বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬

স্মৃতিময় ভালোবাসা

ফাহিম রিক্সা করে কলেজে যাচ্ছিল। আজ ফাহিমের কলেজ জীবনের প্রথম দিন। ফাহিম দেখতে খুবই স্মার্ট এবং স্টাইলের দিক দিয়েও কোন কম নয়। যদিও ফাহিমের আজ কলেজের প্রথম দিন, তার মাঝে ভয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল না। ফাহিমের মনে হচ্ছে কলেজ তার খুব চেনা-পরিচিত জায়গা। এজন্য নিরদ্ধায় কলেজ ঢুকে পড়ল।
.
ক্লাসে স্যার আসার সময় হয়ে গেছে। ক্লাসে স্যার আসল সবাই সালাম দিল। এরপর স্যার সবার সাথে পরিচয় হচ্ছিলেন। এরই মাঝে ফাহিমের কাছে তারপর পরিচয় জানার আগেই জিজ্ঞেস করল। এগুলো কি বেঁধেছ গলায়, হাতে এসব কলেজে পরে আসলে চলবে না।
.
ফাহিম এসব কথা শুনে মনে মনে প্রচন্ড রাগ করেছিল, এছাড়াও ক্লাসের ছেলে/মেয়েরা সবাই হাঁসাহাসি করছিল। এটা মটেও ফাহিমের ভাল লাগেনি। এভাবে ১ সপ্তাহ পার হয়ে গেল। এতে ফাহিমের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছিল না। ফাহিম সাধারণ ভাবেই এখন কলেজে আসছে। কিন্তু একটু পরিবর্তন হয়েছে । চোখে চশমা, হাতে কোন বেসল্টে নেই, এছাড়াও গলায় কোন চেন জাতীয় কোন লকেট নেই।
.
সেদিন ক্লাসে একটি নতুন মেয়ে আসল, ফাহিম মেয়েটিকে দেখে ক্রাশ খাওয়ার মত অবস্থা!!! অতঃপর স্যার আসার সময় হয়ে গেছে। স্যার এসে পেজেন্টের কাজ শুরু করলেন। সবার পেজেন্ট হল কিন্তু মেয়েটার হয়নি। এজন্য মেয়েটি উঠে দাড়াল। স্যার আমার পেজেন্ট হয়নি। স্যার মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করল। মেয়েটি বলল' সানিয়া ' নাম শুনে ফাহিমের মনে লাড্ডু ফুটল। সঙ্গে সঙ্গে ফাহিম কল্পনার ডানা মিলে নীল আকাশে উড়তে শুরু করেছে ।
.
ফাহিম বাস্তবতায় চলে আসল, দেখল ক্লাসে কেউ নেই। সবাই চলে গেছে। মাত্র কলেজ ছুটি হল। এজন্য ফাহিম পাগলের মত ছুটতে থাকল। আর এমন ভাব করল যেন 'সানিয়া' নামের মেয়েটি তার অনেক দিনের পরিচিত।
.
ফাহিমের আমার কাছে এসে বলল ' পল্টু ভাই আমার একটা কাজ করে দে' না "
-কি কাজ? 
-তোর বাইকটা একটু দিবি? 
-কেন বাইক নিয়ে কি করবি?
-আচ্ছা আগে একটা কথা বলত 'সানিয়া'কে দেখেছিস?
-আমি বললাম সানিয়া কে?
-আমাদের ডিপার্টমেন্ট আজ নতুন যেই মেয়েটি এসেছে, সেই মেয়েটির কথা বলছি।
-হ্যা চিনেছি। 
-দেখেছিস মেয়েটিকে?
-হ্যা' মাত্র রিক্সায় উঠে চলে গেল।
-পল্টু ভাই আমার মেয়েটিকে ফলো কর।
-আচ্ছা বাইকে উঠ....
মেয়েটিকে খুঁজে পেলাম অবশেষে। ফাহিম দেখেই মেয়েটিকে নাম ধরে ডাকল। সানিয়া তোমার নোট খাতা ক্লাসে রেখে আসছিলে! এই নাও তোমার খাতা। ব্যাস কাজ হয়ে গেল। সানিয়া ফাহিম 'কে জিজ্ঞেস কলল। তোমার নাম কি" ফাহিম।
-আচ্ছা আজ তাহলে আসি, আগামীকাল কলেজে দেখা হবে।
-Bye bye... See you tomorrow.
.
অতঃপর সেখান থেকে চলে এলাম। ফাহিম বলল থ্যাংকস পল্টু! আচ্ছা ঠিক আছে। ফাহিম এখানে নাম আমার আবার হসপিটালে যেতে হবে। ফাহিম কে নামিয়ে দিয়ে হসপিটালে চলে এলাম। আমার মামা সরকারি এক হসপিটালে ভর্তি আছে। কোন সরকারি হসপিটালে ঢুকলে বুঝতে পারবেন। মানুষ কত আসহায়। যদিও মামার প্রচুর টাকা বললাম " মামা তোমার এত টাকা পয়সা থাকতেও। তুমি সরকারি হসপিটালে আস কেন? এখানে তোমার চিকিৎসা ঠিক মত হচ্ছে না। এখানে থেকে চল। মামা না ছোড় বান্দা! "" তারপর বললাম তুমি যদি চিকিৎসার অভাবে মরে যাও। তাহলে তোমার এত টাকা পয়সা দিয়ে কি হবে। মামা আচর্য্য হয়ে আমার দিকে তাঁকিয়ে বলল ' ঠিক কথা বলেছিস তো পল্টু। আচ্ছা চল। ভাল হসপিটালে।
.
মামাকে শেষ পযর্ন্ত বুঝাতে পেরেছি। বেসরকারি একটা ভাল হসপিটালে ভর্তি করে দিয়ে বাসা চলে আসলাম। মামা বলল তোর মাকে আসতে বলিস তো একবার। আচ্ছা মামা এখন আমি গেলাম। আর শোন পল্টু বাইক আসতে চালাবি কিন্তু, আচ্ছা মামা। চলে আসলাম হসপিটাল থেকে ।
.
পরদিন কলেজে ফাহিম দেখি অনেক আগে গিয়ে ক্লাসে বসে আছে। আমাকে দেখে ফাহিম বলল' এই পল্টু শোন এই দিকে আয় । কি হয়েছে রে ফাহিম ডাকছিস কেন? পল্টু মেয়েটি তো এখনো আসছে না। আমি বললাম কোন মেয়েটিরে? আরে পল্টু সানিয়ার কথা বলছি। আমি কি করে যানব! ফাহিম।
.
অবশ্য ক্লাসেরও সময় হয়ে গেছে। সবাই ক্লাসে আসছে। ক্লাস শুরু হয়ে গেল। কিন্তু সানিয়া আসল না। ফাহিমের মুখে অস্থীর ছায়া দেখতে পাচ্ছিলাম। আজ ফাহিমের স্যার লেকচারের উপর কোন মনই নেই। স্যার ফাহিমের এই অমনযোগি দেখে ক্লাস থেকে বের করে দিল।
.
ক্লাস শেষ' আমি বাসার যাওয়ার জন্য কলেজের গ্যারেজ থেকে বাইক নিয়ে আসতে যাব ঠিক তখনি। গিয়ে দেখি ফাহিম আমার বাইকের উপর বসে আছে। আমি এগিয়ে যেতেই ফাহিম বলল' পল্টু একটু সানিয়াদের বাসায় নিয়ে যাবি? আমি বিরক্তির ভাবে বললাম দেখ ফাহিম প্রতিদিন এসব করতে ভাল লাগছে না। আর বাইকে পেট্রোল নেয়। যেই টুকু আছে, এদিয়ে বাসায় ফিরতে হবে। আজ ঝামেলা করিস না।
.
তারপর ফাহিম বলল বাইকের চাবিটা দে ২মিনিটের মধ্যে আসছি। দিলাম ঠিক দু মিনেটের মধ্যেই দেখি বাইক নিয়ে চলে এসেছে। বলল পেট্রোল নিয়ে আসলাম। এবার ফিছনে উঠ। ফাহিম বলল পল্টু তোর কালো সানগ্লাসটা দে তো এই নে, আর ফাহিমের চশমা টা আমায় দিল। ওইটা চোখে নিতেই উস্ঠা খেয়ে পড়ে গেলাম। ফাহিম হাসছে। পল্টু আমার চশমায় পাওয়ার কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হয়। হা হা হা।
.
এরপর বাইকে চড়ে বসলাম। সানিয়ার বাসায় চলে আসলাম। ফাহিম গিয়ে সানিয়াদের বাসা কলিং বেল দিতেই সানিয়া বের হয়ে আসল।
.
ফাহিম সানিয়া কে দেখা মাত্র ই বলল! তুমি আজ কলেজে আসলে না কেন? তুমি যান তোমার জন্য আজ কোন কিছুতেই মন ছিল না। সানিয়া সত্যিই আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি ।
-
সানিয়া বলল' ফাহিম তুমি যখন প্রথমদিন আমার দিকে তাকিয়ে কি যে ভাবছিলে তখন থেকেই তোমাকে আমার ভাল লেগে যায়। আর আমি ইচ্ছে করেই খাতাটা ফেলে রেখে এসেছিলাম, জানি তুমি খাতাটা নিয়ে আমাকে অনুসরণ করতে করতে চলে আসবে। আর আজ আমি ইচ্ছে করেই যায়নি। কারণ আমি দেখতে চেয়েছিলাম ফাহিম তুমি আমাকে কে কতোটা ভালবাস।
.
ফাহিম বলল' সানিয়া তোমাকে আমি অনেকটা ভালবাসি।
Fahim:- I love you Sania.
Sania:- I love too much fahim. 
.
এই বলে দুজন দুজনকে যরিয়ে ধরল এরপর ;ফাহিম আমার কাছে এসে বলল সানিয়া এটা আমার বন্ধু পল্টু অনেক ভাল বন্ধু! বাইকটা নিয়ে ওরা ঘুড়তে গেল। এরি মাঝে আমার মুঠফোনটা ফোনটা বেঁজে চলেছে...............!

