন্ধু ভাবো তাহলে ( ০১.......... ) নাম্বারে মিস দিয়ো,অপেক্ষায় থাকবো কিন্তু,,
,
"যদি পারতাম তাহলে তোমার সেই অপেক্ষায় থাকা কারনটা আমি হোতাম পাবো কি সে সুযোগ,,,,?
,
আরেকজনের কমেন্ট পড়ে সত্যি সেদিন আমি কিছুটা ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম,,,,,,সে লিখেছিলো
,
"তোমার সেই অপেক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি পানি ও মুখে দিবো না,,,, ""
,
কমেন্টের মানুষ গুলির আন্তকিতা তখন আমাকে মুগ্ধ করেছে, কোন কোন টা আবার ছুয়ে দিয়েছে হূদয়,,,,কিন্তু তখন খুব অবাক হয়েছি যখন দেখতে পেলাম এই অসাধারণ কমেন্ট গুলার একটার ও কোন রিপ্লাই দেইনি মেয়েটা,,,,প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করছিলো তাই মেয়েটার কাছে যে যদি রিপ্লাইই দিতে না পারবেন তাহলে পোস্ট দিয়ে এই মানুষ গুলির সাথে তা ভাগ করার কি কারন,,? কিন্তু আমি তো আর কমেন্ট করতে পারব না তাই আর তার কাছে জানা হলো না,,,,,""
,
সেদিনই আমার চোঁখে পরলো একটি ভাইয়ের একটা স্ট্যাটাস সেটি ছিলো হেল্প পোস্ট,না ভাইটি টাকা পয়সা চাইছে না,সে ছোট একটা বাচ্চার জন্য রক্তের প্রয়োজনে সেই পোস্টটি করেছে,,,,কিন্তু আমি খুব অবাক সেই সাথে হতাশ হয়েছি যখন দেখেছি উল্টা চিত্র,মানে সকালের মেয়েটার বেলায় যখন দেখলাম লাইক কমেন্ট প্রায় সমান তখন ওই ভাইয়ের পোস্টে লাইক আছে কিন্তু কমেন্ট নাই,,,,,,, তাহলে তখনের ওই কমেন্ট গুলা তো আন্তরিকতা না,তাহলে ওগুলো কি ছিলো,,? তাদের ওই কমেন্ট গুলা ছিলো সব সময়ের মতো কোন গতী করার জন্য কোন এক আপ্রাণ চেস্টা,,,,,, আর তাদের এই বোকামি গুলা তখন হাঁসতে হাঁসতে দেখছিলো কিছু মানুষ,,সাথে পোস্ট দাতা,,,,,,,,""
,
তাদের কাছে আমার অনুরোধ ভাই এই ভাবে কিছু হয় না বা হতে পারে না,আপনি খুবই ভালো মানুষ তাই ভালো থাকুন, এগুলো ছাড়া ও অনেক ভাবে অনেক বেশি ভালো থাকা যায়,ফেসবুক খারাপ না,ফেসবুক ব্যাবহার করা ও খারাপ না,ফেবসুকে ও অনেক সময় অনেক ভালো ভালো কাজ করা যায় সেগুলো করুন, আর তাতে যদি একটা মানুষে একটু ও উপাকার হয় আর তার জন্য যদি তার মুখে হাঁসি ফুটে তাহলে সেটা হবে আপনার জন্য আপনার জীবনের জন্য চাওয়ার থেকে ও বেশি পাওয়া,,,,,,,""