বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

¤¤ সে যে রূপসী ¤¤

কে বলেছে তোমাকে
রান্না করতে?(ধমকের
সুরে
বললাম)
-নিশ্চুপ হয়ে দাড়িয়ে
আছে।
-যেটা পার না সেটা
করতে যাও কেন?
-নিশ্চুপ।
-আমি তোমাকে কিছু
বলছি চুপ করে থাকবে
না।
-মাথা নিচু করে
দাড়িয়ে আছে।
-যদি বড় ধরনের কোন
দুর্ঘটনা ঘটত।কে
জবাবদিহিতা করত
তোমার বাবা-মাকে।
-নিশ্চুপ।
-আমার কথাগুলো কি
কানে ঢুকেছে?
-নিশ্চুপ।
-কতবার তোমাকে
বোঝাতে হবে?
-মাথা উচু করে এবার 
করে কিছু বলতে
যাচ্ছিল।
-ঠাশ.....গালে একটা
থাপ্পড় দিলাম।
-উ হু হু করে কেঁদে
দিল।
-আর কোন দিন যেন
তোমাকে রান্নাঘরে
ঢুকতে না
দেখি।তুমি কেন বুঝনা
তুমি এগুলো পার না।
-উ হু হু হু। (নীরব
চোখে অশ্রু গড়িয়ে
পড়ছে,অবাক
হয়ে আমার মুখের
দিকে তাকিয়ে আছে)
-দেখি হাতটা দাও?
কতখানি পুড়ে গেছে?
-হাত দেখা লাগবে না...(কাঁদতে কাঁদতেই বলে)
-কি হল হাত দেখাতে
বলছি না।(বলেই
হাতটা
ধরলাম,অমনি কাঁদতে
কাঁদতে ঘর থেকে বের
হয়ে
গেল)
-এই শোন শোন......
(ডাকে সাড়া দিল
না,ছুটে
বেরিয়ে গেল।
মেয়েটাকে কেন
মারতে গেলাম।
নিজেকে ভীষন
অপরাধী মনে হচ্ছে।
একটু জোরে কথা
বললে যে
কেঁদে দেয় তার গায়ে
হাত তুললাম।ছি ছি
ছি আমি
মোটেও ঠিক করিনি।
কিন্তু এই মেয়েটা
অবুঝের মত
কাজ করবে সারাক্ষন।
এত মানা করি এটা
করনা তুমি
পারবে না তবুও
শোনেনা।
.
ও লতা,আমার
স্ত্রী।তিনমাস হল
আমাদের বিয়ে
হয়েছে।ওর শরীরের বর্ণটা একটু কালো। ভীষন
আবেগী
একটা মেয়ে। প্রথম
যেদিন ওকে দেখেছিলাম 
বুঝেছিলাম
একাকিত্ব ওকে পেয়ে
বসেছে।প্রথম
দেখাতেই ভাল
লেগেছিল।
অন্যমেয়েদের মত
সব আছে।গায়ের রং টাই শুধু ফর্সা নয়
।তাই বলে কিন্তু একেবারে অপছন্দ করার মতো 
মেয়ে না।ও
আমাদের
বাড়িওয়ালার মেয়ে।
প্রথম প্রথম ভাললাগা
তারপর
মনের অজান্তেই
ভালবাসা।এত নম্র ভদ্র
একটা মেয়ে
ফর্সা না হলেও ওর যেন আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে।
ওর
চলাফেরা,উদাসীন
হয়ে আকাশ
দেখা,বিকেলের ছাদে
খোলা চুলে বসে থাকা
সবকিছুতে কেমন যেন
মায়াচ্ছন্ন হয়ে
পড়ছিলাম।
কয়েকদিন পর ছাদে
উঠেছি দেখি এককোনে
দাড়িয়ে আছে।কাছে
গিয়ে নাম জিজ্ঞাসা
করলাম।বললঃ'আমার নাম লতা।'
আরও
কিছু প্রশ্ন
জিজ্ঞাসা করব কিন্তু শুধু নামটা বলেই চলে গেল।
সেদিনের মত আমিও চলে
আসলাম ।এর পর আর ওকে ছাদে আগের মত বেশি দেখতাম না।
.
