শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭

অভিমানী বউ

..
--- আমিঃ হ্যালো রূপা!
--- রূপাঃ হ্যাঁ কে বলছেন?
--- আমিঃ ফাজিল বলছি।
--- রূপাঃ আমাকে ফোন করছেন কেন?
--- আমিঃ ফাজলামি করার জন্য আমি
কি একটু ফাজলামি করতে পারি?
--- রূপাঃ না পারেন না। অপরিচিত
কারোর সাথে আমি
কথা বলি না সো রাখি।
--- আমিঃ এই যে প্লীজ রাখবেন না।
আপনাকে না
আমার অনেক প্রয়োজন।
--- রূপাঃ কেনো?
--- আমিঃ ভালোবাসি বলে।
--- রূপাঃ আমি আপনাকে চিনি না
জানিনা সো
ভালোবাসাতো অনেক দূরের কথা।
--- আমিঃ তাহলে আর কি করি অন্য
রূপার খুঁজ করি।
--- রূপাঃ জ্বী তাই করেন বাই।
..
ফোনটা কেটে গেলো। হলোনা
রূপার সাথে কথা। ইশ কি চমৎকার কণ্ঠ!
এইরকম কণ্ঠ যার আছে তার প্রেমেতো
বারবার পরতে হয়। কি ভাবলেন সবাই?
রূপা মেয়েটা আমার অপরিচিত?
আসলে তা না। রুপা আমার কিউট সুইট
বউ রাগ করে বর্তমানে বাপের বাড়ি
আছে। একটু অভিমানী টাইপের মেয়ে।
ওকে নাকি আমি একদম সময় দেই না
সেজন্য ম্যাডাম আমাকে অনেকগুলা
ঝাড়ি দিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে আমার
সামনে দিয়েই আজ সকালে চলে
গেলেন। আর যাওয়ার সময় বলে
গেলেন, ভুলেও যেনো তাকে আর
বিরক্ত না করি। আমিও আর পথও
আটকালাম না। কারণ জানি
আটকিয়ে লাভ নেই তিনি যখন
বলেছেন যাবেন তো যাবেনি। এক
কথার মেয়ে, যাকে বলে
ঘারত্যাড়া। তবে এটাও জানি আজ
রাত ১২টা হলে তিনি আমার কাছে
ফিরে আসবেন। কারণ এই রূপা নামের
মেয়েটা বিয়ের পর অর্থাৎ এই দুই
বছরে একদিনও আমাকে ছাড়া ঘুমাতে
পারেননি। সো এই ব্যাপারে আমি
নিশ্চিত।
..
রাত ৯টা এখন! ভাবলাম অভিমানী
রূপাকে আরেকবার বিরক্ত করা যাক।
তাই ফোন হাতে নিয়ে ফোন দিলাম
ক্রিং ক্রিং ক্রিং ,,,
..
ওপাশ থেকে ,,,
..
--- রূপাঃ হ্যালো।
--- আমিঃ রূপা।
--- রূপাঃ আবার কি?
--- আমিঃ একটু ভালোবাসা।
--- রূপাঃ আমি কি ভালোবাসা
বিক্রি করি যে আপনাকে
ভালোবাসা দিবো!
--- আমিঃ বাসায় আসবেনা।
--- রূপাঃ না আর আসবোনা।
--- আমিঃ রাতে কার কাছে
ঘুমাবে?
--- রূপাঃ একা ঘুমাবো।
--- আমিঃ কার বুকে মাথা রেখে
ঘুমাবে?
--- রূপাঃ বালিশের বুকে মাথা
রেখে ঘুমাবো।
--- আমিঃ যদি বলি এই রাতে
তোমাকে নিয়ে সাড়া শহর
ঘুরে বেড়াবো তাহলে কি আমার
সাথে ঘুরতে বেড় হবে?
--- রূপাঃ না হবো না।
--- আমিঃ আমি জানি হবে। বাসার
সামনে বেড় হও আমি দাঁড়িয়ে আছি।
কোন এক অভিমানী রূপার অভিমান
ভাঙ্গাণোর জন্য হাতে একগুচ্ছ লাল
গোলাপ
নিয়ে।
--- রূপাঃ সত্যি! বাবুটা উম্মাহ। আমি
আসতেছি বাবু।
..
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর দেখি
দরজা খুলে একটা
মেয়ে আসছে। অল্প আলোতে দেখা
যাচ্ছে
কালো একটা শাড়ি পড়া মেয়ে
আমার দিকে এগিয়ে
আসছে। বলতে গেলে দৌড়ে আসছে
একদম
কাছে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো
আর চুমু
খেলো অনেক।
..
--- আমিঃ এই রূপা আমার কিন্তু লজ্জা
লাগছে তুমি এই রাতে এই অবলা
পুরুষটারে একা পেয়ে এভাবে
জড়িয়ে ধর নির্যাতন করতে
পারোনা।
--- রূপাঃ ওরে আমার অবলারে চলো
ঘুরতে হবে।
--- আমিঃ কোথায় ঘুরবো।
--- রূপাঃ সাড়া শহর। এখন যদি না
বলো তাহলে আবার কিন্তু চলে যাব
আমি।
--- আমিঃ আচ্ছা ম্যাডাম চলেন।
দাঁড়ান একটা রিক্সা ডাকি।
--- রূপাঃ না হাটবো এখন। পরে
রিক্সায় উঠবো।
--- আমিঃ এই রূপা তোমার জুতা
কোথায়, তুমি দেখি খালি পায়ে!
--- রূপাঃ তাড়াহুড়া করে আর পড়া
হয়নি চলে এসেছি। শুধু আসার সময়
আম্মুকে কোনরকম বলে এসেছি,
গর্ধবটা এসেছে আমি গেলাম মা।
--- আমিঃ কি আমি গর্ধব?
--- রূপাঃ হুম আমার গর্ধবরাজ। উম্মাহ।
--- আমিঃ তোহ আসলে কেনো এই
গর্ধবের ডাকে?
---- রূপাঃ আমার গর্ধব ডেকেছে আর
আমি না এসে
পারি?
--- আমিঃ হুহ... হইছে। আচ্ছা আমাকে
ছাড়া কি
ঘুমাতে পারতে?
--- রূপাঃ এর আগে কি ঘুমিয়েছি
কখনো?
..
আমি আর কিছু বললাম না। নীরবভাবে
হাত ধরে হাটছি কিন্তু আমি
জানিনা গন্তব্য কি বাসায় নাকি
অন্য কোথাও!
তবে আমার আইডিয়া অনূসারে রূপার
এখন ফুচকা খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করার
কথা।
..
--- রূপাঃ গর্ধব আমাকে কোলে
নিতে পারবা?
--- আমিঃ হাটতে পারছোনা নাকি?
রিক্সা ডাকবো?
--- রূপাঃ বলছি কোলে নিতে
পারবা কিনা।
--- আমিঃ আবার জিগায়! অবশ্যই
পারবো।
..
এই বলেই রূপাকে কোলে তুলে নিয়ে
হাটা শুরু
করলাম। রূপা হাত দিয়ে আমার গলা
জড়িয়ে ধরে
আছে।
..
--- আমিঃ রূপা, তোমার ওজনতো বেশ
বেড়ে
গেছে মনে হচ্ছে।
--- রূপাঃ কি! আমার ওজন বেশি হয়ে
গেছে? নামাও
আমাকে। আমি আর তোমার কোলে
চড়বোনা।
--- আমিঃ হি হি হি আমিতো
নামাবো না।
--- রূপাঃ এই গর্ধব! আমি আইসক্রীম
খাবো।
--- আমিঃ এই ঠান্ডার মধ্যে?
--- রূপাঃ হ্যাঁ ঠান্ডার মধ্যে। যাও
একটা কোণ
আইসক্রীম নিয়া আসো।
--- আমিঃ আমি কি তাহলে চেয়ে
দেখবো?
--- রূপাঃ হ্যাঁ দেখবা।
..
অতঃপর রূপাকে কোল থেকে
নামিয়ে গেলাম
আইসক্রীম আনতে। নিয়ে এসে বললাম
,,,
..
--- আমিঃ এই নেন আপনার আইসক্রীম।
--- রূপাঃ দাও। আর চেয়ে চেয়ে
দেখো আর
আমি খাই। হি হি হি।
..
আমি জানি রূপা আমাকে দিয়ে
একটা আইসক্রীম
আনিয়েছে। সে চায় আমরা যেকোন
জিনিস ভাগাভাগি
করে খাই। এর আগেও বহুবার একটা
আইসক্রীম
দুজন খেয়েছি। তারপর রূপা অল্প
খাওয়ার পর বলল ,,,
..
--- রূপাঃ এই নাও তুমি খাও পরে কিন্তু
আবার আমাকে
দিবা।
..
রূপাকে আবার কোলে তুলে হাটা শুরু
করলাম। রূপা
খাচ্ছে আবার আমাকে খাওয়াচ্ছে।
..
--- আমিঃ রূপা!
--- রূপাঃ কি?
--- আমিঃ বাসায় চলো।
--- রূপাঃ আরেকটু পর যাই প্লীজ
বাবুটা। ভালো
লাগছে তোমার কোলে।
--- আমিঃ আচ্ছা আরেকটু পরেই যাই।
..
হাটতে হাটতে পা ব্যাথা হয়ে
গেলো কিন্তু এই
ব্যাথার মধ্যেও অন্যরকম একটা আনন্দ
পাচ্ছি। এই
আনন্দটা পাওয়ার জন্য সাড়া জীবন এই
রকম ব্যাথা
পেতে রাজী আমি।
.

