মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৭

"""""ভালো থেক, ভালবাসা """"""

অনেক সেজেগুজে বাসর ঘরে বসে আছি, কিন্তু আমার বরের কোনো খবর নাই। এ ছেলে নির্ঘাত আনরোমান্টিক হবে।
যাহোক উনি অবশেষে আসলেন।
এসে ঘরে ঢুকেই বলল - 
"আমি কারো সাথে বিছানা ভাগ করে ঘুমাতে পারব না।"
আমি তো আর অবুঝ নই ; না বলা কথাটুকু ঠিকই বুঝে গিয়েছি। বিছানা থেকে নেমে সালাম করে আবারও সেই বিছানাতেই বসেছি। 
উনি মনে হয় এরকমটা আশা করেন নি। এজন্যই হয়তো ভুরু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন "কথা কানে যায় নি??"
আমি হাই তুলতে তুলতে বললাম, 
-"কানে গিয়েছে তো, আপনি এক কাজ করুন.. নিচে শুয়ে ঘুমিয়ে পরুন। আমি বিছানা পেতে দিচ্ছি।"
উনি আমার আস্পর্ধা দেখে বিরবির করে কি যেন বললেন, স্পষ্ট শুনতে পাই নি।
.
উনি মনে হয় রেগে আছে খুব।
রেগে থাকারই তো কথা। উনার জায়গায় আমি হলে হয়তো বিয়েটাই ভেঙে দিতাম।
বিয়ের আগে যদি কোনো মেয়ে তার হবু বরকে বলে যে, "আপনি কি জন্ম থেকেই হাফ কানা?" তাহলে তো রাগ হবেই।
ব্যাপারটা খুলেই বলি.... 
উনি, উনার বাবা, মা ভাই আর বোন গিয়েছিল আমাকে দেখতে।
দেখাদেখির এক পর্যায়ে আমাকে আর উনাকে পাঠানো হল আলাদা করে কথা বলতে।
উফ্! কতক্ষন আর উনি উনি করব.. তারথেকে নামটা বলেই দেই। 
ওর নাম শুভ্র। 
যাহোক আলাদা করে কথা বলার সময়ই আমি উনাকে বলেছিলাম, "আপনি কি জন্ম থেকেই হাফ কানা? " 
আমার এরকম অদ্ভূত প্রশ্ন করার কিন্তু কারন আছে। মেয়ে দেখতে এসেছে তাও চোখে চশমা পরে! চশমা চোখে না দিলে কি আমাকে দেখা যাবে না নাকি। এজন্যই তো হাফ কানা বললাম। 
ও আমার প্রশ্ন শুনে গোমরা মুখে বলেছিল, "হুম"।
আমি তখনই বুঝেছিলাম এ ছেলে হাফ কানা তো বটেই, সাথে কিছুটা বলদ কিছিমেরও।
আমার কথাবার্তা, চিন্তাভাবনা কিছুটা অদ্ভূত। এজন্য বিয়ের আগে আম্মু বকত আর বলতো, "তোকে বিয়ে দিলে তো বিয়ের পরের দিনই পিছনের দরজা দিয়ে বের করে দিবে শশুরবাড়ির লোকেরা।"
আম্মুর এ কথায় আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে বলতাম, "তাহলে যে বাসায় পিছনের দরজা নেই, ওরকম বাসায় আমাকে বিয়ে দিয়েন, হিহিহি।"
আম্মু তখন রেগে গিয়ে বলত, "তুই আর আমাকে মা বলবি না"।
আমি এ কথায় হিহিহি করে হেসে বলতাম, "ওকে আন্টি"।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসবই ভাবছিলাম..
হঠাৎ-ই রুমের লাইট অফ গেল। না, নিজে নিজে হয় নি ;শুভ্রই করেছে। আমি মুচকি হেসে ভাবছি
- "এখন তো আমার পাশেই শুয়ে ঘুমাতে হবে। কতক্ষন আর দাড়িয়ে থাকবে হুহ"।
বেশ খানিকটা সময় কেটে গেছে। কিন্তু শুভ্রর কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছি না! ব্যাপারটা কি..
অন্ধকারের মধ্যই বিছানা হাতরে ওকে খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না তো! আমার বর গেলো কই!
এখনো কি বিছানার পাশে দাড়িয়ে আছে নাকি?!
বালিশের নিচ থেকে আমার মোবাইলটা বের করে ফ্ল্যাশলাইট অন করলাম।
এমা!! এ ছেলে তো সত্যিই বলদ টাইপ। ফ্লোরেই শুয়ে পরেছে, তাও কিছু না পেতেই। 
--এই যে, উঠুন (আমি)
:--.. (কোনো সাড়াশব্দ নেই)
--উঠতে বলেছি তো..
এবার উনি উঠলেন। পাশে খুলে রাখা চশমাটা হাতে নিয়ে চোখে পরলেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
-- তুমি হয়তো ভাবছো আমি কেন নিচে শুয়ে পরলাম কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই। আমি মনে করি তুমি এ বাড়িতে ক্ষণিকের অতিথি মাত্র...
এটুকু শুনেই আচমকা এক ভয়ের স্রোত খেলে গেল আমার শরীরে। একটা শিরশিরে অনুভূতি হলো নিজের ভিতর..
উনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বলতে লাগলেন,
-- আমি জানি তুমি এ বিয়েতে খুশি নও। এজন্যই বিয়ে ভাঙতে ওরকম উদ্ভট প্রশ্ন করেছিলে, তাই না??
আমি উনার কথায় সম্ভিত হারিয়ে ফেললাম। স্বাভাবিক চিন্তাগুলোও এলোমেলো লাগছে। প্রচন্ড অভিমানে নিজের কান্নাটাকেও জোর করে দমিয়ে রাখলাম।
কিন্তু উনি এসব কিছুই বুঝলেন না। মৌণতাকে সম্মতির লক্ষণ ভেবে নিলেন। 
সেদিন আমরা পাশাপাশি শুয়ে রাত কাটালেও মাঝখানে ছিলো বাহ্যিকভাবে একহাত দূরত্ব আর মনের দিক থেকে কতটা দূরত্ব ছিলো সেটা না হয় নাই বা বললাম.... 
*
আমাদের বিবাহিত জীবনের বেশ কয়েক মাস কেটে গেছে....
সময়ের সাথে সাথে আমার আর শুভ্রর মানসিক দূরত্বটা কমে গিয়েছে। এতে অবশ্য আমার শাশুরী আর ননদের বিশেষ ভূমিকা আছে। এ দুজন মিলে আমাকে শুভ্রর পছন্দ অপছন্দের তালিম দিয়ে ওর মন জয় করতে সাহায্য করেছে। 
এতদিনে শুভ্র বুঝে গেছে যে আমি দুষ্টামী মাখা কথা এমনিই বলি, কোনো কুটিল উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। 
আমার আম্মু আমাকে একদিন বলেছিল যে, স্বামীর সাথে যতই মনোমালিন্য হোক না কেন, পরস্পরের বিছানা যেন আলাদা না হয়। কারন, বিছানা আলাদা হওয়াটাই নাকি সংসার ভাঙার সূত্রপাত ঘটায়। 
আম্মুর এ কথাটা আমি মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত শুভ্রর সাথে অনেকবারই ঝগড়া হয়েছে, কিন্তু দিনশেষে দুজন পাশাপাশি বালিশে মাথা ঠেকিয়েই রাত কাটিয়েছি। 
বিয়ের আগে বাস্তবিক কারো সাথে প্রেম করা হয় নি আমার, তবে কল্পনায় একজন ছিলো। শুভ্রর সাথে তার অনেকটাই মিল আছে, আবার অনেকটা অমিলও আছে।
কিশোরী বয়সে মনের মধ্য পুষে রাখা কাল্পনিক চরিত্রকে যদি কোনো এক ভাবে পরিণত বয়সে নিজের করে পাওয়া যায়, তাহলে মনে হয় তার প্রতি বিশেষ ভাললাগাটা একটু বেশি মাত্রায়ই কাজ করে।
আমার ক্ষেত্রেও হয়তো সেটাই হয়েছে। নয়তো একসময়ের অচেনা, অদেখা ছেলেটা কিভাবে আমার সবটুকু দখল করে নিল?! খুব ঘুমকাতুরে হওয়া সত্ত্বেও এখন আমি রাত জাগি শুভ্রর সাথে গল্প করার লোভে। যে আমি খিদা লাগলেই খাওয়া শুরু করে দিতাম কোনো বাছবিচার না করে, সেই আমিই এখন শুভ্রর জন্য বসে থাকি খাবার নিয়ে।
আমি শুভ্রর জন্য না খেয়ে বসে থাকলে মা বকা দিলেও মনে মনে যে খুশি হয় সেটা বুঝি আমি। মা আমাকে একদিন গল্প করার ছলে বলেছিল সব ছেলেই চায় খাবার সময় তার স্ত্রী সামনে বসে থেকে পরিবেশন করে খাওয়াবে। এসব ছোটোখাটো জিনিসেও নাকি স্বামী স্ত্রীর মধ্য ভালোবাসা বাড়ে। আমি মাকে সেদিন বলেছিলাম, "আর কি কি করলে প্রেম বাড়বে বলুন না মা"। উনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, "ফাজিল মেয়ে শাশুরীর কাছে এসেছে প্রেমের তালিম নিতে "।
কে যেন বলেছিল, প্রেমে পরলে প্রিয় মানুষটার সবকিছুতেই সৌন্দর্য আবিষ্কৃত হয় নিজের কাছে ; এখন আমি কথাটার সত্যতা খুঁজে পাই নিজের কাছে।
ওর ছোট ছোট কাজগুলোতেও আলাদা কিছু খুঁজে পাই আমি।
আচ্ছা, শুভ্রও কি এভাবে আমাকে উপলব্ধি করে?
