বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

"""""নিস্বার্থ ভালোবাসা""""


হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে জিসান,হাতে ক্যানুলা লাগানো রয়েছে,যা দিয়ে শরীরের ভিতরে স্যালাইন যাচ্ছে।জিসান ওঠার চেষ্টা করলো কিন্তু সেই শক্তি টাও তার নেই।
চোখ দিয়ে অঝর ধারায় পানি পড়ছে,জিসান ভাবে আমাকে মরতেই হবে,জেসমিনকে ছাড়া আমি বাঁচবোনা।
জেসমিন কেন এটা করলো,এই কি সেই জেসমিন,যে আগে এসে আমাকে ভালো বেসেছিলো?
এই কি সেই যে আমার প্রতিটি মূহুর্তে খেয়াল রাখতো,এই কি সেই জেসমিন,যার জন্য আমি ঢাকা শিল্পকলা একাডেমির মেঝেতে রাতে শুয়ে ছিলাম সকালে তার অডিশন আছে বলে?
এই কি সেই জেসমিন যাকে জাতীয় পুরষ্কার পাওয়ানোর জন্য আমি দিন রাত পরিশ্রম করেছি? 
এসব ভাবতে ভাবতেই অতিতে হারিয়ে যায় জিসান।
এই তো দুই বছর আগেকার কথা........
" বাবা আমার মেয়েটা তোমাকে অনেক ভালোবাসে বাবা,জেসমিন তোমাকে ছাড়া বাঁচবে না"
কথাগুলো শুনে রিতীমতো " থ" হয়ে যায় জিসান।
তার মতে পৃথিবীতে এই প্রথম কোন মা তার মেয়ের জন্য,ভালোবাসার প্রস্তাব একটা ছেলেকে দিচ্ছে।
জিসান শুধু বললো-
"আচ্ছা আন্টি ভেবে দেখবো"
এই বলে সে চলে গেল।
জিসানের মা ও তাকে বললো,
--জেসমিন মেয়েটা তো ভালই রে।তুই রাজি থাকলে একটা ব্যাবস্থা করে রাখি
জিসান বলে,
--বাদ দাও তো মা,আমি আমার ডান্স ছাড়া বর্তমানে কিছুই ভাবতে পারবো না।তুমি তো জানো ডান্স আমার জিবন।
--তুই যাই বলিস না কেন,আমার কিন্তু ওকে ভারি পছন্দ
--হুম হয়েছে এখন খেতে দাও।
.
এরপর থেকে জিসান আর আর জেসমিনের পরিবারের মাঝে সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ট হয়ে যায়।
জেসমিনের মা বাবা জিসান কে নিজের ছেলের মতই দেখতে থাকে।জেসমিন জিসানদের বাসায় আসা যাওয়া করে,জিসান ও মাঝে মাঝে জেসমিন দের বাসায় যায়,এভাবে একসময় অনিচ্ছা সত্বেও জিসান জেসমিন কে ভালোবেসে ফেলে।
ওহ্যাঁ!
জিসান সমন্ধে তো কিছু বলাই হয়নি,
[জিসান সুদর্শন একজন যুবক,বয়স খুব সম্ভবত একুশ বাইশ এর মাঝামাঝি।
নাচ কে কেন্দ্র করে যার জীবন।
এই নাচের জন্যই ঠিকমতো পড়াশুনা টাও করতে পারেনি।
জিসানের জিবনে নাচ হলো নেশার মতো,এই কারনেই হয়তো এতো অল্প বয়সেই জিসান অনেক সাফল্য ও সুনাম অর্জন করেছে।
রংপুর শহরের সব থেকে বড়ো ডান্স গ্রুপ "ডান্স জোন" এর প্রতিষ্ঠাতা এবং কোরিওগ্রাফার হলো জিসান।
পুরো রংপুর শহর তাকে এক নামেই চিনে]
.
এরপর জেসমিন আর জিসানের ভলোবাসা আরো গভীর হলো।
.
এক বছর পর
.