এমন স্ত্রী সবার কপালে জুটেনা.

আফনান, রিয়াজ ও সিয়াম তিন বন্ধু। কলেজ পাশ করে ওরা সবাই আলাদা হয়ে যায়। 
আফনান ভার্সিটিতে ভর্তি হয়। পড়াশোনা শেষ করে ভাল বেতনের একটা চাকরি পায়। তারপর ভালবেসে সুন্দরী এক মেয়েকে বিয়ে করে।
রিয়াজ কলেজ পাশ করে আর পড়াশুনা করেনি। বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়েকে বিয়ে করে এখন ঘরজামাই থাকে। 
আর সিয়াম বিকম পাশ করার পর ছোট একটা চাকরি পায় তারপর মা বাবার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে।
.
প্রায় বারো বছর পর একদিন সেই তিন বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায়। এতকাল পর দেখা, তাই তিনবন্ধু মিলে সুখ দুঃখের আলাপ করতে লাগলো..! যেহেতু তিনজনেই এখন বিবাহিত। তাই গল্প করতে করতে একটা পর্যায়ে ওরা নিজেদের বৌ নিয়ে কথা তুললো। কার বৌ কেমন..!? কার বৌ কতটুকু ভালবাসে তার হাজব্যান্ডকে...!?
.
তো প্রথমে আফনান বলতে লাগলো...
"তোদের ভাবী তো যথেষ্ঠ সুন্দরী। ভালবেসে বিয়ে করেছি আমরা। একেবারে আধুনিক একটা মেয়ে। জাষ্ট অসাম। আমি যখন তোদের ভাবীকে নিয়ে বাইরে বের হই, ওকে দেখে সবাই প্রশংসা করে। তোদের ভাবী আমাকে এতটা ভালবাসে যে, বলে শেষ করা যাবেনা। এই যেমন, আজ সকালে যখন ঘুম থেকে উঠতে গেলাম, ও আমাকে ঘুম থেকে উঠতেই দিলোনা। বললো... সারাদিন কত কষ্ট করো, আরো একটু ঘুমাও। এত তাড়াতাড়ি উঠতে হবেনা। ও এত রোমান্টিক যে, প্রায়ই ওকে নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে রোমান্টিক মুভি দেখতে হয়। ভালবাসায় ভরপুুর আমাদের সংসার।"
.
তারপর রিয়াজ বলতে লাগলো...
"তোদের ভাবী একজন শিক্ষিতা মেয়ে। দেখতেও অনেক সুন্দরী। বাবার একমাত্র আদরের মেয়ে। সে একটা কোম্পানিতে জবও করে। তোদের ভাবী আমাকে এত ভালবাসে যে, ওর বাবার বাড়িটা আমার নামে লিখে দিয়েছে। ঐ বাড়িতেই আছি এখন। আমাকে ও চাকরিও করতে দেয়নি। ও বলে, তুমি শুধু ঘরের কাজ করবা আর বাচ্চা কাচ্চা দেখাশোনা করবা। আমি বাসার কাজবাজ করি, খাই আর ঘুরে বেড়াই। হাহাহাহাহা..!"
.
সবশেষে সিয়াম বলতে লাগলো...
"আমার স্ত্রী তোদের স্ত্রীর মতো আধুনিকও না, স্মার্টও না। আমার স্ত্রীর সৌন্দর্য্যের প্রশংসা শুধু আমাকেই করতে হয়। কারন আমাকে ছাড়া তার সৌন্দর্য্য আর কাউকে দেখাতে সে নারাজ। তাই সে পর্দা ছাড়া ঘর থেকে বাহির হয়না। আমার প্রতি আমার স্ত্রীর ভালবাসা তোদের স্ত্রীদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আমার প্রতি আমার স্ত্রীর ভালবাসা শুধু এই পৃথিবীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ও কি বলে জানিস..!? ও বলে... 'তোমাকে আমি এতোটাই ভালবাসি যে, পরকালেও আমি তোমাকে চাই। দুনিয়াটা তো দুইদিনের, এই দুইদিনের দুনিয়ায় তোমাকে ভালবেসে কি মন ভরে বলো..!? তাই যে জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নাই সে জীবনে আমি তোমাকে পেলে, আমার চাওয়ার আর কিছুই থাকবেনা।'
আমি ফজর নামাজের সময় নামাজ পড়তে যখন অলসতা করি, ঘুম থেকে উঠতে চাইনা, ও আমাকে ঘুমাতে দেয়না। ও আমাকে জোর করে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়, তারপর নামাজ পড়তে বলে। মোটকথা ও আমাকে এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা করতে দেয়না। ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে দুহাত তুলে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমার মঙ্গল কামনা করে। ও আল্লাহর কাছে একটা জিনিসই চায়। আর তা হলো.... 'হে আল্লাহ, আমি যেন আমার স্বামীকে সঙ্গে করে বেহেস্তে যেতে পারি। আর কিছুই চাইনা আমি তোমার কাছে।' 
আমি শুকরিয়া আদায় করি আল্লাহর দরবারে। এমন একজন স্ত্রী পেয়েছি আমি..!"
.
সিয়ামে মুখে কথাগুলো শুনে আফনান ও রিয়াজ যেন স্তব্ধ হয়ে গেল..! ওরা কোনো কথাই বলতে পারলোনা। যার স্ত্রী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে স্বামীর জন্য দোয়া করে, তার মতো ভাগ্যবান আর কেউ হতে পারেনা। আফনান ও রিয়াজ বুঝতে পেরেছে যে, ওদের স্ত্রীর সাথে সিয়ামের স্ত্রীর কোনো তুলনাই চলেনা।
আসলেই বর্তমান সময়ে সিয়ামের স্ত্রীর মত একজন পরহেজগার স্ত্রী সব পুরুষের কপালে জুটেনা..!?

