শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৫

প্রেমপত্র


খুব মনোযোগ সহকারে স্যারের লেকচার শুনছি। এমন সময় কোথা থেকে একটা কাগজের ঢিল গায়ে এসে লাগলো। কোনো বন্ধু হয়তো দুষ্টামি করছে এই ভেবে পুনরায় লেকচারে মনোযোগ দিলাম। কিছুক্ষণ পর আবার একটা কাগজের ঢিল উড়ে এসে আমার গায়ে লাগলো। কাগজের ঢিলটা হাতে নিয়ে আশেপাশের বন্ধুদের দিকে দেখছি যে ঢিলটা কে ছুড়তে পারে!
.
হটাৎ কেন জানি মনে হলো কাগজটায় কিছু লিখা থাকতে পারে। সাথে সাথে খুলে দেখলাম। কাগজে লিখা- "আগের কাগজটা ব্রেঞ্চ এর নিচ থেকে তুলে পড়ো"
.
ব্রেঞ্চ এর নিচে খুজে দেখছি কিন্তু কাগজের ঢিলটা খুজেই পাচ্ছিনা। স্যারের লেকচার চলছে তাই ভালভাবে খুজতেও পারছিনা। স্যার যাতে বুঝতে না পারে এমনভাবে আগের কাগজটা খুজছি এমন সময় আরেকটা কাগজের ঢিল গায়ে এসে পড়লো। সাথে সাথেই এদিক ওদিক তাকালাম, সবাই লেকচার শোনায় ব্যস্ত, সম্ভাব্য ঢিল ছুড়নে ওয়ালা কে হতে পারে তা আমি বুঝতেই পারলাম না।
.
এবারের কাগজটা খুলে দেখলাম, লিখা- "হাদারাম, তোমার সামনের ছেলেটার পায়ের কাছে দেখো কাগজটা"।
.
আমি অবাক হবো না হতবাক হবো, কিছুই বুঝতে পারছিনা। ওই কাগজটায় এমন কি রাজ অন্তর্নিহিত আছে যে পর পর দুইবার ঢিল ছুড়ে কেবল ওই কাগজেটাই পড়ার জন্য নির্দেশ করছে। তবে একটা ব্যাপারে খটকা লেগেই রইলো যে, আমাকে 'হাদারাম' বলে সম্বোধন করতে পারে কোন মহান ব্যক্তি!
.
অতঃপর নির্দেশিত কাগজের ঢিলটা খুজে পেলাম। কাগজটা খুলে দেখলাম, দেখি যে ডাবল বাউন্ডারি দিয়ে সুন্দর করে বিশাল একটা লাভ আঁকা যাকে আমরা হৃদয় বা ভালবাসার প্রতীক হিসেবেই জানি। এই লাভ দেখেই যেমন কাগজ তেমন করে পকেটে রেখে দিলাম। ভেতরে কিছু লিখা ছিলো কিন্তু ক্লাসের মধ্যে লাভ লেটার পড়াটা ভদ্রতার মধ্যে পড়েনা তাই পরে সুন্দর পরিবেশে ফিলিংস নিয়ে পড়ার জন্য যত্ন করে পকেটে রেখে দিলাম। এই প্রথম প্রেমপত্র পেয়ে আমিতো খুশিতে দিশাহারা। তবে এড় প্রেরকটা কে হতে পারে তা নিয়ে একটা বড় রকমের দ্বিধা দ্বন্দ্বে পরে গেলাম।
.
আমি প্রথম বারের মত প্রেমপত্র পেয়েছি এই ভেবে গর্বে আমার বুক ফুলে উঠছে। মনে মনে ভাবতে লাগলাম সালার বন্ধুদের এবার দেখিয়ে দিবো প্রেম কি জিনিস! যারা আমায় বলতো 'তোর জীবনে কোনোদিন গার্লফ্রেন্ড হবেনা' তাদের সামনে এখন আমি ওপেন রোমান্স করবো। দেখি কে ঠেকায়।
.