স্মৃতিময় ভালবাসা

ফাহিম রিক্সা করে কলেজে যাচ্ছিল। আজ ফাহিমের কলেজ জীবনের প্রথম দিন। ফাহিম দেখতে খুবই স্মার্ট এবং স্টাইলের দিক দিয়েও কোন কম নয়। যদিও ফাহিমের আজ কলেজের প্রথম দিন, তার মাঝে ভয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল না। ফাহিমের মনে হচ্ছে কলেজ তার খুব চেনা-পরিচিত জায়গা। এজন্য নিরদ্ধায় কলেজ ঢুকে পড়ল।
.
ক্লাসে স্যার আসার সময় হয়ে গেছে। ক্লাসে স্যার আসল সবাই সালাম দিল। এরপর স্যার সবার সাথে পরিচয় হচ্ছিলেন। এরই মাঝে ফাহিমের কাছে তারপর পরিচয় জানার আগেই জিজ্ঞেস করল। এগুলো কি বেঁধেছ গলায়, হাতে এসব কলেজে পরে আসলে চলবে না।
.
ফাহিম এসব কথা শুনে মনে মনে প্রচন্ড রাগ করেছিল, এছাড়াও ক্লাসের ছেলে/মেয়েরা সবাই হাঁসাহাসি করছিল। এটা মটেও ফাহিমের ভাল লাগেনি। এভাবে ১ সপ্তাহ পার হয়ে গেল। এতে ফাহিমের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছিল না। ফাহিম সাধারণ ভাবেই এখন কলেজে আসছে। কিন্তু একটু পরিবর্তন হয়েছে । চোখে চশমা, হাতে কোন বেসল্টে নেই, এছাড়াও গলায় কোন চেন জাতীয় কোন লকেট নেই।
.
সেদিন ক্লাসে একটি নতুন মেয়ে আসল, ফাহিম মেয়েটিকে দেখে ক্রাশ খাওয়ার মত অবস্থা!!! অতঃপর স্যার আসার সময় হয়ে গেছে। স্যার এসে পেজেন্টের কাজ শুরু করলেন। সবার পেজেন্ট হল কিন্তু মেয়েটার হয়নি। এজন্য মেয়েটি উঠে দাড়াল। স্যার আমার পেজেন্ট হয়নি। স্যার মেয়েটির নাম জিজ্ঞেস করল। মেয়েটি বলল' সানিয়া ' নাম শুনে ফাহিমের মনে লাড্ডু ফুটল। সঙ্গে সঙ্গে ফাহিম কল্পনার ডানা মিলে নীল আকাশে উড়তে শুরু করেছে ।
.
ফাহিম বাস্তবতায় চলে আসল, দেখল ক্লাসে কেউ নেই। সবাই চলে গেছে। মাত্র কলেজ ছুটি হল। এজন্য ফাহিম পাগলের মত ছুটতে থাকল। আর এমন ভাব করল যেন 'সানিয়া' নামের মেয়েটি তার অনেক দিনের পরিচিত।
.
ফাহিমের আমার কাছে এসে বলল ' পল্টু ভাই আমার একটা কাজ করে দে' না "
-কি কাজ? 
-তোর বাইকটা একটু দিবি? 
-কেন বাইক নিয়ে কি করবি?
-আচ্ছা আগে একটা কথা বলত 'সানিয়া'কে দেখেছিস?
-আমি বললাম সানিয়া কে?
-আমাদের ডিপার্টমেন্ট আজ নতুন যেই মেয়েটি এসেছে, সেই মেয়েটির কথা বলছি।
-হ্যা চিনেছি। 
-দেখেছিস মেয়েটিকে?
-হ্যা' মাত্র রিক্সায় উঠে চলে গেল।
-পল্টু ভাই আমার মেয়েটিকে ফলো কর।
-আচ্ছা বাইকে উঠ....
মেয়েটিকে খুঁজে পেলাম অবশেষে। ফাহিম দেখেই মেয়েটিকে নাম ধরে ডাকল। সানিয়া তোমার নোট খাতা ক্লাসে রেখে আসছিলে! এই নাও তোমার খাতা। ব্যাস কাজ হয়ে গেল। সানিয়া ফাহিম 'কে জিজ্ঞেস কলল। তোমার নাম কি" ফাহিম।
-আচ্ছা আজ তাহলে আসি, আগামীকাল কলেজে দেখা হবে।
-Bye bye... See you tomorrow.
.
অতঃপর সেখান থেকে চলে এলাম। ফাহিম বলল থ্যাংকস পল্টু! আচ্ছা ঠিক আছে। ফাহিম এখানে নাম আমার আবার হসপিটালে যেতে হবে। ফাহিম কে নামিয়ে দিয়ে হসপিটালে চলে এলাম। আমার মামা সরকারি এক হসপিটালে ভর্তি আছে। কোন সরকারি হসপিটালে ঢুকলে বুঝতে পারবেন। মানুষ কত আসহায়। যদিও মামার প্রচুর টাকা বললাম " মামা তোমার এত টাকা পয়সা থাকতেও। তুমি সরকারি হসপিটালে আস কেন? এখানে তোমার চিকিৎসা ঠিক মত হচ্ছে না। এখানে থেকে চল। মামা না ছোড় বান্দা! "" তারপর বললাম তুমি যদি চিকিৎসার অভাবে মরে যাও। তাহলে তোমার এত টাকা পয়সা দিয়ে কি হবে। মামা আচর্য্য হয়ে আমার দিকে তাঁকিয়ে বলল ' ঠিক কথা বলেছিস তো পল্টু। আচ্ছা চল। ভাল হসপিটালে।
.
মামাকে শেষ পযর্ন্ত বুঝাতে পেরেছি। বেসরকারি একটা ভাল হসপিটালে ভর্তি করে দিয়ে বাসা চলে আসলাম। মামা বলল তোর মাকে আসতে বলিস তো একবার। আচ্ছা মামা এখন আমি গেলাম। আর শোন পল্টু বাইক আসতে চালাবি কিন্তু, আচ্ছা মামা। চলে আসলাম হসপিটাল থেকে ।
.
পরদিন কলেজে ফাহিম দেখি অনেক আগে গিয়ে ক্লাসে বসে আছে। আমাকে দেখে ফাহিম বলল' এই পল্টু শোন এই দিকে আয় । কি হয়েছে রে ফাহিম ডাকছিস কেন? পল্টু মেয়েটি তো এখনো আসছে না। আমি বললাম কোন মেয়েটিরে? আরে পল্টু সানিয়ার কথা বলছি। আমি কি করে যানব! ফাহিম।
.
অবশ্য ক্লাসেরও সময় হয়ে গেছে। সবাই ক্লাসে আসছে। ক্লাস শুরু হয়ে গেল। কিন্তু সানিয়া আসল না। ফাহিমের মুখে অস্থীর ছায়া দেখতে পাচ্ছিলাম। আজ ফাহিমের স্যার লেকচারের উপর কোন মনই নেই। স্যার ফাহিমের এই অমনযোগি দেখে ক্লাস থেকে বের করে দিল।
.
ক্লাস শেষ' আমি বাসার যাওয়ার জন্য কলেজের গ্যারেজ থেকে বাইক নিয়ে আসতে যাব ঠিক তখনি। গিয়ে দেখি ফাহিম আমার বাইকের উপর বসে আছে। আমি এগিয়ে যেতেই ফাহিম বলল' পল্টু একটু সানিয়াদের বাসায় নিয়ে যাবি? আমি বিরক্তির ভাবে বললাম দেখ ফাহিম প্রতিদিন এসব করতে ভাল লাগছে না। আর বাইকে পেট্রোল নেয়। যেই টুকু আছে, এদিয়ে বাসায় ফিরতে হবে। আজ ঝামেলা করিস না।
.
তারপর ফাহিম বলল বাইকের চাবিটা দে ২মিনিটের মধ্যে আসছি। দিলাম ঠিক দু মিনেটের মধ্যেই দেখি বাইক নিয়ে চলে এসেছে। বলল পেট্রোল নিয়ে আসলাম। এবার ফিছনে উঠ। ফাহিম বলল পল্টু তোর কালো সানগ্লাসটা দে তো এই নে, আর ফাহিমের চশমা টা আমায় দিল। ওইটা চোখে নিতেই উস্ঠা খেয়ে পড়ে গেলাম। ফাহিম হাসছে। পল্টু আমার চশমায় পাওয়ার কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হয়। হা হা হা।
.
এরপর বাইকে চড়ে বসলাম। সানিয়ার বাসায় চলে আসলাম। ফাহিম গিয়ে সানিয়াদের বাসা কলিং বেল দিতেই সানিয়া বের হয়ে আসল।
.
ফাহিম সানিয়া কে দেখা মাত্র ই বলল! তুমি আজ কলেজে আসলে না কেন? তুমি যান তোমার জন্য আজ কোন কিছুতেই মন ছিল না। সানিয়া সত্যিই আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি ।
-
সানিয়া বলল' ফাহিম তুমি যখন প্রথমদিন আমার দিকে তাকিয়ে কি যে ভাবছিলে তখন থেকেই তোমাকে আমার ভাল লেগে যায়। আর আমি ইচ্ছে করেই খাতাটা ফেলে রেখে এসেছিলাম, জানি তুমি খাতাটা নিয়ে আমাকে অনুসরণ করতে করতে চলে আসবে। আর আজ আমি ইচ্ছে করেই যায়নি। কারণ আমি দেখতে চেয়েছিলাম ফাহিম তুমি আমাকে কে কতোটা ভালবাস।
.
ফাহিম বলল' সানিয়া তোমাকে আমি অনেকটা ভালবাসি।
Fahim:- I love you Sania.
Sania:- I love too much fahim. 
.
এই বলে দুজন দুজনকে যরিয়ে ধরল এরপর ;ফাহিম আমার কাছে এসে বলল সানিয়া এটা আমার বন্ধু পল্টু অনেক ভাল বন্ধু! বাইকটা নিয়ে ওরা ঘুড়তে গেল। এরি মাঝে আমার মুঠফোনটা ফোনটা বেঁজে চলেছে...............!