নিজেকে প্রশ্ন করে কোনো উত্তর পাই না সঠিক। কখনো মনে হয় ও আমাকে খুব ভালোবাসে, আবার কখনো মনে হয় ও এতদিন পরেও কি যেন এক সন্দেহে ভুগে আমাকে নিয়ে। 
*
শুভ্র দোলনায় বসে আছে। আর আমি ওর কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছি।
এ বিকেল বেলাটা কিরকম যেন বড্ড বেশি শান্ত লাগছে।
নিস্তব্ধতা ভেঙে আমি শুভ্রকে বললাম,
-- আচ্ছা, তুমি আমাকে কখনো ভুল বুঝবে না তো?
শুভ্র কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললো,
:--ভুল বুঝার মতো কাজ যদি করো, তাহলে ভুল বুঝতেও পারি।
শুভ্রর এরকম স্পষ্টবাদীতা আমার ভাললাগে না। প্রেয়সীকে খুশি করতে কিছু নির্দোষ মিথ্যা তো বলাই যায়, এতে কি এমন ক্ষতি।
অভিমান হলো খুব। ওকে রাগানোর জন্য দুষ্টামী করে বললাম,
--তোমার থেকে শামীম ভাই খুব ভালো ছিল।
কথাটা বলে নিজেই চমকে উঠলাম।
আমারই এক বান্ধবীর বড় ভাই উনি। কিশোরী বয়সে বেশ কয়েকবারই আমাকে রঙিন খামে মুড়ে চিঠি দিয়েছিল। তখন চিঠির প্রচলন তো উঠেই গিয়েছিল। তবুও যে কেউ চিঠি লিখে এটা আমার ধারনার বাইরে ছিল। সেসব প্রেমময় চিঠির কোনোটারই জবাব দেই নি আমি। শুধু একবার সামনাসামনি উনাকে বলেছিলাম, "শামীম ভাই, আপনি আর এসব চিঠি কখনো দিবেননা"। উনি সত্যিই এরপর আর চিঠি দেন নি। এতদিন পর হঠাৎ উনার নামটাই কেন মুখে আসলো?!
:---এই যে ম্যাম, কোথায় হারালেন? (মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে বলল শুভ্র)
সম্ভিত ফিরে পেয়ে শুভ্রর দিকে তাকালাম। ওর চোখমুখ দেখে মনে হচ্ছে ও খুব করে চাইছে যে আমি আমার কথাটা ফিরিয়ে নেই। 
আমি কিছুটা লজ্জা পেলাম নিজের নির্বুদ্ধিতায়। শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
--তুমিই বেস্ট। আমি সরি, তোমাকে রাগানোর জন্যই ওটা বলেছিলাম।
শুভ্র মুচকি হেসে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। 
*
অনেকদিন পর ঘুরতে বের হলাম শুভ্রর সাথে।
হঠাৎ করেই ও ছুটি পেয়ে যাওয়ায় সেটাকে কাজে লাগালাম।
আমি শাড়ি পরেছি। অবশ্য নিজে নিজে নয়, মা পরিয়ে দিয়েছে।
আজকে দুজন রাস্তায় দাড়িয়ে এক প্লেট ফুচকা ভাগ করে খেয়েছি। খুব ভালো লাগে শুভ্রকে নিয়ে ঘুরতে।
ওর হাতে হাত রেখে হাটার লোভে রিকশা নিতে বারন করেছি।
এখন নিজেকে মনে হচ্ছে সদ্য প্রেমে পরা কোনো লাজুক কিশোরী, যে তার প্রেমিকের হাত ধরে রাজপথে হাটছে কিছুটা ভাললাগার শিহরনে আর কিছুটা ভয়ে।
--- এই স্বর্নালী...
পিছন থেকে কে যেন ডাক দিলো আমার নাম ধরে। গলাটা কেমন যেন চেনা মনে হচ্ছে। হাটা থামিয়ে পিছনে ফিরে দেখি শামীম ভাই!
আমার সামনে এসে শুভ্রর দিকে বক্রদৃষ্টি হেনে তারপর আবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "বাহ!! আমাকে ভুলে গিয়ে ভালোই আছো দেখছি। তোমার মতো যদি নিজের অতীতটাকে ভুলতে পারলাম.. "
ঘটনার আকস্মিকতায় আমি আর শুভ্র দুজনই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। ঘোর কাটতেই দেখি শামীম ভাই চলে গেছে।
শুভ্র আমার দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
--"তুমি তো কখনো বলো নি শামীমের সাথে তোমার সম্পর্ক ছিল.."
আমি অস্থির গলায় বললাম,
--"তুমি ভুল বুঝছো। উনার সাথে কোনো সম্পর্ক ছিলো না। উনি কেন মিথ্যা বললেন আমি জানি না।"
শুভ্র অবিশ্বাসী গলায় বলল, "মিথ্যা তো তুমি বলছো। সেদিন তুমি এত ছেলে থাকতে শুধু শামীমের নামটাই কেন মুখে এনেছিলে? আমি ভেবেছিলাম তুমি সত্যিই দুষ্টামী করে বলেছিলে, কিন্তু এখন বুঝলাম আমার ধারনা মিথ্যে। তুমি শুধু মিথ্যে বুলিতে আমায় ভুলাতে।"
আমি উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলাম শুভ্র আমাকে রাস্তায় সেখানে রেখেই চলে যাচ্ছে। আমিও ওর পিছু নিলাম। হঠাৎ দেখি বিপরীত দিক থেকে একটা বাস আসছে। কিন্তু ততক্ষনে আমি ভয়ে জমে গেছি। দিশেহারা ভঙ্গিতে একবার শুভ্রর দিকে আর একবার আমার দিকে ধেয়ে আসা বাসটার দিকে তাকালাম।
তারপর একটা চিৎকার দিলাম শুভ্রর নাম ধরে..
.
[রাস্তায় একটা মেয়ের রক্তাক্ত লাশ পরে আছে। পাশেই একটা ছেলে বসে আছে মেয়েটির মাথাটা কোলে নিয়ে। আচ্ছা, ছেলেটি কি মেয়েটিকে বিশ্বাস করেছ? অবশ্য বিশ্বাস না করলেও মেয়েটির কিছু যায় আসে না, সে তো সব কিছুর উর্দ্ধে।
সব দুষ্টামী ভালবাসা বাড়ায় না, কিছু দুষ্টামী সম্পর্ককে তিক্তও করে তোলে।]

মন চুরি

আমি মেহবুব রহমান কাব্য। সবাই আমাকে মেহবুব বলেই ডাকে। আজ আমার কলেজ জীবনের প্রথম দিন। তবুও ক্লাস নয়, আজ আমাদের কলেজে নবীন বরণ উৎসব। আমি ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে এবার নতুন ছাত্র। আমি আর আমার বন্ধুরা মিলে আরেকটু পর কলেজে রওনা হবো। আজকে কলেজে অনেক নতুন নতুন ছাত্র ছাত্রী আসবো, তাছাড়া নাচগান তো আছেই।
.
আমি আর আমার এক বন্ধু মিলে কলেজের দিকে চললাম। আর কয়েক জন আগেই চলে গেছে।
কলেজে যেয়ে বুঝতে পারলাম আমি একটু পরেই এসে পড়েছি। কারণ ইতিমধ্যে সবাই এসে গেছে, আর অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে।
.
পরে এসে পরলাম আরেক ঝামেলায়। বসার চেয়ার নেই, সব আগেই যার যার মতে দখল করে নিয়েছে। তাই আর কি করব! নিরুপায় হয়ে এক জায়গায় দাড়িয়েই রইলাম। অনেক সুন্দর নাচ আর গান হচ্ছে, স্যারেরা বক্তৃতা দিচ্ছে। অনেক সময় দেখলাম শুনলাম। আসেপাশের দিকে আর তাকাইনি।
.
