রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৫

বিশ্বাস ঘাতক/ ব্ল্যাক মেইল


এই যে ভাইয়া শুনছেন?
.
- চায়ের দোকান থেকে ইমরান পেছনে ফিরে! জী, আমাকে বলছেন?
-হ্যা,আপনাকেই বলছি।
.
- (ইমরান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে)
আপনি এতো রাতে একা এখানে?
- হ্যা, কিন্তু আপনি কোথায় যাচ্ছেন? ( মেয়টির প্রশ্ন)
- ঘুরতে গিয়েছিলা, এখন বাসাই ফিরছি!
- ওহ, একটা কথা ছিলো
.
-কি বলবেন বলেন, আমার তাড়া আছে
- এইটা কি আপনার গাড়ি?( পাশে)
.
- হ্যা। কিন্তু কেন? আর আপনার হাতে ওইসব কি?
.
- এগুলো রক্ত,
- রক্ত কেন?
.
আসলে কিভাবে বলব বুজতে পারছিনা। (উত্তেজিত কন্ঠে)
.
- আপনি এতো উত্তেজিত হচ্ছেন কেন? শান্ত হন! আর কি হয়েছে খুলে বলুন?
.
- আসলে আমার একটা বড় বিপদ হয়েগেছে,! ( কান্না কন্ঠে)
- কি বিপদ! খুলে বলুন!
- আমার ছোট ভাইয়াটার গত কয়েক দিন আগে ক্যান্সার রোগ ধরা পড়েছে. আর কাল রাতে তার শরিরের ভিবিন্ন অংশ দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়েছিল।।
ডাক্তার বলেছিলো আজ রাতে ৩:০০ টার ভেতর রক্ত জোগাড় করে অপারেশন না করলে মারা যেতে পারে।
কিন্তু দেখুন রক্ত জোগাড় করেছি ঠিকই কিন্তু হসপিটাল যাওয়ার জন্য গাড়ি পাচ্ছিনা। এখন কি করি ভেবে পাচ্ছিনা। ( মায়া কন্ঠে)
.
- কোন হসপিটাল?
-.................... এই।
.
.
-ইমরান ঘড়ির দিকে তাকালো, তখন রাত ১: ০৫ মিনিট.. ( oh my God) অপারেশনেরতো আর বেশিক্ষন বাকি নেই) আর................. এই হসপিটালতো এখান থেকে অনেক দূর, প্রায় ১ ঘন্টা ২৫ মিনিটের রাস্তা। আর আমার বাসার উল্টো দিকে!
.
- হ্যা। কিন্তু দেখুন রাস্তায় একটা গাড়িও নাই। মনে হই আমার ভাইয়াটাকে বাঁচাতে পারবোনা।।। ( গভির কান্নার কন্ঠে)
-
- ইমরান ভাবছে,( এতো রাতে একা, এই দিকে মেয়েটি সেই কখন থেকে কান্না করতেছে,।
খুব মায়া হচ্ছে তার, লিপ্টটা দিলে হইত একটা জীবন বাঁচবে!)
-
- কি ভাবছেন?
- কিছুনা, চলুন!
-কোথায়?
- হসপিটাল যাবেন্না?
-হ্যা! কিন্তু কিভাবে?
- কিভাবে আবার আমার গাড়িতে করে!
- সত্তিই?
-হ্যা,গাড়িতে উঠুন।...
...
...
...
...
...
...
অতঃপর কিছুদুর যাওয়ারপর।
সত্তিই আপনার এই উপকারের কথা আমি ভুলবনা।
- আরে নাহ কি বলেন,এটা আমার কর্তব্য, মানুষ হিসেবে মানুষকে সাহায্য করবেই এটাই স্বাভাবিক..
.
- সত্তিই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!
-আপনার নাম কি?
- ইমরান! আপনার???
- আমার নাম- নাদিয়া।
- অহ,
- ভাইয়া একটা কথা!
- কি কথা?
- সামনের বাজারে আমার কিছু আত্মীয় আছেন, ওরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে, আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে উনাদের কে আপনার গাড়িতে করে নামিয়ে দিবেন?
- কিছু মনে করার কি আছে! অসুবিধা নেই
-
-
- দুই মিনিট পর নাদিয়া ফোন করে তাদেরকে রাস্তার পাশে এসে দাঁড়াতে বলে,& কালো মাইক্রো দেকলে হাতের ইশারা করতে বলে!...
.
.
এর কিছুক্ষণ পর বাজারে এসে গাড়ি থামে,
আর গাড়ি থেকে মাত্র কয়েক ফিট দূরে কয়েকজন লোক যেন কিসের জন্য অপেক্ষা করছিলো।