নিস্তব্দ স্মৃতিময় ভালবাসা


চুল আর নিথর দেহটা দেয়ালে ঠেকিয়ে দৃষ্টি মেলে আছে জানালা গলে বাহিরে। রোদেলা আকাশে মেঘ জমেছে, মেঘের আড়াল দিয়ে সূর্যের উজ্জ্বলতা জাহিরের তীব্র প্রচেষ্টা দেখতে খারাপ লাগছেনা আজ। এক দুবার হয়তো চোখের পাতা ফেলেছিল, এর ই মাঝে এক পসলা বৃষ্টি যে কখন ঝরে পড়ল সেই সময়টি ও দেখা হয়নি আজ। মেঘরাজ বিদায় নিয়েছে, সূর্যের আলোতে জলে ভেজা নারিকেলের পাতাগুলোতে কে যেন মুক্ত গেঁথে রেখেছে। হঠাৎ করেই কোত্থেকে জানি এক বৃষ্টিভেজা শালিক এসে বসলো পাতার উপর আর শুরু করলো জল ঝারবার কসরত। এক শালিক দেখে আজ ও একটু ও বিচলিত নয়। কিভাবে হবে! একা একা তো ঝগড়া হয়না। সম্বিত ফিরে পেল হৃদয় ছোট ভাইটার করা অনাকাঙ্ক্ষিত এক প্রশ্নে। ও যে কখন ঘরে ঢুকেছে খেয়াল ই করেনি। “ভাইয়া, তুমি কি গোঁফ দাঁড়ি করছ?” সহজ সরল প্রশ্নটা শুনে এক গাল হাসল হৃদদয়।পাশের কক্ষ থেকে মা শুধরে দিল, “গাধা। গোঁফ দাঁড়ি করতে হয়না, রাখতে হয়।” হয়তো নিজের অজ্ঞতার লজ্জায় ছোট মানুষটা আর দাড়ালোনা ঘরে, অন্য ঘরে চলে গেল। হৃদয়ের হাতে আজ অনেক সময়। আজকের দিনটার কোন প্রভাব নেই ওর মনে। নেই কোন পরিকল্পনা। জীবনের নিদারুণ বিড়ম্বনায় আজ অনেক বেশি আহত সে। দেয়ালে ঝুলানো যান্ত্রিক পাখাটার দিকে তাকিয়ে সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দেয় কিন্তু যদি জিজ্ঞাসা করা হয় পাখাটা কোনদিকে ঘুরছে, হয়তো বলবে, “কই! খেয়াল করিনি তো!” আজ হৃদয় বড্ড এলোমেলো। ওর জীবন বধ করা হয়েছে, মনের মানুষটা তার কাছে শুনতে চায়না আর ভালবাসার গল্প। ঈদ এর বিকেল। সবাই বেরিয়েছে ঘুরতে। হ্যাঁ। সবাই। শূন্য দৃষ্টি মেলে সামনে চেয়ে আছে হৃদয়।সূর্যের হলদেটে আভা চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। আবার শুরু হল বৃষ্টি, ক্ষণিকের জন্য। হৃদয়ের মনে পরে গেল সেই দিনটির কথা, যেদিন এই বর্ষার প্রথম কদম ফুলটি তার হাতে তুলে দেয়ার ভূত ঘাড়ে চেপেছিল। নাহ... কোন ফুলের দোকান ঘুরে ফুল পাওয়া যায়নি। রাজপথে ফুল হাতে ছুটে আসা ক্ষুদ্র বিক্রেতাও ফুল এর সন্ধান দিতে পারেনি। সারা সকাল দুপুর বহু এলাকা ঘুরেছে, কদম ফুলগাছও পেয়েছে কিন্তু একটা ফোঁটা ফুলও যে পাইনি। গোল গোল সবুজ ফুলগুলো যেন ওর দিকে চেয়ে রসিকতা করেই দুলছিল। অবশেষে পথ চলতে চলতেই দেখল এক পথশিশু কদমফুল ছিড়ে ছিড়ে পথে ফেলছে। হুড়মুড় করে রিকশা থেকে নেমে ছুটে গেলো ছেলেটার কাছে। বাচ্চাটার হাতে দেখল মাত্র একটা আধা ছেড়া ফুল। জিজ্ঞাসা করলো ফুলগাছ কোথায়। প্রত্তুতরে ছেলেটা জানাল, “ভাই। ফুল তো জালায় নাই।” মানে, ফুল তো ফোটে নাই। আশা হারালোনা। ছেলেটাকে সাথে নিয়েই খুঁজে বের করলো কদম ফুলগাছ। প্রস্ফুটিত কিছু ফুল দেখে খুব খুশি হল হৃদয়। এরপর শুরু হল আরেক পরীক্ষা। গাছে উঠতে পারেনা হৃদয়। আশেপাশে তেমন কাউ কে পেলনা। কিন্তু ফুল তো যেভাবেই হোক লাগবেই। বহু কসরত করে কিছুদূর উঠল। এরপর একটা লাঠি আর ওর মাঝারিকার দেহটা কাজে লাগিয়ে বহু ভঙ্গিমায় কিছু ফুল পাড়ল। ফুলগুলো একত্র করে শুরু করলো আবার পথচলা। সারাটা দিন খাঁ খাঁ রোদ ছিল। তৃষ্ণা পেয়েছে টের পেল। দু বোতল পানি কিনল। একটা নিজে পান করলো আরেকটা থেকে মাঝে মাঝেই ঠাণ্ডা পানি ঢালল ফুলের ওপর। পাছে ভয় হয়, এই গরমে ফুলগুলো যদি মিইয়ে যায়। একটা বার ও হাত থেকে কোথাও রাখলনা কারণ চোট পেলে ফুলের পাপড়ি গুলো বসে যেতে পারে। এভাবেই পৌঁছল গন্তব্যে। তখন সন্ধ্যা। কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেনা কিভাবে দিবে ফুলগুলো ওর হাতে। ততক্ষণে ফুলগুলো মিইয়ে গেছে। আর দেরি না করে মন মানুষটিকে ডাক দিয়ে হাতে ধরিয়ে দিল ফুলগুলো। কিভাবে দিতে হয় হৃদয় জানতোনা। অপরিণত মস্তিষ্কের পাগলামির এই অঘোষিত প্রচেষ্টা পরিণতি পেল। মনের মানুষটার মুখে এক ঝলক হাসির দেখা সে পেল। মানুষটি বলল, “আমার জন্য কেউ কখনো এমন করেনি।” হৃদয়ের মনে হল, এতটুকুই তো সব, আর কিছু চাইনা জীবনে। সারাদিনের অভিযানের পর এক সুখী মানুষের তৃপ্ত হৃদয় নিয়ে ঘরে ফিরল। হৃদয় আজ নিশ্চুপ। দুনিয়ার গড়া তথাকথিত সমীকরণে ওকে ফেলা হয়েছে আজ। আর দশটা হীনচেতা মানুষের সারিতে ওকে দাড় করানো হয়েছে আজ। অপরাধ টা কি? হৃদয় জানেনা। হয়তো ওর পাগলের মত অস্বাভাবিক ভালবাসা আজ মানুষের কাছে দৃষ্টিকটু। হয়তো ওকে আজ বিশ্বাস করতে পারেনা মানুষটি। হৃদয় জানেনা কিভাবে প্রমাণ দিবে। এইত গতদিন ও হৃদয় নিকষ আঁধার দেখে ফিরেছে, একটুও দ্বিধা করেনি এইভেবে যে মানুষটা হয়তো সুখে থাকবে ও সরে গেলে। এর থেকে বেশি কিছু হৃদয়ের জানা ছিলোনা। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। দূরের দৃশ্যপট গুলো আর দেখা যাচ্ছেনা। হৃদয় বুঝল সন্ধ্যা হয়ে গেছে। এর ই মাঝে মা কয়েকবার এসে খেতে বলে গেছে। লাভ হয়নি। জোর করে কিছু খাইয়ে দিয়েছে, হৃদয় হয়তো টের পায়নি। এখন মুখটা মিষ্টি লাগছে, হয়তো পায়েস ছিল জিনিসটা। এখন রাত। ঈদ এর দিনটি প্রায় শেষ। গানের গলা ভালোনা হৃদয়ের। মনের মানুষটিকে তাই গান শোনাতে পারেনা সে। কিন্তু এখন সে গাইছে, ভয় কি! কেউ তো আর শুনবেনা। গলা ছেড়ে গান গাইছে হৃদয়। চোখের জল গাল গড়িয়ে পরছে। কাঁপা কাঁপা ভাঙ্গা গলায় তারপরেও সে গাইছে। বহু নামে ডাকতো হৃদয় তার মনের মানুষটিকে। বহু নামে। সব গুনলে হয়তো কয়েক ডজন হবে। আজ ডাকতে পারেনা। ওর উপর আজ মনঃমানুষটির নিষেধাজ্ঞা আরোপিত। হৃদয়ের খুব কষ্ট হয়। নীল বেদনায় ছটফট করে বিছানায়। আজ ওকে দেখবার কেউ নেই। হৃদয় আজ অনেক একা। ওর চারপাশের জীবনগুলো আপন গতিতেই চলছে, ওকে নিয়ে কোন পরিকল্পনা হবেনা, ওর জন্য কেউ সাজবেনা, সামনে দাড়িয়ে বলবেনা, “দেখো তো আমায় কেমন লাগছে!”, এভাবেই চলতে থাকবে সবকটি মানুষের পৃথিবী। থেমে থাকবে হৃদয়ের মতো কিছু মানুষের জীবন। হয়তো সে একটু আলাদা, হয়তো মানুষ না। আজ ও নিজেকে বড্ড ভয় পায়, যেমন টা আগে ছিলোনা। ===== ঈদ এর আগের দিন ===== পিটপিট করে চোখ মেলে নিজেকে খুঁজে পায় হৃদয় হাসপাতালের ICU এ। বিরক্তি ভরা চোখে চারদিক দেখতে থাকে। তার তো এখানে থাকার কথা না। তাহলে কি কোথাও গড়মিল হল!!! লজ্জায় মুষড়ে পড়ে হৃদয়।এত ছোট কাজটাও সে ঠিকমত করতে পারলনা। তার মা সময়মতই তাকে ধরে এখানে এনেছেন। এক নিদারুণ লজ্জা আর ঘৃণা অনুভব করলো নিজের প্রতি। ===================== ঈদ এর দিনরাত উভয়ই পরিসমাপ্তির পথে। হৃদয় এখনো ভালবাসে তার মনের মানুষটিকে, হয়তো আগের থেকে আরও বেশি। কিন্তু আজ ও বলতে পারেনা, নাম ধরে ডাকতে পারেনা, আগের মত করে হাসতে পারেনা। একটা আশা নিয়ে এখনো বেঁচে আছে সে। হয়তো ওর মানুষটি একদিন বুঝবে ওকে, তারপর ওকে শেখাবে কিভাবে হাসতে হয়, কিভাবে ভালবাসতে হয়। রাত খুব বেশি না। তাতে কি! হৃদয় এখন ঘুমাবে... ====================== অগোছালো লাগছে ঘটনাগুলো! আসলে গল্প আর মানুষের জীবনের মাঝে এই একটাই তফাৎ, জীবনে সবকিছু গল্পের মত সুন্দর করে সুবিন্যস্ত ভাবে ঘটেনা। এক হৃদয়ের এক জীবনের এক টুকরো বাস্তবতা এখানে। আপনাকে যদি শিহরিত না করে, না হাসায়, না কাঁদায় তাতে হৃদয়ের জীবনের কিছু যায় আসবেনা। যদি ওর জীবন থেকে আপনি ভালবাসা শিখতে পারেন, এটাই হবে ওর এলোমেলো জীবনের সার্থকতা।।।
-----------------------------