এখন একটু না নড়লেই নয়,, তাই ডানপাশে একটু কাত হলাম, আর তখনই কে যেন শার্টের কলার ধরে দিল এক টান।
- দেখছেন না এখানে দাড়িয়ে পারফরমেন্স দেখছি আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন কেন?
- ( খাইছে,, আমারে টান দিয়ে আমারেই ঝাড়ি) এই আপনি আমাকে টান দিলেন কেন? তবুও কলার ধরে।
- বেশ করছি। সামনে দাঁড়ালেন কেন?
- আচ্ছা, সরি,,, এবার আপনি সরি বলুন।
- হোয়াট?
- সরি বলুন।
- কেন?
- আমাকে টান দিয়ে ফেলে দিছেন তাই।
- বলবো না।
- আপনি একটা!!!
- আমি কি??
- শয়তান মেয়ে।
- ভুল বলেননি,, যান এখান থেকে।
-( মেয়ের মাথায় সমস্যা আছে) যত্তোসব পাগল!
- কিইইই, আমি পাগল?
- তা নয়তো কি? একটা মেয়ে হয়ে দাড়িয়ে আছেন কেন? বসতে পারেন না?
- চেয়ার কি আমার বাপের নাকি, যে আমার জন্য এখানে সবাই চেয়ার ছেড়ে দিব?
- ( কি গুন্ডী মেয়েরে? নিজের বাপ তুলে কথা বলে) আচ্ছা, বুঝতে পারছি। আপনার নাম টা বলবেন?
- আপনি কে? আপনার কাছে আমার নাম বলবেন কেন? যান বলছি।
- ওকে ওকে।
.
উফফফ এতখনে বাঁচলাম। ওই মাথার তার ছিঁড়া মেয়ে গুলো যে কোথা হইতে এই কলেজে উপদ্রব হয়েছে কপালে জানে। মেয়েটা বোধ নিশ্চিত গতকাল পাবনা পাগলা গারদ হতে পালিয়ে এখানে আসছে। নইলে কেউ এরকম ব্যবহার করে। আবার বলে কিনা হ্যাঁ আমি শয়তান। পাগল কোথাকার।
.
কিন্তু মেয়েটা খুব কিউট। যদি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতো তাহলে হয়তো প্রেম করতে পারতাম। কিন্তু আফসোস মেয়েটা বোধ হয় অর্ধেক পাগল।
.
অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি আসলাম। বাড়ির আসার আগে আবার একটু আড্ডায় গেছিলাম তাই ফিরতে ফিরতে ১০টা বেজেছিল রাত। বাড়ি এসে খেয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। কাল সকালে আবার কলেজে যেতে হবে। কাল থেকে কলেজে ক্লাস হবে।
.
সকালে ঘুম ভাঙলো পাখির কিচিরমিচির শব্দে। ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে কলেজে গেলাম।
কলেজ মাঠে যাওয়া মাত্রই, কার পায়ের মধ্যে যেন আমার পা লেগে ধপাস করে উপুড় হয়ে কার উপরে যেন পড়লাম।
.
উঠে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখি, কালকের সেই কিউট তার ছিঁড়া মেয়েটা, আর আমার দিকে রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে। এর উপরই মনে হয় পরছি। পরিস্থিতি খারাপ,,
চোখ বুজে দিলাম এক দৌড়। ধরতে পারলে না জানি কি করে বসে!!!
এমনই তার ছিঁড়া মেয়ে, তার মাঝে আবার রেগে আছে।
.
সে সময়ের মতো বেচে গেলাম। তারপর আর সেদিন ওই মেয়ের সামনে যাইনি। তবে দূরে থেকে দেখেছি কিন্তু কাছে যায়নি কখনো। বুঝতে পারলাম, ও আমাদের গ্রুপেই পড়ে। আর আমার ক্লাসমেট।
.
আজকে বাসায় এসে যখন টিভি দেখতে লাগলাম। তখন সেই মেয়েটার কথা মাথায় আসলো। মেয়েটার মাথায় সমস্যা আছে কিনা জানি না, তবে রাগি লুকে ওকে অনেক সুন্দর লাগছিল। তাছাড়া ও এমনিতেই অনেক কিউট,,, মুখের গঠন টা বাচ্চা বাচ্চা টাইপের।
.
ভালই লাগে দেখতে। টিভি দেখতে বসছি, টিভির দিকে আর খেয়াল নেই, কখন যে মেয়েটার কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ছি নিজেই জানি না। .
.
এরপর থেকে যখনই মেয়েটার দিকে তাকাতাম তখনই কেন যেন খুব ভালো লাগতো। তাই সুযোগ পেলেই এখন ওর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কিন্তু এখনো ওর নামটাই জানি না।
.
এভাবে দেখতে দেখতে চলে গেল, ৪ মাস। এই চার মাসে আমি ওর অনেক কিছু খেয়াল করছি। নামটাও কোনো এক ভাবে জেনে নিয়েছি। নাম হলো আয়েশা রহমান।
.
ওর যে বিষয় গুলো আমারে খুব চিন্তায় ফেললো তা হলো,,
- কারো সাথে মিশে না, সবসময় চুপচাপ থাকে।
- প্রয়োজন ছাড়া কারও সাথে কথা বলে না।
- কাউকে নিজের বন্ধু বানায় না, এখনো ওর একটাও বন্ধু হয়নি।
- অনেক মেয়ে ওর সাথে ফ্রেন্ডশীপ করতে চাইছে কিন্তু ও করেনি।
- মেয়েদের ফ্রেন্ডশীপ ফিরিয়ে দিছে আর ছেলেদের তো কথাই নাই।
- যখনই সময় পেত তখনই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতো আর কি যেন বিড়বিড় করতো।
- ছাএী হিসেবে কিন্তু খারাপ না,,, প্রয়োজনে শুধু স্যারদের সাথেই কথা বলতো কিন্তু কম।
.
আয়েশার এই সব বিষয় গুলো আমাকে খুব টেনশনে ফেললো। ও এমন কেন? অন্য সবার মতো স্বাভাবিক কেন নয়? সত্যিই কি ওর কোনো মানসিক সমস্যা আছে,, না অন্য কোনো কিছু?
.
ওর সাথে কথা বলে জানতে হবে ওর কি সমস্যা। তারপর থেকে আমি অনেকবার ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করছি কিন্তু ও আমার সাথে কথা বলেনি।
কিছু বললেই রাগ দেখিয়ে বা অন্য কোনো কিছুর ছুতো দিয়ে চলে যেত।
.
এভাবে কয়েক দিন চললো, আমার খুব রাগ হলো ওর পর,,, আমার সাথে এতো ভাব নেওয়ার কি আছে হ্যাঁ??? ও কি জানে না ওর অপেক্ষায় আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছি। কিন্তু আমি ওর সাথে কথা বলার জন্য ওর পিছনে কতো ঘুরি কিন্তু ও আমার সাথে কথা বলতেই চায় না।
.
আজকে নিয়ে ২ মাস হলো ওর সাথে কথা বলার চেষ্টায় আছি,, কিন্তু আজকে আমি অনেক ডাকার পর,, শুধু চোখ তুলে তাকিয়ে ছিলো আর কিছু বলেনি, তারপর চলে গেল। ধ্যাত,, খুব রাগ হচ্ছে নিজের উপর ৬ মাস ধরে একটা মেয়ের পিছনে পরে আছি কিন্তু মেয়েটা আমাকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না। দরকার নাই আমার এমন মেয়ের। আর ডাকবো না কোনো দিন,, একা আছি একাই ভালো আর একাই থাকবো।
.
সেদিনের পর আজ ৭ দিন হয়ে গেল, ওর সাথে কথা তো দূরের কথা চোখ তুলে তাকাইয়নি। আজ শুক্রবার তাই ভাবছি বিকেলে, কলেজের ধারে বড় মাঠের সাথে ওই বাগানে একটু ঘুরতে যাব।
.
বিকেলে সেই বাগানে গেলাম। কতখন ঠান্ডা বাতাসে বসেছিলাম,, ভালই লাগলো। অনেক সময় হয়ে গেল এখন বাসায় যাই। পিছনে ঘুরে তাকাতেই আমার আত্মা যায় যায় অবস্থা,,, আয়েশা আমার খুব কাছে একদম মুখের সামনে মুখ এনে দাড়িয়ে আছে।
.
আমি স্বাভাবিক হয়ে। কিছু বললাম না উঠে আসতে লাগলাম। আর ওই বা এখানে আসলো কেন?
উঠে দাড়ালাম যাওয়ার জন্য,,,
.
- মাহবুব দাড়াও।
- কেন?
- এখানে এসে বসো, কথা আছে।
- কি কথা?
- আগে বসো।
( ঘাসের উপর বসে পড়লাম)
.
- মাহবুব তুমি ভাবছো আমি এখানে কি করে কেন আসলাম?