.
নাদিয়া দেখেই আর চিনতে বাকি রইলনা এরাই তার আত্মীয়, ( যেহেতু সে সামনেই বসা ছিলো)
-
.
অতঃপর নাদিয়া গাড়ি থেকে নেমে
অই লোক গুলো হাতের ইশারায় গাড়ির নিকট আসতে বলে।
.
- ইতিমধ্যে ইমরান ও ড্রাইভিং শিট থেকে নেমে নাদিয়া মেয়েটির পাশে এসে দাঁড়ায়!
.
- লোক গুলো কাছে আসা মাত্রই
( কি রাফিসা এতক্ষন লাগছিলো কেন?)
-
- ওপ্স! আর বলিয়েন্না
রাস্তায় একটা গাড়িও নেই, কিছুক্ষণ পর পর যা কয়েকটা আসছিলো তারাও যেতে বিমত,
!
অবশেষে এই ভাইয়াটার দেখা পেলাম,
আর বিষয়টা পুরোপুরি খুলে বললাম!
তিনিও বিষয়টি বুঝে লিপ্ট দিতে রাজি হলেন।
,- বাই দ্যা ওয়ে, ওনার নাম " ইমরান"
- সবাই সালাম জানালো " ইমরানকে"
.
ইমরান ভাইয়া ওনার নাম -( কাদের) পাশের জন রফিক, আর ইনি দেলোয়ার,!
-
- সবাই একে অপরের সাথে পরিচিত হলো!
- এই রাফিসা আমাদের এখান দেরি করা ঠিক হবেনা, আমাদের বরং যাওয়া উচিৎ,
.
- ঠিক! চলুন যাওয়া যাক( ইমরান)
.
.
.
রাত ২:১১
নিস্তব্ধ পরিবেশ,
পাহাড়িয়া আঁকাবাঁকা রাস্তা, রাস্তার দুই ধারে পাহাড়,, জন শুন্যহীন জায়গা, কোথায় মানুষের বসবাসের চিহ্ন নেই, মাঝে মধ্যে দু একটি নাইট বাস, আর ঝি ঝি পোকার ডাক, ইমরানের মনে ভয় একটু ভয় জন্মাচ্ছিল
।
.
. - ইমরান সাহেব কি ভাবছেন?
- তেমন কিছুনা! ছোট্ট একটা কথা!
.
-বলুন কি কথা!
- আচ্ছা আপনারা নাদিয়াকে রাফিসা বললেন যে?
- হ্যা ওর না.......
- , আসলে ওরা আমাকে আদর করেই রাফিসা বলেই ডাকে ( নাদিয়া কথা কাটালো)
.
. ওহ
.
- ভাইয়া পানি খাবেন? ( দেলোয়ার)
- না! তেষ্টা পাইনি!
- অহ!
- ইমরান সাহেব আপনি smoke করেন?( মাঝ বয়সি রফিক নামের লোকটা)
- হ্যা! তবে মাঝে মাঝে!
- খাবেন নাকি একটা? বিদেশি কিন্তু ( রফিক)
.
- ওহ! খাওয়া যায়.
- এই নিন বলেই রফিক সিগারেটের পেকেট থেকে একটা সিগারেট ইমরানের দিকে বাড়িয়ে দিলো।
- ইমরান হাসি মুখে গ্রহন করে!
- লাইটার টাও বাড়িয়ে দিলো ( কাদের)
- সিগারেটে আগুন দিয়ে " একটা শুকটান দিলো! (ইমরান)
- কেমন ইমরান সাহেব? ( দেলোয়ার)
- হুম, বেশ!
.....
..
...
...
....
.....
....
চারদিকে পাখির ডাক, হালকা রোদের আলো আর সকালের ঠান্ডা বাতাসে ইমরানের ঘুম ভাঙল. অবশ্য এটা ঘুম কিনা সন্দেহ!
- ইমরান চোখ কচলাতে কচলাতে কি আপনারা সবাই কোথায় গেলেন? নাদিয়া আপনার ভাইয়ার কি অবস্থা?
- কিন্তু কারো সাড়াশব্দ নেই!
- কি হলো কথা বলছেন্না কেন?
- কিন্তু কারো শব্দ নেই
চোখ মেলেই দেখে সে পাহাডের অনেকটা নিছের একটা গাছের মুন্ডির সাথে আটকে আছে!
ইমরান ভয় পেয়ে উঠে দাড়ানোর চেস্টা করে কিন্তু না কোন ভাবেই পারছেনা!
ইমরান লক্ষ্য করল তার ডান পায়ের হাটু থেকে এখনো হালকা রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে।।
আর মাথার পেছন থেকে হালকা রক্ত গাড় দিয়ে বেয়ে পড়ছে!!!!
.
.
ইমরানের আর বুঝতে বাকি রইলনা ওরা ছিলো ব্ল্যাক মেইল পার্টি, আর তারা সিগারেট কে তাদের প্রধান হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করেছে।
.
.
- সমাপ্ত
.
.
বিঃদ্রঃ- কাউকে সহজে বিশ্বাস করা ঠিক না,।