ভালোবাসার কুঁড়েঘর


চাঁদটা তার আটটি দশার মধ্যে এখন ঠিক কোন দশায় আছে তা ঠিক অনুধাবন করা যাচ্ছেনা। তবে শীগ্রই যে তা ভরা পূর্ণিমায় রুপ নিবে তাতে সন্দেহ নেই। সে যাক! চাঁদকে ভরা পূর্ণিমা পেতে হলেতো একটু অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু চৈতি কে তা করতে হবেনা। এখনি ওর মন-প্রাণ জুড়ে সুখের ভরা পূর্ণিমার জোয়ার বইছে। কিন্তু দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার দিকে তাকাতেই ওর মনে অমবস্যা নেমে এল। রাত প্রায় ২টা! অথচ অভ্র এখনো এলোনা। ধ্যাৎ! বাসর রাতে কেউ এরকম করে? কিজানি! মানুষ টা না জানি কতো বিরক্তিকর হবে? চৈতি মনে মনে ঠিক করে রাখে,খুব অভীমান করে থাকবে ও অভ্রর উপর। অভ্র যতোক্ষণ পাগলামী দিয়ে ওর রাগ ভাঙ্গাচ্ছে ততোক্ষণ একটুও কথা বলবেনা ও অভ্রর সাথে।
.
আরও অনেক্ষণ পর অভ্র ঘরে ডুকল। চৈতি মুখ ফিরিয়ে খুব অভীমান করে বসে আছে। ভাবছে আজ অভ্র খুব মজা দেখাবে। কিন্তু আশায় গুড়েবালি। অভ্র এসেই বললো,আপনি ঘুমাননি এখনো? অনেক রাত হয়েছে এবার ঘুমান। চৈতির ভিতরটা যেনো কে সজোরে নাড়া দিলো। কিছুই বুঝতে পারছেনা ও। তাই রাগ-অভীমান সব ভুলে অভ্রকে প্রশ্ন করলো---
~ আমি ঘুমাবো মানে? এতো রাত করে আসলেন তাও এখন ঘুমাতে বলছেন? চলেন না দুজন গল্প করি? জানেন আমার কতো স্বপ্ন ছিলো,আমি আর আমার হাজবেন্ড একটা কুঁড়েঘরে থাকবো! ভালোবাসার কুঁড়েঘর। তার আনাড়ি দেয়ালে একটা ফুটফুটে বাচ্চার ছবি ঝোলানো থাকবে। ঘরের কোণায় থাকবে একটা কৃত্রিম গোলাপ ফুলের টব। আর....
~ উফ! থামুনতো, এতো ন্যাকামি আমার পছন্দ না। ঘুমাতে বলছি,চুপচাপ ঘুমান।
বলেই একটা সিগারেট ধরালো অভ্র!
~ আর এ আপনি সিগারেট ধরালেন যে? সিগারেটের ধোঁয়া একদম সহ্য করতে পারিনা আমি? আর এরকম একটা রাতে আপনি কি করছেন এসব?
~ আমার যা ইচ্ছে করছি। তাতে আপনার কি? ভালো না লাগলে বাইরে গিয়ে ঘুমান। 
~ তাহলে আমাকে বিয়ে করলেন কেনো?
~ আমি চাইনি নিশিকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করতে। আমি নিশিকেই ভালোবাসি আজও। শুধু বাবা-মায়ের দিকে তাকিয়ে আমাকে বিয়েটা করতে হয়েছে। বাবা অনেক আগ থেকেই হুইল চেয়ারটাকে আপন করে নিয়েছেন। মায়ের অবস্থাও ভালোনা। ভালো করেই জানেন আমি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তাই উনাদের সুখী করতেই আপনাকে উনাদের পছন্দমতো বিয়ে করা!
~ কিন্তু আমিতো অন্য কাউকে ভালোবাসিনা। কখনো অপরিচিত কোনো ছেলের সাথে কথা পর্যন্ত বলিনি,শুধু আমার হাজব্যান্ডের জন্য নিজেকে হেফাজত রাখবো বলে.......
আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো চৈতি। কিন্তু অভ্রের চোখের চোখ পড়তেই ও চুপ হয়ে গেলো। ভীষণ রকম রক্তিম দেখাচ্ছে অভ্রর চোখগুলো। চৈতি কখনো প্রেম করেনি,তবুও অভ্রের মনের কথাগুলো ঠিক বুঝতে পারছে। তাই নীরবে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো ও।
.
চৈতি সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। সূর্যের আলো ভালো করে ফোটার আগেই ও ফ্রেশ হয়ে বসে আছে। কিন্তু অভ্র ঘুমিয়েছে বেঘোরে। অভ্র ঘুম থেকে উঠে একটা কথাও বললোনা চৈতির সাথে। চুপচাপ ওয়াসরুমে চলে গেলো। ততোক্ষণে চৈতি অভ্রর জন্য চা বানিয়ে নিয়ে আসলো। অভ্র আসতেই ওর হাতে চা এগিয়ে দিলো চৈতি। অভ্র চায়ের কাপটাকে সজোরে মেঝেতে আছাড় দিয়ে বের হয়ে গেলো। আবার একটু পর ই ফিরে আসলো সাথে সাথে। এসেই আস্তে করে চৈতির কানে কানে বললো-
~ মা আসছেন, প্লিজ উনার কাছে এসবের কিছুই বলবেন না। খুব কষ্ট পাবেন উনি।
বলেই কাপের ভাঙ্গা টুকরোগুলো সরিয়ে সদ্য কেনা গামছাটা দিয়ে মেঝের চাগুলো পরিষ্কার করতে লাগলো অভ্র। চৈতি আনমনে ভাবছে,অভ্র কি একবারও ওর ফোলা চোখগুলো দেখেনি? ওরতো কতো স্বপ্ন ছিলো এই গামছাটা দিয়ে সকালে মাথার পানি মুছতে মুছতে পর্দাটা ফাঁক করে দিবে। আর অভ্রর চোখে সূর্যের আলো পড়তেই ঘুম ভাঙ্গবে ওর। কিন্তু......
~ বৌমা আসবো?
অভ্রর মায়ের ডাকে ঘোর কাটে চৈতির।
~ হুম,আসুন মা। কেমন আছেন?
~ আমি খুব ভালো। আর থাকবোইনা কেনো বলো? এতোদিন পর একজনকে পেলাম আমার পাগল ছেলেটাকে আগলে রাখতে। ওকে ইচ্ছেমতো শাসন করতে!
বলেই চৈতির কপালে দু'টো চুমু খেলেন তিনি। আর হাসতে হাসতে বললেন,একটা তোমার আর একটা আমার ফুটফুটে মিষ্টি নাতিটার জন্য! হঠাৎ নিচে কাজ আছে বলে চলে গেলেন তিনি। চৈতী কিছু না বলে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে খাটে গিয়ে শুয়ে পড়লো। অভ্র বেরিয়ে গেলো বাইরে। সারাদিন আর পাত্তা মিললনা অভ্রর। আসলো রাত দশটায়। অভ্র দেখেই চিৎকার শুরু করে দিলো ওর আম্মু---
~ পেয়েছিস টা কি হ্যাঁ? নতুন বউকে ফেলে কেউ এরকম বাইরে বাইরে ঘুরে? মানুষ হলিনা আর। শুন কাল বউমাকে নিয়ে মার্কেট এ যাবি। কেনাকাটা করে আসবি কিছু।