ক্লাসের একটা মেয়েকে অল্প অল্প পছন্দ করতাম যার নাম ঈশিতা। বন্ধু বান্ধবীদের মধ্যে অনেকেই এটা জানতো। কিন্তু সাহস করে কোনোদিন ঈশিতাকে মনের কথা বলা হয়নি। ইস! ঈশিতাই যদি এই প্রেমপত্র দিয়ে থাকে তাহলে তো আমি আনন্দে হার্ট ফেইল করে ফেলবো।
.
.
পর পর আরো দুটো ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরলাম। বাসায় এসে আম্মু বলা শুরু করলো,
- এই অমি, পরনের জিন্সটা সহ আর কি ধোয়া লাগবে নিয়ে আয়।
.
আসলেই জিন্সটা ময়লা হয়েছে। জিন্সটা চ্যাঞ্জ করে আম্মুকে দিয়ে আসলাম। কিছুক্ষণ পর আবার আম্মুর ডাক,
- এই অমি, অমি... তোর পকেটে এটা কিসের কাগজ, আরেকটু হলে তো ধুয়ে দিতাম। দেখতো কোনো দরকারি কাগজ কিনা?
.
হার্টবিট বেড়ে গেলো। দৌড়ে গিয়ে দেখি আমার প্রেমপত্র এখনও অক্ষত আছে। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। কাগজটা যদি ভিজে যেতো তাহলে তো বড় রকমের একটা বিপদ হয়ে যেতো। এমনিতেই চিঠিটা কে দিয়েছে এখনও তার নামই জানিনা।
.
ঘরের দরজা বন্ধ করে কাগজটা খুললাম। ভাজ সোজা করে লিখার শেষের দিকে আগে আমার হবু প্রেমিকার নাম খুজতে লাগলাম। কিন্তু কি আশ্চর্য্য লিখার শেষে কোনো নামও দেখলাম না। বাধ্য হয়ে প্রথম থেকে পড়া শুরু করলাম।
.
অমি,
আমি ঈশিতা বলছি,..
..............................
..............................
..............................
ক্লাস শেষে প্লিজ লাইব্রেরিতে দেখা করো।
.
চিঠির মাঝখানে অনেক কিছু লিখা। প্রেম শুরু না করতেই এত প্রেম আর আবেগ দিয়ে চিঠিটা লিখার কোনো মানেই ছিলোনা। কলেজ থেকে বাসায় এসেছি আধঘন্টা হলো তার মানে ঈশিতা আমার জন্য আধঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছে। বিদ্যুৎ গতিতে রওনা দিলাম, অটোতে যেতে প্রায় পনেরো মিনিট লাগবে। এতক্ষন ঈশিতা থাকবে কিনা চলে যাবে এটা ভাবতেই নিজের মাথার চুল একটা একটা করে ছিড়তে ইচ্ছে হচ্ছে। কেনো যে কাগজের লিখাটা তখনই পড়লাম নাহ!
.
.
লাইব্রেরিতে না ঢুকতেই দেখি ঈশিতা বের হচ্ছে। এক প্রকার দৌড়ে গিয়ে তার সামনে দাড়ালাম।
.
- ঈশিতা, আমি এত্তগুলা সরি।
- কিসের আবার সরি! পথ ছাড়ো।
- আচ্ছা, আমি আরো অনেক অনেক সরি।
- আমি এখন বাসায় যাবো, পথ ছাড়ো
- আচ্ছা তোমার চোখ লাল দেখাচ্ছে ক্যান?
- কই? কোথায়? কিছু পড়ছে মনে হয়!
- আচ্ছা, একটু শান্ত হয়ে আমার কথাটা শোনো
.
সবকিছু খুলে বললাম, ঈশিতার রাগী আর গোমরা মুখটা ধীরে ধীরে সুশ্রী আর মিষ্টি হতে লাগলো।
.
- তুমি তো তখন কাগজটা খুলে দেখলা,
- খুলছি কিন্তু পড়িনি তো
- কেনো পড়োনি শুনি?
- ক্লাসরুম এর পরিবেশ যে প্রেমপত্র পড়ার জন্য উপযোগী নয় তাই।
- হয়েছে থাক, আচ্ছা আন্টি আবার কাগজটা খুলে দেখেনি তো?