- তাই তো।
- আমি তোমার বাড়ি গেছিলাম। কিন্তু আন্টির কাছে জানতে পারলাম তুমি এখানে তাই এখানে আসলাম।
- কিইইইই,,, বাড়ি কেন গেছিলা?
- তোমাকে খুজতে।
- আমার আবার কি দরকার?
- আমাকে ভালবাসো?
- ( হটাৎ এমন কথা,, অবাক হলাম) একথা কেন বলছো?
- যেটা বলছি ওটার উওর দাও।
- হুম,,, বাসি। তাতে কি হইছে?
- আমার এই অপয়া জীবনে কেন জড়াতে চাইছো?
- মানে!!!
- শুনবা?
- বলো।
.
- আমি একা নই, আমার ছোট আরেক টা বোন ছিলো। যখন আমার জন্ম হয় তখন আমাকে সবাই ভালবাসতো। খুব আদর করতো সবাই। মা বাবার রাজকুমারী ছিলাম আমি। সবসময় মা বাবা আমাকে চোখে চোখে রাখতো যাতে আমি কখনো দূরে না যাই।
.
আমার যখন ৭ বছর বয়স তখন আমার ছোট বোনের জন্ম হয়। ভালই চলছে আমাদের পরিবার। মা বাবা আমি আর আমার বোন। ছোট বাচ্চাদের রাখতে সবারই আগ্রহ ছিলো তেমনি আমারও ছিলো।
কিন্তু আমিও তো তখন খুব ছোট মাত্র ৭ বছর বয়স। তবুও ছোট বোনটাকে রাখতে খুব ইচ্ছে হতো।
.
কিন্তু মা আমার কাছে বোন কে দিতো না, আমি ফেলে দিব বলে।
কিন্তু আমার মনে ইচ্ছে টা প্রবল ভাবে জন্ম নেয়। তাই আমি একদিন লুকিয়ে যখন মা বোন কে ঘুম পাড়িয়ে গোসল করতে যায় তখন, তখন আমি বোনকে কোলে নিয়ে, পাশের পুকুর পাড়ে ঘুরতে যাই।
.
বোনটাও আমার কোলে ঘুমিয়ে পরে সুন্দর ভাবে। তাই যখন মা ডাকাডাকি পারছিল তখন আমি খুব ভয় পাই,,, তাই ধীরে ধীরে বাড়িতে যাই। মা আমার কাছ থেকে বোনকে নিয়ে তারপর আমার গালে একটা চড় দেয়। আর বলে,,
- কই গেছিলি ওকে নিয়ে, এতো জ্বর আসলো কি করে ওর শরীরে? আগে তো ছিলো না।
.
একথা শুনে আমি খুব ভয় পাই। আমার কোলে এসে বোনের জ্বর হয়েছে।
এরপর থেকে বোনের জ্বর আরও বাড়তে থাকে। দশদিনের দিন আমাদের বাড়িতে কান্নার রোল পরে। কারণ আমার বোন প্রচন্ড জ্বরে মারা যায়। অনেক ডাক্তার দেখিয়ে ছিলো তবুও কাজ হয়নি।
.
এর কয়েক মাস পর আমি আর মা নদীর ধারে যাই কাপড় আর কম্বল ধুতে। সেখান বাড়ি এসে মা মাথা ঘুরে পরে যায়। কিন্তু তার কতখন পর সুস্থ হয়ে উঠে।
তার কয়েক দিন পর,, আবারাও পরে যায়, ঘরের মেঝেতে কিন্তু এবার আর উঠেনি,, না ফেরার দেশে চলে যায়।
.
( এই বলে আয়েশা কাদতেঁ লাগলো)
- তারপর কি হয়েছে?
- তারপর বাবাকে আকড়ে ধরে বড় হতো লাগলাম।
যখন আমি এইটে পড়ি,, তখন আমার একটা ছেলেকে ভালো লাগতো। তখন ভালবাসার অর্থ বুঝতাম না। কিন্তু টান টা বুঝতে পারতাম।
তাই আমি এইটে প্রথম টেস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেই ছেলেটাকে প্রপোজ করি। আর ছেলেটা খুশিতে টগবগিয়ে উঠে।
কিন্তু ভালবাসা আমার কপালে ছিলো না। সেদিন প্রপোজ করার পর, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময় একটা এক্সিডেন্টে ওই ছেলেটাও প্রাণ হারায়।
.
এই হলো আমার কপাল। নিজের ভালবাসা এক দিনই তৃপ্তি ভরে পেলাম না। তারপর থেকে সবার কাছ থেকে এই স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে চলে যাই।
.
এখন কেউ আমাকে ভালবাসে না। বাবাও ভালবাসে না। আর পরিবারের অন্যরা বলে কিনা আমি অপয়া। ( এই বলে আরও জোরে জোরে কাদতেঁ লাগলো আয়েশা)
.
- এই পাগলী কাঁদছো কেন?
- কি করবো বলো?
- আমাকে ভালবাসো।
- না,, এটা হয়না। তোমার জীবনে আমি যদি যাই তাইলে হয়তো তোমারও কিছু একটা হয়ে যাবে,, আমি এটা কখনো চাই না।
- কিচ্ছু হবে না। সব ভুল ধারণা কে বলছে তোমাকে তুমি ভালো না।
- সবাই বলে।
- আমি বলছি তুমি অনেক ভালো।
- আমি ভালো না তুমি আমাকে ভুলে যাও।
- সেটা তো কোনো দিন সম্ভব না।
তুমি অনেক আগেই আমার মন চুরি করে নিয়েছো। এখন তোমার মন না দিলে আমি এমনিতেই মরে যাব।
- না। ও কথা বলো না প্লিজ।
- তাহলে তোমার ভালবাসার রঙ্গে আমাকে রঙিয়ে দাও যতদিন বাচবো তোমার ভালবাসা নিয়েই বাঁচবো।
- এটা হয়না।
- তুমি ভালবাসবে কিনা বলো,, যদি বাসো তাইলে আজকের পর দেখতে পাবে আর যদি না বাসো তাইলে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাব।
বাচলে দুজন একসাথেই বাচবো।
.
- আর যদি না বাচি?
- না বাচলে নাই, একদিন না একদিন সবাইকে মরতে হবে,, একদিন আগে আর পরে।
.
( জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিছে)
- আবার কাঁদছো কেন?
- এতো ভালোবাসো কেন?
- মনটা যে আমার কাছে নাই তাই।
- কার কাছে গেছে?
- তোমার কাছে।
- ধ্যাত।
- চলো ফুচকা খেতে যাই।
- আচ্ছা।
.
.
.
আমি চলছি পাগলীটা কে নিয়ে ফুচকা খেতে। জানি না কতদিন এই পৃথিবীতে থাকবো কিন্তু যতদিন আছি ততদিন নিজের ভালবাসা নিজের করে পেয়েই বাচবো।

অতঃপর তুই ফাঁকি দিলি

ফেইসবুক থেকেই আমাদের প্রথম কথাবার্তা তারপর ভাললাগা অতপর ধীরে ধীরে ভালবাসা থেকে অনেক কিছু..যাইহোক এভাবেই চলছিল আমাদের প্রেম,ভালবাসা ইত্যাদি ইত্যাদি...O আমার ছবি ফেইসবুকে দেখেছে কিন্তু আমি ওর ছবি কোনদিন দেখিনি আর ওর ফোন নাম্বার ও চাইনি... !
তখন আমি S.s.c পরিক্ষার্থী ছিলাম আর দেখতে দেখতেই Xm ও শেষ, আগেই জানতাম রেজাল্ট কি হবে...এককথায় লাস্ট ব্রেন্ঞ এর ছাএ হলে যা হয়....ভাগ্যিস বালিকার বাড়ির কাছের একটা কলেজেই সীট পাইছি...আমার আনন্দ আর দেখে কে?
.
তারপর নতুন কলেজের দিকে লোকাল বাসে দাড়িঁয়ে দাড়িঁয়ে যাচ্ছিলাম অনেক দূরের পথ তাই বিরক্তি ও কম লাগছিলো না...তবে মনে আজ অনাবিল আনন্দ হচ্ছে কারন,আজযে পাগলিটার সাথে দেখা করার দিন... !
তো কথামতো কলেজ শেষ করে সেই পার্কে গেলাম ১৫ মিনিট লেট হয়েছে..না জানি কি না,কি বলে... পার্কে গিয়ে ওকে খুজঁতে লাগলাম...ও আমাকে হলুদ পান্জাবি পরে আসতে বলেছিল আর আমি ওকে নীল শাড়ী পরে নীল অপন্সরী হয়ে আসার কথা বলেছিলাম...পার্কের গেট থেকেই একটা নীলশাড়ী পরা মেয়ে দেখতে পেলাম... !
দেখতে দারুন লাগছিল একেবারে স্বর্গের অপন্সরীর মতো আমি ওর সামনে গেলাম..ওর নাম ও চেহারার মধ্যে দারুণ মিল.ধূরু ওর নামটাইতো বলিনি!ওর নাম মিথিলা..আমি ওকে আদর করে মিথি বলে ডাকতাম..এবার গল্পে আসি তারপর ও আমাকে বলল !