অপূর্ন তৃপ্তি


→সাবরিনা সবে মাত্র কলেজে ভর্তি
হয়েছে কলেজের জীবনের শুরু থেকে এই
পর্যন্ত অনেক ছেলে থাকে প্রপোস করেছে
কিন্তু কেউ তাঁর মনের মত হয়ে উঠেনি।
→আজ কলেজের এক অনুষ্টানে একটি
ছেলেকে দেখে সাবরিনার অনেক ভালো
লেগে যায় একতায় তাঁর স্বপ্নে দেখা সেই
রাজকুমারের মত।
→কিছু দিন পর পরীক্ষা চলে আসে তাই
থাকে আর খুঁজা হয়ে উঠেনি।
→আজ কেনো জানি ছেলেটার জন্য মনটা
একটু বেকুল হয়ে উঠেছে।
→এই দিকে ক্লাসে আসে দেখে স্যার ও
প্রায় ১০ মিনিট আগে খাতা দিয়েছে।
→কিছুতেই যেনো পরীক্ষাতে মন বসতেছে
না বার বার সেই ছেলেটির মুখ চোখের
সামনে বেসে উঠছে।
★★
★★
→এই ভাবে কিছু দিন যাওয়ার পর পরীক্ষা
শেষ হয় এখন ত কলেজে ও বন্ধ কি করে
ছেলেটার খুঁজ নিবে।
→কথা গুলো একা একা ভাবছে সাবরিনা
আর মনে মাঝে কেনো জানি অজানা একটি
কষ্ট অনুভব হচ্ছে।
→সাবরিনা এখনো ফ্রেশ হসনি(রাহেলা
বেগম)
→আম্মু আমি যাবনা তুমি যাও।
→যাবিনা মানে কাল ত তর মামা বিয়ে
আর এখন বলছিস যাব না।
→অনেক রিকুয়েষ্ট করার পর সাবরিনা
রাজি হয়।
→বিয়ে বাড়িতে সবাই আনন্দের মেতে
উঠেছে কিন্তু সাবরিনা কেনো জানি মন
মরা হয়ে আছে।
↓
→বিয়ে বাড়িতে হঠ্যাত্ তাঁর সেই
রাজকুমার কে দেখতে পায় সাবরিনা
নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পাচ্ছেনা।
→অপলক দৃষ্টিতে থাকিয়ে কিছুতেই
ছেলেটির দিক থেকে চোখ ফিরাতে
পাচ্ছে না।
→ছেলেটিকে দেখার পর থেকে মনের মাঝে
সুখের বৃষ্টি হচ্ছে এই সুখের আশায় এত দিন
অপেক্ষায় ছিলো।
↓
→তার পর সাবরিনা খুঁজ নিয়ে জানতে
ছেলেটার নাম সুমন তাদের কলেজে অনার্স
৩য় বর্ষের ছাত্র।
↓
→এর বেশি তেমন কিছু জানা হয়ে উঠেনি।
→কিছু দিন পর সাবরিনার ফেইসবুক
আইডিতে সুমন নাম থেকে রিকুয়েষ্ট আসে
এমনিতে অপরিচিত কারো রিকুয়েষ্ট
এক্সচেপ্ট করে না।কি যেনো মনের
রিকুয়েষ্টটা এক্সচেপ্ট করে পেলে।
→এক্সচেপ্ট করতেই মেসেজ আসে কেমন
আছো।
→ভালো কে আপনি?
→আমি সুমন।
→এই ভাবে কিছু দিন চ্যাটিং হওয়ার পর
সাবরিনা জানতে এইটা তার স্বপ্নের
রাজকুমার 'সুমনের' আইডি।
→তার পর থেকে আর বেশি বেশি চ্যাটিং
হত তাদের মধ্য।
→সাবরিনা এক দিন সুমনকে দেখা করতে
বলে অনেক রিকুয়েষ্ট এর পর সুমন রাজি।
→সাবরিনা সুমনকে দেখে সব লাজ লজ্জা
ভুলে গিয়ে বলে উঠল সুমন আমি তোমাকে
ভালোবাসি।
↓
→আমি তোমাকে ভালোবাসতে পারবনা
আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি।
→আর তুমি আমার জাস্ট বন্ধু মাত্র এর বেশি
কিছু তোমাকে নিয়ে ভাবিনী।বলে এখান
থেকে সুমন চলে যায়।
→সাবরিনা শুধু সুমনের দিকে থাকিয়ে
আছে কথা বলার কোনো শক্তি পাচ্ছেনা।
→মনে হচ্ছে পৃথিবীর চার পাশ যেনো
অন্ধকার হয়ে আসছে।
↓
→এর পর অনেক দিন কেটে যায় সুমনের
সাথে কোনো প্রকার দেখা হয়নি।
সাবরিনা এখন ঢাকা মেডিকেল ছাত্রী।

খোলা চিঠি.......


