শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৬

অথৈই জলে ভাসা কষ্টগুলো

বারান্দায় অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে অথৈই। মনটা কেমন যেন অস্থির লাগছে। ঘড়িটা রাত ১১টা বাজার সংকেত দিল। নীল এখনও বাসায় ফিরেনি। আজ বলেছিল তাড়াতাড়ি ফিরবে আর সেই নীলের এখনও আসার নাম নেই। বের হবার সময় অথৈইয়ের হাত থেকে গ্লাস পরে গিয়েছিল। ও নীলকে বলেছিল আজ বের না হতে তবে নীল তা হেঁসেই উড়িয়ে দিয়েছিল। অথৈইয়ের খুব খিদে পেয়েছে তবে নিজের খিদের
চেয়েও ওর বেশি চিন্তা হচ্ছে নীলের জন্য। নীল দুপুরে খেয়েছেতো...!! হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার ,,,ঠক,,,ঠক,,,ঠক,,, শব্দ পেলো।
অথৈই দৌড়ে গেল,,,
..
--- সারাদিন কোথায় ছিলে? তোমার
না তাড়াতাড়ি আসার কথা। (অথৈই)
--- আরে আর বলনা, এক ফ্রেন্ড বলেছিল ও নাকি কি কাজ দিবে সেখানে যেয়েইতো দেরি হয়ে গেল। (নীল)
--- কাজ পেলে? (অথৈই)
--- নাহ পাইনি। চিন্তা করনা পেয়ে যাবো। এই নাও তোমার জন্য রুটি আর ভাজি এনেছি। (নীল)
--- তুমি খেয়েছো? (অথৈই)
--- আমার খাওয়া নিয়ে চিন্তা করনা। তোমার এখন বেশি খাওয়া দরকার।
আমাদের নতুন অতিথির জন্য। (নীল)
--- তুমি না খেলে আমিও খাবোনা। (অথৈই)
--- আচ্ছা তুমি বসো, আমি আসছি। (নীল)
..
অথৈই নীলকে খাইয়ে দিচ্ছে। সারাদিন না খেয়ে চাকরি খুঁজে চেহারা মলিন হয়ে গেছে। অথৈই নীলের দিকে তাকিয়ে আছে। তাকানো অবস্থায় অথৈইয়ের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে। সারাদিন ও কত কষ্ট করে। ঠিকমতো খায় ও না।
..
--- কি ব্যাপার অথৈই তুমি কাঁদছো কেন? (নীল)
--- কই নাতো। চোখে কি যেন
পরেছে। (অথৈই)
..
নীল অথৈইয়ের চোখের পানি মুছিয়ে
দিয়ে বলে,,,
..
--- মেয়ে শুনো তুমি আর কোনদিন
আমার সামনে কাঁদবে না। তোমার
কান্না আমার সহ্য হয় না। (নীল)
--- নীল আমি তোমাকে অনেক সমস্যায় ফেলে দিয়েছি তাইনা? আমার জন্য তোমার বাবা / মা তোমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। আমি তোমার জীবনে না আসলেই মনে হয় ভাল হতো। (অথৈই)
--- অথৈই এসব আর বলবেনা। আমি
তোমাকে ভালবেসে বিয়ে করেছি। মরলেও তোমার সাথেই মরবো। খেয়ে শুয়ে পরো। বেশি রাত জাগলে আমার বাবুটার কষ্ট হবে। (নীল)
..
চাঁদের আলো এসে পরছে নীলের মুখে। ও ঘুমাচ্ছে... অথৈই ওর মুখের
দিকে তাকিয়ে আছে। ও ভাবছে ছেলেটা সারাদিন কত কষ্ট করে। শুধু
আমার জন্যই ছেলেটার আজ এই
অবস্থা। মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্ম নেওয়া ছেলেটা আজ ওর জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে চাকরির জন্য, কোনদিন দুপুরে খায় , কোনদিন খায়না। অথৈইয়ের চোখে পানি চলে আসে। ও উঠে বারান্দায় যেয়ে দাড়ায়। ও ফিরে যায় ২ বছর আগে,,,
..
বাবা/মা মরা মেয়ে অথৈই থাকে মামার বাসায়। মামা ওকে অনেক আদর করে তবে প্রতিদিন মামির খোঁটা , মামাতো ভাই বোনের অবহেলা নিয়েই কেটে যায় ওর দিন। ও শত চেষ্টা করেও মামি , মামাতো ভাই, বোনের মন পায়নি। ওর কাজ ছিল ওর মামাতো বোনকে কলেজ এ নিয়ে যাওয়া। যেতে যেতেই প্রায়ই দেখা হয় অথৈইয়ের সাথে নীলের। ফর্সা মুখ, হালকা গড়নের অথৈইকে দেখেই ভাল লেগে যায় নীলের। ও বাসায় এসে বলে অথৈইয়ের কথা। ওর মা-বাবা রাজি হয় না। তাদের কথা হচ্ছে একটা মা/ বাবা মরা মেয়েকে কেন বিয়ে করতে যাবে ও!! নীল সাফ জানিয়ে দেয় বিয়ে করলে ও অথৈইকেই করবে। ছেলের জ্বিদের কাছে মা-বাবা হার মানে। অনেক বড় অনুষ্ঠান করে অথৈইয়ের সাথে নীলের বিয়ে হয়। বিয়ের পরদিন থেকেই শুরু হয় অথৈইয়ের কষ্টকর জীবন। ওর
শাশুড়ি ওকে উঠতে বসতে কথা শুনায়। অথৈই কিছুই বলে না। সব
সহ্য করে যায়। একদিন ও সব বলে নীলকে। নীল ওর মায়ের সাথে এসব নিয়ে ঝগড়া করে ঘর থেকে বের হয়ে যায় অথৈইকে নিয়ে। সেই থেকে ওরা এই বাসায় আছে। এক রুমের বাসা। মেঝেতে বিছানা পাতা। নীল শত চেষ্টা করেও কোন কাজ জোগাড় করতে পারছেনা। এসব ভাবতে ভাবতেই পিছনে হাতের স্পর্শ পায় অথৈই,,,
..
--- তুমি এখনও ঘুমাওনি? (নীল)
--- ঘুম আসছেনা। কেমন যেন ভয়
লাগছে। (অথৈই)
--- ভয় কিসের!! আমি আছিতো। (নীল)
--- আচ্ছা ডাক্তার বলছিলো কাল পরশু একবার তার কাছে যেতে। তুমি কি আমার সাথে যেতে পারবে? (অথৈই)
--- অথৈই তুমিতো জানই আমি কতো
বিজি থাকি। সারাদিন কাজের জন্য ঘুরে বেড়াই। আমি পরিচিত সব জায়গায় গিয়েছি। মা সবাইকে বলে দিয়েছে আমাকে যেন কেউ কোন কাজ না দেয়। (নীল)
--- আচ্ছা আমি একাই যাবো। (অথৈই)
--- রাগ করেনা অথৈই সোনা। আমিতো সব তুমি আর আমাদের বাবুর জন্য করছি তাই না..!!! (নীল)
--- আমি রাগ করিনিতো। চল ঘুমাবে। (অথৈই)
..
দুজন বিছানায় এসে শুয়ে পরে। নীল
অথৈয়ের কপালে চুমু এঁকে দেয়। দুজন
ঘুমিয়ে পরে। ঘরে শোনা যাচ্ছে নিঃশ্বাসের শব্দ আর তার সাথে ভেসে বেড়াচ্ছে দুজনের স্বপ্নগুলো.....
..
আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি তোমায়,
দেখতে আমি পাইনি অথৈই বসে আছে আয়নার সামনে আর গুনগুন করে গান গাইছে... ওর মনটা আজ বেশ ভালো। ও ওর চুলগুলো দেখছে। বেশ বড়। ও মনে মনে বলে "নাহ, আমি
দেখতে খারাপ না"। বলে আনমনে
হেঁসে উঠে... ও তাকায় নীলের দিকে নীল ঘুমিয়ে আছে। দেখতে বেশ আদর আদর লাগছে।
,,,,,,হঠাৎ,,,,,,
নীল চোখ মেলে তাকায়। অথৈই লজ্জা পেয়ে চোখ সরিয়ে নেয়।
..
--- এই কি দেখছো? (অথৈই)
--- দেখছি আমার লক্ষি বউকে। (নীল)
--- ওঠো ওঠো। ৯ টা বাজে। আমি এখুনি বের হবো। (অথৈই)
--- কই যাবা..!!! (নীল)
--- কেন তোমার মনে নেই? আজ
ডাক্তার যেতে বলেছে। তুমিও চল... (অথৈই)
--- নাহ্ আমি যেতে পারবো না। আমার তো একটা কাজে যেতে হবে। (নীল)
..