একদিন ছাদে বসে
আছি, লতাও আস্তে আস্তে ছাদে আসল।আমি ওর দিকে এগিয়ে গেলাম।ওর কাছে গিয়ে বললাম,সেদিন তোমাকে কিছু বলব ভেবেছিলাম, তো তুমি নাম বলেই চলে গেলে তাই বলতে পারিনি।আজ একটা কথা তোমাকে বলতে চাই।লতা তেমন কিছু বলল না আমার কথা শুনে। তারপর আর কিছু না ভেবে ওকে
বললাম,'ভালবাসি
তোমাকে'।অবাক
দৃষ্টিতে একনজরে
তাকাল তারপর চলে
গেল।আমি দাড়িয়ে
ছিলাম
চলে যাওয়ার পানে
দৃষ্টি ।
পরেরদিন আমাকে বলল,
আমি অতি
সাধারন একটা
মেয়ে।তারপর দেখতে কালো।
আপনার বউ হওয়ার
কোন
যোগ্যতাই আমার নেই।
তাছাড়া আপনার
ভিতর এখন
হয়ত আবেগ না হয়
করুনা কাজ করছে যা
ক্ষনিকের
জন্য থাকবে।কিন্তু
জীবনটা অনেক
কঠিন আপনি
আমাকে নিয়ে চলতে
পারবেন না।আমি
সত্যিই
নিরুপায় আমি যদি আপনার যোগ্য হতাম
তাহলে
নিশ্চয়ই আপনাকে
ভালবাসতাম।এটুকু বলে চলে
যেতে চাইল।আমি হাত
টেনে
ধরে বললাম এটা
করুনা নয়,আবেগ ও নয়
আমি সত্যিই
তোমাকে ভালবেসে
ফেলেছি,এখন যেমন
আছি
সারাটি জীবন
এমনভাবেই থাকব।এরপর আর কিছু বলেনি মেয়েটি।
কিছুদিন পর বাসায়
জানাই।তারপর বিয়ের প্রস্তাব পাঠাই বাবা মাকে রাজি করিয়ে।ওর পরিবারের
দিক থেকেও কোন
আপত্তি
ছিলনা।কিন্তু ওকে
অনেক কষ্টেই রাজি
করিয়েছিলাম।
তারপর বিয়েটা সুষ্ঠু
ভাবে সম্পন্ন
হয়েছিল।
.
মেয়েটা
ভীষন কেয়ার নেয়।
সবকিছু গুছিয়ে
রাখে।আর নীরব মনের
মেয়েটা যে কতখানি
ভালবাসতে জানে
সেটা তো উপলব্ধি
করতে
পারছি।
.
.
আজ অফিস শেষে
বাসায় এসে শুনি
লতা রান্না
করতে গিয়ে গরম
তেলে হাতে ফোস্কা
উঠেছে।ওর রান্না করে
অভ্যাস নেই।
তাই ওকে
আগুনের কাছে যেতে
দেইনা।ওর আব্বু
আম্মুও নিষেধ
করেছিল।আজকে
আম্মু বিকেলে
ঘুমিয়েছিল তখন
রান্না করতে গেছে।
গরম তেল
হাতে পড়লে হাতটা
সরিয়ে আনতে গিয়ে
একটা
গামলা পড়েছিল
ফ্লোরে তার সাথে
আর্তনাদ শুনে আম্মু
উঠে এসে চুলাটা
নিভিয়ে
আমাকে ফোন করে।
বাসায় ঢুকেই মাথাটা
গরম হয়ে
যায়,কেমন যেন ভুলে
গিয়েছিলাম সব।
তাছাড়া একটা ভুল
করেই ফেলেছে
তাই বলে হাত তুললাম?
রাগ করে আম্মুর
কাছে গিয়ে
শুয়ে আছে।এর আগে
একবার এভাবে
কেঁদেছিল,বিয়ের
পরেরদিন ফুফু হঠাৎ
ওর সামনেই বলে উঠল
অভ্র তুই
শেষ পর্যন্ত একটা
কালো মেয়েকে বিয়ে
করলি।
প্রচন্ড রাগ হয়েছিল
সেদিন আমার ফুপির
উপর।
লতা দৌড়ে গিয়ে
রুমে শুয়ে শুয়ে
কেঁদেছিল
সারাদিন।
-আরে পাগলী
ফুপি কি বলল না বলল
তা
শুনেই তোমাকে কাঁদতে
হবে? আমি তো
তোমাকে
অনেক ভালবাসি।তবুও
কান্না থামেনা।সে
শেষে বলেই দিল,
-তুমি অন্য একটা
মেয়েকে বিয়ে
করে নাও।..