প্রিয় নিরুপমা,
তোমাকে ভালবাসার আগে জানতাম না স্বপ্নগুলো
ভাঙ্গার কষ্ট কি, মানুষ কেন এত কষ্ট পায় স্বপ্ন ভেঙ্গে
গেলে, আর জানবোই বা কেমন করে বলো তো ? তোমার
আগে অন্য কাউকে নিয়ে তো এত স্বপ্ন দেখিনি, অন্য
কাউকে ভালবাসি নি, তোমাকে নিয়েই তো স্বপ্ন
দেখার সুচনা করলাম। আর তুমি স্বপ্ন গুলোর সুচনা করেই
চলে গেলে?
.
এখন বুঝি স্বপ্নগুলো ভাঙ্গার কষ্ট কি, তুমি আমাকে
ভালোবেসে যা দিয়ছো, তা হয়তো কোন ভালবাসার
মানুষ তার ভালোবাসার মানুষটিকে দেয় না, আসলে
তোমার ভালবাসার প্রতিদান দেয়ার ধরনটাই
এমন,তাইনা? তাই নাহলে কি কেউ কাউকে বুকভরা
ভালবাসা নিয়ে জীবন ভরা কস্ট দেয়?
.
তোমাকে একটা অনুরোধ, তুমি কোনদিন কারো স্বপ্ন
হবার ইচ্ছে করো না, কেন জানো, কারন তুমি স্বপ্ন
ভাঙ্গতে জানো কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে জানো
না, হ্যা স্বীকার করছি তুমি অনেক ভাল সুখের স্বপ্ন
দেখাতে পারো, কিন্তু সেগুলো অপুর্ন রেখে নিজের
সুখের জন্য ভালই ভাবতে পারো। তোমার সুখের জন্য
তুমি যে কাউকে যখন তখন আপন করতে পারো।
.
নিরুপমা তুমি হয়তো জানো না মানুষের জীবনের
কষ্টকর মুহুর্ত গুলোর মধ্যে একটি হল,
"তুমি দেখছো তুমি যাকে ভালবাসো সে অন্য কাউকে
ভালবাসে "। পৃথিবীতে কারো আপন হওয়াটা খুব সহজ
কিন্তু কাউকে আপন করে পাওয়াটা খুব কঠিন। আমিও
পাইনি তোমার আপন হয়েও তোমাকে আপন করে।
"তোমারই মুখটা মনে পড়ে যখনি,
মনে হয় নেই আলো নেই,
আমি তুমি ছাড়া নেই ভালো নেই........
তোমাকে ফেরাতে পারে বিধাতারও নেই সেই জোর,,
আজ তুমি শুধু নেই মোর".....................
.
তুমি জানো আজ আমার প্রতিটা কষ্ট কোন একসময়
তোমার আমার ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছিলো, বিশ্বাস করো
তোমাকে ছাড়া আমি এখনো ভালো নেই, আমি ভাল
থাকতেও পারি না, কিভাবে ভাল থাকবো বলো আমার
ভাল থাকার মাধ্যমটাই তো তুমি ছিলা।
আমি জানি আমি কখনো তোমাকে বুঝাতে পারবো না
কতোটা ভালোবাসি তোমায়, এমনকি এইও জানি
তোমাকে কখনো আমার করে পাবো না। তবে তোমাকে
যে ভালোবাসি তা তোমাকে বলতে পেরে ক্ষনিকের
সুখ টুকু আমি পেয়েছি ভালোবাসা নামের প্রবাদ
থেকে, তার সমতুল্য পুরো পৃথিবী আমার কাছে।
.
জানিনা তুমি আমাকে আদৌ ভালোবেসেছিলে কিনা
তবে এই দেহে যতদিন প্রাণ থাকবে, ততদিন তোমায়
ভালোবেসে যাবে, কারণ একটাই তুমি ছাড়া এই হৃদয়
ঘরে আর কখনো কেউ আমার অনুভুতি আবেগকে ছুঁয়ে
দেখতে পারবে না। যা ছিল সব স্বপ্ন তোমার জন্যই
তুলে রেখেছি, তুমি ছিলে তুমি আছ তুমি থাকবে........
.
নিরুপমা
কিছু কথা আছে
মনে মনে রয়,
কতটা স্বপ্ন দেখলে?
স্বপ্নটা সত্যি হয়।
কতটা অশ্রু ঝরালে?
কান্না ভোলা যায়।
কতটা ভালবাসলে?
ভালবাসার মানুষটিকে পাওয়া যায়।
বলতো??

✎ আবেগ Vs ভালোবাসা ✎


আবেগ হল, পছন্দের মানুষটিকে একপলক না দেখে
থাকতে না পারা।
ভালোবাসা হল, পবিত্র ভাবে ভালোবাসার জন্য
প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে দূরে থাকা।
.
আবেগ হল, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা।
ভালোবাসা হল, ফোনে কথা বলে সময় নষ্ট না করে
নিজের ক্যারিয়ার ঠিক করা।
.
আবেগ হল, তোমাকে না পেলে আমি বাঁচবোনা।
ভালোবাসা হল, সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষটির
জন্য নিজেকে জীবিত রাখা।
.
আবেগ হল, ঘরের কোণায় নিশ্চুপে কেঁদে কিংবা
নিকোটিনের ধোঁয়ায় নিজেকে তিল তিল করে শেষ
করে দেয়া।
ভালোবাসা হল, বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নতুন করে
সবকিছু শুরু করা।
.
আবেগ হল, ঘন ঘন সন্দেহ করে সবসময় একটা বাড়তি
টেনশনের মধ্যে থাকা।
ভালোবাসা হল, পবিত্র মনে একে-অপরকে বিশ্বাস
করা।
.
আবেগ হল, হিতাহিত জ্ঞানশুন্য হয়ে উল্টাপাল্টা
কাজ করে ফেলা।
ভালোবাসা হল, প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভেবচিন্তে
নেয়া, বড়দের মতামত নিয়ে কাজ করা।
.
আবেগ হল, সবসময় ভুল করে, ভুল মানুষকে ভালোবেসে
ফেলা।
ভালোবাসা হল, সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষটির
জন্য পবিত্র মনে অপেক্ষা করা।
.
✔বন্ধুরা, আজ চারদিকে এত ব্রেকআপ, সুইসাইড, অনেক
মেয়ে সতীত্ব হারাচ্ছে শুধুমাত্র আবেগের বশে
সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে। আজ চারদিকে এত
হাহাকার শুধুমাত্র ভুল মানুষকে অন্ধভাবে
ভালোবেসে ফেলার কারণে। কাউকে দেখে
ভালোলাগা/ ভালোবাসা দোষের কিছু না, দোষ হয়
তখন, যখন অন্ধভাবে ভালোবেসে আবেগের বশবর্তী
হয়ে উল্টাপাল্টা কাজ করা হয়।
বন্ধুরা আবেগ দ্বারা নয়, বিবেগ দ্বারা সিদ্ধান্ত
নিতে শিখো, নিজেকে কন্ট্রোল করতে শিখো। আর
একটি কথা, নিজের মহামূল্যবান ভালোবাসাকে
নিজের কাছেই আগেল রাখো, সেখান থেকে একটু একটু
করে প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসা দাও, তাহলে
ভালোবাসা ধীরে ধীরে খাঁটি হবে, ভালোবাসার
মানুষটিও তোমার সেই ভালোবাসা পাওয়ার জন্য
ব্যাকুল হয়ে থাকবে, আর তুমিও কষ্ট পাবেনা।

