বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭

ভালবাসা যেখানে হার মানেনি

নিতুর মনে হচ্ছে টিপটা কিছুতেই
কপালের মাঝখানে হচ্ছে না।এই নিয়ে ৭
বারের চেষ্টাতেও লাভ হল না।কপালে
টিপ বসানো নিয়ে নিতুর এই খুতখুতে
অভ্যাস বিয়ের আগে ছিল না।আর এখন
.
আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজ হাতে টিপ
বসালেও তার মনে হয় ঠিক জায়গায়
বসেনি।অথচ জাহিদ কতো সুন্দর করে
কপালের ঠিক মাঝখানে টিপ পরিয়ে
দেয়।নিতু এখন জাহিদকে খুব মিস করছে।
.
একবার জাহিদকে টিপ পরানোর
সমস্যাটা বলাতে সে গলা ফাটিয়ে
হেসে বলেছিল এটা ওর মনের ভুল।
জাহিদের কথা শুনে খুব রাগ লেগেছিল
নিতুর।আচ্ছা না হয় এটা নিতুর
মনের
ভুল,তাই বলে কি স্বামীর হাতে টিপ
পরার মধ্যে যে ভালবাসাটা লুকিয়ে
থাকে সেটা কি জাহিদ বুঝেও বুঝে না?
.
এইজন্য প্রতিবার একা একা টিপ পরতে
নিতুর মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়।
.
জাহিদের প্রতি খুব অভিমান হয়।বিয়ের
পর আসলেই ছেলেরা বেরসিক হয়ে যায়।
কিন্তু আজকে জাহিদের সাথে রাগ করা
যাবে না,আজকে যে ওদের ৩য় মেরেজ
ডে।মায়ের কাছে শুনেছে এই দিনে
স্বামীর সাথে রাগ দেখাতে নেই।আজ
নিতু অনেক সময় নিয়ে যত্ন করে সাজবে।
সাজতে গিয়ে সবসময়ই তার বাসর রাতের
কথা খুব মনে পরে।জাহিদকে দেখলে
.
এমনিতে এতো লাজুক মনে হয়
না।বিয়ের
রাতে নিতুর সামনে বসে জাহিদ যেন
লজ্জায় মোমের মত গলে
যাচ্ছিল।নিতুর
হাতটা ধরতে ধরতেই বেচারা বাসর
রাতের অর্ধেকটা পার করে দিয়েছিল।
.
বড় বোনের কঠিন পরিনতি আর মায়ের
ইচ্ছাকে পূর্ণ করতে গিয়ে কখনই প্রেমের
পথে পা বাড়ায়নি নিতু।বাসর রাতেই
বুঝতে পেরেছিল আল্লাহ্ তার ধৈর্যের
উপযুক্ত পুরস্কার হিসেবে উপযুক্ত
মানুষটাকেই মিলিয়ে দিয়েছেন।এইসব
.
ভাবতে ভাবতে নিতু সাজছিল।ঘড়ির
দিকে চমকে উঠল।আড়াই ঘণ্টা ধরে ও
সেজেই যাচ্ছে!আয়নায় নিজেকে দেখে
খুব লজ্জায় পরে গেল সে।নিজেকে কেমন
বউ বউ লাগছে।বারোটা বাজতে
আর খুব
বেশি দেরি নেই
.
ভাবছে অন্যবারের মত
জাহিদ ওকে চমকে দেবে তো?আর নিতু
তখন এমন ভাব করবে যেন বিয়ের
তারিখটা ও বেমালুম ভুলে গেছে।নিতু
এদিক দিয়ে খুব সুখী।জাহিদ এইসব
তারিখগুলো কখনই ভুলে যায় না।নিতু
জানে আজকেও সেই ভুল হবে না।আজকে
বিয়ের শাড়িটাই পরেছে নিতু।এই
শাড়িটা পড়লে এখনো আগের মত লজ্জা
লাগে।নিতু ভাবছে,জাহিদও যদি এই
.
দিনে বিয়ের পোশাকটা পরত,তাহলে কি
মজাটাই না হতো।কিন্তু ছেলেরা যে ওই
পোশাকটা জীবনে একবারই পরে।
রাত বারোটা।দুবাই থেকে আনা
সোনালী ঘড়িটা মিষ্টি মিষ্টি সুরে
যেন মেরেজ ডের কথাই নিতুকে জানিয়ে
গেল।নিজের অজান্তেই বুকের মাঝে
ঢিব
ঢিব শব্দটা বেড়ে গেল।
.
নাহ... এবারো ভুল
হয় নি...সবার আগে জাহিদই ফোন করলো।
কিন্তু অন্যবার যেমন নিতুর খুব খুশি খুশি
লাগে,কিন্তু এবার বরং জাহিদের কণ্ঠ
শোনার সাথে তার বুক ফেটে কান্না
আসছিলো।এখন পর্যন্ত কোন মেরেজ
ডেতেই জাহিদকে কাছে পাওয়া হয়নি।
প্রতিটাবারই প্রবাস থেকে ফোনে উইশ
করেছে।মিতুর কথাগুলো খুব মনে পরছে।
.
মিতু নিতুর ২ বছরের ছোট বোন।ভালবেসে
বিয়ে করেছে।সেদিন নিতুকে তার বরের
কথা বলছিল।স্বামীর সাথে
মান,অভিমান আর ঝগড়াগুলো
নিয়েই
তার সব গল্প।
.
্প।মিতুর ছেলেমানুষী
অভিমানগুলো দেখে নিতুর যেমন হাসি
পায় তেমনি বুকটা শুন্য শুন্য লাগে।স্বামী
মেরেজ ডেতে ছুটি নিতে পারেনি বলে
মিতুর সেকি অভিমান।মাঝে মাঝে রাগ
করে মিতু নিতুর বাসায় চলে আসে।নিতুর
মনে মনে ভাবে...জাহিদ যদি দেশে
থাকতো তাহলে যত যাই হোক কখনো ওর
সাথে রাগ করে চলে আসতো না,মেরেজ
ডেতে ছুটি না নিলে কখনো বকাবকি
করতো না।শুধু রাতেরবেলা জাহিদের
একটু স্পর্শ পেলেই চলতো।ফোনের
এপাশে নিতু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না
.
থামাতে পারছে না।আর ওদিকে জাহিদ
চুপচাপ শুধু শুনে যাচ্ছে।নিতু জানে
জাহিদেরও বুকটা দুমরে মুচড়ে যাচ্ছে।পুরুষ
মানুষের এই এক সমস্যা,কান্না দিয়ে
তারা কখনো দুঃখগুলো ধুয়ে ফেলতে
পারে না।বরং পাথরের মত শক্ত করে
সেগুলো জমিয়ে রাখে।জাহিদকে
আর
কষ্ট দেবার কোন মানে হয় না।
.
তাই
ফোনটা রেখে দিল নিতু।এখন নিতু
আয়নার সামনে বসে বসে কাঁদবে।কেঁদে
কেঁদে বিধাতার কাছে অভিমান করবে।
বিধাতার কাছে জানতে চাইবে কেন
তার স্বামী ৩ বছরে মাত্র সে ৪৩ দিন
কাছে পেয়েছে।কেন তাদের সংসারে
এমন অভাব দিলেন যে বাধ্য জাহিদকে
ছুটে যেতে হল দেশের বাইরে।
রাত ২টা।নিতুর মোবাইলটা একটু পর পর
ভাইব্রেসনের ভোঁভোঁ আওয়াজ করছে।
সবাই নিতুকে বিবাহবার্ষিকীর উইশ
করতে চাচ্ছে।কিন্তু নিতুর সেইদিকে
কোন নজর নেই।সে এখন আয়নার দিকে
তাকিয়ে আছে।তাকিয়ে আছে তার
কয়েকভরি গহনা আর সাজসজ্জার দিকে।
তার আরাম আয়েশ,সাজ সজ্জা
আর
হাতখরচের কোন কমতিই জাহিদ
রাখেনি।এখন নিতুর খুব ইচ্ছে হচ্ছে
এইসব
গয়না,সাজসজ্জা সব ছুড়ে ফেলে
দেয়।
.
গতবার ৪৩দিনের ছুটিতে জাহিদ এগুলো
সব নিয়ে এসেছিল।এগুলোর চেয়ে
জাহিদের সাথে কাটানো ৪৩ টা দিনই
তার কাছে হানিমুনের মত মনে হয়েছিল।
বিয়ের পর ২২দিনের মাথায় যখন জাহিদ