"মেঘ বৃষ্টি ও ভালবাসার গল্প"

মেঘার সাথে আমার প্রথম দেখা আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে।
কোন এক পড়ন্ত বিকেলে সূর্য যখন প্রায় ডুবতে যাচ্ছে ঠিক এমন সময়ে ক্লাস শেষ করে বাসায় আসছিলাম।
.
.
এমনিতেই সারাদিনের ক্লাসের চাপে প্রচন্ড টায়ার্ড।
বাসে একটি সিট পেতেই বসে পরলাম।
পাশে একটি মেয়ে বসেছিল।
বাসের হেল্পার যখন ভাড়া নিতে আসল তখন আমি ভাড়া দিয়ে দিলাম।
.
.
কিন্ত পাশের মেয়েটি বলল ভাড়া পরে নিতে।
হেল্পার চলে গেলে মেয়েটি ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছিল। কথা-বার্তা থেকে বুঝলাম ওর কাছে কোন টাকা নেই।
.
আমি সাধারণত অপরিচিত কারও সাথে যেচে পড়ে কথা কখনই বলি না।
কিন্তু ফোন রাখার পর আমি ওকে বললাম যে ভাড়া নিয়ে কোন টেনশন না করতে।
আমি দিয়ে দিব। সাথে সাথে ও আমার সাথে ঝগড়া করা শুরু করে দিল। কেন আমি তার ভাড়া দিব, আমার কি ঠেকা পড়েছে এই নিয়ে বিশাল প্যানপ্যানানি শুরু করল।
.
.
এমনিতেই খুব ক্লান্ত ছিলাম তাই আর কোন কথা না বলে ওকে সরি বলে সিটে মাথাটা এলিয়ে দিলাম।
কিছুক্ষণের মধ্যে বোধ হয় হেল্পার এল এবং বিশাল জোড়ে চিল্লাচিল্লি করা শুরু করল। সামনের সিট থেকে উতসুক কয়েকজন উঠে এল এবং নানাকথা বলতে লাগল। পাশে তাকিয়ে দেখি প্রচন্ড শক্ত মেয়েটা লজ্জায় একেবারে চুপসে গিয়েছে।
.
.
আমি আর কোন কথা না বলে হেল্পারকে ১০ টাকা দিয়ে দিলাম। সারা রাস্তায় ও আরেকবারও একটি কথাও বলল না।
মনে মনে বললাম কি রকম দেমাগ মেয়ের!
একটা ধন্যবাদও দিল না।
দুনিয়া বড়ই আজীব।
পরের স্টপিজে ও যখন নামতে নিল তখন হঠাত করেই বলল- আপনার মোবাইল নম্বরটা দিন।
টাকা ফ্লেক্সি করে দিব।
আমি তাকে আমার মোবাইল নম্বরটা দিয়ে দিলাম।
.
.
সেদিন রাতেই আমার মোবাইলে ১০ টাকা চলে আসল। টাকা পাওয়ার সাথে সাথে মনে মনে হেসে উঠলাম।
কয়েকদিন পরের ঘটনা। আমি এক দিন একা হাটতে হাটতে বই মেলায় চলে এসেছি।
চারদিকে অনেক তরুন-তরুনী। প্রত্যেকটা সেকেন্ডে আমার অনুভূতি তখন চেঞ্জ হচ্ছিল।
একবার মনে হচ্ছিল একা এসে চরম বোরিং লাগছে।
ফ্রেন্ডদের নিয়ে আসলে অনেক ভাল হত। আবার মনে হচ্ছিল একা এসে ঠিকই করেছি।
আমার আবার পুরা পাগলা রোগ ধরেছে।
.
.
যেই দৃশ্যই দেখি কেন যেন মনে হয় এটাই আমি কিছুদিন আগে স্বপ্নে দেখেছি! হঠাত করে পকেটের মোবাইলে রিং বেজে উঠল।
সম্পূর্ণ অপরিচিত এক নম্বর। ফোন টোন রিসিভ করতে এক-দম ইচ্ছে করছিল না। তাও করলাম। ওপাশ থেকে এক মেয়ে কন্ঠ প্রথমেই জিজ্ঞাস করল আমি ব্যস্ত কি না!! ফোন করলে মানুষ হাই হ্যালো এসব বলে। কিন্তু ব্যস্ত কি না এটা জিজ্ঞাস করতে এই প্রথম দেখলাম। আমার ইতস্তত দেখে ওপাশ থেকেই বলল যে ও ওই বাসের মেয়েটা।
.
.ওই ঘটনা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। যাই হোক, কিছুক্ষণ কথা হল। হঠাত করে ও বলল ও বইমেলায়। পুরাই টাস্কি খেয়ে গেলাম।
তারপর ওকে আমার অবস্থানের কথা বললাম। ও সব কিছু জেনে আমাকে ৪ মিনিট বট-বৃক্ষের মত দাড়ায়ে থাকতে বলল। আমি তার আদেশ পালন করতে লাগলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই মনে হল আমার এই উসকো চেহারা দেখলে ও তো দৌড়ে পালাবে!
.
.
তাও কথা যেহেতু দিয়েই ফেলেছি সেহেতু থাকতেই হয়। ও এসে উপস্থিত হয়েই আমার চেহারার করুণ অবস্থা নিয়ে প্রচন্ড বড় বক্তৃতা দেওয়া শুরু করল। আরে বাপ, একজন আরেকজনের নামই জানি না তাতেই এত কিছু! আরও কথার মাঝখানে তার নাম পরিচয় নেওয়া হল। কথা থেকে বুঝলাম দুইজনই বই পাগল। সেখান থেকেই শুরু।
.
.
কি এক অজানা বাধনে বাধা পড়লাম। না পারলাম বাধনটাকে কাটতে না পারলাম ভেঙ্গে ফেলতে।
.
.
প্রতিদিনই বই মেলায় আসা। মেলার সব বই নিয়েই আমাদের দীর্ঘ গবেষণা।
কোন বইয়ে কি ভাল কি লেখলে আরও বেশি ভাল হত এসব নিয়ে আমাদের যুক্তি তর্কের কোন শেষ হত না।
.
.
আমার প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ আর ও ক্লাসিকেল বই বেশি পড়ত। এসব নিয়ে আমাদের যুক্তি আর ঝগড়া ছিল নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার।
.
.
ও যুক্তিতে হেরে গেলে যে কি প্রচন্ড মন খারাপ করত। ওর মন খারাপ করা দেখে আমিও ইচ্ছে করে ওর সাথের যুক্তিতে হেরে যেতাম। ও যে ঠিকই বুঝে নিত ওর কাছে হেরে যেতে আমার ভাল বই খারাপ লাগে না এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই!!
.
.
আমরা একই ভার্সিটিতে পড়তাম(ডিপার্টমেন্ট আলাদা)। আমাদের দুজনকে নিয়ে ফ্রেন্ড সার্কেলে প্রায় সব সময়ই আলোচনার ঝড় উঠত।
ফ্রেন্ডগুলাও যে কি রকমের! আরেক জনের প্রেম সহ্য করতে পারে না। আড়ালে আবডালে কত কথা।
অবশ্য আমরা এসব কথার নিকুচি করতাম।
যত্ত সব আতেলগিরি!! আমরা আমাদের মতই সময় কাটাতাম। সময় পেলেই রিকশা করে ঘুরে বেড়ানো।
.
.
রিকশা দিয়ে ঘুরাও যে চরম রোমান্টিক তা আমি মেঘার কাছে থেকেই প্রথম জেনেছি!
নাম মেঘা দেখেই ও মনে হয় বৃষ্টির জন্য পাগল।
আমিও যে ভিজতে খুব অপছন্দ করি তাও না। তবে বৃষ্টি হলে মেঘার আর কোন কথা নেই। বৃষ্টিতে তার ভিজা লাগবেই। আর তার সঙ্গী হওয়া লাগে এই আমাকে।
.
.
এই বৃষ্টিতে ভেজা নিয়ে কত ঝগড়া হয়েছে তার সাথে। একবার তো প্রায় রিলেশন ভেঙ্গে যাওয়ারই উপক্রম হয়েছিল!! সেবারের মধুর ঝগড়া শুরু হয়েছিল অনেক ছোট্ট একটা কারণে- একদিন সকাল থেকে প্রচন্ড মেঘে আকাশ ঢেকে গিয়েছিল। আমার সাত সকালের কঠিন ঘুম পাগলীটা। সেদিন আমাকে নিয়ে বৃষ্টিতে কই কই কিভাবে ভিজবে তার দীর্ঘ বর্ণনা করতে লাগল। আমার প্রচণ্ড ঠান্ডা লেগেছিল। কিন্তু, এটা জানতে পারলে পাগলীটা মনে অনেক কষ্ট পাবে তাই আর কিছু না বলে পাগলীর সাথে প্রায় সারাদিনই বৃষ্টিতে ভিজলাম। ফলে যা হওয়ার তাই হল। বাসায় ফিরলাম ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে। পরদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি বাসায় প্রচণ্ড কান্নার শব্দ। তাকিয়ে দেখি পাগলী বাসায় এসে হাজির। ফ্রেন্ডদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বাসায় এসে হাজির। আমি কেন তাকে বলি নি আমার সেদিন ঠান্ডা লেগেছিল সেটা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে লাগল। কেমনে কেমনে আমার আম্মুকেও পটিয়ে ফেলল! যদিও সে সেদিন বাসা থেকে অনেক খাবার রান্না করে নিয়ে আসল। খেতে যে কত অসাধারণ হয়েছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষত আমার আম্মু যখন অন্য রুমে গেল সে তখন আমাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতে লাগল। কেন যেন তখন মনে হল জ্বর হয়ে তো অনেক ভালই হয়েছে।
তার সাথে আমার যত ঝগড়া হয় অন্য জুটির মধ্যে বোধ হয় এত ঝগড়া হয় না। উফফ!! বিয়ের পর বাচ্চা কাচ্চা হলে কি নাম হবে, প্রথম বাচ্চা ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা নিয়ে কত ঝগড়া! কে কাকে বেশি ভালবাসে এসব নিয়ে ঝগড়ার কোন শেষ হয় না। ভালই লাগে এসব মধুর ঝগড়া গুলো।
আজকে আবার ভ্যালেন্টাইন ডে। বিশেষ দিন। এই দিনে সেজেগুজে ওই মহারানীর জন্য দশটা লাল গোলাপ কিনে নিয়ে যেতে হবে। একটা জিনিসই বুঝি না ভালবাসার জন্য আবার বিশেষ দিনের কি দরকার!! যত্তসব। তাও মহারাণীর হুকুম যখন মানতে তো হবেই।