অথৈই মন খারাপ করে ফেলে। নীল
সেটা দেখে বিছানা ছেড়ে ওঠে আসে এবং বলে,,,
..
--- বউ রাগ করেছ? (নীল)
--- আমার রাগে কার কি আসে যায়!! (অথৈই)
--- এই যে ময়নাপাখি রাগ করেনা।
আমি কাজ না পেলে তোমাকে খাওয়াবো কি আর আমাদের বাবুর
কি হবে!! ওকে আমি ডাক্তার বানাবো। এখন একটু হাঁসো। (নীল)
..
অথৈই হেঁসে নীলের বুকে মাথা রাখে। নীলল শক্ত করে অথৈইকে জড়িয়ে ধরে......
অথৈই বসে আছে ডাক্তারের চেম্বারে। ওর শরীর অনেক খারাপ লাগছে। মনে হচ্ছে ও মাথা ঘুরিয়ে পরে যাবে। ও অনুভব করছে ওর শরীরের ভিতর ছোট্ট একটা মাংসপিণ্ড ক্ষণে ক্ষণে দিক পাল্টিয়ে এদিক-সেদিক যাচ্ছে। বেশিদূর যেতে পারছে না। একটি নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতর তাকে খাবি খেতে হচ্ছে। অথৈই ওর পেটে হাত রাখে। কেমন যেন শান্তি শান্তি ভাব আসে ওর মনে।
..
--- কেমন আছেন আপুমনি? (মহিন)
..
কথাটা শুনে অথৈই তাকিয়ে দেখে ওর সামনে নীলের বাসার কাজের লোক দাঁড়িয়ে আছে।
..
--- এইতো ভালো। আপনি কেমন আছেন মহিন চাঁচা? (অথৈই)
--- আছি কোনরকম। (মহিন)
--- আপনি এখানে কেন, কিছু হইছে? (অথৈই)
--- নারে আপুমনি। আমার এক আত্মীয়র বাচ্চা হবে তাই এইখানে। আপুমনি বাসায় যান না কেন? আপনি চলে আসার পড় থেকে আর ভালো লাগেনা। (মহিন)
--- চাঁচা আম্মাতো আমাকে আর নীলকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। জানেন নীল সারাদিন কাজের জন্য ঘুরে রাস্তায় রাস্তায় কি খায় না খায় কে জানে। আমার অনেক কষ্ট লাগে ওর জন্য। মাঝে মাঝে আম্মাকে অনেক দেখতে ইচ্ছা করে আমার। (অথৈই)
--- নীল ভাইয়াতো যায় প্রতিদিন। (মহিন)
--- কখন যায়? (অথৈই)
--- এইতো সকালে যায়। দুপুরেতো
ওখানেই খায়। আবার রাতে খেয়ে
বাসা থেকে বের হয়। বলে আপনি
নাকি মামার বাসায় থাকেন। আপনার কাছে যাচ্ছে..... (মহিন)
--- প্রতিদিন যায়? (অথৈই)
--- হ্যাঁ প্রতিদিনই যায়। মা তো বলছে ওনাকে সামনের মাস থেকে অফিস
এ বসাবে। (মহিন)
..
মহিন চাঁচার কথা শুনে অথৈই অবাক
হয়ে যায়। ওর চোখ থেকে পানি বের হয়ে আসে। ও চোখ মুছে বলে,,,
..
--- চাঁচা আমাকে ডাক্তার ডাকছে। আমি গেলাম। (অথৈই)
--- আচ্ছা মা যাও। বাসায় আইসো।
আবার কবে দেখা হবে কে জানে!!
ভাল থাইকো। (মহিন)
..
অথৈই হাঁটছে রাস্তা দিয়ে। বিকেল হয়ে এসেছে। সূর্য ডুবতে বসেছে। পশ্চিমের কোলে সূর্য ঢলে পড়েছে বিষন্নতায়। রেখে গেছে মিষ্টি আলোর আভা। দিন বিদায়ের কমলা আভা ছড়িয়ে পড়েছে অথৈয়ের হৃদয়ের আকাশে। অথৈইয়ের চোখে পানি। ওর গালে পড়া পানি সূর্যের আলোতে সোনালি রঙ ধারণ
করেছে। ও ভাবছে নীলের কথা।
নীল এতো বড় মিথ্যা কথা ওর সাথে
কিভাবে বলল!! ও বাসা থেকে বের
হয় কাজ খুঁজার নাম করে আর মায়ের
বাসায় যেয়ে সারাদিন থাকে। রাতে আসে ক্লান্ত একটা ভাব নিয়ে হাতে রুটি আর ভাজি নিয়ে যেন ও সারাদিন কতো কাজ খুঁজেছে। প্রতিদিন রাতে ও
নীলের জন্য বসে থাকে অপেক্ষা করে। অথৈই ভাবে নীল ওকে বললেইতো ও বাসা থেকে বের হয়ে যেত। তবুও নীল কেন এমন করল!! অথৈইয়ের অনেক কান্না পায়, চোখ ঝাপসা হয়ে আসে তার কিন্তু অজস্র কান্নার অশ্রুও তাকে এ মুহূর্তে শান্তি এনে দিতে পারে না। তার পা সামনে একধাপও এগুতে চায় না যেন পঞ্চাশ কেজি ওজনের কিছু বেঁধে দেওয়া হয়েছে তার পায়ের সাথে। অথৈই হাঁটতে হাঁটতে বাসার গেটের
সামনে এসে দাড়ায়। ওর ভিতরে ঢুকতে ইচ্ছে করছে না মোটেও... অথৈই পা বাড়ায়.....
,,,ঠক,,,ঠক,,,ঠক,,,
দরজা খুলে দেয় নীল। নীল আজ এতো তারাতারি বাসায়, এই দেখে অথৈই ভ্যাবাচ্যাকা খায়। অথৈইয়ের দিকে তাকিয়েই নীল বুঝতে পারে অথৈইয়ের মন খারাপ।
..
--- আমার লক্ষি বউয়ের কি হইছে? (নীল)
--- কই কিছু হয়নাই তো!! (অথৈই)
--- বউ কি আমার উপর রাগ করছো যাইনি বলে তোমার সাথে? পরে আবার সুজনের কাছে গেছিলাম কাজের জন্য। ও বলেছে কাল আবার যেতে। বউ দেখো আজ তোমার জন্য কি এনেছি... অনেকদিন হল তোমাকে ভালো খাওয়াতে পারি না। আজ খিচুরি এনেছি। আমি আজ তোমাকে
খাইয়ে দিব। (নীল)
--- আর কতো মিথ্যা কথা বলবে নীল
আমার সাথে? (অথৈই)
--- মানে? (নীল)
--- নীল বুঝতেছনা আমি কি বলছি? (অথৈই)
--- বুঝছি আমার বউয়ের রাগ এখনও
ভাঙ্গেনি। আচ্ছা তুমি হাত মুখ ধুয়ে
আসো আমি তোমাকে খাইয়ে দিব আজ নিজের হাতে। (নীল)
--- নীল তোমার সাথে আমার কথা আছে। (অথৈই)
--- আচ্ছা হাত মুখ ধুয়ে আসো খেতে
খেতে তোমার কথা শুনবো। (নীল)
--- কেন আজ তুমি খেয়ে আসনি? (অথৈই)
--- নাহ্, তুমিতো জানই আমি আমার
লক্ষি বউকে ছাড়া খেতে পারিনা। (নীল)
--- তাই নাকি নীল!! তবে সত্যি হলে আরো খুশি হতাম। (অথৈই)
--- বউ সত্যি হলে মানে? (নীল)
--- নীল আর কতটা বোকা বানাবে
আমায় তুমি? তুমি অস্বীকার করতে
পারো তুমি বাসা থেকে খেয়ে আসনি, অস্বীকার করতে পারো তুমি গত ২ মাস কাজ খুঁজার নাম করে মায়ের
কাছে গিয়ে থাকনি? (অথৈই)
--- এসব কি বলছো অথৈই, আর কে তোমাকে এসব বলেছে ? (নীল)
--- নীল কে বলেছে সেটা বড় কথা না, তুমি বল এসব সত্যি কিনা ? (অথৈই)
--- নাহ্ সত্যি না !! (নীল)
--- তুমি আবারো মিথ্যা বলছো? তুমি
তোমার মায়ের কসম কেটে বল এসব
মিথ্যা..... (অথৈই)
..
নীল কথাটা শুনে অথৈইয়ের গালে
একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয় আর চিৎকার করে বলে,,,
..
--- হ্যাঁ তুই যা শুনেছিস তা সব সত্যি। (নীল)
..
অথৈই থাপ্পড় খেয়ে আর ভাষা পরিবর্তন দেখে অবাক হয়ে নীলের দিকে তাকিয়ে থাকে... আজ এ কোন নীলকে দেখছে ও যে নীলকে ও এত ভালবাসে সেই আজ ওর গায়ে হাত তুলল!!!!