সেই কথাগুলো


.
১
.
সপ্ন দেখে আসিফের ঘুম ভেঙে গেল। এই সপ্নটি আসিফ গত দুই তিনদিন ধরেই দেখছে। সপ্নটিতে রিমির অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।
.
কয়েকদিন আগে রিমিকে বলল
-তোর বিয়ে হবে কবে রে?
-কেন কি হয়েছে?
-তোর বিয়ে হয়ে তোকে বিদায়ের সময় তুই কাঁদবি। আর আমি তা দেখে হাসব।
-তুই তো একটা হারামি। অন্যের দুঃখে নিজে হাসবি।
-হারামিরা এমনই হয়। আর তোর সাথে কথা নেই। থাক, আমি গেলাম।
.
রিমির সাথে এইরকম বিয়ের কথা বলে অনেকবার ঝগড়া করেছে। রিমি রেগে গেলেও আসিফ মজা নিয়েছে।
.
অথচ আজ রিমির বিয়ের সপ্ন দেখে আসিফের কেন এমন হবে? আসিফ আর এমন হতে দিতে চায় না।
.
আসিফ ভাবির ডাকে বাস্তবে ফিরে এল। আসিফ বলল
-তুমি কখন এলে ভাবি?
-এসেছি তো অনেক্ষন। তোমাকে ডাকছি কিন্তু তোমার কোন পাত্তাই নেই।
-আসলে আমি খেয়াল করি নি।
-খেয়াল করবে কিভাবে। তুমি তো ভাবনার জগতে ডুবে ছিলে। তা কি এত ভাবছো?
-একটা জিনিস আমার পিরা দিচ্ছে।
-কি জিনিস সেটা?
-মনে হচ্ছে আমি একজন মেয়েকে হারিয়ে ফেলতে চাই না। সারাজীবন তাকে আমার কাছে ধরে রাখতে চাই। কিন্তু তার প্রতি আমার ভালবাসা আছে কি না জানি না।
-আচ্ছা এর সমাধান আমি দেব।
-এখন খেতে আসো।
.
২
.
রিমি কানের ভেতর হেডফোন দিয়ে গান শুনছে। হঠাৎ গান বন্ধ হওয়ায় রিমি মোবাইলের স্ক্রিনে তাকালো। আর তাকিয়ে বুঝতে পারলো আসিফের ফোন।
.
প্রথমবার কেটে দিলেও পরেরবার রিসিভ করল। রিমি বলার আগেই আসিফ বলল
-কিরে ফোন কেটে দিস কেন?
-আমার ফোন তাই আমার ইচ্ছা। তাতে তোর কি?
-আজ তুই ঝগড়া করতে চাইলেও আমি ঝগড়া করবো না।
-কেন রে? তুই এত ভাল কবে থেকে?
-এখন থেকে। কারন আমার প্রয়োজনে ফোন করেছি।
-তা তোর কি প্রয়োজনে ফোন করলি?
-আমার সাথে এক জায়গায় যেতে পারবি?
-কোথায়?
-একটা মেয়েকে প্রোপোস করতে।
-তা কার জন্য?
-কার আবার! আমার জন্য। তুই যাবি নাকি বল।
-যাবো না।
-মনে থাকে যেন এই কথা।
-আচ্ছা যাবো যাবো।
-আচ্ছা বিকেলে আমাদের কলেজের সামনে ওই কোচিং সেন্টারের ওখানে চলে আসবি।
-আচ্ছা।
.
৩
.
আসিফ অনেক সময় ধরে রিমির জন্য দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু রিমির কোন খবর নেই। মনেহয় রিমি নিজে থেকে দেরি করে আসছে।
.
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরে রিমির দেখা মিলল। আসিফ কাছে গিয়ে বলল
-তোর আসতে এত সময় লাগে? আমি তোর জন্য অপেক্ষা করছি।
-আমার জন্য অপেক্ষা করার কি আছে?
-জীবনের প্রথম তো। তাই সাহস পাচ্ছি না।
-মেয়েটির সম্পর্কে কিছু জানিস?
-নাহ।