- আরে নাহ, আম্মু তো দরকারি কাগজ মনে করে রেখে দিয়েছিলো, দেখেনি
- ভাগ্যিস আন্টি দেখেনি!!
- আর দেখলেও তেমন একটা সমস্যা হতোনা, আম্মু তোমার কথা জানে
- আমার কথা জানে মানে?
.
এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো, দেখি যে আম্মু ফোন দিয়েছে,
- হ্যা আম্মু বলো
- দেখা হয়েছে তো?
- হ্যা হয়েছে!!! আম্মু কার সাথে দেখা হওয়ার কথা বলছো?
- কার সাথে আবার ঈশিতার সাথে
- আ!!! আম্মু তুমি কি তাহলে...
- হ্যা, তোর প্রেম পত্র আমি পড়ে ফেলেছি। ঈশিতাকে একটু ফোনটা দে তো
.
ঈশিতাকে ফোনটা দিলাম। ঈশিতা আমার কাছ থেকে একটু দূরে গিয়ে কথা বলে আসলো।
.
- কি বললো আম্মু?
- তোমাকে তো বলা যাবেনা বাব্বুউউ..
- উহু বলোনা
- উহু বলবনা
.
প্রিয় সম্পর্কগুলো তো এমনই, যেমন মধুর তেমন সুখময়। যে সম্পর্কগুলোর জন্য অনেকদিন বাঁচতে ইচ্ছে করে, ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করেনা কোনোদিন।
.

ভালবাসা!!কেন এত অসহায়?


-দোস্ত দেখ হিমেল কেমন জানি একা একা
থাকে।
মোবাইল থেকে নজরটা শরিয়ে মেঘনার কথায়
ধ্যান দিল রাফা।
-হুমম।
-কি হুমম।ও কারো সাথে কথা বলেনা কোন
মেয়ের সাথে মিশেনা ইভেন কোন ছেলের
সাথেও না।একা একা শুধু পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে
ইস্ট্রেঞ্জ।
-ওর কিছু একটা করা দরকার।
-কি করব?
-আই থিংক ওর একটা প্রেম করিয়ে দেয়া দরকার।
ও চেঞ্জ হয়ে যাবে।
-প্রেম আর ওর সাথে ইম্পসিবল!!ও কাওকে পাত্তা
দিবে না।আর কেও ওর সাথে প্রেম করবে না।
-আর যদি করে।
-কে করবে শুনি?
-আমি আর কে?
-হা হা।ও তোর দিকে ফিরেও তাকাবে না।
-ও আমার সাথে প্রেম করবে।তুই দেখবি?
-বাজি ধর।তুই পারবি না।
-আচ্ছা ডান।ও যদি আমার প্রেমে পড়ে তুই
আমাদের বন্ধুদের সবাইকে ট্রিট দিবি।
-ওকে ডান।কিন্তু আবির কি বলবে।তোদের
রিলেশনের প্রবলেম হবে তো?
-আরে কিচ্ছু হবেনা।আমি ওরে সব বুঝিয়ে দেব।
-আচ্ছা দেখা যাক কি হয়।
-দেখ কি করি।
.
বলে হিমেলের কাছে যায় রাফা।চিকন চোখে
চশমা পড়া ছেলেটা হলো হিমেল।আর ও সবসময়
একা থাকতে পছন্দ করে।তাই রাফা মেঘনার
সাথে বাজি ধরে হিমেলের সাথে প্রেম করবে।
শিড়িতে বসা হিমেলের কাছে ছুটে যায় রাফা।
.
-হিমেল আজকের এসাইনমেন্ট করতে আমাকে
হেল্প করবে প্লিজ?
.
রাফা হিমেলের পাশ ঘেসে বসে তাই হিমেল
একটু দূরে সরে চশমাটা ঠিক করে।
-আজকেরটা।আচ্ছা ঠিক।
.
বলে রাফার এসাইনমেন্ট করতে হেল্প করে
হিমেল।তাদের মাঝে হাসি ঠাট্টা চলে।হিমেল
পরে বাসায় চলে যায়।
পরেরদিন ক্যান্টিনে বসে পড়তে থাকে হিমেল।
এর মধ্যে রাফা আসে।
.