..
--- নীল তুমি আমার গায়ে হাত তুললে? (অথৈই)
--- হ্যাঁ তুললাম আর শুন আমি আর
তকে ভালোবাসি না। তকে বিয়ে করা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আসলে আমি বুঝিনি আবেগ দিয়ে জীবন চলেনা। জীবনে চলতে হলে টাকা লাগে। যেটা তর সাথে
থাকলে আমার কোনদিনও হবেনা। (নীল)
--- তবে কেন এতদিন আমার সাথে এরকম করলে ? তুমি আমাকে আগে বলে দিলেই পারতে!! (অথৈই)
--- বলতে চেয়েছিলাম তকে বারবার, তবে পারিনি কেমন যেন করুণা আর তর ওই দেহের নেশায় বলতে পারিনি। (নীল)
--- করুণা, দেহের নেশা? (অথৈই)
--- হ্যাঁ সেটাই। ভালোবাসা নাই আর তর জন্য। (নীল)
--- নীল ছোট বেলায় বাবা মাকে হারিয়েছি, বড় হয়েছি মামার কাছে, ছোট বেলা থেকে কষ্ট নিয়েই আমার জীবন। যেদিকে তাকাতাম সেদিকেই আর্তনাদ, হাহাকার। তোমাকে পেয়ে
ভেবেছিলাম হয়তো তোমার কাছে
ভালোবাসা পাবো, আমার দুঃখের
দিনগুলি শেষ হলো, সেই তুমিও আমার সাথে এমন করতে পারলে!!! নীল আমি চলে যাচ্ছি... ভয় নেই কোনদিন বউয়ের অধিকার নিয়ে তোমার সামনে আসবো না। (অথৈই)
--- তর ইচ্ছে হলে থাকতে পারিস তবে আর ভালবাসতে বলিসনা, আর বউয়ের অধিকার ফলাতে আসিস না। তর করুণ কান্নার স্বর আর আমায় তর কাছে টানবে না। মাসে মাসে টাকা দিয়ে যাবো। (নীল)
--- কি তোমার রক্ষিতা হয়ে থাকবো!! (অথৈই)
--- ,,,হাঁ,,,হাঁ,,,হাঁ,,, সেরকমই ভালতো।
খেতে দিবো, যা লাগবে তাই দিবো। থেকে যেতে পারিস। (নীল)
--- ছিঃ নীল ছিঃ আমি কোনদিন ভাবিনি , তুমি এতো নিচ , এতো ছোট
মনের মানুষ। (অথৈই)
..
বলেই অথৈই এক দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে আসে... পিছন থেকে শুনতে
পায় নীলের অট্টহাঁসি ,,,হাঁ,,,হাঁ,,,হাঁ,,,
..
নদীতে একটা লাশ ভাসছে। অথৈইয়ের
লাশ। দিঘল মাথার চুল ভাসছে,পড়নে
স্যালোয়ার কামিজ। অনেকেই পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। কিন্তু কেউ চিনতে পারছে না কার লাশ হতে পারে..!! পাড়ের লোকগুলো দাঁড়িয়ে নানারকম কথা বলছে ... কেউ বলছে কি আকাম করে এসে আত্মহত্যা করেছে কে জানে , কেউ বা বলছে আল্লাহ জানে কোন
মায়ের বুক খালি হল , কেউ বা আবার
ওর জন্য সহানুভতি দেখাল এই বলে যে না জানি কতো কষ্ট ছিলো মেয়েটির
মনে। তবে কেউ কি কোনদিন জানতে পারবে অথৈই কেন আত্মহত্যা করল , কি দোষ ছিল ওর পেটের বাচ্চাটির যে কিনা পৃথিবীতে আসার আগেই চলে গেল ওর মায়ের সাথে, দেখতে পারল না এই সুন্দর পৃথিবীর আলো ... কেউ জানবে না , কেউ না...

অবুঝ ভালবাসা

সকাল সকাল ফোনের শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল।
মোবাইলের স্কীনে তাকিয়ে দেখি ঝাড়িওয়ালির
ফোন,রিসিভ না করে আবার ঘুম যাওয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু না
মোবাইল আবার বে বে শুরু করল।
কী যে করি ফোন যতক্ষন রিসিভ করবনা ততক্ষন ফোন
দিতে থাকবে এক প্রকার বাধ্য হয়ে ফোনটা রিসিভ করলাম।
রিসিভ করার সাথে সাথে ঝাড়ি শুরু
.
-ঔ কুত্তা প্রথমবার ফোন কেটে দিলি কেন
-আরে না ঘুমের ঘোরে টের পাইনি(মিথ্যা)
-মানে তুই এখনো ঘুমাচ্ছিস।
-না না আকাশে ডানা মেলে উড়ছি।
-একদম ফাজলামি করবি না।
-এত সকাল সকাল ফোন করার কোন মানে আছে কি বলবি বল
আমার কিন্তু প্রচুর ঘুম পাচ্ছে।
-এত সকাল সকাল না ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখ
কয়টা বাঝে।
-আরে মাএ ত সাড়ে আটটা।
-এখন তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে নয়টার মধ্যে ক্যাম্পাসে
আসবি।
-আরে আমি পারবনা
-তুই পারবি কিনা না পারবি আমি জানি না তুই নয়টার মধ্যে আসবি এটাই
ব্যাস আমি অপেক্ষা করছি।
.
এই বলে ফোনটা কেটে দিল।আরে ঝাড়িওয়ালি মেয়েটা হল নদী।আমার গার্লফ্রেন্ড থুক্কু বেষ্ট
ফ্রেন্ড।
খালি সারাক্ষন ঝাড়ি আর ঝাড়ি।এইটা করবি না
ঔইটা করবি না ওদের সাথে মিশবি না ব্লা ব্লা ব্লা।
কোন দু:খে এই মাইয়াটারে ফ্রেন্ড বানাইয়ছি।
যেন হেতি রাজা আমি প্রজা খালি হুকুম আর হুকুম।আরে ভাই
প্রজাদের ত স্বাধীনতা বলে কিছু আছে কিন্তু হেটা আমার
নাই।
এহন আমি কিতা করাম।ভাবছিলাম আজ ক্লাস
নেই তাই আরামে একটা লং টাইম ঘুম দিমু কিন্তু
তা স্বয়ং ঝাড়িত্তয়ালি তা হতে দে নাই।
আবার না গেলে আরেক দশা।সোজা আমাদের
বাসায় চলে আসবে।মাকে উল্টা পাল্টা বোঝাবে।
আমি নাকি খারাপ ছেলেদের সাথে মিশি,ক্লাস না
করে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয় ব্লা ব্লা ব্লা।
মা ও তখন স্বয়ং ঝাড়িওয়ালির সাথে ঝাড়ি শুরু
করবে যা আমার পক্ষে হজম করা বড়ই দুষ্কর।
তাই তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্য রত্তনা
দিলাম।দেরি হলে আবার কপালে খারাপ কিছু
আছে।নয়টা দশে পোছলাম দেখি নদী থুক্কু
ঝাড়িওয়ালি বসে আছে।
.
-এই তুই এত লেট করলি কেন।
.
আরে এত তাড়াহুড়ো করে আসলাম কোথায় বসতে
বলবে তা না যাওয়ার সাথে সাথে ঝাড়ি শুরু।
.
-এইত দশমিনিট লেট হল।
-দশ মিনিট না কান ধর
-আরে আমার মানসম্মানের একটা ব্যাপার আছে না।
-ধরবি কিনা বল।
-সরি ত
-ওকে আচ্ছা চল আজ কোথাও ঘুরতে যাই
ওমা ঝাড়িওয়ালি এত রোমান্টিক হলি কবে(মনে মনে)
-আমি যাব না।
.
কথাটা বলার কারণ ঘুরতে যাওয়া মানে এটা কিনবে
সেটা কিনবে সেটা খাবে যার ফলস্বরুপ আমার
পকেট ব্লা ব্লা।
.
-কি (রেগে)
-আচ্ছা চল চল।
.
দাড়া যাব কিন্তু ঠীক আছে আজ তুর পকেট ব্লা ব্লা
করুম।নিজের পকেট থেকে টাকা বের করা কত যে কষ্টকর
আজ বুঝবি।
হেটেই যাচ্ছি মাঝপথে ফুচকা ফুচকা বলে লাফাতে শুরু করল।
.
-আরে কী হয়ছে ফুচকা ফুচকা বলে লাফাচ্ছিস ক্যারে তুরে
ফুচকা জিনে পাইছে নি না ফুচকা পানিতে পরছে।
-ফাজলামি বাদ দে চল ফুচকা খামু
-ফুচকা খাবি এটা বললেত হয় এত বানরের লাফালাফি করতে হয়
নাকি।
.
দুজন মিলে ফুচকা খাচ্ছি।খাত্তয়াত এক পর্যায়ে নদী
বলল।
.