মিথি:~তুই সুমন?
আমি;~মাথাটা ঝাকিয়ে বল্লাম হুম.. মিথি:-বসে পর,তা কেমন আছিস? আমি:~ভালো,তুই?
মিথি;~ভালো নেই?
আমি;~কেন?
মিথি;~তুই ১৫ মিনিট লেট করলি কেন!কান ধর?{অভিমানি সুরে}
আমি;~সরি ম্যাডাম,ভুল হয়েছে! আর কোনদিন দেরী হবেনা!
মিথি;~আমি বল্লাম কান ধর? আমি;~এখানে লোকজন দেখবে তো? মিথি;~তাতে আমার কি কানধর? আমি;~ওই কুট্টা এবার মাফ কর প্লিজ আর দেরী হবেনা?
মিথি;~আচ্ছা ঠিক আছে আর যেন ভূল না হয়. আমি;~থ্যাংকু.
মিথি;~ওই তুই এতো আনরোমান্টিক কেনরে? আমি;~কেন?
মিথি;~আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারিস না?
আমি;~তোর চোখের দিকে তাকালে আমার গলা শুকিয়ে যায়.
মিথি;~ওই কুট্টা তা বাসা থেকে পানি আনতে পারিসনি,পানি গিলতি আর আমার সাথে কথা বলতি.
আমি;~আচ্ছা ঠিক আছে,এখন থেকে তোর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলব! মিথি;~এইতো লক্ষী ছেলে. আমি;~হইছে আর গ্যাস দিতে হপেনা. !
এভাবে আরো অনেকক্ষন দুষ্টমি করে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম.
!
!
এভাবে আমরা রোজ দেখা করতাম_আমার বাড়ি দূরে হওয়ার কারনে একটা ম্যাচ ও খুজঁছিলাম,কিন্তু কোথায় ম্যাচ,কোথায় কি_একটা পেলাম তা ৫হাজার টাকা মাস নিবে তাই ওখানে থাকিনি.ব্যাপারটা মিথি জানার পর ওদের বাসায় থাকতে বলল; !
আমি~তোর বাবা ব্যাচেলারদের বাসা ভারা দিবে তো?
মিথি;~হুম,আমি কতটাকা মাস ভাড়া নিবে? মিথি~ভাড়া লাগবেনা. আমি;~তাহলে তোর বাবা থাকতে দিবে? মিথি;~এতো বেশি বুঝিস কেন? আমি;~না,এমনি বললাম আর কি. মিথি~হবু জামাই হয়ে থাকবি! আমি~আমাকে এতো ভালবাসিস? মিথি~হুম,একটা রিকুয়েস্ট রাখবি? আমি;~কেন নয়?
মিথি~আমাকে রোজ সময় দিবি তো? আমি;~খুব দিবো.
মিথি~সত্যি?
আমি;হুম.
মিথি;~আর কিছু দিবি না?{চোখের দিকে তাকিয়ে}
.
তারপর ওকে জরিয়ে ধরে,ওর ঠোটে আলতো করে একটা চুমু দিলাম ও লজ্জা পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল,ধরার চেষ্টা ও করলাম Bt পারলামনা.
!
প্রতিদিনের মতো আজও বিকালে ওদের ছাদে তিনজন (আমি,মিথি আর নিধা) সময় কাটাতাম_নিধা মিথির ছোট বোন ক্লাস ফাইভে লেখাপড়া করে_আমার সাথে ওর খুব ভাব_সবদিনই বিকালটা একটু গড়িয়ে আসলে নিধা পড়ার জন্য চলে যেত_তখন আমি পাগলিটাকে জড়িয়ে আকাশ দেখতাম,দেখতাম কর্মমুখী মানুষের ঘড়ে ফেরার ভীড়.আরো দেখতাম সূর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্র্র্র্র
!
কিন্তু ওর ব্যবহারটা কেমন যেন পাল্টাটে থাকে একদিন বিকালের কথা;~
!
ও আমাকে শক্ত করে জরিয়ে কাদছে আর বলছে আমাকে খুব বেশি ভালবাসিস তাই না? আমি;~হুম.
মিথি;~আমাকে হারিয়ে যেতে দিবি না তো?
আমি;~একদম না.
মিথি;~তুই পারবি নারে! আমি;~কেন পারবনা,তোর জন্য সব করতে পারবো..
মিথি;~নারে তুই পারবিনা,আমাকে ভুলে যা (অবিরাম ধারার কেদে চলছে আর আবল তাবল বলছে)তারপর বলল আজ ডাক্তার এর কাছে গিয়েছিলাম এটা বলেয় চলে গেল.. !
আমিও দ্রুত ওর বাবার কাছে গেলাম ঘটনাটা জানার জন্য..কিন্তু ওর বাবা যা বলল,তাতে আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না..ওর নাকি ব্রেন ক্যান্সার ডাক্তার তাই বলেছে,এটা শোনার সাথে সাথে আমার মাথাটা ঘুরিয়ে উঠল,পায়ের নিচের মাটি যেন সরে যেত লাগল আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম. !
কিন্তু এতে আমার ভালোবাসা বিন্দু মাএ ও কমেনি বরং বেড়ে গেছে ওকে পাগলের মতো ভালবাসতে লাগলাম।তখন ও কেমন যেন বাচ্চাদের মতো আচরণ করতো রোজ কলেজ থেকে আসার সময় চকলেট,আইসক্রিম আনার বায়না ধরতো আমিও নিয়ে আসতাম ও খুব খুশী হতো.আমি তাকিয়ে দেখতাম আর হাসতাম আমি বলতাম আমাকে দিবি না ও বলতো তোকে পরে দিব.তারপর চকলেট মাখা মুখ নিয়ে আমার মুখে চুমু দিয়ে ভরিয়ে দিত.একদিন রাতে ওর অসুখ বেশি হলো,
!
আমি এখনও তোদের বাড়িতে যাই,কেন যাই জানিস? তোর বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে তোকে খুজে পাই,খুজে পাই সেই হারানো ভালবাসাকে..একদিন তোর বোন আমাকে তার স্কুলে নিয়ে গিয়ে বলেছিল?এটা আমার ভাইয়া হয়..আর তোর বোনের ফ্রেন্ডসরা বলেছিল এই পাগলা তোর ভাইয়া..তারপর ও খুব কষ্ট পেয়েছিল তাই আর ওর সাথে স্কুলে যাইনি..তবে লুকে লুকে গিয়েছে তোর বোনের স্কুলে..কারন আমিযে তোর বোনের দিকে তাকিয়ে তোকে দেখতে পাই..একদিন স্কুল ছুটি হলে,বাচ্চা ছেলে মেয়েরা আমার গায়ে ইট,পাথর দিয়ে ঢিল ছুটেছিল এতে আমার মাথা ফেটে যায়.তাই ভয়ে আর তোর বোনের স্কুলে যাইনা.তোর কি মনে আসে সেই পার্কের কথা,যেখানে আমারা রোজ দেখা করতাম?সেই সীটে বুঝলি এখন অন্য প্রেমিক-প্রেমিকা বসে..তবে পার্থক্য এতটাই তারা দামি দামি খাবার খায়..আর আমরা ২টাকার কালাই,বাদাম খেতাম..সে জন্যই বুঝি তুই আমাকে ফাকি দিছিছ তাইনা? তবে একটা সুখবর আছেরে..আমার একটা কিডনীতো তোকে আগেই দিয়েছিলাম..আর একটা ভালো কিডনী ছিলো সেটাও একজনকে দান করছি..আরো খুশির খবর আছে জানিস?আমার মাথা ফেটে যাওয়ার পর,সেলাই না করার জন্য মগজ পোচে যাচ্ছে..আর আমার ফুসফুসটাও এখন পোকার দখলে..আমি খুব শ্রীঘই তোর কাছে যাবো..এবার ফাকি দিবিনা তো? [সমাপ্ত
আমার আজকের রাতটা ভরে আছে অন্যসব রাতের থেকে ভিন্নতায়। কারন আজ থেকে সঙ্গী হতে যাচ্ছে নিরা নামের একটি মেয়ে। যদিও এই রাতটা এত তাড়াতাড়ি পাওয়ার ইচ্ছে ছিল না তবুও আম্মুর চাপে গ্রহন করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। এখন নিরার কথায় আসি, মেয়েটা ভাল দেখতে, শুনতেও। যদিও বাস্তবে কখনো দেখা হয়নি তবুও প্রকৃত সুন্দরীরা ছবির থেকে বাস্তবেই বেশী সুন্দরি হয়। মৃদ্যু কেশে রুমে প্রবেশ করলাম। বিশাল এক ঘোমটা টেনে বেডের ঠিক মাঝখানটাই বসে আছে নিরা। যদিও মেয়েটিকে প্রথম যেদিন ছবিতে দেখেছিলাম সেদিন থেকেই ভাল লেগেছিল আর আজ সেই মেয়েটি সামনে বসে তবুও এক অসস্তি কাজ করছে আমার ভিতর। পাশে বসে ঘোমটাটা টেনে দিলাম, নিরা মেয়েটা মানুষ দেখে বিশ্বাস হচ্ছিল না! কি করে একটা মানুষ এতটা সুন্দরি হয়? এমন একটা মেয়ে চাঁদের সামনে দাড়ালে চাঁদটাও লজ্জায় লুকিয়ে যাবে। মেয়েটার গাল বেয়ে অজস্র নোনা জল ঝরছে আর এটা সাধারনত মেয়েদের বিয়ের দিনে হয়েই থাকে। কিন্তু নিরাকে সেই শুরু থেকেই কাঁদতে দেখছি যেখানে অশ্রু বর্ষন ছাড়া কোন শব্দ নেই।
মেয়েদের কান্না খুব সহজেই ছেলেদের মনকে ঘায়েল করে নেয়, ঠিক এখন আমার যেমনটা হয়েছে।
হাত বাড়িয়ে গাল বেয়ে পড়া অশ্রু বিলিন করতে চাইলাম কিন্তু নিরা হাতটা থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলঃ প্লিজ আমাকে স্পর্শ করবেন না।
তবে ওর কথায় আমার কিছু মনে হয়নি বরং একটা মানুষ এত সুন্দর করে কথাও বলতে পারে! কোকিলের সামনে যদি নিরাকে গান বলা হয় তাহলে নিশ্চয়ই কোকিল তার নিজ গান থামিয়ে নিরার গান মুগ্ধ হয়ে শুনবে।
ওকে নিয়ে বিভিন্ন কাব্য রচনা করতে বেশ ইচ্ছে হচ্ছে কিন্তু ওর কান্না আমাকে বার বার বাধা দিচ্ছে।এদিকে অনুমতি বিহিন ওকে স্পর্শ করার স্পর্ধা একটু বেশীই হয়ে গেছে তাই মনোষত্ববোধ নিয়ে বললাম
--সরি নিরা, আপনার কি ট্রিসু লাগবে?