এ জগৎতের কিছু কথা

--আনফেন্ড করার কি খুব দরকার
ছিলো (আমি)
--কে আপনি? (অজানা কেউ)
--চিনতেই পারছেন না!
--না।
--তবে প্রথম থেকে ম্যাসেস গুলো পড়ার
অনুরোধ করছি আপনাকে।
--সরি (কিছুক্ষণ পর)
--সরি কেন?
--কারণ আমি আপনার সাথে কোনোদিন কন্টাকে আসি নাই।
--তবে এগুলো কে করছে?
--আমার আইডি হ্যাক হয়েছিলো তখন হয়তো কেউ আপনাকে ফেন্ড রিকো দিয়ে
কন্টাকে ছিলো আপনার সাথে।
--ও ঠিক আছে ভালো থাকবেন।
.
আমি শুভ।আর সাথে কথা বললাম সে হলো
আমার এক ফেইজবুক ফেন্ড।এখন ফেইজবুক ফেন্ডবুক ফেন্ড বললে ভুল
হবে সে আমাকে আনফেন্ড করেছে সেহেতু
ফেন্ড না।
মূল কথা আসি।এখন হয় তো অনেকে গল্পের লেখক হিসাবে
চিনে আমাকে কিন্ত একসময় আমি গল্প লিখতাম
না মাঝে মাঝে কবিতা লিখতাম।
তখন আমার ফেইজবুক আইডির নাম ছিলো
নিশ্চুপ বালক।
প্রায় আনুমানিক ৫-৬ মাস আগের কথা
বলছি,এসময় একটা আইডি থেকে রিকোয়েস্ট আসে আর আইডির নাম
নিশ্চুপ বালিকা।
কি মজার ব্যপার আমার আইডির নাম
নিশ্চুপ বালক আর তার আইডির নাম
নিশ্চুপ বালিকা হা হা।
.
যাইহোক রিকোয়েস্ট দিয়েছিলো তার দুদিন
পর কনফার্ম করি।
সাথে সাথে ম্যাসেস আসে...
--হাই..বালিকা
--রিপলাই দেই নাই
--হ্যালো কিছুক্ষণ পর।
--বলেন?..আমি
--আপনার আইডি দেখে ভালো লাগলো তাই
রিকোয়েস্ট দিয়েছি এবং ম্যাসেস করলাম।
--ভালো।
--আপনার আইডির নাম নিশ্চুপ কেন বলবেন?
--হুম।সবসময় নিশ্চুপ থাকি মানে কথা কম বলি সেজন্য।
--আপনাকে কি নিশ্চুপ কেউ বানিয়েছে নাকি??
--জ্বী না।এটা আমার ছোট বেলার অভ্যাস।
--ও তাহলে ভালো।
.
আমি তখন কারো সাথে বেশী কথা বলতাম
না।যদি কেউ এক বা একাধিক ম্যাসেস
সেন্ড করতো তখন তার রিপলাই দিতাম।
নিশ্চুপ বালিকার ব্যপারে ও তাই।
.
--হ্যালো..বালিকা
--বলেন..আমি
--আপনি সত্যি অনেক নিশ্চুপ।
--ততোটা না।
--আমার ফেন্ড হবেন?
--ফেন্ড তো হয়েই আছি।
--ধন্যবাদ।
--স্বাগতম।
.
এভাবে প্রায়ই কথা হতো আমার আর নিশ্চুপ বালিকার সাথে।যদিও আমি কোন সময়
আগে ম্যাসেস সেন্ড করতাম না প্রত্যকবার
বালিকা আগে ম্যাসেস করতো।
.
যাইহোক অনেক দিন বালিকার কোন ম্যাসেস নেই।আমি ও উপর দিয়ে কোন ম্যাসেস
করলাম না কি লাভ মায়া বাড়িয়ে।
.
অনেকদিন হয়ে গেল বালিকাকে অনলাইনে
পাওয়া যায় না।
একদিন বন্ধুদের পুরাতন ম্যাসেস দেখতেছি
হঠাৎ দেখলাম পুরাতন ম্যাসেসের মধ্যে
কোন এক মেয়ের নাম (নামটা গোপন রাখলাম)
আমিতো অবাগ আমি এ নামের মেয়ের
মেয়ের সাথে কোনদিন চ্যাট করি নাই।
তবে এ মেয়ের নাম আসলো কোথা থেকে!
বলে রাখি ততোদিনে আমি ও আইডির
না পরিবর্তন করে ফেলেছি,নিশ্চুপ বালক
থেকে মোঃ জসিম উদ্দিন শুভ।
আইডির ম্যাসেস অপশনে প্রবেশ করে দেখলাম,আরে এটা তো সেই নিশ্চুপ বালিকা জাস্ট আইডির নাম পরিবর্তন করা।
আরো দেখলাম আমাকে আনফেন্ড করা
দেখাছে।তারপর বাকি কথ্যকথন তো সবার
উপরেই দেওয়া আছে।
বলছি এটা কোন বানানো ঘটনা না সেজন্য এখানে কোন
আবেগ-অনুভুতি নাই।
.
মোরাল অফ দ্যা স্টোরি--এ জগৎতে কারো
উপর মায়ায় জড়ালেন তো নিজের পায়ে
নিজেই কোড়াল মারলেন।
যদি ভাবেন না এটা মায়া না জাস্ট টাইম
পাস তবে বলবো টাইমপাস মুখে বলতেছেন
এক সময় মন থেকেই তাকে মিস করতে
থাকবেন হা হা।
এ র্ভারচুয়াল জগৎতে কাউকে বিশ্বাস করতে
নাই,করলেন তো কচু গাছের ফাঁসি নিলেন
হা হা।জানেন কথা গুলো তেতো হলেও
সত্য।মানুষকে কাছ থেকেই চেনা যায় না
আর দুর থেকে চিনবেন কি করে।
মেয়েদের বলছি কারো মিষ্টি মধুর কথা শুনে হয়তো তোমাদের কত সুইট সুইট (বুঝতে কোন পিকের কথা বলছি)পিক গুলো দিয়ে দাও সত্যি অবাগ লাগে।যাইহোক এ র্ভারচুয়াল জগৎতে কারো উপর নির্ভরশীল হবেন না কাউকে হতেও দিবেন না।সর্বশেষে একটা কথা বলি সেই নিশ্চুপ বালিকাকে,যদি পোষ্টটা আপনার নজরে পরে তাহলে আপনি কিছু মনে করবেন না।
কারণ এই ব্যপারটা আমার কাছে ফানি
মনে হইছে তাই লেখার মাধ্যমে তুলে ধরেছি মাএ।