-বিলটা দিয়ে দেয়।
-আমি কেন দিব তুই দিবি তুর জন্যত খেলাম যে বাদরামি শুরু
করলি।
-আচ্ছা আমি যদি তুর গার্লফ্রেন্ড হতাম তাহলে দিতি না।
.
কথাটা শুনার পর আমার মনে এক ধরনের ঝড় বয়ে গেল।আর
কথা না বাড়িয়ে বিল টা দিয়ে দিলাম।
সেদিনের মত নদীকে নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরলাম।রিক্সা
করে তাকে বাড়িতে পৌছে দিয়ে বাড়িতে চলে এলাম।
ফইন্নী আজ আমার পকেট পুরাই ফাকা
করে দিল।এর শোধ আমি নিয়ে ছাড়ব।
.
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে নাস্তা দিতে বললাম মা
নাস্তা নিয়ে এসে বলল নীলাকে ফোন করতে কেন
জ্ঞিজেস করায় মা কিছু না বলে
চলে গেল।তাড়াতাড়ি নীলাকে ফোন করলাম
.
-হ্যালো নীল তুই কোথায়।
-বাসায়
-তুই আমার সাথে দেখা করতে পারবি।
.
নদী কন্ঠটা এরকম শুনাচ্ছে কেন।কাপা কাপা
মনে হচ্ছে মেয়েটা অনেক কেঁদেছে।নদীর
থেকে
কোথায় দেখা করতে হবে কয়টায় সব জেনে নিলাম।
সময়মত পৌছে গেলাম নিদিষ্ট জায়গায়।গিয়ে দেখি
নদী দাঁড়িয়ে আছে।নদীর মুখটা আজ নিষন্ন দেখাচ্ছে যা
আমি আগে কখনো দেখিনি।আমি নদীর সামনে যেতে ও
আমাকে দেখে কেঁদে দিল।
.
-কি হয়েছে নদী কাঁদছ কেন।
.
কিছু বলছেন এখনো কেঁদে যাচ্ছে।আমি আর
ওর কান্না সহ্য করতে পারছি নানা আমি ওর হাত ধরে হালকা ঝাড়ি
দিয়ে বললাম।
.
-আরে কি হয়েছে বলনা তুই এইভাবে কান্না করলে
আমার যে আর....
-আব্বা আমার বিয়ে ঠীক করে ফেলেছে। আমি একজন
কে ভালবাসি তাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে পারবনা।
.
কথাটা শুনে আমি থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।এ অবস্থায় কি বলা উচিত
আমি ভেবে পাচ্ছি না।
.
-নীল তুই কি এখনো চুপ হয়ে থাকবি।
আমি যে বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
-তুই কি সারাজীবন এভাবে চুপ হয়ে থাকবি।তুই
কি বুজস না।আচ্ছা তুই বাসায় চলে যা তোকে
এখানে ডাকাটা আমার ভুল হয়েছে(কেঁদে কেঁদে)
.
আমি ভাবলাম যা হবার হোক আজ এই সুযোগ টা হাত ছাড়া করা
যাবে না।আমি জানি নদী আমাকে ভালবাসে
যা ও আমার প্রতি কেয়ারিং এর মধ্যে ফুটে
ওঠে।কোনদিন মেয়েত দূরের কথা মেয়ের
সাথেও মিশতে দেয়নি।সারাক্ষন দৌড়ের
উপর রাখে।হয়ত এটাই ভালবাসা।
আমি বাসিনা তা নয়।এতদিন সাহস
হয়ে উঠেনি।কিন্তু আজ যা হবার হোক
বলব বলবই।আজ না বললে আর
কোনদিন বলার সুযোগ পাব না।
তাই অতিরিক্ত সাহস নিয়ে হাটু গেড়ে
বসে পড়লাম।
.
-সত্যি নীলা আমি তোকে অনেক অনেক ভালবাসি।
কথাটা বলার পর নীলা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করল।
আমার কাতুকুতু লাগে ক্যারে।আসলেই মেয়েটা আমাকে
অনেক বেশি ভালবাসে।তাকে ছাড়া আমার লাইফটা অর্থহীন।
অত:পর দুজনের গন্তব্য স্থল কাজী অফিস।বাকিটা আর কমু না।

নিঝুমের ভালবাসা

আজ এইচ.এস.সি রেজাল্ট দিল।
সবাই এ+ আশা করলেও পাওয়াটা আমার কাছে এতটা সহজ ছিল না। এ মাইনাস পেলাম।
বাসায় যাব কিনা ভাবতে ভাবতেই দুপুর।
মোবাইল বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ই বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
কেউ ফোন না দিলেও রিমি ঠিকই ফোন দিচ্ছে।
অনেক মেধাবী মেয়ে রিমি -এস.এস.সি তে এ+ পায় আর
এবারও একই রেজাল্ট।
আমাকে অনেক ভালবাসে রিমি।
১ বছরের রিলেশন আমাদের। আমার প্রথম ভালবাসা ও, হয়ত এজন্যই অনেক ভালবেসে ফেলেছি ওকে।
কিন্তু গত ছয় মাস অনেক কষ্ট দিয়েছে আমাকে।
ফোন করাতো বাদই দিলাম সারাদিনে মাত্র ২ টা মেসেজের রিপ্লাই দিত।
ওর একটাই শর্ত: আমাকে এ+ পেতেই হবে। আর তাই পরীক্ষাসহ রেজাল্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ।
বিকেলে মোবাইল অন করলাম সাথেসাথেই বাবার ফোন,
বলল: "তাড়াতাড়ি বাসায় আয় তোর মা খুব টেনশন করছে।"
তারপর ১ ঘন্টা হয়ে গেল- কই রিমিতো কোন ফোন দিলনা !
আমিই ফোন দিলাম।__
-> হ্যলো
-ছিঃ জাহিদ তুমি এত খারাপ রেজাল্ট করবে আমি ভাবতেও পারিনি।
আমাকে ফোন দিতে লজ্জা করল না তোমার ?
-> তুমি এভাবে কথা বলছ কেন, আমিতো অনেক চেষ্টা করেছি। আর রেজাল্ট দিয়ে কি হবে। তুমিতো আমাকে ভালবাস। আর আমি তোমাকে। প্লিজ রিমি আমাকে বোঝার চেষ্টা কর।
- না, ভালবাসি না তোমাকে।
তোমাকে আমার বয়ফ্রেন্ড পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। তুমি আমাকে আর ফোন দিবা না, তোমার সাথে আজথেকে আমার কোন সম্পর্ক নেই।
......( ফোন কেটে দিল )
_কি করব বুঝতে পারছিলামনা।
আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু কামরুলের ম্যাচে গেলাম।
আমার মতই কামরুল তবে নেশা করার বাজে বদঅভ্যাস আছে ওর।
ব্রেকআপের কথা বলতেই আমার হাতে একটা সিগারেট ধরিয়ে দিল,
এত কষ্টের মাঝে সিগারেট ভালই লাগল কেমন যেনো একটা যাদু আছে এতে, তারপর কোনরকম সান্তনা দিয়ে বাসায় যেতে বলল আর পকেটে এক প্যাকেট সিগারেট দিয়ে দিল।
রিমিকে অনেকবার ফোন করেছি( কিন্তু মোবাইল বন্ধ)।
সেদিন রাতে অনেক কান্না করেছিলাম আর সিগারেটের প্যাকেটও শেষ করেছি পুরোটা।
নিজেকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যেই আমি একদিন অন্যদের স্মোক করতে মানা করতাম সেই আমি কি করছি আজ!!
এরপর থেকে প্রতিদিন কামরুলের ম্যাচে যাই, আস্তে আস্তে বাজে সবকিছুর নেশায় আসক্ত হয়ে পরি।
প্রায় একমাস পরের একদিনের ঘটনা:::
কামরুলের বাসায় যাচ্ছিলাম_পিছনথেকে জাহিদ ভাই বলে ডাকল কেউ।
পেছনে তাকাতেই রিমির বান্ধবী নিঝুমকে দেখলাম।
-> কিছু বলবে?
-আপনাকে কিছু বলার ছিল রিমি সম্পর্কে।
->কি বলবে বল?