কিছুদিন থেকেই জিসান লক্ষ্য করছে, জেসমিন তার প্রতি কেমন একটা উদাসিন,তার প্রতি আর কোন নজর রাখেনা,কথা বললে কিংবা বাসায় গেলে কেমন জানি অস্বস্তি বোধ করে।
জিসান কারোণটা বুঝতে পারে।
কারোনটা হলো এই যে,
কিছুদিন থেকে রংপুরের প্রধান পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের বাসায় আসা যাওয়া করে।
জেসমিন কে এটা ওটা কিনে দেয়,কফি খেতে নিয়ে যায়,পার্লারের খরচ দেয়।
আজকাল সবসময় জেসমিনের কাছে টাকা থাকে জিঙ্গাসা করলেই বলে আঙ্কেল কে সালাম করেছি তিনি দিয়েছে।
এই বিষয় গুলো জিসানের মোটেও সুবিধার মনে হয়না,এই ব্যাপারে জিসানের সাথে জেসমিনের কয়েক বার কথা কাটাকাটি ও হয়েছে।
হঠাৎ একদিন রংপুর পৌরসভার কর্মকর্তার থেকে জিসানের ডাক আসে।
জিসান সেখানে গেলে আনিস সাহেব,অর্থাৎ জেসমিনদের বাসায় যিনি আসা যাওয়া করেন তিনি জিসান কে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়,বলে-
"আমি বয়স,ক্ষমতা,অর্থ প্রায় সব দিক থেকেই তোমার থেকে বড়ো।তুমি আমার সাথে পেরে উঠতে পারবে না।"
জিসান ও অনেক রাগি স্বভাবের তাই সেও আনিস সাহেবের সাথে রাগারাগি করে চলে আসে।
এর কয়েক দিন পর একটা কফি শপে জেসমিন আর জেসমিনের মা জিসান কে ডেকে বলে,
"এতোদিন যেটা হয়েছে সেটা ভুলে যেতে,জিসান যেন জেসমিন কে ভুলে যায়।"
জিসান জেসমিনের মুখ থেকে কথা গুলো শুনতে চাইলে।
জেসমিন সরাসরি জানিয়ে দেয়,
"তার মায়ের কথাই তার শেষ কথা"
জিসান কিছু না বলে সোজা সেখান থেকে চলে যায়,সেখান থেকে যাওয়ার সময় কফি শপের নীচে জিসান আনিস সাহেব কে দেখতে পায়,মুখে তার বিজয়ের হাসি।
.
কফি শপ থেকে ফিরে জিসান সোজা তার ঘরে ঢুকে যায়,এরপর পকেট থেকে একটা বিষের কৌটা বের করে এক বাড়েই পুরোটা খেয়ে নেয়।
যার পরিপেক্ষিতে সে আজ হসপিটালে।
.
এখনো জিসানের মনে একটাই কথা তাকে মরতে হবে,জেসমিন কে ছাড়া সে কিছুতেই বাচবেনা।
সাতদিন পর তাকে হসপিটাল থেকে রিক্সায় করে বাসা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
হঠাৎ সে রিক্সা থেকে একটা গাড়ির নিচে লাফিয়ে পরে।
ভাগ্যক্রমে গাড়িটা পাশ কাটায়ে চলে যায়।
এরপর জিসান নিজেকে মানসিক হসপিটালে আবিষ্কার করলো।
সেখানে পনেরো দিন থাকার পর জিসানের মনের কিছুটা উন্নতি ঘটলো।জিসান বাসায় আসলো জিসানের মা জিসান কে একটা কথা বললো,
"জেসমিন কে তুই ভালোবাসিস এক বছর ধরে,আর আমি তোকে ভালোবাসি বিষ বছর ধরে আমার ভালোবাসার কি তোর কাছে কোন দাম নেই?যদি তাই হয় তা হলে আজ থেকে আমাকে মা বলে ডাকিসনা।
তোর কিছু হলে ঐ মেয়ের কিছু হবেনা,হবে আমার।তুই আমাকে কথা দে বাবা তুই আর এমনটা করবিনা"
জিসান মাকে কথা দেয়,
সে আর এমন করবেনা।
কিছুদিন পর শোনা যায় জেসমিনের মায়ের সেই আনিস সাহেবের সাথে বিয়ে হয়েছে।

বাস্তবতা


আজকাল সিক্স সেভেনের পোলাপাইনও প্রেম করে!!