বৃষ্টিস্নান

বৃষ্টি হলেই তাহমিনার পাগলামু শুরু হয়। তাছাড়া যে পাগলামু করেনা তা কিন্তু নয়। কিছু কিছু জিনিষ দেখলে তাহমিনার মাথা ঠিক থাকেনা। যেমন চুড়ি দেখলেই লাগবে। লাগবে মানে লাগবেই। না কিনে দিলে বাচ্চা মেয়েদের মতো কাঁদে আর বলে, বুঝি তো সব বুঝি। এখন আর আমার আবদার পূরণ করতে কারো ভাল লাগেনা। আগে কেউ খুব বলতো আমাকে সারাজীবন ভালবাসবে। আসলে এগুলো বলে আমাকে আঘাত করে আরকি! চুড়ি কিনে দিলে বলবে, আমি কি করবো? রাস্তার পাশে লোকেরা চুড়ি নিয়ে বসে কেনো? আমি হাসি। তাহমিনার হাসির কাছে পৃথিবীর সব সুন্দর্য হার মানে। আর আমি সেই হাসি নষ্ট করতে পারিনা।
.
তাহমিনার সাথে আমার অফিসেই পরিচয় হয়। প্রথম দিনই হাসির জালে ফেঁসে গিয়েছিলাম। কোন কাজ না থাকলেও বারবার ডাকতাম। আসলে হেনতেন একটা কিছু বলে দিতাম। কিছুক্ষণ পর আবারো ডাকতাম। তাহমিনা মনে মনে রাগ করতো মনে হয়। কিন্তু কিছু বলতে পারবেনা কারণ আমি বস। লাঞ্চের সময় প্রায় সবাই অফিস থেকেই খেয়ে নিতেন। কিন্তু তাহমিনা বাড়ি থেকে রান্না করে নিয়ে আসতো। মাঝে মাঝে আমাকে বলতো একসাথে খেতে। একদিন দুদিন করে পরে প্রতিদিনই তাহমিনা রান্না করে আনতো আর আমি লাঞ্চ তাহমিনার হাতের রান্না দিয়েই করতাম। আর বলতাম, আপনার মতো কাউকে পেলে কবেই বিয়ে করে ফেলতাম। কমপক্ষে এরকম সুস্বাদু রান্নার জন্য।
.
তাহমিনা মুচকি মুচকি হাসতো। শুক্রবারে তো আর খাওয়া হতোনা। এজন্য তাহমিনার বাড়িতে গিয়ে খেয়ে আসতাম। আমি এমনি এমনি যেতাম না কিন্তু। আমাকে অবশ্যই আমন্ত্রণ করতো। তাহমিনার সাথে কদিন চলতে চলতে আমার কাছে মনে হতো তাহমিনা আমার বিয়ে করা বউ। ভালবেসে ফেলেছিলাম তাহমিনার সব কিছুকেই। তাহমিনার হাসি, বাচ্চাদের মতো কান্না, কাজল কালো চোখ, হাঁটার স্টাইল, চলার স্টাইল, কথা বলার স্টাইল সবছিকেই। ভয় পেতাম ভালবাসার কথা বলতে। একদিন হঠাৎ সাহস করে বলেই দিয়েছিলাম, তোমার হাতের রান্নার জন্য হলেও তোমাকে চাই। ঐদিন লাঞ্চের সময়েই বাসায় চলে এসে পরেছিলাম লজ্জায়। তাহমিনা কিছু বলেনি। তারপরের দিন বললাম, আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। তাহমিনা তখনও কিছু বলেনি।
.
এরপর থেকে তাহমিনাকে পটাতে কি না করেছি! তবুও যদি মেয়েটার মন গলতো। কত কবীর কবিতা চুরি করেছি, কত গীতিকারের কথা চুরি করেছি। তবুও কাজ হয়না। বলতাম সারাজীবন খুব খুব ভালবাসবো। যত ঝড় ঝাপটাই আসুক না কেন। বিশেষ করে এই কথাটা খুব বেশীই বলতাম যার জন্য এখন একটু অভীমান,রাগ হলেই এই কথা বলে। একদিন আমার কথার উত্তরে বলেছিলো, আমি একজনকে ভালবাসি। কথাটা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ বাসায় চলে আসছিলাম। অফিস যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এক সপ্তাহ অফিসে যাইনি। ফোন বন্ধ ছিলো। এক সপ্তাহ পরে ফোন খোলা মাত্রই তাহমিনার ফোন। ইচ্ছে হচ্ছিলোনা ফোন তুলতে। অনেক গুলো মেসেজ দিয়ে রেখেছিলো তাই ধরেছিলাম।
.
বলেছিলো, আমি মিথ্যে বলেছিলাম। এজন্য আপনি এমন করবেন? যত যাই বলুন আমি বিয়ের আগে প্রেমটেম করতে পারবোনা। আমার অনেক বান্ধবী বিয়ের আগে প্রেম করেছে পরে তাদেরকে ছেড়ে চলে গিয়েছে প্রেমিকরা। সত্যিই ভালবাসলে বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিন। খুশিতে নাচতে নাচতে খাট ভেঙ্গে ফেলেছিলাম প্রায় সেদিন। তার কিছুদিন পরেই তাহমিনা আমার ঘাড়ে ঝুলে পরেছিলো। ইয়ে মানে আমিই ঝুলিয়ে নিয়ে ছিলাম। যত মিষ্টি মেয়েই হোকনা কেন। বেশী রাগ হলে তুই করে বলতেও ছাড়েনা। পরে অবশ্য তুই করে বলার জন্য নিজেই কাঁদে। সবচেয়ে বেশী খারাপ লাগে যখন খাওয়ার সময় তাহমিনা পাশে থাকেনা। রাগ হলে চুপ করে লুকিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায় একা একা। 
.
ফোন দিয়ে যদি বলি, বাসায় আসো আমার একা একা ভাল লাগছেনা। তখন তাহমিনা বলে, আমি কি আপনার বিয়ে করা বউ ? আমি তো আপনার বিয়ে করা রাঁধুনী। তারপর আমাকেই গিয়ে নিয়ে আসতে হয়। মেয়ে মানুষ রাগ করে চলে গেলে আবার একা একা আসবে এটা কেমন দেখায়! আর তখনই চুড়ির বায়নাটা ধরে। চুড়ি না নিয়ে গেলে আমার সাথে আসেনা। ছোট ছোট আবদার গুলো পূরণ করার মাঝে ভালবাসার পূর্ণতা লুকিয়ে থাকে। চাঁদনী রাত থাকলে আমাকে কবিতা নাহয় গান শুনাতেই হয় নাহলে বলে, রান্না করবোনা বলে রাখলাম। না শুনালে সত্যি সত্যি রান্না করেনা। আমি অবশ্য মাত্র দুই লাইন গেয়েই রেহাই পাই। 
.