অভ্র হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে চলে গেলো। রীতিমতো ভিমরি খেলেন তিনি। চৈতি বিষয়টা বুঝতে পেরে বললো---
~ কিছু হয়নি। আমি দেখছি মা।
অভ্র খাটে বসে একমনে সিগারেট টানছে। চৈতি পাশে গিয়ে বসলো। একটা কথা বলবো অভ্র?
~ নাহ্!
~ কিন্তু আপনাকে শুনতে হবে। মায়ের খুশীর জন্য হলেও।
~ বলছিনা শুনবোনা?
~ তাহলে আগামীকাল যাচ্ছি মার্কেট করতে এইতো?
অভ্র কথা না বলে স্বশব্দে একটা চড় দিলো চৈতিকে। কিন্তু চৈতি কাঁদলোনা একটুও। বসার টুলটা টেনে নিয়ে জানালাটা একটু ফাঁক করে সারা রাত আকাশ দেখলো ও। কিন্তু ওদিকে অভ্রের ভ্রুক্ষেপ নেই একটুও।
.
অভ্র পৃথিবীর সব অবহেলা করতে পারে শুধু মা-বাবাকে ছাড়া। তাই সকালে উঠেই চৈতি কে মার্কেট এ যাওয়ার জন্য তৈরী হতে বললো। চৈতি বিনা বাক্য ব্যয়ে বাধ্য মেয়ের তৈরি হয়ে নিলো। প্রায় দেড় ঘন্টা পর মার্কেট এ এসে পৌঁছলো ওরা। অবশ্য ওদের বাসা থেকে ২০মিনিট দূরত্বে একটা মার্কেট আছে। কিন্তু ওটা অতো ভালো মানের না। তাই আসার সময় এ মার্কেটে আসতে আদেশ করছিলো অভ্রর আম্মু। চৈতি শাড়ি দেখছে একটা একটা করে। অভ্র নিশ্চুপ এ সব।
.
হঠাৎ করেই ও যেনো নিশির কণ্ঠ শুনতে পেলো। কিন্তু এখানে নিশি আসবে কোথা থেকে? ওতো তিন বছর আগে হারিয়ে গেছে ওর লাইফ থেকে। কিন্তু না,অভ্র মিথ্যে দেখেনি। সত্যিই নিশি পাশের দোকানটায় দেড় বছরের একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে কান্না থামানো চেষ্টা করছে। ছেলেটা জুস খেতে খুব কান্না করছে। তখন ই একটা ভদ্রলোক ছেলেটাকে নিশির কোল থেকে নিয়ে বাইরে দোকানে চলে গেলো। আর নিশিকে দাঁড় করিয়ে গেলো এতোক্ষণ ধরে কেনাকাটা করার ব্যাগগুলো নিয়ে।
.
অভ্রের চোখে চোখ পড়তেই নিশি কেমন চমকে উঠলো। অভ্র খুব দ্রুত পায়ে নিশির সামনে এগিয়ে গেলো---
~ এতোদিন কোথায় ছিলে নিশি? কতো খুঁজছি তোমাকে জানো? কেনো এমন করলে আমার সাথে?
~ আপনি কে? আপনাকে আমি চিনিনা।
~ আমাকে চিনোনা নিশি? আমি অভ্র! সেই ভার্সিটির পাগলু ছেলেটা। যে সবার রিলেশন ঠিক করে দিতো। কিন্তু নিজে কখনো লাভ করতোনা। অনেক মেয়েই আমাকে লাভ করতে চেয়েছিলো। বাট ওদের সবাইকে আমি অগ্রাহ্য করেছি। পারিনি শুধু তোমাকে!
~ হুম পারেন নি জানি! বাট এটা ছিল শুধু অভীনয়। বন্ধুদের সাথে বাজি। কিন্তু যখন বুঝলাম আপনি সত্যিই লাভ করেন আমাকে তখন,একটা ছেলে আমাকে খুব ডিস্টার্ব করে,আব্বুকে এরকম বুঝিয়ে বাসা চেঞ্জ করে আমরা চলে যাই। তারপর কেটে গেলো তিনটা বছর। আর এখনতো সব দেখতেই পারছেন!
নিশির হাজবেন্ড ওদের বাচ্চাটা কোলে নিয়ে ফিরে আসতেই ওরা চলে গেলো। বাচ্চার মতো সেখানেই অঝর কাঁদতে লাগলো অভ্র! হঠাৎ পিছনে কারো কোমল স্পর্শ অনুভব করলো ও। লজ্জা-শরম ভুলে চৈতিও খুব কাঁদছে। তারপর অভ্রকে বললো,কিছু হবেনা। সব ঠিক হয়ে যাবে আবার আগের মতো। অভ্র কিছু বললোনা। বাইরে এসে চৈতিকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে একটা লেকের পাড়ে এসে বসলো।
.
জীবনের হিসেব মেলাতে মেলাতে কখন যে বিকেল ঘনিয়ে এল,বুঝতেই পারলোনা ও। হঠাৎ কেনো জানি চৈতিকে খুব অনুভব করতে লাগলো অভ্র! থাপ্পর খেয়ে চৈতির চুপচাপ বসে থাকা। দুরন্ত- চঞ্চল,অবাধ্য কিশোরির মতো বাসর ঘরে নিজের স্বপ্নগুলো বলা। অনিচ্ছা থাকা স্বত্তেও ওর খুশীর জন্য! ওর বাবা-মায়ের খুশীর জন্য ভাঙ্গা মন নিয়ে চৈতির মার্কেট করতে আশা। সবশেষে ওকে এতো কষ্ট দেয়ার পরও অভ্রকে সব আগের মতো ঠিক করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া,এক এক করে সব যেনো জীবন্ত হয়ে ভেসে উঠছে অভ্রের চোখের সামনে।
.
হুম! আজকেও অভ্র দেরী করে রাতে বাসায় ফেরে। তবে তা অনিচ্ছাকৃত। কিন্তু চৈতিকে কোথাও খুঁজে পায়না ও। অবশেষে বাড়ির ছাদে দেখা মিললো চৈতির। চুপচাপ বসে আকাশ দেখছে। অভ্রকে দেখেই সচেতন হয়ে উঠলো চৈতি। তারপর একরাশ বিষ্ময় নিয়ে বললো--
~তোমার হাতে ওসব কি?
~ একটা কৃত্রিম গোলাপ ফুলের টব। আর এটা একটা কিউট বাচ্চার ছবি!
~ এসব কেনো?
~ কুঁড়েঘর সাজাবো বলে! ভালোবাসার কুঁড়েঘর।
~ পাগলামী করো?
~ ছাদে সেটা আর পারছি কই? রুমে চলো,ওটাকে কুঁড়েঘর বানিয়ে তারপর দেখাবো পাগলামী কাকে বলে?
~ চৈতি একটা তৃপ্তির হাসি দিয়ে বললো আমি পারবোনা যেতে। এখানেই ভালো লাগছে!
অভ্রকে ফাঁকি দেয়া অতো সোজা নয়। চৈতির হাসিটার অর্থ সে ঠিক বুঝে গেলো। তাই চৈতিকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে,আড়কোলে করে ওকে রুমে নিয়ে গেলো অভ্র। রুমটাকে ওরা কুঁড়েঘর বানাবে কিনা কেউ জানেনা। হয়তো বানালেও এতো তাড়াহুড়োর মাঝে তা পারফেক্ট হবেনা। কিন্তু পাগলামীটা যে আজ ঠিক পারফেক্ট হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই!!!