আমি সাথে
সাথে বুকে টেনে
নিয়েছিলাম।এই
পাগলী তুমি ছাড়া
দ্বিতীয় কোন
নারী আমার জীবনে
কখনও আসবেনা।
সেদিনের পর
থেকে বুঝেছিলাম
মেয়েটা কতটা
আবেগী...
আম্মুর রুমে গিয়ে
দেখি আব্বু আম্মু
লতা লুডু
খেলছে।আমাকে
দেখেই মুখটা অন্য
দিকে ঘুরিয়ে নিল।
-কি রে কিছু বলবি?
(আব্বু)
-জ্বি।না মানে ক্ষুধা
লেগেছে।
-ক্ষুধা লেগেছে
টেবিলে খাবার দেওয়া
আছে খেয়ে
ঘুমিয়ে পড়।(আম্মু)
-তোমরা খাবে না?
-একটু দেরি হবে।
-ইশারায় লতাকে
ডাক দিলাম।(ইশারায়
না
বলে দিল সে
)
-কি হয়েছে মা?(আব্বু
জিজ্ঞাসা করল)
-ও মাথা নিচু করে চুপ
করে থাকল।
আব্বু আমার চোখের
দিকে
তাকাতেই আমিও মাথা
নিচু
করে বেরিয়ে এলাম।
ধ্যাত
মেয়েটার এত রাগের
কি আছে? একটু বের
হলেই
পারত।রাগে গজ গজ
করতে করতে রুমে
গিয়ে শুয়ে
পড়লাম।একটু পরে
আম্মু এসে ডাক দিল।
খেতে বসেছি
আম্মু ওকে খাইয়ে
দিচ্ছে আমি ওর দিকে
তাকাতেই
চোখ সরিয়ে নিচ্ছে।
খাওয়া শেষ করে রুমে
এসে
শুয়ে পড়েছি একটু পর
লতা ঢুকল।কিছু
বলতে
যাব,পাত্তা না দিয়ে
আবার বেরিয়ে গেল।
একটু পরে
এসে জানালার কাছে
দাঁড়াল।
-আই এ্যম স্যরি।
(আমি)
-চুপ।(লতা)
-আমি খুব অন্যায়
করেছি আমার মিষ্টি
বউটাকে
বকা দিয়েছি,মেরেছি।
আমার মিষ্টি বউটা
কি তার এই
পঁচা বরটাকে মাফ
করবে না।
-চুপ।
-আমি তো জানি
আমার বউটা অনেক
রেগে আছে।
কিন্তু কি করব
আমার বউটা কেন
এমন ছেলে মানুষি
করে যদি তার কিছু
হয় আমি তো বাঁচব না।
-এবার জানালার কাছ
থেকে সরে এসে বলছে,
-আমি কি
আমার স্বামীর জন্য
কিছু রান্না করতে
পারি না?
-,পারো
তো কিন্তু তুমি তো
রান্না
করতে জান না।(আমি)
-জানি না বলে শিখতে
পারব না?
-পারবে তো তবে
আম্মুকে কাছে রাখবে।
-আমাকে মারলে কেন?