--না, লাগবে না
--ও আচ্ছা, সব মেয়েরাই বিয়ের পর কান্না করে আর বাসরঘরে এসে ঢং করে
--দেখুন আমি সব মেয়ের মত না
--কই, আলাদা কিছুও তো দেখছি না
--আপনাকে আমার কিছু কথা বলার আছে
--জ্বী বলুন....
মেয়েটি নিজ থেকে ঘোমটাটা পুরোটুক সরিয়ে নেড়েচেড়ে বসল তারপর চোঁখ দুটো বাচ্চাদের মত হাত দিয়ে অশ্রু নিবারন করে আমার দিকে তাকাল
--আমি রাফি নামের একটা ছেলেকে ভালবাসতাম, এখনো বাসি।
নিরা এই কথাটা বলার পর থেমে গেছে হয়তো কান্নাটা আরেকটু বেড়ে গেছে।
এপাশে আমারো কথাটা শোনার পর কিযেন একটা ব্যাথা বামপাশের বুকটায় জেগে উঠেছে। মেয়েটি আবার মিনমিনিয়ে কথা শুরু করল
--কিছুদিন হল ওর সাথে আমার ব্রেকআপ হইছে তবুও ওকে ভুলতে পারছি না। চারদেয়ালে একয়টা দিন একাকি নিজেকে বন্ধি করে রেখেছি হঠাৎ আপনাদের পাঠানো সমন্ধ আর আমার বিয়ের কথা সবরেখে রাফির উপর রাগ নিয়েই আপনাকে না দেখেই বিয়েটা করে ফেলি...
ওর কথাগুলো কান বরাবর যাচ্ছে ঠিকই কিন্তু কোন কথাই মুখ থেকে বের হচ্ছে না। আমার উদাসীনতা ভাঙ্গাতেই নিরা বলে উঠল
--আপনি কি আমার কথা শুনছেন??
--জ্বী শুনছি! তারপর
--তারপর কি?
--আপনাদের ব্রেকআপ হওয়ার কারনটা জানতে পারি?
--হুম, সব ছেলেদের মত আমি কখন রাফিকে ভাবতাম না কিন্তু ওর ও যে লুচ্ছা স্বভাব ছিল, দুতিনটা গালফ্রেন্ড ছিল এটাও জানতাম না। মাঝে মাঝে আমার ফ্রেন্ডগুলো রাফিকে নিয়ে ভিবিন্ন কথা বলত কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম না কিন্তু একদিন আমার নিজের চোঁখ দিয়ে দেখলাম ওর কীর্তি সেদিন আর নিজের চোঁখকে কেমনে অবিশ্বাস করি বলতে পারেন...
মেয়েটার চোঁখে এখন রাগী রাগী ভাব,
কোন অশ্রু ঝরছে না। হয়তো এমনটাই স্বাভাবিক কিন্তু সব ছেলেই কি একরকম? আমি তো ওরকম না। কোনদিন তো কারো সাথে রিলেশনে যাইনি তাহলে নিরার কথাটা ভুল।
আর একজনের ভুল শুদরানোর দ্বায়িত্বটা আরেকজন মানুষেরই তাই বলে ফেললাম
--দেখুন, আপনি একটা ভুল কথা বললেন
--কি ভুল বললাম??
--সব ছেলেই রাফির মত না বরং কিছু রাফি টাইপ ছেলের জন্য সব ছেলেকেই খারাপ বলাটা ঠিক না।
--হু তো আপনি ভাল
--ভাল না হলেও রাফির মত খারাপ না
--তাহলে আপনার গালফ্রেন্ডকে রেখে আমাকে কেন বিয়ে করলেন?
--আমার কোন গালফ্রেন্ড নেই
--এই যে মিথ্যা, এটা ছাড়া তো আপনাদের পেটের ভাত হজমই হয় না।
--জ্বী না, আমি মিথ্যা বলি না
--হু ধোঁয়া তুলসি পাতা....
কথাটা বলেই মুখ ঘুরিয়ে নেয় নিরা।
পরিবেশটা বেশ উষ্ণ হয়ে গেছে তাই শীতলকরন করা দরকার
--নীরা, অনেক রাত হয়ে গেছে আপনি ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পরেন
--আর আপনি??
--আমি অন্য কোথাও ঘুমিয়ে যাব, ওটা নিয়ে ভাববেন না।
--অন্যে কোথাও মানে? আমার সাথে থাকতে যদি প্রোবলেমই তবে বিয়ে করলেন কেন??
--আসলে আপনি তো রাফিকে.....
--থামেন! থামেন!! আপনি তো আসলেই বোকা যদিও নামটার শুনেই বুঝেছিলাম তবে এখন প্রমান পেলাম...
বলেই মেয়েটা খিল খিল করে হেঁসে উঠলো। কিছু বুঝছি না আমি শুধু ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছি
--কি মিঃ সানভী!!ভয় পেয়ে গেলেন নাকি?? আমি তো মজা করছিলাম...
আবারও হাসির বন্যা বয়ে গেল চারদেয়ালের মাঝ বরাবর..
--নিরা তুমি কি সত্যেই মজা করছিলা?
--আপনি আমাকে তুমি কেন বললেন? আপনাকে অনুমতি দিয়েছি আমি??
মেয়েটি এবার হাসি থামিয়ে আবার রেগে গেছে। আসলেই ভুলটা তো আমারই অনুমতি ছাড়া একজনকে কেনইবা তুমি ডাকলাম হয়তো পছন্দের মানুষটিকে মন থেকেই তুমি ডাকটা ডাকতে ইচ্ছে করে তবুও ওকে অনুমতি ছাড়া ডাকাটা ঠিক হয়নি...
--এত্ত বোকা হবে আমার স্বামী জানলে বিয়েই করতাম না...
বলেই মেয়েটা মুচকি মুচকি হাসছে।
ওর হাসি আমাকে আরো বোকা করে দিচ্ছে।
ধুর আমি তো আসলেই বোকা।
--ভালবাসতে জানেন তো??
--না, কখনো কাউকে এরকম ভালবাসি নি তো
--এরকম ভালবাসা মানে?? আপনি তো দেখছি ফাজিলও আছেন...আর শোনেন আপনি এখন থেকে তুমি করে বলবেন আমায়....
মেয়েটার কিচ্ছু বুঝছি না, শুধু আমি থাম্বা হয়ে দাড়িয়ে আছি।
--ঐ মিষ্টার পাশে আসবেন নাকি আমিই চলে যাবে!!