চলে গিয়েছিলো তখন কিন্তু নিতুর এমন
খারাপ লাগেনি।৪৩ দিন ছুটি কাটিয়ে
যাবার সময় নিজেকে আর ধরে রাখতে
পারছিল না।দুবাই থেকে রাতের বেলা
সাধারণত ১১টার দিকে জাহিদ ফোন দেয়
নিতুকে।সময়মত ফোন না পেলে
.
নিতুর খুব
অভিমান হয়।কিন্তু জাহিদের কণ্ঠে
ক্লান্তির আর অবসাদ ছোঁয়া কথাগুলো
শুনে তার অভিমানগুলো গভীর
মায়ায়
পরিণত হয়।
.
সকাল সাড়ে ১০টা।মোবাইলে জাহিদের
২২টা মিসকল।নিতু বিছানা ছেড়ে উঠে
আয়নায় নিজের ফোলা ফোলা মুখ দেখে
অবাক হয়।সারারাত জুড়ে কান্না তার
চোখকে এতোটা ফুলিয়ে দেবে ভাবেনি।
এতো কান্নার পরও নিতুর অভিমান
পুরোপুরি কমেনি।আরেকটু কাদতে পারলে
ভালো হতো।এই কথা যখন ভাবছে তখন
কড়া শব্দে কলিং বেল বেজে উঠলো।এই
সময় কে আসতে পারে নিতুর ভালো করেই
জানা আছে।রুপা ছাড়া আর কে হবে।
প্রায় সকালেই রুপা নিতুর বাসায় ঢু মেরে
যায়।নিতুর মতো রুপারও স্বামী দেশের
বাইরে থাকে।এই রুপাই হতে পারতো
নিতুর সবচেয়ে বড় সমব্যথি।গত ৫ বছরে
রুপার স্বামী মাত্র একবার দেশে
এসেছে।অথচ রুপাকে দেখলে সেটাতো
বুঝাই যায় না,বরং মনে হবে কতো
আনন্দেই না আছে।স্বামীর টাকার যে
যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়,তা রুপার
বেশভূষাতেই বোঝা যায়।নিতুর যেখানে
সময় কাটে না,রুপা সেখানে সময় খুজে
পায় না।কেননা রুপার ভার্চুয়াল
ফ্রেন্ডের অভাব নেই।কাউকে একটু ভালো
লাগলেই কথা চলে রাতের পর রাত।আর
তাদের মাঝে কাউকে হয়তোবা বেছে
নেয় ডেটিং পার্টনার হিসেবে।রুপা
এইসব ব্যাপার নিতুকে এতো মুখরোচক
করে বোঝায় যে একদিন নিতুর সত্যি
সত্যি লোভ লেগে গিয়েছিলো।রুপা
তাকে আগ্রহ ভরে কয়েকটা হ্যান্ডসাম
ছেলের নাম্বারও দিয়ে গিয়েছিল।রূপার
মতে সব স্বামীরা বিদেশে গিয়ে
কমবেশী ফষ্টি নষ্টি করে। সুতারাং ওরা
একাকীত্ব কাটাতে ফোনে একটুআধটু
খোশগল্প করলে সমস্যা কি।কিন্তু
জাহিদকে ফাকি দিয়ে অন্যায় কিছু
করতে বিবেকে কুলোয়নি নিতুর।
রুপার বাসায় একদিন নিতু বেড়াতে
গিয়েছিল।সেদিনটার কথা আজো ভুলতে
পারে না সে।গানের ডিভিডি খুঁজতে
গিয়ে এমন কিছু সিডি খুজে পেয়েছিলো
যা কোন বিবাহিত মেয়ের কাছে থাকতে
পারে বলে তার কল্পনাতেও ছিল না।
নিতুর অবাক হয়ে যাওয়াতে রুপা
বলল,যেসব মেয়ের স্বামী কাছে থাকে
না তাদের কাছে এগুলা থাকা
অস্বাভাবিক কিছু না।ওইদিন নিতু চলে
আসার সময় হঠাৎ রুপার কি মনে হল কে
জানে।নিতুকে জড়িয়ে ধরে সে কি
কান্না।গত ৫ বছর ধরে ঝগড়া করেও
স্বামীকে কাছে না পেয়ে অভিমান
করে এইসবে জড়িয়েছে ও।প্রথম প্রথম
প্রতিটা ঘণ্টায় ওর স্বামী ফোন দিতো।
আর এখন মাস পেরিয়ে গেলেও খোজ
থাকে না।শুধু টাকা দিয়েই সে উদ্ধার
হয়ে যায়।সেইদিন থেকে রুপাকে আর
অতোটা খারাপ লাগেনি নিতুর।বরং
কিছুটা মায়াই বোধ করেছে।
কলিংবেলের আওয়াজে নিতু
ভেবেছিলো রুপা এসেছে।দরজাখুলে
উপরতলার আসিফভাইকে দেখে চমকে
উঠল।লোকটার মিষ্টি ব্যবহার আর মধুর
হাসি দেখলে ভালমানুষ ভাবতে খুব ইচ্ছে
হয়।লোকটা আসলে সাক্ষাত একটা নরকের
কীট।তার চোখের দিকের তাকালেই
বোঝা যায় তার মতলবটা কি।বিধাতা এই
ক্ষমতা প্রত্যেক মেয়েকেই দান করেছেন।
যে কোন মেয়ে চোখের দিকে তাকালেই
বুঝতে পারে ছেলেটা আসলে কি চায়।
প্রায় সকালেই আসিফ ভাই গায়ে পরে
নিতুর খোঁজখবর নেন,সাহায্য করতে চান।
অথচ জাহিদ যখন এসেছিল তখন তার
টিকিটারও খোঁজ মেলেনি।এইসব
মধুসন্ধানী ছেলেদের ভালই চেনা আছে
ওর।লোকটা দেখলেই কষে চড় লাগাতে
খুব ইচ্ছা হয় নিতুর।
ফোনটা রাতে সাইলেন্ট করে রেখেছিল।
তাই ভোরবেলা জাহিদের ফোনটা ধরা
হয়নি।এইসময় জাহিদের ফোন সাধারণত
আসেনা।কাল রাতের কান্না দেখে
বোধহয় ও আবার ফোন দিয়েছে।এই কথা
যখন ভাবছিল তখন আবার ফোন এল
জাহিদের।কাল রাতে ১মাসের ছুটিতে
দেশে ফেরার কথাটা জানিয়ে নিতুকে
সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল জাহিদ।
কিন্তু নিতুর বাঁধভাঙ্গা কান্না শুনে সে
নিজেই সারপ্রাইজড হয়ে গিয়েছিল।এখন
ফোন করে জাহিদ সেই খবরটাই দিল
নিতুকে।নিতুর এখন খুব ভাল লাগছে।আনন্দ
তার নাচতে ইচ্ছা করছে।একটামাত্র
ফোনই কিভাবে তার মন মুহূর্তের মধ্যে
ভালো করে দিল।এখন নিতু জানালায়
আকাশ দেখছে।আকাশের বুক চিড়ে উড়ে
যাওয়া উড়োজাহাজগুলোকে সে চিনে
রাখছে।পাখির মতো ডানা মেলে
ওগুলোর মতো উড়ে বেড়াতে ইচ্ছা করছে।
এই উড়োজাহাজগুলোর কোন একটাতে
চেপেই তার জানটুসটা দেশে আসবে।
এইবার নিতু মনস্থির করে ফেলেছে,দেশে
আসলে কিছুতেই তার জানটুসটাকে ফিরে
যেতে দিবে না।হাজারো জোরাজুরিতে
যদি আটকে রাখা নাও যায়, মনের সমস্ত
ভালবাসা দিয়ে আচ্ছা করে বেঁধে
রাখবে জাহিদকে,যে ভালবাসার শৃঙ্খল
ছিন্ন করার সাধ্য জাহিদের নেই।জাহিদ
না হয় কিছু টাকা কমই উপার্জন
করলো,তাতে কি।না হয় আধপেটা খেয়েই
টোনাটুনির মত বাকি দিনগুলো পার করে
.
দিবে।মনের মানুষকে পেয়ে গেলে কি
খাওয়া হল,কি পরা হল তা কখনই
জরুরী
না।ভালবাসা যখন দুটো হৃদয়কে আপ্লুত
করে রাখে তখন দুনিয়ার কোন কষ্টই আর
হৃদয়দুটোকে কষ্ট দিতে পারে না। নিতু
এখন দখিনের জানালায় দাড়িয়ে
প্রানখুলে হাসছে।এমন হাসি সে বহুদিন
হাসেনি।