-এখানে বলা যাবে না, ঐদিকে যে পার্কটা আছে ওখানে গিয়ে বসে বলি।
...( হাটা শুরু করল )
অবুঝ শিশুর মতো ওর পিছনে হাটা শুরু করলাম আমি_পার্কটা একটু দূরে প্রায় বিশ মিনিট হাটার পর পৌছলাম।
একটা টুলে বসলাম।
তারপর নিঝুম যা বলল::::
"আমি জানি কথা গুলো শুনে আপনার খুব কষ্ট হবে, রিমিও আমাকে বারন করেছিল কিন্তু চোখের সামনে একটা মানুষকে এভাবে ধংস হওয়ার দৃশ্য দেখতে পারছি না। আপনাদের সম্পর্কের পাঁচ মাসের মাথায় রিমির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পরে আপনার বন্ধু কামরুল। তারপর থেকে আপনার সাথে কি হচ্ছে তাতো আপনি জানেন-ই "
মুহূর্তের মধ্যে আমার চোখ দিয়ে পানি গরিয়ে পরে।
নিজেকে কোনরকম কন্ট্রোল করে কামরুলের ম্যাচে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম_ "তুই রিমিকে ভালবাসিস? " কামরুল কোন উত্তর দেয়নি, শুধু মাথা নিচু করে বসে ছিল।
বুঝতে বাকি রইলনা যে নিঝুম সত্য কথাই বলেছে।
তারপর থেকে আমার সময় কাটে ঐ পার্কে।
শুধু ভালবাসা, বন্ধুত্ব আর বিশ্বাস নিয়ে হিসেবনিকেশ করতে থাকি, কিন্তু ফলাফল কান্না ছাড়া কিছুই পেলাম না। নেশার মাত্রা আরো বেড়ে গেল।
এভাবেই চলতে লাগল।
কিছুদিনপর বাসায় ফিরতেই মা বলল:: "নিঝুম এসেছিল, তোর কিছু কাগজ নিয়ে গেল পরে দিয়ে যাবে বলল।
রুমে ঢুকে দেখতে পাই টেবিলের উপর আমার মার্কশিট আর এডমিড কর্ড মিসিং।
রাত দশটার দিকে ফোন আসে_নিঝুম লিখা,
অবাক হয়ে যাই এই নামে সেভ করা নাম্বার থেকে ফোন আসায়, পরে মনে পরে ঐদিন পার্কে আমার মোবাইলটা একবার নিঝুম নিয়েছিল।
ঘুম আর নেশার ঘোরে ফোনটা রিসিভ করতে পারিনি। পরদিন বাসায় এসে একটা ভর্তির রিসিট আমার হাতে দিল আর বলল দুজনই ভর্তি হয়ে গেলাম।
নিঝুম ভাল ছাত্রী ছিল, চাইলেই পাবলিক ভার্সিটিতে পড়তে পারত।
কিন্তু পরে বুঝতে পারি আমার জন্যই এই প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হয়।
মায়ের মন জয় করে নিয়েছে একয়দিনে।
এরমধ্যেই আমাকে তুমি করে বলা শুরু করে দিয়েছে।
ক্লাস শুরু হওয়ার পরথেকে আমাকে ফোন করে একসাথে আমাকে নিয়ে যেত ভার্সিটিতে।
আমাকে অনেক বুঝাতে থাকে নেশা ছেড়ে দিয়ে নতুন করে বাঁচতে। কিন্তু আমি পারি না।
এভাবে চলতে থাকে_আমার জন্মদিন চলে আসে।
নিঝুম আমাকে একটা ডায়রি উপহার দেয়।
প্রথম পৃষ্ঠায় বড়করে লাল রঙে লেখা ছিল I Love You ।
রাতে ফোন করে বলে """তুমি কি চাওনা আমি যাকে ভালবাসি সে একজন সুস্খ মানুষ এবং ভালো মানুষ হোক ?"""
ফোনটা কেটে দিলাম আমি।
বারবার ফোন করছে নিঝুম, প্রায় এক ঘন্টা পর ফোন রিসিভ করে বলি "আমি চাই"
এরপর থেকে প্রতি রাতে কথা হয় ওর সাথে। আস্তে আস্তে নেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হই ওর ভালবাসার কারনে। আমাদের রিলেশনের আজ তিনবছর।
সবাই বলে প্রথম ভালবাসা নাকি ভূলা যায় না। কিন্তু আমার এখন মনেই হয়না যে আমার ১ম ভালবাসা অন্য কেউ ছিল।
সত্যি-ই একদম বদলে দিয়েছে আমায়
এই শেষ ভালবাসা
____নিঝুমের ভালবাসা।

অভিন্ন ভালোবাসা

সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে
পরিচিত পরিচয় বলতে কিছু নেই হ্যাঁ
পরিচয়হীনও বলা যায়, তখন ঠিক
ক্লাস সেভেনে পড়ি মা মারা
যায় বাবাও মা মারা যাওয়ার পর
বিয়ে করেন, সৎ মাকে যেদিন ঘরে
তুলেন বাবা রুমের ভিতরে দরজা
বন্ধ করে কাঁদতে থাকি, দ্বিতীয়
বিয়ে করবে বাবা গ্রামের
মানুষের মাথা ব্যথা আমাকে
নিয়ে, কিরে তোর তো ভাগ্য খুব
ভালো বাপের বিয়ে খাবি
শান্তনা পাইনি কারো থেকে যে
মা মরা ছেলেটির কি হবে, সে
চিন্তাটা কারো আসেনি আসবেই
বা কেন সমাজের চোখে উচিৎ
কথা বলা মানুষ গুলো শত্রু হয়ে যায়
আমার মায়ের বেলায়ও ঠিক তাই
হয়েছে, সব সময় উচিৎ কথা বলতো
তাই বলে সমাজের মানুষ গুলো
মায়ের পিছনে নিন্দা করতো আর
আমি দেখতাম মা নামাজের
মসলায় বসে বসে কাঁন্না করতো, যা
হউক সেভেনের বছরের প্রথম দিকে
মা মারা যায় রোলনং ০৩ ছিলো
সেভেনে, সেভেনের বার্ষিক
পরিক্ষায় ২সাব্জেক্ট খারাপ করি,
হেডস্যার (প্রধান শিক্ষক) বাবাকে
ডাকিয়ে পরিক্ষার খাতা
দেখালেন অংকে ২২ আর
ইংরেজীতে ১৫ পাই, স্যার
বাবাকে অনেক কিছু বলছেন যা
বাবা সহ্য করেনি স্যারের সামনে
লাথি যেটা মেরেছেন বাড়ি
পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারিনি, পরে
রিক্সা নিয়েছেন রিক্সায় করে
বাড়িতে আসছি ওঠানের পাশে
একটি আম গাছ ছিলো ও হ্যাঁ সৎ মা
বসে বসে খাওয়াতেন না গরু
পালতাম তিনটা গাভী ছিলো গরুর
জন্য দিনে তিন জুরি ঘাস কাঁটতে
হতো তাই তিনবেলা খাওয়ার
জুটতো আবার যদি দুই জুরি ঘাস
কাঁটতাম তাহলে দুইবেলা খাওয়ার
আর সাথে জারি এবং দশবারি বেত
আঘাত কপালে জুটতো, তো গরুর রশি
দিয়ে আম গাছের সাথে পিছন
থেকে বাঁধানো হইছে চোখ বাঁধ
ছিলো গায়ের শার্ট খুলে বাবা
যে ৫টি বেত কিনে এনেছিলো
ওইগুলাকে মা সরিষার তৈল দিয়ে
আগেই রোদে শুকিয়ে রাখছিলেন,
একটা আগে মেরে ভেঙ্গে
ফেলছিলো আর চারটাকে একসাথ
করে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত মেরে
চলছেন কান্না করিনি কিন্তু চোখ
দিয়ে পানি পড়তেছে চারটি বেত
ভেঙ্গে বাবা ক্লান্ত পরে মা
এসে আমার মৃত মাকে নিয়ে খুব
বাজে একটি গালি দিছেন শরীর
থেকে রক্ত ঝরছিলো কোন আঘাত
লাগেনি কিন্তু আমার মৃত মাকে
নিয়ে কিছু বলছে সেটা সহ্য হয়নি
মনের চাপ এবং দেহের ব্যথা নিয়ে
আস্তে আস্তে মাথাটা মাটির
দিকে লুটে পড়তেছে ঠিক ওতটুকু
মনে ছিলো ।
-
রাত দশটা শরীরের জ্বর আর ব্যথা
অনুভব করছি এর আগে হয়তো মৃত
ছিলাম সবাই ঘুমিয়ে গেছে আর
আমার সেই লুকানো মাটির ব্যাংক
আর মায়ের হাতে একজোড়া চুড়ি
নিয়ে বাহির হয়ে পড়ি এই শরীর
নিয়ে স্টেশনের উদ্দেশ্যে হেঁটে
চলছি আর এমনিতেই চোখ দিয়ে
পানি ঝরছে।
-
স্টেশনে এই টাইমের কোন লোকাল
ট্রেন নাই যা আছে ঢাকা থেকে
চট্টগ্রাম, আশার সময় অবশ্যই মায়ের
কবরে মাকে নালিশ আর জেয়ারত
করছি তাই ভাগ্যটা ভালো ছিলো,
৬০-৬৫ বছরের একলোক আমার চোখের
পানি আর স্টেশনে বসে থাকা
নিয়ে জিগ্যাসা করছেন সব কিছু
খুলে বলতে বলতে রাত প্রায় বারটা
ওনি হলেন মাল গাড়ির ড্রাইভার
স্টেশনে দাড় করানো মাল
গাড়িটা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওনা
দিবেন ভদ্রলোকটির নাম হলো
সাধন আলী লোকে তাকে সাধু
বলেই ডাকেন ওনার সাথে উঠলাম
মাল গাড়ীতে কিছুক্ষণ পর ওনার
সাথে কথা বলতে বলতে আবার
ঘুমিয়ে পড়লাম ওনি জেগে আছে
মাঝেমধ্যে কারও হাতের স্পর্শ
মাথায় অনুভব করলাম ভোর পাঁচটা
চট্টগ্রাম পৌঁছে গেছি ওনি দুইজন
আনসার দিয়ে আমাকে ধরে ধরে
ওনার বিশ্রামাগারে নিয়ে
ঘুমিয়ে দিছেন সকাল ৯টা বাজে
ডাক্তার এসে আমাকে ঘুম থেকে
জাগালেন এবং সাধু আঙ্কেল
ডাক্তার নিয়ে আসার সময় হোটেল
থেকে রুটি আর বাজি নিয়ে
এসেছেন মুখ দুইয়ে দিয়ে সাধু
আঙ্কেল বল্লেন বাবা এইগুলা
খেয়েনে তখন সবাইকে অবাক করে
দিয়ে চিৎকার করে বলে ওঠলাম
খবরদার আঙ্কেল আমার সামনে
বাবা নামটি উচ্চারণ করববেনা!!