-বুঝতে পারিনি।
সত্যিই আমি দুঃখিত।
-না।
-আমাকে মাফ করে
দাও প্লিজ।
-না।
-আর কখনও এমন ভুল
হবেনা।
-না।
-শেষবারের মত মাফ
করে দাও।
-না
আমি স্যরি বলে হাত
ধরলাম।হাতটি
ছাড়িয়ে নিল।
কান্না চোখে পিছু
ফিরলাম।এবার
পাগলীটা
কাঁদতে কাঁদতে আমার
সামনে এসে আমাকে
জড়িয়ে ধরেছে।ফুপিয়ে
ফুপিয়ে কাঁদছে।আর সে
কান্নার আওয়াজ যেন
আমার বুকের
মাঝখানটাতে গিয়ে
ধাক্কা খায়।
আমিও জড়িয়ে রাখব
সারাজীবন।
আর কখনও দুঃখ দিব
না আমার মিষ্টি
বউটাকে।
অফিসে গেলে মাঝে
মাঝে ফোন করে কেঁদে
ফেলে।ওর নিঃশ্বাসের
শব্দ
শুনলে সত্যিই আমি
ওকে উপলব্ধি করতে
পারি।মনে
হয় খুব কাছাকাছি
বুকের বামপাশে
হৃদয়ের মাঝে
থাকে সে সারাক্ষন।
বুঝতে পারি তখনই ওর
হৃদয়ের
কথা।
পৃথিবীর কাছে ও
কালো একটি মেয়ে
হতে পারে
,কিন্তু
আমার
কাছে সে আমার
অন্ধকার ঘরের
আলো,সবচেয়ে রূপসী।
সারাক্ষন মেয়েটা
চঞ্চল থাকে।
অবাক হয়ে তাকিয়ে
থাকি মেয়েটির
দিকে,এমন
করে কেউ ভালবাসতে
পারে।এত গভীর ভাবে
মেয়েটি ভালবাসতে
পারে আমি সত্যিই
মুগ্ধ হয়ে
যাই।আমি মোটেও ভুল
করিনি এই রূপসীকে
কাছে
টেনে.....

"""""নিস্বার্থ ভালোবাসা""""


হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে জিসান,হাতে ক্যানুলা লাগানো রয়েছে,যা দিয়ে শরীরের ভিতরে স্যালাইন যাচ্ছে।জিসান ওঠার চেষ্টা করলো কিন্তু সেই শক্তি টাও তার নেই।
চোখ দিয়ে অঝর ধারায় পানি পড়ছে,জিসান ভাবে আমাকে মরতেই হবে,জেসমিনকে ছাড়া আমি বাঁচবোনা।
জেসমিন কেন এটা করলো,এই কি সেই জেসমিন,যে আগে এসে আমাকে ভালো বেসেছিলো?
এই কি সেই যে আমার প্রতিটি মূহুর্তে খেয়াল রাখতো,এই কি সেই জেসমিন,যার জন্য আমি ঢাকা শিল্পকলা একাডেমির মেঝেতে রাতে শুয়ে ছিলাম সকালে তার অডিশন আছে বলে?
এই কি সেই জেসমিন যাকে জাতীয় পুরষ্কার পাওয়ানোর জন্য আমি দিন রাত পরিশ্রম করেছি? 
এসব ভাবতে ভাবতেই অতিতে হারিয়ে যায় জিসান।
এই তো দুই বছর আগেকার কথা........
" বাবা আমার মেয়েটা তোমাকে অনেক ভালোবাসে বাবা,জেসমিন তোমাকে ছাড়া বাঁচবে না"
কথাগুলো শুনে রিতীমতো " থ" হয়ে যায় জিসান।
তার মতে পৃথিবীতে এই প্রথম কোন মা তার মেয়ের জন্য,ভালোবাসার প্রস্তাব একটা ছেলেকে দিচ্ছে।
জিসান শুধু বললো-
"আচ্ছা আন্টি ভেবে দেখবো"
এই বলে সে চলে গেল।
জিসানের মা ও তাকে বললো,
--জেসমিন মেয়েটা তো ভালই রে।তুই রাজি থাকলে একটা ব্যাবস্থা করে রাখি
জিসান বলে,
--বাদ দাও তো মা,আমি আমার ডান্স ছাড়া বর্তমানে কিছুই ভাবতে পারবো না।তুমি তো জানো ডান্স আমার জিবন।
--তুই যাই বলিস না কেন,আমার কিন্তু ওকে ভারি পছন্দ
--হুম হয়েছে এখন খেতে দাও।
.
এরপর থেকে জিসান আর আর জেসমিনের পরিবারের মাঝে সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ট হয়ে যায়।
জেসমিনের মা বাবা জিসান কে নিজের ছেলের মতই দেখতে থাকে।জেসমিন জিসানদের বাসায় আসা যাওয়া করে,জিসান ও মাঝে মাঝে জেসমিন দের বাসায় যায়,এভাবে একসময় অনিচ্ছা সত্বেও জিসান জেসমিন কে ভালোবেসে ফেলে।
ওহ্যাঁ!