কথাটা প্রথম যখন শুনলাম তখন
বিশ্বাস হলোনা।
কয়েকদিন আগে কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো।
সেভেনের এক পোলায় সিক্সের এক মাইয়ার লগে পিরিত করে। পোলার বাপ আমার বড্ডালোক, পোলারে এ্যান্ডুয়েড মোবাইল কিনে দিয়েছে। আদর্শ বাপের আদর্শ পোলা বলতে হবে! পোলাটা দেখলাম ওই মোবাইল দিয়ে তার সিক্সে পড়ুয়া প্রেমিকারে বলতেছে, "ওগো ময়নার মা তুমি এত চুন্দর কেনগো!"
আরে ভাউরে ভাউ, তাহার কী আবেগ! আরে শালা, তোরতো শ্বাশুড়িরই জন্ম হয় নাই, এখনো জন্মের সময়ের নাভীকাটাও পঁচে নাই, তোর কী আবেগ! বিয়া করারই খবর নাই, বিয়ার আগেই বাচ্চার মা!
তখন হয়ত আবেগী বয়সের মেয়েটার কৌতুহল হয়ে জিজ্ঞেস করে, বাচ্চা কেমনে হয়?
তখন হয়ত ছেলেটা বলে, এটা বলার মত কথা না, প্রাক্টিক্যালি দেখাতে হয়।
তখন কৌতুহলী মেয়েটা হয়ত রাজি হয়।
তারপর প্রাক্টিক্যাল ক্লাসের নামে চলে সম্মতির ধর্ষণ। যদিও আজকাল এটাকেই বালুবাসা বলে, ভালোবাসা বলেনা। বালু দিয়া তৈরি করা খেলার বাসা মানে বালুবাসা। যেটা খুব ভঙ্গুর, সামান্য আঙ্গুলের টোকা দিলেই ভেঙ্গে যায়। আর ভালোবাসা চিরন্তন, যেটা কোন অদৃশ্য শক্তি ছাড়া ভাঙ্গেনা, মচকায় না।
সাধারণ ধর্ষণ আর সম্মতির ধর্ষণের মধ্যে তফাৎ হচ্ছে, সাধারণ ধর্ষণে ধর্ষিতা নারীটি সিনেমার নায়িকার মত বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে। আর সম্মতির ধর্ষণে নারীটি হয়ত বলে, বাহ! ভালোইতো লাগছে। মাঝে মাঝে এমন প্রাক্টিক্যাল ক্লাস নিবা।
আর সম্মতির ধর্ষণে ধর্ষিতা মেয়েটি সানি লিওন থেকে নিকৃষ্ট!! সানি লিওনতো মজাও নেয়, টাকাও নেয়। যাকে শুদ্ধভাষায় বেশ্যাবৃত্তি বলে। আর সম্মতির ধর্ষণে ওই মেয়েটা শুধু মজাই নেয়, টাকা নেয়না। তাই এরা বেশ্যার থেকেও খারাপ। আমি যুক্তি ছাড়া কথা বলিনা।
তো তারপর কি হয়! কয়েকমাস পর দেখা যায় নীরব সম্মতির ধর্ষিতা মেয়েটির বমি বমি ভাব হয়। পরীক্ষা করে জানা যায় মেয়েটার পেটে বাচ্চা। আর কী করা! ভ্রুণ হত্যা। এভারোশন করে বাচ্চা নষ্ট করা। হায়! বিয়ের আগেই বাচ্চা?! কে করেছে? কে করেছে? চাপটাপ দিয়ে মেয়েটার কাছে বাচ্চার বাপের নাম জানা হয়। ছেলেটাও এলাকা ছাড়া হয় ইতোমধ্যে। কেউ কেউ আইনের আশ্রয় নেয় সমাজে মেয়েটার সম্মান প্রতিষ্ঠা করতে, কেউ কেউ আইনের আশ্রয় নেয়না লোক জানাজানি হবার ভয়ে।
সমাজে যখন কেউ ভালো কোন কাজ করে তখন সেটা ছড়ায় ধীরে ধীরে, মন্থর গতিতে আর কারো একটা ব্যাড রেকর্ড হয়ে গেলে সেটা ছড়া বাতাসেরও আগে।
-কিরে জানিস, ওমুক চাচার মেয়ে ধর্ষিত হইছে।
-ওম্মা তাই! কোন ছেলেটারে মজা নিসে?