অসীম অপেক্ষা


>- এই হারামি তুই কইরে? ভার্সিটি আসিস না কেনো?
>- একি রে,,, তুই জানিস না!! আমি শ্বশুর বাড়ি।
>- আচ্ছা!! ভার্সিটি আয় আমি তোর শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার শখ বের করছি।
>- আচ্ছা আগামিকাল ভার্সিটি যাওয়ার সময় আমাকে নিয়ে যাবি।
রাফি ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে অনেক দিন ক্লাশে যায়নি। শারীরিকভাবে একটু অসুস্থ ছিলো তাই।
লাবন্য আর রাফির বন্ধুত্ব তাদের বাবা মায়ের বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করেই।
লাবন্যের বাবা আর রাফির বাবা খুব ভালো বন্ধু। পাশাপাশি এলাকায়ই দুজনের বাড়ি।
কিন্তু রাফির বাবা-মা দুজনেই আমেরিকা থাকে। রাফিকেও নিয়ে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু রাফি বলল সে ভার্সিটি ফাইনাল ইয়ারের পর যাবে। রাফির বাবা কিছুতেই রাফির কথা শুনতেন না যদি এখানে লাবন্যরা না থাকতো।
মধ্যরাতে হঠাৎ রাফির ঘুম ভেঙ্গে গেলো। কেমন যেনো অসস্থি লাগছে। মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে। খুব পানির তৃষ্ণা পাচ্ছে। একটুও ঘুমাতে পারেনি রাফি।
যদিও মাঝে মাঝেই রাফির মাথা ব্যাথা করে কিন্তু কখনো এতো বেশি হয়নি। ইদানিং শরীরটাও কেমন দুর্বল লাগে। সময় করে একদিন ডাক্তার দেখাবে ভাবলো রাফি।
বিকেলে লাবন্যর ফোন,
>- ফোন ধরেই রাফি বলল, কিরে লেবু? 
>- বাঁদর কখনো মানুষ হয়না। তোরে কতবার নিষেদ করছি আমাকে লেবু বলবিনা? লাবন্য বলতে পারিস না এতো বড় হয়েছিস?
>- তুই তারাতারি ডাক্তার দেখা। তোর চোখে আসলেই প্রবলেম হইছে। এতো বড় মানুষটাকে তোর চোখে বাঁদরের সমান মনে হইলো কিভাবে?
>- আম্মু তোকে বাসায় আসতে বলছে, তারাতারি আসবি। আর আসার সময় পিঠে কম্বল বেধে আসবি।
যদিও রাফি আর লাবন্যের মধ্যে দা-কোমড়োর সম্পর্ক কিন্তু তাদের বন্ধুত্বে কোনো খাদ নেই।
রাফি লাবন্যদের বাসার ভিতর ঢুকেই কেমন ভয় পেয়ে গেলো।
এতো অন্ধকার কেনো!! এক পা দু' পা করে সামনে এগুতেই হঠাৎ লাইট জ্বলে উঠলো আর তার কানে ভেসে আসতে লাগলো,
হেপি বার্থডে টু ইউ
হেপি বার্থডে টু ইউ
হেপি বার্থডে টু ইউ রাফি
হেপি বার্থডে টু ইউ
সামনে তাকিয়ে দেখলো লাবন্য, লাবন্যের ছোট ভাই, লাবন্যের বাবা-মা, পাশে একটা লেপটপে ভিডিও কনফারেন্সিংএ রাফির বাবা-মা, তাদের সামনের টেবিলে ইয়া বড় একটা কেক আর পাশে সব ফ্রেন্ডসরা।
পার্টিতে সবাই অনেক মজা করলো। রাফিও অনেক হাসাহাসি করতেছে কিন্তু তার অনেক কষ্ট হচ্ছিলো। আজো মাথার ব্যাথাটা তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলো।
পার্টি শেষে সবাই চলে গেলো। রাফি আজ লাবন্যদের ওখানেই থাকবে। 
লাবন্য খেয়াল করলো রাফি চুপচাপ বসে আছে। 
>- বাঁদর আজ চুপচাপ!! চাঁদটা কি আজ আকাশ থেকে খসে পড়লো নাকি দেখে আসি তো!
>- তোর কি ধারনা আমি তোর মতো সারাক্ষন বকবক করি? আমি অনেক শান্ত আর ভদ্র ছেলে বুঝলি?
>- কি! তুই শান্ত! হি হি হি,,,জোকস অব দ্যা নাইট।
>- তোর বুদ্ধি সুদ্ধি দিন দিন লোপ পাচ্ছে। ভালো কথাকেও জোকস মনে হয় তোর। যা ভাগ, ঘুমো গিয়ে।
আজ রাতেও রাফি ঘুমাতে পারেনি। সকালে উঠে লাবন্য রাফিকে দেখে বলল,
>- কিরে? সারারাত জেগে প্রেম করেছিস নাকি? চোখমুখের অবস্থা এমন কেন?
>- রাতে ঘুমাতে পারিনি রে। মাথায় অনেক পেইন ছিলো।
>- জানি জানি এখন কতো বাহানাই দিবি।
>- নারে সত্যিই। লাস্ট কয়েকমাস ধরেই এমন।
লাবন্যের চোখেমুখে চিন্তার রেখা ফুটে উঠলো। লাবন্য রাফিকে আজই ডাক্তার দেখাতে বলল। 
সকালে নাস্তা করে রাফি লাবন্যদের বাসা থেকে বের হয়ে ওর বাসায় আসলো।
বিকালের দিকে হসপিটালের উদ্দেশ্যে বের হলো। 
রাত ৯টা। রাফি হসপিটালের একটা চেয়ারে বসে আছে। ডাক্তার আজকের মধ্যেই অনেকগুলো টেস্ট করতে দিয়েছেন।
টেস্টগুলো করে এসে বসে বসে রিপোর্ট আসার অপেক্ষা করছে।
সকালে লাবন্য অনেকবার ফোন দিয়েছে রাফি ধরেনি। ভার্সিটিতে গিয়ে রাফিকে অনেক খুঁজাখুঁজির পর ক্লাশরুমে 
গিয়ে দেখে রাফি একা বসে আছে।
>- হারামি তোর কানে কি ঠাডা পরছে? নাকি ফোনে?
>- না শুধু মাথায়।
> মানে?
>- আরে সব ঠিকাছে।
>- তাহলে কল দিছি যে দেখিসনি হারামি? জানিস একটা খুশির সংবাদ দেয়ার জন্য তোরে ফোন দিছিলাম।
>- বলে ফেল।
>- অনিক দেশে ফিরছে গতকাল।
>- কোন অনিক?
>- তুই কি সব খেয়ে ফেললি? যার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।
>- আচ্ছা ওই পেঁচাটার নাম তাহলে অনিক? 
>- খবরদার তুই ওরে পেঁচা বলবিনা। তোর বউ তো হবে ডাইনি, গাধী আর বাঁদরনী।
>- আমার বউ তোর থেকে অনেক ভালো আর কিউট হবে।
>- কোনো ভালো মেয়ে তোকে বিয়ে করবেনা,,গাধী ছাড়া।
>- দেখিস কেমন পরীর মতো বউ ঘরে আনি।
>- দেখা যাবে হুহ। 
তা তুই যে ডাক্তারের কাছে গেছিলি কি বলল? প্রেমরোগ তো? আজই অঙ্কেলকে বলে তোর বিয়ের ব্যবস্থা করতেছি দাঁড়া।
>- আমি এখন যাইরে, একটা জরুরী কাজ ছিলো ভুলে গেছিলাম।
>- আরে দাঁড়া,,,এই রাফি,,,এই দাঁড়াবি নাকি দৌঁড়াবি??
লাবন্যের কোনো কথাই যেনো রাফির কানে যাচ্ছেনা। আশেপাশের কোনো কিছুতেই রাফির খেয়াল নেই। রাফিকে আজ যেতে হবে,,,অনেক দুরে,,,লাবন্যের নাগালের বাইরে।