অপেক্ষা

সেই কখন থেকে নিলুর জন্য বসে আছি, এখনো আসছে না কেন! কি ব্যাপার আজকে মেয়েটা এতো লেট করছে কেন! প্রতিদিন তো যথা সময়েই আসে। আমি মোবাইলের স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে দেখি ৫:১৫ বাজে! অথচ ওর ৪:৩০ এর দিকে এখানে থাকার কথা। বেঞ্চি তে বসে পা দোলাচ্ছি আর এদিক - ওদিক তাকাচ্ছি, কিছু কাপলদের ও দেখলাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আজকাল ভালোই লাগে কাপলদের দেখতে, অনেকটা লাভ-বার্ডসের মতো। তবে বোরিং নেস টা অনেক বেশি লাগছে এখন, তাই আবার পকেট থেকে মোবাইল টা চতুর্থ বারের মতো বের করে নিলুকে কল দিতে যাবো, ঠিক তখন ই পিছন থেকে,,,,
.
--- সরি!!!!
.
আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি নিলু কানে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে,,,
.
--- কি ব্যাপার এতো লেট যে,, আর ফোন দিচ্ছি সেই কখন!
.
নিলু কান থেকে হাত নামিয়ে, আমার পাশে বসতে বসতে বললো,,,,
.
--- সরি সরি সরি,, আসলে বাসা থেকে বের হতে বের হতে একটু লেট হয়ে গিয়েছে। আর মোবাইলটা সাইলেন্ট মুডে থাকার কারনে তোমার কল রিসিভ করতে পারিনি!
.
--- ও!! ভাইব্রেশন নেই?
.
--- আমি আসলে মোবাইল ভাইব্রেট করে রাখি না,, কেমন জানি লাগে শুনতে। 
.
--- হুম। 
.
হঠাৎ খেয়াল হলো নিলু আজকে অনেক সেজেছে! মনে হয় সাজুগুজোতে বেশি সময় দেওয়ার কারনেই ওর এখানে আসতে দেরী হয়েছে। মেয়েদের এই ব্যাপারটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগে,,বিশেষ করে সুন্দরি মেয়েদের... একবার সাজতে বসলে আর কোন হুশ থাকে নাহ! 
.
--- এই কি দেখছো এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে!!
.
আমি আরো একটু ভালোভাবে তাকিয়ে দেখি নিলুর মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে! তবে সেটা মেক আপের কারনে কিনা তা নিয়ে আমার অবশ্য একটু খটকা আছে!!
২
--- থ্যাংক্স (নিলু)
.
--- কিসের জন্য!(আমি)
.
--- এই যে এতো সুন্দর সময় আজকে আমাকে উপহার দেওয়ার জন্য!!
.
--- আমি তো শুধু হাটলাম মাত্র তোমার সাথে!!
.
--- ওটাই আমার কাছে অনেক কিছু সোহাগ, তোমার সাথে কাটানো প্রতিটা মুহুর্তই আমার কাছে স্পেশাল। 
.
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর মেসেজের রিপ্লাই দিলাম,,,
.
--- হুম
.
--- এই তুমি কি আমার কথায় বোর হচ্ছো!!
.
--- আরে নাহ,,বোর হবো কেন!!! বরঞ্চ ভালো লাগে তোমার কথা শুনতে। 
.
--- সত্যি!!
.
--- হুম সত্যি।
.
--- তুমি না অনেক ভালো!
.
--- হা হা হা! তাই?
.
--- হুম।
.
কিন্তু সত্যি কথা বলতে আমি কিছুটা বোর হচ্ছিলাম নিলুর কথায়, তবে ওকে ব্যাপারটা বুঝতে দেই নাহ সহজে! ব্যাপার টা বুঝতে পারলে মেয়েটা অনেক কষ্ট পাবে। 
.
--- এই কি হলো চুপ হয়ে গেলে যে (নিলু)
.
--- নাহ কিছু নাহ!!! আর নিলু আমি তোমাকে পরে ফেবিতে নক দিবো,, আম্মু ডাকছে ভাত খেতে। 
.
--- ওকে বাই,, তবে আর একটু কথা বললে ভালো লাগতো,, আচ্ছা সমস্যা নেই কাল তো দেখা হচ্ছেই আমাদের!!
.
--- হুম। 
.
এই বলে আমি ফেবি থেকে বেরিয়ে আসলাম!! আসলে আম্মু ডাকে নি, আমার নিলুর সাথে কেন জানি কথা বলতে ইচ্ছা করছিলো নাহ! মন টা কেমন কেমন জানি করছে। বিছানা থেকে উঠে বারন্দায় গিয়ে দাড়ালাম,, আজকে আকাশ টা অনেক পরিস্কার,, তারাগুলো স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে। 
৩
প্রায় ২ বছর আগের কথা,,,, তখন ভবগুরে হয়ে ঘুরতাম বন্ধুদের সাথে,, পড়াশোনা করতে ভালো লাগতো না, বলতে গেলে কিছুই ভালো লাগতো নাহ! কেমন জানি লাইফের প্রতিও একধরনের বিরক্তি বিরক্তি ভাব চলে আসছিলো ফেবিতে অবশ্য একটা পেজের এডমিনো ছিলাম। আমরা কলেজের কিছু ফ্রেন্ডরা মিলে পেজ টা খুলে ছিলাম। পেজটাতে বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন ট্রল আর মাঝে মাঝে বিরহরের কিছু পোস্ট দিতাম!! আস্তে আস্তে রিসপন্স পাচ্ছিলাম পেজটাতে। আমার আবার মেয়েদের সাথে টাংকী বাজি করার একটা বদ অভ্যাস ছিলো! আর এসবের জন্য ফেসবুকটা একদম পারফেক্ট জায়গা। তো এই ধান্দায় একদিন ফাইন্ড ফ্রেন্ডস ঘাটছিলাম,, আর বিভিন্ন নামের মেয়েদেরকে রিকুয়েস্ট পাঠাচ্ছিলাম। তো কিছুক্ষন পর একটা নোটিফিকেশন আসলো, চেক করি দেখি নিলা আহসান নামে একটা আইডি আমার রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করেছে! তো কিছু টা আগ্রহ নিয়েই আইডিটা ঘাটলাম,, ভাবছিলাম ফেইক হবে কিন্তু সেরকম কিছু মনে হলো না!! আর আইডিটা দেখে মনে হচ্ছে কিছুদিন আগে রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম,,,মিউচুয়াল ফ্রেন্ড ছিলো সম্ভবত!! তো আমি খুব স্বাভাবিকভাবেই আইডিটার প্রোফাইলটা ঘাটতে লাগলাম, ঘেটে মনে হলো আইডিটা ফেইক না!! তাই মেসেঞ্জারে গিয়ে একটা নক দিলাম,,,
.
--- হাই!
.
--- হাই। কেমন আছেন?(নিলা আহসান)
.
এরকম দ্রুত রিপ্লাই দেখে কিছুটা অবাক হলাম!! সাধারনতো মেয়েরা ফেবিতে অপরিচতো কাউকে এতো দ্রুত রিপ্লাই দেয় না!!
.
--- জি ভালো আপনি?
.
--- হুম ভালো আছি! তো কি করছেন এখন!!
.
--- আসলে তেমন কিছু না,, তবে আপনাকে পটানোর কিছুটা চেষ্টা করছি!!
.
আমার মেসেজটা সিন করার পর আইডি টা থেকে কয়েকটা হাসির ইমো আসলো, তারপর মেসেজ দিলো,,,
.
--- হুম ভালো, চেষ্টা করতে থাকুন দেখি পটাতে পারেন কিনা!!!
.
আমিও কয়েক টা হাসির ইমো দিয়ে বললাম,,,,
.
--- সেটা কি আর না করে পারি বলুন!!!
.
ওদিন প্রায় দুই /আড়াই ঘন্টার মতো কথা বললাম,, নিলা আহসান নামের আইডিটার সাথে! অনেক কিছুই জানালো ওর ব্যাপারে!! কিসে পড়াশোনা করছে, বাসা কোথায়, কয় ভাই বোন, বাবা কি করে, ইত্যাদি । আমিও নিজের ব্যাপারে তাকে অনেক কিছু বললাম,, তবে সেগুলো একটু বাড়িয়ে!! যাতে মেয়েটাকে তাড়াতাড়ি ইম্প্রেস করতে পারি। তবে আমার কেমন জানি একটু খটকা লাগছিলো ওর ব্যাপারে, মনে হচ্ছিলো শুরুতে ও আমার ই মেসেজের অপেক্ষা করছিলো! সাধারনতো মেয়েরা নিজে থেকে মেসেজ দেয় না,,বিশেষ করে যেই মানুষটাকে পছন্দ করে সেই মানুষের কাছ থেকেই প্রথম রিসপন্সটা আশা করে, আচ্ছা নিলা আহসানের মধ্যেও কি এরকম কিছু কাজ করছে!!!
৪
প্রায় ৭/৮ মাসের মতো হয়ে গেল নিলা আহসানের সাথে 