কিছুক্ষন আগে যে মেয়ের চোঁখ বেয়ে পরা জল স্পর্শ করতে দিল না সে এখন কাছে ডাকছে, মেয়েটা এত সিরিয়াস ভাবে ফান করতে পারে রিতিমত অবাক আমি।
পাশে বসতেই কিছু বোঝার সময় শেষ শুধু বুঝলাম বোকার বোকামী শুরুর সময়টা চলে এসেছে!!!

***শেষ প্রহরের আলো***

আজ প্রথম দিন কলেজে,কেমন জানি একটু নার্ভাস ফিল হয়েছিল। হওয়ার-ই কথা প্রথম দিন বলে কথা, তার উপরে সবাই অপরিচিত। কাল থেকে হয়ত সব ঠিক হয়ে যাবে।
সি.এন.জিতে করে বাসায় ফিরতে ফিরতে এই সব ভাবছে নীড়। কিছুদিনের মধ্যে-ই সবার সাথে পরিচয় হয়ে উঠে। আর সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব হয়ে উঠে অভ্র ও জিহামের সাথে। অভ্র কলেজ হোস্টলে থাকতো আর জিহাম থাকতো নিজেদের বাসায়। তাই মাঝে মাঝে আড্ডা দিতে জিহাম আর নীড় জমাট বাঁধতো অভ্রের রুমে। যে দিন-ই আড্ডা দিতে মন চাইতো সে দিন-ই কলেজ শেষে সোজা বাড়ি না গিয়ে অভ্রর রুমে গিয়ে উঠতো তারা। আর বেশী সময়-ই দেখা যেত,অভ্রর জন্য খাবার আসলে ৩ জনে মিলে ভাগাভাগি্র করে খাবারটা খেত। খুব ভাল বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে যায় অল্প দিনের মাঝে-ই। আর তিনজন একসাথ হলে-ই জায়গাটাকে একটা কমেডি শো তে পরিণত করে। নীড় কিছুদিন যাবত ফেইসবুকে একটা মেয়ের সাথে চ্যাট করছে, সেটা কিন্তু অভ্র ও জিহামকে জানাতে ভুল করেনি। কয়েক দিন পর মেয়েটি নীড়ের সাথে মোবাইলে কথা বলা শুরু করে দিলো।আর কিছু দিনের মধ্যেই নীড় মেয়েটির প্রেমে পড়ে গেল। কিন্তু নীড় মেয়েটিকে বলতে পারছে নাহ। অভ্র আর জিহাম বুঝলো নীড়কে দিয়ে হবে নাহ, তাই তারাই মেয়েটিকে বল্ল। আর মেয়েটিও রাজি হয়ে গেলো, বেশ ভালো-ই যাচ্ছিল দিনকাল। কিছুদিন পর নীড় বুঝতে পারলো মেয়েটি তার সাথে শুধু অভিনয়-ই করছে,বাস্তবে তাকে ভালোবাসে না। আর সেখানেই থেমে গেল গল্পটা। নীড়ের প্রথম কিছুদিন একটু মন খারাপ থাকলেও কিছুদিন পর সব আগের মত হয়ে গেল। বিন্দাস দিন যাচ্ছিল। প্রায় ১ বছর সিঙ্গেল ছিল নীড়। তার পর হঠাৎ নীড় লক্ষ করলো তার বন্ধু শিখাকে তার ভালো লাগতে শুরু করলো। (শিখার সাথে নীড় অনেক ফ্রি ছিল বলে সব সময় দুষ্টামি করে জান,বেবি এই সব বলে ডাকতো, আর দুষ্টামি করে প্রায় সময় I Love U বলত আর শিখাও মজা করে Love u 2-ই বলতো।) কিছু দিন ধরে নীড় শিখার প্রতি অনেকটা দূর্বল হয়ে পড়েছে। একদিন নীড়ের সাথে শিখার মেসেজে চ্যাটের সময় :
নীড়: I love u
শিখা : Love u 2.
নীড়: আমি কিন্তু সিরিয়াস।
শিখা: আমি মনে হয় ফান করি?
নীড়: রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস দে!
শিখা: ওমা,পোলা কয় কি?
নীড়: সত্যি তোরে ভালোবাসি।
শিখা: এভাবে বললে তো হবে নাহ, সরাসরি বললে দেখা যাবে।
.
সঙ্গে সঙ্গে নীড় শিখাকে কল দিয়ে আবার বলল I Love u, আর শিখার উত্তর ছিল, এভাবে হবেনা সরাসরি প্রপোজ করলে ভেবে দেখবো। পরের দিন নীড় কলেজে না যাওয়ার কথা ছিল তবুও শিখাকে প্রপোজ করবে বলে গেল, কিন্তু প্রপোজ করতে যে ফুলের প্রয়োজন সেটা নিড়ের এক দম-ই মাথায় ছিলনাহ। ক্লাসে গেল এক ঘন্টা দেরি করে তাই,হয়ত ফুলের কথাটা মাথায় ছিলনাহ। ক্লাসে গিয়ে ফুলের কথা মনে পড়তে-ই অভ্র আর জিহাম কে নিয়ে ছুটে গেল ফুলের দোকানে, কিন্তু গিয়ে দেখলো দোকান বন্ধ।
আর ফিরে আসতে আসতে ক্লাস শেষ হয়ে গেল। পরের দিন নীড় ভাবলো শিখাকে প্রপোজ করলে ওর আবার রিয়েক্ট টা কেমন হবে।তাই নীড় অভ্র আর জিহামকে বলল তারা আগে একবার সরাসরি বলে দেখতে, যেই কথা সেই কাজ। অভ্র আর জিহাম শিখাকে বল্ল যে, নীড় তাকে ভালোবাসে। কিন্তু, শিখা একটাই উত্তর দিল,এটা কিভাবে সম্ভব? বন্ধু আছি সেটাই ভালো। কথাটা নীড় শুনেছিল কিন্তু নরমাল ভাবেই নিলো। সে দিন রাতে নীড়,অভ্র ও জিহাম আড্ডা দিচ্ছিল, হঠাৎ শিখা একটা স্ট্যাটাস দিল ফেইসবুকে, মিসিং সামওয়ান দিয়ে। স্ট্যাটাসটা দেখে নীড়ের কেন জানি অনেক কষ্ট হতে লাগলো,নীড় সঙ্গে সঙ্গে অভ্র আর জিহামের কাছ থেকে উঠে গিয়ে বাথরুমে ডুকে কাঁদতে লাগলো। হয়ত কষ্টটা নিজের মাঝেই রাখতে চেয়ে ছিল। সেদিন রাতেও নীড় কলেজ হোস্টেলেই ছিল। যখন ভোর ৫ টা বাজে।নীড় দেখলো সবাই ঘুমে,কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই।চোখের কোণ দিয়ে ২ এক ফোটা জল গড়িয়ে পড়ছে আর শিখার কথা ভাবতে ভাবতেই রাত কেটে গেল। পরের দিন রাতে শিখার সাথে চ্যাটের সময় শিখা নিড়কে কথায় কথায় প্লে বয় বলে ফেল্লো। ব্যাপারটা নীড়ের কাছে কিছুটা খারাপ লাগলেও। তার নিজের দোষ মেনেই ধরে নিল। নীড় বুঝে নিলো তার অন্য কারো কাছে তার স্থান কোথায়।তাড় পর থেকে নীড় নিজেকে সবার থেকে সরিয়ে নিতে চাইলো। হয়ত, মন তাকে সরে আসতে দিচ্ছিল নাহ, তবুও ভাবল চেষ্টা করতে দোষ কোথায়। কিছু দিন নীড় ক্লাসে গিয়েও কারো সাথে কথা বলতোনা ঠিকমত,এমনকি অভ্র ও জিহামের সাথেও নাহ।আর এভাবেই দিন কাটতে লাগলো। প্রায় সপ্তাহ হয়ে গেল নীড় কারো সাথে একটু মন খুলে কথা বলে নি, অনেক কষ্ট হচ্ছিল। তাই নীড় এবার ভেবেই নিলো কাল ক্লাসে গেলে সবার সাথে আবার কথা বলবে। রাতে ঘুমানোর আগে হঠাৎ নীড়ের প্রচুর মাথা ব্যাথা উঠলো, আর সাথে নীড় অজ্ঞান হয়ে গেল। যখন চোখ খুলল নীড় দেখলো সে এক অজানা জায়গায়, পরে বুঝতে পারলো সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। নীড় হঠাত তার মাকে জিজ্ঞেস করলো তার কি হয়েছে? আর তার মার মুখে কোন কথা ছিলনা, শুধু চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে দেখলো নীড়।