-তমুক চাচার ছেলে অমুক।
এই হল আমাদের সমাজ। এসব ধর্ষণের কেইসে ধর্ষণকারী ছেলেদের সম্মানহানি হয় না, যত দোষ ওই ধর্ষিতা মেয়েটার। ছেলেটার বিয়ের সময় মেয়েপক্ষ যখন জানতে পারে অতীতে ছেলেটার ব্যাড রেকর্ড আছে, তখন মেয়েপক্ষের লোকেরা বলে, "আরে সমস্যা নাই, ওই বয়সে ছেলেরা দু'একটা ভুল করেই। আমরাওতো সে বয়সটা পার করে এসেছি।" কারণ, ছেলেটা ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার অথবা চাকুরিজীবী কিংবা সিএনজি এমনকি রিক্সার ড্রাইভার।
আর ধর্ষিতা মেয়েটার জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসলে ছেলেপক্ষ যখন জানতে পারে মেয়েটা আগে ধর্ষিত হয়েছে, তখন তাদের মুখে ছিঃ ছিঃ ছাড়া কোন শব্দই বের হয়না, যে মেয়ে বিয়ের আগেই এসব করতে পারে সে মেয়েটা যে বিয়ের পর এসব করবেনা তার নিশ্চয়তা কী?। তারা মুখ ফিরিয়ে বাড়ির পথে রাস্তা মাপে।
সব দোষ যেন ওই মেয়েটারই। মেয়েটা বাড়ির বাইরে বের হতেই পারেনা। বেরোলেই দু তিনজন মিলে জটলা পাকে।
-ওই দেখ দেখ, বেশ্যা আসছে।
মেয়েটাকে শুনিয়ে কেউ একজন বলেও উঠে, ওই বেশ্যা, তোর রেট কতরে?!! মেয়েটা মুখ লুকায় বুকের ওড়নায়, ফিরে আসে বাড়িতে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে।
কয়েকমাস পর হঠাৎ ওই ধর্ষণকারী ছেলেটা এলাকায় আসলে তার বন্ধুরা তাকে নিয়ে আরো বেশি মাতামাতি করে। বন্ধুদের মধ্যে সে হিরো হয়ে যায়। গরু(গুরু) বলে মানে তারে।
-আরে গরু! কেমনে করলি!! আমাদের কিছু জ্ঞান দে, আমরাও করতে চাই তোর মত।
আর গরুটার রশি ধরতে নতুন নতুন বন্ধু হয় পায়ের ধূলা নিতে। একটা মেয়ের ভার্জিনিটি নষ্ট করছে, কত মহৎকাজ, ভাবা যায়!!! এই গরুর থেকে শিক্ষা নিতে হবেতো! জায়গামতো আবার টোপ ফেলতে হবে, ভার্জিনিটি নষ্ট করে হিরোগিরাটা ধরে রাখতে হবেতো!!

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬

.সহানুভূতি

<<…এই যে শুনছ?
>>…হু!শুনছি,কি বলবে বল।
<<…ঈদ তো চলে এলো।কেনাকেটা করবা
না?