-থ্যাংক ইউ সো মাচ হিমেল।তুমি না থাকলে
মনে হয় আজকে স্যার মেরেই ফেলত।
কথাগুলা বলতে বলতে টেবিলে রাখা হিমেলের
হাতে হাত পরে যায় রাফার।ঘাবরে গিয়ে
ততক্ষনাক হাতটা সড়িয়ে নেয় হিমেল।
.
-কি হলো?
-না কিছুনা।
.
কথাটা শুনে অটঠাসিতে ফেটে পড়ে রাফা।
তারপর দুজন কথা বলতে থাকে।এক পর্যায়ে রাফা
বলে:
-তোমাকে চশমা ছাড়া অনেক সুন্দর লাগবে।আর
টি-শার্ট না পড়ে শার্ট পড়লে অনেক মানাবে।
.
কথাগুলা হিমেল সিরিয়েসলি নেয়।আর মনে মনে
খুশি হতে থাকে।কারন জিবনের প্রথম কোন মেয়ে
ওকে এই কথাগুলা বলেছে।
বাসায় গিয়ে হিমেল চশমা ছাড়া শার্ট পড়ে
আয়নার সামনে দাড়ায় আর মুচকি হাসি দিতে
থাকে।তারপর সারারাত রাফার ব্যাপারে
ভাবতে থাকে।কারন ওর মনে রাফার জন্য একটা
জায়গা তৈরি হয়।
.
পরেরদিন হিমেলকে চশমা ছাড়া আর শার্ট পড়া
দেখে ভার্সিটির সবাই চমকে যায়।আর ওদিকে
রাফা মেঘনাকে বলে:
-দেখেছিস কি পরিবর্তন এনেছি।দেখবি এখন
আমার কাছেই আসবে।
হিমেল রাফার কাছে গিয়ে দাড়ায়।রাফা
হিমেলের প্রশংসা করতে থাকে:
-এইত কি সুন্দর লাগছে।তোমাকে দেখে তো
যেকোন মেয়ে ক্রাশ খেয়ে যাবে।
হিমেল নরমসূরে বলে
-সত্যি যেকোন মেয়ে?
-আরে হ্যা।আমি কি মিথ্যা বলব নাকি।যাও এখন
ক্লাসে যাও আমাদের ওখানেই দেখা হবে।বায়।
.
হিমেল ক্লাসের দিকে এগিয়ে যায়।আর ওদিকে
মেঘনা রাফাকে বলে:
-মানতে হবে।তুই বাবা লা-জবাব।ছাগল দিয়েও
হাল চাষ করতে পারিস।
-এখন দেখবি কাল ও আমাকে প্রপোস করেছে।
-আচ্ছা দেখি।
.
পরেরদিন:
--------
মাঠে সবাইকে রাফা আগে থেকেই বলে
রেখেছিল।হিমেল পকেটে গোলাপ ফুলটা রেখে
দৌড়ে আসে রাফার দিকে।
-(হাপাতে হাপাতে)রাফা!!রাফা।আমি
তোমাকে কিছু বলতে চাই।
-হ্যা বলো।
তারপর হিমেল হাটু গেরে বসে রাফাকে প্রপোস
করে।
-আই লাভ ইউ রাফা।তুমি আমাকে অনেক বদলে
দিয়েছ।ওয়িল ইউ ম্যারি মি।
.
কথাটা শুনে আনন্দে লাফ দিয়ে উঠে রাফা।আর
চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে:
-হে গায়েস আই ডু ইট।
বলে দৌড়ে গিয়ে মেঘনার হাতের সাথে হাত
মিলায় রাফা।হিমেল বোকার মতো দাড়িয়ে
দাড়িয়ে দেখছিল।তারপর রাফা গিয়ে সব খুলে
বলে হিমেলকে।
রাফা চলে যাওয়ার সময় হিমেল পিছ থেকে
হাতটা ধরে।
.