-মেয়েটির সম্পর্কে কিছু জানা নেই। আর তাকে তুই প্রোপোস করতে এসেছিস।
-আরে জানতে জানতে যদি অন্য কেউ বুকিং দেয়।
-তা ঠিক। আচ্ছা তুই যা।
-আমি যেতে পারবো না।
-যা বলছি।
.
৪
.
আসিফকে পাঠিয়ে দিয়ে রিমি দুরে দাঁড়িয়ে আছে। আসিফের অন্য কারো প্রতি ভালবাসার কথা শুনে রিমির মনেহচ্ছে আসিফকে সে নিজের করে নিলেই পারতো। কিন্তু দেরি করে ফেলায় বুঝি তা আর হল না।
.
আসিফের অন্য কারো প্রতি ভালবাসা দেখে কেন যানি নিজেকে নিঃসঙ্গ লাগছে। আসিফের কি কখনও রিমির প্রতি ভালবাসা জেগেছিল। একথা জানা হয় নি।
.
এইরকম অনেক ভাবনা রিমির মনের ভেতর ঘুরে ফিরে আসছে। হঠাৎ আসিফের ডাকে রিমি ঘুরে তাকালো। আসিফ বলল
-আমার আর ওই মেয়ের সাথে প্রেম করা হবে না।
-কেন কি হয়েছে?
-ওই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।
-কি!!!
.
আসিফের দিকে তাকিয়ে রিমি চুপ হয়ে আছে। মনেহচ্ছে আজ রিমি আসিফকে ভালবাসার কথা জানাতে পারে। রিমি বলল
-আমার সাথে প্রেম করবি?
-কি বললি!
-হ্যা। আমার সাথে প্রেম কর। দেখ আমি ওই মেয়ের চেয়ে কম সুন্দরি হতে পারি। কিন্তু ওই মেয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালবাসবো।
-ধুর। আমি তো তোর বন্ধু।
-বন্ধু ছিলি। কিন্তু এখন প্রেমিক হবি।
.
আসিফ কিছু সময় চুপ থেকে বলল
-তুই ভেবে বলছিস তো?
-হ্যা ভেবে বলছি। আমি অন্যকাউকে বিয়ে করতে চাই না। আমি তোকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু তুই সেটা কখনও বুঝিস নি।
-এখন তো বুঝিয়ে দিলি। আমিই তাহলে তোর স্বামি হবো।
-আচ্ছা। তাহলে তুই আমার প্রেমিক। আমি এখন তোর কাধে মাথা রেখে বসে থাকব।
.
৫
.
রিমি আসিফের কাধে মাথা রেখে বসেছিল।হঠাৎ একজন বলল
-বাহ। এখনই আমার দেবরের কাধে মাথা রেখে ফেলেছ।
রিমি তাকিয়ে দেখে সেই মেয়েটি। রিমি বলল
-আপনি!! আসিফ তো আপনাকে প্রোপোস করতে গিয়ে বিবাহিত দেখে আমাকে প্রোপোস করল।
-বিবাহিত না হলে আসিফের ভাবি হলাম কিভাবে?
.
রিমি আসিফের দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে বলল
-মানে?
-মানে উনি আমার ভাবি। তুই আমাকে ভালবাসিস নাকি সেই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম না। আর নিশ্চিত নাহলে তো তোর সাথে প্রেম করা যায় না। তাই প্রোপোস করার নাটক সাজিয়েছি।
-কি! তোর আজ খবর আছে।
-এবারের মত মাফ করে দে।
-প্রেমিক বলে মাফ করলাম। আর তুই আজ মনের কথাগুলো বলতে দিয়েছিস তাই মাফ।
-যাক বাঁচলাম।
.
আসিফ রিমি কেউ কাউকে সেই ভালবাসার সেইকথাগুলো যেকথা কখনও বলে দেখে নি। তবে কোন এক পরিবেশে কথাগুলো বলা হয়ে গেল।