>>…হু করব তো।কিন্তু সময় নেই,অনেক কাজ
বাকি আছে।
ঈদের তিন দিন আগে সব কাজ শেষ করতে
হবে।
না হয় ব্যবসায় ফকির হতে হবে।
.
<<…তো কবে মার্কেটে নিয়ে যাবে?
>>…কাজ শেষ করে দু'দিন রেষ্ট নিব তারপর
ঈদের আগের রাতে সবাই কে নিয়ে
মার্কেটে যাব।তখন যার যা ইচ্ছা তাই
কিনবে,টাকা নিয়ে কোন সমস্যা করব না।
<<…ঈদের আগের রাতে যাবে কেনাকাটা
করতে?
এত্ত দেরিতে না আরো আগে যেতে হবে।
>>…তবে তুমি আজ ই যাও,ইচ্ছে হলে এখনি
যাও।
বেশি রাত তো আর হয়নি।
কিন্তু আমি ঈদের আগের রাতে ছাড়া
যেতে পারব না।
.
<<তোমাকে কি কোনদিন এভাবে
বলেছিলাম মার্কেটে যাওয়ার কথা,সব
সময় তোমার ইচ্ছাতেই সব হয়েছে,
কিন্তু এবার আমি বললাম তুমি কথাটা
ফিরিয়ে দিলে।
.
>>…আরে ঘ্যান ঘ্যান কর না তো,আগে
কোনদিন বলোনি তবে এবার বলছ কেন?
<<…কারন তো নিশ্চয় একটা আছে,না হয়
বলতাম নাকি।
>>…কারন টা আবার কি?
<<…বলব কারন টা?
>>…বলো দেখি শুনি।
<<…বলো কথাটা ফেলেবেনা?
>>…আরে কথা না বাড়িয়ে বলত কি বলবা।
<<…আমাদের পাশের বাড়ি তে যে
আছিয়া আপারা থাকে তাদের কে তো
তুমি চিন ই,
তুমি তো জান ওরা গরিব,কত কষ্ট করে
জীবন চালায়।
আছিয়া আপার মেয়েটা না ওর মার কাছে
বায়না ধরেছে
ঈদের নতুন জামা এনে দিতে।
আছিয়া আপা একটা জামা দেখিয়ে
বলেছে এই টা তোমার ঈদের জামা কিন্তু
জামাটা ও কিছুতেই মেয়েটা পছন্দ
করছেনা,
কেঁদে কেঁদে শুধু বলছে এটা তো ঈদের
জামা না,এটা পুরাতন,আমাকে নতুন
জামা কিনে দাও।লাল একটা জামা
কিনে দাও আমায়।
.
কিন্তু তুমিই বলো আছিয়া আপা জামা
কিনে দিবে কিভাবে।
সেই কবে থেকে আছিয়া আপার স্বামীটা
বিছানায় পড়া।
কত কষ্ট করে আছিয়া আপা সংসার টা
চালাচ্ছে,মেয়ের জন্য তো ১হাজার
টাকাও খরচ করার সামর্থ নেই তার।
.
মেয়েটা মায়ের আচল ধরে সে কি কাঁন্না
করে যখনি দেখে কেউ মার্কেট থেকে
ঈদের কেনাকাটা করে এসেছে।
.
এসব দেখে আমার খুব কষ্ট লেগেছে,
আমাদের ও তো মেয়ে আছে,
আমরা যদি ওদের মত গরিব হতাম
তবে আমার কাছেও আমার মেয়ে
এভাবে আবদার করত,
.
সেও এভাবে আমার কাছে ঈদের জামা
চাইত।
আমরাও তো তার আবদার পূরন করত
পারতাম না,
তখন আমার কাছেও খুব খারাপ লাগত
মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে।
.