আমার এখন রেগুলার চ্যাট হয়,, তবে ওকে এখন নিলা নয়,, নিলু নামে সম্বধোন করি। নিলা নামটা কেমন জানি লাগে,, ওর সাথে নামটার আমি কোন ম্যাচিং পাই না। আর ওকে নিলু নাম ধরে ডাকাতেই ভালো লাগে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো ওর সাথে আমার মেন্টালিটিরও যথেষ্ট মিল পাই!! কথা বার্তায়,, চাল চলনে,, বা অন্য যে কোন ব্যাপারে!! প্রথম প্রথম অবশ্য আমি কনফিউশন থাকতাম ওকে নিয়ে কিছুটা,, কিন্তু ও নিজে থেকেই আস্তে আস্তে কাছাকাছি আসার সকল রকমের জটিলতা দূর করে দেয়! বলতে গেলে অনেক ফ্রি হয়ে যায় আমার সাথে,,, মাঝে মাঝে ওকে বন্ধুর চেয়েও অনেক বেশি কিছু মনে হতো। অবশ্য অনলাইনে রিলেশন আমি একদমই বিশ্বাস করতাম না। যেখানে বাস্তবের রিলেশনশিপ গুলাই তাসের ঘরের মতো!! কিন্তু নিলুর ক্ষেত্রে আমার ব্যাপারটা আলাদা লাগতো। আমি যতই ওকে অনান্যদের সাথে যাচাই করতাম,, ততই ওর প্রতি মুগ্ধ হতাম। হয়তো আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ছি ওর উপর !! প্রথম প্রথম এটাকে উড়িয়ে দিতাম,, যে ক্রাশ তো খেতেই পারি এতে এতো সিরিয়াস হওয়ার কি আছে!!! কিন্তু ধীরে ধীরে এই সিরিয়াসনেস টা আসতে থাকলো আমার। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না,, আবার কি নতুন কোন ভুল করতে যাচ্ছিলাম! আচ্ছা নিলাকে কি বলে দিবো আমার মনের কথাটা,, আচ্ছা যদি নিলা আমাকে না করে দেয় বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। একটা অদ্ভুত ব্যাপার নিজের মধ্যেই একটু একটু লক্ষ্য করেছি,, নিলুর ব্যাপারে যখন খুব সিরিয়াস হয়ে যাই তখন ওকে মনে মনে নিলা বলে ডাকি!! আচ্ছা কেন ডাকি ওকে এরকম!! আবার কেন ওকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে যখন ও অফলাইন হয়ে যায়। অনেকটাই আশ্চর্যই হই আমি!!! মানুষের মন এতো তাড়াতাড়ি বদলায় যায় কিভাবে এক আল্লাহ মাবুদই ভালো জানেন। আমি এর চেয়ে বেশি নিলুর ব্যাপারে কিছুই ভাবতে পারছিলাম না,,, আচ্ছা নিলু ও কি আমার মতো দোটানায় আছে!!
৫
আরো ২/১ মাস চলে গেল,, আমার অবস্থা যেই লাউ,, সেই কদু!! বলবো বলবো করে এখনো বলতে পারছি না নিলুকে কিছু। ও মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে -"তুমি কি কিছু বলতে চাও আমাকে"। আমি কোন না আজুহাত দিয়ে বিষয়টা এরিয়ে যায়,, মাঝে মাঝে মনে হয় ব্যাপারটা হয়তো নিলু কিছুটা আচ করতে পেরেছে। কিন্তু আমার কেন জানি ২য় বার এরকম ঝামেলায় আবার পড়তে ইচ্ছে করছে নাহ! ওদিকে নিজের মন টাও আবার লাগামহীন ঘোড়ার মত শুরু করেছে। পুরনো সেই অস্থিরতা আবার একটু একটু করে টের পাচ্ছি!! 
৬
--- তুমি কি কিছু বলতে চাও আমাকে?
.
--- কই না তো!!
.
--- না তুমি এই ২/১ মাসে কেমন জানি হয়ে গেছো?
.
--- কিরকম!!!
.
--- ঠিক জানি না তবে, ইদানীং তোমার কথাবার্তায় মনে হচ্ছে তুমি কিছু বলতে চাও আমাকে!
.
এই যা!! নিলু কি সব বুঝে ফেললো নাকি?
.
--- এই কি হলো চুপ হয়ে গেলে যে? (নিলু)
.
আমি আর কিছু না ভেবেই ওকে মেসেঞ্জারের ইনবক্সে 
একটা লাভ ইমো দিয়ে বলে দিলাম,,,
.
--- আই লাভ উ!!
.
সংগে সংগে নিলু রিপ্লাই দিলো...
.
--- কি!!!!
.
আমি প্রতিউত্তরে লিখলাম,,,
.
--- কিছু না নিলু!! তবে যেটা আমি ফিল করি তোমাকে নিয়ে সেটা বললাম!!
.
--- দেখো সোহাগ তুমি হয়তো আবেগের ঘোরে আছো এজন্য এরকম বলছো। 
.
--- জানি না!! তবে যেটা ফিল করি তোমার ব্যাপারে আমি সেটাই বললাম.
.
এরপর আর নিলুর রিপ্লাই আসলো না,,,, কিছুক্ষন পর দেখলাম অফলাইন হয়ে গেছে!! মনে মনে ভাবলাম
হয়তো কিছুক্ষন পর ব্লক ই করে দিবে,, সাধারনতো মেয়েরা ফেবিতে যেটা করে থাকে। ওর আর সারা না পেয়ে আমিও অফলাইন হয়ে,, খাবার টেবিলে চলে গেলাম!! খাওয়ার সময় হঠাৎ মোবাইলটা কেপে উঠলো মেসেজে!! ওপেন করে দেখি নিলুর মেসেজ,,
" আমি ভেবে দেখবো সোহাগ,, তুমি ডিনার করে নিও"
৭
ঠিক দুদিন পরই নিলু আমার প্রপোজাল গ্রহন করে। আমার অবশ্য তখন অনেক ভালো লাগলো,, যে নিলুকে আমার জীবনে পাবো,, সেই সাথে কিছুটা দ্বিধাও কাজ করতে লাগলো মনের ভিতর,, আসলেই ওকে পাবো তো!! নিলুও অবশ্য রিলেশনের শুরুতে প্রায়ই বলতো যে,, " আমি যদি তোমাকে কখনো ছেড়ে চলে যাই, তুমি কষ্ট পাবে না তো" আমি মুখে শুধু একটা হাসি আনতাম,, কিছু বলতাম না!! তারপর ও খুব শক্ত করে আমার হাত দুটো ধরে, আমার চোখে-চোখ রেখে বলতো " চিন্তা করো না আমি কখনোই তোমাকে কষ্ট দিবো না, কখনোই তোমায় ছেড়ে যাবো না, " কথা গুলো এর আগেও অনেকবার শুনেছি, কিন্তু নিলুর মুখ থেকে যখন শুনতাম তখন কেমন জানি লাগতো!! কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করতাম!দিন যেতে যেতে ব্যাপার টাতে একটা পর্যায়ে অভ্যস্ত হয়ে যাই। আর নিলুর ভালোবাসাটাও আস্তে আস্তে অনেক গভীর হয়ে যায়। আমাদের ফেসবুকে যোগাযোগ কমে যায়, বেশির ভাগ সময় ফোনেই কথা হয়! নরমাল কাপল রা যেভাবে তাদের রিলেশন কন্টিনিউ করে,, আমরা সেভাবে আমাদের রিলেশন কন্টিনিউয়াস করতে লাগলাম। তবে নিলুর সাথে ঝগড়া অনেক কম হতো, বলতে গেলে হতোই না,, ও অনেকটা নরম স্বভাবের মেয়ে!! আর সি-আর বি ৭ রাস্তার মোড়টা আমাদের দুজনের ফেভারিট ছিলো। ওখানেই আমরা প্রায়ই দেখা করতাম। তবে নিলুর ফুচকা অনেক পছন্দ ছিলো,, যেদিন দেখা হবে সেদিন ওকে ফুচকা খাওয়াতেই হবে, নাহলে ওর মুড অফ হয়ে যায়। আর শুধু ও একা খাবে না,, আমাকেও ওর সাথে খেতে হবে। তবে মেয়েটার মধ্যে কেমন জানি একটা সরলতা কাজ করতো আমার প্রতি!! আর সেটা আমি ওর চোখে স্পষ্ট দেখতে পেতাম,,,,,
৮
নিহি আর নিলুর মধ্যে বেশ পার্থক্য আছে। তবে দুজনেই যথেষ্ট সুন্দরী আমার কাছে!! একজন অনেক রাগি আর একজন অনেক ঠাণ্ডা,, তবে কেন জানি নিলুর ঠাণ্ডা স্বভাবের চেয়ে নিহির রাগী স্বভাবটাই মিস করতাম বেশি,,, হয়তো প্রথম ভালোবাসা ছিলো তাই!! রাতের বেলা যখন শুতে যেতাম,, বিশেষ করে নিলুর সাথে কথা বলার পর!! ঠিক তখন নিহির কথা অনেক মনে হতো,, মনে হতো ইস এখন যদি নিলুর জায়গায় নিহি থাকতে পারতো!!! কিন্ত সেটা এখন একেবারেই অসম্ভব। আমি শত আশা নিয়ে বসে থাকলেও নিহি আর আসবে না!!। হঠাৎ নিলুর ফোন আসলো,, রিসিভ করতে না করতেই বললো,,,
.
--- এই কি করছো?
.
--- কি ব্যাপার এতো অস্থির হয়ে গেছো কেন!!
.
--- আসলে এক্সাম দেওয়ার সময় তোমার কথা খুব মনে হচ্ছিল! তাই এক্সাম পেপারটা ম্যামের কাছে দিয়েই
তোমাকে এখন কল দিলাম। আচ্ছা বলো না কি করছো এখন?
.
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম,,
.
--- এই তো বৃস্টি দেখছি!!
.
--- ইস!! এখন যদি তোমার সাথে বৃস্টিতে ভিজতে পারতাম। 
.
--- হ্যা হয়েছে,, আর ভিজতে হবে না,, শেষ বার বৃস্টিতে ভিজে নিজেও নিউমোনিয়াতে ভুগছো,, আর আমারো জ্বর আনিয়েছো!!