অপেক্ষায় আছি


এখনো মেয়েটির প্রোফাইলের নামের পাশে সবুজ বাতি জ্বলছে।
হ্যা মেয়েটি এখনো অনলাইনে আছে। রুমা আক্তার নামের এই আইডিটি বারবার চেক করছে ইরফান! ম্যাসাজ বক্সে কিছু একটা লিখে আবার ব্যাক বাটনে চাপছে ইরফান। কিছুক্ষন পর আবার ফরওয়ার্ড বাটন চাপছে। কিন্তু ম্যাসাজ করার সাহস পাচ্ছে না।
.
কয়েকদিন আগে তো এমন হতো না! তখন তো সবসময় চ্যাটিং হতো। কিন্তু ইদানিং কেনো যেনো ম্যাসাজ করতে বুকে কম্পন শুরু হয়।
.
মেয়েটির নাম রুমা আক্তার। ফেসবুকেই পরিচয়।
.
কয়েকবছর আগে,
.
অফিস থেকে সদ্য বাসায় ফিরলো ইরফান। একটু ফ্রেশ হয়ে ফেসবুকে ঢুকে দেখে সেই পরিচিত এক মেয়ের ম্যাসাজ! ম্যাসাজটি ছিলো-
.
-কেমন আছো? (রুমা)
-ভাল আছি। তুমি? (ইরফান)
-হুম ভালো। কি করো?
-এইতো অফিস থেকে ফিরলাম।
-হুম। তাড়াতাড়ি কিছু খেয়ে নাও নয়তো অসুখ করবে।
-আচ্ছা। তুমিও করে নাও।
.
আস্তে আস্তে ইরফান আর রুমা ভাল বন্ধু হয়ে উঠে। তারপর থেকে চলতে থাকে তাদের খুনশুটি। রাগারাগি, মান-অভিমান।
.
একসময় ইরফান রুমার কাছে নাম্বার চায় এবং প্রতুত্তরে রুমাও তার নাম্বার দেয়। তারপর থেকে শুরু হয় তাদের ফোনালাপ। রাতদিন ফোনে কথা, চ্যাটিং নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরে তারা।
.
ধীরে ধীরে তাদের বন্ধুত্ব আরো ঘনিষ্ট হয়ে উঠে। একে অপরের উপর
টেক কেয়ার, আদেশ-নিষেধ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠে।
.
রুমা ইরফানকে আদেশ করতো এটা করতে ওটা করতে। আর ইরফান হাসিমুখে রুমার কথা শুনতো।
.
কেউ হয়তো বলেছিলো, "একটা ছেলে আর মেয়ে বেশীদিন বন্ধু থাকতে পারে না" । ঠিক তাই হয়েছিলো ইরফানের ক্ষেত্রে। ইরফান রুমাকে ভালবেসে ফেলেছিলো।
.
তখন থেকে ইরফানের আরো পরিবর্তন ঘটতে থাকলো। রাতদিন ফোনে কথা বলা। ফেসবুকে রুমার ম্যাসাজ আসার সাথে সাথেই উত্তর দিয়ে অপেক্ষায় করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
.
ইরফান আর নিজেকে সংযত না রাখতে পেরে একদিন রুমাকে প্রপোজ করে। কিন্তু উত্তরে রুমা কিছুই বলে নি। হয়তো বলেছিলো, "আমরা বন্ধু হয়ে থাকতে চাই" ।
.
কিন্তু ইরফানের মাঝে মাঝে রুমার আচরন দেখে মনে হতো রুমা ও তাকে ভালবাসে। কিন্তু আবার কেনো জানি মনে হতো রুমা তাকে ভালবাসে না।
.
ইদানিং রুমার সাথে আগের মতো কথা হয় না। সেটা রুমার দিক থেকেই। ইরফান সারাদিন ফেসবুকে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে
কখন "রুমা আক্তার" নামটির ডান পাশে সবুজ বাতি জ্বলবে।
কখন তার সাথে কথা হবে?
.
কিন্তু রুমা দিনদিন ইরফানকে একরকম এড়িয়েই চলছে। ইরফানের ম্যাসাজের উত্তর বেশী দেরীতে দেয়। ফোন রিসিব করে অল্প সময় কথা বলে কেটে দেয়।
.
কিন্তু ইরফানের একটাই প্রত্যাশা রুমা তাকে ভালবাসে হয়তো সে মুখ ফুটে বলতে পারছে না।
.
ইরফান শুধু একটা কথাই জানে। সে রুমাকে খুব বেশীই ভালবাসে।
মাঝেমাঝে তার ভয় হয়, রুমা তাকে আদৌ ভালবাসে কিনা? কিন্তু
এসবের মাঝে একটাই চিরন্তন সত্য কথা তা হলো ইরফান রুমাকে ভালবাসে। যার কোন শেষ নেই।

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৫

"শুধু তুমি"