-দাড়াও।তুমি এইভাবে চলে যেতে পারো না।
রাফার হাসি মুখ বন্ধ হয়ে যায়।আর হাতটা
ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
-হাত ছাড়ো হিমেল।সবাই দেখছে।
-দেখতে দাও।তুমি কেন এমন করলে বলে যাও।
-হাত ছাড়তে বলেছি ছাড়ো।
-ছাড়বো না।
হাত না ছাড়াতে বাম হাত দিয়ে একটা থাপ্পড়
দেয় রাফা।আর সবার সামনে বলে উঠে:
-কি মনে কর তুমি নিজেকে?আমার সাথে প্রেম
করার মতো কি যোগ্যতা আছে তোমার।হেসে ২
টা কথা কি বলেছি তুমি মনে করেছ আমি
তোমার প্রেমে পড়েছি।তোমার মতো ফাউল
ছেলেকে আমি আমার জুতা মুছার জন্যও রাখি
না।
.
কথাগুলা বলে চলে যায় রাফা।ওদিকে গালে হাত
দিয়ে চলে যায় হিমেল।
.
পরেরদিন:
--------
হিমেলের বন্ধু রনি এসে রাফাকে একটা চিঠি
দেয়।তারপর কাদতে কাদতে চলে যায়।চিঠিটা
খুলে পড়তে থাকে রাফা:
.
আসলে ঠিকই বলেছ আমার কোন যোগ্যতা ছিল
না তোমার সাথে প্রেম করার।তুমি হয়তোবা
বাজি ধরে কাজটা করেছ কিন্তু আমার ভালবাসা
তো সত্য ছিল।তোমাকে ঘৃনা করতে আমি
পারবোনা।কারন তোমাকে জুড়ে আমার মনে শুধু
ভালবাসা আছে ঘৃনার কোন জায়গা নেই।তাই
চলে যাচ্ছি বহুদূর।যেখানে তোমাকে ঘৃনা করতে
হবেনা আমাকে।সুখে থেক ভাল থেক।
.
চিঠিটা পড়ে কাদতে লাগল রাফা।আর
নিজেকেই নিজে বলতে লাগল:
-কি ভুল করলাম।যার প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগও
পেলাম না।

বন্ধুত্ব


আবির শোন! তোর সাথে কিছু কথা
ছিল। রিপার পিছু ডাক।
আবির থামলো। কি বলবি তাড়াতাড়ি
বল, আমার কাজ আছে।
.
মাঠে যেতে হবে ওরা আমার জন্য
অপেক্ষা
করছে, যা বলার তাড়াতাড়ি বল।
.
রিপা:মনে হচ্ছে তুই
অনেক ব্যস্ত, যা মাঠে যা বন্ধুদের নিয়ে
আড্ডা দে। না আমার কিছুই বলার নেই।
.
রিপার মন খারপ আবির কে কি যেন
বলতে গিয়েও থেমে গেলো তাই।
.
আবির ও রিপার পাশাপাশি বাড়ি,
একই কলেজের ছাত্র ছাত্রী । দুজন
দুজনের বাসাতে যায়-আসে, আবার
কখনো গল্প আড্ডায় অনেক লম্বা সময়
কাটিয়ে দেয় ওরা।
.
কলেজ থেকে শুরু করে কোচিং সব একই
সাথে করে।
.
ওরা দুজন দুজনের ভাল বন্ধু, ছোট বেলা
থেকে এ পর্যন্ত ওদের মাঝে গড়ে
উঠেছে ভাল
এক সম্পর্ক যা বন্ধুত্বের চেয়ে একটু
বেশী।
.
রিপার অনেক ভাল লাগতে থাকে
আবির কে,
আবিরের ও একটু একটু।
.
আর এই ভাল লাগা থেকেই ভালবাসার
জন্ম রিপার হৃদয়ে। অনেক দিন যাবত
বলবে-বলবে ভাবছে রিপার ভালবাসার
কথা।
কিন্তু ভয়ে ভয়ে আর বলা হয়ে উঠেনা।
.
আবির ও কিছুটা বুঝতে পারে রিপার যে
ওকে ভাল লাগে, কিন্তু আবির থাকে চুপ
চাপ
কিছুই যেনো বুঝেনা!!
.
আবিরের হৃদয় কেনো জানি প্রেম
ভালবাসার প্রতি অনেক অনিহা।
.