কিন্তু
আমাদের তো ওদের থেকে অনেক বেশি ই
টাকা আছে,মেয়েকে তো ওর পছন্দ মত
দামি জামা কিনে দিতে পারব।
আছিয়া আপার তো এত টাকা নেই
মেয়েকে জামা কিনে দেওয়ার।
তাই আমি বলছিলাম কি আছিয়া আপার
মেয়েকে তো আমরাই জামা কিনে দিতে
পারি।
নতুন জামা পেয়ে ও অনেক খুশি হবে।
হাঁসি মুখে আনন্দ সহ কারে ঈদ উদযাপন
করতে পারবে।
.
জানো মেয়েটা না প্রতিমুহুত্বেই ওর মার
আচল টেনে ধরে কাঁন্না করে,ওর মা রেগে
ওকে মেরে নিজেই কেঁদে ওঠে।
.
জানোনা ওসব দৃশ্য আমাকে ও কাঁদায়।
এজন্যই আমি চাচ্ছি যে ঈদের কেনাকাটা
টা আগে আগেই কর।
অন্তত মেয়েটার জন্য।
কি রাখবেনা আমার কথাটা?
.
>>…আসলে এসব শুনে আমার ও মনটা খারাপ
হয়ে গেল।
যদি আল্লাহ ওদের মত আমাদের ও গরিব
বানাত তবে আমরা ও তো সন্তানদের
ইচ্ছে গুলো পূরন করতে পারতাম না।
খোদার কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া
তিনি অনেক সম্পদ দিয়েছেন।
আর আল্লাহর দেওয়া সম্পদ যদি গরিবদের
জন্য ব্যয় না করি তাদের মুখে হাঁসি না
ফুটাই তবে আল্লাহ যে বড় নারাজ হয়ে
যাবেন আমাদের প্রতি।
বেশিক্ষন ও তো লাগবেনা আমাদের
সম্পদ আল্লাহর ছিনিয়ে নিতে।
আমরাও তো তখন ওদের মত অসহায় হয়ে
যাব।
<<…সেটাই তো আমাদের সকল ধনীদের
বুঝা উচিত।
>>…হুম!ঠিক ই বলেছ।
কিন্তু সবাই তো আর এভাবে চিন্তা করে
দেখেনা তুমি যেভাবে চিন্তা করো।
<<…হ্যা! তাও ঠিক।
.
তবে এবার বলো কবে নিয়ে যাবে
মার্কেটে?
>>…আগামি কাল ই নিয়ে যাব।
আছিয়া আপার মেয়েকে ও সাথে নিয়ে
নিও,ওর পছন্দ মত কিনে দেওয়া যাবে।
<<… শুনে অনেক খুশি হলাম।
.
>>…মহারানী আপনাকে খুশি করতে পেরে
আমিও ধন্য হলাম।
আপনাকে খুশি না করতে পারলে তো
আবার আপনি ফুলে পেকে থাকতেন।
অবশ্য এই বিষয় টা আলাদা ব্যাপার।
.
অন্য বিষয় গুলো নিয়ে যেভাবে
গাল ফুলাও তুমি।বাপরে ভয় পেয়ে যাই।
<<…এই বেশি হচ্ছে কিন্তু।
>>…উহু! একদম ই না।
আসলে তুমি খুব ভাবুক মনের মানুষ,তোমার
মত স্ত্রী পেয়ে সত্যি ই আমি গর্বিত।
.
<<…হইছে!এবার ঘুমাও।
>>…ঘুমাব!!তা কেন?
<<…কাল মার্কেটে যাবে তাই।
>>…হা হাহা!নিজের টা ঠিক বুঝ আমার
টা শুধু বুঝনা।
<<…এই কি বুঝিনা তোমার টা হ্যা!
>>…এইযে আমার পাওনা- শোধ না করেই
ঘুমাতে বলছ।
<<…এই দুষ্ট।
>>…হা হা হা।
-------------
সকাল বেলা গাড়ির হর্ন শুনে সবাই রেডি
হচ্ছে মার্কেটে যাবার জন্য,
গাড়িতে উঠে সবাই রওনা হলো।
আছিয়া আপার মেয়েকে তার পছন্দ মত
জামা আর জুতা কিনে দেওয়া হলো।
সে তো অনেক খুশি।
.