তখন আঙ্কেল মায়ার সরে বল্লেন
ওকে আঙ্কেল আর করবো না,
ডাক্তার এসে হাতে স্যালাইন
দিয়েছে আর কিছু ওষুধ লিখে
দিয়েছেন।
-
হাতে স্যালাইন চলছে সাধু আঙ্কেল
ডাক্তারের সাথে ওষুধ আনতে
যাওয়ার সময় আন্সারকে বলে
গেছেন ওনি আশা পর্যন্ত এক পা
এদিক সেদিক না নড়ে, আন্সার
আমার পাশে বসে আছেন এর কিছুক্ষণ
পর আন্সারের স্ত্রী ফোন করছে
বউয়ের সাথে কথা শেষ করে বলছেন
আমার বাবাকে ফোন দাও..
হ্যাঁলো বাবা কি করো, কিছু
খেয়েছো, বাবা তোমার জন্য
মেলা থেকে পুতুল কিনেছি আর
হ্যাঁ দুষ্টামি করোনা তোমার জন্য
বাবা আসার সময় চিপস নিবো
চকলেট নিবো দুষ্টামি করলে কিন্তু
দিবোনা আর তোমার মা যদি
তোমাকে বকা দেয় বাবা আসলে
বলিও তোমার মাকে বাবা এত্তো
গুলা বকা দিবো.. এসব কথা শুনতে
শুনতে কেন জানি বাবাকে খুব মনে
পড়ছে আর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে
ছোটবেলার কথা খুব মনে পরছে
বাবা তো আগে এমন ছিলো না
হঠাৎ সৎ মা ঘরে আসার পর এতটাই
বদলে গেল কেন, আর বাবারই বা কি
দোষ সারাদিন যদি মা নালিশ
দেয় দশটা কথা থেকে একটা হলেও
তো কানে নিবে এটাই
স্বাভাবিক। এসব ভাবতে ভাবতে
সাধু আঙ্কেল ওষুধ নিয়ে আসছেন
এসে বলছেন আঙ্কেল ডাক্তার বলছে
খুব তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে
চিন্তার কিছু নেই এসব বলতে বলতে
সাধু আঙ্কেল ওষুধ খাইয়ে দিচ্ছেন
ওষুধ খাইয়ে দিয়ে বলছেন তোমার
আন্টি আসবে একটু পর ও পাহাড়তলী
থাকে আমার কোয়ার্টার বাসা
আছে তবে দুঃখের বিষয় বাবা
হতে পারলাম না তোমার আন্টির
সমস্যা এই নিয়ে কত ডাক্তারের
কাছে গিয়েছি তার হিসাব নেই,
তুমি থাকার চিন্তা করতে হবেনা
আজ থেকে আমিই তোমার
গার্জিয়ান আর দেখোনা তোমার
আন্টি আসলে তোমাকে দেখে
কতটা খুশী হন আমি ফোন করে শুধু একটু
করে বলছি এরপর আরকি ফোন রেখে
দেওয়ার সময় বলছে আমি যেন
তোমার সেবা করতে একটুওও
বরখেলাপি না করি..আমি নিশ্চুপ
হয়ে গেছি হয়তো অনেক দিন পর এমন
ভালোবাসা পেয়ে দিশেহারা
হয়ে গেছি আর মনে মনে বলছি
এতোদিন এর একশত ভাগের একঅংশ
করে ভালোবাসা ফেলে কি এমন
ক্ষতি হতো হ্যাঁ আন্টি এসেছে
রুমটা আন্টির আগেরই চেনা এসে
আমার পাশে বসলো মনে হচ্ছে
আন্টির পেটের সন্তান আমি
কিংবা আমার হারিয়ে যাওয়া
মা কপালে চুমু দিলেন পাতলা
মালশিটাকে আরেকটু মুখের সামনে
এগিয়ে দিতে দিতে কাঁন্না করে
দিলেন আমার মুখের অবস্থা দেখে
ওইযে মারার সময় হয়তো কয়েক
বারি কপালে কিংবা মুখে পরছেন
আর হয়তো আমার মুখটা একটা মোটা
হয়ে গেছে, আশার সময় আন্টি কমলা
নিয়ে আসছে কমলা খাইয়ে দিতে
দিতে আমার সকল কাহিনী সাধু
আঙ্কেল থেকে শুনিতেছে আমি
নিশ্চিত শুধু আঙ্কেল ক্লাসের
সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট
ছিলেন না হয় কি এতোগুলো কথা
আমার মুখ থেকে একবার শুনে কপি
করতে পারতেন?..
-
খুব সুন্দর করে আন্টিকে সব কথা পেষ্ট
করলেন আর শেষে দিয়ে বলে
দিলেন আমাকে যেন বাবা বলে
না ডাকে আমি এটা সহ্য করতে
পারিনি তখন আমি সাধু আঙ্কেলের
মুখের দিকে তাকিয়ে আছি হয়তো
মন থেকে সকল ক্ষোভ মুচে গেছে
এখন আর ওনাদের মুখ থেকে বাবা
ডাকটি শুনলে আর রাগ হবেনা
আরো শুনতে ইচ্ছে হবে।
-
হাতের স্যালাইন শেষ সাধু
আঙ্কেলর ফোন আসছে গাড়ি নিয়ে
আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা
দিতে হবে তখন আঙ্কেল তার
সহকর্মী ড্রাইভারকে বলছে খুব জরুরী
কাজে আটকা পরছেন তাই ওনি
দুইদিনের জন্য ছুটি কাঁটাতে
চাচ্ছেন সহকর্মীও তাতে আপত্তি
করেননি..
-
এখন উদ্দেশ্যে হলো সাধু
আঙ্কেলের বাসায় যাবো, যাবো
না ওনাদের বাসায় নিয়ে যাবেন
আন্টি কপালে আরকি চুমু খেয়ে
জিগ্যাসা করলেন এখন কেমন
লাগছে বাবা? এই কথা শুনা মাত্র
সাধু আঙ্কেল জিহ্বায় কামড় বসিয়ে
দিলেন, আমি বলে ওঠছি আগের
চেয়ে অনেক ভালো মা, তখন আন্টি
খুশিতে কান্না করিয়ে দিলেন
হয়তো জীবনে প্রথম মা ডাক শুনে
আর বুকে জড়িয়ে নিলেন সাধু
আঙ্কেলেরও চোখ দিয়ে পানি
ঝরছে হয়তো বউয়ের খুশি দেখে,
আমি তখন সাধু আঙ্কেলকে
উদ্দেশ্যে করে বলছি বাবা.. সাধু
আঙ্কেল তখন দাড়ানো থেকে এসে
বুকে জড়িয়ে একবার কপালে একবার
মুখে পাগলের মতো চুমু দিতে
লাগলেন,আর ওনাদের ভালোবাসা
পেয়ে আমারও খুশিতে দুই ফোঁটা
চোখের পানি গড়িয়ে পড়লো।

একটি সকাল এক টুকরো হাসি

বাসর রাতে মেয়েটি স্পষ্ট স্বরে জানিয়ে
দেয়,
– এইযে শুনুন, আমি কিন্তু আপনাকে বিয়ে
করতে চাইনি,
,
রাহাত বেশ ভদ্র, মার্জিত ছেলে।
হাসিমুখে জবাব দেয়
-– হ্যা, জানতাম।
– তো বিয়ে করলেন কেন?