সমাজের দেখা এই প্রেম-ভালবাসা
ওকে
যেন অনেক ভাবায়। আবির সমাজের
প্রচলিত প্রেম ভালবাসায় মেটেও
বিশ্বাসিনা।
.
তারপরেও কেন যেন এক গভীর টান
রিপার জন্য।
.
রিপারকে যেকোন ব্যাপারে আবির
সাহায্য
করে। রিপার দুঃখ-কষ্ট, হাসি-আনন্দ সব
ভাগাভাগি করে নেয়।
.
ওদের দু'জনের মাঝে এমন এক সম্পর্ক গড়ে
উঠে যা সঙ্গায়িত করার ভাষা আবির
খুজে পায়না।
.
একদিন আবির ও রিপা পার্কে বসে গল্প
করছে।
.
কথা ছলে হঠাৎ রিপা বলে ফেললো,
আবির আমি তোকে ভালবাসি!!
আমার হৃদয়ে শুধু তুই তোকে ছাড়া আমি
বাচবোনা। তুই আমার জান প্রান সব।
.
বল তুই আমাকে ভালবাসিস কি না?
.
আবির চুপ একদম চুপ
হয়ে গেল, কিছুই মুখ দিয়ে বের হলো
না।
.
আবির রিপাকে বললো, রিপা আমার
মাথা
ব্যাথা করছে। আমি এখন কিছু বলতে
পারছিনা, আমি এখন যাবো।
.
কথা না বড়িয়ে আবির চলে গেলো।
.
সেই রাতে আবিরের ঘুম নেই কাল কি
বলবে
রিপাকে??
.
আবির কিছুই ভাবতে পারছেনা। আবির
শুধু ভাবে। এই ভালবাসা আমাকে এবং
রিপাকে অনেক কষ্ট দিবে।
.
সামান্য প্রেম-ভালবাসার জন্য আমার
বন্ধুত্ব নষ্ট করতে পারবো না। মোহ
ফুরালে ভালবাসা হারিয়ে যাবে।
হারিয়ে যাবে বন্ধুত্ব। না না আমি
কিছুতেই আমার বন্ধুকে হারাতে
চাইনা। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলো
আবির।
.
পরদিন সকাল বেলা আবির রিপাকে
বললো
.
দেখ রিপা আমি তোকে অনেক
ভালবাসি অনেক।
কিন্তু আমরা দুজন বন্ধু সারা জীবন বন্ধু
হয়েই থাকতে চাই।
.
তুই যে প্রেম ভালবাসার কথা বলেছিস
ওটা
আমি পারবো না।
.
তুই আমার বন্ধু আমার দুজন বন্ধু হয়েই
থাকতে চাই।
.
বন্ধু তোকে আমি অনেক ভালবাসি
বলেই ফিরিয়ে দিলাম। আমি চাইনা
কখনো আর আর আমার বিশ্বাস নষ্ট হয়ে
যাক। আমি চাইনা কখনো তুই আমাকে
ভুলে বুঝে অথবা আমি তোকে কখনো ভুল
ভেবে দূরে হারিয়ে যাই।
.
আবির এর কথা গুলো শুনছে আর গড় গড়
করে চোখ দিয়ে আশ্রু ধারা ঝাড়াচ্ছে
রিপা।
.
আবিরের হাত ধরে রিপা বললো।
.
আমি জানতাম তুই আমাকে
ভালবাসিস, আমিও তোকে অনেক
ভালবেসেছিলাম।
কিন্তু আজ আমার আর তুর বন্ধুত্বের
প্রতি ভালবাসা দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে
গেলাম দোস্ত।
.
তবে যদি কখনো আমাকে তোর জীবন
সঙ্গিনী করিস আমি তুর ভালবাসার
দাসি হয়ে থাকবো।
.
আর তুর ভালবাসা, তোকে আপন করে
পাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনবো।
.
_________________
সত্যি অবাক লাগে বন্ধুত্ব এমন একটা
জিনিষ
ভালবাসাও তার কাছে হার মানে।
.
যদি কখনো কেউ এমন বন্ধু জীবনে পেয়ে
থাকেন তাহলে সত্যি আপনি অনেক
ভাগ্যবান/ভাগ্যবতী।

বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৫

ভালোবাসা কোন সস্তা জিনিস না


...