জিসান সমন্ধে তো কিছু বলাই হয়নি,
[জিসান সুদর্শন একজন যুবক,বয়স খুব সম্ভবত একুশ বাইশ এর মাঝামাঝি।
নাচ কে কেন্দ্র করে যার জীবন।
এই নাচের জন্যই ঠিকমতো পড়াশুনা টাও করতে পারেনি।
জিসানের জিবনে নাচ হলো নেশার মতো,এই কারনেই হয়তো এতো অল্প বয়সেই জিসান অনেক সাফল্য ও সুনাম অর্জন করেছে।
রংপুর শহরের সব থেকে বড়ো ডান্স গ্রুপ "ডান্স জোন" এর প্রতিষ্ঠাতা এবং কোরিওগ্রাফার হলো জিসান।
পুরো রংপুর শহর তাকে এক নামেই চিনে]
.
এরপর জেসমিন আর জিসানের ভলোবাসা আরো গভীর হলো।
.
এক বছর পর
.
কিছুদিন থেকেই জিসান লক্ষ্য করছে, জেসমিন তার প্রতি কেমন একটা উদাসিন,তার প্রতি আর কোন নজর রাখেনা,কথা বললে কিংবা বাসায় গেলে কেমন জানি অস্বস্তি বোধ করে।
জিসান কারোণটা বুঝতে পারে।
কারোনটা হলো এই যে,
কিছুদিন থেকে রংপুরের প্রধান পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের বাসায় আসা যাওয়া করে।
জেসমিন কে এটা ওটা কিনে দেয়,কফি খেতে নিয়ে যায়,পার্লারের খরচ দেয়।
আজকাল সবসময় জেসমিনের কাছে টাকা থাকে জিঙ্গাসা করলেই বলে আঙ্কেল কে সালাম করেছি তিনি দিয়েছে।
এই বিষয় গুলো জিসানের মোটেও সুবিধার মনে হয়না,এই ব্যাপারে জিসানের সাথে জেসমিনের কয়েক বার কথা কাটাকাটি ও হয়েছে।
হঠাৎ একদিন রংপুর পৌরসভার কর্মকর্তার থেকে জিসানের ডাক আসে।
জিসান সেখানে গেলে আনিস সাহেব,অর্থাৎ জেসমিনদের বাসায় যিনি আসা যাওয়া করেন তিনি জিসান কে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়,বলে-
"আমি বয়স,ক্ষমতা,অর্থ প্রায় সব দিক থেকেই তোমার থেকে বড়ো।তুমি আমার সাথে পেরে উঠতে পারবে না।"
জিসান ও অনেক রাগি স্বভাবের তাই সেও আনিস সাহেবের সাথে রাগারাগি করে চলে আসে।
এর কয়েক দিন পর একটা কফি শপে জেসমিন আর জেসমিনের মা জিসান কে ডেকে বলে,
"এতোদিন যেটা হয়েছে সেটা ভুলে যেতে,জিসান যেন জেসমিন কে ভুলে যায়।"
জিসান জেসমিনের মুখ থেকে কথা গুলো শুনতে চাইলে।
জেসমিন সরাসরি জানিয়ে দেয়,
"তার মায়ের কথাই তার শেষ কথা"
জিসান কিছু না বলে সোজা সেখান থেকে চলে যায়,সেখান থেকে যাওয়ার সময় কফি শপের নীচে জিসান আনিস সাহেব কে দেখতে পায়,মুখে তার বিজয়ের হাসি।
.
কফি শপ থেকে ফিরে জিসান সোজা তার ঘরে ঢুকে যায়,এরপর পকেট থেকে একটা বিষের কৌটা বের করে এক বাড়েই পুরোটা খেয়ে নেয়।
যার পরিপেক্ষিতে সে আজ হসপিটালে।
.