.
কথাটা শুনার পর নিলু খুব জোড়ে জোড়ে হাসতে লাগলো,,,আমি খানিকটা বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,,,
.
--- কি হলো হাসছো কেন!!
.
--- এই যে তোমার কথা শুনে,,,,
.
এই বলে ফোনের ওপাশ থেকে আবার অট্টহাসির আওয়াজ শুনতেপেলাম,,নিলুর মধ্যে এই ব্যাপারটা আমার কাছে কেমন জানি অন্যরকম লাগে! একবার হাসা শুরু করলে একদমই থামতে চায় নাহ মেয়েটা। তবে ও যখন হাসে তখন ওর চেহারার নিস্পাপ ব্যাপারটা আরো গভীর ভাবে ফুটে ওঠে। 
.
--- এই কি হলো কথা বলছো না যে? (নিলু)
.
আমি প্রসঙ্গটা পালটে দেওয়ার চেষ্টা করে বললাম,,
.
--- নাহ কিছু না,, তুমি ছাতা আনছো?
.
--- হ্যা আনছি, ব্যাগে আছে।
.
--- আচ্ছা ঠিক আছে সাবধানে যেও! আর বাসায় গিয়ে আমাকে একটা কল দিও!
.
--- ওকে।
.
--- হুম ওকে। বাই!
.
--- বাই জান!!
.
তারপর আমি ফোনটা টেবিলের উপর রেখে,আবার বৃস্টি দেখতে লাগলাম!! আচ্ছা নিহিও কি,, আমার মতো মাঝে মাঝে বৃস্টি দেখে.......
৯
আমার এপোয়েন্ট মেন্ট লেটার টা দেখে নিলু অনেক বেশি খুশি হয়ে গেল,, ওর ভাব/সাব দেখে মনে হলো যেন একেবারে হাতে ঈদের চাঁদ পেয়ে গেছে। আমি নিলুকে জিজ্ঞেস করলাম,,,,
.
--- একটা এপোয়েন্ট মেন্ট লেটার ই তো! এরকম ভাবে দেখার কি আছে?
.
নিলু প্রসঙ্গটা পালটে দিয়ে বললো,,,
.
--- চলো আমরা বিয়ে করে ফেলি!!
.
--- যাহ!! কি বলো,,, এখনো তো তোমার ফ্যামিলি কিছুই জানে নাহ..... 
.
--- তাতে কি!! বিয়ের পর জানবে।
.
--- আচ্ছা ঠিক আছে। আজকে আন্টির সাথে কথা বলো,,, দেখো কি বলে!! আর আমিও তোমার ব্যাপারটা আম্মুকে জানাবো।
.
নিলু এক চিলতি হাসি দিয়ে বললো,,,
.
--- ওকে বাবু!
.
হঠাৎ আমার মাথার মধ্যে একটা প্রশ্ন জাগলো এবং সেটা সাথে সাথেই নিলুকে বলে ফেললাম,,,,,
.
--- আচ্ছা নিলা আজ আমার যদি চাকরী না হতো,, তাহলে তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে!
.
কথাটা শুনার পর নিলু খানিকটা চুপ হয়ে গেলো, তারপর একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললো,,,,
.
--- তাহলে আমি চাকরী যোগাড় করে তোমাকে বিয়ে করতাম!
.
--- আর তোমার ফ্যামিলি?
.
--- চেষ্টা করতাম তাদের ম্যানেজ করার!
.
--- আর যদি না পারতে!
.
--- তাহলে আর কি,, তাদের হয়তো ছেড়ে আসতে হতো!! আর তাছাড়াও মেয়েদেরকে একটা না একটা সময় তাদের নিজেদের ফ্যামিলিকে ছেড়ে অন্যের ঘরে যেতেই হয়,,,, সেটা না হয় তোমার ঘরেই গেলাম।
.
--- কেন নিলা!!!
.
--- কারন বড্ড ভালোবাসি যে তোমায়....
.
কথাটা বলেই নিলু চুপ হয়ে গেল,,,আমি আর একটু ভালোভাবে খেয়াল করে ওর দিকে তাকালাম,, আর দেখলাম ওর চোখ টা ছল ছল করছে!!!!
১০
বারান্দায় বসে বসে আকাশের তারাগুলো দেখছি, মেঘ কেটে যাবার পর তারাগুলো অনেক ঝলমল করছে! বুঝাই যাচ্ছে আকাশে তেমন কোন মেঘ নেই!! হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠলো,, দেখি নিলার ফোন... রিসিভ করতেই বললো,,,
.
--- হ্যালো জান! একটা খুশির সংবাদ আছে!! আম্মু আমাদের ব্যাপারটা মেনে নিয়েছে।
.
আমি ওর কথায় তেমন এক্সাইটেড হলাম নাহ!! খুব স্বাভাবিক ভাবেই বললাম,,
.
--- ভালো তো!
.
আমার কথার ধরনটা শুনে নিলা মনে হয় কিছুটা অবাক হয়েছে। তারপর জিজ্ঞেস করলো,,,
.
--- তুমি খুশি হও নি?
.
--- হুম হয়েছি তো!! 
.
--- নাহ তোমার কথার ধরন শুনে মনে হচ্ছে তুমি কোন ব্যাপারে আপসেট!! আচ্ছা কি হয়েছে তোমার বলো তো আমাকে?
.
--- তুমি টেন্স নিও না তো। তেমন কিছুই হয় নি!
.
--- সত্যি তো!!
.
--- হুম সত্যি। আচ্ছা শোন, মা ডাকছে আমি তোমার সাথে রাতে ডিনার করার পর কথা বলবো, আর তুমিও ডিনার করে নিও কেমন!!!
.
ফোনের ওপাশ থেকে একটা দীর্ঘনিশ্বাস শুনতে পেলাম,,,
.
--- হুম করে নিবো।
.
--- বাই!
.
--- হুম বাই জান।
.
তারপর আমি ফোনটা কেটে দিলাম,, বুঝতে পারছিলাম নিলু আমার সাথে আরো কিছুক্ষন কথা বলতে চাচ্ছিলো কিন্তু আমার কেন জানি ইচ্ছা করছিলো না। হঠাৎ নিহির কথা মনে পড়ে গেল,, এই ব্যাপারটা প্রায়ই ঘটে ইদানীং আমার সাথে,, নিলুর সাথে কথা বলার পরপরই নিহির কথা হুট করে মনে পড়ে যায়। নিহির সাথে আমার প্রথম দেখা হয় স্কুলে থাকতে,, প্রথম দেখাতেই ওকে আমার ভাল লেগে যায়। তাই প্রপোজ করে ফেলি,, আর ও সাথে সাথে রিজেক্ট করে দেয় কিন্তু ব্যাপারটা খুব একটা এফেক্ট করেনি সেই সময়, কারন তখন যাকেই দেখতাম তাকেই আমার ভালো লাগতো । ঠিক তার দুবছর পর অবশ্য ততদিনে আমি কলেজে উঠে গেছি, তখন নিহির বোনের মাধ্যমে জানতে পারি যে নিহিও আমাকে পছন্দ করে। যেহেতু তখন সিংগেলই ছিলাম, তাই ভেবেছিলাম একটা রিলেশন করেই দেখি নাহ,,, কি এমন আসে-যায়!! কিন্তু ওটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো যেটার পরিণাম আজ আমি হারে হারে টের পাচ্ছি। রিলেশনের প্রথম ৩ বছরে আমি অতটা সিরিয়াস ছিলাম না, যতটা নিহি ছিলো। অসম্ভব রকমের রাগী মেয়ে ছিলো নিহি,, আর ঝগড়া হলেই মেয়েটা ঘুমের ঔষধ খেয়ে ফেলতো। আর সময় মতো দেখা না করলে অনেক কান্নাকাটি করতো!! এভাবে ৩ টা বছর আমি নিহির পাগলামিতে অতিষ্ঠ হয়ে একটাপর্যায়ে ব্রেক আপের পথে হাটা ধরি কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পর ওর অনুপুস্থিতিটা প্রচণ্ড ভাবে অনুভব করি নিজের মাঝে!! পরে বাধ্য হয়ে ওকে আবার কাছে টেনে নেই। এই বার দুজনেই অনেক সিরিয়াস হই নিজেদের রিলেশনের ব্যাপারে,, দেখতে দেখতে ১ বছর চলে যায়ে! এর মাঝে দুজনের ফ্যামিলিকেও ম্যানেজ করে ফেলি আমাদের বিয়ের ব্যাপারে! কিন্তু হঠাৎ একটা ভালো প্রপোজাল চলে আসে নিহির বাসায় এবং আশ্চর্যজনকভাবে নিহির ফ্যামিলিও রাজি হয়ে যায়। শুনেছিলাম ছেলেটা নাকি অনেক টাকাওয়ালা!!! বিয়ের আগে নিহি আমাকে বলেছিলো" প্লিজ সোহাগ কিছু একটা করো, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও" কিন্তু আমার কিছুই করার ক্ষমতা ছিলো না, কারন তখনো আমার অনার্স শেষ হয় নি। তার চেয়ে বড় কথা নিহির ফ্যামিলি কোন অবস্থাতেই এই প্রপোজালটা রিজেক্ট করবে না!! আর নিহিও ওর ফ্যামিলির কাছে একটা পর্যায়ে অনেক উইক হয়ে পড়েছিলো। একটা সময় আমি নিরব দর্শকের মতো নিহির বিয়েটা দেখে গেলাম। ওর বিয়ে ঠেকাতে আমি কিছুই করতে পারলাম না,,, যখন একা থাকতাম বাসায়,, তখন কেন জানি চোখ দিয়ে পানি পড়তো খালি ! আচ্ছা নিহিও কি এখন আমার মতো রাতের আকাশের ঝলমলে তারাগুলো দেখছে! ও কি এখনো আমার জন্য কিছু অনুভব করে............ 
.