সপ্তাহে ২ বার ডেটে গেলে বা ১০
বার I Love You বললেই
ভালোবাসা হয় না ...
টাইমলাইনে প্রতিদিন পোস্ট করলেই
ভালোবাসা
প্রকাশ পায় না ...
"জানু, বেবি" -
সম্বোধন করলেই বুঝা যায় না সে
আসলেই তোমাকে
ভালোবাসে কিনা !!
…
ভালোবাসতে "CARE" লাগে ...
ভালোবাসতে "SHARE" লাগে !!
তোমাকে যে আসলেই ভালোবাসে,
সে তার দিনের প্রতিটা
মূহুর্তের কথা তোমার সাথে SHARE না
করে পারবে না…
...
তার ভেতর খচ খচ করতে থাকবে ...
কথাগুলো বলার জন্য সে উশখুশ করতে
থাকবে ...
সবকিছু না বলা পর্যন্ত,
সবকিছু না SHARE করা পর্যন্ত সে একদম
শান্তি
পাবে না !!
…
তোমাকে যে আসলেই
ভালোবাসে,সে তোমার দিনের
প্রতিটা মূহুর্তে তোমার
CARE না করে পারবে না ... সকালে ঘুম
ভাঙতেই
বালিশের নিচ থেকে মোবাইলটা
হাতড়ে বের করে সে
তোমার খোঁজ নিবে ...
ক্লাসের ফাঁকে, কাজের ফাঁকে হঠাৎ
তার মনে হবেঃ
"আচ্ছা, ও কি করতেছে এখন ??" ...
দুপুরের খাবারটা মুখে তোলার আগে
সে জিজ্ঞেস
করবে তুমি খেয়েছো কিনা ...
...
সে ব্যস্ততার অজুহাত দেখাবে না ...
বরং সে তোমার
CARE নিতেই ব্যস্ত থাকবে !!
......
সে শুধু হাসির ইমো আর কান্নার ইমো
দিবে না ...
তোমাকে সত্যি সত্যি হাসাবে ... ...
এবং তোমাকে সত্যি সত্যি কাঁদাবে
...
এবং তারপর আলতো করে গাল থেকে
অশ্রুটুকু মুছে
দিবে !!
ভালোবাসা খুব কঠিন না ...
বরং ভালোবাসার মর্ম বুঝে
এরকম মানুষ

কথাগুলো সত্য কি না ???


○ ভালবাসার মানুষ যত খারাপই
হোক
আপনার কাছে
সে সব
সময়ই ভালো.....
.
○ তার সাথে আপনার সম্পর্ক শেষ
হওয়ার
পরও কেউ
যদি
তাকে নিয়ে খারাপ কোন মন্তব্য
করে
তখন আপনি
খুব
রেগে যান হয়তো কাউকে বুঝতে
দেন
না.....
.
○ আপনার বিপরীত লিঙ্গের কারো
সাথে কথা
বলার সময়
খুজে বের করার চেষ্টা করেন তার
সাথে আপনার
ভালবাসার
মানুষটার কি কি মিল আছে.....
.
○ হঠাৎ তার পছন্দের কোন জিনিস
যদি
আপনারসামনে পরে
যায় আপনি চেষ্টা করলেও তার কথা
মনে
না করে
থাকতে
পারবেন না.....
.
○ তার সাথে যে জায়গা গুলোতে
আপনি
বসে
থাকতেন ঐ
জায়গা গুলোতে গেলে সব সময়
সেজায়গাটাই বসার
চেষ্টা
করবেন যেখানে আপনার ভালবাসার
মানুষ
বসতো.....
.
○ তার কাছ থেকে পাওয়া যে কোন
জিনিস এখনও
আপনার
কাছে আছে যা আপনার পড়ার বই
গুলোর
চেয়ে ভাল
অবস্থায় আছে..... (যদি ফেরত না
দিয়ে
থাকেন আর
ফেলে না দিলে)
.
○ ঘুমাতে যাওয়ার আগে তাকে ভুলে
হলেও একবার
মনে করেন..