চাঁদেরও আলো দিয়ে মুখখানি দেখবো.… পেয়ে নাকো লজ্জা খুব কাছে রাখবো। এটুকু শুনালেই খুব খুশি হয়। শুক্রবারে তাহমিনা ঘুমায় আর আমি বেশ মজার মজার রান্না করি ইয়ে মানে শুধু ডিম ভাজী! নাস্তা ডিম ভাজী দিয়েই দুজনের করতে হয়। দূপুরে সাধারণত বাহিরে খাওয়া হয়। কারণ শুক্রবার রাজরাণীর জন্য বরাদ্দকৃত। এক সপ্তাহে একদিন ঘুরাতে নিয়ে যেতেই হবে। নাহলে ঐযে বাপের বাড়ি চলে যায় আর আমার একা একা রান্না করে খেতে হয়। সন্ধায় বাসায় ফিরে অবশ্য তাহমিনাই রান্না করে। শেষ রাতে ঘুম ভাঙ্গলে বায়নে করে ফাঁকা রাস্তায় হাঁটবে। ব্যাস্ত শহর তখন নীরব থাকে। কোন শব্দ নেই, শান্ত পরিবেশ। আমারও হাঁটতে ভাল লাগে।
.
বসন্ত এসে গিয়েছে। আবহাওয়া দুষ্টু মিষ্টি। কখনো রোদ কখনো আকাশ মেঘে কালো। সব মিলিয়ে উপভোগ করার মতো একটি মাস। আজকে অনেক বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির জন্য অফিসে যাওয়া হলোনা। বৃষ্টি হলে তাহমিনাকে খুব মিস করি যদি পাশে না থাকে। আজও তেমনটি হলো। তাহমিনা বাপের বাড়ি। হঠাৎ তাহমিনার মা ফোন করেছে তাই গিয়েছে। আজকে আমার সাথে থাকলে নিশ্চিত বায়না ধরতো বৃষ্টিতে ভিজবে। আমি বৃষ্টিতে ভিজি খুব কম। ছোট বেলায় খুব ভিজতাম। এখন গা'য়ে হালকা ঠান্ডা পানি লাগলেই জ্বর আসে। তাহমিনাকে ফোন দিলাম। তাহমিনা ফোন রিসিভ করে বললো, ফোন দিলে কেনো? আমি কথা বলবোনা। এখন আমার কথা মনে হলো? সারা সকাল যে বৃষ্টি হলো।
.
আমি বললাম, তোমাকে আবার মাঝে মাঝে মনে হয় নাকি? তুমিই আমার মন। সারাক্ষণ আমার সাথেই থাকো। কিন্তু ফোন দিলেই কি? তুমি তো আমার কাছে নেই। তাহমিনা বললো, তাতে কি? তোমার সাথে কথা তো বলতে পারতাম। বৃষ্টি পরছে, রিমঝিম শব্দ, তুমি আর আমি গুনগুন করছি। কত্ত ভাল হতোনা? আমি ফোন কেটেই রওনা দিলাম। বৃষ্টি থেমে গিয়েছে অনেক আগে। দিনের যে হাল রাতে আবার বৃষ্টি হবে মনে হয়। বিকেলেও হতে পারে। আর এমন দিন তাহমিনাকে ছাড়া একদমই চলেনা। মার্কেটের দোকানপাট এক এক করে খুলছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কিছু চুড়ি কিনলাম। তাহমিনাকে খুশি করতে আর কিছু লাগেনা। টিপটিপ বৃষ্টি পরা শেষ হয়েছে। 
.
আমাকে দেখে তাহমিনা অনেক খুশি হলো। বললাম, তোমাকে ছাড়া আর থাকা যাচ্ছেনা তাই নিতে এলাম। তাহমিনা বললো, দাঁড়াও চুড়িগুলো পরে আসি দেখি কেমন দেখায়। তারপর খাওয়াদাওয়া করে যাবো ঠিকাছে? আমি মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলাম, হুম। তাহমিনা চুড়ি পরে এসে আমার সামনে হাত নাড়াচ্ছে। আর বলছে, অনেক সুন্দর হয়েছে না? খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাসার দিকে রওনা দিলাম। রিক্সায় আসতে আসতে বললাম, এই শুক্রবারে আর ঘুরতে যাওয়া লাগবেনা। না মানে আজকেই তো ঘুরা হয়ে যাচ্ছে। তাহমিনা আগুন চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, কেনো আমার সাথে ঘুরতে তোমার ভাল লাগেনা বুঝি হুম? আমি ঠোঁট বাকা করে বললাম, কেনো লাগবেনা অবশ্যই লাগে।
.
বিকেলে ঠিকই বৃষ্টি এলো। আমি কম্বলের নীচে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম আর তাহমিনা খিচুরি রান্না করতেছিলো। বৃষ্টির দিন খিচুরি আহা সেই মজা। বৃষ্টি নামার সাথে সাথেই দৌড়ে এসে বললো, এই মিষ্টার বৃষ্টি হচ্ছে। আমি উঠে বললাম, হুম তো আমি কি করবো? তাহমিনা রেগে বললো, কি করবে মানে? কোলে নাও এক্ষণি, নিয়ে ছাদে যাও বৃষ্টিতে ভিজবোনা? আমি বললাম, হুহ তোমার ইচ্ছে হলে তুমি গিয়ে ভিজো আমার জ্বর আসে। তাহমিনা কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো, নিবেনা কোলে? বৃষ্টিতে ভিজবেনা? এই তোমার সারাজীবন ভালবাসার নমুনারূপ? খিচুরি রান্না করতেছিলাম তোমার জন্য আমি এখন খিচুরি ফেলে দিবো খাওয়াবোনা তোমায়। বলে রুম থেকে বেরোবার জন্য পা বাড়ালো।
.
আমি বললাম, ঐ পাগলী দাঁড়াও। বলেই কোলে নিলাম। যদিও জানি নিশ্চিত রাতে আমার জ্বর আসবে আর কালকে অফিসে যাওয়া হবেনা। তাহমিনা লজ্জা পাচ্ছে। হাত দিয়ে চোখ লুকাচ্ছে। ছাদে গিয়ে তাহমিনাকে নামালাম। দুই হাত দুই দিকে ছেড়ে ঘুরছে আর বৃষ্টিতে ভিজছে। আমি এক কোণে দাঁড়িয়ে তাহমিনাকে দেখছি। মেয়েদের বৃষ্টিতে অপরুপ লাগে। গাল দিয়ে পানি বেয়ে পরছে। যেন সমুদ্রে পানি পরছে। আমাকে বললো, কি হলো দূরে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? আসো একসাথে বৃষ্টিস্নান করি। আমি বললাম, না আমার জ্বর আসে। তাহমিনা বললো, তাহলে আমি আছি কি করতে? আমি যথেষ্ট মানুষের সেবা করতে পারি, আসোনা প্লীজ। আমি বললাম, শুনো, যদি তোমার জ্বর আসে? কাছে এসে তাহমিনার চুলের পানি আমার মুখে বাড়ি দিয়ে মুখ বাকা করে বললো, তাহলে তুমি কি করতে আছো হুম.....………..?

বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭

প্রেম কি বর্ষা কালে হয় ?