– -এমনি
– শুনুন, রাগাবেন না! এমনি কোন কিছু হয় না,
.
রাহাত কি বলবে ভেবে পায় না।
বিয়েটা ওর মায়ের ইচ্ছেতেই হয়েছে।
মায়ের ইচ্ছের ওপর না বলতে পারেনি।
রাহাত চুপ করে থাকে।
ইতোমধ্যে মেয়েটি রেগে নাকের
ডগা আর মুখ টকটকে লাল করে বসে আছে।
.
– কি ব্যাপার! চুপ করে আছেন কেন?
সোজাসুজি বলে দিচ্ছি, আমি আপনাকে
ভালোবাসতে পারবো না! আর আপনি
আমাকে মোটেও স্পর্শ করবেন না!
.
রাহাত হেসে মাথা নাড়ায়। সুন্দরীদের
রাগলে বেশ লাগে। কিন্তু রাহাত আর
রাগাতে সাহস পায় না। এমনিতেই যা
তিরিক্ষি মেজাজ করে বসে আছে! রাহাত
আস্তে করে গিয়ে নিজের বালিশে মাথা
রেখে শোয়। দুজনেই ছাদের দিকে চেয়ে
শুয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর মেয়েটি রাহাতের
উল্টোপাশে মুখ ফিরিয়ে শোয়। একসময়
মেয়েটি নিজ থেকেই কথা বলা শুরু করে,
এবার কন্ঠে আর কোন রাগ নেই, কেমন যেন
কান্নাভেজা কন্ঠস্বর,
.
– আমি একজনকে ভালোবাসতাম!
.
রাহাত অবাক হয়। ও জানত না এসব।
খানিকটা অবাক সুরে বলে,
.
–-উনি কোথায় এখন?
– ও বেঁচে নেই আর!
.
বলে মেয়েটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
রাহাতেরও বেশ মন খারাপ হয়। মেয়েটাকে
কি বলে যে স্বান্ত্বনা দিবে তা ভেবে
পায় না ও। রাহাত চুপ করে থাকে। আর
ওদিকে মেয়েটি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে
চলেছে।
.
রাহাত নিজের হাতটা মেয়েটির মাথার
দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় একটু, কিন্তু আবার
হাতটা সরিয়ে নেয় কি মনে করে ।
চুপ করে শুয়ে থাকে সে।
.
পরদিন খুব ভোরে আজানের শব্দে ঘুম থেকে
উঠে পড়ে রাহাত। উঠে দেখে মেয়েটি
তখনো ঘুমিয়ে। অযু করে ফজরের নামাজ
আদায় করে নেয় সে। তারপর কিছুক্ষণ কুরআন
তিলাওয়াত করে। ততক্ষনে আকাশ বেশ
ফর্সা হয়ে উঠেছে। কিন্তু মেয়েটি তখনও
ঘুমিয়ে। মেয়েটির নাম দিপান্ন্বিতা।
.
সকাল প্রায় নয়টা বেজে গিয়েছে তখন।
রাহাত ইজি চেয়ারে বসে একটা উপন্যাস
পড়ছিল। হঠাৎ বিছানা থেকে দিপান্ন্বিতার
গলার অস্ফুট আওয়াজ পেয়ে বিছানার দিকে
তাকায়। দেখে, মেয়েটি ঘুম থেকে উঠেছে
আর ঘোরের মাঝে কি যেন বলছে অস্ফুট
স্বরে। রাহাত তাড়াতাড়ি দিপান্ন্বিতার
পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। দিপান্ন্বিতার লম্বা চুল
মুখের উপর ছড়িয়ে আছে এলোমেলোভাবে।
রাহাত হাত দিয়ে চুলগুলো ঠিক করে দেয়ার
সময় টের পায়, কপালটা ভীষণ গরম
দিপান্ন্বিতার!
রাহাত আঁতকে উঠে! ভীষণ জ্বর মেয়েটার!
.
তড়িঘড়ি করে এক বালতি পানি আর মগ এনে
দিপান্ন্বিতার মাথায় আস্তে করে পানি ঢালে
রাহাত। কিছুক্ষণ পর শরীরের তাপমাত্রা
কমে যায়। দিপান্ন্বিতা উঠে বসতে চাইলে ওর
হাত ধরে উঠে বসতে সাহায্য করে রাহাত।
তারপর , রাহাত গিয়ে নিজ হাতে বানানো
ব্রেকফাস্ট এনে দিপান্ন্বিতাকে খাইয়ে দিতে
যায়। মেয়েটা বলে ওঠে,
,
– ব্রেকফাস্ট কে বানিয়েছে?
--আমি ( অবনত মুখে )
– খাইয়ে দেয়া লাগবেনা, এদিকে দিন,
আমি খেয়ে নিচ্ছি
.
রাহাত কিছু মনে করে না। চুপ করে
দিপান্ন্বিতার কাঁপা কাঁপা হাতে খাওয়া
দেখে অবাক চোখে। মুখ দেখে বুঝা যায়,
মেয়েটি সারারাত ঘুমায় নি। তবে বুকে
সূক্ষ্ণ অনুভূতি জাগানো মায়াবী মুখ
মেয়েটার। রাহাত অপলক চোখে চেয়ে
থাকে।
.
রাহাত ভেবেছিল জ্বর বুঝি সেরে
গিয়েছে। কিন্তু সেদিন রাত্রে শরীর
কাঁপিয়ে আবার জ্বর এলো দিপান্ন্বিতার।
জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছে ও । তাড়াতাড়ি
করে দিপান্ন্বিতাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়
রাহাত। মেয়েটির কষ্ট দেখে বুকটা ভারী
হয়ে আসছে ওর। হাসপাতালে নেয়ার পর ,
ডাক্তারের দেয়া ওষুধ খাওয়ানোর পর জ্বর
কিছুটা কমে দিপান্ন্বিতার। কিন্তু চোখ দুটো
খুলতেও যেন ভীষণ কষ্ট হচ্ছে ওর।
.
রাহাত নিজ হাতে রাতের খাবার রান্না
করে আনে দিপান্ন্বিতার জন্য। মেয়েটি তখনো
নিজ থেকে উঠে বসতে পারেনি। রাহাত
ওকে উঠে বসায়। দিপান্ন্বিতার মুখ দেখে ভীষণ
মায়া হছে ওর। চেহারাটা কেমন রোগা
রোগা হয়ে গিয়েছে। রাহাত নিজ থেকেই
দিপান্ন্বিতার দিকে খাবার এগিয়ে দেয় নিজ
হাতে। নিশাত দুর্বল স্বরে বলে,
.
– আমাকে দিন, আমি খেয়ে নিচ্ছি
এবার রাহাতের মন খারাপ হয় ভীষণ। অবনত
চোখে দিপান্ন্বিতার দিকে খাবারের প্লেট
এগিয়ে দেয়। অল্প করে খেয়ে দিপান্ন্বিতা
আবার
শুয়ে পড়ে। ঘুমানোর আগে রাহাতকে বলে,
.
– আপনিও শুয়ে পড়ুন
.
রাহাত হেসে মাথা নাড়ায়। দিপান্ন্বিতা পাশ
ফিরে শোয়। রুমের লাইট বন্ধ করে রাহাত
দিপান্ন্বিতার পাশে বসে থাকে। জানালার
ফাঁকে রাতের শহরের ঢাকা দেখা যায় ওই।
আকাশভরা তারা ,নিচের রাস্তায় গাড়ির
হেডলাইটগুলোর ছুটোছুটি আর অন্ধকারের
মাঝে বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে
রাহাত। এই যান্ত্রিক শহরে কেমন একা
বোধ করছে আজ ও!
.
সারারাত ঘুমায়নি রাহাত। শেষরাতের
দিকে আবার প্রচন্ড জ্বর উঠে দিপান্ন্বিতার।
রাহাত তড়িঘড়ি করে এক বালতি পানি
এনে দিপান্ন্বিতার মাথায় ঢালে অল্প করে আর
ভীষণ গরম কপালে হাত বুলিয়ে দেয়। যেন
দিপান্ন্বিতা শরীরের উত্তাপগুলো শুষে নিতে
চাইছে। তখন প্রায় ভোর হয়ে গিয়েছে।
সূর্যের আলো একটু করে ছড়াচ্ছে
চারিদিকে। রাহাত দিপান্ন্বিতার কপালে
পানি ঢেলে চলেছে। একসময় দিপান্ন্বিতার জ্বর
কমে যায় একটু করে।
.
দিপান্ন্বিতা চোখ মেলে অবাক চোখে
তাকিয়ে
দেখে একটি অনিদ্রারত রুগ্ন মুখ ওর দিকে
তাকিয়ে প্রশান্তির হাসি হাসছে।
দিপান্ন্বিতা জিজ্ঞেস করে,
.