এখনো জিসানের মনে একটাই কথা তাকে মরতে হবে,জেসমিন কে ছাড়া সে কিছুতেই বাচবেনা।
সাতদিন পর তাকে হসপিটাল থেকে রিক্সায় করে বাসা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
হঠাৎ সে রিক্সা থেকে একটা গাড়ির নিচে লাফিয়ে পরে।
ভাগ্যক্রমে গাড়িটা পাশ কাটায়ে চলে যায়।
এরপর জিসান নিজেকে মানসিক হসপিটালে আবিষ্কার করলো।
সেখানে পনেরো দিন থাকার পর জিসানের মনের কিছুটা উন্নতি ঘটলো।জিসান বাসায় আসলো জিসানের মা জিসান কে একটা কথা বললো,
"জেসমিন কে তুই ভালোবাসিস এক বছর ধরে,আর আমি তোকে ভালোবাসি বিষ বছর ধরে আমার ভালোবাসার কি তোর কাছে কোন দাম নেই?যদি তাই হয় তা হলে আজ থেকে আমাকে মা বলে ডাকিসনা।
তোর কিছু হলে ঐ মেয়ের কিছু হবেনা,হবে আমার।তুই আমাকে কথা দে বাবা তুই আর এমনটা করবিনা"
জিসান মাকে কথা দেয়,
সে আর এমন করবেনা।
কিছুদিন পর শোনা যায় জেসমিনের মায়ের সেই আনিস সাহেবের সাথে বিয়ে হয়েছে।

বাস্তবতা


আজকাল সিক্স সেভেনের পোলাপাইনও প্রেম করে!!
কথাটা প্রথম যখন শুনলাম তখন
বিশ্বাস হলোনা।
কয়েকদিন আগে কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো।
সেভেনের এক পোলায় সিক্সের এক মাইয়ার লগে পিরিত করে। পোলার বাপ আমার বড্ডালোক, পোলারে এ্যান্ডুয়েড মোবাইল কিনে দিয়েছে। আদর্শ বাপের আদর্শ পোলা বলতে হবে! পোলাটা দেখলাম ওই মোবাইল দিয়ে তার সিক্সে পড়ুয়া প্রেমিকারে বলতেছে, "ওগো ময়নার মা তুমি এত চুন্দর কেনগো!"
আরে ভাউরে ভাউ, তাহার কী আবেগ! আরে শালা, তোরতো শ্বাশুড়িরই জন্ম হয় নাই, এখনো জন্মের সময়ের নাভীকাটাও পঁচে নাই, তোর কী আবেগ! বিয়া করারই খবর নাই, বিয়ার আগেই বাচ্চার মা!
তখন হয়ত আবেগী বয়সের মেয়েটার কৌতুহল হয়ে জিজ্ঞেস করে, বাচ্চা কেমনে হয়?
তখন হয়ত ছেলেটা বলে, এটা বলার মত কথা না, প্রাক্টিক্যালি দেখাতে হয়।
তখন কৌতুহলী মেয়েটা হয়ত রাজি হয়।
তারপর প্রাক্টিক্যাল ক্লাসের নামে চলে সম্মতির ধর্ষণ। যদিও আজকাল এটাকেই বালুবাসা বলে, ভালোবাসা বলেনা। বালু দিয়া তৈরি করা খেলার বাসা মানে বালুবাসা। যেটা খুব ভঙ্গুর, সামান্য আঙ্গুলের টোকা দিলেই ভেঙ্গে যায়। আর ভালোবাসা চিরন্তন, যেটা কোন অদৃশ্য শক্তি ছাড়া ভাঙ্গেনা, মচকায় না।
সাধারণ ধর্ষণ আর সম্মতির ধর্ষণের মধ্যে তফাৎ হচ্ছে, সাধারণ ধর্ষণে ধর্ষিতা নারীটি সিনেমার নায়িকার মত বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে। আর সম্মতির ধর্ষণে নারীটি হয়ত বলে, বাহ! ভালোইতো লাগছে। মাঝে মাঝে এমন প্রাক্টিক্যাল ক্লাস নিবা।
আর সম্মতির ধর্ষণে ধর্ষিতা মেয়েটি সানি লিওন থেকে নিকৃষ্ট!! সানি লিওনতো মজাও নেয়, টাকাও নেয়। যাকে শুদ্ধভাষায় বেশ্যাবৃত্তি বলে। আর সম্মতির ধর্ষণে ওই মেয়েটা শুধু মজাই নেয়, টাকা নেয়না। তাই এরা বেশ্যার থেকেও খারাপ। আমি যুক্তি ছাড়া কথা বলিনা।