আনন্দে আর্তহারা হয়ে ছুটা ছুটি করে
সবাই কে বলতে লাগল
আমার ঈদের জামা কিনা হয়ে গছে,এখন
তোমাদের দেখাব না,
দেখলে পুরাতন হয়ে যাবে।
ঈদের দিন পড়ে সবাই কে ঘুড়ে ঘুড়ে দেখাব
আর ঈদের সালামি নিব।
.
এভাবেই হাঁসি ফুটল একটি সংসারের।
.....................................
((আমাদের বিবেক কে একটু সজা'গ করতে
পারলেই সমাজের এসব চিত্র পাল্টানো
সম্ভব))
((বিবেক কে একটু নাড়াচাড়া দিন
দেখবেন সমাজ সুন্দর হয়ে উঠবে
))
(((আর সমাজ সুন্দর হলে চারদিকে শুধু
শান্তি আর শান্তি)))
--
লেখাতে ভুল খুঁজতে যাবেন না
কারন ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক।
নিজের মানসিকতাকে সবার চোঁখের
সামনে
ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করুন।
আপনার একটু সহানুভূতিতে হাঁসি ফুটবে
অজস্র পরিবারের।

অনুভূতি

তুমি বিহিন রাত গুলো বড়ই অসহায়। দিনগুলো একটা বোবা মানুষের মতো। যে সবাইকে নিজের আকুতিটা বোঝাতে পারে না।
একটা মানুষ এতোটা সার্থপর কীভাবে হতে পারে সেটা হয়ত তোমাকে না দেখলে বুঝতাম না। 
কেনো এমন করলে তুমি। তোমার কী একটুও ভালোবাসা ছিলোনা আমার প্রতি নাকি সবই কিছুটা দিনের মায়া ছিলো । তোমার জিবনটা একটা পেন্সিলে আকা জীবনের মতো ছিলো হয়ত। যেটাকে রাবার দিয়ে মুছে ফেলেছো তাইনা? 
সত্যিই তুমি ছাড়া আমি অসহায় এটা কি বুঝ না।
সেদিনের কথা গুলো কি তোমার মনে পড়ে না।
আচ্ছাহ ভালোবাসা দিবসের রাতের কথা মনে আছে তোমার,ও হ্যা তোমার কীভাবে মনে থাকবে তুমি তো সার্থপরের মতো আমাকে ছেড়ে আছো । আমি কিন্তু তোমার সাথে কাটানো মুহূর্ত গুলোর কথা একটা মিনিট ভুলে থাককে পারছি না। 
ভালোবাসা দিবসে সারাটা দিন তোমার পথ চেয়ে বসে ছিলাম। কিন্তু তুমি সেদিন এসেছিলে অনেক রাত করে । হাতে ছিল কয়েকটি প্যাকেট।
-ঐ কী হচ্ছে এখানে?
- বলবনা। 
-কেনো?
- কারণটা না হয় বুঝে নিন।
- আমার লক্ষীটা কী রাগ।
- হুম অনেক।
- আচ্ছা তাহলে আমি যাই। 
-হাতের প্যাকেটাতে কী?
- কোনো একজন মানুষের জন্য গিফট এনেছিলাম। 
-তো দেয়া হচ্ছে না কেনো.?
- যাকে দিবো সে তো রাগ তো সে কি নিবে আমার গিফট টা? 