– আপনি ঘুমাননি?
-– ইয়ে মানে, ঘুম আসছিলো না , তাই জেগে
ছিলাম
– ও!!
– -খুব ক্ষুধা লেগেছে আপনার, হু?
– হ্যা!!
-– একটু অপেক্ষা করুন।
.
রাহাতের দিকে চেয়ে দিপান্ন্বিতা অবাক হয়
ভীষণ ।
.
রাহাত তাড়াতাড়ি করে আনাড়ি হাতে
বানানো ব্রেকফাস্ট নিয়ে এগিয়ে যায়
দিপান্ন্বিতার দিকে। হাতে খাবার তুলে
নিয়েও কি মনে করে আবার রেখে দেয়
প্লেটে। তারপর, প্লেটটা এগিয়ে দেয়
দিপান্ন্বিতার দিকে অবনত চোখে।
দিপান্ন্বিতা
প্লেটটা হাতে নিয়ে অভিমানের সুরে বলে,
.
– খাইয়ে দিবেন না?
.
অবাক চোখে দিপান্ন্বিতার দিকে তাকায়
রাহাত! দেখে, মিটিমিটি হাসছে মেয়েটা।
দিপান্ন্বিতা আবার জিজ্ঞেস করে,
.
– কি, খাইয়ে দিবেন না আমাকে?
.
রাহাতের মুখে তখন বিশ্বজয়ের হাসি।
.
সকালের সোনালী রোদ জানালার ফাঁক
গলে তখন আছড়ে পড়ছে দুজনের গায়ে।
হাসিতে উদ্ভাসিত চারিদিক। ভোরের
আলো সাক্ষী হয়ে রইলো একটি নতুন
সূর্যোদয়ের আর একজোড়া প্রাণের
ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ইতিহাসে ।
ভালো থাকুক ভালোবাসাগুলো।

ভালবাসার পাগল

সকাল ৯ টায় অনিমার ফোন,
পাহাড় পরিমান ঘুম নিয়ে ফোন টা ধরল রুদ্র।আর ধরই একটা ঝাঝালো কন্ঠ ভেষে আসল।
~হ্যালো। কোথায় তুমি?
বুঝতে পারল রেগে গিয়ে মেয়েটার মিষ্টি কন্ঠটা ঝাঝালো হয়ে গেছে।
ওকে আরেকটু রাগানোর জন্য,
=এই তো ফুটবল খেলছিলাম।খেলবে তুমি?
~একদম মশকরা করবে না।
ণবাব জাদার মতো পড়ে পড়ে ঘুমিয়ে এখন আবার ঠাট্রা করছে!
লজ্জা করে না?
= আহা জান,তুমি রাগ করছ কেনো?
আমি তো স্বপ্নে ফুটবল খেলছিলাম!
~ আজ কত তারিখ?
=কত তারিখ যেনো? ..... !
~আজ পহেলা জানুয়ারি! সেই খেয়াল আছে তোমার?
কি কথা ছিল আজ?
= ওহ! ভুলে গেছিলাম গো!
স্যরি!
~ রাখো তোমার স্যরি। আধা ঘন্টার ভিতর ভার্সিটির ক্যাম্পাসে উপস্থিত হবে।
= আরে বল কি! প্রতিপক্ষের কাছে তো এক গোল খেয়ে বসে আছি! আগে শোধ দি ওটা!
শোধ দেবার আগেই তো ঘুম টা ভাঙ্গিয়ে দিলে!
=দেওয়াচ্ছি তোমায় গোল শোধ!
যা বলেছি তাই যদি না করো না,তাহলে স্বপ্নের ভিতর তোমাকে আস্ত গিলে ফেলব!
=আচ্ছা বাবা আচ্ছা উঠছি!
~হূম। তারাতারি।
হটাৎ ঘুম টা ভেঙ্গে গেলো রুদ্রের।ওহ! সে স্বপ্ন দেখছিল এতোক্ষন।কিন্তু,একদিন এসব স্বপ্ন ছিল না।সব ই বাস্তব ছিল।আজ পহেলা জানুয়ারি, অনিমা প্রতি বছরের এই দিনে এভাবেই রুদ্রের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিতো।খুব ভালবাসত তারা একে অপরকে।কিন্তু,নিয়তির পরিহাসে আর বাস্তবতার কঠোর আঘাতে সব ই ভেঙ্গে চুড়ে ছারখার হয়ে গেছে।
গত ২ বছরে অনিমার মারা যায় এক মর্মান্তিক এক্সিডেন্টে।
আজ অনিমা নেই কিন্তু তার স্মৃতি গুলো ঠিক ই রয়ে গেছে।অনিমা থাকলে হয়ত আজ এভাবেই তার ঘুম ভাঙ্গাত।
নেই?? . . ! কে বলেছে নেই??
আছে তো! এইতো অনিমা! সারাক্ষন রুদ্রের মনের মাঝেই তো আছে।স্বপ্নে হলেও তো অনিমা আজ ঠিক ই এই সময় তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়েছে!
নাহ! আর দেরি করা যাবে না।অনিমা তো ভার্সিটিতে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তারাতারি যেতে হবে তো আমায়।হ্যা! যেতেই হবে!
.
রুদ্র জানে অনিমা আর কখনো ফিরে আসবে না। তবুও সে প্রতি বছর এই দিনে ঠিক তাই তাই ই করে,আগে যা যা করত।
আর এটায় হলো প্রকৃত ভালবাসা। যার শুরু আছে শেষ নেই।
আর এভাবেই চলবে এক ভালবাসার পাগলের পাগলামি।
আমাদেরও,ভালবাসলে, এভাবেই কাউকে ভালবাসা উচিৎ.

শিক্ষনীয় ঘটনা

এক যুবক নতুন বিয়ে করল। ভালোই
কাটতেছিল তাদের দিনগুলো । একদিন
স্ত্রী খুব ভালো খাবার রান্না করল।
স্বামী স্ত্রী যখন খেতে বসল, এমন সময়
এক ভিক্ষুক হাজির হল। ভিক্ষুক টি খুব
ক্ষুধার্ত ছিল এবং সে কিছু খাবার
চাইল ।
স্বামী খুব রাগ হইলেন এবং
ভিক্ষুকটিকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও
অপমান করে তাড়িয়ে দিল। অসহায়
ভিক্ষুক চলে গেল!!! কিছুদিন পর স্বামী
স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হল। এক পর্যায়ে
তাদের সংসার ভেঙ্গে গেল । স্বামী
স্ত্রী কে তালাক দিয়ে দিল। স্ত্রী
বাপের বাড়ি চলে গেল। কয়েক বছর পর
মেয়ের বাবা অন্য এক জায়গায় মেয়ের
বিয়ে দিল । নতুন স্বামীর সাথে শুরু হল
তার জীবন! দ্বিতীয় স্বামী প্রথম
স্বামীর চেয়ে অনেক ধনী ছিল। একদিন
স্বামী স্ত্রী খেতে বসল। ইতিমধ্যে
একজন ভিক্ষুক আসল। স্ত্রী স্বামী কে
বলল"আমি ভিক্ষা দিয়ে আসি"। কারণ
এমন
এক মুহুর্তে আমার প্রথম স্বামী এক
ভিক্ষুকের সাথে খারাপ আচরন করেছিল,
যা আমি এখনও ভুলতে পারিনা। যখন
স্ত্রী ভিক্ষা দিতে গেল তখন সে
অবাক হয়ে গেল!!! কারণ,তার সেই
প্রথম স্বামীই আজ তার সামনে ভিক্ষার
পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!!! স্ত্রী চোখের
পানি রাখতে পারল না। মেয়েটি তার
দ্বিতীয় স্বামী কে বলল, আমি
আপনাকে এক আশ্চর্য ঘটনা শুনাব।
তারপর
মেয়েটি তার প্রথম স্বামীর সাথে
ঘটে যাওয়া ঘটনাটি বলে দিল!! তখন
দ্বিতীয় স্বামী চোখের পানি ছেড়ে
দিয়ে বলল,আমি তোমাকে এর চাইতেও
আশ্চর্য ঘটনা শুনাব । তুমি হয়ত শুনে
অবাক
হবে যে ,ঐ দিনের অসহায় সেই ভিক্ষুক
টি আমি, যিনি আজ তোমার সম্পদশালী
স্বামী!!!
..... # শিক্ষাঃ আল্লাহ মুহূর্তের মধ্যেই গরীব
কে ধনী আর ধনী কে ফকির বানিয়ে
দিতে পারেন । সূতরাং আমরা কখনও
কোন অসহায় কিংবা গরীব লোকের
সাথে খারাপ ব্যবহার না করি । যদি
পারি নিজের সাধ্য মত সাহায্য করব।
কোন ভাবেই তাদের সাথে ধমকের
সুরে কটু কথা বলব না !!