তো তারপর কি হয়! কয়েকমাস পর দেখা যায় নীরব সম্মতির ধর্ষিতা মেয়েটির বমি বমি ভাব হয়। পরীক্ষা করে জানা যায় মেয়েটার পেটে বাচ্চা। আর কী করা! ভ্রুণ হত্যা। এভারোশন করে বাচ্চা নষ্ট করা। হায়! বিয়ের আগেই বাচ্চা?! কে করেছে? কে করেছে? চাপটাপ দিয়ে মেয়েটার কাছে বাচ্চার বাপের নাম জানা হয়। ছেলেটাও এলাকা ছাড়া হয় ইতোমধ্যে। কেউ কেউ আইনের আশ্রয় নেয় সমাজে মেয়েটার সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে, কেউ কেউ আইনের আশ্রয় নেয়না লোক জানাজানি হবার ভয়ে।
সমাজে যখন কেউ ভালো কোন কাজ করে তখন সেটা ছড়ায় ধীরে ধীরে, মন্থর গতিতে আর কারো একটা ব্যাড রেকর্ড হয়ে গেলে সেটা ছড়া বাতাসেরও আগে।
-কিরে জানিস, ওমুক চাচার মেয়ে ধর্ষিত হইছে।
-ওম্মা তাই! কোন ছেলেটারে মজা নিসে?
-তমুক চাচার ছেলে অমুক।
এই হল আমাদের সমাজ। এসব ধর্ষণের কেইসে ধর্ষণকারী ছেলেদের সম্মানহানি হয় না, যত দোষ ওই ধর্ষিতা মেয়েটার। ছেলেটার বিয়ের সময় মেয়েপক্ষ যখন জানতে পারে অতীতে ছেলেটার ব্যাড রেকর্ড আছে, তখন মেয়েপক্ষের লোকেরা বলে, "আরে সমস্যা নাই, ওই বয়সে ছেলেরা দু'একটা ভুল করেই। আমরাওতো সে বয়সটা পার করে এসেছি।" কারণ, ছেলেটা ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার অথবা চাকুরিজীবী কিংবা সিএনজি এমনকি রিক্সার ড্রাইভার।
আর ধর্ষিতা মেয়েটার জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসলে ছেলেপক্ষ যখন জানতে পারে মেয়েটা আগে ধর্ষিত হয়েছে, তখন তাদের মুখে ছিঃ ছিঃ ছাড়া কোন শব্দই বের হয়না, যে মেয়ে বিয়ের আগেই এসব করতে পারে সে মেয়েটা যে বিয়ের পর এসব করবেনা তার নিশ্চয়তা কী?। তারা মুখ ফিরিয়ে বাড়ির পথে রাস্তা মাপে।
সব দোষ যেন ওই মেয়েটারই। মেয়েটা বাড়ির বাইরে বের হতেই পারেনা। বেরোলেই দু তিনজন মিলে জটলা পাকে।
-ওই দেখ দেখ, বেশ্যা আসছে।
মেয়েটাকে শুনিয়ে কেউ একজন বলেও উঠে, ওই বেশ্যা, তোর রেট কতরে?!! মেয়েটা মুখ লুকায় বুকের ওড়নায়, ফিরে আসে বাড়িতে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে।
কয়েকমাস পর হঠাৎ ওই ধর্ষণকারী ছেলেটা এলাকায় আসলে তার বন্ধুরা তাকে নিয়ে আরো বেশি মাতামাতি করে। বন্ধুদের মধ্যে সে হিরো হয়ে যায়। গরু(গুরু) বলে মানে তারে।
-আরে গরু! কেমনে করলি!! আমাদের কিছু জ্ঞান দে, আমরাও করতে চাই তোর মত।
আর গরুটার রশি ধরতে নতুন নতুন বন্ধু হয় পায়ের ধূলা নিতে। একটা মেয়ের ভার্জিনিটি নষ্ট করছে, কত মহৎকাজ, ভাবা যায়!!! এই গরুর থেকে শিক্ষা নিতে হবেতো! জায়গামতো আবার টোপ ফেলতে হবে, ভার্জিনিটি নষ্ট করে হিরোগিরাটা ধরে রাখতে হবেতো!!