পতিতা

গল্পটির নাম পতিতা না হয়ে বেশ্যা হওয়া উচিত ছিল,সভ্য সমাজ ডিরেক্টলি এইটা ভিন্ন চোখে দেখবে,একজন বেশ্যা বা পতিতা যে পেশার সাথে জড়িত তাকে আমরা বেশ্যাবৃত্তি বলেই জানি যে শব্দটির ইংরেজি পারিভাষিক অর্থ প্রসটিটিউশন।
মেয়েটির নাম শ্রেয়া,লাইসেন্সধারী পতিতা,বেশ্যাবৃত্তি অপরাধ ছাড়া ভিন্ন অপরাধেই কেবল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার যোগ্যতা রাখে,শ্রেয়া মেয়েটি আট দশটি পতিতার ন্যায় সব-সময় মুখে পান চিবিয়ে কথা বলে না,শ্রেয়া দেহ বিক্রির জন্যে দৌলদিয়া ঘাট বা টাঙ্গাঈলের বেবিট্যাক্সি মোড়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে কাস্টমার ধরে না,সে সমস্ত পতিতার চেয়ে আলাদা স্বভাবের,শিক্ষিত সমাজের সাথে মাঝে মাঝে ইংরেজিতেও কথা বলতে দেখা যায় তাকে।
সাবেক বয়ফ্রেন্ড আশিক নেশার টাকা জোগাড় করতে পতিতা পল্লীতে শ্রেয়াকে বিক্রি করে যায় মাত্র ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে,তারপর শ্রেয়াকে বাধ্য করা হয় দেহদানে,শ্রেয়া এখন নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে পতিতা পল্লীর পরিবেশের সাথে,প্রথম দিকে যদিও তার প্রচুর মন খারাপ করতো।
শ্রেয়া ও আশিক একই ইউনিভারসিটিতে পড়তো,আশিক শ্রেয়াকে কখনোই ভালোবাসেনি,নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করে কিছু টাকা ইনকাম করার জন্যেই ভালোবাসার নাটক তৈরি করেছিল সে। এরকম হাজার হাজার আশিক বাংলাদেশে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,যে আশিকেরা ক্লাস সিক্সের মেয়েকে কিডন্যাপ করে বিক্রি করে দেয় পতিতা পল্লীতে,যে আশিকেরা ক্লাস নাইনের মেয়ের নিকটে মিথ্যেভাবে নিজেকে বড়লোক প্রেমিক রুপে প্রতিষ্ঠিত করে,একসময় ঘুড়তে যাওয়ার কথা বলে হাত-বদল করিয়ে কিছু টাকা ইনকাম করে,এই আশিকেরাই যেই সময়ে শ্রেয়াকে বিক্রি করে দেয় সেই সময়েই শ্রেয়া সাবজেক্টকে পাস্ট ইস্যু আর একটি সফল সাকসেসের তকমা গায়ে লাগিয়ে নিজের রেট বৃদ্ধি করে সামান্য একটি কথার মাধ্যমে মাসি/পিসি এই রেটে আর নতুন মেয়ে সাপ্লাই দিতে পারবো না, দামটা বাড়াতে হবে,মাসি/পিসি তখন উত্তর দেয় এবার দেখেশুনে সুন্দরী আর কচি একটি মেয়ে নিয়ে আসিস দেখি,২০ হাজার বাড়িয়ে দিবো।মাসি/পিসির কথায় আশিকেরা নতুন ভাবে প্রেমের নাটকের স্ক্রিপ্ট তৈরি করে,আবার একজন নায়িকা তৈরি করে নেয়,আবার তাকে সহজ-সরল লোভ দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি করে,এরকম চলছেই বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র এটি সালটি ২০১৭,যদি ৩০১৭ সালে আমার এই গল্পটি কেউ পড়ার প্রয়োজনীতা বোধ করে তখন আমায় পাগল লেখক বলেই সম্ভোধন করবে,কারন ৩০১৭ সালে পতিতাবৃত্তি নিয়ে কেউ জানার চেষ্টা করবে না,তখন পতিতালয় নামক আলাদা কোন স্থান থাকবে না,তখন দেশটি এখনকার সময়ের নিউজিল্যান্ড,ব্রাজিল,সিঙ্গাপুরের ন্যায় হয়ে যাবে।
যদিও ব্যাপারটি নিয়ে লেখার কোন ইচ্ছে আমার ছিল না কিন্তু একটা অপরাধবোধ আমার মাঝে উঁকি দিচ্ছিলো,একজন বোন লেখাটি পরে হয়তো নিজেকে সংশোধন করতে পারবে হয়তো একজন বোন অপরিচিত কারো প্রেমে পড়ে বাবা-মাকে ছেড়ে দূর অজানার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার উপায়কে ইগনোর করতে শিখবে।

শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৭

বাল্যবিবাহ

বিয়েটা এমনিতেই অনেক বড় দ্বায়িত্বের বিষয়। প্রাপ্ত বয়স্করাও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসে। নতুন একটা পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়। মেয়েদের শ্বশুর বাড়িটাকে নিজের মতো করে সব কিছু করে নিতে হয়। সবকিছুর একটা সঠিক সময় আছে।
.
সবকিছুর জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকার একটা ব্যাপার আছে। আর বিয়ের জন্য পুরোপুরি। যেহেতু বিয়ে সেহেতু মানসিক আর শারীরিক দুজায়গাই প্রস্তুত থাকতে হয়। আর সেখানে প্রাপ্ত বয়স্ক না হলে কিভাবে হয়?
.
ক্লাস সিক্স থেকে সেভেনে উঠতেই দিয়ে দিলেন বিয়ে। শরীর সাস্থ বড়সড় হলেই হয়না। অনেক গার্ডিয়ান'রা এ কাজটা করে। স্বাভাবিকভাবে মেয়েরা বেড়ে উঠে ছেলেদের থেকে একটু আগ করে।
.
সিক্স সেভেন কিংবা এইটে উঠতেই হয়তো শরীর সাস্থ ঠিক হয়ে যায়। আরে বোকা গার্ডিয়ান'রা এটা চিন্তা করেনা মন মানসিকতারও একটা ব্যাপার আছে। যে সময়ে তাঁর দুনিয়া সম্পর্কে আরো জ্ঞান অর্জন করার কথা সে সময়ে সংসার সামলাতে হয়!
.
বাল্যবিবাহ'র কারনেই বেশি মায়েদের সমস্যা হয়। একটা বাচ্চা কি করে আরেকটা বাচ্চা সামলাবে? এ জন্য সিজার বা ইত্যাদি সমস্যার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরলোকগমন করতে হয়। হয় বাচ্চা বাঁচে মা মরে নাহয় মা বাঁচে বাচ্চা মরে। দুটোই কষ্ট দ্বায়ক।
.
খুব স্বাভাবিক প্রাপ্তবয়সে বিয়ে হলে ছেলে মেয়ে উভয়দিক থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়না। আর বাল্যবিবাহ হলে সমস্যা তো খুব স্বাভাবিক বিষয়।
.
মা হওয়ার যন্ত্রণা বাচ্চামেয়ের সহ্য করতে হয়। অনেক বিয়ে এর জন্য বিচ্ছেদ পর্যন্তও পৌঁছিয়েছে। বিষয়টা হচ্ছে এমন ক্লাস ফাইবের ছাত্রীকে দিচ্ছেন ক্লাস নাইনের বই সামলাতে।
.
যেখানে সে একদমই জ্ঞানহীন। আধুনিক মেয়েরা যতই আধুনিক হোক না কেন বিয়ের চাপড়া সহ্য করতে কষ্ট হয়ই। সময়ের সাথে সাথে মেয়েটা অনেক কিছু আগে শিখতো তাঁর পর নাহয় নিতো সংসারের প্রস্তুতি।
.
আরেকটা ভূল গার্ডিয়ান'রা করে থাকেন সেটা হলো, বিয়ের আগে মেয়েদের জিজ্ঞেস করেনা "তুমি কি বিয়ের জন্য প্রস্তুত আছো? বা বিয়ের জন্য ঠিক আছে কি না?.. বাবারা মনে করে আমার মেয়ে আমি যা বলবো তাই হবে মেয়ে আমার না করবেনা।
.
আমি যা করবো তাই'ই। তাইতো বিয়ের পর দৌড়াদৌড়ি তাঁদেরই করতে হয় ভিবিন্ন সমস্যা নিয়ে। একটার পর আরেকটা সমস্যা লেগেই থাকে। বাবা হীসেবে তাঁদের সীমাহীন কষ্ট হলেও সমস্যাটা মেয়ের উপর দিয়েই যায়।
.
পুরো দখল তারই সহ্য করতে হয়। মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা খুব প্রয়োজন বিয়ের আগে। তা তে কি হয় সংসারটা খুব সহজে সাজিয়ে নিতে পারে, মানিয়ে নিতে পারে। আমি আবারো বলছি "মানিয়ে নিতে পারে" আর মানিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি নতুন বন্ধনের জন্য, খুব বেশি।
.
বাংলাদেশের এর জন্য সীমিত আইন থাকলেও কার্যকর হয় খুব কম। অল্প মালেই (টাকা) কাজ হয়ে যায়। আমি মনে করি বিয়ের পরেই একটা মেয়েকে মায়ের অবধান রাখতে হয়। কারো ভাবী, কারো মামী, কাকী আর ভাবী, মামী, কাকী মানেই তো মায়ের সমান।
.
একটা মায়ের ভুমিকা পালন করতে যথেষ্ট সময়, মন মানসিক আর শারীরিক সবদিক থেকেই প্রস্তুত থাকতে হয়। তাহলে ক্লাস, সিক্স, সেভেন, এইট ,নাইনের মেয়েদের যে বিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা কি করবে?
.
কষ্ট হবেনা মানিয়ে নিতে? আমার মতে, "মেয়েদের তখনই বিয়ের সঠিক সময় হয় যখন সে একজন মায়ের ভুমিকা পালনের জন্য সবদিক থেকে প্রস্তুত হয় " এর জন্য বাংলাদেশে অনেক সংস্থা কাজ করলেও কাজ হচ্ছেনা।
.
বাড়ছে বাল্যবিবাহ'র সংখ্যা। কেন জানিনা আমার বাল্যবিবাহ দেখলে মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। যখন মেয়েটার বিয়ের পরের কিছু দৃশ্যের কথা ভাবি। আমিই বা কি করবো? আমি না প্রধানমন্ত্রী না রাষ্ট্রপতি।
.
মস্তিষ্কের জোর দিয়ে এটুকু কলমের দ্বারা বলতে পারি " বন্ধ করুন বাল্যবিবাহ, ভাবুন, সোচ্চার হোন, আধুনিকতার অপব্যবহার করছেন , সময় পাল্টাচ্ছে জানি, অর্ধমরা ডিজিটাল হচ্ছে জানি তার মানে তো এইনা যে এস.এস.সি পাশ মেয়েটা ভার্সিটির বই সামলাতে পারবে? "