হঠাত্‍ করে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো ? সন্ধ্যাটা হয়ে আসছে , এমন সময় বৃষ্টি শুরু হয়েছে তাই মেজাজ খারাপ ! সন্ধ্যার বৃষ্টি আমার ভাল লাগে না । 
.
বিকেল ৩টার সময় বাসা থেকে বের হয়ে কলেজ ক্যামাসে গিয়েছিলাম।র্ভাসিটি লাইফ আড্ডাবাজি না করলে যেনো দম বন্ধ হয়ে আসে।ক্যামাসে এসে আড্ডা দিতে লাগলাম ! বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যার আগে বাসায় আসার জন্য রওয়ানা দিলাম।কিন্তু অসময়ের বৃষ্টির জন্য পথে থামতে হলো ? এই অসময়ের বৃষ্টি কত সমস্যার কারন হয়ে দাড়িয়েছে তা , কেবল তারাই বুজবে , যারা আমার মত আশ্রয় খুজে কোন একটা জায়গায় দাড়িয়ে পড়েছে।
.
বৃষ্টি ঝিমঝিম করে পড়ছে।একমনে বৃষ্টি দেখে যাচ্ছি , তাই আশেপাশের কোনো খেয়াল নেই।যখন বৃষ্টি শুরু হয় , এই জায়গাতে আমি একাই ছিলাম।বৃষ্টি দেখাতে এতটাই বিভোর ছিলাম যে পাশে কেউ একজন আছে তা এতক্ষন বুজতে পারিনি।হঠাত্‍ তার কথা শুনে খেয়াল হলো আমাকে কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসতে হবে !
.
- বৃষ্টিকে ভালবাসেন ? (মেয়ে)
- একদম না । (আমি)
- [আমার চোখের দিকে তাকিয়ে] কেনো ?
- বৃষ্টি নামকে ই ঘৃনা করি বৃষ্টির অস্তিত্ত দূরে থাক ?
 - মিথ্যা বলছেন কেনো ?
- বৃষ্টি যেনো আমার সাথে অভিমান করে ?
- বৃষ্টির বয়েই গেছে আপনার সাথে অভিমান করার জন্য !
(আস্তে আস্তে বৃষ্টি কমে আসল)
- কি ? দেখলেন তো বৃষ্টি আমার সাথে ঠিক অভিমান করলো ?
- হুম !
- আমি নীল ।
- শুধুই নীল ?
- রুদ্রনীল রেহমান !
- বাহ্ , সুন্দর নাম তো আপনার ?
[বৃষ্টি থামার জন্য রিক্সা গুলো আবার চলতে শুরু করল।আগে দু একটা চলছিলো , ঠিক এখন সবগুলো ই চলছে।একটা রিক্সা আমাদের দিকে আসছিলো ,]
- এই রিক্সাওয়ালা ভাই ! (মেয়ে)
- বলেন আপা ? (রিক্সাওয়ালা)
- বনানী যাবেন ?
- হু ,আপা । রিক্সায় উঠেন ?
(মেয়েটির রিক্সায় উঠা দেখে বললাম)
- নাম টা তো বললেন না ?
- বৃষ্টি তালুকদার ।
(মুচকি হেসে বলল , এবং রিক্সা চলতে শুরু করল।আমি কিছু বলতে না পেরে একটু জোরে বললাম)
- আপনার চোখ দুটি অনেক সুন্দর ? মায়ায় পরির্পূন !
(পিছনে ফিরে , আবার একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল)
- আমি সুন্দর নই ?
- যদি বলি ভাষায় বর্ননা করে বলতে পারব না ?
(এত সুন্দর হাসি আমি জীবনে ও দেখি নাই ? যেভাবে বৃষ্টি হাসছিলো ?আমি তার হাসির মায়ায় পরে গেলাম।রিক্সার পিছু পিছু ছুটতে লাগলাম , আর চিত্‍কার দিয়ে বললাম)
- আপনার নাম্বারটা পেতে পারি ?
- নাম্বার দিলে বৃষ্টির অভিমান যদি ভেঙ্গে যায় ?
(আর কিছু না বলেই তার রিক্সায় উঠে পড়লাম)
- বাহ্ , আপনি তো বেশ সাহসী ?(বৃষ্টি)
- এইটুকু সাহস থাকার তো দরকার আছে ?
- সাহসটা কি সবসময় থাকবে ?
- যদি বৃষ্টির জন্য প্রয়োজন হয় তাহলে আবার ফিরে আসবে !
(আমার একটা হাত চেপে ধরল বৃষ্টি , আর আমি ভাবতে থাকলাম কি করে আমার এতো সাহস হলো ?)