- রাগ বলে কি গিফট নিবে না বলেছে। তুমি এমন কেনো বলবা একটু। সারাটা দিন তোমার পথ চেয়ে ছিলাম কিন্তু তুমি এলে না। যাও এলে তা রাগ করেছি সেটা না ভাংগিয়ে গিফটাও নিয়ে যাচ্ছ। তুমি একটুও ভালোবাসনা আমাকে। আমার প্রতি কোনো মায়াই তোমার নাই। দাও প্যাকেট গুলা দাও। 
- এই যে। তবে এটাকে আমি গেলে খুলবি আমি থাকতে না। 
-হুম ওকে। 
সেদিন তোমার গিফটা দেখে আনন্দে আত্তহারা হয়েছিলাম আমি। কারণ সেটাতে যে গিফটা ছিল সেটা আমাদের সাদ্ধের বাইরে ছিলো। আনন্দে সেদিন বলেছিলাম ভাইয়া অনেক ভালবাসি তোমাকে। সেদিন শুধু তোমার হাতের গিফট টা দেখেছিলাম তবে সেটা কিভাবে এনেছিলে যানতে চাইনি। 
পরের দিন যখন দেখি তোমার প্রিয় বাইকটা নেই তখনই বুঝেছিলাম আমাকে দেওয়া গিফটের টাকা কোথায় পেয়েছিলে তুমি। 
মানুষের উপরে ওঠার জন্য কেউ না কেউ তাকে উৎসাহ যোগায়। আমার উৎসাহ ছিলে তুমি। 
বাবা -মা চলে যাবার পর তাদের অভাবটা কখনও আমাকে বুঝতে দাও নি তুমি তবে তোমার সেদিনের ভালোবাসাকে কখনও বুঝতে চাইনি আমি। 
যদি বুঝতাম তাহলে তোমাকে ছেড়ে অন্য ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যেতাম না। তুমি সেদিন অনেক কেদেছিলে তাই না ভাইয়া। তুমি কী যানো তোমাকে হারিয়েই তোমার অভাবটা বুঝতে শিখেছি আমি।।
খুবই মিস করি তোমার সাথে কাটানো সেদিন গুলোর কথা।
মনে হয় আরেকটু সুযোগ পেলে ভুলটা শোধরাতে পারতাম।
প্রতিবার ঈদেই তোমার সাথে কেনাকাটা নিয়ে একটা ঝগড়া হতো।
ভাবতাম ঈদে কিছুই হয়ত কিনে দিবে না আমাকে তুমি কিন্তু ঈদের আগের দিন রাতে ঠিকই আমার ইচ্ছা মতো সকল চাওয়া পূরণ করে তুমি।
তুমি কী যানো যেদিন তোমার ঐ নিস্তব্ধ দেহটা মাটিতে পরে থাকতে দেখেছিলাম মনে হয়েছিলো পৃথিবীতে আমার জন্য রাখা শেষ ভালোবাসাটুকু হারিয়ে ফেলেছি বুঝি।।
হ্যা আমি সেদিন সত্য ছিলাম। বাবা- মায়ের পর এবার আমাকে তুমি ছেড়ে গেলে। তবে তুমি এভাবে সার্থপরের মতো যাবে ভাবি নি।।
কারণ তোমাকে বোঝাতে বাকি ছিলো তোমার আদরের বোনটাও যে তোমাকে অনেক ভালোবাসে।
একটি কবরের পাশে দারিয়ে কথা গুলো বলে চলেছে সাদিয়া।
চোখের কোনে তার কিছুটা পানি, মুখে হারানো কিছুর অভিমান।
ভাইয়া তুমি ফিরে এসো। তোমাকে ছাড়া থাকা অনেক বেশি কস্টের।
কিছু কিছু ভালোবাসার অনুভূতি গুলো একটু ভিন্ন হয় যার অভাবটা তাকে হারিয়ে বোঝা যায়।
তবে হারানোর কস্ট টা সে বোঝে যে প্রিয় মানুষ গুলোকে হারায়।
তাই তোমাকে হারিয়ে তোমার অভাবটা বুঝতেছি আমি।
বেশিরভাগ ভাই বোনেরই যুদ্ধ চলে সারা দিন। 
লক্ষ্য থাকে মা -বাবার আদর বা অন্য সব কিছুর ভাগটা যেনো বেশি পায় কিন্তু দিন শেষে দেখা যায় যখন এই যুদ্ধটাকে সে হারিয়ে ফেলে তখন নিজের শূন্যতা বুঝতে পারে। ভাই বোনের ভালোবাসা গুলো সেরা ভালোবাসা গুলোর মধ্যে অন্যতম।