একটি লাভ লেটার ও ভালবাসার কাহিনী

রাইসা কাঁদছে । যাকে বলে অঝরে কাঁদতে থাকা । কিন্তু তাতে কারো কিছু আসে যায় না । রুমটি বাহির থেকে বন্ধ । ১৬ তে পা দিবে দিবে মেয়েটিরব্যাগে যদি তার মা লাভ লেটার পায় তাহলে এটা করাটাইতো স্বাভাবিক ।
.
কিন্তু টিন এইজের একটা মেয়ের মাথায় এই যুক্তিই বা কেন কাজ করবে ?
.
পরনেএখনো স্কুল ড্রেস । কেঁদে বালিশ ভিজিয়ে ফেলেছে । আর কিছুক্ষণ পর তার জন্মদিন । সে ঠিক করেছিলো কাল স্কুল পালিয়ে সারাদিন রবির সাথে ঘুরবে । প্রথম ভালবাসার হাত ছুঁবে ।
.
আশাটা অপুর্ণ থাকলো ।
.
খট খট খট খট খট
.
রাইসা আধবোজা নয়নে তাকালো জানালায় , রবি ! জানালার ওপাশের খোলা বারান্দার , গ্রীল ধরে দাড়িয়ে আছে । অজানা এক ভয়ে দৌড়ে এলো বারান্দায় ।
.
তিনতলায় উঠলে কেমনে ? এত রাতে কেন এসেছো ? জানো বাসায় চিঠিটা পেয়ে গেছে ?
.
সুসস
.
রাইসা চুপ হয়ে অবাক দৃষ্টিতে তাকালো
.
এত প্রশ্ন করছো কেন ? এসেছি এটাই তো বড় কথা । জানতো আজ তোমার জন্মদিন ?
.
বিস্ময় তার চোখে মুখে , এত দুঃখে সে সবই ভুলে গেছে ।
.
আলতো করেহাত ছুঁলো রাইসার । আবেগে আপ্লুত হয়ে চোখ বুজে ফেলল সে । স্রষ্টাকে শত কোটি ধন্যবাদ একটা মানুষ আর একটা মানুষের মনের ভাষা বুঝতে পারে না বলে । না হলে রবির সামনে সে লজ্জায় সে মরেই যেত ।
.
চোখ বুজে আছে সে , অনুভব করলো তার শুকিয়ে আসা অশ্রু গুলো এক হাতে মুছে দিচ্ছে রবি । হাতটা তার ঠোঁটের উপর এসে থামনো । রাইসা চোখ খুলবার সাহস করলো না । বুক থরথর কাঁপছে ।
.
মেয়ে চোখ খুলো , আমাকে দেখো
.
নাভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালো রাইসা । রবি হাসলো । চোখ বুজেথাকলেও রাইসা বুঝতে পারছে রবির মাথাটি আস্তে আস্তে তার দিকে ঝুকে পড়ছে ।
.
কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো সে । এবার রাইসা চোখ খুলল । এক জোড়া মায়াময় চোখ তারদিকে তাকিয়ে আছে ।
.
তোমার জন্য কবিতা একটালিখেছি , শুনবে ?
.
হাসলো সে , মাথা ঝাকালো ,শুনবে । ছোট একটা পৃষ্টা বেরুলো রবির পকেট হতে ।
তোমার চোখে আছে এক মায়া
যেন কালো কাজলেরাঙিয়েছে এক সুন্দরীতমা
.
চশমা পড়া , সিল্কি চুল
হাসিতে বেলুনছড়া হয়েছে সুমধুর ,
প্রান্ত থেকে প্রান্ত ভরে গেছে ফুলে
তারই এক বিন্দুতে আছো পাপড়ির আড়ালে
.
মেয়ে তুমি শুনছো ?
তুমি বাগানের মধ্যে সদ্য প্রস্ফুটিত তাজা গোলাপদেখার অনুভূতি ,
তুমি আলোকিত চাঁদ
একটি নিটোল স্বপ্নেরনীলভ ভাজ ,
.
কখনো মনে হয়
তুমি সজীব কবিতা ,
চির ঝংকৃত সুরের কিছু ছন্দের দ্যোতনা ,
শিল্পীর আঁকা একটি জীবন্ত ছবি
তোমার চোখে লিখা আছে আমারই নাম
"রবি"
.
এতসব ভাবনার মাঝে ভাবনা সাজাই
কাব্যের পন্ক্তিতে ভেলা ভাসাই
সবই এসেছে এক বিশেষ দিনে,
তুমি জানো ?
এ ছিলো তোমারই জন্মদিনে
.
.
.
.
রবি খেয়াল করেনি , যখনসে কবিতা পড়ছিল রাইসার চোখ বেয়ে আবার শ্রাবণের ধারার মত অশ্রু ঝরছিলো , এবারেরটা উৎস ছিল এক অপ্রকাশিত সুখ ।
.
.
রবি কবিতা পড়া শেষ করে তাকালোতার দিকে । মেয়েটা ছুটে এসে তার ঠোঁটজোড়া চিপসে দিলো তার ঠোঁট দুটো ।
.
রবি তার চোখে মুখে অশ্রুর সিক্ততা অনুভব করছে । মেয়েটাকে ভালবাসে সে , কখনো তাকে ছাড়বে না ।
.
না ছড়বে না ।
.
যেন নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করছে ।
.
.
.
.
.
২০ বছর পর
.
রাইসা তার মেয়ের ব্যাগ থেকেচিঠিটা পেল । রাফা থর থর কাঁপছে । যা ভাবলো তাই মেয়েটা লাভ লেটার পেয়েছে ।
.
রাফা অবাক হয়ে দেখলো মার মুখটি অস্বাভাবিক শান্ত রূপ ধারণ করেছে ।
.
"রুমে যাও " গলাটা কেঁপে উঠলো ।
.
রাফা ভুল দেখলো কি না বলতে পারছে না । মায়ের চোখে ছলছল করছিলো ।
.
রাইসা অনেকদিন পর তার পুরানো এলবামটা খুলল । ছবির নীচ থেকে কাগজ দুটো বেরুলো ।
.
প্রিয় রাইসা
কাল তোমার জন্মদিন । তোমাকে কতটা ভালোবাসি তা ইনিয়ে বিনিয়ে লিখা আমার দ্বারা সম্ভব না । তাই লিখছি না । তবে একটা কবিতা লিখেছি । কাল তোমার শোনাবো । তুমি শুনবে তো ?
.
তোমার রবি
.
.
.
রবি আজ বেঁচে নেই , সেই রাতে তিনতলা থেকে নামতে গিয়ে পা ফসকে যায় । হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে । সে মরে গেলেও তার স্মৃতির পৃষ্টাগুলো আজো তার মনে সাড়া ফেলে ।
.
আজ সে তার মেয়ের মাঝে সে ২০ পুরানো রাইসাকেই যেন দেখছে ।
.
রাফার চিঠিটা টেবিলে রেখে এসেছে ।বাহিরে অনেক বৃষ্টি । আজ কেন যেন সেই বূষ্টিতে ভিজতে খুব ইচ্ছা করছে । হয়তো চোখের পানিটা লুকানো যাবে বলে ।
.
বিড়বিড় করছে রাইসা
.
তুমি সজীবকবিতা ,
চির ঝংকৃত সুরের কিছু ছন্দের দ্যোতনা ,
শিল্পীর আঁকা একটি জীবন্ত ছবি
তোমার চোখে লিখা আছে আমারই নাম
"রবি"

অসমাপ্ত ভালবাসা

পরিচয়টা বেশি দিনের না,,
এর মধ্যেই হৃদয়ের উপর দুর্বলতা অনুভব করছে অনু।
এইত কয়েকদিন আগের কথা,,এই ফেসবুক নামক সাদাকালো জগত থেকেই মাসখানেক আগে হৃদয় আর অনুর পরিচয়,তেমন কারো সাথে কথা না হলেও হৃদয়ের সাথে টুকটাক কথা হতে হতে বন্ধুত্যে গড়ায় হৃদয় অনু'র কথাবার্তা।
স্বাভাবিক নিয়মেই কেউ কাউকে দেখা হয়ে ওঠেনি,,,কিন্তু তবু,,,ভালবাসা আর মনের টান,অনেকটা চুম্বকের মত আকর্ষিত করে নেয় বীপরিত দিককে।
তেমন করেই হয়ত অনুর মনেও হৃদয় আর হৃদয়এর মাঝে সেই আকর্ষণ এসে যায়।মাসখানেক সময় অতিক্রম করার পর প্রবল আকর্ষনে ঠিকই তারা খুব কাছাকাছি এসে পড়ে,,হৃদয় অনুর সম্পর্ক চলে যায় ভালবাসায়।
উল্লেখ্য ব্যাপার যে,এই সময়টা পর্যন্ত তাদের ফেস দেখা হয়না।
চলতে থাকে সম্পর্ক মিস্টি মধুর সম্পর্ক।
>>
প্রায় মাস দশেক পর,,,
বাধ আসে অজানা এক কারন এসে।
দিনকে দিন এদের মাঝে দুরত্ব হতে থাকে,,,কিন্তু না,কেউ অন্য কাউকে পেতে নয়,সাধারনত কথা হতে থাকে।
কিন্তু সেই হাসি+দুস্টামি+জোশ নাই সম্পর্কে।ভালবাসার অভাব কি আর কিছুতে পুর্ন হয়?অভাবনীয় যন্ত্রনায় পুড়তে থাকে অনু।
>>>>
দুরত্ব বাড়তে থাকবে? কাছে আসবে?
জানা নাই,
হয়ত গল্প বড় না কাহীনি ছোট,,
একটু ভাবুনতো,প্রিয় জনের থেকে অবহেলায় কেমন অসহায়ের মত ছটফট করতে থাকা মনের উপর কি নিয়ন্ত্রণ করা যায়??
সাদা কাগজে দাগ পড়লে মুছা যায়না,
মুছতে পারলেও জলছাপ চলে যায়না।
তেমনি মনের খাতার একমাত্র পৃষ্টায় যে নাম লিখা হয় তা কি আজিবনে ভোলা যায়??
চোখের জল নাহয় মুছে দেয়া যায় কিন্তু মনের ভেতর হাহাকার শুন্যতা কি মুছে ফেলা যায়?
আপন মানুষটা ধীরে ধীরে চলে যায় দুরে,
এপারে থাকা অনুর মত হাজারও ভালবাসার কস্ট পুষে চলেছে মন।
যে মানুষটার অপেক্ষায় থাকা মেয়েটা তিলে তিলে পুড়ছে,হয়ত সে একদিন বুঝবে অনুর ভালবাসা তার জীবনে কতটা প্রভাব পড়েছিল
একদিন সে হয়ত পাগল হয়ে খুঁজবে কিন্তু ততক্ষনে হয়ত অবহেলা অনাদর ছলনার শিকার মেয়েটা তার
বাম হাতে চোখের বাকি জলটুকু মুছে নিয়ে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুয়ে পরেছে ভালবাসা বিহীন রাজ্যে,,,
ভালবাসা সত্য,ভালবাসা পবিত্র,,
সম্মান দিন,ভাল রাখুন ভালবাসার মানুষকে,
ভালবাসা আপনারে ভাল রাখবে।
ভালবাসুন,ভাল থাকুন,,,