যখন কেউ ভালোবাসার
মানুষটার সাথে
থাকে তখন সবারই
খুব ভালোলাগে...
তখন কেউ এটা ভাবেনা
যে এই মুহূর্ত গুলো
একটু পরেই অতীত হয়ে যাবে,
আর রয়ে যাবে স্মৃতির পাতায়..
যতদিন সে সাথে থাকবে
এই স্মৃতি গুলো
হাসাবে,আর যখন সে
থাকবেনা তখন এই
স্মৃতিগুলোই আবার
কাঁদাবে...

বউ গেলে বউ পাবে কিন্তু বাবা গেলে তো আর বাবা পাবে না

স্ত্রী অপর্না ব্যাগ গুছিয়ে রেডী হচ্ছে।
- কি হলো? ব্যাগ গুছাচ্ছ কেনো? কোথায়
যাচ্ছ?
- কই আবার? আমার বাবার বাড়ি যাচ্ছি!
- কেন?
- কেন তুমি বুঝো না? গত এক মাস ধরে বলছি
তোমার
বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিতে, তা তো
তোমার কানেই যায় না! এই বাড়ীতে হয় তোমার
বাবা থাকবে নয় আমি থাকবো!
- বাবা থাকলে সমস্যা কি? (মিনমিন করে বললো
সুমন)
- তোমার বাবার কাশির শব্দে ঘুমাতে পারিনা! কি
দরকার এই বুড়োটাকে বাড়িতে রেখে? পাঠিয়ে
দাও বৃদ্ধাশ্রমে। রুমটা ভাড়া দিলেও তো কিছু টাকা
পাওয়া যেতো!
.
অপর্নার
কথা শুনে তাজ্জব বনে যায় সুমন!
ভালবেসে বিয়ে করেছিল অপর্নাকে। শিক্ষিত,
সুন্দরী সব গুণই ছিল অপর্নার মধ্যে। সুমনের মা
মারা গেছে অনেক আগেই। সুমন ছিল একমাত্র
ছেলে। সুমনের মুখের দিকে তাকিয়ে আর
বিয়ে করেননি ওর বাবা। সরকারি একটা চাকরি করতেন
তিনি।
.
- কি হল কথা বলছো না কেন? স্মৃতি হাতরে
বেড়াচ্ছিল সুমন। অপর্নার কথায় চমকে উঠলো।
- কি বলবো?
- কি বলবো মানে, তোমার কি সিদ্ধান্ত বলো?
- সিদ্ধান্ত!
আমি বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবো না, এইটাই
সিদ্ধান্ত! (জোর দিয়ে বললো সুমন)
- আচ্ছা। থাকো তুমি তোমার বাবাকে নিয়ে আমি
চললাম!
.
ব্যাগ নিয়ে হনহন করে করে বেরিয়ে গেলো
অপর্না! সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে সুমন! একদিকে
বিবাহিত
স্ত্রী অন্যদিকে জন্মদাতা পিতা। ধীর পায়ে বাবার
রুমে এসে ঢুকলো সুমন। তখনই মনে পড়লো
বাবা কিছুদিন যাবত অসুস্থ। বাবা বিছানায় শুয়ে আছে।
বিছানার পাশের চেয়ারে বসলো সুমন।
.
- বাবা সুমন? (ক্ষীণ
কন্ঠে ডেকে উঠলো সুমনের বাবা)
- জী, বাবা?
- একটু পানি দিবি বাবা?
টেবিল থেকে পানি এনে দিলো সুমন।
- বুকের ব্যথাটা খুব বাড়ছে বাবা!
- আচ্ছা, কাল সকালে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।
- সকালে না তোর অফিস থাকে?
- একদিন অফিসে না গেলে কি হবে?
.
পরম যত্নে বাবার গায়ের কাঁথাটা ঠিক করে দিল
সুমন। ঠিক যেমনিভাবে তার বাবা ছোটবেলা
সুমনের কাঁথা ঠিক করে দিত। চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে
নিয়েছে সুমন। বউ গেলে বউ পাবে কিন্তু বাবা
গেলে তো আর বাবা পাবে না