বেশ কয়েকদিন হয়ে গেলো রাফির কোনো খবর নেই, ফোনও বন্ধ। পরদিন সকালে লাবন্য রাফির বাসায় আসলো।
অন্য সময় হলে বাসায় এসে রুমে না ঢুকেই আগে রাফিকে এত্তগুলা ঝারি দিতো। কিন্তু আজ এইগুলা দেখে লাবন্য আর কিছু বলতে পারলো না।
রুমের লাইট, জানালা সব বন্ধ। বিছানার চাদর মেঝেতে পরে আছে। কাপরগুলো এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পানির গ্লাস নিচে পরে আছে। দেখে মনে হচ্ছে কেউ রেগে সব ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
আর রাফি ঘরের এক কোণে ফ্লোরে পরে আছে। পাশে সেদিনের টেস্টের সব রিপোর্টগুলোও।
লাবন্য তারাতারি বাসায় ফোন দিয়ে ওর মাকে হসপিটাল থেকে এম্বুলেন্স নিয়ে আসতে বলল।
সেদিন রাফির ব্রেন ক্যান্সার ধরা পরেছিলো। রাফি কাউকে কিছুই জানায়নি। কাউকে না জানিয়েই হয়তো চলে যেতে চাইছিলো সে।
রাফির বাবা-মা দেশে আসলেন দুইদিন হলো।
আজ ডাক্তার রাফিকে সিট থেকে নামিয়ে দিলো। রাফির চঞ্চল দেহটা আজ নিথর হয়ে আছে।
লাবন্যের হাজারো চিৎকার আজ রাফির কানে পৌঁছায়না। লেবু বলে আজ রাফি চেঁচিয়ে উঠেনা।
আজও রাফির জন্মদিনে সবাই একসাথে হয়েছে। মিলাদ আর দোয়া করার পর সবকিছুই সেদিনের মতো করা হয়েছে।
লাইট অফ করে রাফির অপেক্ষা করতে করতে জন্মদিনের তারিখটা আজ চলে গেলো কিন্তু রাফির আগমন ঘটলো না। হেপি বার্থডে গানিটা আজ কারোরই গাওয়া হলো না। সবার হাসির বদলে আজ কান্নাটাই বেশি হলো।

শুক্রবার, ১৩ মে, ২০১৬

অসমাপ্ত ভালোবাসা


নদীর পারে বসে বসে কয়েক মাস আগের কথা ভাবছে নিবির।এই জায়গাটায় নিবির ও খুশির অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার থেকে তাদের পরিচয়,তারপর ধীরে ধীরে অনেক ভালো বন্ধুত্ব;অত:পর তারা জড়িয়ে পরে ভালোবাসা নামক সম্পর্কে।অনেক সুখের দিন যাচ্ছিল তাদের।ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পরলেও তারা লেখাপড়ায় যথেষ্ট মনোযোগী ছিল।যার ফলে তাদের পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হতো।সময়ের আবর্তনে তারা একে অপরকে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলো।এদিকে তাদের এইচএসসি পরীক্ষার সময়ও ঘনিয়ে আসছিলো।
.
৩মাস পর........
পরীক্ষার কারণে নিবির ও খুশির দেখা সাক্ষাত একটু কমই হয়েছে তাই বলে সময়ের ব্যবধানে তাদের ভালোবাসা কমে যায়নি বরং বৃদ্ধি পেয়েছে।আজ ৩মাস পর আবার তারা সেই নদীর পারে বসে কথা বলছে.... 
নিবির→কেমন আছো খুশি?
খুশি→এতোদিন যেমন ছিলাম,এখন তার থেকে অনেক বেশি ভালো আছি।
নিবির→তাই বুঝি!পাগলি আমার।আচ্ছা খুশি,আমি তো রেজাল্টের পর বিদেশে চলে যাবো লেখাপড়া করার জন্য,তখনও কি তুমি আমাকে এতটাই ভালোবাসবে???
খুশি→কি!তুমি আমায় ছেড়ে বিদেশে যাবে কেন!এখানেই লেখাপড়া করবা,তারপর লেখাপড়া শেষ করে আমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবা(একটু লজ্জা পেয়ে)।
নিবির→বিয়ের প্রস্তাব তো নিয়ে যাবোই কিন্তু তার আগে নিজেকে তোমার যোগ্য করে নিতে হবে আর সেই জন্যই তো আমি বিদেশে যাবো,
খুশি→এই কি বললি তুই!(একটু রেগে)তুই আমার যোগ্য না???নিবির→হ্যা,যোগ্য তো বটেই,কিন্তু সেটা তোমার কাছে,আঙ্কেল-আন্টির কাছে না।তাই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই আমি বিদেশে যেতে চাচ্ছি,তুমি আমার এই সিদ্ধান্তে পাশে থাকবানা?
খুশি→জানি এতে আমাদের অনেক কষ্ট হবে,তারপরেও আমি তোমার সিদ্ধান্তে আমি তোমার পাশে আছি।
.
কিছুদিন পর তাদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো।নিবির ও খুশি দুজনেই ভালো রেজাল্ট করেছে।তারপর খুশি ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হলো আর নিবির চলে গেলো বিদেশে।তারপরেও নিবির প্রতিদিন খুশির সাথে ফোনে কথা বলতো,খুশির সব খোঁজ-খবর নিতো।
.
৬মাস পর.....
এখন আর খুশি আগের মতো নেই,নিবির ফোন করলে সে ঠিকমতো কথা বলতো না।বিভিন্ন ধরণের বাহানা করে অল্প একটু কথা বলেই ফোন রেখে দিতো।নিবির এতে কষ্ট পেলেও তা নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতো।কিন্তু প্রতিনিয়ত খুশির এরকম আচরণে নিবির আর থাকতে পারলো না বিদেশে,সে কিছুদিনের ছুটি নিয়ে দেশে ফিরে আসল।আসার পরের দিন নিবির খুশির ইউনিভার্সিটি তে গেল খুশিকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য,কিন্তু ভার্সিটির ক্যাম্পাসে খুশির সাথে এটা কাকে দেখছে নিবির!খুশি একটা ছেলের হাত ধরে বসে গল্প করছে।তখন নিবির একটি মেয়েকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলো যে সে খুশিকে চেনে কিনা!
মেয়েটি বললো যে হ্যা,সে খুশিকে চেনে।তখন নিবির মেয়েটির কাছে খুশির পাশে বসে থাকা ছেলেটির ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়েটি জানায় যে ওটা খুশির বয়ফ্রেন্ড।
.
তখনই নিবির সেই নদীর পাড়ে চলে আসে।এসে সে ভাবছে শুনেছিলাম "চোখের আড়াল হলে মনেরও আড়াল হয়"
আজ নিজেই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হয়ে গেলাম★