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৭

"রাগ নয় বুদ্ধির জয় হয়"

--আমি তোমাকে যে শাড়িটার পিকচার সেন্ড করেছিলাম, তুমিতো বললেনা কিনে দিবা কিনা..!?
--ঐ শাড়ি কিনতে গেলে আমার বেতনের অর্ধেক নাই হয়ে যাবে..!
--তুমি কেমন স্বামী, বৌয়ের আবদার পুরোন করতে পারোনা..!? তাহলে বিয়ে করেছিলে কেন..? (রাগী কন্ঠে)
--দেখো অফিস থেকে কেবলই এলাম। আসতেনা আসতেই শুরু করে দিছো.! বিয়ে করলেই কি বৌয়ের সব আবদার মানতে হবে..!? মেজাজটা গরম করবানা বলে দিলাম..! (উচ্চস্বরে)
--আমি কিছু চাইলেই তোমার মেজাজ গরম হয়ে যায়..! আর সবার বেলায় তোমার মেজাজ ঠান্ডাই থাকে..!
--তুমিতো আসলেই একটা ফালতু মেয়ে..! সবার বেলায় মানে..! স্টুপিড কোথাকার..!
--মুখ সামলে কথা বলো..!
--এই তোমার সাথে কি মুখ সামলাবো..! (শুরু হয়ে গেল ঝগড়া)
এরপর ইরিনকে একটি বাজে ভাষায় গালি দিয়ে ফেললো রাশেদ। যেটা ইরিনের মাইন্ডে খুব লেগে গেলো! ইরিন আরো রেগে গেলো। তারপর বললো...
--থাকবোনা তোমার সাথে আমি। আজ রাতটা কোনোভাবে পার হোক। কাল সকালেই চলে যাবো।
--যাও যাও.. এছাড়া আর কি পারবে তুমি..!
.
আজ রাতে দুজন দুই বিছানাতে ঘুমালো। কেউ কারো সাথে কোনো কথা বললোনা। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাশেদ ইরিনকে খুঁজে পেলোনা। টেবিলের উপর একটা চিরকুট দেখেই রাশেদ বুঝতে পারলো ইরিন সত্যি সত্যি চলে গেছে..! রাশেদ চিরকুটটা হাতে নিয়ে পড়লো। তাতে লেখা ছিলো...
"যে আমার মা বাবা তুলে গালি দেয়, তার সাথে আমি সংসার করবোনা। আমি চলে গেলাম। খবরদার আমাকে খুঁজবেনা..!!"
.
ইরিন যে সত্যি সত্যি চলে যাবে, এটা রাশেদ বুঝতে পারেনি। কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা। সকালে নাস্তা না করেই অফিসে চলে গেলো।
.
ওদিকে ইরিনকে একা দেখে ইরিনের বাবা ইরিনকে বললো...
--কিরে মা, জামাই কই..?
ইরিন কাঁন্না ভেজা কন্ঠে বললো...
--আমি ওর কাছে আর যাবোনা বাবা..!
--কেন কি হয়েছে..? ঝগড়া করেছিস তাইনা..?
--ও আমার সাথে খুব বাজে ব্যাবহার করেছে।
--আচ্ছা ঠিক আছে। তুই ঠান্ডা হ। আমি সবই শুনবো..!
.
এদিকে রাশেদের অফিস করতেও আর ভাল লাগছেনা..! ইরিনকে কয়েকবার ফোন করার পরও রিসিভ করলোনা। বাধ্য হয়ে শ্বশুরকে ফোন দিলো...
--আসসালামু আলাইকুম...
--ওয়া আলাইকুম আসসালাম..
--বাবা, ইরিনের সাথে গতকাল একটু ঝগড়া হয়েছিলো। সকালে রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। ও নিশ্চয়ই আপনার ওখানে গিয়েছে..!
--হ্যাঁ বাবা, তুমি কোনো টেনশন করোনা। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি ইরিনকে বুঝিয়ে বলবো।
--আমার অফিস করতেও ভাললাগছেনা। আমিকি চলে আসবো ইরিনকে নিতে..?
--তুমি অফিস শেষ করেই আসো। আমি ততক্ষণে ওকে বুঝাই..!
--আচ্ছা ঠিক আছে। আসসালামু আলাইকুম..!
--ওয়া আলাইকুম আসসালাম।
.
বিকেলে রাশেদ আসলো শ্বশুরের বাসায় ইরিনকে নিতে। ইরিন এবং রাশেদ দুজন এক রুমে বসে আছে। ইরিন কোনো কথা বলছেনা। রাশেদ সরি বললো..
--সরি! আর তোমাকে রাগারাগি করবোনা। তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবোনা!
ইরিন মাথা নিচু করে বসে আছে। এমন সময় ইরিনের বাবা অর্থাৎ রাশেদের শ্বশুর রুমে ডুকলো।
.
ইরিনের বাবা ওদের দুজনের অভিযোগ শুনে দুজনের উদ্দেশ্যেই বলতে লাগলো...
--দুজনেই মনোযোগ দিয়ে শোনো। সংসারে রাগ, অভিমান, ঝগড়া, এগুলো থাকবেই। এগুলো ছাড়া সংসারে পরিপূর্ণতা আসেনা..! মানুষের মাথায় যখন রাগ জিনিসটা ভর করে, তখন মানুষের মধ্যে হিতাহিত জ্ঞানটা থাকেনা। মানুষ তখন নিজেও জানেনা যে, সে কি বলছে..! এই সময় তোমাদের দুজনের মধ্যে যে কোনো একজন যদি নিরব ভুমিকা পালন করতে, তাহলে দেখতে ঝগড়াটা এতদূর গড়াতো না। এই এখানটাতেই আমাদের সমস্যা, জানো!? আমরা কেউ কাউকে স্যাক্রিফাইজ করতে রাজিনা। রাগ জিনিসটা কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। এটা একসময় মাথা থেকে চলে যায়। কিন্তু রাগের মাথায় বলা কথাগুলো পরে দুজনকেই কষ্ট দেয়। রাগের সময় যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে'ই হচ্ছে আসল মানুষ। আল্লাহ্ তাকে পছন্দ করেন।
আমার স্ত্রীর সাথেও মাঝে মাঝে এমন ঝগড়া হতো। আমি মাস শেষে যে বেতন পেতাম, তাতে সংসারের খরচ চালাতে হিমসিম খেয়ে যেতাম। আমার স্ত্রীও মাঝে মাঝে বিভিন্ন জিনিসের বায়না ধরতো। আমার মাথায় হঠাৎ করে একটা বুদ্ধি এলো। পরের মাসের বেতন পেয়ে পুরোটা আমার স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে বললাম, এখন থেকে সংসার তুমি চালাবা এবং তোমার যা কেনার দরকার কিনে নিবা, আমার কোনো সমস্যা নাই। তারপর থেকে সে আর আমার কাছে বায়না ধরতোনা। সে আমার চেয়েও হিসেবি হয়ে গেল। তারপর থেকে আমাদের সংসারও সুন্দর ভাবে চলতে লাগলো..। আশাকরি আমাদের এই অভিজ্ঞতা তোমাদের সাংসারিক জীবনে কাজে আসবে।
.
ইরিন এবং রাশেদ দুজনেই কথাগুলো মনদিয়ে শুনলো। দুজনই দুজনের ভুল বুঝতে পারলো। এরপর থেকে রাশেদ তাই'ই করলো৷ পরের মাসের বেতনটা পেয়ে ইরিনের হাতে তুলে দিলো। ইরিন হিসেব করে খরচ করতে লাগলো। ইরিন এখন পুরো সোজা..! সে তার স্বামীর কাছে এখন আর বায়নাও ধরেনা..!!
•••