.
বন্ধুত্বের আড়ালের ভালবাসাটা অনেকেই বুঝতে পারে না।আমি জানি না যে তুমি সেটা বোঝ কি না?কিন্তু আবার এটাও মনে হয় তুমি সবই বোঝো।আমিতো অনেক কিছুই বলতে না গিয়েও তোমাকে বলে দেই।তবুও খুব জানতে ইচ্ছে হয় আমার সম্বন্ধে তোমার কোন ফিলিংস টা কেমন।বেখায়ালি মনটা আজকাল তোমাকে একটু বেশীই মিস করে।এতদিনও আমি তা বুঝতাম না।কিন্তু আজকাল তোমাকে ভেবে আমি নিজের মধ্যে অনেকটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছি।কোন কাজে মন বসে না এমনকি বসলেও সেই কাজ সঠিকভাবে পূরন করতে পারি না শুধু তোমায় ভেবে।কি করে পারবো?তুমিতো আমার মনটাই এক অদ্ভুদ মায়ায় পূরন করে রেখেছো।
.
তুমি জানো কিনা জানি না আমার সারাটা দিন শুধু তোমাকে ভেবেই কাটে।ফেসবুকে সারাটাক্ষন পরে থাকি শুধু তোমার সাথে একটু কথা বলার জন্য।একটু পর পর তোমার আইডিটা ঘুরে দেখি।তোমার প্রোফাইল পিকচারের ঐ পুতুলের ছবিটাকেই তুমি ভাবি।কিছুদিন আগেও তুমি আমার খুব ভাল একজন বন্ধু ছিলে।কিন্তু যেদিন আমাকে ম্যাসেজে বলেছিলে যে কয়েকদিন কথা না হওয়ায় তুমি আমাকে অনেক মিস করেছিলে সেদিন থেকে এই মনটা তোমাকে বন্ধুর চেয়ে একটু বেশি জায়গা দিয়ে দিয়েছে।আমি জানি না তুমি আমাকে এখনও শুধুই বন্ধু ভাবো নাকি এর চেয়ে একটু বেশী কিছু কিন্তু আমি বলছি আমি তোমাকে বন্ধুর চেয়ে অনেক বেশী কিছুই মনে করি।সেটা কি আমি জানি না।
.
যখন আমি তোমার সাথে চ্যাট করি তখন মনে হয় যেন আমার চেয়ে সুখি ব্যাক্তি এই মূহুর্তে আর কেউ নেই।কেমন যেন এক অদ্ভুদ অনুভুতি মনে উকি দেয়।যেন আমি সুখের সাগরে ভাসছি।যখন তোমার মেসেজের রিপ্লে দিতে একটু দেরী হয় তখন মনটা খাচার বন্দী পাখির মত ছটফট করে।আর যখন তুমি রিপ্লে দাও তখন মনে হয় আমি মরেও বেঁচে এসেছি।যখন তোমার নামের পাশ থেকে সবুজ বাতিটা নিভে যায় তখন তোমার প্রতি খুব মায়া হয়।মনে হয় যেন আমি তোমাকে হারিয়ে ফেলছি।
.
আমি তোমাকে এখনও দেখিনি।জানি না তুমি কালো না ফর্সা।শুধু এইটুকু জানি তুমি খুব খুব খুব অসম্ভব ভাল একটা মেয়ে।যেমনটা আমি প্রতি রাত্রে স্বপ্নে দেখি।তুমি ফর্সা কিবা কালো হও তাতে আমার কিছু যায় আসে না আমি শুধু এইটুকু জানি যে তোমার সঙ্গ পেলে আমার জীবন ধন্য।তোমাকে নিয়ে মনটা অনেক বড় স্বপ্ন দেখে।প্রতিটিক্ষনে ক্ষনে তোমাকে নিয়ে মনে অনেক আশা জাগে।জানিনা যে আমার এ আশা বা স্বপ্ন কোন দিন পূরন হবে কিনা।
.
জানি না তোমার গলার সুরটা কেমন।মধুর নাকি কর্কশ।তবে এইটুকু জানি যে তুমি যা ই বলো কথাগুলো খুব সুন্দর ও গুছিয়ে বলো।সুরটা না হয় কল্পনাতেই ডুবে থাক।তোমাকে বাস্তবে পাওয়াটাই আমার জীবনের সার্থকতা।
.
তুমি বলেছিলে যে আমার তোমার তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করে কিনা।হ্যা,তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে।কিন্তু ভয় হয় এই ভেবে যে তোমাকে দেখার পর যদি মনটা তোমাকে আরও পেতে চায় তাহলে আমি নিজেকে সামলে রাখতে পারবো কিনা।যদি না পারি তখন আমার কি হবে?
.
বলতে গিয়েও তোমাকে বলতে পারি নি যে তোমার জন্য আমার মনের জায়গাটা কত বিশাল।সেখানে তোমাকে নিয়ে জীবনটা পার করতে চাই।যতটা বারই কিছু একটা বলতে চেয়েছি মন থেকে উল্টো কিছুই বের হয়েছে।খুব ভয় হয় বললে যদি তুমি বন্ধুত্বটা নষ্ট করে দাও তখন আমার কি হবে?
.
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে তোমাকে নিয়ে শীতল বাতাসে হাটতে।কখনও আবার ইচ্ছে করে তোমাকে নিয়ে ঐ দূর মেঘের ভেতরে ডুবে যেতে।
ইচ্ছে করে তোমাকে নিয়ে একটা সুখের নাটাই তৈরি করি।
ইচ্ছে করে তোমার হাতে হাত রেখে অনেকটা পথ পাড়ি দেই।
ইচ্ছে করে কোন রুপালি দুপুর আর অদ্ভুদ বিকেলে তোমাকে নিয়ে দূরে হারাই।
জানিনা কখনও আমার এই অবুঝ ইচ্ছাগুলো পূরন হবে কিনা।কিন্তু নাছোরবান্দা মনটাকে কিছুতেই বোঝাতে পারি না।
.
হয়তো তুমি আমার লেখাগুলো এই মুহুর্তে পড়ছো।যদি পড়ে থাকো তাহলে হ্যা আমি তোমাকেই বলছি,
"জানি না যে আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি কিনা,শুধু এইটুকু জানি যে আমি তোমার মায়ার জালে আটকে গেছি।তোমাকে নিয়ে আমি আমার জীবনটা রংধনুর সাতরঙ্গের মতো সাজাতে চাই।পূরন করতে চাই তোমাকে নিয়ে আমার স্বপ্নগুলো।জীবনের অনেকটা পথ হাটতে চাই তোমাকে সঙ্গী করে।সারাজীবন বাধ্যের মতো শুনে যেতে চাই তোমার কথা।তোমার দুঃখগুলোর ভাগিদার হতে চাই।তুমি কি আমার হবে?