বুধবার, ৪ মে, ২০১৬

নিঃস্বার্থ ভালবাসা


রাত ১২:৩০ মিনিট.........
____ হ্যালো, তুমি কোথায়? (মেয়ে)
____ কেন, এতো রাতে মানুষ কোথায় থাকে? (ঘুম,ঘুম কন্ঠে- ছেলে)
____ তুমি যেখানেই থাক,, ১০ মিনিটের মধ্যো আমার বাসার নিচে আসো!...........
____ আমি পারব না......
____ কেন?
____ আমি অনেক ক্লান্ত, এখন একটু ঘুমাচ্ছি........
____ তাহলে আমি আসি, তোমার বাসার নিচে?
____ না,, কেন এরকম করছ?
____ প্লিজ আসো, অল্প কিছুক্ষণের জন্য..... ( কাদো, কাদো, কন্ঠে)
____ দেখ, এতো রাতে তুমি পাগলামো কর। আমি করতে পারব না.....
____ প্লিজ, প্লিজ একটা দুঃস্বপ্ন দেখিছি তোমায় নিয়ে। একবার আসো..........
____ আরে আমি ঠিক আছি........
____ ওই তুই আসবি কি,না বল ( রাগ জোরানো কন্ঠে)
____ না........
____ তাইলে আমি আসছি, যদি না পাই। চিৎকার চেঁচামেচি করব.......
____ ওকে, তুমি দাড়াও,, আমি আসছি। তুমি না............
____ এইত, লক্ষী ছেলে। আমি ওয়েট করছি...........
>>
নীলয় ও নীলিমা। দুজন দুজনাকে অনেক ভালবাসে। দুজনার দুবছরের বন্ধুত্বের পর, একবছর হল প্রেম চলছে। নীলয় অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। আর নীলিমা ৩য় বর্ষের ছাত্রি। পরিচয়টা হয়েছিল, নীলিমার ১ম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পরে। 
ঠিক এভাবে.........
>>
নীলিমাঃ এই ছেলে শুনতো.....
নীলয়ঃ জ্বি, আমাকে বলছেন?
নীলিমাঃ হ্যা, বড়আপুদের সম্মান করতে জান না? 
নীলয়ঃ কেন, আমি তো কিছু করি নাই....
নীলিমাঃ যাও, একটা রিক্শা ডেকে দাও.....
তমাঃ এই নীলিমা, কি করিস? উনি ১ বছরের সিনিয়র ভাইয়া! ( নীলিমার বান্ধবি)
নীলিমাঃ কি? ( চোখ বড় করে নীলয়ের দিকে তাকিয়ে যেন বিশ্বাষই হয় না)
তমাঃ সরি, ভাইয়া। মিসটেক হয়ে গেছে! আর ওর হয়ে ক্ষমা চাইছি......
নীলয়ঃ............. ( হা, করে তাকিয়ে আছে!)
.
নীলিমা ও তমা দ্রুতপদে যাইগা ত্যাগ করে চলে গেল.......
.
পরেরদিন নীলিমা, নীলয়ের কাছে ক্ষমা চাই। তারপরে কিছু কথা-বার্তার মাধ্যোমে পরিচয়। তারপর সেখান থেকেই শুরু...........
>>
""নাহ্ ছেলেটার কোন সময়জ্ঞান নাই! রাস্তা অনুযায়ি, হেটে আসলেও ১৫-২০ মিনিটের বেশি লাগার কথা না। আর ওর নিজের গাড়িতেই, ৩০-৩৫ মিনিটেও আসতে পারল না!""
ভাবছে নীলিমা..........
আচ্ছা আর কিছুক্ষণ দেখা যাক্। 
দেখতে, দেখতে প্রায় ১ ঘন্টা হয়ে গেল! তবুও আসার খবর নেই, নীলয়ের।
"এখন নিজের উপরই রাগ হচ্ছে, নীলিমার। কেন যে মিথ্যা বলতে গেল!!"
অবশেষে নীলয়ের ফোনে, ফোন দিল নীলিমা। একি, ফোন বন্ধ! 
তাহলে কি হল? ভেবে কূল পাচ্ছে না নীলিমা। নিজের ওপর তো বটেই, নীলয়ের উপরেও প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। মনে হচ্ছে কাছে পেলে চিবিয়ে খেত!
আসুক না কাল দেখা করতে, তখন বোঝাব কত ধানে কত চাল!!
>>
পরেরদিন রাগে, অভিমানে ফোন দেয়নি নীলিমা। কিন্তু, পুরোটা দিন গেলেও নীলয় ১ বারের জন্যেও ফোন দেয়নি! তাই, রাত ৮ টার দিকে, নীলিমা ফেন দেই। কিন্তু ফোন বন্ধ! 
তাই নীলিমা, ওর বন্ধুদের ফোন দেই। নীলয়ের বন্ধুদের থেকে জানতে পারে, নীলয় গতকাল রাতে, একটা ট্রাকের সাথে "একসিডেন্ট" করেছে। এবং নীলয়ের অবস্থা ভয়ানক। 
মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে। একটা পায়ের, হাটু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে। বর্তমানে ক'মাই আছে।
>>
১৪-১৫ দিন পরে.........
>>
নীলয় চারদিকে দেখছে। ও ইতিমধ্যো জানে, ওর একটা পায়ের একাংশ কেটে ফেলা হয়েছে। খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে না। ওর হঠাৎ মনে পড়ল, নীলিমা ওকে যেতে বলেছিল! যেতে পারেনি! ও এটাও জানে না, কতদিন হল, নীলিমার সাথে দেখা করা হয় না! কতদিন হল, ফোন দেয়া হয় না! 
নিশ্চয় মেয়েটা অনেক রাগ করে বসে আছে!!......
.
নীলিমাঃ এখন কি অবস্থা?
.
"নীলয় সামনে চেয়ে দেখল, নীলিমা ওর সামনে দাড়িয়ে। অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শুকিয়ে গেছে, হাত-মুখের অবস্থা খারাপ। চোখের নিচে কালো কালি জমেছে"
.
নীলয়ঃ হুম ভালো, আমি দুঃখিত সেদিন দেখা করতে পারি নাই!!
নীলিমাঃ আসলে আমার জন্যেই আজ তোমার............ ( কেদে ফেলল)
নীলয়ঃ আরে কাদছ কেন? যা হওয়ার ছিল? তাই হয়েছে! এতে কারো হাত নেই। তো, "তোমার ভালো হল, নতুন কাউকে বিয়ে করে সুখি হও"....
নীলিমাঃ মানে? আমি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করব না.....
নীলয়ঃ পাগলামো করার সময় না এটা। জীবনের সাথে খেলা চলে না.....
নীলিমাঃ আমি পারব না.... ( কেদে কেদে)
নীলয়ঃ কেন একটা পঙ্গুর সাথে...........
নীলিমাঃ তুমি যদি পঙ্গু হও, তো আমার জন্য, এর জন্য আমি দায়ি,, তাহলে আমারো একটা পা কেটে ফেলি?
নীলয়ঃ আরে না, তুমি আসলেই একটা পাগলি! ঠিক আছে.......
নীলিমাঃ না, কিছু ঠিক নেই.... (নীলয়ের বুকে মাথা গুজে মুখ লুকিয়ে)