আমি আরমিনকে ভালবাসি

মেয়েটাকে আমি প্রথম দেখি আমার
এক আত্নীয়ার কুলখানি
অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠান যদিও মৃত ব্যক্তির জন্য,
কিন্তু ডেকোরেশন দেখলে
অজ্ঞাত কেউ বিয়ে বাড়ি ভেবে ভুল করবে।
এত জাঁকজমকপূর্ণ-
ও কুলখানি হয়!
গেস্টরা আসছেন হাসি মুখে,তাদেরকে
অভ্যর্থিত করা হচ্ছে অতি হাসি মুখে।
মাঝে মাঝে মৃত ব্যক্তির কথা উঠলে
নিয়ম করে এক দুইজন
কেঁদে উঠছেন।
বড়লোকদের ব্যাপার স্যাপার বোঝা মুশকিল।
.
মেয়েটাও ব্যতিক্রম ছিল না।
সে তার বয়সী কিছু মেয়েদের
সাথে বসে কি যেন গল্প করছিল আর
একটু পরপর হেসে
উঠছিল......
হাসি বেশি জোরে হচ্ছে কিনা
এটা বুঝতে আবার এদিক
ওদিক তাকাচ্ছিল।
.
তার এই চোর চোর স্বভাব
আমার খুবই মজা লেগেছিল,কিন্তু এ
কারনে তার প্রতি আকৃষ্ট হইনি আমি।
হয়েছিলাম তার হাতের
আঙ্গুল দেখে।
মেয়েটার মুখে হাত দিয়ে হাসার স্বভাব ছিল।
সে হাসছিলো,আর তার সুন্দর
হাতের রাঙানো নখগুলোতে
চোখ আটকে গেছিলো আমার।
কি দারুন ফর্সা শুকনো
মত হাতে মাঝারি সাইজের চিকন
আঙুল....নখে লেপ্টে থাকা গোলাপ রঙ,
আর অনামিকায়
আটকানো সাধারণ একটা আংটি........
সবটা জুড়ে কি এক আকর্ষণ!
.
আমি অবশ্য তার দিকে আর
খেয়াল দেয়ার সময় পাইনি,আম্মা
ধরে নিয়ে গিয়ে আত্নীয়-স্বজনদের
সাথে পরিচয় করাতে
লাগলেন।
হঠাৎ একজন মহিলার সাথে আম্মা
পরিচয় করালেন,সম্পর্কে
আমার ফুফুমা হন।
তার পাশেই দাঁড়ানো ছিল মেয়েটা.....সেই
ফুফুমার মেয়ে।
মেয়েটার সাথেও পরিচয় হয়ে গেল।
নাম
জানলাম-'আরমিন'.........
.
জানলাম ও এবার মাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছে।
পিচ্চি
পুরাই......স্বভাবেও তাই ছিল,খুব চঞ্চল।
মুহূর্ত পরিচয়ে আমাকে নিয়ে গেল
সে বাড়ির ছাদে।কত গল্প
করলো....
ও সম্পর্ক বুঝতো না।
ওর মা যাকে খালা
ডাকতো,দেখলাম আরমিনও তাকে খালা ডাকছে,
এই নিয়ে কি
হাসাহাসি!
অনুষ্ঠান শেষে চলে যাবার সময়
আমার ফোন নম্বর টাও নিয়ে
নিল এক ফাঁকে......
.
তারপর আরমিনের সাথে ফোনে কথা হত আমার।
ওর কোন
নির্দিষ্ট নম্বর পাইনি,
একেকবার একেক নম্বর থেকে ফোন
দিতো পাগলিটা।
আমি অবশ্য সবগুলোই সেইভ করে
রাখতাম,তবে ফোন দিলে কখনো পেতাম না।
বন্ধ দেখাতো।
.
কত অজানা তথ্য জানা হল আমার।
জানলাম ওর সাইকেল চালাতে খুব ভালো লাগে,
প্রজাপতি
ধরে বোতলে রাখতে ভালো লাগে।
মাটি দিয়ে পুতুল বানাতে
ভালো লাগে।
এসব শুনে একটাই মন্তব্য মনে
আসতো ওর ব্যাপারে-মেয়েটা
বেশিই বাচ্চা,ছটফটে একটা প্রজাপতি ও।
.
মাঝেমাঝে ওদের বাসায় যেতাম।
ফুফুমা আদর করতেন খুব।
আরমিনকে নিয়ে মাঝে মাঝে
ফুচকা খেতে বের হতাম।
মেয়েটার রিক্সা ভ্রমণও খুব প্রিয় ছিল।
.
একদিন বিকেলে ফোন দিয়ে হরবর করে
এক গাদা প্রশ্ন করতে
লাগলো আরমিন........
-ফামিম ভাই আপনার
পড়াশুনা করতে কেমন লাগে?
-খুব বেশি ভাল লাগে না,
তবে চাপে পড়ে করতে হয়।
-আমার খুব ভাল লাগে,
কিন্তু আর মনে হয় পড়াশোনা হবে না।
-কেন? আমি অবাক হয়ে জীজ্ঞেস করলাম।
-ওমা!আপনি আমার ব্যাপারে কিছু জানেন না?
এসব ঘটনা তো
লুকোনো থাকে না,
বাতাসের আগে খবর ছড়িয়ে
পড়ে,হিহিহিহি.....
-মানে?
-আপনি জানেন না আমার বিয়ে হয়েছিল?
ছেলে ইতালি
থাকে।তার মনে হয় আমাকে পছন্দ হয়নি
তাই সাথে করে
আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা
থাকলেও নিয়ে যায়নি।
উল্টো দু
সপ্তাহ পর ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিয়েছে।
হাহাহহা।
.
আমি কি বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না।
আরমিন সাহায্য করলো-
"কি?চুপ করে গেলেন যে?
আচ্ছা আমি নাহয় রেখে দিই
আজ,আল্লাহ হাফেয।"
কান থেকে ফোন নামিয়ে হতবাক হয়ে বসে রইলাম।
কি বলল
আরমিন এতক্ষণ? এইটুকুন বাচ্চা মেয়ে।
কতই বয়স?১৬/১৭?
বাবা মা-ই বা কিভাবে বিয়ে দিয়ে ভুল করলেন,
যার শাস্তি
পাচ্ছে এই ছটফটে পরীটা........
.
এরপর কয়েক সপ্তাহ আরমিনের
কোনো খোঁজ ছিল না....
ফোন
পাইনি আর।
পেলাম একেবারে আজ সকালে......
ঘুমাচ্ছিলাম।
ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি আননোন নম্বর।
ঘুম ঘুম
অবস্থাতেই কল রিসিভ করলাম.....
বিরক্তি নিয়ে হ্যালো
বলার সাথেই ওপাশ থেকে
আরমিনের কণ্ঠ ভেসে এল.......
-এত ঘুম কেন আপনার ফামিম ভাই?
কত মানুষ যে কত রাত না
ঘুমিয়ে পার করে, কখনো তাদের কথা ভেবেছেন?
আরমিনের কথায় চমকে উঠলাম আমি,
এ কেমন ক্ষোভ ওর গলায়!
-পৃথিবীর অদ্ভুত নিয়ম,
কাউকে সুখী হতে হলে অন্য কাউকে
দুঃখী হতে হবে।
এই যে আমার প্রাক্তন স্বামী, আমাকে
কষ্টের সাগরে ডুবিয়েই তো
সে সুখী হতে পেরেছে তাইনা?
আমি আবারো চমকালাম।
ঘুম ছুটে গেল চোখ থেকে।মেয়েটা
যেন হুট করে বড় হয়ে গেছে,
কি অদ্ভুতভাবে কথা বলছে!
-কি হয়েছে আরমিন?
তোমার মন খারাপ?
-মন? নেই তো।খারাপ আর হবে কি?
-প্লিজ এভাবে কথা বলো না,
স্বাভাবিকভাবে বল....চঞ্চলা
আরমিনের মত করে।
-কেন?কিভাবে কথা বলছি?
যে মেয়ে ডিভোর্সড,সেই মেয়ের
তো এত চঞ্চলতা মানায় না।
-কি বলছো এসব!
-অবাক হচ্ছেন কেন? আপনারাই
শিখিয়েছেন,আপনাদের
সমাজ।যে মেয়ের স্বামী ডিভোর
্স লেটার পাঠায় তার তো
ভালোভাবে নিজের মত করে
বাঁচার অধিকার নেই তাইনা?
-আরমিন প্লিজ শান্ত হও,তুমি বের হবে?
চল কোথাও গিয়ে ঘুরে
আসি।ভালো লাগবে।
-হাহ.....আর দেখা হবে না ফামিম ভাই।
ভাল থাকবেন।
আর একটা অনুরোধ,
একটা মেয়ের মধ্যে প্রাণ সৃষ্টি করে তার
প্রাণ নিয়ে নেয়ার ভুল কখনো
করবেন না আমার জীবনের
জানোয়ারটার মত......
আমাকে কিছু বলার সুযোগ না
দিয়ে আরমিন ফোন কেটে দিল।
আমি ফোন কানে নিয়ে বসে থাকলাম।
হাহাকার মেশানো
পোঁ পোঁ আওয়াজ আসতে লাগলো সেখান থেকে।
.
শেষ কথাগুলো কি বলল আরমিন?
প্রাণ সৃষ্টি করে প্রাণ নেয়া
মানে?
আরমিন কি প্রেগনেন্ট?
আর ও কেন বলল আর দেখা হবে না?
বাচ্চা মেয়েটা কিছু করে
বসবে না তো!
দ্রুত আরমিনের সব নম্বরে ডায়াল করে গেলাম......
নাহ,সব বন্ধ।
.
আম্মার ফোনে কল এলো
এই ঘটনার আরো ৪ ঘন্টা পর।
আরমিন সুইসাইড করেছে।
খবরটা শুনে আমি বসে পড়লাম।
নিজের উপর রাগ লাগতে
লাগলো প্রচন্ড.....
এরকম ইঙ্গিতই সে দিয়েছিলো।
আমি কি
পারতাম না তাকে বাঁচাতে?
তখনই যদি ওদের বাসায় গিয়ে
ওকে বোঝাতাম!
ভীষণ কষ্ট হতে লাগলো আমার।
.
.
আম্মাসহ এসেছি আরমিনদের বাসায়।
ওই তো সামনে
আরমিনের লাশ.....
মেয়েটা নিথর হয়ে পড়ে আছে....
অথচ তার
এই বিকেলে কলেজের বন্ধুদের
সাথে আইসক্রিম পার্লারে
যাওয়ার কথা।
তার পরিনতির দায় কে নেবে?
তার বাবা মা?না তার সেই
স্বামি?নাকি এই সমাজের সে
সব লোকজন যারা নানান
বাঁকা কথা শুনিয়ে মেয়েটার
জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল?
উত্তর নেই..........
এক কুলখানিতে পরিচয় হয়েছিল
আরমিন নামের ছটফটে
জোনাকিটার সাথে।
আজ বাসায় ফিরে যাচ্ছি সেই
আরমিনেরই কুলখানির দাওয়াত নিয়ে.....