নীড়ের আর বুঝতে বাকি নেই,যে তার বড় কোন রোগ হয়েছে। পরে জানতে পারলো আসলেই তাই, তার ব্রেন ক্যান্সার। আর অনেক দেরি হয়ে গেছে,তাই তার হাতে আর একমাস সময় আছে। কথাটা যখন নীড় শুনলো হাসতে লাগলো, মনে মনে বলতে লাগলো, এক সময় নিজে চেয়ে ছিলাম জিবন থেকে ছুটটে আর আজ জিবন-ই আমার থেকে ছুটে যাচ্ছে। আজ হঠাৎ সময় খুব কম মনে হচ্ছে। সপ্তাহ ধরে নীড় হসপিটালে, কিন্তু তার বন্ধুদের সে বলেছে সে তার গ্রামের বাড়িতে গেছে তাই আসতে কয়দিন দেরি হবে। এক সপ্তাহ পরে নীড় ক্লাসে গেল কিন্তু কারো সাথেই ঠিক ভাবে কথা বললো নাহ। তার একটাই লক্ষ ছিল আস্তে আস্তে সবার মন থেকে নিজেকে মুছে নেওয়া। হয়ত এখন জিবনটা উপভোগ করার সময়,কিন্তু আজকাল কেন জানি সময় গুনতে গুণতে আর কিছুই ভালো লাগছে নাহ। আজকাল ফেইসবুকে সারা দিন পড়ে থাকে নীড়, কিন্তু হোম পেইজেই। অনেক মেসেজ জমা হয়ে আছে, কিন্তু উত্তর দেওয়ার মন নেই। ভাবছে আরতো কয়েক দিন, তার পর আইডিটা কে চালাবে। ক্রমশ কেন জানি শরীরের শক্তিটুকু হারিয়ে পেলছে নীড়। আর মাত্র ১ দিন। কালকেই কি তাহলে ইতি? আজ কেন জানি আরো কিছু দিন বাঁচতে ইচ্ছে করছে। রাতে সব বন্ধুদের কল দিয়ে কথা বলে নিল হয়ত এটাই শেষ কথা। রাতে শুয়ে পড়ল নীড়,আজ ঘুমের ঔষধ খেয়ে নিল,নয়তো হয়তো ঘুম আসবেনা। আজ অনেক চিন্তা মাথায় ঘুরছে, শিখাকে নিয়ে আজ বড্ড বেশী ভাবা হচ্ছে। ভাবছে- শিখা কেনযে তার ভালোবাসা বুঝলো না, বড্ড বেশী ভালোবাসতো মেয়েটাকে, আচ্ছা সে মারা গেলে শিখাকি তার ভালোবাসা বুঝবে? কাঁদবে কি তার জন্য?, আবার ভাবলো ঠিক-ই তো আছে মেয়েটা বুঝলে আজ'নয়তো কতটা কাঁদতে হতো'। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল নীড় টের-ই পেল নাহ। আর ঘুম থেকে উঠা হলো না নীড়ের। স্বপ্ন নিয়ে হারিয়ে গেল অচীন দেশে।
দেখা হলোনা আর শেষ প্রহরের আলো।

নীলা

ধরো এমন একটা সন্ধ্যায় আমরা বারান্দায় বসেছি। আমাদের বেডরুমে রাখা গ্রামোফোন এ তোমার প্রিয় কোন রবীন্দ্র সংগীত বাজছে। তখনো কি তুমি নিশ্চুপ বসে থাকবে? একবারও জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হবে না?
.
ধরো আমাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকীর দিনে পূর্ণিমা হলো। দিনটার জন্যে তুমি ছুটি নিলে।আর আমি ভুলে যাওয়ার ভান করে কাজে চলে এলাম। তখন কি অভিমান হবে না?অভিমানগুলো জলাঞ্জলি দিয়ে আমার প্রিয় খাবার রান্না করে আমার জন্যে অপেক্ষা করতে থাকলে আর আমি এসে তোমাকে টেনে বাইরে নিয়ে এলাম।তোমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কাছের কোন হাওড়ে নিয়ে গেলাম। নৌকার পাটাতনে তোমাকে বসিয়ে নিজে গলুইতে দাঁড় বাইতে লাগলাম। হাওড়ের মাঝাখানে গিয়ে যদি থামি আর সেই মুহূর্তে যদি ইয়া বড় চাঁদ দেখতে পাও তাহলে... কি তোমার অভিমান কমবে না?উবু হয়ে হাওড়ের বন্য জলে আমাকে ভেজাবে না?
.
ধরো কাজ করতে করতে আমার তোমাকে দেখার খুব ইচ্ছে হলো। দৌড়ে তোমার চেম্বারে চলে এলাম।টিকিট কেটে রুমে ঢুকলাম।তখন কি রেগে যাবে?অসময়ে বিরক্ত করায়? না পেশাদার ডাক্তারের মত জিজ্ঞেস করবে আপনার সমস্যা কোথায়? যদি বলি বুকের বামপাশে..কাছে এসে....স্টেথোস্কোপ দিয়ে টিপে দেখবে না? অন্য রোগীর থেকে কয়েক মিনিট বেশি সময় পাবো না তোমাকে দেখার জন্যে?প্রেসক্রিপশন এ ঔষদের বদলে কি দুষ্টুমি করে লিখে দিবে না "প্রতিদিন সকাল-দুপুর-রাতে ১ টা করে বউকে চুমু খাবেন"?
.
ধরো বছরের একটা বিশেষ দিনে তুমি যখন ড্রেসিংটেবিল এর সামনে চুল আঁচড়াচ্ছো.. হঠাত দেখলে এক জোড়া কানের দুল রাখা.. বেশি দামি হবে না অবশ্যই।মধ্যবিত্ত স্বামীর যেটুকু সাধ্য ততটুকু দিয়েই। দুল দেখে কি অবাক হবে না?আমার কাছে গিয়ে আহ্লাদি স্বরে বলবে না "কি দরকার ছিলো এসবের?"
না হয় খুশিতে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসি বলবে না?না দুল জোড়াকে নিজের অধিকার মনে করে নির্বিকার থাকবে?
.
ধরো ছুটির দিনে তুমি কোমরে আঁচল পেছিয়ে রান্না করছো।আমাদের বাবুটা অন্য ঘরে খেলা করছে। আমি আচমকা এসে তোমার কোমর জড়িয়ে ধরলাম। তখন কি কৃত্রিম রাগ করে বলবে "যাও সরো.. রান্না করছি তো।"? যদি বলো আর আমি রাগ দেখিয়ে চলে যাই,আমার পেছনে চুপিচুপি এসে আমার খোঁচা খোঁচা দাড়িযুক্ত গালে চুমু খেয়ে রাগ ভাঙাবে না?
.
ধরো অঝোরে বৃষ্টি ঝড়ছে। ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলো। তুমি মোমবাতি জ্বালিয়ে আমার পাশে বসলে। আমি যদি তখন অনেক ঝাল দিয়ে ঝালমুড়ি খেতে চাই.. তখন কি খুশি হয়ে বানিয়ে দেবে? না মুখের উপর বলে দেবে "তোমার ইচ্ছা হইছে তুমি বানিয়ে খাও"?
.
ধরো আমার অনেক জ্বর।আমি জ্বরের ঘোরে গোঙাচ্ছি।তুমি কি মাথায় জলপট্টি দিয়ে দিবে?না ঔষধ খাইয়ে ঘুমিয়ে পড়বে?যদি জলপট্টি দাও... তাহলে কি আমার শিয়রে বসে ঠিক আমার মায়ের মতন রাত জাগবে?সারা রাত জেগে ভোরের দিকে আমার কপালে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়বে? যদি ঘুম ভাঙতেই দেখো আমি তোমার দিকে তাকিয়ে আছি তখন কি লজ্জায় মাথাটা সরিয়ে নেবে?
.
ধরো আমি গোসল করে ভুল করে কাপড় না ধুয়ে রেখে এসেছি।এরপর যখন তুমি।গোসল এ গেলে তখন কি নিজের কাপড়ের সাথে আমার কাপড়গুলোও ধুয়ে দেবে?কাপড় থেকে বের হওয়া আমার গায়ের ঘামের গন্ধ তে কি তোমার নোংরা লাগবে? না আমাকে যেমন ভালোবাসবে তেমন আমার গায়ের গন্ধটাও ভালোবাসবে?
.
আচ্ছা ধরো একটা পুঁচকে বাবু আর যুবতী তোমাকে রেখে আমি মরে গেলাম। তখন কি আরেকটা বিয়ে করবে?আমি বলছি,আমার স্মৃতি নিয়ে বসে থেকো না।করে নিও।আমাদের সমাজে কমবয়সী বিধবা মেয়েদের জীবনটা অনেক কষ্টের। আচ্ছা বিয়ে করো কিংবা নাই করো হঠাত করে আনমনে কি আমার স্মৃতি তোমাকে কাঁদাবে? না তুমি তোমার আর আমাদের বাবুটার ভবিষ্যৎ নিয়ে এতই চিন্তামগ্ন থাকবে যে আমার স্মৃতি তোমার মনে কখনো দাগ কাটতে পারবে না?
.....
জানি না নীলা... প্রশ্নগুলোর উত্তর জানি না।জানতেও চাই না।সবসময় চাই তুমি আমার পাশে থাকো... সব সময়।